হিপনোটাইজ
তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:7
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
_______________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।
___________________⭕
রাত বেশ গভীর হয় নি,তবে চারপাশ অন্ধকার গ্রাস করে নিয়েছে, রাতের আকাশ হয়েছে ঘুটঘুটে কালো।
অদূরে চালতা গাছের ডালে বসে একনাগাড়ে ডাকছে হুতুম পেঁচা, তার ডাক ছিন্ন করছে রাতের নিস্তব্ধতা। ফ্লোরেন্সা এপাশ থেকে ওপাশ গড়াগড়ি করছে, সুতোর নকশা খচিত কাঁথাটা টেনে মাথা পর্যন্ত ঢেকেছে সে। মাঝে মাঝে কাঁথার ফাঁক গলে বেরিয়ে আসছে তার একজোড়া ভীত, সন্ত্রস্ত উদ্বিগ্ন চোখ। হুতুম পেঁচার প্রতিটি ডাক কেঁপিয়ে তুলছে তার অন্তরাত্মা ।জাগিয়ে তুলছে বুকের গভীরে জমে থাকা ভয়কে।
ফ্লোরেন্সা ঘুমের ভান করে চোখ বন্ধ করে রেখেছে চুপচাপ।যদি কানটাকেও বন্ধ করা যেতো তবে তাই করতো,হুতুম পেঁচার ওমন ভয়ংকর ডাক থেকে নিস্তার পাওয়া তো হতো।
নিশুতি রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে বেশ কিছুক্ষণ কেটে গেছে। ধীরে ধীরে ঘুমে ঢুলে পড়েছে ফ্লোরেন্সার নয়নজোড়া। ঠিক তখনই, হুতুম পেঁচার ডাকের বদলে বাতাসে ভেসে এলো এক অপার্থিব সুর।
মোহময়, মন্ত্রমুগ্ধকর এই সুর যেন বাস্তব নয়, কোনো স্বপ্নলোক থেকে ছুটে এসেছে ফ্লোরেন্সার হৃদয় ছুয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে।
সেই সুরের আলতো ছোঁয়া কানে পৌঁছাতেই ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে ফ্লোরেন্সা। চোখেমুখে বিস্ময় আর কৌতূহল। অস্ফুটে বিরবির করলো কেবল,
“কে বাজায় এই সুর? কার ঠোঁটের ভাজে জন্ম নিয়েছে এই সুরের প্রান?
ফ্লোরেন্সা আরেকটু মন দিয়ে শোনার চেষ্টা করলো। স্নিগ্ধ নিশীথ বাতাসের সঙ্গে ঢেউয়ের মতো ধেয়ে আসছে সেই সুর, আর প্রতিটি মুহূর্তে গভীরতর হচ্ছে তার প্রভাব।
সুরটা যত এগিয়ে আসছে, ফ্লোরেন্সা ততটাই গভীর মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে এক দুর্বার আকর্ষণ টেনে নিয়ে যাচ্ছে তাকে সেই সুরের জগতে।
ফ্লোরেন্সা এড়াতে পারলো না,সুরের ডাকে সাড়া না দিয়ে চুপ করে বসে থাকতে পারলো না কিছুতেই।তার মনে হচ্ছিলো এই সুর তার জন্য তৈরি হয়েছে, এই সুর তাকে ডাকছে, এই সুরের ডাকে সাড়া না দিয়ে উপায় নেই, কোন উপায় নেই।এই সুর তার নিয়তি,তার হৃদয়ের সাথে জড়িয়ে যাওয়া এক অদৃশ্য মায়া, যে মায়া উপেক্ষা করার সাধ্যি তার হবে না।
ফ্লোরেন্সা মোহাচ্ছন্নের মতো উঠে দাড়ালো,সাদা ওড়নাটা টেনে মাথায় দিয়ে বেড় হলো ঘরের বাইরে।
তাকে যে বেড়োতেই হতো, ওই সুর কি তাকে থাকতে দিতো, নাকি ঘুমোতে দিতো, বরং না আসলে মনটা ছটপট করতো ভিষণ।
বকুল গাছের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে জোসেফ। দু ঠোঁট গোল করে এক নাম না জানা সুর তৈরি করছে সে, যে সুরের টানে ঘর থেকে ছুটে আসতে হয়েছে এক কিশোরী কন্যা কে।
ফ্লোরেন্সা কেমন ভ্যালভ্যাল করে তাকিয়ে আছে জোসেফের দিকে, লোকটা খাটি ব্রিটিশ। তার চেহারাতেই স্পষ্ট হয় সেই চিহ্ন।তবে একটা জিনিস ভিন্নতা আছে, তার চুলগুলো বাঙালীর চিহ্ন বহন করে, কেমন কালো কুচকুচে সিলকি চুল। তকতকে ফর্সা গায়ের চামড়া, যাকে বলে দুধ-সাদা। আর ঠোঁট দুটো সরু চিকন তবে মাত্রাতিরিক্ত লাল, প্রসাদনি দেয় নি হয়তো তার ঠোঁটের বৈশিষ্ট্যই ওমন। তবে তার সৌন্দর্যের সবকিছু ছাপিয়ে যায় একজোড়া নীল চোখ। যেনো মহাসমুদ্রের অতল গহ্বর, যেনো নীল নদের স্থায়ি ঠিকানা তার ওই দুখানা চোখ।
“তুমি?”
জোসেফের কন্ঠ শুনেই ঘোর কাটে ফ্লোরেন্সার। মনে মনে জ্বিভ কাটে কয়েকবার, কি বিশ্রি ব্যাপার, একটা মেয়ে হয়ে কিনা এভাবে একটা অচেনা পুরুষ মানুষের দিকে তাকিয়ে ছিলো, তাতেও হয়নি আবার তার সৌন্দর্য বিশ্লেষণ করতেও বসে গেলো। ছিঃ ছিঃ কত লজ্জার বিষয়। ফ্লোরেন্সা আমতা আমতা করলো,
“না মানে ওই সুর,,,,”
“হ্যাঁ আমিই বাজাচ্ছিলাম, কেনো তোমার কি খুব সমস্যা করে ফেললাম?”
ফ্লোরেন্সা তাড়াহুড়োয় দু পাশে মাথা নাড়ায়,
“না না তেমন কিছু নয়।আসলে আপনার তৈরি সুর খুব সুন্দর।তাই,,,”
” তাই তুমি ঘরে থাকতে না পেরে এই রাত বিরাতে ঘর থেকে ছুটে এলে ।”
ফ্লোরেন্সা চিবুক নামায়, কুন্ঠায় জড়সড় ফর্সা গালখানি লাল হয়ে গিয়েছে, ও কি লজ্জা পাচ্ছে?কিন্তু কেনো?একটা অপরিচিত লোকের কথায় লজ্জা পাওয়ার তো কিছু নেই, তবে লোকটা তো ঠিকই বলেছে, পড়ে ফেলেছে তার মনের কথা, এতো ভারি অন্যায় করা হলো তার সাথে, সে কি লোকটাকে অনুমতি দিয়েছে তার মনের কথা পড়ার?নাহ দেয় নি তো।
জোসেফ এগিয়ে আসলো ফ্লোরেন্সার কাছে,পতিক্রিয়া বিহীন ঠোঁট নাড়িয়ে বললো,
“প্রিন্স জোসেফ কারো অনুমতির ধার ধারে না।”
চট করেই চিবুক তুলে তাকালো ফ্লোরেন্সা,নজর মিলালো নীল চোখে, বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না সেই মিলনতিথি, এক ন্যানোসেকেন্ডের গতিতে নামিয়েও নিলো, সে এই দুটো চোখ এড়িয়ে চলতে চায়, সে চায় না ওমন নীল সাগরের অতলে ডুবে মরতে, কারন অনিশ্চিত হলেও নিশ্চিত সে ওই চোখে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে হয়তো ভুল করেও মারা পরবে।
নিজের অযাচিত ভাবনা জলাঞ্জলি দিয়ে ফ্লোরেন্সা প্রশ্ন করলো,
“আপনি কি করে জানলেন?”
জোসেফ এবার আরেকটু এগিয়ে আসলো, দুজনের মধ্যকার দুরত্ব এখন এক বিঘে হবে।জোসেফ এবারো একইভাবে জিজ্ঞেস করলো,
“তারমানে তুমি সত্যিই আমার সুরের টানে ঘরে থাকতে পারছিলে না?”
কুন্ঠায় ফ্লোরেন্সার জীবন যেনো ওষ্ঠাগত, লোকটা কি তাকে ইচ্ছে করে লজ্জা দিচ্ছে? নাকি এমনিই জিজ্ঞেস করছে।ফ্লোরেন্সা ঢোক গিলে নিলো, জ্বিভ ভিজিয়ে বললো,
“থাকতে পারা না পারার কথা নয়, আসলে আপনার সুর সুন্দর, তাই কৌতুহল মেটাতে দেখতে আসলাম। এর আগে এই বাড়ির আশেপাশে এমন সুর শোনা যায় নি।”
“তবে আজ থেকে প্রতিদিন শুনবে, নিজেকে সামলে রাখার প্রশিক্ষণ দেও।”
ফ্লোরেন্সা কপাল কুচকালো,
“আপনি বলতে চাইছেন আমি আপনার সুর শুনে নিজেকে সামলাতে পারবো না?”
“বলতে চাইছি না বরং ইতিমধ্যে বলে ফেলেছি।”
“আপনার ভুল হচ্ছে তাহলে,আপনার সুর আহামরি ওতো সুন্দর নয়, যে আমি নিজেকে ভুলে যাবো।”
যদি ভুলতে না পারো তবে আমার সুর ব্যার্থ আর যদি ভুল করেও নিজেকে ভুলে যাও তবে তুমি আমার মাঝে আসক্ত।”
একটু ঝুকে এলো জোসেফ, মুখটা ফ্লোরেন্সার কানের কাছে নিয়ে বললো,
“সে কথা স্বীকার করবে তো ব্লু ব্লাড গার্ল?”
প্রথম বাংলা টুকু বুঝলেও পরের ইংরেজি টুকু একটুও বুঝতে পারলো না ফ্লোরেন্সা। ইংরেজি সম্পর্কে শিক্ষা জ্ঞান অতো ভালো নেই,
“বুলু বেলাড?সেটা আবার কি?”
জোসেফ ভ্রু গোটাল কিঞ্চিৎ, ঠোঁট কামড়ে চোখ বন্ধ করে অনাগত হাসি টা আটকে নিয়ে বললো,
“ব্লু ব্লাড গার্ল।মানে নীল রক্তের মেয়ে।”
“কিন্তু আমার রক্ত তো লাল।কারো আবার নীল রঙের রক্ত হয় নাকি?”
“উহু হয় না।”
“তবে?”
“তুমি কি যানো নীল রঙ কীসের প্রতিক?”
ফ্লোরেন্সা কিছু বললো না, দুপাশে মাথা নাড়ালো কেবল।
প্রিন্স জোসেফ প্রতিক্রিয়া দেখালো না, ভরাট কন্ঠে বললো,
“নীল রঙ বিষের প্রতিক।আমার কাছে তুমি বিষের মতোই বিষাক্ত মানবী,যার আকর্ষণ আমি উপেক্ষা করতে পারি না।”
“আপনি খুব কঠিন কথা বলেন প্রিন্স, আমার সরল মন অতো জটিলতা বুঝে না।”
“হিপনোটাইজ বুঝো?”
ফ্লোরেন্সা এবারেও দু পাশে মাথা নাড়ালো,প্রিন্স জোসেফ উত্তরে করলো হেয়ালি পনা,
“আমার এই দুটো চোখ হিপনোটাইজের ক্ষমতাধারি,অথচ তোমার চোখের দিকে তাকালে সে ক্ষমতা অক্ষমতায় রুপান্তরিত হয়,ভুলে যায় সব কারসাজি।তাইতো অন্য প্রন্থা বেছে নিতে হলো,অন্ধকারের সম্রাটকে আহ্বান জানাতে হলো এই তুচ্ছ কাজে।”
“আমি আপনার কথা এবারেও বুঝতে পারছি না ব্রিটিশ প্রিন্স।”
প্রিন্স জোসেফ উত্তরে কিছু একটা বলতে চাইলো,কিন্তু তার আগেই ভেসে এলো তাকরিমের কন্ঠ,
“কে ওখানে?”
আইরিশের কন্ঠ শ্রবন হতেই ফ্লোরেন্সা আঁতকে উঠল, ভাইয়া যদি এতো রাতে এই বকুল তলায় তাকে এই লোকটার সাথে দেখতে পায় তবে আর রক্ষা নেই, ঘাড় থেকে মাথাটা আলাদা করেই ছাড়বে।ভয়ে দগ্ধ হৃদয়খানি জ্ঞানশুন্য হয়ে আচমকাই চেপে ধরলো জোসেফের হাত, দৌড়ে গিয়ে দাড়ালো গাছের আড়ালে। জোসেফ অনুভুতিশুন্য যন্ত্রের ন্যায় কেবল অনুসরণ করলো ফ্লোরেন্সা কে, ফ্লোরেন্সার সেদিকে খেয়াল নেই, আসন্ন বিপদে তার শরীর কম্পন তুলছে, ভয়ের চোটে ক্ষনে ক্ষনে কামড়ে ধরছে গোলাপি অধর।জোসেফের নীল চক্ষুর গভীর দৃষ্টিপাত আপতত সেখানেই লুটিয়ে আছে।
আইরিশের চাহনি তীক্ষ্ণ, কন্ঠ ধারালো ব্লেডের মতোই, গাছের আড়াল থেকে ফ্লোরেন্সার সাদা ওড়নার একাংশ দেখা যাচ্ছে।এতো রাতে ফ্লোরেন্সার উপস্থিতি বাইরে টের পেয়েই আইরিশের রাগ আকাশচুম্বী।
“ফ্লোরেন্সা! “
ব্যাস ফ্লোরেন্সা কুপোকাত, ভয়াতুর ঢোক গিলে চাইলো জোসেফের দিকে, জোসেফ ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলো ভয়ের কারন,ফ্লোরেন্সা অসহায় কন্ঠে ফিসফিসিয়ে উত্তর দিলো,
“দয়া করে আপনি আড়াল থেকে বেড়োবেন না, ভাইয়া আপনাকে দেখে ফেললে আমার গর্দান নিবে।”
আইরিশ গাছের ওপাশ থেকেই চেপে ধরে ফ্লোরেন্সার হাত।হেচকা টান দিতেই অপরপাশ থেকে জোসেফ খপ করে আরেকটি হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে নেয়।ছলকে উঠে ফ্লোরেন্সা।শরীর আগের চেয়ে বেশি কম্পন তুলছে, গলা শুখিয়ে কাঠে পরিনত হয়েছে, জোসেফের হাত ধরাটা ভয়ের মাত্রা বাড়িয়ে করেছে দ্বিগুন।ফ্লোরেন্সা অসহায় ছলছল চোখে জোসেফের দিকে তাকায়, ঠোঁট ভেঙে কান্না করে দিবে ভাব,যে চেহারা নিরব অনুরোধে বলছে হাতটা ছেড়ে দিন।
জোসেফ বুঝতে পারা মাত্রই সেকেন্ডের গতিতে ছেড়ে দিলো তাকে, ফ্লোরেন্সা গিয়ে আছড়ে পড়লো আইরিশের বুকে।আইরিশ চোখ বন্ধ করে নিলো। ঘনঘন নিঃশ্বাস নিলো কয়েকবার।দু হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে নেশাময় কন্ঠে বললো,
“এতো কাছে না এলেও পারতি ফ্লোরেন্সা।তোর সান্যিধ্যে আমি নিজেকে হারাই বুঝিস তুই?”
ফ্লোরেন্সা একঝটকায় নিজেকে গুটিয়ে নেয় আইরিশের কাছ থেকে। মনে মনে বিদ্রুপ করে বলে সে কি যেচে এসে পড়েছে নাকি?এতো জোরে টান দিলে কি করে স্থির রাখতো নিজেকে।মনের বিদ্রুপবাক্য মনেই রয়ে গেলো, জড়তা আর ভয়ে ঘনঘন নিঃশ্বাস বিহীন অন্যকিছুই নির্গত হচ্ছে না।
আইরিশ নিজেকে শান্ত করে কঠিন স্বরে বললো,
“এতো রাতে এইখানে কি করছিলি?”
ফ্লোরেন্সা ভয়ে চোখ বন্ধ করে ওড়না খামচে ধরলো,নিরবতা ব্যাতিত কোন উত্তর না পেয়ে চটে গেলো আইরিশ, ধমকে উঠলো ওমনি,
“কি হলো বলতে বলেছি, এখানে কি করছিলি?রাত কটা বাজে ধারনা আছে?”
ফ্লোরেন্সা মৃদু কম্পনে তোতলে তোতলে উত্তর দিলো,
“ঘু,ঘুম আসছিলো না ভাইয়া, এজন্য ফু,ফুল কুরাতে এসেছি, এসে একটাও ফুল পেলাম না।”
“পাগল হয়েছিস তুই?এতো রাতে ফুল কুড়াতে এসেছিস?এতো কিসের ভালোবাসা এই ফুলের প্রতি?এই ফুলের মতো কি আমাকে একটু ভালোবাসতে কষ্ট হয় তোর।”
চকিতে তাকালো ফ্লোরেন্সা,
“কি বললেন ভাইয়া?”
কড়া কন্ঠে আরো কিছু বলতে গিয়েও থামলো আইরিশ, নিজেকে শান্ত করে বললো,
“কিছু না, দুই মিনিটের মধ্যে ঘরে যা, দ্রুত।”
পালানোর অনুমতি পেয়েই দৌড় শুরু করে দিলো ফ্লোরেন্সা, কোন কথা শোনার মতো সময় আপাতত নেই, এই বাঘের সামনে থেকে যেতে পারলেই বাচে।
আইরিশ এক ধ্যানে তাকিয়ে রইলো তার যাওয়ার পানে, বিরবির করে বললো,
“কবে বুঝবি ফ্লোরেন্সা?তুই যে আমার কাছে ওই আলেকজান্দ্রা পাথড়ের থেকেও মূল্যবান রত্ন।এই যে এই বকুল গাছের প্রতি তোর এতো টান আমার হিংসে হয় জানিস?
ঠোঁট কামড়ে ধরলো আইরিশ, আবারো বললো বিরবিরিয়ে,
” শেষে কিনা এই সামন্য বকুল গাছকেও হিংসা করতে শুরু করেছে আইরিশ খান, এই আমার আমিকে দিয়ে আর কত কি করাবে আলেকজান্দ্রা?”
আইরিশের প্রস্থান করা মাত্রই গাছের আড়াল থেকে বেড়িয়ে এলো জোসেফ।চোখে মুখে তার স্পষ্ট ক্রোধ। অথচ এই ক্রোধের কারন সে যানে না। শুধু বিরবির করে একটা কথাই বলে,
“ঠিক সায়ানাইডের মতোই বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে, আমার নাম না জানা যন্ত্রনার ভুক্তভোগী তুমিও হবে ব্লু ব্লাড গার্ল।”
প্রতিদিনের মতো আজ ঘুম ভাঙেনি,ফজরের সালাত আদায় করে পুনরায় বিছানায় পিঠ লাগানো মাত্রই ঘুম চলে আসে ফ্লোরার।তবে ঘুমটা আর দশ দিনের মতো স্বাভাবিক ভাবে ভাঙে নি বরং বাড়ির বাইরের চিৎকার চেচামেচির আওয়াজে ভেঙেছে।ফ্লোরেন্সা আচমকা ঘুম থেকে উঠে নিস্ক্রিয় মস্তিষ্কে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই দৌড়ে ঘরে প্রবেশ করলো ফুলমতি, হাফাচ্ছে সে, হয়তো কোনকিছু নিয়ে খুব শঙ্কিত হয়েই ছুটে এসেছে ফ্লোরেন্সার কাছে। ফ্লোরেন্সাকে কোন কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই উত্তেজিত কন্ঠে বলতে শুরু করলো,
“আম্মিজান শীগ্রই বাইরে চলেন, বাইরে অনেক বড় অঘটন হইয়া যাইতাছে।”
চলবে,,,,
Share On:
TAGS: তাজনিন তায়্যিবা, হিপনোটাইজ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৮
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৯
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৬
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৪
-
হিপনোটাইজ পর্ব ২
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৩
-
হিপনোটাইজ পর্ব ১
-
হিপনোটাইজ পর্ব ১০
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৫