Golpo romantic golpo সুখময় যন্ত্রণা তুমি

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৫


সুখময়_যন্ত্রনা_তুমি

neela_rahman

পর্ব_৮৫

সাদাফ বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছে ৫ মিনিট হলো ।৫ মিনিট ধরেই বাড়ির নিচে তলায় কারো সাথে কারো কোন কথা নেই ।সবাই যেন তবদা খেয়ে গেল ।একজন আরেকজনের দিকে শুধু তাকিয়ে আছে ।ফজলুর রহমান অপরাধীর ন্যায় তাকাল হুমায়ন রহমানের দিকে । তাকিয়ে বললো ,”ভাইজান আপনি কি আমার উপর রাগ করেছেন?”

হুমায়ুর রহমান জানে তার বুকটা আজ ঝাজড়া হয়ে গেছে ।আজ যেন র*ক্তক্ষরণ হচ্ছে বুকের কোথাও ।তার ভীষণ আদরের ছেলে তার গালে আজ থা*প্পড় মে*রেছে এমনকি বাড়ি থেকে পর্যন্ত বের করে দিয়েছে ।ছেলেটা কোথায় থাকবে কোথায় ঘুমাবে কোথায় খাবে এমনিতেই অসুস্থ ছেলেটা। নীলা রহমান লেখিকা

তবুও বুকে পাথর চাপা দিয়ে দীর্ঘ একটি শ্বাস ফেলে ফজলুর রহমানের দিকে না তাকিয়ে বলল ,”না তোর যা ভাল মনে হয়েছে তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিস ।ও তো একার আমার ছেলে নয়।তোর ও ছেলে।আমি এর মধ্যে আর কিছু বলবো না ।”

বলেই চুপচাপ সিঁড়ি ভেঙ্গে আস্তে আস্তে উপরের দিকে চলে গেল ।নিস্তব্ধ হয়ে গেলেন ফজলুর রহমান ।ভাইয়ের মুখে এমন ধরনের কোনদিন কোন কথা শোনেনি ফজলুর রহমান।এতটা শান্ত কিন্তু যেন মনে হচ্ছে ভিতরে কোন অশান্ত ঝড় বইছে যার প্রভাব কারো উপরে পড়ুক চাচ্ছে না হুমায়ুর রহমান ।তাই তাড়াতাড়ি স্থান ত্যাগ করলেন।

নওরিন আফরোজ ও কিছু বলার ভাষা পাচ্ছে না ।সামিহা বেগমের দিকে তাকালেন চোখ দিয়ে ঝরঝর করে পানি পড়ছে নওরিন আফরোজ এর ।তাই উনি ও সাথে সাথে উপরের দিকে চলে গেলেন হুমায়ূন রহমানের সাথে কথা বলার জন্য ।স্বামীকে এরকম কখনো দেখেননি নওরিন আফরোজ।সাদাফের সাথে হুমায়ুন রহমানের যে সখ্যতা যে আত্মিক বন্ধন সেটা যেন নওরিন আফরোজের সাথে কখনো গড়ে ওঠেনি ।উনি খুব ভালো করে জানেন ভিতরে ভিতরে ম*রে যাচ্ছে হুমায়ন রহমান কিন্তু বাইরে প্রকাশ করতে পারছে না।

এই মুহূর্তে উনি হুমায়ূন আহমানের সাথে থাকাটাই ভালো মনে করলেন ।সামিহা বেগমকে চোখের ইশারায় সব বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন।

সায়মন ও ধীরে ধীরে উপরে চলে গেল ।বুঝতে পারছে না কি হবে ।কিন্তু মনে মনে ভাবছে বাসা থেকে বের করাটা কি খুব জরুরী ছিল ?কোথায় থাকবে সাদাফ ভাইয়া ?বাবার উপরে যেন এক প্রকার রাগ ই হলো সাইমন।মনে মনে ভাবতে লাগলো ,”বাসায় রেখে তো এই শর্তগুলো দেওয়া যেত ।আর নুরের জন্য এর থেকে ভালো ছেলেই বা কোথায় পেতো ?চোখের সামনে হাতের কাছে এত ভালো ছেলে পেয়েও তাহলে ভালো লাগছে না ?তাহলে দূরে কোথাও দিলে ভালো লাগতো বাবার ?”ছোট্ট মনে এই ধরনের প্রশ্ন আসছে সাইমনের মাথায়।

সামিহা বেগম বারবার থেকে থেকে চিন্তা করছে ,”নূর এখন কি করবে ?নুর যদি কোন পা*গলামি করে ?কি করে সামলাবে নুর কে?পুরো বাড়িতে একমাত্র সাদাফকে যে ভয় পেত আর সাদাফের কথাই শুনতো ।এখন তো সেই সাদাফ নেই তাহলে নুর কার কথা শুনবে কার কথা মানবে।”

এক পা দু পা করে এগিয়ে এলেন ফজলুর রহমানের কাছে ।এসে বললেন ,”খুব কি জরুরী ছিল ছেলেটাকে বাসা থেকে বের করার ?এই শর্তগুলো তো বাসায় দিয়েও রাখতে পারতেন ?আপনি তো শুরু থেকে জানতেন সাদাফ নুর ভালোবাসে ।তাহলে কেন আপনি আজ এরকম কঠোর একটি সিদ্ধান্ত নিলেন ?কোথায় থাকবে ছেলেটা ?কখনো ভেবে দেখেছেন ভাইয়ের কি হবে ভাবি কি চিন্তা করছে?

আজ যদি ভাই অসুস্থ হয়ে যায় ভাবির কিছু হয়ে যায় আপনি কি নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন ?আর নুর ?নুর যখন জানতে পারবে সাদাফ কে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে কি করে সামলাবেন আপনার আদরের মেয়েকে ?ভেবেছেন আপনি ?ভাবুন আপনি একা একা এখানে দাঁড়িয়ে ভাবুন ।বলেই সাথে সাথে চলে গেল সামিহা বেগম নিজের রুমের দিকে।

এদিকে নূরের কেমন যেন লাগছে বারবার।থেকে থেকে বারবার রুম থেকে নিচে যাওয়ার চিন্তা করছিল কিন্তু রিমা নিচের দিকে যেতে দিচ্ছে না ।হঠাৎ রুমের বাইরে বড় মাকে দেখে বড়মার সাথে কথা বলার জন্য রুম থেকে বের হলো নূর। নীলা রহমান

নুর ডাকলো,”বড় মা মা সাদাফ ভাইয়া কই?”

নওরিন আফরোজ কি বলবে বুঝতে পারলো না। সত্যি বলবে?? না আজ এতো বড় ধাক্কা নুর সামলে নিতে পারবে না।তাই বললো ,”সাদাফ বাইরে গেছে আসবে সোনা মা আমার পা*গলামি করিস না।”

নুর বললো,” সত্যি করে বলো মা সাদাফ ভাইয়া বাসায় নেই না? এতোগুলো মানুষ মিলে সাদাফ ভাইকে রাখতে পারলে না?”

নওরিন আফরোজ অবাক হয়ে গেলেন ছোট নুরের কথা ।কবুল বলার সাথে সাথে বুঝি মেয়েদের এমন পরিবর্তন হয় ?কতটা পা*গল হয়ে গেছে নুর সাদাফের জন্য ।নূরের মন ঠিকই গাইছে সাদাফ বাড়িতে নেই। নওরিন আফরোজ নুরের মাথায় হাত রেখে বললো,”পারিনি।তুই ওর স্ত্রী।এখন এসব তোর দায়িত্ব।আর শোন তুই এখন ওর স্ত্রী চাচাতো বোন না।তাই ভাই ডাকা বন্ধ কর।আগে সাদাফের স্ত্রী পরিচয় দে নিজেকে।তারপর স্বামীর খোজ নিস।”

নুর কাঁদো কাঁদো হয়ে জানতে চাইলো ,”কোথায় গেছে উনি??”

নওরিন আফরোজ বললো,”কাল ফোন কিনে দিবো।আজ মায়ের টা দিয়ে স্বামীর খোজ নে কোথায় গেছে।এটা তোর অধিকার ও কর্তব্য। শুধু তিন কবুল বললেই স্ত্রী হওয়া যায় না ।স্ত্রী হতে হলে অনেক কিছুই করতে হয় ।এখন থেকে একটু একটু করে শিখবি।”

নূর চোখের পানি মুছে সাথে সাথে নিজের রুমে ছুট লাগালো ।রুমে ঢুকেই রিমার দিকে তাকালো ।রিমা বুঝতে পারলো কারণ সব কথাই শুনেছে রিমা ।রিমা তাই রুম থেকে বের হয়ে গেল সাথে সাথে ।নুর দরজা লাগিয়ে দিয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে ফোন দিল সাদাফ কে।

সাদাফ জানতো কিছুক্ষণের মধ্যে ফোন দিবে পাগলামি করবে নুর ।সাদাফ সাথে সাথে ফোন রিসিভ করল ।বেশিদূর এখনো যায়নি বাড়ির কাছে কোন একটা পার্কে বেঞ্চিতে বসেছিল সাদাফ।নূরের সাথে কথা হলে তারপর যাবে যেখানে যাওয়ার।

সাদাফ ফোন ধরে হ্যালো বলার আগেই নূর সাথে সাথে জিজ্ঞেস করল ,”কোথায় আপনি ?আমাকে না বলে গিয়েছেন কেন? আপনি না কথা দিয়েছিলেন আমার সাথে উপরে এসে দেখা করবেন ?তাহলে দেখা করলেন না কেন ?কথা রাখলেন না কেন আপনি ?আপনি কেন আমাকে ছেড়ে চলে গেলেন?”

সাদাফের দুঃখের মধ্যেও বড় হাসি পেল ।সাদাফের মনে হলো এই বুঝি হয় বউ বউ টাইপস মেয়ে। বিয়ে হতে না হতেই কি সুন্দর কর্তৃত্ব করা শুরু করে দিয়েছে সাদাফের উপর ।তবে সাদাফের খুব ভালো লাগছে এটাই তো চেয়েছিল সাদাফ।নুর সারাক্ষণ ওকে নিয়ে ভাবুক ওকে নিয়ে ব্যস্ত থাকুক।

সাদাফ এ ব্যাপারে যে বড্ড স্বার্থপর ।নূরের খেয়ালে বা চিন্তায় অন্য কোন কিছু না থাকুক এটাই চেয়েছে সব সময় সাদাফ।আর আজ তাই হচ্ছে ৫ মিনিটে হয়নি বাসা থেকে বের হয়েছে সাদাফ লুর ওর জন্য চিন্তা করছে ঠিক যেমন একজন স্ত্রী তার স্বামীর জন্য চিন্তা করে ঠিক যেমন কি ওতো আজকে থেকে সাদাফের স্ত্রী।

সাদাফ দীর্ঘ একটি শ্বাস ফেলে মনে মনে চিন্তা করলো নূরকে ঠান্ডা করতে হবে ।তাই বলল ,”কি হয়েছে এখনই খুব বউ বউ ভাব ধরছিস বিয়ে হতে না হতে বউ হয়ে গিয়েছিস?এতো প্রশ্ন কেও একসাথে করে?”

নুর বলল ,”কোথায় গিয়েছেন আপনি? আপনার তো আমার সাথে দেখা করার কথা ছিল ।উত্তর দিন আমাকে।আর বউ বউ ভাব ধরার কি আছে আপনি তো আমাকে বিয়ে করেছেন আজ থেকে তো আমি আপনার বউ?”

সাদাফ বলল ,”ও তাই তো ভুলে গিয়েছি আজকে তো আমাদের বিয়ে হয়েছে ।তুই তো আমার বউ ।আচ্ছা শোন আজকে কিন্তু আমাদের বাসর রাত মনে আছে তোর?”

নূর এবার অবাক হয়ে গেল এত সিরিয়াস কথার মধ্যে সাদাফ ভাই বাসর রাতের কথা বলছে ?নুর বলল ,”মানে কি বলছেন আপনি?”

“তুই কি এত ছোট নুর যে আজ বিয়ে হয়েছে আজ যে আমাদের বাসর রাত এটাও জানিস না ?আচ্ছা শোন বাসর কি বুঝিস?”বললো সাদাফ।

নুর রাগ করে বলল ,”না বুঝি না ।”সাদাফ বললো,” আচ্ছা ঠিক আছে মনোযোগ দিয়ে শোন বাসর কি তোকে আমি বুঝিয়ে দিচ্ছি।”

নূর বলল ,”না লাগবে না আমার বাসর কি বুঝার। আপনি বাসায় কখন আসবেন?”

সাদাফ মুচকি হাসলো ।নূরের ওর উপরে অধিকার খাটানো খুব ভালো লাগছে । পার্কের বেঞ্চিতে বসে মাথাটা এলিয়ে দিয়ে চোখ বন্ধ করে বলল ,”যেদিন বাসায় আসব সেদিন আমাদের বাসর হবে নূর। মনে আছে তো তোকে বলেছিলাম তুই অফ হোয়াইট কালারের একটি রয়েল শাড়ি পরবি খোপায় দিবি কাঠগোলাপ গলায় পড়বি বেলি ফুলের মালা ।তোর সর্বাঙ্গ থেকে আমি বেলি ফুলের সুঘ্রান নেব।”

নুর সাথে সাথে লজ্জায় চোখ বন্ধ করে ফেলল ।জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগল নূর ।ফোনের মধ্যে শুধু এতোটুকুই বলল ,”প্লিজ থামুন।”

চলবে……………

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply