সুপ্রভা (০২)
“আমার ভাগ্নী তোরও ভাগ্নী।ভাগ্নী মামাকে চুমু দিতেই পারে। ইটস্ নরমাল।”
সিয়াদাত দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলে– “ ভাগ্নী মাই ফুট।”
“ কিছু বললি সিয়াদাত?”
সিয়াদাত শ্রুতিকটু গলায় বলে– “ দেখা করা হয়েছে তোর? হলে এবার চল প্লিজ। আই নিড টু গেট হোম অ্যাজ সুন অ্যাজ পসিবল।আমার একমাত্র বোনের বিয়ে।ভাই হিসেবে আমার অনেক দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে।তাছাড়া তোকে বিডি তে নিয়ে এসেছি বিয়ের সব অ্যারেঞ্জমেন্ট করার জন্য।গায়ে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য নয়।সো প্লিজ বাড়িতে চল।”
মারুফের ফেরার কথা শুনেই বুক ধুক করে উঠে সুপ্রভার।সুপ্রভা তৎক্ষণাৎ মারুফকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।কাতর গলায় বলে– “ মামা প্লিজ একটা বার বাড়িতে চলো।সবাই তোমার ফেরার অপেক্ষায় পথ চেয়ে বসে রয়েছে।”
মারুফের চোখের কোণে জল জমে। মারুফ সকলের আড়ালে চোখের পানি মুছে নেয়। করুন গলায় বলে– “ তুই আমার অনেক আদরের সুপ্রভা। তুই প্লিজ এমন কোনো আবদার করিস না, যেটা আমি রাখতে পারব না। তুই বাড়ি ফিরে যা।আমি আর কখনো খন্দকার বাড়িতে পা রাখবো না।কখনোই না।”
রেস্টুরেন্টে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে সুপ্রভার উপর। কিন্তু সুপ্রভা কারো দৃষ্টির পরোয়া করে না। মারুফকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। কান্নাভেজা কন্ঠে বলে – “ আমি তোমাকে না নিয়ে এখান থেকে এক চুলও নড়বো না।”
“ সুপ্রভা মা আমার পাগলামী করে না।সবাই দেখছে তো।”
“ দেখলে দেখুক।আমার কিছু যায় আসে না।”
সুপ্রভার আকুতি মিনতি দেখে সিয়াদাতের পাথরের ন্যায় মনটা একটু নরম হলো বোধহয়।
সে ফোনের উপর দৃষ্টি রেখে তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল–
“মারুফ তুই বরং সুপ্রভাকে শেখ মঞ্জিলে নিয়ে চল।বিয়ের কটা দিন না হয় সুপ্রভা শেখ মঞ্জিলে থাকবে।তোকেও কাছে পাবে আবার বিয়েটাও এনজয় করতে পারবে।”
সিয়াদাতের কথা শুনে আনন্দে শরীর কেঁপে উঠে সুপ্রভার।সুপ্রভা দৌড়ে এসে সিয়াদাতকে জড়িয়ে ধরতে যায়।সিয়াদাত তাকে থামিয়ে দেয়।
কঠিন গলায় বলে– “ গায়ে পড়া মেয়েদের আমি একদমই সহ্য করতে পারি না। ডিস্ট্যান্স মেইনটেইন করে চলবে আমার থেকে।ইজ দ্যাট ক্লিয়ার?”
সুপ্রভা উপর নিচ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।
সিয়াদাত দেখেও না দেখার ভান করে।সুপ্রভা
ধীরে ধীরে সিয়াদাতের কাছ থেকে এক কদম সরে দাঁড়ায়।
চারপাশে অসংখ্য মানুষ আছে। সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত। কিন্তু সুপ্রভার মনে হচ্ছে সবাই তাকে দেখছে। সবাই সবটা শুনছে।সুপ্রভা দারুন অস্বস্তির মধ্যে পড়ে যায়।
মারুফ সুপ্রভার অস্থিরতা টের পায়।গলা খাঁকারি দিয়ে বলে–“চল সুপ্রভা।”
সুপ্রভা আর একবার সিয়াদাতের দিকে তাকায়।
সেই একই কঠিন মুখ। ফোনের স্ক্রিনে চোখ, যেন কিছুই হয়নি।
মারুফ রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে সোজা গাড়ির পেছন সিটে গিয়ে বসে পড়ে। মারুফের দেখাদেখি সুপ্রভাও পেছন সিটে বসতে যায়।
ঠিক তখনই সিয়াদাতের কটাক্ষের স্বর শোনা
যায় – “ আমি কারো ড্রাইভার নই।ওকে?”
সুপ্রভা যাঁতাকলে পড়ে যায়।সে একবার মারুফের দিকে তাকায় তো আরেকবার সিয়াদাতের দিকে।
দুজনেই নিজেদের কাজে মগ্ন । উপায়ান্তর না পেয়ে সুপ্রভা সিয়াদাতের পাশের সিটে বসে।
ভয়ে মুখ ছোট হয়ে আসে সুপ্রভার।সিয়াদাত একপল সুপ্রভার দিকে তাকায়। রাশভারী কণ্ঠে বলে–“ সিটবেল্ট লাগাও স্টুপিড।”
সুপ্রভার বুকটা ধড়াস করে ওঠে।গলা খানিকটা শুকিয়ে যায়।সে কাঁপা হাতে সিটবেল্ট লাগানোর চেষ্টা চালায়। কিন্তু সিয়াদাতের র’ক্তবর্ণ চোখ দেখে সবটা তালগোল পাকিয়ে যায় তার। বিরক্তিতে সিয়াদাতের হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে আসে।
যেটা মারুফের চোখ এড়ায় না। মারুফ শুকনো ঢোক গিলে বলে– “ দেখছিস তো মেয়েটা শত চেষ্টার পরেও সিটবেল্ট লাগাতে পারছে না।একটু লাগিয়ে দে না ভাই।ল্যাটা চুকে যাক।”
সিয়াদাত ভ্রু কুঁচকে মারুফের পানে চায়। মারুফ ভয়ে ভয়ে বলে – “ ভাগ্নিই তো।”
সিয়াদাত ঝুঁকে এসে সিটবেল্টটা ধরে। তার আঙুল ছুঁয়ে যায় সুপ্রভার কাঁধের পাশ।সুপ্রভার সর্বাঙ্গ শিরশির করে উঠে।সুপ্রভা খিচে চোখ বন্ধ করে নেয়। অকষ্মাৎ তার কানে ধুপ ধুপ শব্দ ভেসে আসে।
এই শব্দ যে তার হৃৎপিণ্ডের লাফানোর শব্দ তা বুঝতে বেশ খানিকটা সময় লেগে যায় সুপ্রভার। সুপ্রভা পরাস্ত সৈনিকের ন্যায় মাথা নিচু করে বসে থাকে।
সিটবেল্টটা ক্লিক করে আটকে যেতেই সিয়াদাত এক মুহূর্ত স্থির থাকে।পরের মুহূর্তেই সে সোজা হয়ে বসে ইগনিশনে চাবি ঘোরায়।ইঞ্জিনের গর্জন নীরবতা চিরে ওঠে।
গাড়ি ধীরে ধীরে গেট ছাড়িয়ে রাস্তায় নামে।
জানালাটা খানিকটা খোলা ছিল। সন্ধ্যার হালকা বাতাস ভেতরে ঢুকে পড়ে। সেই বাতাসেই সুপ্রভার খোলা চুল এলোমেলো করে দেয়।
এক গুচ্ছ নরম, কালো চুল এসে আছড়ে পড়ে সিয়াদাতের গালে।কিছুটা তার চোখে, কিছুটা ঠোঁটের কোণে।সিয়াদাত বিরক্ত হয়ে সুপ্রভাকে ধমক দিতে যায়, কিন্তু ততক্ষণে সুপ্রভার চুলের ঘ্রাণ তার শ্বাসে মিশে গেছে।অদ্ভুত মিষ্টি ঘ্রাণ।
সিয়াদাত শ্বাস টেনে আরো গভীর ভাবে সুপ্রভার চুলের মিষ্টি ঘ্রাণ নেয়।সুপ্রভা টের পেয়ে তড়িঘড়ি করে হেয়ার ব্যান্ড দিয়ে চুল আটকে নেয়। অপ্রস্তুত ভঙ্গিতে বলে– “ সরি।”
সিয়াদাত কিছু বলে না। নিঃশব্দে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে হাত ঘোরায় । প্রায় ত্রিশ মিনিট পর গাড়ি এসে শেখ মঞ্জিলের সামনে দাঁড়িয়ে যায় । উপর থেকে সিয়াদাতের গাড়ি আসতে দেখে ছুটে আসে সারা।সুপ্রভা তখনো গাড়িতে বসে রয়েছে।
সিয়াদাত নেমে এসে বাধ্য ড্রাইভারের ন্যায় গাড়ির দরজা খুলে দেয়। কটাক্ষ করে বলে–
“ ম্যাম ! গাড়ি থেকে নামবেন, নাকি কোলে করে নামাতে হবে?”
লজ্জায় মাথা নিচু হয়ে যায় সুপ্রভার।সুপ্রভা তড়িঘড়ি করে নামতে গিয়ে পড়ে যেতে যায়।কিন্তু পড়তে পারে না।তার আগেই একটা শক্ত পুরুষালী হাত এসে সুপ্রভার কোমর জড়িয়ে ধরে।
সুপ্রভা #নতুনপ্রেমেরগান
Share On:
TAGS: নুজাইফা নূন, সুপ্রভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৩
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৮
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৬
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ২
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ১০
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ১
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ১৩
-
সুপ্রভা পর্ব ৩
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ১২
-
নতুন প্রেমের গান পর্ব ৫