Golpo romantic golpo সুখময় যন্ত্রণা তুমি

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৯১


#সুখময়_যন্ত্রনা_তুমি

#neela_rahman

#পর্ব_৯১

বিকালে চা কফি নিয়ে সবাই যথারীতি আড্ডা দিতে বসে গেল ।বারান্দায় রনি গিটার নাড়াচাড়া করলো কিছুক্ষণ কিন্তু যেহেতু রনি গিটার বাজাতে পারে না বা গান গাইতে পারেনা তাই বাধ্য হয়ে দিয়ে দিল সোহানের হাতে।

সাবা বলে উঠলো সুন্দর একটা গান ধরতো ।আজ নতুন কপোত কপোতির বিবাহিত জীবনের প্রথম দিন একসাথে সুন্দর করে একটা গান ওদের ডেডিকেট করে গাইবি।

সোহান গিটারে দু’একবার টুংটাং করে সিলেক্ট করে নিল কোন গান গাইবে ।তারপর বলল ,”ঠিক আছে তোরা এখন রোমান্টিক জুটি তোদের জন্য একটা রোমান্টিক গান গাই ।”

নুর লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল । বয়সে সবাই ১০ বছরের বড়। জেনারেশন গ্যাপ তাই সহজ হতে পারছে না।সাদাফ সবার অগোচরে নুরের হাতের আঙ্গুলের ভাজে ভাজে নিজের আঙুল সুন্দর করে গুজে দিলো।নুর চমকে উঠলো যেনো।দুই এক বার হাত ছাড়ানোর চেস্টা করলো। কিন্ত সাদাফ ছাড়লো না নুরের হাত।

সোহান গাইতে শুরু করলো……

“একটা প্রেমের গান লিখেছি

আর তাতে তোর নাম লিখেছি

মাঝ রাতে বদনাম হয়েছে মন

যেই না চোখের ইচ্ছে হলো

তোর পাড়াতে থাকতে গেলো

ডাকনামে তোর ডাকতে গেলো মন

কি করি এমন অসুখে

জমেছে মরন এ বুকে……”

[বাকি টুকু বুঝে নেন।]

সবাই সাথে সাথে হাততালি দিয়ে উঠল ।নূর ও সাদাফ হাততালি দিতে পারছে না কারণ এক হাত সাদাফের হাতে তাই এক হাত দিয়ে হাটুর উপরে ধীরে ধীরে চাপরাতে লাগলো।

এবার রনি সাদাফ কে কে বলল এবার তুই ধর ।তুই কিন্তু ভালো গান গাইতে পারিস বিদেশে তুই ভালো গান গেয়েছিস ।”

সোহান বলল ,”তা আর বলতে ?আমার চেয়ে ভালো আর কে জানে তোরা তো ভিডিও কলে শুনেছিস আমি তো নিজে স্বয়ং দেখেছি ।চমৎকার গান গায় আমাদের সাদাফ।নুর অবাক হয়ে গেল সাদাফ ভাইয়া গান গায় ?কই আজ পর্যন্ত কোন গান শুনলো না সাদাফ ভাইয়ের মুখে ।গুনগুন করে পর্যন্ত গান শুনে নি।অবাকের সপ্তম আশ্চর্যে পৌঁছে গেল নুর ।তাকালো সাদাফের দিকে ।মন খারাপ হলো কিছুই তো জানে না সাদাফ সম্পর্কে নুর।

সাদাফ দুষ্টু হেসে নুরের দিকে তাকালো ।সাদাফ বুঝতে পারল নুর হয়তো গান শুনতে চাচ্ছে।

তাই সোহানের কাছ থেকে গিটারটি নিয়ে বলল ,”পুরনো একটি গান গাইব নূরের ও জন্মের আগে শুনবি।আমার ও জন্মের বহু আগের। কিন্তু আজ কেন যেন বারবার এই গানটি মনে আসছে তাই এই গানটি গাইবো।”

বলেই সাদাফ গিটারটি নিজের কোলে নিয়ে নূরের হাত ছেড়ে দিয়ে গিটারে সুর ধরতে লাগলো।

সাদাফ নুরের দিকে তাকিয়ে শুরু করলো……..

“আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন

কপোলের কালো তিল পড়বে চোঁখে

আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন

কপোলের কালো টিপ পড়বে চোঁখে,

ফুটবে যখন ফুল বকুল শাঁখে

ভ্রোমর যে এসেছিলো জানবে লোকে,

নুর বিস্ময়ে অবাক হলো এতো সুন্দর গান গায় সাদাফ ভাই……

আবার নুরের দিকে তাকিয়ে……

“আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন

কপোলের কালো তিল পড়বে চোঁখে,

ফুটবে যখন ফুল বকুল শাঁখে

ভ্রোমর যে এসেছিলো জানবে লোকে,

হুম…হুম…হুম…হুম,

হুম…হুম…হুম…হুম…হুম,

নুর লজ্জায় লাল হয়ে যাচ্ছে

সাদাফ আবার শুরু করলো…..

“মনটি তোমার কেন দুরু দুরু কাঁপছে

মনের মানুষ কি গো চেনা চেনা লাগছে,

তুমি কি তারে কাছে ডাকবে?

হৃদয়ের কাছে সে রয় অলখে,

হঠাৎ যখন তুমি দেখবে তাকে

শরমে নয়ন কি গো রাখবে ঢেকে?”

নুর লজ্জায় মাথা নত করলো।

সত্যি নুরের বুক গানের প্রতিটি লাইনে দুরু দুরু কাঁপছে।

“আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন

কপোলের কালো তিল পড়বে চোঁখে,

ফুটবে যখন ফুল বকুল শাঁখে

ভ্রোমর যে এসেছিলো জানবে লোকে,

হুম…হুম…হুম…হুম,

হুম…হুম…হুম…হুম…হুম,

নুর মাথা তুলে তাকালো।দেখলো সাদাফ এখনো নুরের দিকে চেয়ে আছে……

সাদাফ আবার গাইতে শুরু করলো….

“জানি না এখন তুমি কার কথা ভাবছো?

আনমোনে কার ছবি চুপি চুপি আঁকছো?

তুমি কি তারে ভালোবাসবে…?

ধরা যদি দেয় সে এক পলকে ,?

দেখবে যখন তারে অবাক চোখে

দুহাতে নয়ন কি গো রাখবে ঢেকে?

আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন

কপোলের কালো তিল পড়বে চোঁখে,

ফুটবে যখন ফুল বকুল শাঁকে

ভ্রোমর যে এসেছিলো জানবে লোকে,

সবাই মুচকি মুচকি হেসে নুরের দিকে তাকালো আর জোরে করতালি দিতে লাগলো ।গিটারটি কোলে নিয়েই চুপচাপ নুরের দিকে তাকিয়ে রইল যেন ভুলে গেল আশেপাশের সাবা রনি আর সোহান আছে।

সাদাফের যেন মনে হচ্ছে মনের যত কথা ছিল সব নুরকে জানানো হয়ে গেছে ।বোকা নুর কি বুঝতে পারছে প্রত্যেকটি কথার অর্থ?

সবাই এবার বলতে শুরু করল এবার নূরের পালা ।নূর বলল ,”না না ভাইয়া আমি গান গাইতে পারি না।”

সাদাফ ও ঠিক বলতে পারছে না নূর গান গাইতে পারে কিনা ?কারণ সাদাফ যখন ওকে রেখে গিয়েছে তখন দশ বছরে ছিল ।এখন ১৬ বছর পার করলো এই ছয় বছর ওর সাথে ছিলনা সাদাফ তাই ঠিক শিওর হয়ে বলতে পারছে না ।

তাই সোহান এর দিকে তাকিয়ে বলল ,”থাক নুর হয়তো লজ্জা পাবে হয়তো গান গাইতে পারেনা ।”

সাবা বলল ,”তুই চুপ কর ।মেয়ে মানুষ আর গান গাইতে পারেনা? একটু হলেও পারে।গান গাইতে পারে না গুনগুন করে হলো গাইতে পারবে ।নূর কোন কথা শুনবো না আজকে তোমাকে গান গাইতেই হবে তোমাকে সাদাফের কসম।

নুর লজ্জায় কাচুমাচু করছে ।তারপর মুখ খুলে বললো ,”আমি একটি গান পারি অল্প একটু বেশি পারি না ।”

সাবা বলল ,”ঠিক আছে অতটুকু ই চলবে ।”

সাদাফ অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল নূরের দিকে ।দেখতে চাইলো কি গান গাইতে পারে নুর অল্প একটু তাও।

নূর চোখ তুলে একবার সাদাফের দিকে তাকালো ।তারপর লজ্জায় আবার মাথা নিচু করে ফেলল ।তারপর গান গাইতে শুরু করল……

ও চাঁদ তুমি সরে যাও,

ও রাত তুমি দূরে যাও্‌,

মনের মানুষ আজ এসেছে কাছে

আমি চুপি চুপি কিছু কথা বলবো তাকে।

শিশির আস্তে ঝরো শব্দ করনা,

বাতাস ঝড়ো বেগে আজকে এসনা…

এখনো হয়নি বলা মনের কথা

আরো কিছু সময় জেতে দাও।

আমার সপ্নটাকে কেও তো ভেঙ্গনা,

এমন লগ্ন জানি আরতো পাবনা,

এখনো হয়নি বলা মনের কথা আর কিছখন তুমি জেতে দাও…

গান গাওয়ার সময় নুর একবারের জন্য মাথা উপরে তুলে নি ।গান গাওয়া শেষেও তুলছে না ।সাদাফ যেন এখনো স্বপ্নে ভাসছে এত সুন্দর গান নূরের কন্ঠে ?গানের অর্থ গুলো কি মেয়েটা জানে ?কি সুন্দর করে গান গাইলো ।সাদাফ যেন মনের ভিতর ঠান্ডা শীতল অনুভূতি অনুভব করতে পারছে।

সবাই হাততালি দিয়ে নুর কে বাহবা দিল ।বলল খুব সুন্দর গান গেয়েছো ।

“তোমার গানের কন্ঠ তো অনেক সুন্দর শুধু শুধু বলছিলে কেন গান পারো না ?”বলল সাবা।

সবাই চলে গেলে সাদাফ নুরকে বাড়িতে দিয়ে আসবে তাই নুর রেডি হচ্ছিল ।হঠাৎ সাদাফ পিছনে থেকে এসে নূরকে জড়িয়ে ধরে বলল ,”আবার কবে আসবি ?”

নুরু লজ্জা পেয়ে গেল ।বলল ,”আপনি যেদিন আনবেন ?”

সাদাফ বলল ,”আমার তো যেতে দিতে ইচ্ছে হচ্ছে না ।”

নুর বলল ,”বাবারা থাকতে দিবে না আমাকে।”

সাদাফ বলল ,”উফ তোর বাবাদের যন্ত্রণায় আর পারছি না। সোনায় বাঁধানো কপাল আমার ।সব প্রেমিক দের লড়তে হয় একটি শ্বশুরের সাথে আর আমার তো দুই দুইটা শ্বশুরের সাথে লড়তে হচ্ছে।ভেবে পাচ্ছি না আমাকে বাসা থেকে বের করে শান্তি হয়নি এখন তোকে আমার কাছে আসতে দিবে না ?আমি ছো মেরে তোকে আমার কাছে নিয়ে আসবো।

আচ্ছা শোন ?”

নুর বলল ,” হুম বলেন ।”

সাদাফ বলল ,”তুই যে গান গেয়েছিস গানের কথাগুলো কি বুঝতে পেরেছিস?

সামনাসামনি তো আমাকে কোন মনের কথা বলিস না আজকে একটু বলবি আমি শুনতে চাই?”

চলবে_________

Neela Rahman

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply