Golpo romantic golpo সুখময় যন্ত্রণা তুমি

সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৯৪


সুখময় যন্ত্রনা তুমি

neela_rahman

পর্ব_৯৪

হুমায়ন রহমান রুমে চশমাটি টেবিলের উপরে খুলে রেখে চোখ বন্ধ করে চুপচাপ বসে আছে চেয়ারে ।উনি বিশ্বাস করতে পারছে না ছেলেটি আজ দুদিন হলো বাসায় নেই অথচ বাড়ির সবাই কেমন নরমাল ব্যবহার করছে ।মন খারাপ লাগছে না কারোর?

নওরিন আফরোজ বিছানা গুছাচ্ছিলেন আর আড় চোখে হুমায়ন রহমানকে দেখছিলেন ।নওরিন আফরোজ বোধ হয় বুঝতে পারলেন হুমায়ূন রহমানের মনের অবস্থা।

তাই বিশেষ পাত্তা না দিয়ে নিজের কাজ নিজে করতে থাকলেন ।এদিকে নওরিন আফরোজ এর মনের অবস্থাও ভালো না ।সন্ধ্যা থেকে যখন থেকে রিমা ও সাইমনের কথা শুনেছে থেকে থেকে উনারও বুক কেঁপে উঠছে ।বারবার কি হবে সামনের দিনগুলোতে ভেবেই যেন দিশেহারা হয়ে যাচ্ছেন। লীলা রহমান লেখিকা

তবে মনে মনে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন নওরিন আফরোজ সাদাফের সাথে যা করার করেছে সাদাফ যথেষ্ট বুদ্ধিমান ছেলে ও নিজেকে গুছিয়ে নিতে পারবে কিন্তু সাইমন ও রিমার সাথে এমনটা করতে দিবে না ।তাদেরও অধিকার আছে এই বাড়িতে ।শুধু কাজ করার জন্য তো আসেনি এটা তাদেরও সংসার এবং তারাও জন্ম দিয়েছে ছেলে মেয়ে গুলো কে।একা তারা কেন সিদ্ধান্ত নিবে ভাইয়েরা?

এদিকে ফজলুর রহমান ও রুমে চুপচাপ বসে আছেন ।গুরুগম্ভীর ভাব মনে মনে ঠিক বিশ্বাস করতে পারছেন না সামিহা বেগম যে কিনা দুইদিন আগেও সাদাফ কে মাছের বড় মাথাটা না খাইয়ে শান্তি হচ্ছিল না সেই সামিহা বেগম কি করে সাদাফেরা সব পছন্দের খাবার গুলো রান্না করে সবাই গ্রো গ্রাসে গিললো?

ফজলুর রহমান হালকা গলা খাকারি দিয়ে সামিহা বেগমকে ডাকলেন ।সামিহা বেগম বলল ,”জি কিছু বলবেন ?”

ফজলুর রহমান বললেন ,”একটু এখানে এসে বসতো?”

সামিহা বেগম মনে মনে ভয় পাচ্ছেন ।উনি কি টের পেয়ে গেলেন নুর যে সারাদিন বাসায় ছিলো না ?কেমন আমতা আমতা করে ভয়ে ভয়ে কাছে এসে বসলেন সামিহা বেগম।

ফজলুর রহমান সামিহা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”কি হয়েছে তোমাদের আজকে তোমাদের মনে এত আনন্দ কেন?”

সামিহা বেগম অবাক হয়ে গেলেন ।বললেন,” আনন্দ কোথায় আনন্দ ?দিনভর তো আমরা চুপচাপই ছিলাম। আপনাদের সামনে তো একটা কথাও বলিনি ।ফজলুর রহমান বললেন ,”শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করো না তোমরা আজকে এত বড় কেন আয়োজন করেছ খাবার-দাবাদের ?হঠাৎ এত আনন্দের কারণ কি ?ছেলেটা বাড়ির বাইরে খাওয়া দাওয়া কি করছে না করছে জানিনা সেখানে তোমরা ওর পছন্দের খাবারই ওকে ছাড়া কি করে খাইলে ?সবাই দেখলাম পেট পুরে খেলে?

“ও এজন্য বলছেন ?সাদাফ অন্যায় করেছে আপনাদের মনে হয়েছে শাস্তি দেওয়ার শাস্তি দিয়েছেন ।বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন ।এখন এটা নিয়ে আর আমরা শোক পালন করে কি করব ? সিদ্ধান্ত যা নেয়ার তাতো আপনারা দুই ভাইই নিবেন ।আমাদের এখানে কি করার আছে বলুন?

আমাদেরকে জিজ্ঞাসা করে বা আমাদের কথা চিন্তা করে তো আর সিদ্ধান্ত নেননি ।তাহলে আমরা খুশি হই আর কাঁদি তাতে কি বা আসে যায় ?বরং আপনার তো খুশি হওয়ার কথা আমরা মন খারাপ করে বসে নেই ওকে ভুলে যেতে বসেছি।”

“সামিহা এত বড় কথা তুমি কি করে বললে ?ওকে ভুলে যেতে বসেছ ?ভুলে যেওনা ও আমার প্রথম সন্তান ও অন্যায় করেছে আমি ওকে শাস্তি দিয়েছি তাই বলে তোমাদেরকে বলিনি তোমরা ওকে ভুলে যেয়ে এরকম বাসায় খাওয়া-দাওয়া পার্টি এরেঞ্জ করো ।ছেলেটা আমার কি খাচ্ছে না খাচ্ছে একা আছে সেই টেনসনে আমরা দুই ভাই সারাদিন বাচছি না আর তোমাদের এখানে খাওয়া-দাওয়ার মিলন মেলা বসে গিয়েছে ।আগামী কালকে থেকে যেন এরকম না দেখি নরমাল খাবার দাবার রান্না করবে বেঁচে থাকার জন্য যতটুকু প্রয়োজন।

ভাইজান কষ্ট পাচ্ছে আমি চাইনা আমাদের আচরণে ভাইজান আরো কষ্ট পাক।”

সামিহা বেগম সাহস করে বললেন ,”ও যখন ভাইজানের ছেলেকে বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন তখন বুঝি ভাইজান কষ্ট পাইনি ?শুধু আপনার অধিকার আছে ওর উপরে তাই ভাইজান একটি কথাও বলেননি কিন্তু আপনি কি ভাইজানের সম্মান রক্ষা করেছেন? নীলা রহমান

তাহলে যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সব সিদ্ধান্ত যখন আপনারা দুই ভাই নিবেন আমরা হচ্ছি পরের বাড়ির মেয়ে এখানে সংসারে এসেছি রান্না করবো খাবো দেবো এই তো আমাদের কাজ ।তাহলে আমাদেরকে আমাদের কাজটুকুই করতে দিন ।সিদ্ধান্তসব আপনারাই নিন ।”

বলেই সামিহা বেগম উঠে খাটের পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ল।

অবাক নয়নে বোকার মত চেয়ে রইল ফজলুর রহমান। কি হলো বাড়ির সব মহিলাদের? এরকম করছে কেন বুঝতে পারছেন না তার বোকা স্ত্রী সামিহা ? ও এরকম চালাকের মত কথা বলছে কথা দিয়ে কথা আটকানোর চেষ্টা করছে।”

নুর ফোন ধরে বলল ,”জি বলুন শুনছি ।”

সাদাফ বললো ,”কি শুনছিস ? যা বলতে চাই বুঝাতে যা চাই তা তো শুনতে পারিস না বুঝতে পারিস না। আমি কিছু না বলার আগেই তুই কি বুঝলি?”

নূর চুপ হয়ে গেল ।কি শুনছে কি করে বলবে ?

সাদাফ বলল ,”কি করছিলি সাথে সাথে যে ফোন ধরলি ফোনের কাছেই ছিলি?”

নুর বলল ,”না টেবিলে বসে পড়ছিলাম ফোন টেবিলের উপরে চার্জে দেওয়া ছিল।”

নুর বলল ,”আপনি কি করছিলেন ?”সাদাফ বলল ,”আমি আমার বিয়ে করা বউকে মিস করছিলাম ।”

নূর আরেক দফা লজ্জা পেয়ে গেল ।সাদাফ যখন এসব কথা বলে নুর অনেক লজ্জা পেয়ে যায়।

সাদাফ বুঝতে পারছে নূর লজ্জা পাচ্ছে ।তাই আর একটু লজ্জা দেওয়ার জন্য বলল ,”এমনিতে সারাদিন পটর পটর করিস এখন কথা বলছিস না কেন?

শুধু রান্না করে খাওয়ালে কি বউ হওয়া যায় ?বউ হতে হলে তো আরও অনেক কিছু করতে হয় ?মনে নেই কত কিছু শিখিয়েছিলাম কেন বিয়ে করব?”

নুর বলল ,”না আমার কিছু মনে নেই ।”
সাদাফ বলল ,”ঠিক আছে তাহলে আমি মনে করিয়ে দিচ্ছি ।মনে আছে অনেক আগে বলেছিলাম ,বউকে নিয়ে বিছানায় শুয়ে থাকব জড়িয়ে ধরে থাকবো সেজন্য বিয়ে করতে হবে ?সেজন্য আমার বউ দরকার?”

নুর লজ্জায় সাথে সাথে এক হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল ।সাদাফ বললো,” মুখ ঢেকে লাভ নেই।

রান্না করে তো সারাজীবন মা ও খাওয়াতে পারে ।মানুষ বিয়ে করে বউকে নিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকার জন্য ।”

নুর আরেকটি কথা বলতে পারছে না ।চুপচাপ লজ্জায় চোখ বন্ধ করে আছে ।ঘনঘন নিশ্বাস নিচ্ছে ।

সাদাফ মুচকি মুচকি হাসছে জানে নুর লজ্জায় শেষ।

ছোট্ট বোকা নুর ওর ছোট বউ এখন লজ্জা পাচ্ছে ।এটাই চাইছে সাদাফ ।মনে মনে ভাবছে যেদিন লজ্জা ভাঙার সময় হবে সেদিন আর কোনো লজ্জা রাখবে না।
সাদাফ বললো,” লজজা পাচ্ছিস নুর? আর ১২ দিন।১২ দিন পরে তোর সব লজ্জা আমি ভেঙ্গে দিবো নুর।আর ১২ দিন।”

চলবে_
Neela Rahman

ছোট হলো বাট আমি অসুস্থ কিছু করার নেই।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply