সুখময় যন্ত্রনা তুমি
neela_rahman
পর্ব_৯৩
সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে নূরকে বাসায় দিয়ে যেতে এসেছে সাদাফ।অফিসে ফোন করে জেনে নিয়েছে হুমায়ূন রহমান এবং ফজলুর রহমান এখনও অফিস থেকে বের হয়নি ।তাই তারা আসার আগেই নূর কে বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেল ।
গাড়ি থেকে নেমে নূর তাকিয়ে আছে সাদাফের দিকে ।নূরের ভীষণ বলতে ইচ্ছা করছে বাসায় আসেন কিন্তু জানে বলে কোন লাভ হবে না।
নুরের সাদাফ কে ছাড়া বাড়ির ভিতরে যেতে ইচ্ছে করছে না।সারাদিন সাদাফের সাথে থেকে কেমন যেন অভ্যাস হয়ে গেছে মনে হচ্ছে ।সাদাফকে ছাড়া কিভাবে এই বাড়িতে সময় পার করবে নূর।
তবুও তো নূরের এখানে সবাই আছে পরিবারের সবাই কিন্তু সাদাফ ভাই যে পুরা একা বাড়িতে ।নূরের ভীষণ খারাপ লাগছে ।
সাদাফের দিকে তাকিয়ে বলল ,”আচ্ছা শুনুন ?”
সাদাফ নুরের দিকে তাকিয়ে ছিল ।কিছু বলার অপেক্ষা করছিল ।বলল ,”হ্যাঁ বলেন।”নীলা রহমান
“বিরিয়ানির প্যাকেট দুটো এক্সট্রা ছিল ফ্রিজে রেখে এসেছি গরম করে খাবেন আর আমি রান্না শিখছি এখন থেকে আমি রান্না করে আপনার জন্য খাবার পাঠিয়ে দিব ।আপনি তো সবসময় বাহিরে খাবার খেতে পারতেন না।”বললো নুর।
সাদাফ অবাক হয়ে গেল নূরের কথা শুনে ।কি বলে পুচকি মেয়ে ?এখন থেকে রান্না করবে ?রান্না করে সাদাফের জন্য খাবার পাঠিয়ে দিবে ?তবে সাদাফের ভিতরে খুব ভালো লাগছে শান্তি শান্তি লাগছে বউ বলে কথা ।কেমন যেন হাজব্যান্ড ওয়াইফ ফিলিং হচ্ছে এখন থেকেই।
তারপর ভাবলো সামনে এসএসসি পরীক্ষা হাত-পা পুড়িয়ে ঝামেলা করে ফেলবে ।তাই বলল ,”কোন প্রয়োজন নেই এত জামাই বউ খেলার। আপনি বাসায় থাকবেন লেখাপড়া করবেন আমার খাওয়ার কথা চিন্তা করতে হবে না ।মা আছে ছোট আম্মু আছে তারা পাঠিয়ে দিবে।
আপনি শুধু লেখাপড়ায় মন দেন ।পরীক্ষা ভালো মতো দিবেন না হলে এসএসসি ফেলটু বউ আবার বাসায় তুলতে পারবো না ।মানসম্মানের ব্যাপার আছে।”
নূর বলল ,”জীবনেও না ।আমি জীবনেও ফেল করব না ।”
“জানি ম্যাডাম আপনি জীবনেও ফেল করবেন না ।কিন্তু গণিতে যে ডাব্বা মারবেন সেটা কি আপনার খেয়াল আছে?”বললো সাদাফ।
নুর চুপ হয়ে গেল ।গণিতে আসলে একটু দুর্বল তাই এটা নিয়ে উচ্চবাচ্য করার কিছু নেই ।তাই বলল ,”এখনো কিছুদিন সময় আছে প্র্যাকটিস করলে ঠিক হয়ে যাবে ।কিন্তু আমি জীবনে ফেল করব না।”
এই কথার মাঝখানে হঠাৎই বাইরে চলে এলেন নরিন আফরোজ এবং সামিহা বেগম ।গাড়ির শব্দ শুনে ছিলেন পিছনে পিছনে চলে আসলো রিমা এবং সাইমন ।
যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত কথা হয়নি দেখা হয়নি তাই ছেলেকে এক নজর দেখার জন্য সাথে সাথে চলে এসেছেন বাইরে ।সাদাফ দেখতে পেল বাড়ির সবাই চলে এসেছে জানে সবাই অসম্ভব ভালোবাসে সাদাফ কে।তাই সবার আসার সাথে সাথে গাড়ি থেকে নামলো ।নামার সাথে সাথে সামিহা বেগম সাদাফকে জড়িয়ে ধরে কান্না শুরু করে দিলেন।
সামিহা বেগম তো বলা শুরু করে দিলেন একদিনে মুখ টা কত শুকিয়ে গেছে খাস নাই ?দেখছিস বাড়ির খাবার না খেয়ে কি অবস্থা হয়েছে ছেলেটার।
সায়মন পিছন থেকে বলল ,”মামুনি তুমি মিস করছ ঠিক আছে তাই বলে এখন ঠাডা পরা মিথ্যা কথা কেন বলতেছ ?দেখে বোঝা যাচ্ছে সুন্দর খেয়ে দেয়ে তেল তেলে আছে ।কোনভাবেই বুঝা যাচ্ছে না না খেয়ে আছে ।”
তারপর সাথে সাথে সামনে এসে সায়মন বলল ,”কেমন আছে ভাইয়া?”
সাদাফ বললো ,”ভালো তুই?”
সায়মন জড়িয়ে ধরেই কিছুক্ষণ চুপচাপ রইলো ।
তারপর সবার অগোচরে কানে কানে ফিসফিস করে বলল ,”আমার কিন্তু ২০০০ টাকা লাগবে ।আগের টাকাটা একটা ভুতনির কারণে শেষ হয়ে গিয়েছে পরে বলব।”
সাদাফ বলল ,” ভালো হবি না তুই না? আচ্ছা মোবাইলে পাঠিয়ে দিব ।সমস্যা নেই ।তোরা সবাই ভালো আছিস ?”
নওরিন আফরোজ এর দিকে তাকিয়ে বললো,”আম্মু তোমরা সবাই ভালো আছো ?আমার জন্য কিন্তু টেনশন করবে না ।আমি কিন্তু একদম ফার্স্ট ক্লাস আছি কোন টেনশন করবে না নিজেদের খেয়াল রাখবে।”
নওরিন আফরোজ বলল ,”আমরা তো আমাদের খেয়াল রাখবো আমরা তো সবাই একসাথে আছি তুই থাকবি একা একা ।নিয়ম করে কিন্তু খাওয়া-দাওয়া করিস বেশি ক্ষন বাইরে ঘোরাফেরা করিস না ভাবিস না এখন কেউ দেখার নেই তাই বলে যা তা করতে পারবি।”
সাদাফ জড়িয়ে ধরে বলল ,”অবশ্যই যা আমার মা বলেছে তা অক্ষর অক্ষরে পালন হবে।”নীলা রহমান
বলেই নূরের দিকে তাকালো সাদাফ।নুর কে এখন ছেড়ে যেতে হবে মনটা মানছে না ।কেমন বুকের ভিতর আকুপাকু করছে ।সবার সাথে দেখা হওয়ার পর আর একটু যেন বেশি খারাপ লাগছে ।যেন মনে হচ্ছে নিজের একটা অংশ এখানে ফেলে যাচ্ছে।
রাত বাজে ৯ টা ডিনারে টেবিলে সবাই বসে আছে ।আজকে অস্বাভাবিকভাবে ফজলুর রহমান এবং হুমায়ূন রহমান খেয়াল করছে সবার মুড ভালো মন হাসিখুশি যেন বাড়িতে কিছু হয়নি এমন একটা ভাব। ঠিক আছে তারাও চাইছিলেন সবাই নরমাল হোক তাই বলে ছেলেটা মাত্র একদিন হলো গিয়েছে সবাই এভাবে ভুলে গিয়েছে ?মনে মনে ভাবলেন হুমায়ূন রহমান এবং সাথে সাথে ফজলুর রহমান ও।
ফজলুর রহমান একে একে সবার এক্সপ্রেশন খেয়াল করে দেখছে ।বিশেষ করে নূরের ।কোন পরিবর্তন নেই ।যেন কিছুই হয়নি এমন।গতকাল তো মন খারাপ দেখেছিল আজকে যেন কিছুই হয়নি এমন ভাব ।চুপচাপ খাচ্ছে নুর।সায়মন ও চুপচাপ খাচ্ছে রিমা ও খাচ্ছে ।নওরিন আফরোজ এবং সামিহা বেগম চুপচাপ খাবার সার্ভ করছে কারো ভিতরে কোন প্রতিক্রিয়া নেই।
অবাক লাগছে দুই ভাইয়ের কাছে কি মনে করে যেন হুমায়ান রহমানের দিকে তাকালেন ফজলুর রহমান ।ঠিক সেই সময় হুমায়ন রহমান ফজলুর রহমানের দিকে তাকালেন ।হয়তো দুজন দুজনের চোখের ভাষা বুঝলেন কিন্তু কেউ কারো কাছে কিছু প্রকাশ করতে পারছে না।
আজকে রান্না হয়েছে গরুর মাংসের কালা ভুনা কলিজা ভুনা আলু ভর্তা বিভিন্ন ধরনের ভর্তা ইলিশ মাছ ভাজা ডাল এবং ভাত সবগুলো আইটেম সাদাফের খুব প্রিয় ।আচ্ছা সবাই সাদাফের প্রিয় খাবার আজকে এত মন ভরে খাচ্ছে কেন ?সাদাফ তো নেই।
মনে মনে একটু অনুতপ্ত হচ্ছেন ফজলুর রহমান ।ছেলেটার সব প্রিয় খাবার রান্না হয়েছে অথচ ছেলেটা নেই ।না জানি কোথায় খাচ্ছে কিভাবে খাচ্ছে ।ভুল ক্রমেও জানতে পারলো না ফজলুর রহমান রান্না হয়েছে এসব সাদাফের জন্য ।কেন যেন নওরিন আফরোজ ও সামিহা বেগম সাদাফ কে পাঠানোর জন্য রান্না করেছিলেন ঠিক সেই সময় সাদাফ আসায় সাদাফকে প্যাক করে খাবার দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু সেই সম্পর্কে অবগত হলেন না ফজলুর রহমান ও হুমায়ুন রহমান।
অপরাধ ভরা মন নিয়ে দুই ভাই একটু একটু করে খাবার খেলো তৃপ্তি নিয়ে খেতে পারল না ।যতই হোক বাড়ি বড় ছেলে কোথায় আছে কি করছে সেই ভাবনায় দুই ভাইকে জেকে ধরেছে।
রাত বাজে ১১ঃ৩০ টা নূরের মোবাইল ফোনের রিং বেজে উঠল ।নুর জানে এই সময় কে ফোন করেছে ।নূরের ঠোঁটের কোণে খেলে গেল হাসি ।সাথে সাথে দৌড়ে পড়ার টেবিল থেকে ফোনটি ধরল ।ফোন ধরে রিসিভ করে সাথে সাথে বলল ,” জি বলুন।”
চলবে_
Neela Rahman
Share On:
TAGS: নীলা রহমান, সুখময় যন্ত্রণা তুমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৪৮
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৩৩+৩৪
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৯১
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৫
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬৮
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৭২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৫+১৬
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৭৪