Golpo romantic golpo সুখময় যন্ত্রণা তুমি

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৮


সুখময়_যন্ত্রনা_তুমি

neelarahman

পর্ব_৮৮

হুমায়ূন রহমান দুপুরে লাঞ্চের সময় ছেলের ক্যাবিনে বসে আছে ।ছেলের খালি কেবিনে বসে বারবার সাদাফের কথা মনে করছে ।ফজলুলের সামনে চায়না দুর্বলতা দেখাতে তাই চুপচাপ ছেলের ক্যাবিনে বসে ছিল হুমায়ুন রহমান । ফজলুর রহমান বড় ভাইয়ের ক্যাবিনে গিয়ে খুজে না পেয়ে বুঝতে পেরেছেন কোথায় থাকতে পারে তাই উনিও চলে আসলেন সাদাফের কেবিনে। নীলা রহমান

ফজলুর রহমান কেবিনে প্রবেশ করতেই হুমায়ূণ রহমান মাথা তুলে তাকালেন ।তারপর বললেন ,”কিছু বলবি ?”

ফজলুর রহমান ভাইয়ের দিকে তাকালেন ।একদিনেই চেহারাটা মলিন হয়ে গেছে ।বললেন ,”না ভাইজান ।এখনো লাঞ্চ করেননি ?লাঞ্চ অর্ডার করেছি দুই ভাই এখানে বসে খাব।”

ফজলুর রহমান এখনো তাকিয়ে আছে হুমায়ুন রহমানের দিকে তবে হুমায়ুনুর রহমানের মাথা নিচু করে বসে আছে। হ্যাঁ না কিছুই বললো না ।ফজলুর রহমান খানিক থেমে আবার বললেন ,”ভাইজান আপনি কি আমার উপর রাগ করেছেন?”

হুমায়ূন রহমান ফজলুর রহমানের দিকে তাকিয়ে বললেন,” না তোর উপর আমার কোন রাগ নেই ।তুই তোর জায়গায় ঠিক আছিস তবে সত্যি কথা বলতে ছেলেটার জন্য আমার ভীষণ চিন্তা হচ্ছে ।আর তাছাড়া কখনো ওর সাথে আমি গলা চওড়া করে কথা পর্যন্ত বলিনি কিন্তু গতকাল চড় মেরেছি তারপর থেকে আমার ভালো লাগছে না কোন কিছু।

তবে সত্যি তোর উপর আমার কোন রাগ অভিমান কিছুই নেই ।মেয়ের বাবা হিসেবে তুই যা করেছিস তাই একদম ঠিক করেছিস।”

ফজলুর রহমান ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”মেয়ের বাবা হয়ে না ভাইজান সাদাফের বাবা হয়ে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি ।সাদাফ যা করেছে ভুল করেছে ।সাদাফ ভালো করেই জানতো আমরা আজ হোক কাল হোক ওদের বিয়ে করিয়ে দিব তাই সমাজের কথা চিন্তা করে আমাদের মান-সম্মানের কথা চিন্তা করা উচিত ছিল।নূরকে ভুলভাল বুঝিয়ে একা একা বিয়ে করাটা ঠিক হয়নি ওর।

নুরকে আপনি আমার চেয়ে ভালো করে চিনেন ।সাদাফ হয়তো এমন কিছু বলেছে যার জন্য নূর আপনার আমার কথাও ভাবতে ভুলে গিয়েছে ।বিয়েতে রাজি হয়ে গিয়েছে ।কিন্তু বিয়েটা তো হয়তো দেরি হলেও হত।

আমাদের ছেলে মেয়ে আমরা নিশ্চয়ই ওদের সুখ রেখে অন্য কিছু কথা ভাবতাম না কিন্তু পরিবার-পরিজন আত্মীয়-স্বজনের কাছে সাদাফ আমার মাথাটা নিচু করে দিয়েছে ভাইজান ।সবাই মুখ তুলে বলবে আমার মেয়ে একা প্রেম করে চাচাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে করে ফেলেছে বাবা-মাকে না জানিয়ে ।আমাদের লালন পালনের উপরে আঙুল উঠবে ভাইজান ।আমাদের ছেলে আমাদেরই মেয়ে অথচ এক বাড়িতে থেকেও আমরা ওদেরকে ভালো-মন্দ বুঝ দিতে পারিনি মানুষ এটাই বলবে।”

হুমায়ূন রহমান জানে ফজলুর এর প্রত্যেকটি কথাই সঠিক ।সেজন্যই ছোট ভাইয়ের প্রতি কোন রাগ বিদ্বেষ নেই হুমায়ূন রহমানের ।তাই বললেন ,”আচ্ছা এখন এসব কথা রাখ আসলে ক্ষুধা পেয়েছে চল খাওয়া-দাওয়া করি ।”

হুমায়ন রহমান টপিকটা বাদ দিতে চাইলেন উনার আর কিছুই ভাবতে ভালো লাগছে না ।ভাইয়ের কথাও সঠিক মনে হচ্ছে এদিকে ছেলের জন্য খুব খারাপ লাগছে।

গাড়ী চলতে চলতে একটি বিরিয়ানি দোকানের সামনে থামালো সাদাফ।নুর জিজ্ঞেস করল ,”এখানে থামালেন কেন ? লাঞ্চ করবেন ?”

সাদাফ বললো ,” না কয়েক প্যাকেট বিরানি কিনে নিয়ে যাব ফ্রেন্ডসদের জন্য।ওরা আছে সবাই ফ্ল্যাটে ।ওখানে খাবো ।তুইও খাবি চল ।”

নূর কিছু মনে করল না ।ফ্রেন্ডসদের কথা বলেছে তাই ভাবলো নতুন বাড়ি নিয়েছে তাই হয়তো ফ্রেন্ডসদের দাওয়াত দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ মিনিটের মধ্যে কয়েক প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে নিয়ে গাড়ির পিছনে রেখেই ড্রাইভ করতে শুরু করল সাদাফ।নুর জিজ্ঞেস করল ,”কে কে এসেছে ?” সাদাফ বলল ,”চল গেলে দেখতে পারবি কে কে এসেছে ।”

ঠিক বিশ মিনিট ড্রাইভ করে ধানমন্ডি নিজের বাড়ির সামনে চলে আসলো সাদাফ নুর।

নুর বাড়িটিকে দেখে এক নজরে পছন্দ করে ফেলল ।বাইরেটা খুব সুন্দর ।জিজ্ঞেস করল ,”কোন ফ্লোরে ?”

সাদাফ বলল ,”টপ ফ্লোর।”

বাড়ির মালিকের একটা ফ্ল্যাট আছে ।মাঝেমধ্যে মালিক নিজে এসে থাকে আর এর থেকে নিচে পাই নি তবে লিফ্ট আছে সমস্যা নেই আয়।”

১০ তলা বিল্ডিং এর 9 তলায় থাকছে সাদাফ । লিফ্ট আছে তাই নূরের কোন টেনশন হলো না ।সাদাফ খাবারে প্যাকেট গুলো নিয়ে নূরকে বললো ,”আয় আমার সাথে ।”

নুর হেঁটে হেঁটে লিফ্ট পর্যন্ত চলে আসলো।

নূরের আজ কেমন যেন খুশি খুশি লাগছে মনের মধ্যে।

গতকাল রাত থেকেই সাদাফের সাথে কথা বলার পর সাদাফ যখন নুর কে মিসেস সাদাফ বলেছিল তখন থেকেই কেমন যেন নূরের মিসেস সাদাফ ফিলিংস চলে আসছে ।মনে হচ্ছে এটা যেন সত্যি ওর শ্বশুর বাড়ি। আজ প্রথম শ্বশুরবাড়িতে আসলো।

নুরের মুচকি মুচকি হাসি দেখে সাদাফ বললো ,”কি হলো হাসছিস কেন এভাবে একা একা ?”

নুর বললো না কিছুনা।

সাদাফ ভালো করে লক্ষ্য করলো নূরকে ।দুই পাশে দুই বেণী করা স্কুল ড্রেস পড়া কে বলবে এই ছোট্ট মেয়েটা ওর বউ ?আশেপাশে মানুষ দেখলেও তো মনে হয় নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে দিবে শিশু আইনে মামলা হয়ে যাবে। নীলা রহমান লেখিকা

মনে মনে ভাবতেই হাসলো সাদাফ। কবে বড় হবে এই পিচ্চি মেয়েটা? বয়সে পিচ্চি ঠিক আছে মোটামুটি সাইজেও পিচ্চি ।চিকন চাকন শুকনা ছোটমোটো একটা মেয়ে দেখে মনে হয় না যে ১৭ রানিং। যে কেউ দেখলে বলবে সর্বোচ্চ ১৫ বছর চলছে।

নুর লিফ্ট এর চারিদিকে এদিক-ওদিক তাকানো শেষে হঠাৎ সাদাফের দিকে তাকিয়ে বলল ,”কি দেখছেন আমাকে এমন করে?”

সাদাফ মুচকি হেসে উত্তর দিল না কিছু দেখছে না ।কি করে সাদাফ বলবে নুরের সবকিছুই দেখছিল ।সাদাফ নুরের শরীর থেকে শুরু করে ওর আচার-আচরণ সবকিছু দেখছিলো।এটা বললে এখন লজ্জা পাবে মেয়েটা তাই সাদাফ চুপ করে রইল।

লিফ্ট আট তলায় এসে থামতেই লিস্ট থেকে ওরা নেমে গেল ।সামনে গিয়ে চারটা ফ্ল্যাট দেখতে পেল নুর।সাদাফ ডান দিকে ২য় টি তে কলিং বেল টিপলো ।

সাথে সাথে এসে দরজা খুলল সাবা ।নূরের চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে গেল ।সাবা কেন ভিতর থেকে দরজা খুলবে ?কেন যেন নূরের নারীসত্তা এটা মেনে নিতে পারছে না?

সাবা আপু নূর এর আগে এই বাসায় আসলো এই বাসায় তো নুরের আগে আসার কথা ছিল ।সাবা আপু কেন এসে ঘর গোছাবে ? সাদা আপু কেন সাদাফ ভাইয়ের বেডরুম গুছাবে ?এটা মোটেও মেনে নিতে পারছে না নূর ।নূর চুপচাপ নিচের দিকে তাকিয়ে রইল ।

সাবা বুঝতে পারল নুরের মানসিক অবস্থা যেহেতু সাবা ও একটি মেয়ে তাই সাদাফ কে বলল ,”ভিতরে আয় ।”

সাদাফ নুরের হাত ধরে চুপচাপ ভিতরে প্রবেশ করল ।নুর আর এদিক ওদিক তাকিয়ে ফ্ল্যাটের কোন কিছুই দেখছে না ।আশেপাশে কয়েকজন বন্ধু আছে তাও খেয়াল করলো না।সোহান এসে নূরের সামনে দাঁড়িয়ে বলল ,”হায় নুর আমি সোহান ।সাদাফের সাথে আমেরিকা ছিলাম ।”

নুর উপরের দিকে তাকিয়ে সোহানকে হাই বললে সোহান নুরের দিকে তাকালো।নুর কে কেমন যেন অন্য মনস্ক মনে হল সোহানের কাছে।

সোহান সাদাফের দিকে তাকিয়ে ইশারা করে জিজ্ঞেস করল কি হয়েছে ?সাদাফ নুরের দিকে খেয়াল করল ।আসলে নূরের মনটা কেমন যেন অন্যমনস্ক লাগছে ।কি হতে পারে? একটু আগেও তো সব ঠিক ছিলো।হঠাৎ করে খেয়াল আসলো ও কি সাবাকে দেখে কোন ভাবে মাইন্ড করেছে বা মন খারাপ করেছে?

সাদাফ মনে মনে ভাবল আর লুকোচুরি নয় আজ সত্যি কথা সব বলে দিবে তাই সাবার হাতে বিরিয়ানি প্যাকেট গুলো দিয়ে নুর কে নিয়ে চলে গেল রুম দেখানোর জন্য ।আসলে কথা বলতে চাচ্ছে তাই সবার সামনে থেকে নুরকে ভিতরে নিয়ে চলে গেল।

রুমের ভিতর যেয়ে রুমের দরজা চাপিয়ে সাদাফ নুরের দিকে তাকিয়ে বলল ,”কি হয়েছে মন খারাপ ?কিছু হয়েছে আমাকে বল?”

নুরের ভীষণ রাগ উঠেছে তাই আজ আর নিজেকে কন্ট্রোল না করে সাদাফের দিকে তাকিয়ে বলে ফেলল ,” সাবা আপু এখানে কেনো?আমার আগে এই বাসায় কি করে?”

নূরের প্রশ্নে সাদাব অবাক হয়ে গেল ।নূর প্রশ্ন করছে ?সাদাফ বলল ,”নতুন বাড়ি গুছিয়ে দেওয়ার জন্য এসেছে ।সব ফ্রেন্ডসরা যেমন এসেছে ও সেভাবে এসেছে ।কিন্তু তোর কি হয়েছে তুই এমন করছিস কেন?”

নুর বলল ,”ঘর গোছানোর জন্য মানুষ প্রয়োজন হলে আমাকে বলতে পারতেন রিমা আপুকে বলতে পারতেন সাইমন ভাইয়া ও তো ছিল ।আমরা করে দিতে পারতাম ।সাবা আপুকে কেন আসতে হবে?”

সাদাফ বুঝতে পারছে কোথাও কিছু একটা ভুল অবশ্যই হয়েছে সাদাফের ।সাদাফ নুরের দিকে তাকিয়ে বলল ,”আমার দিকে তাকা নুর। আমি আসলে এত কিছু ভেবে ওদেরকে বলিনি ওরা সবাই আমার ফ্রেন্ডস তাই ওদেরকে বলেছিলাম ঘর গুছিয়ে দিতে ।তোকে সারপ্রাইজ দিতে চেয়েছিলাম সবকিছু গোছানোর পর।”

নূর সাদাফের দিকে তাকিয়ে বলল ,”এটাও কি সারপ্রাইজ হতো না আপনি আমাকে গোছানোর জন্য ডাকতেন ?আমার স্বামীর ঘর আমি গুছিয়ে দিতাম?”

নূরের মুখ থেকে স্বামী কথাটি শুনে সাদাফ অবাক হয়ে গেল ।আসলে এই কথাটি তো মাথায় আসেনি সাদাফের ।নূরের সংসার নূরকে দিয়ে তো গোছানো যেত !

কিন্তু সাদাফ তো সবসময় নুরকে ছোট মনে করে ভেবেছো কিছু করতে পারবে না আর বন্ধুরা যেহেতু যেচে বলেছে আমরা গুছিয়ে দিব তাই সাদাফ না করেনি।

সাদাফ বুঝতে পারছে না এখন নূরকে কি বলবে ?নূরের কথাও যুক্তি আছে ।এই দিক দিয়ে ভেবে দেখেনি সাদাফ। যেহেতু সাদাফ বলেছিল সাবাও ওকে পছন্দ করে বিয়ে করতে চায় স্বাভাবিক নূরের জেলাস ফিল হবেই ।বাড়িতে ঢুকে যদি সাবা কে গেট খুলতে দেখে স্বাভাবিক রিয়েকট করবেই ।নুরের জায়গায় সাদাফ থাকলে ভয়ঙ্কর কিছু করে ফেলতো।

চলবে_________

Neela Rahman

বাহিরে আছি বানান রিচেক দেওয়ার সময় তেমন একটা পেলাম না ।ভুলত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply