Golpo romantic golpo সুখময় যন্ত্রণা তুমি

সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৪


সুখময়_যন্ত্রনা_তুমি

neelarahman

পর্ব_৮৪

দরজায় নূরের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে সাদাফ। সবার দৃষ্টি দরজার দিকে কেউ যেন নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না ।সাদাফ নুরের হাত যেভাবে ধরে আছে আর নূর শাড়ি পরা হিসাব কেউ মিলাতে পারছে না কিন্তু মনে মনে হয়তো উত্তরটা সবারই জানা ।সবাই বোকা হয়ে গেল কি বলবে কি করবে কিছুই বুঝতে পারছে না।

ফজলুর রহমান রাগত দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন সাদাফের দিকে ।সাদাফ মাথা নিচু করে আছে আজকে হয়তো মাথা উঁচু করে বলবার কিছুই নেই ।মানুষকে সবসময় দুইটা রাস্তার মধ্যে যে কোন একটা বেছে নিতে হয় হয় আত্মসম্মান অথবা ভালোবাসা ।সাদাফ ভালবাসাকে বেছে নিয়েছে।আত্মসম্মান আজ চুলায় যাক কিছু যায় আসে না।

ফজলুর রহমান ধীরে ধীরে সোফা থেকে উঠে এক কদম দু কদম করে এগিয়ে এলেন সাদাফ এর কাছে ।সাদাফের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”কেন করলে এটা ?একবারও কি আমাদের কথা চিন্তা করলে না ?আমরা তোমার বাবা চাচারা বেঁচে আছি। নীলা রহমান লেখিকা

সেটা চিন্তা করলে না ?আমাদের পরিবার আছে সমাজ আছে সবাইকে কি জবাব দিবো কি ?এমন বাধ্যতা হয়েছিল যার জন্য এভাবে চুপিচুপি বিয়ে করতে হলো ?মানুষ দশ কথা বলবে একই বাড়িতে থাকো তোমরা কত ধরনের আঙুল উঠবে তোমাদের উপরে বুঝতে পারছ ?আমাদের লালন পালনের উপরে আমাদের উপরে সবাই আঙ্গুল তুলে বলবে ছেলেমেয়েদের আমরা মানুষ করতে পারিনি ।কেন করলে এরকম?”

নুর ভ*য়ে কাচুমাচু হয়ে শক্ত হয়ে ধরল সাদাফের হাত ।ফজলুর রহমান তাকালো নুরের দিকে ।জানে মেয়েটা বোকা সোকা।হয়তো সাদাফ বলেছে বা কোন ভাবে জোর করেছে তাই বিয়ের জন্য রাজি হয়ে গেছে নুর।ভালোবাসে সাদাফ কে।জানে ফজলুর রহমান।কিন্তু নূরকে এখন কি বলবে ওকে কিছু বলেও তো লাভ নেই। কিছু বললে ভে ভে করে কাঁদবে।

সবচেয়ে বুদ্ধিমান তো ছিল সাদাফ।সাদাফ কেন এরকম একটি বোকামি করল ভাবছে ফজলুর রহমান।আবার চোখ ঘুরে তাকালো সাদাফের দিকে তারপর বলল ,”জবাব দিচ্ছ না কেন ?সাদাফ ধীরে ধীরে মাথা তুলে তাকালো ফজলুর রহমানের দিকে ।মাত্র মুখ খুলল ,”বাবা আমি ………..আর বলে শেষ করতে পারল না সাদাফ।বামদিক থেকে জোরে একটি থাপ্পরে ঠাস শব্দ শুনতে পেল সবাই।

সাদাফ অবাক হয়ে গালে হাত দিয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো বাম দিকে ।আর কেউ না থাপ্পড়টা মেরেছে হুমায়ূন রহমান ।আকাশ থেকে পড়ল সাদাফ।নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না হুমায়র রহমান সাদাফের বাবা মে*রেছে সাদাফ কে।মা বা ছোট বাবা মা*রলেও বুঝতে পারত।

নওরিন আফরোজ সামিহা বেগমের কলিজাটা কেঁ*পে উঠল থা*প্পরের শব্দে সাথে সাথে চোখ বন্ধ করে ফেলল।

নূর সাথে সাথে ভয়ে জোরে কান্না করে দিল ।আরও শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরল সাদাফের হাত ।নুর ঠকঠক করে কাঁ*পছে সাদাফ বুঝতে পারছে নূর ভয় পেয়েছে তাই নুরের হাত শক্ত করে ধরে বাবার দিকে তাকিয়ে বলল,” আমি জানি আমি অন্যায় করেছি কিন্তু যা বলার যা করার একা আমার সাথে কথা বলো এখানে নূর আছে ও ভয় পাচ্ছে।”নীলা রহমান

হুমায়ূন রহমানের যেন টনক রইল আসলেই নূর ভ*য়ে কাঁ*পছে আর কান্না করছে ।নুর এমনিও একটু নরম মনের এসব কিছু সহ্য করতে পারে না তার উপর সাদাফের সাথে বিয়ে হয়েছে সেই সাদাফ কে এখন বাবার হাতে মা*র খেতে দেখছে নিশ্চয়ই ভ*য় কেঁ*পে উঠছে মেয়েটি।

হুমায়ূন রহমান নওরিন আফরোজ এর দিকে তাকিয়ে বললেন ,”তোমরা ওইখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন মূর্খের মতো?নুর কে ভিতরে নিয়ে যাও দেখতে পাচ্ছ না মেয়েটি কান্না করছে?”

নওরিন আফরোজ এগিয়ে এসে নূরের হাত ধরলে নূর সাদাফের হাত শক্ত করে চেপে ধরে রইল ।নূরের বারবার কেন যেন মনে হচ্ছে এখন ছেড়ে দিলে সাদাফ কোথাও চলে যাবে ।দেখতে পারবে না নূর সাদাফ কে।তাই কোনভাবেই সাদাফের হাত ছাড়ছে না নুর।

রিমা এগিয়ে আসলো এসে কানে কানে বলল ,”ছেড়ে দে নুর ভিতরে চল ভাইয়া বাবাদের সাথে কথা বলবে চল।”

সাদাফ ও নুর কে বোঝাচ্ছে ।বলছে,””নুর ভিতরে যা ।হাত ছাড় আমি কথা বলছি এখানে ।”নূর কোন কথা বলছে ও না শুনছেও না ।চোখ দিয়ে শুধু পানি পড়ছে আর শক্ত করে হাত ধরে রেখেছে সাদাফের। নূরের কোমল মন বলছে এখান থেকে গেলে খারাপ কিছু একটা হয়ে যাবে তাই নুর সাদাফ কে ছাড়তে চাইছিল না।

নুর জানে নুর এখন এখান থেকে চলে গেলে বড় বাবা হয়তো সাদাফকে আবার মা*রবে ।তাই বড় বাবার দিকে তাকিয়ে নূর বলল ,”সাদাফ ভাইয়াকে মে*রো না বাবা প্লিজ সাদাফ ভাইয়ার কোন দোষ নেই ।প্লিজ সাদাফ ভাইয়াকে আর মে*রো না ।”বলেই কান্না করে দিল নুর ।

হুমায়ন রহমানের মনটা যেন গলে গেল নূরের কান্না দেখে ।নুরের মাথায় হাত রেখে বলল ,”ঠিক আছে মা*রবো না মা প্লিজ তুমি উপরে যাও এখানে বড়রা কথা বলছি কিছু হবে না যাও।”

নুর মাথা নাড়িয়ে না বুঝালে ফজলুর রহমান জোরে একটি ধমক লাগিয়ে দিলেন নূরকে ।বললেন ,”এক্ষুনি উপরে যাও বলছি না হলে খুব খারাপ হয়ে যাবে নূর ।”সাথে সাথে ভ*য় পেয়ে গেলো নুর। বুকটা ধক করে উঠলো ।কেঁ*পে উঠল ছোট্ট দেহটি ।সাথে সাথে নূর মাথা নিচু করে ফেলল ।সাদাফ ফজলুর রহমানের দিকে তাকালেন তাকিয়ে মাথা নিচু করে নূরের দিকে ঝুঁকে বললো,” নুর উপরে যা ।কিছু হবে না ।আমি প্রমিস করছি যা। আমার কথা বিশ্বাস করিস না ? কিচ্ছু হবে না সত্যি করে বলছি ।তুই উপরে যা একটু পর তুই আমাকে দেখতে পাবি।”

নূর খা*মচে ধরে আছে সাদাফের হাত ।সাদাফ বুঝতে পারছে নূর ভীষণ ভ*য় পাচ্ছে ।সাদাফ কোথাও চলে যাবে সেই ভ*য় পাচ্ছে তাই ছাড়তে চাচ্ছে না।

সাদাফ নুরের কানের কাছে ঝুকে আবার বলল ,”প্রমিস করেছিলি মনে নেই ?আমার কথা শুনবি নিজের খেয়াল রাখবি ।উপরে যা উপরে গিয়ে শাড়ি চেঞ্জ কর ফ্রেশ হ এখানে আমি কথা বলছি প্লিজ সোনা পাখি যা উপরে।”

নূর এবার সাদাফের কথা মানলো ।সাদাফের দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে একবার তাকালো সাদাফের চোখের দিকে ।সাদাফ চোখ দিয়ে ইশারা করলো উপরে যাওয়ার জন্য ।নুরের আকুল আবেদন সাদাফ চোখ দেখে বুঝতে পারছে ।যেন বলতে চাচ্ছে ,”কোথাও যাবেন না আপনি এখানেই থাকবেন আমি যেন আপনাকে দেখতে পারি।”

সাদাফ চোখ দিয়ে ইশারা করল ।নূর ধীরে ধীরে সাদাফের হাতটা ছেড়ে রিমার সাথে উপরে চলে গেল । নওরিন আফরোজ তাকালো হুমায়ূন রহমানের দিকে ।

তারপর বললেন ,”এত বড় একটা ছেলে গায়ে হাত তুলেন কেন ?কথা ও তো বলা যেত।”

এবার সাহস করে সামিহা বেগম ও এগিয়ে এলেন সাদাফের পাশে ।দাঁড়িয়ে বললেন ,”না হয় ছেলেমেয়েরা একটা ভুল করে ফেলেছে তাই বলে সবার সামনে ছেলেটাকে এভাবে মারবেন ?আর এখন ভুলে যাবেন না ও শুধু আপনাদের ছেলে না নূরের স্বামী ও হয় ।নূরের সামনে ওকে কেন মারলেন?কোন স্ত্রীর সামনে স্বামীর গায়ে হাত তুললে কেমন লাগে তা আপনারা কখোনো বুঝবেন না।”

ফজলুর রহমান অবাক হয়ে তাকালেন সামিহা বেগমের দিকে ।বললেন ,”স্বামী ?নূরের স্বামী ?”

সামিহা বেগম বললেন ,”আপনি কি দেখেননি ওরা বিয়ে করে বাসায় এসেছে ?তাহলে আপনি কেন মানছেন না ?সত্যিটা কি না মানলে মিথ্যা হয়ে যাবে?”

নওরিন আফরোজ হুমায়ূন রহমানের দিকে তাকিয়ে বলল ,”আমি কতবার বলেছি আপনাদের ওদের দুজনের বিয়ে দিয়ে দিন আপনি কেন আমার কথা শোনেননি ?এখন তো বুঝতে পারলেন নূর সাদাফ কে ভালবাসে ।আর সাদাফ যে ভালোবাসে সেটা তো আপনি সবসময় বুঝতে পারতেন ।আপনি যে ওর বাবা ।সব চাইতে কাছের ওর।আপনি ওর কোন গোপন কথা জানেন না এটা তো আমি বিশ্বাস করি না।মা হয়ে আমি কখোনো ছেলের মনের কথা জানতে পারিনি।আপনি পেরেছেন।কি লাভ হলো জেনে?”

হুমায়ুনের রহমানের মনের ভিতর যেন ঝড় বয়ে যাচ্ছে ।জীবনের প্রথম ছেলের গায়ে হাত তুলেছে ইচ্ছে করছে নিজের হাতটা নিজেই থে*তলে ফেলতে ।তারপরও ছেলের দিকে তাকিয়ে বলল ,”যদি আগে শাস্তি টা দেওয়া যেত তাহলে হয়তো এই ভুল করার সাহস পেত না ।যেখানে বাবারা জীবিত আছে ওর একটা পরিবার আছে সমাজ আছে নুর না হয় ছোট ওর কথা রাজি হয়ে গিয়েছে কিন্তু ও কি বুঝলো না সমাজে মানুষকে কি জবাব দিব ?এক বাড়িতে থাকি আমরা মানুষ নানান কথা বলবে ।বলবে রাতারাতি এমনকি হয়ে গেল কাউকে কিছু না জানিয়ে বিয়ে হয়ে গেল?”

সাদাফ বাবার দিকে তাকিয়ে বলল ,”আমি এত সমাজের ধার ধারি না ।আমি নুরকে ভালোবাসি তাই নূরকে বিয়ে করেছি ।আর তোমাদের সাথে আমার কথা হয়েছিল যেদিন নূর নিজে থেকে বলবে ও আমাকে চায় ভালবাসে সেদিন তোমরা মেনে নিবেন ।আজকে নিশ্চয়ই প্রমাণ পেয়েছো নুর আমাকে ভালবাসে তাহলে মেনে নিচ্ছো না কেন?”

হুমায়ূন রহমান সাদাফের দিকে তাকিয়ে বলল ,”চুপ কর বেয়াদব ।আবার বাবাদের মুখে মুখে তর্ক করছো মেনে নেই নি ?তুমি কি কখনো বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছো নুর কখনো এসে বলেছে ?বলেনি। আর একই বাড়িতে তো ছিলাম কোথাও তো চলে যাচ্ছিলাম না বা নুর কোন কথা বিয়ে দিয়ে দিচ্ছিলাম না এত তাড়াহুড়ার কি ছিল তোমার?”

“ছিল তাড়াহুড়ার অনেক কিছু ।আমি পৃথিবীর সবকিছু নিয়ে রিস্ক নিতে পারি কিন্তু নুরকে নিয়ে না ।যেভাবে তোমরা দুজন আমার সাথে লুকোচুরি খেলছিলে আমার সহ্য হচ্ছিল না ।নুর শুরু থেকেই আমার তোমরা দুজনই জানতে বাড়ির আর কেউ না জানুক তারপরও তোমরা কেন মেনে নিচ্ছো না?”

ফজলুর রহমানের দিকে তাকিয়ে সাদাফ বললো,”আর বাবা তুমি নিশ্চয়ই ভুলে যাও নি ছোটবেলায় তুমি নুরকে আমার হাতে তুলে দিয়ে কসম করে বলে ছিলে নূর আজ থেকে আমার ?তো সেদিন থেকে নূর আমার হয়ে গিয়েছে এখন নূরের উপর তোমাদের চেয়ে আমার অধিকার বেশি।”

ফজলুর রহমান অবাক হয়ে তাকালেন সাদাফের দিকে ।তারপর বলল ,”অধিকার ফলাবি অধিকার ?বাসায় রাখবো না নূরের কাছেই রাখবো না তুই অধিকার কি দিয়ে ফলাবি ?কোথায় নিয়ে রাখবি নুর কে? রোজগার করেছিস ?বাড়ি ঘর আছে ?কোথায় নিয়ে রাখবি নিজেই তো থাকার কথা তাই হবে না।

যা আগে বাপ চাচার ছায়া থেকে বের হয়ে নিজে কিছু করে দেখা ।নিজে নুরকে নিয়ে রাখবি এমন একটা বাড়ি করে দেখা তারপর নূরের কথা চিন্তা করিস। নীলা রহমান

এতদিন তোর বাবা হয়ে ভেবেছি আজকে আমি নুরের বাবা হয়ে ভাবছি ।আমার মেয়েকে আমি এমন কোন ছেলের হাতেই দিব যাকে আমি ভরসা করতে পারি ।যা বাবার ভরসা যোগানোর চেষ্টা কর।

যেদিন তোর উপর আমি ভরসা করে নুরের হাত তুলে দিতে পারব সেদিন তুই নূরকে পাবি ।নুর সে পর্যন্ত আমাদের বাড়িতেই থাকবে।”

হুমায়ূন রহমান চোখ দুটো বন্ধ করে মাথা নিচু করে রইলেন।

সাদাফ জানতো এমন কোন কথাই আসবে বাবাদের মুখ থেকে ।সেজন্য আগে থেকে নূরকে প্রমিস করিয়ে রেখেছে যা বলবে তা যেন নুর শোনে ।নিজের যেন যত্ন নেয় ।সাদাফ আগে থেকেই প্রিপেয়ার ছিল ।এই সিদ্ধান্তের জন্য।

সাদাফ মুচকি হেসে বলল ,”আমি জানতাম সিদ্ধান্ত এমনই আসবে ।আমি ও তার জন্য প্রস্তুত ।তোমাদের যে কোন শাস্তি মেনে নিতে প্রস্তুত তবে আজকে থেকে নুর শুধু আমার ।শুধু নূর কেন সারা দুনিয়া এখন থেকে জানবে নুর শুধু আমার ।বাকিটা আমি সামলে নেব যা যা করতে বলেছ সব করব নিজের পায়ে দাঁড়াবো ।নিজে এমন একটা জায়গা তৈরি করব যেখানে আমি তোমাদের কাছ থেকে নূরকে নিয়ে রাখতে পারি।”

কথাগুলো বলেই হুমায়ূন রহমানের দিকে তাকালো সাদাফ তাকিয়ে বলল ,”নূরের খেয়াল রেখো ।আমি যাওয়ার পর নূর অনেক কান্নাকাটি করবে খেতে চাইবে না শরীরের অযত্ন করবে অসুস্থ হয়ে যাবে ।তোমাদের হাতে আমি নূরকে তুলে দিয়ে গেলাম ভুলে যেওনা নুর আজ থেকে শুধু আমার আমানত তোমাদের কাছে।”

নওরিন আফরোজ সাথে সাথে বলল ,”পাগ*ল হয়ে গিয়েছিস তুই ?তোর বাবারা বলল আর তুই বের হয়ে যাবি? তোর অধিকার নেই বাড়িতে ?আমাদের অধিকার নেই ?তুই এখানে থাকবি কোথাও যাবি না ।”

সামিহা সাথে সাথে ফজলুর রহমানের দিকে তাকিয়ে বললেন ,”কি বলছেন আপনি ?পা*গল হয়ে গেছেন ?কোথায় যাবে আমাদের ছেলে?”

ফজলুর রহমানের বুকটা যেন ফে*টে যাচ্ছিল ।দুমড়ে মুচড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছিলেন ।তবুও মুখে কাঠিন্যতা বজায় রেখে বললেন ,”ওকে যেতে দাও ।ও অনেক বড় হয়েছে ওরটা ওকে বুঝতে দাও ।ওর যেহেতু বাপ চাচাদের প্রয়োজন নেই ওকে ওর সিদ্ধান্ত নিজেকে নিতে দাও। ওকে প্রমাণ করে দিতে দাও আমার মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার মতো উপযুক্ত হয়েছে কিনা ।যেদিন আমার বিশ্বাস হবে হ্যাঁ উপযুক্ত হয়েছে সেদিন আমি নিজে আমার মেয়ের হাত ওর হাতে তুলে দিব এর আগে যেন আমার মেয়ের কাছে না আসে।”

সাদাফ পিছনে তাকিয়ে বলল ,”নুরকে পাওয়ার জন্য আমার কাউকে কিছু প্রমাণ করা প্রয়োজন নেই ।আমি নূরকে পেয়ে গেছি বাকি রইলো নূরের ভবিষ্যতে কথা । সেইটা চিন্তা করে নুরকে আমি একটা সুন্দর জীবন দিতে পারব কিনা সেটা আমি অবশ্যই প্রমাণ করে দেখাবো।”

বলেই উপরের দিকে তাকালো সাদাফ। সায়মন সাদাফের হাত ধরে বলল ,”ভাইয়া পাগ*লামি করো না কিছুক্ষণ পর সব ঠিক হয়ে যাবে ।পা*গলামি করে বাইরে বের হয়ে চলে যেও না প্লিজ।”

সাদাফ সাইমন এর হাতে হাত রেখে বলল ,”নুরকে রেখে গেলাম দেখে রাখিস ।সব সময় ওর মন ভালো রাখার চেষ্টা করিস জানি ও তোর ছোট বোন তারপরও ওকে একটু সময় দিস।”

সামিহা বেগমের দিকে তাকিয়ে সাদাফ বললো ,”নূরের সাথে কোন জোড়াজুড়ি করো না আম্মু ।তবে ওর খাওয়ার দিকে নজর রেখো ও নিজের যত্ন নেবে না ও যেন নিজের যত্ন নেয় ওকে ভালো রাখার চেষ্টা কর।”

বলেই আরেকবার উপরের দিকে তাকালো ।সাদাফের খুব ইচ্ছা হচ্ছিল যাওয়ার আগে নূরের সাথে একবার কথা বলে যেতে কিন্তু এই মুহূর্তে নুরকে দেখলে আর সাদাফের যাওয়া হবে না ।সম্ভব হবে না নূরকে রেখে পিছনে এখান থেকে চলে যাওয়া তাই সাদাফ আর কারো সাথে কোন কথা না বলে চুপচাপ বাড়ি থেকে বের হয়ে গেল। বের হয়ে যাওয়ার সময় মনে মনে ভাবলো আমাকে ক্ষমা করে দিস নূর ।আজ চলে যাচ্ছি।কিন্তু যেদিন আসবো তোর জন্য এক আকাশ ভরা সুখ আমি দুহাতের মুঠোয় করে নিয়ে আসবো। অপেক্ষা করিস আমার জন্য।

চলবে__________

Neela Rahman

অনেক বড় করে লিখলাম তারপরও সেই রোমান্স পর্যন্ত যেতে পারলাম না রাতে পাবেন ইনশাল্লাহ।

অনেক বড় করে লিখেছি কষ্ট হয়েছে বেশি বেশি রেসপন্স করবেন বেশি বেশি কমেন্টস করবেন।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply