Golpo romantic golpo সুতোয় বাঁধা জীবন

সুতোয় বাঁধা জীবন পর্ব ৪


সুতোয়বাঁধাজীবন

পর্বঃ০৪

কলমেসোনালিকাআইজা

⚠️কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ⚠️

মকবুল সরকারের চায়ের দোকানটা সন্ধ্যা হলেই রমরমা হয়ে ওঠে। এলাকার কম বয়সী ছেলেগুলো থেকে শুরু করে বৃদ্ধ পর্যন্ত আড্ডা জমায় এই চায়ের দোকানে। তবে আজ যেনো সন্ধ্যা নামার আগেই দোকানটা যুবকদের ভীড়ে ভরে গেছে। তাসরিফ সহ তার এলাকার বন্ধু বান্ধব একত্রিত হয়েছে সেখানে। প্রত্যেকের হাতে একটা করে চায়ের কাপ। একে একে সবাই তৃপ্তির চুমুক দিলেও গলা দিয়ে এক ফোঁটা পানিও নামাতে পারলো না তাসরিফ। অজানা কোনো কারণে বুকটা জ্বলছে। কেমন যেনো শূন্য শূন্য লাগছে ভেতরে। মনে হচ্ছে দেহের ভেতর কিছু একটা নেই। কোথাও একটা ফাঁকা, অসম্পূর্ণ।

সেই সকাল থেকে পুরো এলাকা জুড়ে মায়াকে খুঁজে চলেছে তাসরিফ। চেনা পরিচিতি কোনো জায়গা বাদ রাখেনি। অথচ ফলাফল শূন্য। এক রাতেই কেমন যেনো গায়েব হয়ে গেছে মেয়েটা। সবসময় অযাচিত ভেবে আসা মেয়েটার তালাসে আজ চোখ জোড়া ব্যাকুল তাসরিফের। অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে ঘনিষ্ট হওয়ার ফলেই কি এই অদ্ভুত অনুভুতি? তাসরিফের ভাবনার ছেদ ঘটলো তার বন্ধু সোহেলের ডাকে। বন্ধুর কাঁধে হাত রেখে সোহেল বলে উঠলো,

—“মেজর সাহেব। বুকটা কি একটু বেশিই পুড়ছে?”

আচমকা ডাকে চমকে উঠলো তাসরিফ। ভাবনার জোয়ারে ভাটা পড়লো মুহুর্তেই। “মেজর সাহেব” ডাকটা কানের গভীরে বিঁধে গেলো যেনো। মায়ার মুখে বেশ কয়েকবার এই ডাকটা শুনেছে তাসরিফ। তবে কখনো মেয়েটার ডাকে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। খুবই সুক্ষ্ম ভাবে উপেক্ষা করে গেছে মেয়েটাকে। অথচ আজ এই ডাক টাই ভেতরটা কেমন নাড়িয়ে দিচ্ছে। একবুক অস্বস্তি নিয়ে ফিরে তাকালো তাসরিফ। কাঁধ থেকে বন্ধুর হাত নামাতে নামাতে বলল,

—“নাম ধরে ডাক।”

—“কেনো?”

—“মেজর সাহেব ডাকটা আমার পছন্দ নয়।”

—“ভাবি ডাকতো তাই?”

তাসরিফ কিছু বলতে গিয়েও চুপ হয়ে গেলো। কথাগুলো সব এলোমেলো হয়ে গলার কাছেই আটকে রইলো। নিজের এই অগোছালো অনুভুতির প্রতি চরম বিরক্তি জন্ম নিলো মনে। বন্ধুর এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে মৃদু হাসলো সোহেল। পরক্ষণেই আবার মুখের হাসি মিলিয়ে গেলো ছেলেটার। মলিন সুরে বললো,

—“মেয়েটার প্রতি এতোটা নির্দয় না হলেও পারতি। কতবার বলেছিলাম, বিয়েটা মেনে নে। ভাবিকে একটা সুযোগ দে। ভাবি অনেক ভালো মনের মানুষ তাসরিফ। তোকে কখনো অভিযোগ করার সুযোগ দিতো না। শুনলি না আমার কথা। এখন হারিয়ে পাগলা কুত্তার মতো খুঁজে বেড়াচ্ছিস। এখন খুঁজে কি লাভ?”

—“লাভ লসের অঙ্কটা নাহয় আমিই কষে নেবো। আমার বউ নিয়ে তোর এতো চিন্তা কেনো?”

—“চিন্তা করতে হয়। তুই তো মেয়েটাকে পাত্তাও দিস না। দেবর হিসেবে আমার দায়িত্ব মেয়েটার খোঁজ খবর রাখার।”

কথাটা শেষ করতে না করতেই আচমকাই সোহেলের গলা চেপে ধরলো তাসরিফ। ফর্সা মুখটা রাগে রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। এই আকস্মিক রাগের আগমন কোথা থেকে হলো কে জানে? তবে সোহেলের চোখে মায়ার জন্য এতো চিন্তা কিছুতেই হজম করতে পারলো না তাসরিফ। রাগের বশীভূত হয়ে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল,

—“ও আমার বউ। আমি মানি বা না মানি তবুও ও আমার বউ। খবরদার যদি ওর দিকে চোখ তুলে তাকাস তো।”

চেপে ধরা গলাটা ছাড়াতে ছটফটিয়ে উঠলো সোহেল। সঙ্গে সঙ্গে নিরব দর্শক হয়ে বসে থাকা বাকিরা ছুটে এসে ছাড়িয়ে নিলো দুজনকে। শক্ত করে চেপে ধরায় গলায় দাগ বসে গেছে সোহেলের। সেখানে হাত বুলাতে বুলাতে সোহেল দাঁত কিড়মিড় করে বলল,

—“শা*লা বদ। বউটাকে শুরু থেকেই অবহেলা করে এখন জামাইগিরি দেখাতে আসছে। নিজে তো বউটার দিকে কখনো ফিরেও তাকাসনি। জিজ্ঞেস করলে বলতেও পারবি না মেয়েটা দেখতে কেমন। তাহলে এখন এতো টান লাগে কেনো?”

—“কারণ ও আমার বউ। উত্তর এই একটাই।”

সোহেল দাঁত খিচিয়ে আরও কিছু বলতে যাবে ঠিক সেই মুহুর্তে ছুটতে ছুটতে হাজির হলো তাসরিফের ছোটো চাচার ছেলে রোহান। কাছাকাছি এসেই দুই হাঁটুতে হাত রেখে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল,

—“ভাবির কোনো খোঁজ পেলে ভাই?”

রোহানের প্রশ্নের তৎক্ষনাৎ কোনো জবাব দিলো না তাসরিফ। বরং পাথরের মতো দুই পকেটে হাত গুঁজে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলো। তাসরিফের পরিবর্তে জবাব দিলো সোহেল,

—“পাগলা কুত্তার মতো খুঁজে বেড়াচ্ছি ভাবিকে। কিন্তু কোথাও পেলাম না।”

—“বাবা আর চাচ্চুও খুঁজে পায়নি। এখন থানায় গেলো মিসিং কেস করতে। কি জানি, ভাবিকে আদৌ খুঁজে পাবে কি না। কেউ পথ ভুলে হারিয়ে গেলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু কেউ নিজের ইচ্ছায় নিরুদ্দেশ হলে তাকে কি খুঁজে পাওয়া যায়?”

মলিন মুখে কথাগুলো বললো রোহান। বয়সে মায়ার সমান হওয়ায় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল রোহানের সাথে। হঠাৎ করে মেয়েটার হারিয়ে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না সে।

ঠিক এমন সময় সাঁই করে একটা গাঢ় সবুজ রঙের জিপ গাড়ি এসে থামলো তাসরিফের পাশে। জিপটা থেকে সঙ্গে সঙ্গে নেমে এলো একজন আর্মি পোশাকধারী সৈনিক। তাসরিফের সামনে এসে স্যালুট করে সম্মান জানালো। চোখের সামনে ক্যান্টনমেন্টের জিপগাড়ি দেখে চোয়াল জোড়া ঝুলে গেলো সোহেলের। বিস্ময়ভরা কন্ঠে বললো,

—“তুই ফিরে যাবি তাসরিফ?”

—“হুম।”

—“কবে?”

—“আজ এবং এক্ষুনি।”

—“তাহলে ভাবি?”

সোহেলের কন্ঠে চরম মাত্রায় অবাকের রেশ। তাসরিফ সঙ্গে সঙ্গে কোনো জবাব দিলো না। কয়েক সেকেন্ড চুপ করে কিছু একটা ভাবলো। এরপর জিপে উঠে বসতে বসতে বলল,

—“তাকেও খুঁজে বের করবো। আমার অস্তিত্বে নাড়া দিয়ে পালিয়ে যাবে, সেটা তো আমি হতে দেবো না। দুরত্ব যখন ঘুচিয়েছে, তখন এর পরাভোগও ওকে ভোগ করতে হবে। আমার ক্ষমতার হাত সম্পর্কে ওর কোনো আইডিয়া নেই।”

কথাটুকু শেষ করেই এক টানে জিপের দড়জা আটকে দিলো তাসরিফ। মুহুর্তেই সাই-সাই করে ধুলো উড়িয়ে নজর সীমার বাইরে চলে গেলো জিপ গাড়িটা।

লোকসমাগমে পরিপূর্ণ স্টেশনের ভিড় ঠেলে মায়াকে নিয়ে ট্রেনে উঠে পড়লো নিকিতা। সঙ্গে অবশ্য রুমিও আছে। ভিড়ের বুক চিরে তিন বান্ধবী ট্রেনে উঠলেও মায়ার জন্য টিকিটের ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হলো মেয়েটা। আগে থেকেই নিজের আর রুমির জন্য টিকিট কেটেছিল সে। মায়ার আগমন তো হলো হুট করেই। এখন শেষ সময়ে বাড়তি টিকিট ম্যানেজ করা অসম্ভব হয়ে গেছে। পুরো বগি জুড়ে সবগুলো সিট দখল করে নেওয়া মানুষ গুলোকে একবার দেখে নিলো মায়া। জীবনের মতো এই ট্রেনেও সে অবহেলিত। এই এত বড় বগিতে অসংখ্য মানুষের জায়গা হলেও জায়গা হচ্ছে না কেবল তার। এখানেও সে একটা পরগাছা। বান্ধবীর ঘাড়ের ওপর বোঝা। ভাবনাটা মাথায় আসতেই ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি ফুটে উঠলো মায়ার। হায়রে নিয়তি! জীবনের প্রতিটি পদে ধাক্কা খাওয়াই কি তবে ওর শেষ পরিণতি?

এদিকে চিন্তিত নিকিতার কপালেও পড়েছে কয়েকটা চিন্তার ভাঁজ। লম্বা রাস্তার জার্নি। মেয়েটা তো আর পুরো পথ দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে না। ভাবতে ভাবতে নিকিতার নজর আটকে গেলো নিজের সিট থেকে দুই সিট পেছনে। সেখানে মুখোমুখি দুই পাশের চারটে সিট নিয়ে একটা ছেলে বসে আছে। একপাশে পিঠ ঠেকিয়ে বসে সামনের সিটে পা উঠিয়ে রেখেছে। কানে হেডফোন গুঁজে চোখ দুটো বন্ধ করে আছে। নিকিতা মায়ার হাতটা ধরে হাঁটা দিলো সেদিকে। ছেলেটার কাছাকাছি গিয়ে মিহি কন্ঠে ডাকলো,

—“এক্সকিউজ মি!”

প্রথম ডাকটাই শুনলো যেনো ছেলেটা। বন্ধ রাখা চোখের পাতা সঙ্গে সঙ্গে মেলে ধরলো। চোখের সামনে অপরিচিত দুজন মেয়েকে দেখে কপালে কয়েকটা ভাঁজ পড়লো ছেলেটার।

—“ইয়েস।”

—“আপনার পাশে আর সামনের দুটো সিটের লোক কোথায়?”

—“চারটে সিট আমি একাই বুক করেছি। এ্যানি প্রবলেম?”

উত্তরটা যেনো বেশ পছন্দ হলে নিকিতার। মনে মনে একগাল হেঁসে মুখটা দুঃখি দুঃখি বানিয়ে বললো,

—“আসলে ভাইয়া, আমরা তিন বান্ধবী একসাথে চট্টগ্রাম যাবো। দুটো সিট ম্যানেজ করতে পেরেছি। কিন্তু একটা সিট কিছুতেই ম্যানেজ করতে পারিনি। আপনি তো একলা একটা মানুষ। একা কি আর চারটে সিট লাগে? ওকে একটু একটা সিটে বসতে দেবেন? আমি এই এক সিটের ভাড়া আপনাকে দিয়ে দেবো।”

একদমে নিজের বক্তব্য শেষ করলো নিকিতা। এরপর আশা ভরা চোখে চেয়ে রইলো উত্তরের আশায়। তবে ছেলেটা সঙ্গে সঙ্গে কোনো জবাব দিলো না। ইতস্তত চোখে একবার মায়ার দিকে তাকালো। মেয়েটা কেমন যেনো হাসফাস করছে। যদিও অচেনা কারোর সাথে সিট শেয়ার করা সে পছন্দ করে না। এজন্যই চারটে সিট একা নিয়ে পুরো পথ শান্তিতে পাড়ি দিতে চেয়েছিল। তবুও, মায়ার শুকনো মুখটা দেখে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ফেললো। মৃদু হেঁসে বললো,

—“শিওর। আপনি সামনের সিটে বসতে পারেন।”

নিকিতা একগাল হেঁসে ছেলেটাকে কৃতজ্ঞতা জানালো। নিজের পার্স থেকে টাকা বের করতেই ছেলেটা বাঁধা দিয়ে বলল,

—“টাকা দিতে হবে না। ইট’স ওকেই।”

নিকিতাও আর জোরাজুরি করলো না। একবার ভদ্রলোক যখন না করেছে, এটা টাকা বাঁচানোর মোক্ষম সুযোগ। সে তড়িঘড়ি করে মায়াকে জানালার পাশে বসিয়ে দিয়ে নিজের জায়গায় চলে গেলো। কোনো প্রয়োজন হলে যেনো ওকে ডাকে সেটাও বলে গেলো।

নিকিতা চলে যাওয়ার পর জানালার সাথে মাথা ঠেকিয়ে চুপচাপ বসে রইলো মায়া। উদাসীন চোখ দুটো স্থির করলো বাইরের গাছপালাতে। মিনিটের ব্যবধানে ঝকঝক শব্দে ট্রেনটা ছুট লাগালো আপন গন্তব্যে। এলোমেলো বাতাসে লম্বা চুলগুলো উড়তে শুরু করলো অবলীলায়। খানিকক্ষণ সময় কেটে গেলো পিনপতন নীরবতায়। সামনে বসা ব্যাক্তি আঁড়চোখে বার কয়েক চাইলো মায়ার দিকে। বিষয়টা মায়া ধরতে পারলো যেনো। চোখ জোড়া চলতে থাকা গাছপালা, ঘরবাড়ির দিকে রেখেই প্রশ্ন করলো,

—“কিছু বলবেন?”

ছেলেটা ভড়কে গেলো যেনো। তড়িঘড়ি করে হাতে একটা বই তুলে নিলো। বইয়ের পাতা উল্টাতে উল্টাতে বলল,

—“নাম কি আপনার?”

মায়া তৎক্ষনাৎ তাকালো সামনে বসা লোকটার দিকে। আচমকা নজর নিজের দিকে পড়ায় খানিকটা অস্বস্তিতে পড়ে গেলো ছেলেটা। হয়তো সরাসরি নাম জিজ্ঞেস করা ঠিক হয়নি তার। সে কথা ঘুরিয়ে বলল,

—“মানে, আপনার সাথে সিট শেয়ার করলাম। এতোটা পথ একসাথে পাড়ি দেবো। একটু চেনাপরিচয় তো হওয়া দরকার। তাছাড়া আমি……..”

—“মায়া।”

ছেলেটার কথার মাঝেই জবাব খানা দিয়ে দিলো মায়া। চোখ দুটো আবারও স্থির করেছে চলতে থাকা দূর দিগন্তে। এদিকে কথার মাঝে ব্যাঘাত ঘটায় চুপ হয়ে গেলো ছেলেটা। খানিক্ষন চুপ থেকে বলল,

—“মায়া। নাইস নেইম। আমার নাম জিজ্ঞেস করবেন না?”

মায়া কোনো জবাব দিলো না। উদাসীন চোখ জোড়া তার তখনও বাইরে স্থির। মায়ার দিক থেকে কোনো আগ্রহ না দেখে ছেলেটা আগ বাড়িয়ে বলল,

—“আমি দিহান সওদাগর। নাইস টু মিট ইউ।”

এবারেও মায়ার দিক থেকে কোনো জবাব এলো না। স্বচ্ছ নজর জোড়া চলতে থাকা প্রকৃতিতে আটকে রেখে জীবনের হিসাব মেলাতে ব্যাস্ত সে।

অপরদিকে তাসরিফের জিপ গাড়িটা থেমে আছে রাস্তার মাঝে। গাড়ি থেকে পাঁচ ছয় হাত দূরে ঝকঝক করে ছুটে চলছে বিশাল বড়ো রেলগাড়ী। তাসরিফের উদ্দেশ্যহীন নজর জোড়া সেই রেলগাড়ীতে স্থির। চোখের পলকে লম্বা বগি গুলো খানিকটা দূরে চলে যেতেই আচমকা বুকের ভেতর মুচড়ে উঠলো তাসরিফের। অদৃশ্য কোনো শূন্যতায় হাসফাস করে উঠলো বুক। মস্তিষ্ক জুড়ে ছড়িয়ে পড়লো একটাই বাক্য “মায়া! প্লিজ ফিরে এসো।”

কি আশ্চর্য তাই না? কাছে থাকতে যার মর্ম সে বুঝলো না। অথচ আজ দূরে যাওয়ায় বুকটা বিরহ দহনে জ্বলছে।

চলবে?

(পড়া শেষে সবাই লাইক কমেন্ট করবেন। আপনাদের রেসপন্স ভালো পেলে পরের পর্ব তাড়াতাড়ি দেবো।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply