হিপনোটাইজ
তাজনিন_তায়্যিবা
পর্ব:3
⭕পূনর্জন্ম বা টাইম ট্রাবল কোন ধর্মে গ্রহনযোগ্য
_______________________________ নয়,এটি কেবল রুপকথার উপমা।⭕
কয়েক দশকের পুরোনো স্মৃতির এলবামের মতো কেমন অবহেলায় দাঁড়িয়ে আছে মৃতপ্রায় একতলা বাড়ি টি।দেওয়ালের রঙ খসে খসে পড়ছে, সৌন্দর্য হারাচ্ছে কালে কালে। অথচ বাড়িটা একসময় জমজমাট ছিলো। আলতা পায়ে চাবির গোছা আঁচলে বেধে নিস্পাপের মা সাড়া ঘর ঘুরে বেড়াতেন। আর নিস্পাপ, ছোট্ট পায়ে মোটা এক জোড়া রুপোর নুপুর বেধে তার মায়ের পিছু পিছু দৌড়াতো।ঠিক সেই সময় বাবা বাজার করে ফিরতেন ,নিস্পাপকে কোলে তুলে নিয়ে তিনিও খেলা জুড়ে দিতেন। এই যে রোদে পুড়ে যে এতক্ষণ বাজার করে ফিরলেন সে ক্লান্তি তিনি আলগোছেই লুকিয়ে নিতেন।
সেই কোলাহল, গমগমে পরিবেশ কিছুই নেই আর, মানুষ গুলো হারিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সব হারিয়ে গিয়েছে। অর্ধমৃত প্রায় বাড়িটিতে এখন আর প্রানের স্পন্দনটুকুও পাওয়া যায় না।
আগে বাড়িটিতে নিস্পাপ আর তার বুড়ো দাদি থাকতেন, এখন নতুন করে অনুরিকা যোগ হয়েছে। অনুরিকা ভারা নিয়ে থাকছে তাদের সাথে। তবে ভারা নিয়ে নিস্পাপের মাথাব্যথা নেই, উল্টো সে একটু খুশি হয়েছে, অনেকদিন পর একজন সঙ্গি জুটলো তার।
আজ সোমবার, প্রতি সোমবারে নিস্পাপ শাড়ি পরে , নিয়ম নয়, শখ তার। মায়ের রেখে যাওয়া অনেকগুলো শাড়ি পরে আছে, ঘরের পুরোনো কাঠের কারুকার্য খচিত আলমারি থেকে হাতরিয়ে একটা শাড়ি বের করে নিলো নিস্পা। রঙ জানা নেই তার, শাড়িটি কেমন দেখতে তাও জানে না, প্রতি সোমবার শাড়ি পরে অথচ আজ পর্যন্ত নিজেকে দেখার সৌভাগ্য হয় নি তার।
নিস্পার দাদি ফুলমতি খুব সুন্দর করে শাড়ি পরিয়ে দিলেন তাকে। ফুলমতি যখন নিস্পার কাধের কাছে সেফটি পিন লাগাতে ব্যাস্ত, নিস্পাপ তখন রিনরিনিয়ে জিজ্ঞেস করলো,
“আজকের শাড়িটি কি রঙের দিদা?”
ফুলমতি পানখেয়ে লাল হওয়ায় ঠোঁট প্রসস্ত করে হাসলেন,
“আজকের শাড়ির রঙ সবুজ কলাপাতার মতোন।”
“আমাকে সুন্দর লাগছে দিদা?”
নিস্পাপের ঠোঁটে লিপস্টিক দিতে দিতে ফুলমতি উত্তর দিলেন,
“একদম তোর বড় আম্মার মতো দেখতে লাগছে। “
নিস্পাপ কপাল কুচকালো, অস্ফুটে বললো,
“বড় আম্মা?
” হ্যাঁ রে বইন, এই বংশের সবচেয়ে সুন্দরী মাইয়া হিসেবে জন্ম হইছিলো আমার ফুফু শাওড়ি। সে যে কি চোখ ধাদানো রুপ, এখনো চোখের সামনে ভাসে। আর ভাসবো নাই বা কেন?একদম তেনার মতোই তো চাঁদরুপ আল্লায় তোরে ঢাইল্লা দিছে।”
“সত্যি দিদা? সত্যিই উনি দেখতে আমার মতো ছিলো ?”
“হ রে বইন, আর সে সৌন্দর্যই হের জীবনের কাল হইয়া দাড়াইছিলো।”
“কেনো দিদা কি হয়েছিলো ওনার।”
“সে অনেক কাহিনি, পড়ে একদিন হুনিশ,তোর কামে যাওয়ার সময় হইয়া যাইতাছে এহন। “
“আচ্ছা দিদা পরে একদিন শুনবো তাহলে, এখন আমি গেলাম ।”
দিদার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির বাহিরে পা রাখতেই ধরপরিয়ে উঠলো নিস্পাপের বক্ষপট, সেই অতিপরিচিত স্মেল এসে ঠেকলো নাকের ডগায়।হৃদয় উতালপাতাল করা কন্ঠ ভাসলো বাতাসের প্রতিটি কনায়,
“আমাকে ঘায়েল করার এতো শখ তোমার?”
আয়মানের কথার অর্থ নিস্পা বুঝতে পেরেছে, তবুও জিজ্ঞেস করলো,
“মানে?”
“কতবার বলেছি শাড়ি পরে আমার সামনে এসো না, আমি কন্ট্রোল হারাই, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে দিশাহারা হয়ে যাই।”
“আপনার এসব বাজে অনুভুতির জন্য আমি আমার শখ ছাড়তে পারি না।”
“শাড়িতে নিজেকে দেখেছো?”
“আজব প্রশ্ন করার কি কোন কারন আছে?”
“আমার চোখে দেখবে নিজেকে?”
নিস্পাপ নিশ্চুপ বলার ভাষা খুজে পায় না সে,
আয়মানের নেশাময় চাহনি নিস্পাপের উপর নিবদ্ধ,নিজের অনুভুতির দেওয়াল ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছে সে,
“পদ্মদিঘির মতো চোখ, শুভ্র ফুলের পাপড়ির ন্যায় ঠোঁট আর পিনপিনে সরু নাক সব মিলিয়ে স্বর্ন লতার মতোই তুমি অনন্যা।
কলাপাতা রঙের শাড়িটি যেনো তোমার জন্যই তৈরি হয়েছে শুধু তোমার জন্যই।”
নিস্পা শুনছে আজ আর কিছু বলছে না।বাধাও দিচ্ছে না আয়মানকে সে বলুক, শুনতেতো মন্দ লাগছে না।বরং তোর বর্ননায় নিজেকে অনুভব করতে পারে নিস্পাপ।
হাইকোর্টের সামনে ব্যানার হাতে অনশনে বসেছে অনুরিকা, সাথে প্রায় হাজার সংখ্যক শিক্ষার্থী রয়েছে।তাদের সহপাঠী রিমিকে ধর্ষন করেছে আইয়ুব শিকদারের ছেলে আরফান।আজ সেই কেস কোর্টে উঠেছে, যথাযোগ্য এভিডেন্সের ভিত্তিতে আজকেই কেসের রায় ঘোষণা করা হবে।
সম্পুর্ণ মুখ একটি ওড়নার সাহায্যে ঢেকে নিজের চেহারা আড়াল করে আদালতের কাঠগড়ায় জুবুথুবু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রিমি।ঠিক তার বরাবর আসামীর কাঠগড়ায় ভাবলেশহীন দাঁড়িয়ে আছে আরফান,ভেতরে ভয় ডর তো নেই অই, নিজের করা অন্যায়ের জন্যও পরিতাপ নেই। ওভার কনফিডেন্স তার, বাবা কিছুতেই তাকে জেলে বন্দি হতে দিবে না।
রিমির হয়ে কেস লড়ছেন পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল আজিজ, তার একমাত্র লক্ষ্য রিমিকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়া। আরফানের বিরুদ্ধে সব প্রমাণ পেশ করেছেন ইতমধ্যে।অথচ ত্রিজয়ের কোন হেলদোল নেই, দু আঙুলের সাহায্যে পেন ঘুরাচ্ছে কেবল। এদিকে আইয়ুব শিকদারের অবস্থা ভয়াবহ হতে যাচ্ছে, ত্রিজয়ের এমন নিশ্চুপ থাকাটা তার সহ্য হচ্ছে না, বরং ভয় বাড়ছে, আশা হারাচ্ছে, ছেলেকে বুঝি সারাজীবনের মতো জেলেই পচতে হবে তার। বাবার চুপসে যাওয়া মুখখানার দিকে তাকিয়ে আরফানের মনেও এবার ভয় বাসা বাধলো, বাবা তার জন্য এ কেমন উকিল ঠিক করলো, ঘন্টা পেড়িয়ে যাচ্ছে অথচ তার হয়ে একটা কথাও বলছে না।
আজিজের কথা শেষ হতেই দপ করে উঠে দাড়ালো ত্রিজয়, সোজা গিয়ে দাড়ালো রিমির সামনে নীল রঙা সেই মোহনীয় চোখ নিক্ষেপ করলো রিমির চোখে, রিমি এড়াতে পারলো না সেই দৃষ্টি,নিজের জগৎ থেকে কেমন তলিয়ে যেতে শুরু করলো, ভরা আদালতে কেউ বুঝতেই পারলো না নিজের সুক্ষ্ম চাহনি দ্বারা ত্রিজয় অসহায় সর্বস্ব হারা মেয়েটাকে হিপনোটাইজ করছে।
ত্রিজয় তার গোলাপি রঙা ঠোঁট নাড়ালো, গম্ভীর কণ্ঠে প্রশ্ন ছুড়লো,
“আপনার অভিযোগ আপনাকে আমার মক্কেল জোর পূর্বক ধর্ষন করেছে তাইতো? “
রোবটের মতো এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে রিমি, চোখের পল্লব অব্দি নড়ছে না, চোখ থেকে অবিরত ঝরতে থাকা বারিপাত জমে গিয়েছে সেখানেই, সে শুধু ঠোঁট নাড়ালো,
“জ্বি “
“আমি যদি বলি ঘটনা টা জোরপূর্বক নয় বরং আপনার সম্মতিতে হয়েছে।”
“রিমির ছোট্ট জবাব ” না”
ত্রিজয় থামলো, হাতের পেন্সিল কয়েকবার ঘুরিয়ে নিয়ে আবার জিজ্ঞেস করলো,
“আরফান সর্বপ্রথম আপনার কি খুলেছিলো মিস রিমি?”
ত্রিজয়ের এমন প্রশ্নে অবজেকশন দাড় করালো আজিজ,
“একজন মেয়েকে এসব প্রশ্ন করে বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলা উচিত নয়। “
কিন্তু ত্রিজয়ের কথার সামনে টিকলো না তার যুক্তি,
“আমাকে আমার কাজ করতে দিন প্রসেকিউটর সাহেব। আমি অবশ্যই উচিত অনুচিত ভেবেই জিজ্ঞাসাবাদ করছি।”
আজিজ দমে গিয়ে বসে পড়লো নিজের আসনে।ত্রিজয় আবার বললো,
“যে প্রশ্নটা করেছি উত্তর দিন মিস রিমি।”
রিমি রোবটের মতো ঠোঁট নাড়ালো,
“জামা।”
ত্রিজয় আবার জিজ্ঞেস করলো,
“তারপর? “
“সেলোয়ার। “
ত্রিজয়ের মুখাভঙ্গিতে প্রতিক্রিয়া নেই, রিমির উত্তরে সে সন্তুষ্ট কিনা বোঝা যাচ্ছে না,
“আচ্ছা মিস রিমি এটা বলুন তো সবার আগে কোথায় হাত দিয়েছে? “
আবারো শুরু হয়ে গেলো কানাঘুষা, আজিজ আবারো উঠে দাড়ালো, কিন্তু এবারেও কিছু করতে পারলো না, তার আগে রিমি উত্তর দিলো,
“বুকে।”
ত্রিজয় এবার জজের দিকে তাকালো,
“মহামান্য বিচারপতি এতক্ষণ ধরে আমার এইসব প্রশ্ন করার কারন হলো মিসেস রিমি ধর্ষন হন নি বরং যা হওয়ার হয়েছে নিজের সম্মতিতে । একটা মেয়ে ধর্ষনের মতো পরিস্থিতিতে কি করে এতো সুক্ষ্ম ভাবে সব মনে রাখতে পারে? হাউ ইস দেট পসিবল? কি আগে খুলেছে, কোথায় হাত দিয়েছে এক্সেক্ট্রা বিষয় গুলো উনি কি করে এতো সহজ ভাবে বলতে পারেন। এই কথাগুলো বলার সময় একটা ধর্ষিতা মেয়ের উপর কিরুপ প্রভাব বিস্তার করতে পারে সেটা নিশ্চয়ই আপনার কেরিয়ারে আপনি দেখে থাকবেন। অথচ এই মেয়ে এতো ঠান্ডা মাথায় কি করে সব গুলো প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারে।”
রিমির অনুভুতিহীন অপলক দৃষ্টি শুন্যে।
ত্রিজয় আবারও বলে উঠলো,
“আমার মক্কেল সম্পুর্ন নির্দোশ জনাব। যা হয়েছে সবটুকুই ওদের সম্মতিতে হয়েছে। “
ঠিক যতক্ষণে রিমি নিজের জগতে ফিরে এলো ঠিক ততক্ষণে আদালত তার রায় ঘোষণা করে দিয়েছে, মুক্তি দিয়ে দেওয়া হয়েছে আরফান কে, সবাই ইতমধ্যে চলে যেতেও শুরু করেছে।রিমি অসহায়, পুরো পুরি অসহায়, তার সাথে কি হলো বোধগম্য হচ্ছে না তার, কিন্তু তার স্পষ্ট মনে আছে তার জবাববন্দি, কি করে সে এগুলো বলতে পারে মাথাতেই আসছে না। একে তো ধর্ষনের কলঙ্ক মুছার জন্য বিচার চাইতে গিয়ে কিনা আরো বেশি কলঙ্কে জর্জরিত হয়ে গেলো সে? কি করে নিজেকে সামলাবে রিমি?পারে নি কিছুতেই সামলাতে পারে নি দৌড়ে চলে গেলো ছাদে, কলঙ্কিত জীবনের মায়া ত্যাগ করে মহাপাপেএ বোঝা নিয়ে বিদায় জানালো পৃথিবীকে।
রিমির রক্তাক্ত শরীর টা বুকে নিয়ে বসে ফুফিয়ে কান্না করছে অনুরিকা, জনম দুঃখীনি মেয়েটার সাথে এরুপ অন্যায় কিছুতেই মানতে পারলো না সে। কোর্টের সামনে হাজার মানুষ ঢল।রিমিকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে সবাই। অথচ ত্রিজয়ের মধ্যে কোনরুপ প্রতিক্রিয়া বা দোলচাল নেই, সে গা ছাড়া ভাব নিয়ে বেড়িয়ে আসলো কোর্টের ভেতর থেকে। ত্রিজয়কে দেখা মাত্রই অনুরিকা ভয়ংকর রেগে গেলো। দৌড়ে গিয়ে এক দলা থু থু ছুড়ে মারলো ত্রিজয়ের মুখে। রাগে ত্রিজয়ের হাত মুস্টিবদ্ধ হলেও মুখের ভঙ্গি পাল্টালো না।অনুরিকা ভয়ংকর রেগে আছে, চেচিয়ে উঠলো ত্রিজয়কে উদ্দেশ্য করে,
"তোর ঘরে মা বোন নেই কাপুরুষের বাচ্চা, একজন ধর্ষককে বাচিয়ে দেওয়ার জন্য অর্ধমৃত মেয়েটাকে পুরোপুরি মেরে দিলি। এই মেয়েটার জায়গায় তোর কোন প্রিয় মানুষ হলে কি করতি তুই?"
অনুরিকাকে পুলিশ পোর্সরা টেনে নিয়ে যাচ্ছে,অথচ অনুরিকা রাগে ক্ষোভে চেচিয়েই যাচ্ছে।ইভান কোর্টের ভেতর থেকে দৌড়ে আসলো এক প্রকার, টিস্যু পেপার এগিয়ে দিতে দিতে বললো,
"মেয়েটা কে ছিলো স্যার।"
ইভানের কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলো না ত্রিজয়, নিজে নিজে বিরবির করে বললো,
"প্রিয় মানুষ?
কথাটি বলতে গিয়ে হাসলো বোধহয় ত্রিজয়।
"পৃথিবীর কোন এক কোনে বেড়ে উঠা বিষপাখি তার ডানা গুটিয়েছে,
অথচ তার বিষ ধারন করে পূনর্জন্মেও কাতরাচ্ছি আমি।"
ইভান শুনলো না তার বিরবিরানি,
"স্যার কিছু বলছেন?"
"24 ঘন্টার মধ্যে মেয়েটির সব ডিটেইলস আমার চাই।"
_________________
সফেদ রুমালে নিজের হাতের রক্ত মুছতে মুছতে গোডাউন থেকে বাইরে বেড়িয়ে এলো তাকরিম।পেছন থেকে তার একজন গার্ড এসে ব্যাস্ত কন্ঠে বললো,
"স্যার লোকটাকে কি করবো? "
"যতক্ষণ পর্যন্ত স্বীকার না করে ততক্ষন পর্যন্ত হাত যেনো বন্ধ না হয়ে। "
"স্যার বেশিক্ষন মারলে তো মরে যাওয়ার চান্স আছে।"
তাকরিম গাড়িতে উঠতে উঠতে বললো,
"আই ডোন্ট কেয়ার।"
~~~
স্টলের ফুল গুলো এক এক করে উপরের সেল্ফে সাজাচ্ছে নিস্পাপ, আজ নতুন ফুল আসবে, তাই কালকের ফুল গুলো উপরে সাজাচ্ছে, উপরের সেল্ফে হাত উঠিয়ে সাজানোর কারনে উদীয়মান হয়ে আছে তার উদরের কিছু অংশ।গাড়ির কালো কাচ ভেদ করে তাকরিমের নজর থমকালো সে দৃশ্যপটে, এমনি এমনি কি আর থমকেছে? নিস্পাপের নাভিপদ্মের কাছে পোড়া চিহ্ন গুলোই তো থমকে যেতে বাধ্য করেছে।
এস্ত পায়ে গাড়ি থেকে নেমে এগিয়ে আসলো তাকরিম। দোকানে কারো উপস্থিতি উপলব্ধি করেই সৌজন্য হাসল নিস্পাপ।ভাবলো হয়তো নতুন ফুল নিয়ে এসেছে,
“ফুল এনেছেন?দুশো টা তাজা গোলাপের কথা বলেছিলাম, ঠিকঠাক এনেছেন তো? অন্ধ বলে ভাববেন না তাজা আর বাসির তফাৎ বুঝবো না।”
নিস্পাপের এতো গুলো কথার উত্তরে শুধু ভেসে এলো,গম্ভীর এক কন্ঠ,
“আলেকজান্দ্রা।”
নিস্পাপ বিব্রত হলো, ঠোঁটের হাসি মিলিয়ে গেলো ওমনি,
“আপনি কি কাস্টমার? নাকি কাউকে খুজছেন?”
তাকরিমের মাদকিয় এক জোড়া নয়ন কলাপাতা রঙের শাড়িতে মোড়ানো নিস্পাতেই আবদ্ধ।রিনরিমিয়ে বলছে,
“তোমাকে ভালোবাসার অপরাধে প্রথম মৃত্যুর ওয়ারেন্ট প্রাপ্ত কয়েদি আমি।”
চিনেছো আমায়?
‼️সবার উদ্দেশ্যে বলছি গল্প ভালো লাগলে রেসপন্স করবেন, আজকের পর্বে আশানুরূপ রেসপন্স না পেলে গল্প লিখবো না আর।আমার মনে হয় প্রতিদিন রেগুলার গল্প দিয়ে আমি ভুল করি।অন্য সব লেখকের মতো ঘুরানো উচিত ছিলো।
গল্পটা কাল্পনিক, অবশ্যই কল্পনা মাপিক পড়বেন, বাস্তবিক কোন লজিক দিয়ে আমাকে বিভ্রান্তিতে ফেলবেন না। কল্পনায় কোন লজিক খাটে না।‼️
চলবে,,,,,,,,,,
Share On:
TAGS: তাজনিন তায়্যিবা, হিপনোটাইজ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৭
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৪
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৫
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৯
-
হিপনোটাইজ পর্ব ১
-
হিপনোটাইজ পর্ব ২
-
হিপনোটাইজ পর্ব ১০
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৬
-
হিপনোটাইজ পর্ব ৮