সুখময়যন্ত্রনাতুমি
পর্ব_৯৭
neela_rahman
নূর সাদাফ কে জোর করে একটু উঠালো ।উঠিয়ে ফ্রিজ থেকে খাবার গরম করে খাওয়াতে চাইলে সাদাফ বলল ,”ঐসব ভারি ভারি খাবার খেতে পারব না ।এক কাজ করি আমি বাহিরে যাই যেয়ে একটু সুপ নিয়ে আসি ।”
নুর অবাক হয়ে গেল । বললো,” আপনি এই শরীরে বাহিরে যাবেন স্যুপ আনতে ?”
সাদাফ বলল ,”আর কি করবো তাহলে?”
নুর বললো ,”আমি রান্না করছি।”
সাদাফ বললো ,”খবরদার তুই পারবি না ।হাত পু*ড়িয়ে ফেলবি ।আমি ঠিক একটু একটু করে হেঁটে যেতে পারবো ।”
নুর বলল ,”আপনি চুপচাপ এখানে বসে থাকেন আর একটি কথা বলবেন না।
আমার শুধুমাত্র ১০ মিনিট লাগবে ।আমি যাব আর আসবো ।চুপচাপ এখানে বসে থাকবেন ।”
বলেই সাদাফের মোবাইলটি নিয়ে ফোন লাগালো নওরিন আফরোজ কে ।তারপর নওরিন আফরোজ এর কাছ থেকে ইন্সট্রাকশন নিয়ে সেই অনুযায়ী ফ্রিজ থেকে জিনিসপত্র বের করে একটু একটু করে স্যুপ রান্না করে ফেলল ।জানে না কেমন হয়েছে কিন্তু যেমনই হোক খেতে তো হবেই।
তবে স্যুপ বাটিতে ঢালার সময় হয়ে গেল বিরম্বনা। একটু স্যুপ ফসকে হাতে পড়েছে নুরের।চিৎকার করে উঠল নূর।
সাদাফ নুরের চিৎকার শুনে সাথে সাথে দ্রুত পায়ে এগিয়ে আসলো রান্নাঘরে ।যদিও শরীর চলছিল না সাদাফের ।এসে দেখল নূরে হাতে লাল হয়ে আছে ছটফট করছে মুখ দিয়ে কোন সাউন্ড বের করছে না ।সাদাফ সাথে সাথে নূরের দিকে তাকালো রাগতো চোখে। তারপর হাত নিয়ে সাথে সাথে বেসিনে দিয়ে পানি ঢালতে লাগলো ।আর বললো ,”কেন করলে পা*কনামি ?বলেছিলাম পারবি না শুধু শুধু আমি তো অন্য কিছু খেতে পারতাম। নিচের থেকে যেয়ে কিছু কিনে নিয়ে আসতাম।”
তারপর সাদাফ বললে ,”কষ্ট হচ্ছে সোনা ?অনেক অনেক জ্বলছে নিশ্চয়ই ?কোনদিনও তুই এগুলো করিস নি কেন শুধু শুধু করতে গেলি বলতো?”
ঠান্ডা পানি পড়ার কারণে নুরের যন্ত্রনা অনেকখানি এমনি কমে গিয়েছে তার উপরে সাদাফের এতটা আন্তরিকতা দেখে ওর প্রতি সাদাফেরা এতো টেনশন দেখে নূরের যেনো কোন কষ্টই হচ্ছে না ।এক দৃষ্টিতে সাদাফের দিকে তাকিয়ে আছে হঠাৎ কি মনে করে যেন সাদাফের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে সাথে সাথে সাদাফকে জড়িয়ে ধরল নূর।
সাদাফ অবাক হয়ে গেল ।কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না ।নুর হঠাৎ জড়িয়ে ধরল কেন ধরল সেটাও বুঝতে পারছে না ।তবে সাদাফের খুব ভালো লাগছে বুকটা যেন বরফ শীতল হয়ে গেল ।এই উষ্ণতার মধ্যেও সারা শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছিল কিন্তু নূর জড়িয়ে ধরার সাথে সাথে এতটা আরাম লাগছে বলে বুঝাতে পারবে না সাদাফ।
সাদাফ ও নুর কে জড়িয়ে ধরলো।
অনেকক্ষণ ধরে নূর সাদাফকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে ।একটি কথাও বলছে না ।সাদাফ ও আর কিছু জিজ্ঞেস করছে না ।কিন্তু ধীরে ধীরে নূরের প্রতি সাদাফের যেন অনুভূতিগুলো বিপদসীমার উপর দিয়ে বইতে শুরু করল ।এমনিতে জ্বর তার উপরে উষ্ণ শরীরে নূরের স্পর্শ পেতে সাদাফের ভিতরে যেন কিছু একটা নিষিদ্ধ চাহিদা সৃষ্টি হতে লাগলো। নীলা রহমান লেখিকা
সাদাফ ধীরে ধীরে হাত দুটো তুলে নুরের মুখটি দুই হাতের আঁচলে নিয়ে গালে কপালে গলায় চু*মু খেতে লাগলো।
নুর এখন আর ভয় পায় না কোন কিছুতে বাধাও দিল না ।সাদাফের সাথে সাথে নূর সায় জানাতে লাগলো ।সাদাফের কপালে গালে চু*মু খেতে লাগলো।
এই প্রথম সাদাফের অনুভব হচ্ছে যেন কোন কিছুই একতরফা নয় নূরের পক্ষ থেকেও সাড়া পাওয়া যাচ্ছে ।সাদাফ যেন আর একটু উন্মাদ হল ।নূরকে নিজের বক্ষে জড়িয়ে ধরে নূরের ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিল।
সাদাফের উষ্ণ গরম নিঃশ্বাস উষ্ণ ঠোঁট নুরকে যেন জ্বালিয়ে দিচ্ছে ।তবুও সাদাফের সাথে সারা দিয়ে গেল সমান তালে ।এভাবে হয়তো মিনিট পাঁচেক ধরে সাদাফ চুমু খেলো তারপর ধীরে ধীরে সাদাফ নুর কে ছেড়ে দিয়ে নূরের দিকে তাকালো।নুর জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিচ্ছে।
সাদাফ নিজ আঙুল দিয়ে নূরের ঠোঁট মুছতে মুছতে বলল ,”আজকে বাধা দিলি না কেন? আমার কাছ থেকে ছুটার জন্য একটু ছোটা ছুটি ও করলি না আমার জ্বর সে চিন্তা করে?”
নুর সাথে সাথে না সূচক মাথা নাড়ালো ।সাদাফ তারপর বলল ,”তাহলে কেন বাধা দিলি না ?”নুর সাথে সাথে মাথা নিচু করে ফেলল ।তারপর বলল ,”আগে বাধা দিতাম কারণ মনে হতো আপনি আমার চাচাতো ভাই তাই আমার সাথে এগুলো করছেন এখন বাধা দেইনি কারণ আমি জানি আপনি আমার স্বামী হন। এখন আমি জানি আপনি আমাকে এবং শুধু আমাকে ভালবাসেন।
সাদাফ এই জ্বরের মুখেও যেন ঠোঁটে একটু হাসি খেলে গেল ।চুপচাপ নুরকে নিজের বুকে জড়িয়ে ধরে বলল ,”তুই তো সত্যি বড় হয়ে গেছিস নুর এখন আর ছোট্ট নুর নেই যার সাথে আমার সব সময় জোর করা লাগতো ।এখন তো তুই অনেক বড় হয়ে গেছিস স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বুঝতে শিখে গেছিস ।”বলে নূরের কপালে একটি চুমু খেলো ।খেয়ে বলল ,”তুই সর আমি স্যুপ বাটিতে ঢালছি।”
স্যুপ বাটিতে ঢেলেই দুজন গেল বেডরুমে।
নুর জিজ্ঞেস করল ,”আপনি একা খেতে পারবেন নাকি আমি খাইয়ে দিব ?”
সাদাফ বলল একা এত কিছু করে আসলাম এটা যখন পেরেছি একা হাতে খেতেও পারবো সমস্যা নেই ।তুই একটু খা ।”বলে নুরের মুখে সামনে ধরল ।নুর বললো,”আমার ক্ষুধা নেই ।”
সাদা বলল ,”খেতে হবে কারণ আরো দীর্ঘ সময় আপনার এখানে থাকতে হবে তাই খেয়ে নিন।”
নুর অবাক হয়ে গেল ।বলল,” দীর্ঘ সময় মানে ?বাবা তো সন্ধ্যার আগে অফিস থেকে এসে পড়বে ।আমার তো চলে যেতে হবে ।”
সাদাফ বললো ,”না আজকে যেতে হবে না মায়ের সাথে কথা হয়েছে সবাই জানবে তুই আজকে তোর মামার বাড়িতে আছিস ।কিন্তু তুই আজকে এখানে থাকবি। যেতে পারবি না ।আর কেমন বউ তুই হ্যাঁ ?অসুস্থ স্বামীকে রেখে চলে যেতে চাচ্ছিস? এই তোর ভালোবাসা স্বামীর প্রতি ?কোনো দায়িত্ব-কর্তব্য নেই ?দুনিয়াদারি কেয়ামত হয়ে গেলেও তো তোর আজকে এখানে থাকা উচিত।”
কথাটি শুনেই সাথে সাথে নুরের মুখে খেলে গেল বেহায়া হাসি ।সাদাফ তাকিয়ে রইল নূরের দিকে ।বলল ,”হাসছিস কেন ?”
নুর বলল ,”জানি হাসা ঠিক না কিন্তু আমার খুব ভালো লাগছে আজকে আমি এখানে থাকবো তাই আমার হাসি চলে এসেছে।”নীলা রহমান লেখিকা
এভাবে কথায় কথায় খাওয়া শেষ হলে ওষুধগুলো খেয়ে নিল সাদাফ।তারপর নুরকে বলল ,”বিছানায় পা মেলে বসতে ।নুর বসার সাথে সাথে সাদাফ নুরের পায়ের উপরে শুয়ে নূরের কোমর জড়িয়ে ধরে রাখল ।বলল ,”এভাবে কিছুক্ষণ থাক মাথা চুলগুলো টেনে দে ।আমি একটু ঘুমাবো ।”
নুর বিছানার পিছনে হেলান দিয়ে সাদাফ কে পায়ে শুতে দিল তারপর ধীরে ধীরে মাথায় চুল গুলো টেনে দিতে লাগলো। সাদাফ ও এক পর্যায়ে ঘুমিয়ে গেল এভাবে ঠিক কতক্ষণ ঘুমালো জানেনা ।দুই আরাই ঘণ্টা পর ফোন আসলো নওরিন আফরোজের।
সাদাফের ঘুম ভেঙে গেল ।উপরে তাকিয়ে দেখল নূর ঘুমিয়ে গেছে ।তাই সাথে সাথে ফোন রিসিভ করে বলল ,”হ্যালো ?”
নরিন আফরোজ বলল ,”জ্বর এখন কেমন বাবা ?মাথাটা কি ঠান্ডা হয়েছে ?”সাদাফ মাথায় হাত দিল কপালে হাত দিয়ে বললো ,”হ্যাঁ জ্বর কমেছে ।ওষুধ খেয়েছি তোমার ছেলের বউ স্যুপ রান্না করেছে তাই খেয়ে ওষুধ খেয়েছি।”
“আচ্ছা শোন নিজের খেয়াল রাখিস আর নুর অনেক কিছুই বোঝে না পারে না তাই তুই ওকে একটু শিখিয়ে দিস ।তাহলে সবকিছুই পারবে ।বাসায় আমি সব ম্যানেজ করে নিয়েছি ।বলেছি নুর ওর মামার বাড়িতে আছে কোন সমস্যা নেই ।শরীরের যত্ন নিস কেমন ?সাইমনকে পাঠিয়ে দিব রাতে কোন প্রয়োজন হবে?”
সাদাফ বললো,”না পাঠাতে হবে না। এমনিতে একটু পর খাওয়া-দাওয়া করে ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে যাব সাইমন এসে আর কি করবে?”
রাত বাজে ১১ টা নুরের ঘুম ভাঙতে ঠিক রাত ১১ টা বেজে গেল ।সাদাফ তাকিয়ে আছে নূরের দিকে ।সেই এক ঘন্টা আগে সাদাফের ঘুম ভেঙে ছিল কিন্তু নূরকে জাগায়নি নূর এখন ঘুম থেকে উঠেই দেখতে পেল সাদাফ পাশে বসে আছে মোবাইল টিপছে।
নুর সাথে সাথে সাদাফের কপালে হাত দিল দিয়ে দেখলো জ্বর একটু কম ।তারপর বলল ,”রাতে খাবার দাবার খেয়ে নিন ওষুধ খেয়ে ঘুমাবেন।”
সাদাফ সায় জানালো। হালকা-পাতলা দুজন কিছু খেয়ে নিল ।তারপর সাদাফকে ওষুধ খাইয়ে দিল নুর ।ওষুধ খাইয়েই যেহেতু সাদাফের জ্বর নেই সাদাফের বিছানাটা ঠিক করে দিয়ে বলল ,”আপনি ঘুমান আমি ওই ঘরে যাচ্ছি ।আপনি এখানে ঘুমান ।”
সাদাফ বলল না এখানে ঘুমা একা ভয় পাবি।”
নূর বললো,”না না আমি একটুও ভয় পাবো না ।আমার একা ঘুমিয়ে অভ্যাস আছে ।”
সাদাফ বললো,”ভয় পাবি না ও আচ্ছা ।তুই ভয় না পাস কিন্তু আমি পাব আজকে তো আমার জ্বর যে কোন মুহূর্তে ভয়ে কেঁপে উঠতে পারি।
আর তুই তো আমার সেবা করতে এসেছিস ওই ঘরে থাকলে সেবা কি করে করবি ?এই ঘরে ঘুমিয়ে থাক বিছানা করে।”
নুর বলল ,”আচ্ছা ঠিক আছে ।আমি তাহলে খাটে বাম পাশে ঘুমাচ্ছি ।”
সাদাফ বললো ,”ঠিক আছে ।”
বলে মুচকি মুচকি হাসলো ।মনে মনে ভাবল ,”একটু মিথ্যা কথা না বললে যে তোকে এই রুমে রাখা যেত না তাই ভয় পাওয়ার নাটক করতে হলো।”
চলবে_
Share On:
TAGS: নীলা রহমান, সুখময় যন্ত্রণা তুমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮০
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৭৫
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৯
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৪৩
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১১+১২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ২
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৯৮
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৪
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি গল্পের লিংক
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৫৫