সুখময়_যন্ত্রনা_তুমি
পর্ব_৮৩
neela_rahman
খাওয়া দাওয়া পর্ব শেষ হলে কেয়ারটেকার কে গাড়ি বের করতে বলল সাদাফ। বললো,” তোমরা যাও ।আমি আসছি ।”
বলেই রুমে পর্দা টেনে নূরের দিকে তাকিয়ে দেখল নুর চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ।সাদাফ বুঝতে পারছে নূরের খুব টেনশন হচ্ছে ।মন খারাপ হচ্ছে ।এভাবে আসলে কোন মেয়ে বিয়ে করতে চায় না কিন্তু সাদাফের ও যে কিছু করার নেই। নীলা রহমান
নূরের দিকে তাকিয়ে বলল ,”এদিকে আয় নুর ।”
সাদাফের দিকে মাথা তুলে তাকাল নুর।বললো ,”কেন ?”বলে সাদাফের দিকে তাকিয়ে আছে নুর।এখন এই লোকটা ওর স্বামী।ভাবতেই ভয় লাগছে নুরের।
সাদাফ বললো ,”এদিকে আয় নুর কাছে আয় একটু।”
নুর বললো ,”কেন কি হয়েছে?”
সাদাফ বুঝতে পারল নুর ভয়* পাচ্ছে ।আজকে বিয়ে হয়েছে আজকে সাদাফ এভাবে কাছে ডাকছে রুমে কেউ নেই তাই ভয় পাচ্ছে বোকা নুর।সাদাফ মুচকি হেসে বলল ,”আজকে আমাদের বিয়ে হয়েছে তোকে গিফট দিব । সত্যি বলছি কাছে আয়।”
নুর সাথে সাথে একটু এগিয়ে এসে হাত পেতে বলল ,”কই দিন।কি এনেছেন আমার জন্য?”
সাদাফ নুরের দিকে তাকিয়ে মনে মনে হাসলো আর বলল ,”বেক্কল মহিলা কবে যে বড় হবে ?এদিকে আমি গিফট কোথায় পাবো ?”
সাদাফ এক পা দু পা করে এগিয়ে এসে খপ করে নূরে হাতটা ধরল ।ধরেই সাথে সাথে হেচকা টানে নিজের বুকে নিয়ে নুরের চুল গুলো পিছন থেকে মুঠো করে ধরে বলল ,”এই গিফ্ট হাতে দেওয়া যাবে না অন্য কোথাও দিতে হয় ।”
বলে সাথে সাথে নূরের ঠোঁটে ঠোঁট মিশিয়ে দিল সাদাফ।নুর অবাক হয়ে গেলো।নুর উম উম শব্দ করছে আর ছোটার জন্য এলোপাতাড়ি হ হাত চালাচ্ছে। কিন্ত কোন লাভ হলো না।কিছুক্ষণ পর নুরের ঠোঁট ছেড়ে সাদাফ হাত দিয়ে নূরে ঠোঁট মুছতে মুছতে বলল ,”সামনে কি হবে জানিনা নুর।একটু আমার বুকে থাক।বেশি না একটু।”
বলেই নূরের মাথাটা সাদাফ নিজের বুকে নিয়ে নুরের চুলে হাত বোলাতে বোলাতে বলল,”তবে তোর জন্য শুধু এতোটুকু জরুরী জানা যে আমি এই দুনিয়ায় সব থেকে বেশি তোকে ভালবাসি ।তোকে ছাড়া দুই নয়নে আমি কিছুই দেখি না ।
তোকে ছাড়া আমার দুনিয়া অন্ধকার।
যত বিপদ আসুক যত ঝড় আসুক সব আমি মোকাবেলা করব তুই শুধু আমার হয়ে থাকিস নূর ।আমার আর কিছু প্রয়োজন নেই সবকিছু আমি দেখে নিব ।আর একটা প্রমিস কর আমাকে।”
নুরের খুব কান্না পাচ্ছে সাদাফের কথা শুনে।এমনি এভাবে কাওকে না বলে বিয়ে করায় মন খারাপ ছিলো নুরের।নূর আমতা আমতা করে বলল ,”কি প্রমিজ ?”
সাদাফ নুরের মাথার এলোমেলো চুলগুলো গুছিয়ে দিতে দিতে মাথায় টু*মু খেয়ে বলল ,”নিজের যত্ন নিবি সবসময় ।খাওয়া দাওয়া করবি ঠিকমতো। নীলা রহমান
আমার কথা চিন্তা করবি কিন্তু সারাক্ষণ আমার কথা চিন্তা করে অন্য কোন কিছু নষ্ট করা যাবে না ।মনে থাকবে ?মন খারাপ করে বসে থাকবি না কোন কিছুই হলে।বল প্রমিজ?”
“আপনি এভাবে বলছেন কেন সাদাফ ভাই ?” জানতে চাইলো নুর।
সাদাফ সাথে সাথে তাকালো নুরের দিকে ।তাকিয়ে বলল ,”এখনো ভাই ?আজকে একটু আগেই না তিন কবুল বলে বিয়ে করলি ?এখন তোর স্বামী হই গাধি ভাই বলে কেউ সম্বোধন করে? নাকি ঠিক করে রেখেছিস তোর ছেলে মেয়ের মামা বলে ডাকাবি আমাকে?”
নুর লজ্জা পেয়ে গেল ।সাথে সাথে মাথাটা গুটিয়ে যেন সাদাফের বুকে ভিতরে ঢুকিয়ে দিল ।সাদাফ মুচকি হেসে মাথায় আবার হাত বোলাতে বোলাতে বলল ,”বল প্রমিস করেছিস ?”
নূর বলল ,”আপনি এভাবে বলছেন কেন ?আমার কিন্তু খারাপ লাগছে।”
সাদাফ নিজের ডান হাতটা নুরের মুখের সামনে ধরে বলল ,”প্রমিস করে বল নূর যা বলেছি তা করবি। না হলে কিন্তু আমি তোর সাথে কথা বলবো না সত্যি করে বলছি ।তাই এখন প্রমিস কর।”
নূর সাদাফের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল ।তারপর হাতে হাত রেখে প্রমিজ করে বলল ,”ঠিক আছে প্রমিস করে বলছি আমি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করব ।নিজের যত্ন নিব ।কিন্তু আপনি এভাবে কথা বলছেন কেন ?আমরা তো এখন বাসায় যাচ্ছি তাই না ?আমরা তো এক বাসায় থাকবো ।আপনি তো সবসময় আমাকে দেখতে পারবেন। আমি ঠিকমত না খেলে নিজের যত্ন না নিলে আপনি তো সাথে সাথে আমাকে বলতে পারবেন ।এখনই প্রমিস করতে হবে কেন?”
সাদাফ তাকিয়ে রইল নূরের দিকে ।বোকা নুর কি জানে সামনে কি অপেক্ষা করছে ?সাদাফ যে প্রস্তুত সবকিছু মোকাবেলা করার জন্য ।একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে নুরের কপালে একটি চু*মু খেয়ে বললো,” চল অনেক দেরি হয়ে গেছে ।বাড়িতে যাই ।তোর বাপ চাচারা নিশ্চয় দা ব*টি নিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছে।”
কথাটা শুনে সত্যি সত্যি নূরের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠল ।বাবা বড় বাবা কি বলবে যদি শুনে বিয়ে করে ফেলেছি ?ভ*য়ে ভ*য়ে সাদাফের হাত ধরে বলল ,”আমার কিন্তু ভীষণ ভয় করছে ।বড় বাবা আর বাবাকে কিন্তু আপনি বলবেন আমি কিন্তু কিছু বলতে পারব না।”
বাসায় ফিরতে ফিরতে বেজে গেল রাত আটটা ।গাড়ির শব্দ হতেই সামিহা বেগম দৌড়ে গেলেন দরজা কাছে ।পিছনে ছুট লাগালে নওরিন আফরোজ ।কেন যেন আজ ভীষণ ভয় করছে কখনো এরকম করেনি ছেলে মেয়ে দুটো ।কোথায় চলে গিয়েছিল সারাদিনের জন্য ?
এদিকে ফজলুর রহমান আর হুমায়ুন রহমান চিন্তায় চুপচাপ বসে আছে ।ফজলুর রহমান ভীষণ রাগ করেছে কারো সাথে কোন কথা বলছে না ।দেখেই বুঝা যাচ্ছে চরম রেগে আছেন তিনি ।
এদিকে সায়মন ও রিমা বারবার পায়চারি করছিল কখন আসবে ভাইয়া ?এর মধ্যে কয়েকবার ফোন দিয়েছে সাদাফ ফোন ধরেনি।
সামিহা বেগম ও নওরিন আফরোজ দরজার কাছে পর্যন্ত আসতেই পা দুটো থেমে গেল ।দেখলেন নূর একটি লাল টুকটুকে তাঁতের শাড়ি পরা ।সাদাফ নুরের হাত ধরে আছে ।সাদাফ নুর কে হাত ধরে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসছে দৃশ্যটি দেখে যেন বুক কেঁপে উঠল সামিহা বেগমের সাথে নওরিন আফরোজ এর। নীলা রহমান
স্কুল ড্রেসে বাসা থেকে গিয়েছিল আসার সময় শাড়ি পরা কেন কেমন যেন লাগছে ।দেখে মনে হচ্ছে সদ্য বিয়ে করা স্বামী-স্ত্রী হাত ধরে বাড়িতে প্রবেশ করছে।
নওরিন আফরোজ সামিহা বেগম একজন আরেকজনের দিকে তাকালেন ।এমন নয় বিয়েতে তারা রাজি নয় কিন্তু চিন্তা করছে ফজলুর রহমান কি বলবেন যখন এই দৃশ্য দেখবেন ?
সাথে সাথে পিছনে ফিরে তাকালেন তাদের দিকে ।সামিহা বেগমের দৃষ্টি দেখে ফজলুর রহমান বুঝতে পারলেন সাদাফ এবং নূর এসেছে।
দরজার দিকে তাকাতেই দৃশ্যটি দেখে হাত পা জমে গেল ফজলুর রহমানের ।সাথে ভয়ে জমে গেলেন হুমায়ূন রহমান ।এখন কি হবে কারণ সামনে সাদাফ হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে নূরের ।নূর লাল টুকটুকে শাড়ি পরা দেখে বুঝা যাচ্ছে সদ্য বিয়ে করা স্বামী-স্ত্রী বাসায় ফিরেছে।
ফজলুর রহমানকে দেখে যেন কিছুই আচ করা যাচ্ছে না ।বোঝা যাচ্ছে না প্রতিক্রিয়া।একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল দরজার দিকে ফজলুর রহমান। হুমায়ুন রহমান ঘাড় ঘুরিয়ে শুধু ফজলুর রহমানের দিকে একবার তাকালেন।
চলবে________
Neela Rahman
রিয়েকশন কম কম আসলে গল্প লেখা কম করে দিব।
Share On:
TAGS: নীলা রহমান, সুখময় যন্ত্রণা তুমি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৪
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৫২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ১৭+১৮+১৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৮৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৩৯
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ২৯+৩০
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৩৫+৩৬
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ২
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৭৩
-
সুখময় যন্ত্রণা তুমি পর্ব ৬৩