সুখময় যন্ত্রনা তুমি
neela_rahman
পর্ব_৯২
ছাদে দাঁড়িয়ে আছে রিমা আর সায়মন। রিমা বলছে ,”তাড়াতাড়ি নিচে যাই বাবা ।বাবা রা যদি এসে দেখে ফেলে তোর সাথে এখানে তোর তো ঠ্যাং ভেঙে ফেলবে ।সাদাফ ভাইকে তো সম্মানের সাথে বাড়ি থেকে বের করেছে একটা থাপ্পড় দিয়ে তোকে মারতে মারতে ঠ্যাং ভে*ঙে ফেলবে।”
সায়মন বলল ,”তোর বাবা চাচাদের ভয়ে এখন আমরা ভাইয়েরা ঠিকঠাকমতো প্রেমও করতে পারবো না ।কি একটা অবস্থা হয়ে গেছে চিন্তা কর ।নিজের বাপ চাচা কিনা আমাদের ঠ্যাং ভেঙে ফেলবে তাও আবার এত গর্ব করে বলছিস ।গাধী তোর লজ্জা লাগে না হবু স্বামী সম্পর্কে এরকম কথা বলতে ?আর যদি ল্যাংড়া হয়ে যায় তাহলে তোরই সেবা যত্ন করতে হবে এমনিতে ছোটবেলা থেকে সব তুই করিস?”
“হ্যাঁ ওই করাটাই কাল হয়ে গেছে না হলে তোর মত দুমোখো কাল সা*পের সাথে প্রেম হতো না।” বললো রিমা।
“আমি দুমুখো কাল সা*প ?” জিগ্গেস করলো সায়মন।
রিমা বললো ,”হ্যাঁ দুই মুখো কাল সা*প ।ভাই তো বুক ফুলিয়ে বিয়ে করে বউয়ের হাত ধরে বাসায় এসেছে আর তুই ধরা খেলে আমাকে রেখে পালাবি সেটা আমি জানি।”
সায়মন রিমার হাত ধরে হেঁচকা টান দিয়ে রিমাকে নিজের বুকে নিয়ে আসলো ।তারপর দুই হাত দিয়ে রিমার মুখ চেপে ধরে বলল ,”আজকে বলেছিস খবরদার এই কথা আর বলবি না ।আমাদের বংশের রক্ত সম্পর্কে তোর ধারণা আছে আমার সম্পর্ক ধারণা রাখ। হাত পা কেন গলা কেটে ফেললে ও তোকে ছাড়বো না।
তোর উপরে এখন তোর বাপ চাচাদের থেকেও বেশি আমার অধিকার এটা যেন মাথায় থাকে ।দুনিয়া কে*য়ামত হয়ে গেলেও আমার থেকে সরার কথা চিন্তাও করবি না ব্রেকআপ তো অনেক দুর।স্বপ্নে ও ভাববি না।”
রিমা বলল ,”কিন্তু আমার যে ভয় করছে সত্যি অনেক ভয় করছে ।সাদাফ ভাইয়াকে সবাই এত ভালবাসে তাকেই গায়ে হাত তুলেছে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে আর তোমাকে কি করবে ভাবতে আমার কলিজাটা কেঁপে উঠছে।”
সায়মন রিমাকে সাথে সাথে জড়িয়ে ধরল ।কপালে একটি চুমু খেয়ে বলল ,”এসব ভাববি না ।এসব আমার ওপরে ছেড়ে দে ।যেদিন জানবে সেদিনের টা সেদিন দেখব। কিন্তু ভুলেও এটা মাথায় আনবি না তুই আমার থেকে দূরে সরে যাবি তাহলে আমি বেঁচে থাকতে মরে যাব।”
রিমা সাথে সাথে কান্না করে সাইমনকে জড়িয়ে ধরল ।জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলো ,”আমিও বাঁচবো না তোমাকে ছাড়া প্লিজ কিছু করো আমার অনেক ভ*য় লাগছে।”
এদিকে সন্ধ্যার দিকে কাপড় তুলতে ছাদে আসছিলেন নওরিন আফরোজ ।হঠাৎ করে ছাদে কারো কথা শুনতে পা জোড়া যেন থমকে যায় ।কথাগুলো তো আর কারো না সায়মন এবং রিমার ।কেন যেন অদ্ভুত হলেও সত্য নওরিন আফরোজ কাল পেতে কথাগুলো শোনার চেষ্টা করল।
শেষের কথাটুকু শুনে যেন উনি বরফের নেয় জমে গেলেন কি হবে এখন ?এমনিতে সাদাফ নুর কে নিয়ে এত কাহিনী তার উপরে যদি সায়মন এবং এভাবে কারো সম্মুখে চলে আসে তাহলে তো বাবারা ওকে মে*রে কি করবে আল্লাহই জানে।
বুকটা দুরু দুরু করে কা*পছে নওরিন আফরোজ এর ।সায়মন অতিশয় ভালো ছেলে কোন সন্দেহ নেই বরং রিমা যদি বাড়িতে থাকে সাইমনের জন্য তাতে ওনার কোন আপত্তি নেই কিন্তু কেমন যেন মনে হচ্ছে যে আরেকটা কি ঝড় আসবে কিনা ।এই ভেবেই বুকটা কাপছে নওরিন আফরোজ এর। লীলা রহমান লেখিকা
ছাদে যাওয়াটা আর সমীচীন মনে করলেন না কি করবে বুঝতে পারছে তাই দাঁড়িয়ে আছে।
হঠাৎ নওরিন আফরোজ হালকা একটু কাশি দিয়ে কাশতে কাশতে বেশি জোরে জোরে শব্দ করে ছাদের ভিতরে ঢুকলেন ।শব্দ পেয়ে সায়মন রিমা কে ছেড়ে দিল ।দুজন দুপাশে দাঁড়ালো এমন একটা ভাব যেন দুজন দুই দিকে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল।
নওরিন আফরোজ যে সব কথা শুনেছে এবং ওদের সম্পর্কটা বুঝতে পেরেছে এটা উনি বুঝতে দিলেন না ।সাথে সাথে রিমা কে বলল ,”কিরে চুলটুল ছেড়ে সন্ধ্যার সময় ছাদে দাঁড়িয়ে আছিস কেন ?কাপড়চোপড় গুলো নিয়ে এক্ষুনি নিচে যা ।আর বাবা সাইমন তুই এখানে কেন ?চা খেতে যা নাসতা রেডি করেছে সামিহা।”
সায়মনের কেন যেন লজ্জা লাগছে ।এক মন বলছে বড় আম্মু হয়তো সব শুনে ফেলেছে আরেক মন বলছে হয়তো শুনেনি ।সাইমন মাথা চুলকাতে চুলকাতে তাকালো বড় আম্মুর দিকে ।তারপর বলল ,”ঠিক আছে আম্মু আমি নিচে যাচ্ছি ।”
নরেন আফরোজের খুব মায়া হল ছেলেটার দিকে তাকিয়ে ।ছেলেটা যে খুব ভালো সহজ সরল কিন্তু আসন্ন ঝড় চিন্তা করে বুকটা বারবার কেঁপে উঠছে নওরিন আফরোজের।
অফিস থেকে বের হওয়ার আগেই হঠাৎ করে কি মনে করে যেন ফজলুর রহমান বাসায় ফোন দিলেন ।ফোন তাড়াতাড়ি দৌড়ে ধরলেন সামিহা বেগম। নাস্তা তৈরি করছিলেন রান্নাঘরে সামিহা বেগম যেহেতু নিচে কেউ নেই সবাই উপরে উনি চুলা অফ করে ফোন ধরলেন। সাথে সাথে ফজলুর রহমান বলল ,”নূরের কি অবস্থা নূর কোথায় ?”
সামিহা বেগম চুপ হয়ে গেলেন।
আমতা আমতা করে বললেন ,”নূর তো রুমে। আমি নিচে নাস্তা তৈরি করছি ।তাই বলতে পারবোনা ?”ফজলুর রহমান বললেন ,”সারাদিন কি নিচে নামেনি ?দুপুরে খেয়েছে ?”নীলা রহমান
সামিহা বেগমের মিথ্যা মুখ দিয়ে আসছে না তারপরও বলল ,”হ্যাঁ খেয়েছে ।চিন্তা করবেন না ।আপনি আস্তে ধীরে আসুন কোন সমস্যা নেই।”
ফজলুর রহমান আর কিছু বললেন না ।বললেন ,”এই তো আর আধাঘন্টা পর আমরা অফিস থেকে বের হব ।অফিসে একটু কাজের চাপ পড়ে গেছে বেশি ।বাড়ির দিকটা খেয়াল রেখো নুরকে একটু খেয়াল রেখো ।”বলেই ফোন রেখে দিলেন ফজলুর রহমান।
সামিহা বেগম ফোন রেখে হাফ ছেড়ে বাঁচলেন ।ঠিক তখনই দেখল কাপড়চোপড় নিয়ে নিচে নামছে রিমা তার পিছনে সায়মন এবং নওরিন আফরোজ ও সাথে নামছে ।
সামিহা বেগম নওরিন আফরোজ এর দিকে তাকিয়ে বললেন ,”ভাবি উনি ফোন দিয়েছিল ?নূরের কথা জিজ্ঞেস করছিল ?আমি বলেছি বাসায় আছে খেয়ে রুমে রেস্ট নিচ্ছে।
সবাই কিন্তু একই কথা বলবে ঠিক আছে ?নুর সারাদিন বাসায় ছিল খেয়ে দেয়ে রেস্ট করেছে বিকাল বেলা।”
নওরিন আফরোজ একটি দীর্ঘশ্বাস ফেললেন ।এমনি সাদাফ আর নুর কে নিয়ে টেনশন কম ছিল না তার উপরে আবার সাইমন ও রিমার টেনশনযুক্ত হলো।
সামিহা বেগমের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”আচ্ছা ঠিক আছে ।সাইমন নাস্তা করতে বস রিমা কাপড়চোপড় গুলো ঘরে রেখে আয় যা।”
সাদাফ নুরকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে ।নুল লজ্জায় কাচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।ঘনঘন নিঃশ্বাস নিচ্ছে ।কিছু বলতে পারছে না মেয়েটি ।সাদাফ নুরের কানে কানে ফিসফিস করে বলল ,”আজকে অন্তত বল তুই আমাকে ভালবাসিস।
তোর মুখ থেকে কখনো শুনিনি কিন্তু আজকে কেন যেন খুব শুনতে ইচ্ছা হচ্ছে ।বল না প্লিজ তুই আজকে না বললে আমি মরে যাবো।”
নূর সাথে সাথে দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ফেলল ।সাদাফ ঘুরে এসে নূরের দুই হাতে চুমু খেলো। তারপর হাত দুটো সরিয়ে বললো,” লজ্জা পাচ্ছিস ?লজ্জা মুখে বল ভালো বাসিস।তোর লজ্জা ভাঙ্গার সময় এখনো হয়নি ।লজ্জাটুকু তোলা রাখ আমি নিজ হাতে খুব যত্ন নিয়ে ভেঙে দিব।”
চলবে__
Neela Rahman
মাথা প্রচন্ড ব্যথা ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।বানান একটু ভুল হতে পারে এটা নিয়ে আবার ক্লাস নিয়ম আমার। পারলে দয়া করে যারাই গল্পটা পড়বেন একটু একটা হলে ওলাইক দেন একটু রিয়েকশন দিয়েন।
Share On:
TAGS: নীলা রহমান, সুখময় যন্ত্রণা তুমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৫৫
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৪৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬৬
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮১
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৩৭+৩৮
-
সুখময় যন্ত্রনা তুমি পর্ব ৪৭
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬৮
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৭৫
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ২০+২১+২২