সীমান্তরেখা পর্ব ২৬
লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক
পর্ব_২৬
[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।]
মেজবাহ’র হাতটা ছাড়লো না আকসা। আরো শক্ত করে চেপে ধরলো। ঠোঁট নাড়িয়ে বিরবির করে বললো, “আপনি না থাকলে আজ আমি মরে-ই যেতাম!”
মেজবাহ ফিচেল হাসে ওর কথা শুনে। মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে নিচু স্বরে বলে, “আমি থাকতে তোমার কিছু হবে? হতে দেবো ভেবেছো?”
বাক্যদ্বয় আকসার কর্ণকুহরে প্রবেশ করে মস্তিষ্কে প্রতিফলিত হতেই ওর ঠোঁটের কোণে বোধহয় ঘুমের ঘোরেই কিঞ্চিৎ হাসির রেখা ফুটে উঠলো বৈকি! ও মেজবাহ’র হাতটা আরো শক্ত করে চেপে ধরে বিরবির করলো— “আপনি কি আমাকে ছেড়ে যাবেন?”
“হু?”
মেজবাহ যেন জবাবটা ঠিকমতো শুনতে পায়নি। ওর মুখের কাছে কান এগিয়ে নিয়ে প্রশ্নের পিঠে প্রশ্ন করলো। আকসা জ্বরের ঘোরে থাকলেও মেজবাহ’র প্রতিটা কথা স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে যেন এক দৈবা শক্তিতে। ও মেজবাহ’র কথা শুনে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলো, “আপনি কি আমাকে ছেড়ে যাবেন?”
প্রশ্নটা করার পর থেকেই তিরতির করে ঠোঁট কাঁপতে লাগলো ওর। মেজবাহ স্পষ্ট প্রশ্নটা শুনেছে। ওর চাহনি আপাতত আকসার জ্বরে জর্জরিত কম্পমান ঠোঁট জোড়ার দিকে। ওই কম্পরত ঠোঁটজোড়া যেন ভীষণ তৃষ্ণার্ত। কোনো স্পর্শ পাওয়ার জন্য মুখর হয়ে আছে। মেজবাহ কালক্ষেপণ করলো না। আকসার আকাঙ্খা বুঝেই হয়তো তৎক্ষনাৎ এগিয়ে ওর ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ালো। আকসার প্রশ্নের জবাবে সংক্ষিপ্ত আকারে শুধু বললো, “কাউকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরলে তাকে সহজে ছেড়ে যাওয়া যায় না!”
ছোট্ট একটা কথা। তবু এই কথাটা জ্বরের ঘোরের মাঝেও আকসার মস্তিষ্কে বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো। শত, সহস্র জনম কেটে যাক, সম্পূর্ণরূপে স্মৃতিশক্তি হারাক; তবুও এই কথাটা ও কোনোদিন ভুলবে না বোধহয়।
আকসার জ্বরে কাবু কোমল হাতদু’টো ওর শার্টের কলার চেপে ধরে রেখেছে। মেজবাহ আর ওঠার চেষ্টা করলো না। আকসাকে ওভাবেই জড়িয়ে ধরে রেখে আধশোয়া হয়ে রইলো। একটানা একই অবস্থানে নড়চড়হীন থাকার কারণে পিঠে শিরদাঁড়ায় প্রচন্ড বিষব্যাথা নামলো। বোধহয় পরদিন সকালে উঠে মুভ ব্যবহার করতে হবে।
.
.
সকালে যখন আকসার ঘুম ভাঙলো, তখন ওর মাথা প্রচন্ড ভার। ঘুম থেকে উঠেই মাথায় হাত চেপে ধরে বসে রইলো। জ্বর বলতে, শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা আর ভেতরকার অসহ্য যন্ত্রণা আপাতত নেই। আকসা রাতের ঘটনা অতশত মনে করতে পারে না। তবে কিছু অতি দরকারি কথা মনে আছে ওর। এই কথাগুলো অবশ্য মনে থাকার-ই কথা। কোনোভাবেই ভোলার নয়। ও আশেপাশে দেখল। ঘরের কোথাও মেজবাহ নেই। ব্যালকনিতে উঁকি দিলো। সেখানেও লোকটার দেখা নেই।
এরমধ্যে দৃষ্টি দরজার দিকে ঘুরতেই দেখলো, মেজবাহ ঘরের ভেতরে প্রবেশ করছে। হাতে একটা ট্রে। তার ওপরে দু’টো কফির মগ এবং আরো কিছু ঠিকমতো দেখা যাচ্ছে না। ও মুখ উচিয়ে দেখার চেষ্টা করলো। তবে খুব বেশি কষ্ট করতে হলো না। ইতিমধ্যেই মেজবাহ কাছাকাছি এগিয়ে এসেছে। বিছানার ওপরে আকসার সামনে ট্রে-টা রেখে সামনে মুখোমুখি বসলো। ট্রে-তে কফির মগসহ স্যুপও রয়েছে। ভেজিটেবল স্যুপ। দেখেই অভক্তি হলো ওর। মুখ তুলে মেজবাহকে দেখলো। ওর পরনে ছাইরঙা স্যান্ডো-গেঞ্জি। শরীরের সাথে ফিট নয়। সামান্য ঢিলাঢালা। আকসা একধ্যানে দেখে। মেজবাহ’র হাতের পেশিবহুল বাহু ঘর্মাক্ত। ফোঁটা ফোঁটা ঘাম স্পষ্ট বোঝা যায়। নিশ্চয়ই ব্যায়াম সেরে এসেছে। মেজবাহ ওকে সেভাবে দেখলো না। কফির মগ হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, “খেয়ে নাও। মাথাব্যাথা কমে যাবে।”
আকসা চুপচাপ কফির মগে চুমুক দিলো। অর্ধেকের মতো খেয়ে রেখে দিতেই মেজবাহ ওর দিকে এবার স্যুপের বাটি এগিয়ে দিলো। সঙ্গে সঙ্গে আকসা একপ্রকার চিল্লিয়ে উঠলো। উদ্বিগ্ন, এলোমেলো গলায় বললো, “আমি খাবো না৷ ভেজিটেবল স্যুপ আমি খাই না৷ এটা নিয়ে যান প্লিজ!”
“খাবে না মানে? এটা তোমাকে খেতেই হবে।গতকাল রাতের জ্বরে শরীর একেবারে ছেড়ে দিয়েছে। এই স্যুপ খেলে শরীরে জোর পাবে।”
“না আমি খাবো না। ভেজিটেবল স্যুপ খেলে আমার বমি পায়।”
“বমি পাবে না। খেয়ে নাও।”
“না আমি খাবো না।”
আকসা এমনভাবে কথাটা বললো, যেন ও কোনোভাবেই এই স্যুপ খাবে না। এদিকে মেজবাহও চরম জেদি। এতো সহজে হাল ছাড়ার লোক নয়। ও আকসার গালে হাত রেখে চোখে চোখ রাখলো। মেজবাহ’র চোখে চোখ পরতেই আকসার এতোক্ষণের দৃঢ় ভঙ্গি ভঙ্গুর হলো যেন। চোখের পাতা কাঁপতে লাগলো। মেজবাহ নরম সুরে বললো,
“কিছু হবে না। স্যুপটা অনেক মজার। বেটার টেস্ট। ট্রাস্ট মি। খেয়ে দেখো।”
আকসা একপ্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়েই স্যুপ মুখে তুললো সামান্য। এক চামচ মুখে তুলতেই অমৃতের মতো ঠেকলো! এমন দারুণ ভেজিটেবল স্যুপ এর আগে কখনো খায়নি ও! বমিও পেল না এবার। বরং এতো ভালো লাগলো যে, জ্বর মুখে গপাগপ খেতে লাগলো। খাওয়ার মাঝে সামনে তাকাতেই দেখলো, মেজবাহ ওর দিকে একধ্যানে তাকিয়ে আছে। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি। আকসা কৌতূহলে জিজ্ঞাসা করলো, “স্যুপটা কে রান্না করেছে? আম্মা নাকি চাচি?”
“উঁহু। তারা না।”
“তাহলে কে?”
“কে আবার হবে? আমি!”
দাম্ভিকতার সহিত বলা জবাবটা শুনে স্বয়ংক্রিভাবে ভ্রু কুঁচকে গেল আকসার। একইসাথে মুখ হা হয়ে গেল। ভীষণ অবাক হয়েছে ও। মেজবাহ স্যুপ রান্না করতে পারে! তা-ও এত ভালো! ওর বিস্ময় দেখে মেজবাহ একইরকম দাম্ভিক হেঁসে বললো, “অবাক হওয়ার কিছু নেই। সিভিলিয়ান নই আমি। আর্মাড অফিসার। আর আমাদের প্রফেশনের মানুষদের৷ সবকিছু জানতে চায়৷ ইভেনচুয়ালি, আমি সব কাজ জানিও। রান্নাবান্না বা হাতের খেল বুঝলে! অবশ্য তোমার মতো ব্লাডি সিভিলিয়ান এটা বুঝবেও না!”
কটাক্ষটা আপাতত গায়ে মাখলো না আকসা। কিছু পুরুষ আসলে এমনই, হিউমিলিয়েট করা তাদের রক্তে মিশে আছে। মেজবাহও তাদেরই একজন। হঠাৎ আকসার কিছু একটা মনে পরতেই চট করে বললো, “একটা কথা জিজ্ঞাসা করি আপনাকে?”
“করো।”
“আপনি রাতে আমাকে একটা কথা বলেছিলেন।”
মেজবাহ সরু চোখে আকসার দিকে তাকায়। আকসা উপেক্ষা করে বলতে থাকে, “বলেছিলেন, ‘কাউকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরলে তাকে নাকি সহজে ছেড়ে যাওয়া যায় না।’ শক্ত করে আঁকড়ে ধরলে মানে? বুঝতে পারিনি আমি।”
“আমি কখন এসব কথা বললাম?”
“বলেননি? বলেছিলেন তো। আমার কাছে বসে। আর..”
“ভুল শুনেছো তুমি। কানে প্রবলেম আছে। ইমিডিয়েট ডাক্তার দেখানো জরুরি।”
“না, আমি ভুল শুনিনি। আপনি বলেছিলেন। আর আমাকে..”
“তোমাকে কী?”
মেজবাহ ভ্রু উঁচিয়ে প্রশ্ন করলো। আকসা ওর ওই চাহনি দেখে থেমে গিয়েও পরমুহূর্তে বেশ সাহস জড়ো করে বললো, “আমাকে চুমুও খেয়েছিলেন।”
“তাই নাকি? চুমু খেয়েছিলাম? তো আমার ঠোঁটের টেস্ট কেমন ছিল? হু?”
আকসা এপর্যায়ে এসে থমকে যায়। লজ্জা-দ্বিধা জড়ি হলি একরাশ। মেজবাহ এমন এমন কথা বলে, শুনলে কান গরম হয়ে যায়। ও নতমুখে জবাব দিলো, “সেটা তো মনে নেই।”
“তাহলে নিশ্চিত স্বপ্ন দেখেছো। অবশ্য এমন স্বপ্ন দেখা তোমার জন্য স্বাভাবিক-ই। এক্সুয়ালি বহু মেয়ে আমাদের মতো পার্সনদের চুমু খাওয়ার স্বপ্ন দেখে। আমি যদি ভুল না হই, তাহলে তাদের মধ্যে তুমি একজন। একারণেই হয়তো কল্পনার ইচ্ছাটা স্বপ্নের মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। একটা রিকোয়েস্ট, প্লিজ স্বপ্নে এসব কোরে আমাকে আর হ্যারাসমেন্ট কোরো না৷ আমারও তো একটা মান-ইজ্জত আছে নাকি!”
আকসা রীতিমতো অবাক। এই লোক কিভাবে কথা ঘুরিয়ে ফেলে! তাও এত কঠিন আত্মবিশ্বাস আর দাম্ভিকতার সহিত! যেন সত্যিই কিছুই হয়নি গতকাল রাতে। আকসার বলা প্রতিটা কথা মিথ্যা! অথচ আকসা স্পষ্ট শুনেছে মেজবাহ’র বলা কথাগুলো। এতোটা দুর্বল নয় ওর স্মৃতিশক্তি যে, জ্বরের ঘোরে থাকলেও ভুল শুনবে বা বিভ্রমে পরবে। ও আর কিছু বললো না। লোকটার সাথে তর্ক করাই বৃথা৷ কোনোকালে বোধহয় ডিবেট করতো খুব। এজন্যই আকসা কখনো জিততে পারে না তার সাথে। কথাটা মনে আসতেই জিজ্ঞাসা করে বসলো, “আচ্ছা মেজবাহ, আপনি কি ডিবেট করেছেন?”
“হ্যাঁ করেছি তো বহুবার। স্কুল প্লাস ক্যাডেট কলেজে থাকাকালীন প্রত্যেক ডিবেট কম্পিটিশনে অ্যাটেন্ড করতাম এবং আমাদের দলও ফার্স্ট হয়েছে সবসময়। মেডেলও পেয়েছি অনেক। সব আলমারিতে। দেখাবো তোমাকে একদিন।”
মেজবাহ উঠে গেল। আকসাকে উদ্দেশ্য করে বললো, “একটু রেস্ট নিয়ে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাও। দুপুরের খাবার খেয়ে বিকালে জেমি আপুর শ্বশুরবাড়ি যেতে হবে। দুলাভাইয়ের সাথে আলোচনা করা দরকার ট্যুরের বিষয়ে।”
আকসা বাধ্য মেয়ের মতো মাথা নাড়ালো। মেজবাহ ফোন টি-শার্ট গায়ে জড়িয়ে ফোন হাতে নিয়ে বের হলো ঘর থেকে। কোথাও যাবে বোধহয়। আকসা একবার জিজ্ঞাসা করতে চেয়েও করলো না।
.
.
দুপুরে খাবার টেবিলে সবাই উপস্থিত আজ। রিতু বেগমও৷ উপস্থিত আছেন আজ। ভাইয়ের সাথে তাদের গ্রামের জমিজমা নিয়ে দরকারি আলোচনা করার জন্য এসেছিলেন। এহসানুল হক তাকে জোর করে রেখে দিয়েছেন।
আকসা মেজবাহ’র পাশের চেয়ারে বসেছে। ইশা বেগম খাবার বেড়ে দিচ্ছেন। তিনি আগে বসতে রাজি নন। আকসা তার সাথে হাতে হাতে কাজ করতে চেয়েছিল। তবে জোর করে তিনি বৌমাকে ছেলের পাশে বসিয়ে দিয়েছেন। মেজবাহ ওর আব্বুর সাথে টুকটাক আলোচনা করছে ট্যুরে যাওয়ার বিষয় নিয়ে। এই ট্যুরে কে কে যাবে, সেটা নিয়ে কথাবার্তা হচ্ছে। খুবই জরুরি আলোচনা। আকসা একবার ওর মুখের দিকে তাকিয়ে গম্ভীর ভাব দেখেই বুঝে গেছে। প্লেটে খাবার বেড়ে দেওয়ার পর সবাই খাওয়া শুরু করেছে সবে। ইশা বেগম ওপাশ থেকে সরে এসে আকসার পাশে দাঁড়ালেন। ও বেগুন ভাজা দিয়ে অল্প অল্প কোরে খাচ্ছে। তিনি ওর পাতে কাতলা মাছের পিস তুলে দিলেন একটা। আকসা একটুখানি মাছ মুখে তুলতেই সঙ্গে সঙ্গে ওয়াক করে উঠলো। সবাই খাওয়া এবং কথাবার্তায় ব্যস্ত ছিল। ওর অমন প্রতিক্রিয়া দেখে তৎক্ষনাৎ সবার মনোযোগ ওর ওপরে পরলো। রিতু বেগম ওর পাশের চেয়ারেই বসে ছিলেন। চট করে ঘুরে তাকালেন তিনি। পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। সবাই জিজ্ঞাসা করলো, “কী হয়েছে?
আকসা কারো কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে হঠাৎ মুখে হাত চেপে ধরে কোনোরকমে চেয়ারটা ঠেলে সরিয়ে দ্রুত উঠে ডাইনিং সংযুক্ত কয়েক হাত দূরে বেসিনের কাছে চলে গেল। এরপরই হুড়মুড়িয়ে বমি। ইশা বেগম দৌড়ে গেলেন আকসার কাছে৷ ওকে ধরে বসলেন। মেজবাহ’র খাওয়া আপাতত বন্ধ। প্লেট থেকে হাত তুলে একধ্যানে দূরে আকসাকে দেখছে। সবার নজর-ই তখন ওর দিকে। ইতিমধ্যে রিতু বেগম আচানক পাশ থেকে ফাতিমা খাতুনকে বলে বসলেন, “বৌমার কি ছোঁয়াল-মেয়ে হবে নাকি? ভাবসাবে তো তাই-ই মনে হচ্ছে।”
আস্তে কথাটা বলার চেষ্টা করলেও সুনশান-নিস্তব্ধ এই ডাইনিং-এ উপস্থিত প্রত্যেকেই কথাটা শুনতে পেল। মেজবাহ ঘাড় ঘুরিয়ে একবার ফুপুকে দেখে প্লেটে হাত ধুয়ে উঠে গেল টেবিল থেকে। রিতু বেগম ওকে উঠে যেতে দেখে মিচকে হেঁসে ফাতিমা খাতুনকে বললো, “আব্বা মনে হয় লজ্জা পাইছে।”
চলবে
বি:দ্র: পরে রিচেক করে দিচ্ছি। রাগ করিয়েন না৷ রাত বারোটার আগেই দিলাম।
Share On:
TAGS: ঝিলিক মল্লিক, সীমান্তরেখা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
সীমান্তরেখা পর্ব ২২
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ২১
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৯
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৯
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৫
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৪
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ২০
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৬
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ২৩(সমাপ্ত)
-
সীমান্তরেখা পর্ব ১০