Golpo romantic golpo সুখময় যন্ত্রণা তুমি

সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৯৬


সুখময় যন্ত্রনা তুমি

neela_rahman

পর্ব_৯৬

দীর্ঘ সময় সাদাফ ওইভাবে নূরের কোমর পিছিয়ে শুয়ে রইল ।একপর্যায়ে সাদাফ ঘুমিয়ে গেল কিন্তু নূরের যেন পা দুটো অসাড় হয়ে গিয়েছে ।সাদাফের যেন জ্বর আবার বাড়ছে ।আবার মাথায় পট্টি দিতে হবে ।কি করবে ভেবে পাচ্ছে না নূর ।কোন কিছু বুঝতে না পেরে হাতে ফোনটি নিয়ে ফোন দিল লওরিন আফরোজ কে।

এই সময় মুরুব্বি কোন একজনকে অবশ্যই জানানো দরকার ।নূর ছোট্ট কি না কি হয়ে যাবে পরে দেখা যাবে জ্বর আর ভালই হচ্ছে না ।তাই নওরিন আফরোজ ফোন ধরার সাথে সাথে নূর কান্না করে দিল ।ধীরে ধীরে কান্না করতে করতে বলল ,”আম্মু সাদাফ ভাইয়ার ভীষণ জ্বর।”

নওরিন আফরোজ ভয় পেয়ে গেলেন। সকালবেলা মানে দুপুরবেলা মনেই হয়েছিল ছেলেটার কন্ঠটা কেমন যেন লাগছে ।তার মানে জ্বর ছিল ছেলেটা জানায়নি ।নওরিন আফরোজ বললেন ,”মাথায় পানি দিয়েছিস ?

নূর বলল ,”আম্মু মাথায় পট্টি দিয়েছি পানি দিব কি করে ?উনি তো ঘুমিয়ে ছিলেন তাই আমি একা সরাতে পারিনি।”

নওরিন আফরোজ বললেন ,”মাথায় আবারো জলপট্টি দে দিতে থাক কিছুক্ষণ থেমে থেমে হয়তোবা জ্বর আসবে ।কিছু খাইয়ে দে একটু জোর করে ।উঠতে চাইবে না ছেলেটা কিন্তু উঠিয়ে কিছু খাইয়ে একটু ওষুধ খাইয়ে দে ।আমি কি আসবো? নাকি তুই পারবি মা ?ভালো করে বল ।”

নুর বলল ,”না একটু পর পর তুমি কল দিয়ে আমাকে শিখিয়ে দিও আমি পারবো।”নীলা রহমান

নওরিন আফরোজ বলল ,”ফ্রিজে যা আছে খাবার একটু গরম কর গরম করে ওর জন্য নিয়ে যা ।একটু খাইয়ে দে। তারপর জোর করে ওষুধটা খাইয়ে দে ।তারপর মাথায় একটু পানি পট্টি দিয়ে দিস ।আবার কিছুক্ষণ পর ওষুধ খাবার সময় হলে একটু স্যুপ করে দিবি যদি করতে না পারিস আমি স্যুপ রান্না করে সামনকে দিয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছি।”

নুর সাথে সাথে বলল ,”না বড় আম্মু আমি সুপ রান্না করতে পারব না।মোবাইল দেখে শিখে নিব কোন সমস্যা নেই ।সায়মন ভাইকে পাঠাতে হবে না ।যদি পাঠাতে হয় তাহলে আমি জানাবো।”

কথাগুলো শেষ করে ফোন রেখে দিল নুর ।তারপর সাদাফ কে ডাকতে শুরু করল ।কিছুক্ষণ পর সাদাফ চোখ পিটপিট করে তাকালো ।ভীষণ জ্বর সাদাফের ।নূর বললো ,”প্লিজ একটু উঠুন ।খাবারটা খেয়ে নিন ।ওষুধ খান তারপর আবার ঘুমাবেন ।”

সাদাফ বললো ,”খেতে ইচ্ছে করছে না এখন ।”নুর বললো,”প্লিজ আমার কথা শুনবেন না?”

“না ওসব খাবার খেতে ইচ্ছা করছে না আমার ।”বললো সাদাফ।

নুর বলল ,”তাহলে কি খাবেন ?”

সাদাফ নুরের দিকে তাকালো ।তাকিয়ে আবার কোমর পেচিয়ে ধরে নাক ঘষে ঘষে বলল ,”তোকে চাই তোকে খাব।”

নুর সাদাফের কথা শুনে বোকা হয়ে গেল ।কি বলল মাত্র ওই লোকটা ?নুরকে খাবে ?মানে ?নুর না বোঝার ভান করে বলল ,”মানে কি বলতে চাইছেন ?আপনি আমাকে কি করে খাবেন ?তাড়াতাড়ি উঠুন ওষুধ খেতে হবে।”
সাদাফ জানালো,”ওষুধ এই মুহূর্তে খেতে ইচ্ছে করছে না কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে থাকবে।”

নওরিন আফরোজ ফোন রাখলেও টেনশন মুক্ত হতে পারলেন না ।ছেলেটা জ্বর যে বড় ভয়ংকর দুই-তিন দিনের আগে ছাড়ে না ।নুর একটা বাচ্চা মেয়ে কতক্ষণই বা দেখে রাখবে ।নুরকেও তো চলে আসতে হবে ।আচ্ছা নুরকে কি কোন ভাবে ওই বাড়িতেই রেখে দেওয়া যায় না এটলিস্ট একদিনের জন্য ?কিছু একটা তো করতে হবে উনি সাথে সাথে রান্নাঘরে গেলেন সামিহা বেগমের কাছে।

সামিহা বেগম দেখলেন নওরিন আফরোজ দ্রুত পায়ে হেঁটে রান্না ঘরে ঢুকলো ।নওরিন আফরোজ কে দেখে সামিহা বেগম বললেন ,”ভাবি কি হয়েছে কিছু বলবে ?”
নওরিন আফরোজ বললেন,”তোর কাছ থেকে একটা পারমিশন চাইতে এসেছি।”নীলা রহমান

সামিহা বেগম বললেন,”আমার থেকে পারমিশন ?তোমার যা করার কর আমার কাছ থেকে পারমিশন নেওয়ার কি আছে ?”
নওরিন আফরোজ বলল ,”না এই ব্যাপারে একটু পারমিশন লাগবে কারণ তোকে সবকিছু হ্যান্ডেল করতে হবে।”

সামিহা বেগম বুঝতে পারলেন না নরিন আফরোজ কি বিষয়ে কথা বলছেন ।তাই বোকার মত চেয়ে রইলেন নরিন আফরোজের দিকে। নওরিন আফরোজ এদিক ওদিক দেখে সামিহার কানে কানে এসে বললেন ,”নূরকে একদিনের জন্য সাদাফের বাড়িতে রাখা যায় না ?মানে সাদাফের ভীষণ জ্বর।”

কথাটি শুনেই সাথে সাথে চিৎকার করে উঠলেন সামিহা বেগম ।বললেন”কি সাদাফের জ্বর তুমি জানলে কি করে কে জানালো তোমাকে।”

নওরিন বললেন ,”চুপ কর আমি আস্তে আস্তে কথা বলছি আর তুই জোরে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করছিস ।বলছিলাম কি নুরকে ওর মামা বাড়ি কথা বলে একদিন যদি সাদাফের বাড়িতে রাখা যায় ?ছেলেটার 103 ডিগ্রীর উপরে জ্বর নুর কিছুক্ষণ আগে আমাকে জানালো ।বসে বসে পানি পট্টি দিচ্ছে ।আর তুই পারিস তোর ভাইয়ের বাড়ি হ্যান্ডেল করতে যে কোন উপায়ে তোর ভাইকে বুঝিয়ে দে নুর ওদের বাড়িতে আছে কেউ জিজ্ঞেস করলে যেন এটাই বলে।”

সামিহা বেগম বললেন ,”সেটা না হয় হয়ে যাবে ভাবী কিন্তু নুর কি একা পারবে সাদাব কে দেখে রাখতে ?”নওরিন আফরোজ বললেন ,”না না সমস্যা নেই আমি রাতের বেলা রিমা এবং সাইমনকে দিয়ে খাবার পাঠাবো ওষুধ পাঠাবো দেখতে পাঠাবো প্রয়োজন হলে রাতে থাকবে সাইমন।

যদি হসপিটালে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে নুর একা কিছু বুঝে উঠবে না তাই ভাবছি সাইমন কেউ পাঠিয়ে দিব ওই বাসায়।”

সামিহা বেগম বললেন ,”আচ্ছা ঠিক আছে ভাবি আমার কোন অমত নেই আমি ভাইকে ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছি উনি বা জে কেউ ফোন করলে যেন বলে নূর একদিনের জন্য হঠাৎ ওই বাসায় গিয়েছে আর ফোনে কথা বলতে চাইলে বলবে নুর একটু বাইরে গেছে ।কোনভাবেই যেন বুঝতে না দেয় নুর নেই।”

লবে_
Neela Rahman

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply