Golpo romantic golpo সুপ্রভা

সুপ্রভা পর্ব ১


প্রফেসর শেখ সিয়াদাত শাহারিয়ার গালে চুমু দেওয়ার পর মুহূর্তেই সপাটে চড় পড়ে সুপ্রভার গালে।সুপ্রভা গালে হাত দিয়ে কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়।গালটা জ্বলছে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি জ্বলছে অপমানটা। নিজের প্রিয় মানুষের থেকে এভাবে অপমানিত হবে এটা কল্পনাতীত ছিল সুপ্রভার। সুপ্রভা ধীরে ধীরে চোখ তুলে সামনে তাকায় ।মনে হয় যেন পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেছে তার।তার সামনে উচ্চকায়ের একজন পুরুষ দাঁড়িয়ে রয়েছে।লোকটি সুদর্শন ও পরিপাটি চেহারার। গায়ের রং গৌর বর্ণ বলা চলে। মুখের গঠন বেশ স্মার্ট ।চওড়া কপাল, ঘন ভ্রু, তীক্ষ্ণ চোখ। চুল ঘন কালো, সুন্দর করে সেট করা ।উপরের দিকে হালকা উঁচু স্টাইল। মুখে পরিপাটি করে ছাঁটা দাড়ি।পোশাকের ক্ষেত্রে সে আরও চার্মিং। শরীরের উপর ফিট করা সাদা শার্ট , তার উপরে কালো ব্লেজার ।হাতের কব্জিতে ঝলমলে, ব্র্যান্ডেড ঘড়ি।পায়ে দামি জুতা। সুপ্রভা ফ্যালফ্যাল নয়নে সিয়াদাতের দিকে তাকিয়ে রয়।যখন স্মরণে আসে সে কষ্মিনকালেও এই সুদর্শন পুরুষকে দেখে নি, তখনই তড়াক করে লাফিয়ে উঠে পিছিয়ে যায় দু কদম। গালে হাত দিয়ে চেঁচিয়ে উঠে – “ আ .. আপনি কে? আমি আপনার গালে চুমু খেয়েছি? ছিঃ ছিঃ ছিঃ। লজ্জায় ম’রে যেতে ইচ্ছে করছে আমার।”

সিয়াদাতের ভ্রু কুঁঞ্চিত হয়।সে বিরক্ত গলায় বলে– “ হোয়াট দ্যা হেল আর ইউ? মরার ইচ্ছে হলে দূরে গিয়ে মরো ননসেন্স।”

সিয়াদাতের কথাগুলো কাঁচের টুকরোর মতো সুপ্রভার বুকে গেঁথে যায়। অপমানে তার কমলার কোয়ার ন্যায় ঠোঁট জোড়া তিরতির করে কাঁপতে থাকে। গলার ভেতর জমে থাকা কান্নাটা আর ধরে রাখতে পারে না সে। চোখের কার্নিশ বেয়ে গড়িয়ে পড়ে নোনাজল।এর‌ই মধ্যে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসে শ্যামবর্ণের একজন পুরুষ।সুপ্রভা তাকে দেখা মাত্রই তার বলিষ্ঠ বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। লোকটা নিজেও সুপ্রভাকে আগলে নেয়।সুপ্রভার মাথায় বারকয়েক ঠোঁটে ছুঁয়ে দিয়ে সিয়াদাতের দিকে কঠিন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে। রাগী গলায় বলে–

“ এটা তুই কী করলি সিয়াদাত? মেয়েটাকে এভাবে থাপ্পড় দিলি? গালটা কেমন লাল হয়ে গিয়েছে। তুই নির্দয় বলে জানতাম।তাই বলে এতোটা?”

সিয়াদাত কপালে চোখ তুলে অবিশ্বাসী গলায় বলে– “ তুই একটা বাইরেরর মেয়ের হয়ে ওকালতি করছিস মারুফ? তুই আমার ফ্রেন্ড না কি ওই বাইরের মেয়েটার?”

মারুফ দাঁতে দাঁত চেপে বলে– “ তুই যাকে বাইরের মেয়ে বলছিস, সে মোটেও বাইরে‌ও মেয়ে নয়।মেয়েটা আমার বড় আপার মেয়ে সুপ্রভা। আমার ভাগ্নী।”

বিষ্ময়ে চোখ বড় বড় হয়ে যায় সিয়াদাতের। সিয়াদাত সুপ্রভার আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে।তার ঠোঁট ফুঁড়ে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে আসে–

“ মেয়েটাকে জন্ম নিতে দেখেছি আমি।কবে কবে এতো বড় হয়ে গেলো?”

সুপ্রভার এতোক্ষণে তার মামার উপর দৃষ্টি যায়।
সিয়াদাত আর মারুফ দুজনে এক‌ই পোশাক পরিধান করেছে।সুপ্রভা এখানেই তালগোল পাকিয়ে ফেলেছে।মারুফ দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলো।গতকাল‌ই সে বিডিতে ফিরেছে। কিন্তু সুপ্রভার পরিবারের কারো সাথে মিট করেনি।সুপ্রভা খুব জেদ করছিল মারুফের সাথে দেখা করার জন্য।আদরের ভাগ্নীর জেদ আর ভালোবাসার কাছে হার মানে মারুফ।সে সুপ্রভাকে একটা রেস্টুরেন্টের লোকেশন পাঠিয়ে দেয়।এটাও বলে দেয় সে কেমন পোশাকে থাকবে।কোন টেবিলে থাকবে।

সিয়াদাত আর মারুফ রেস্টুরেন্টের কর্ণারের টেবিলে বসা ছিল।সহসা মারুফের ফোন বেজে ওঠে। মারুফ হ্যালো‌ হ্যালো করতে করতে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে আসে। ঠিক সেই মুহূর্তে সুপ্রভা রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে।আদরের মামাকে সামনে থেকে দেখার আকাঙ্ক্ষায় সুপ্রভার বুকের ভেতরটা তখন উথাল-পাথাল।কর্নারের টেবিলে বসে থাকা লম্বা, কালো ব্লেজার পরিহিত মানুষটাকে দূর থেকে দেখেই বুকের ভেতরটা আনন্দে কেঁপে উঠে সুপ্রভার।এক মুহূর্তও দেরি না করে সুপ্রভা দৌড়ে এগিয়ে যায়। আনন্দে, আবেগে, দীর্ঘদিনের না‌ দেখার উচ্ছ্বাসে সে সোজা গিয়ে সিয়াদাতকে জড়িয়ে ধরে। সিয়াদাত কিছু বুঝে ওঠার আগেই আচমকা তার গালে চুমু খায়।

সবকিছু ঘটে যায় চোখের পলকে।পর মুহূর্তেই সময় যেন থমকে যায়।সিয়াদাতের শরীরটা শক্ত হয়ে ওঠে। বিষ্ময় আর রাগ একসাথে জমে তার চোখে।সুপ্রভাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই সে ঠাস ঠাস করে চড় মেরে দেয় সুপ্রভার গালে ।

সুপ্রভার গালটা এখনো জ্বলছে । ফর্সা গালে সিয়াদাতের হাতের পাঁচটা আঙ্গুলের ছাপ স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। মারুফ সুপ্রভাকে বুক থেকে সরিয়ে চেয়ারে বসিয়ে দেয়।

কপট রাগ দেখিয়ে বলে–“ তুই শুধু সুপ্রভাকেই আঘাত করিস নি সিয়াদাত।তুই আমাকেও আঘাত করেছিস। আজ পর্যন্ত যে মেয়েটার গায়ে একটা ফুলের টোকাও পড়েনি , তুই সেই মেয়েটার গায়ে হাত তুলেছিস। কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে আমার।আজ যদি তোর জায়গায় অন্য কেউ থাকতো, ট্রাস্ট মি আমি তার হাত ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতাম।”

মারুফের কথাগুলো কর্ণগোচর হয় না সিয়াদাতের। হবেই বা কিভাবে? সে তো দিন দুনিয়া ভুলে পলকহীন দৃষ্টিতে সুপ্রভার দিকে তাকিয়ে রয়েছে।সেই ছোট্ট সুপ্রভা।যাকে‌ আজ থেকে পনেরো বছর আগে এক পলক দেখেছিল।

আচানক কর্কশ শব্দে সিয়াদাতের ফোন বেজে ওঠে।সিয়াদাত সম্বিত ফিরে পায়।সে ত্বরিত চোখ নামিয়ে নেয়। মারুফের দিকে কঠোর দৃষ্টি নিক্ষেপ করে গম্ভীর গলায় বলে—“ এনাফ ইজ এনাফ। নিজের ভাগ্নীর হয়ে অনেক বলেছিস মারুফ। কিন্তু তুই কি জানিস তোর আদরের ভাগ্নী কী করেছে?”

মারুফ হতভম্ব গলায় বলে– “ কী করেছে সুপ্রভা?
বল কী করেছে? আমিও জানতে চাই সুপ্রভা এমন কী করেছে, যার জন্য তার গালে থাপ্পড় পড়লো। রেস্টুরেন্টে উপস্থিত সকলের সামনে অপমানিত হতে হলো?”

সিয়াদাত কিছু বলার আগেই সুপ্রভা বলে উঠে – “আমি তোমাকে ভেবে উনাকে জড়িয়ে ধরেছি। চুমুও খেয়েছি।”

মারুফ শুকনো ঢোক গিলে।মনে মনে বলে – “ এটা তুই কী করেছি সুপ্রভা? সিয়াদাত শাহারিয়ার গালে চুমু? তোর ভাগ্য ভালো যে সিয়াদাত তোকে একটা থাপ্পড় দিয়েছে।”

মারুফের চুপসে যাওয়া মুখ থেকে সিয়াদাত কুটিল হাসে। ঠোঁট বেঁকিয়ে বলে– “ মুখের কথা উবে গেল মারুফ?”

মারুফ দাঁত কেলিয়ে বলে – “ তুই আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।বেস্টফ্রেন্ড মানে ভাই।আর ভাই মানে আমার মা বাবা তোর‌ও মা বাবা।আমার বোন তোর‌ও বোন। আমার ভাগ্নী তোর‌‌ও ভাগ্নী।ভাগ্নী মামাকে চুমু দিতেই পারে। ইটস্ নরমাল।”

সিয়াদাত দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলে– “ ভাগ্নী মাই ফুট।”

চলবে…..

সুপ্রভা ( প্রচার)

সূচনা_পর্ব

নুজাইফা_নূন

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply