সুতোয়বাঁধাজীবন
পর্বঃ০৬
কলমেসোনালিকাআইজা
⚠️কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ⚠️
জ্ঞান ফেরার পর থেকেই পাথর হয়ে বসে আছে মায়া। উদাস দুই চোখে শত বছরের ক্লান্তির ছাপ। মনের সাথেই করে চলেছে তুমুল আকারের যুদ্ধ। জীবনের হিসাব কষতে গেলে বুকটা ভেঙে আসে খুব। নিয়তি কতই না মশকরা করছে মেয়েটার সাথে। যে অতীত পেছনে ফেলে নতুন করে বাঁচতে চাইছে মেয়েটা। সেই অতীতই বার বার কাল হয়ে ফিরে আসছে মায়ার জীবনে। ভাগ্যেই যদি থাকবে, তাহলে সেই বিচ্ছেদ কেনো? এ কি নিয়তির মশকরা নয়?
ভাবুক মায়ার ভাবনায় ছেদ ঘটলো নিকিতার ডাকে। মায়ার বাহুতে হালকা ধাক্কা দিয়ে নিকিতা বলে উঠলো,
—“মায়া! কি হয়েছিল তোর? হঠাৎ জ্ঞান হারালি কি করে?”
আচমকা ডাকে হুঁশ ফিরলো মায়ার। গভীর ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে নিজের বান্ধবীর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো। বহু চেষ্টা করেও ছলছলে চোখ জোড়া লুকাতে পারলো না সে। আটকে রাখা অশ্রু কণাগুলো ঠিকই নিকিতার চোখে ধরা পড়লো। মায়ার চোখে পানি দেখে খানিকটা বিচলিত হয়ে পড়লো নিকিতা। দুই হাতে বান্ধবীর মুখটা আঁজলে ধরে বলল,
—“ওমা কাঁদছিস কেনো? বজ্জাত আর্মি গুলো কি বেশি বকেছে? তোকে বারন করেছিলাম, ওই ফুল আনার দরকার নেই। শুনলি না আমার কথা। সেই তো…”
—“আমি মেজর সাহেবকে দেখেছি নিকি।”
নিজের কথা আর শেষ করতে পারলো না নিকিতা। এর মাঝেই মায়ার জবাব শুনে কথাগুলো গলাতেই আটকে গেলো। চোখের কোণে একরাশ অবাকের রেশ ছড়িয়ে পড়লো। খানিকটা অবাক কন্ঠেই বলল,
—“মেজর সাহেব? মানে মেজর তাসরিফ আহমেদকে?”
—“হ্যা।”
—“কোথায় দেখেছিস?”
—“পাহাড়ে।”
—“সে এখানে কি করছে?”
—“জানি না। তবে ইউনিফর্ম পড়ে ছিলো।”
নিকিতা থেমে গেলো কিছুটা। মায়ার দিক থেকে নজর সরিয়ে ভাবুক স্বরে বলল,
—“বাবা বলছিল এই এরিয়াতে নতুন মেজর এসেছে। কৌতুহল ছিলো না বিধায় নামটা শোনা হয়নি। তাহলে গন্ধ শুঁকে শুঁকে এখানেও চলে এসেছে লোকটা। কিছু বলেছে তোকে?”
—“কি আর বলবে? তিনি তো আমাকে চিনতেই পারেননি।”
বলেই তাচ্ছিল্য হাসলো মায়া। হাসির সাথে বুকে জমে থাকা অভিমানের খানিকটা রেশও বেরিয়ে এলো। যার থেকে পালিয়ে বেড়াতে ঢাকা ছেড়ে চট্টগ্রাম চলে এলো মেয়েটা। নিয়তি সেই লোককে টানতে টানতে চট্টগ্রামেই এনে ফেলল।
দুই বান্ধবীর আলোচনার মাঝে দুধের গ্লাস হাতে ঘরে উপস্থিত হলেন ফুলবানু। পঞ্চাশোর্ধ বয়সী এই বৃদ্ধার ঘরেই ঠাঁই মিলেছে অভাগী মায়ার। সেদিন নিকিতার সাথে চট্টগ্রাম আসার পর ফুলবানুর সাথে পরিচয় হয় মায়ার। ফুলবানু নিকিতাদের প্রতিবেশী। বড়লোক বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে ছিলেন তিনি। ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন একটা মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেকে। কিন্তু বিয়ের বছরের মাথায় সংসার ভেঙে যায় তার। স্বামীর প্রতারণায় নিজের সহায়, সম্বল, সম্পদ সব হারিয়ে বসেন। অতঃপর সংসার জীবনের মোহ ত্যাগ করে একাই জীবন পাড় করে দিলেন তিনি। বর্তমানে এই বৃদ্ধা একটা রেস্তোরাঁর মালিক। সেই সাথে সখের বশে একটা ফুলের দোকান সাজিয়েছেন। মায়াও তার মতো স্বামীর স্বীকৃতি পায়নি শুনে ওকে নিজের কাছেই রেখে দিয়েছেন। নিজের পেটের সন্তান তো নেই। এই শেষ বয়সে মায়াকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার বৃথা চেষ্টা চালাচ্ছেন।
হাতে ধরে রাখা গরম গরম দুধের গ্লাসটা মায়ার দিকে এগিয়ে দিয়ে ওর পাশে বসলেন বৃদ্ধা। নরম সুরে বললেন,
—“সোয়ামীরে দেইখা মন গইলা গেছে?”
মায়া ডানে বামে মাথা নেড়ে না বোঝালো। ফুলবানুর কন্ঠস্বর এবার বেশ রুষ্ট হয়ে এলো,
—“তো? তাইলে কান্দোস ক্যান ছেমরি? মন যদি নাই গলে তাইলে মরার কান্দন জুড়ছোস ক্যান?”
—“ক্ষত গুলো আবার তাজা হয়ে গেছে দাদি। সেই জ্বলনেই কাঁদছি।”
—“এইডা ভালো কথা। মনের ক্ষত আজীবন দগদগে ঘা হয়ে থাকা চাই। যারা শুরুতে বউদের দাম দেয় না। তাগো বউয়ের থেইকা দরদ, ভালোবাসা পাওয়ার অধিকার নাই। মরদ মানুষের ছলাকলা বেশি। খবরদার, ছ্যামরার ছলাকলায় দিক হারাবি না।”
—“যে জীবন আমি স্বেচ্ছায় ছেড়ে এসেছি, সেই জীবনে আর ফিরবো না দাদি। তুমি নিশ্চিন্তে থাকো।”
—“এতোক্ষণে একখান মনের মতো কথা কইছোস। ওসব ছ্যাবলা পোলাগো কথা মাথা থেইকা ঝাইড়া ফেল তো। দুধ খা। শরীরে জোর আসবো।”
বলতে বলতে দুধের গ্লাসটা মায়ার মুখের সামনে ধরলেন। কোনোরুপ দ্বিমত না করে গ্লাসটা হাতে তুলে নিলো মায়া। নিকিতা এতোক্ষণ নিরব দর্শক হয়ে থাকলেও এবার সে মুখ খুললো। পাশে রাখা নিজের সাইড ব্যাগটা কাঁধে তুলতে তুলতে বলল,
—“যা হওয়ার হয়ে গেছে। একবার দেখা হওয়াতে আহামরি কিছু হবে না। তারওপর লোকটা তোকে ভুলে গেছে। এখন সব চিন্তা সাইডে ফেলে কালকের জন্য প্রস্তুতি নে। কাল আমার এনগেজমেন্টে তোর এই লটকানো মুখ দেখতে চাই না আমি।”
বিপরীতে ঠোঁট ছড়িয়ে হাসলো মায়া। আশ্বাস দিয়ে বলল,
—“একদম টেনশন নিস না। কাল তোর এনগেজমেন্টে সবচেয়ে বেশি একটিভ থাকবো আমি। বিয়েতে একদম উরাধুরা নাচাবো।”
বলেই খিলখিল করে হেঁসে ফেললো মায়া। মুক্ত ঝরা সেই হাসির দিকে কয়েকপল নির্মিশেষ তাকিয়ে রইলো নিকিতা। মেয়েটাকে দেখতে নরম মনে হলেও প্রচন্ড ধৈর্য্যশীল। নাহলে, অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে বাবা মাকে হারিয়ে, স্বামী সংসার থেকে বিতাড়িত হয়ে এতো সহজে কেউ উঠে দাঁড়াতে পারে? তবুও মেয়েটার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকে মায়াবী হাসি। নামের সাথে চেহারা এবং আচরণ একদম মানানসই। নিজের সাত পাঁচ ভাবনাকে দূরে ঠেলে দিয়ে মায়ার থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো নিকিতা। কাল তার বাগদানের অনুষ্ঠান। রাতে বেশ সময় নিয়ে রুপচর্চা করতে হবে।
–
দিহানের ঘরের পেছনের বারান্দায় আড্ডার আসর বসেছে আজ। দিহান, তাসরিফ, নিহান আর তমাল মিলে এই আড্ডার আসর বসিয়েছে। ঘরজুড়ে হরেক রকম খাবারের মেলা। সেই নানান ধরনের খাবারের মাঝে নিষিদ্ধ পানীয়র বোতলগুলোও ঠিকই জায়গা করে নিয়েছে। সবার হাতে একটা করে গ্লাস। তবে সবার মাঝে ব্যাতিক্রম কেবলমাত্র তাসরিফ। সে আজকের আয়োজনের সম্পুর্ন বিরোধিতা করে হাতে ফলের জুস নিয়ে বসেছে। বন্ধুর এই ভিন্ন মত একদমই পছন্দ হলো না দিহানের। নিষিদ্ধ পানিতে একটা চুমুক দিয়ে বলল,
—“লজ্জা করছে না তোর?”
হঠাৎ প্রশ্নে হকচকিয়ে গেলো তাসরিফ। অবাক কন্ঠে বললো,
—“লজ্জা কেনো করবে?”
—“এই যে বন্ধু সমাজে বসে থেকে, অসামাজিক আচরণ করছিস। সমাজ রক্ষার্থে একটা চুমুকও তো চেখে দেখতে পারিস।”
—“আমি ড্রিংক করি না দিহান।”
—“তো আমরা কি খুব করি? কাল আমার ছোটো ভাইটা জীবিত থেকে বিবাহিত হয়ে যাবে। ওর আত্মার শান্তির জন্য আজ ব্যাচেলর পার্টির আয়োজন করলাম। এসেই যখন পরেছিস, একটু সঙ্গ দে।”
—“কথায় আছে সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে। তোদের সঙ্গ দিয়ে আমি লোহার মতো ভাসতে চাই না।”
—“শা*লা খারুস।”
বিড়বিড় করে গালিটা দিয়েই হাতের গ্লাসে লম্বা চুমুক দিলো দিহান। সচারাচর ড্রিংক করার অভ্যাস না থাকায় কয়েক চুমুকেই কেমন যেনো নেশা ধরে গেছে। বাকি দুজনের অবস্থাও তাই। বিশেষ করে আগামীর বলির পাঠা নিহানও জ্ঞানহারিয়ে গভীর ঘুমে ঢলে পড়েছে। দিহানের খানিকটা নেশা চড়লেও সে এখনও পুরোপুরি সজ্ঞানে। সবার দিকে এক পলক নজর বুলিয়ে তাসরিফ নিজে থেকে বলে উঠলো,
—“তোর ওই স্টুডেন্টের বিষয়ে কিছু বলতে চেয়েছিলি যে।”
—“কে? মায়াবিনী?”
নামটা কোনো কারণে পছন্দ হলো না তাসরিফের। দিহানের মুখে বারবার মায়াবিনী নাম শুনে অকারণেই মাথায় রাগ চেপে যাচ্ছে। তবুও, রাগকে এক সাইডে ফেলে জবাব দিলো,
—“হু। ওই মেয়েটাই।”
—“ও তো আমার হৃদয় চুরি করা একমাত্র মেয়ে ভাই।”
—“পরিচয় কি মেয়েটার?”
—“আপাতত আমার স্টুডেন্ট। কিন্তু ভবিষ্যতে আমার বউ হবে। পরিচয় এটাই।”
বলতে বলতে একগাল হেঁসে উঠলো দিহান। তাসরিফের অস্বস্তি বাড়া ছাড়া কমলো না। তবুও জোর পূর্বক মুখে হাসি টেনে বলল,
—“প্রেমে তো হাবুডুবু খাচ্ছিস।”
—“একদম ভাই। হাবুডুবু খেতে খেতে ডুবে মরছি। দুইমাস আগে যখন প্রথম ওকে দেখি, সেদিনই মন হারিয়ে বসে আছি। কি জাদু যে করেছে আমাকে। জাস্ট পাগল হয়ে যাচ্ছি আমার মায়াবিনীর জন্য।”
—“তাহলে বিয়েটা তুই আগে করতি। নিজে বিয়ে না করে আগে ছোটো ভাইকে বিয়ে করাচ্ছিস কেনো?”
—“এটার পেছনেও বেশ বড়সড় কারণ আছে।”
বলতে বলতে তাসরিফের দিকে খানিকটা এগিয়ে এলো দিহান। একবার সতর্ক চোখে তাকিয়ে দেখলো ছোটো ভাই তার জ্ঞানে আছে কি না। কিন্তু নাহ্। নেশার প্রভাবে ছেলেটা একেবারে ঘুমে কাদা। দিহান এবার আরও খানিকটা এগিয়ে এলো। অনুচ্চস্বরে ফিসফিস করে বলল,
—“মায়াবিনীকে তো জান প্রাণ দিয়ে আমি একাই ভালোবেসে যাচ্ছি। কিন্তু এখনও ওকে বলার সাহস পাইনি। যদিও আমি বুঝি, মায়াবিনীও আমাকে পছন্দ করে। কিন্তু মেয়ে মানুষ তো। আগ বাড়িয়ে মুখ ফুটে বলতে পারছে না। শিক্ষক হয়ে আমারও সরাসরি বলতে আনইজি লাগছে। তাই কায়দা করে ওর বান্ধবীর সাথে নিহানের বিয়ে ঠিক করলাম। বিয়ের অজুহাতে ভার্সিটির বাইরেও বেশ কিছু সময় দেখা করার সুযোগ পাবো। তখন নাহলে এক ফাঁকে মনের কথা প্রকাশ করে দেবো। কি বলিস?”
নিজের বক্তব্যের শেষে একটা প্রশ্নও রাখলো তাসরিফের জন্য। তাসরিফ তখন একটু একটু করে ফলের জুসে চুমুক দিচ্ছে। শুরুতে জুসটা বেশ মিষ্টি লাগলেও এখন কোনো কারণ বসত জুসের স্বাদ তেঁতো অনুভব হচ্ছে। হয়তো দীর্ঘক্ষন হাতে রাখার কারণে এই স্বাদের ভিন্নতা। নাকি অন্য কিছু? নির্দিষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পেলো না তাসরিফ। উপরন্তু অজ্ঞাত কোনো কারণে দিহানের প্রেমের মাঝে ভিলেন হয়ে ঢুকতে মন চাইলো। সেই চাওয়ার রেশ ধরেই তাসরিফ বলে উঠলো,
—“হুম, পরিকল্পনা ঠিকই আছে। সবই পার্ফেক্ট। তবে মেয়েটা তোর তুলনায় অনেক ছোটো। দুজনকে পাশাপাশি একদম মানাবে না মনে হচ্ছে।”
প্রাণপ্রিয় বন্ধুর থেকে এমন নেগেটিভ মন্তব্য শুনে হাসিখুশি মুখটা চুপসে গেলো দিহানের। খানিকটা মন খারাপ নিয়ে সে বলল,
—“কেনো দোস্ত? মানাবে না কেনো? আমি কি দেখতে হ্যান্ডসাম নই?”
—“সে তুই আছিস। কিন্তু ওই মেয়েটার পাশে তুই বেমানান। এটা আমার পার্সোনাল অপিনিয়ন।”
—“মন ভেঙে দিস না ভাই।”
মুখটা কেমন জানি চুপসে গেছে দিহানের। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে জোরপূর্বক হাসলো তাসরিফ। বন্ধুর কাঁধে হালকা চাপড় দিয়ে বলল,
—“আরেহ্, বন্ধু হোস না তুই আমার? তোর জন্য চিন্তা হয় তাই বললাম। আমি চাই আমার বন্ধু জীবন সঙ্গী হিসেবে দুনিয়ার বেস্ট মেয়েটাকে পাক। আজ তো জ্ঞানে ছিলো না। পরে একদিন দেখা করিয়ে দিস। একটু যাচাই বাছাই করে দেখবো আরকি।”
—“তো কালকেই কথা বলে নিস। কাল নিহানের বাগদানে মায়াবিনী থাকবে তো।”
কথাটা বেশ পছন্দ হলো তাসরিফের। এই অকারণ পছন্দের কোনো হেতু খুঁজে পেলো না তাসরিফ। অচেনা অজানা এই বাচ্চা মেয়েটার জন্য হঠাৎ করেই মনের কোণে একটা অনুভুতি অনুভব করছে তাসরিফ। মনটা খুব করে বলছে এই মেয়েটা ওর চেনা। বড্ড বেশি চেনা। বিষয়টা নিয়ে সরাসরি কথা না বলা পর্যন্ত শান্তি পাচ্ছে না। সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে তাসরিফ বলল,
—“ঠিক আছে। কাল দেখে নেবো বিষয়টা। আজ আসি।”
চলবে?
Share On:
TAGS: সুতোয় বাঁধা জীবন, সোনালিকা আইজা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ৪
-
সুতোয় বাঁধা জীবন পর্ব ২
-
সুতোয় বাঁধা জীবন গল্পের লিংক
-
এক টুকরো মেঘ গল্পের লিংক
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ১
-
সুতোয় বাঁধা জীবন পর্ব ৪
-
সুতোয় বাঁধা জীবন পর্ব ১
-
সুতোয় বাঁধা জীবন পর্ব ৫
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ২
-
এক টুকরো মেঘ পর্ব ৩