সীমান্তরেখা
লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক
পর্ব_২০
[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।]
আকসা আড়চোখে মেজবাহকে দেখছে। মেজবাহ’র মুখের দিকে সরাসরি তাকাতে ভয় লাগছে ওর। মেজবাহ’র দৃষ্টি সামনের দিকে। আকসা যে গাড়িতে অবস্থান করছে, সেটাই বোধকরি মনে হচ্ছে না। আকসার বুক ধড়ফড় করছে। মেজবাহ খুব স্পিডের সাথে গাড়ি ড্রাইভ করছে। আকসা জিভ দ্বারা ঠোঁট ভিজিয়ে নিলো। মেজবাহ’র মুখপানে চেয়ে একটা ঢোক গিলে বললো, “আমার কথা শুনুন মেজবাহ৷ বলার সুযোগ তো দিবেন।”
মেজবাহ যেন আকসার কোনো কথা শুনতেই পায়নি। ও নিজের মতো ড্রাইভ করে চলেছে। আকসা এবার চরম অধৈর্য-অস্থির হয়ে কিঞ্চিৎ জোরের সাথে বললো, “মেজবাহ আমার কথা শুনুন, প্লিজ!”
মেজবাহ হঠাৎ ফাঁকা রোডের এক সাইডে ধুম করে গাড়ি থামিয়ে দিলো। আকসা সামান্য সামনে হেলে পড়ে বুকে হাত রেখে নিজেকে সামলে নিলো। মেজবাহ স্ট্রিয়ারিং-এ হাত রেখে চকিতে ঘুরে তাকালো আকসার দিকে। এরপর হঠাৎ সিটবেল্ট খুলে ওর সিটের কাছে এগিয়ে এসে ওর হাতের বাহু চেপে ধরে বললো, “কী কথা? এক্সিকিউজ শোনাবে? এতোক্ষণ ভেবেচিন্তে একটা এক্সিকিউজ বের করেছো তাই-না? তোমার কোনো এক্সকিউজ শুনতে চাই না আমি। ইভেন, তোমার কোনো কথা যেন আমার কান অবধি না আসে।”
“আপনি তো ফ্যাসিস্টের মতো আচরণ করছেন মেজবাহ! মানুষ দোষ-ত্রুটি করতেই পারে। তাই বলে তাকে একেবারে চুপ করিয়ে দিবেন? হাসিনার মতো বিহেভিয়ার!”
আকসা কিঞ্চিৎ বিরোধ করে কথাটা বলতেই মেজবাহ আঙুল তুলে শাসিয়ে বললো, “জাস্ট শাট-আপ! হাসিনার সাথে তুলনা করো কাকে তুমি? হু? হাসিনা কোনো নির্দোষ ব্যক্তি ছিল না। ইতিহাসে ওর মতো ফ্যাসিস্ট খুব কম এসেছে। ইভেন, তোমার কথার মাধ্যমে তুমি হাসিনার কার্যকলাপকে জাস্টিফাই করার চেষ্টা কোরো না। তোমার ফ্যামিলি কি আ’মলীগ করতো কোনোকালে?”
“উহুঁ।”
আকসা মাথা নেড়ে জবাবটা দিতেই মেজবাহ পুনরায় বললো, “আমি ফ্যাসিস্ট নই৷ যার যতোটুকু প্রাপ্য, তাকে ততোটুকুই দিই।”
“মেজবাহ কিন্তু আমার কথাটা তো শুনে—”
“চোপ!”
আকসাকে ধমকে চুপ করিয়ে দিলো মেজবাহ। ও সরে যেতেই আকসা বিরবির করে বললো, “আসলেই ফ্যাসিস্ট। বিপরীত পাশের মানুষের কথা না শুনে যে শুধু নিজের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়, সে তো ফ্যাসিস্ট-ই। আবার ফ্যাসিস্ট কখনো শুনতে পারে না যে, সে ফ্যাসিস্ট।”
আকসা বিরবির করে হঠাৎ পাশ থেকে ফোঁড়ন কেটে মেজবাহ’কে বলে উঠলো, “আপনি চাইলে আসন্ন বারো তারিখের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াতে পারেন মেজবাহ। বাংলাদেশের মানুষ বেশিরভাগ সব খাল কেটে কুমির আনে তো, ওরা কিন্তু কেউ যে ফ্যাসিস্ট; সেটা জানলে তাকে ভোট দিতে লাফিয়ে পরবে। নির্বাচনে দাঁড়ালেই দেখবেন, আপনি নির্বাচনে জিতে গেছেন।”
আকসা কথাটা বলামাত্র মেজবাহ ওর দিকে শুধু একবার তাকালো। সঙ্গে সঙ্গে আকসা চুপ হয়ে গেল।
.
.
মেজবাহ’র পরিকল্পনা ছিল, আকসাকে ওর বাড়ির গেইটের সামনেই নামিয়ে দিয়ে চলে যাবে। সেই মোতাবেক আকসাকে বলেও রেখেছিল যে, নেমে যেন ডিকি থেকে নিজেই লাগেজ নামিয়ে নেয়। আকসা বারবার মেজবাহ’র দিকে করুণ চোখে তাকাচ্ছিলো। তবে মেজবাহ একবারের জন্যও ওকে দেখলো না। আকসার জন্য সৌভাগ্যের ব্যাপার হলো, বাড়ির গেইটের কাছে আসতেই দেখা গেল, ইফান দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। ওর মাথায় টুপি। নামাজে গিয়েছিল সম্ভবত। সেখান থেকেই ফিরছিল। বাড়ির ভেতরে যাবে, তখনই ওদের বাড়ির দিকে গাড়ি আসতে দেখে দাঁড়িয়ে গেছে। আকসা গাড়ির ভেতর থেকেই “ভাইয়া” বলে চেঁচিয়ে ডাক দিলো।
আকসার কন্ঠ শুনে ইফান দ্রুত এগিয়ে আসলো। গাড়ি গেইটের সামনে থামতেই ইফান জানালার কাছে এগিয়ে এসে নিচু হয়ে ডাক দিলো আকসাকে। মেজবাহ বন্ধুর গলা শুনে জানালা নামিয়ে দিলো। মেজবাহকে দেখে ইফান বললো, “গাড়ি থেকে নামবি না দোস্ত? নাকি ভেতরেই বসে থাকার ইচ্ছা আছে?”
“নামছি।”
মেজবাহ শান্ত গলায় কথাটা বলে নেমে এসে আকসা যেই পাশে বসে ছিল, সেই পাশের দরজা খুলে দিলো। আকসা নিজে দরজা খুলে বের হতে পারতো। তবে সেটার আর প্রয়োজন হলো না। মেজবাহকে জড়িয়ে ধরলো ইফান, “তোকে কতোদিন পর দেখলাম বল তো! তোর তো কোনো খোঁজ-খবর-ই নেই। লাস্ট মেসেজ যে গতকাল দিয়েছিলাম, সিন করেছিস?”
“স্যরি দোস্ত, বিজি ছিলাম একটু।”
“ইট’স ওকে। পরে দেখে কিন্তু অবশ্যই রিপ্লাই করবি। একটা রিলস শেয়ার করেছি।”
মেজবাহ জবাবে কিছু বললো না। মাথা নাড়ালো শুধু। আকসা ততোক্ষণে লাগেজ বের করে এনে দাঁড়িয়েছে ভাইয়ের পাশে। মেজবাহকে দেখছে অপলক। ইফান এবার মেজবাহ’র হাত ধরে বাড়ির ভেতরের দিকে টেনে নিয়ে বললো, “চল ভেতরে।”
“আমি যাবো না।”
“যাবি না মানে? বেড়াতে এসেছিস না আমাদের এখানে? যদিও ইনফর্ম করে আসা উচিত ছিল তোদের। আম্মা তাহলে অ্যারেঞ্জমেন্ট করে রাখতে পারতেন।”
“কিছু করতে হবে না দোস্ত। ওকে দিতে এসেছিলাম এক্সুয়ালি।”
“দিতে মানে? তা তুই থাকবি না?”
“না। আমার চট্টগ্রামে ফিরতে হবে আজ। ওর নাকি বাসার কথা খুব মনে পরছিলো, তাই দিতে এলাম। রেখে দে তোদের কাছে।”
মেজবাহ শেষোক্ত কথাটা কেমন গম্ভীরভাবে বললো। ইফান না বুঝতে পারলেও আকসা ঠিকই বুঝতে পারলো। উদ্বিগ্ন চোখে তাকালো মেজবাহ’র দিকে। কিন্তু মেজবাহ’র কোনো হেলাফেলা হলো না।
ইফান নাছোড়বান্দা। ও মেজবাহকে ছাড়লোই না। জাপ্টে ধরে রেখে অনুরোধ করলো, “তোকে ভেতরে যেতেই হবে। বিয়ের দিন তো ইমারজেন্সি বলে চলে গেলি। শালা সেদিন তোর বিয়ের দিন ছিল বলে কিছু বলিনি। আজ কিন্তু কোনোভাবেই ছাড়ছি না। বাড়ির নতুন জামাই বাড়িতে এসে বাইরে থেকেই চলে যাবে— এটা কেমন দেখায়? আম্মা জানতে পারলে কিন্তু খুব রাগ করবে৷ চল, ভেতরে চল।”
অগত্যা মেজবাহকে ইফানের জোড়াজুড়িতে ভেতরে যেতেই হলো। আকসা ঠোঁট চেপে কপট হাসলো। ও বোধহয় মনে-প্রাণে এটাই চাচ্ছিল। বলা হয়, মন থেকে কোনো জিনিস চাইলে নাকি সেটা পাওয়া যায়।
.
.
আয়েশা বেগম একমাত্র মেয়ে জামাইয়ের আসা উপলক্ষে বেশ আয়োজন শুরু করে দিয়েছেন। তিনি একবার রান্নাঘরে যাচ্ছেন, আরেকবার ডাইনিং-এ। কি করবেন দিশা পাচ্ছেন না ঠিক। মাঝখানে বসার ঘর বাঁধে। মেজবাহ সোফায় বসে ফোনে টুকটাক কাজ করছিল। শাশুড়িকে এমন দিশেহারা হতে দেখে ও এবার বলে উঠলো, “আপনি এতো ব্যস্ত হবেন না আম্মু। কিছু করতে হবে না। আমাকে এখনই যেতে হবে। আপনি শুধু এক গ্লাস পানি আনুন আমার জন্য।”
“না না! তা কী করে হয় বাবা? তুমি বিয়ের পর এই প্রথম এসেছো আমাদের বাড়িতে। এক গ্লাস পানি খাইয়ে দেবো শুধু? এ কেমন কথা! আমি রান্না বসিয়েছি। না খেয়ে তোমাকে যেতে দিচ্ছি না। তুমি বরং মেয়ের ঘরে যাও। ও এসেই তো হাত-মুখ ধুতে চলে গেল। আকসা, ও আকসা।”
আকসা সবে ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে তোয়ালেতে মুখ মুছছিল। বাইরে থেকে মায়ের ডাক শুনে তোয়ালে হাতেই দ্রুত বেরিয়ে আসলো।
“জি আম্মু বলো।”
আকসা এগিয়ে আসতেই আয়েশা বেগম বললেন, “জামাই বাবাকে ঘরে নিয়ে যাও তো।”
আকসা মায়ের কথা শুনে আড়চোখে মেজবাহ’র দিকে তাকালো। মেজবাহ ওকে যেন দেখেইইনি। ও হালকা হেঁসে শাশুড়িকে বললো, “থাক আম্মু, আমি এখানেই ঠিক আছি।”
“ভেতরে যেয়ে একটু বিশ্রাম নাও বাবা। তোমাকে তো আবার জার্নি করতে হবে।”
মেজবাহকে শেষমেশ উঠে আকসার সাথে ওর ঘরের দিকে পা বাড়াতেই হলো। শাশুড়ির সামনে স্বাভাবিক থাকলেও ভেতরের দিকে যত পা বাড়ালো, ততো ওর মুখের রঙ বদলে যেতে লাগলো।
.
.
মেজবাহ ফ্লোরে পা রেখে বিছানার ওপরে বসে আছে। ওর সম্পূর্ণ মনোযোগ যেন ফোনের দিকে। আচনক খট করে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ কানে আসতেই মুখ তুলে সামনের দিকে তাকালো। দেখলো, আকসা দরজা বন্ধ করে দিয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভ্রু কুঁচকে গেল মেজবাহ’র। মেজবাহ তৎক্ষনাৎ দ্রুত উঠে দরজার দিকে পা বাড়ালো। আকসা মেজবাহকে উঠে আসতে ওর সামনে এসে দাঁড়িয়ে হাত দ্বারা বাঁধা দিয়ে আঁটকে নিলো।
“কোথায় যাচ্ছেন আপনি?”
“বাইরে।”
“কেন?”
“এখানে হেজিটেশন ফিল হচ্ছে।”
মেজবাহ’র স্পষ্ট জবাব। আকসা প্রশ্ন করলো, “হেজিটেশন ফিল হবে কেন হঠাৎ?”
“তোমাকে দেখে, তোমার মুখ দেখে। বোঝা গেল?”
মেজবাহ পুনরায় পা বাড়াতেই আকসা ওর বাহু টেনে ধরে বললো, “দাঁড়ান মেজবাহ।”
“সরো। সাইড দাও। এভাবে দরজা আঁটকে আমার বেইজ্জতি করার চেষ্টা করবে না।”
মেজবাহ’র কথা শুনে আকসার খু্ব হাসি পেল। ও বহুকষ্টে হাসি আঁটকে বললো, “স্বামী-স্ত্রী আমরা। বেইজ্জতি’র কী আছে?”
“তোমার সাথে তো আর আমার কোনো সম্পর্ক থাকছে না। সুতরাং, ডিস্টেন্স মেইনটেইন করো।”
মেজবাহ এবার ওকে সরিয়ে দিতেই আকসা আচনক মেজবাহকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো পেছনের দিকে। মেজবাহ রূঢ় চাহনিতে তাকালো ওর দিকে। আকসা এবার এগিয়ে গিয়ে মেজবাহ’র গালে একহাত রেখে বললো, “আপনাকে আমার কথা শুনতেই হবে। আমি প্রতারক নই। আর না তো ক্যারেক্টারলেস। আমি নিজেকে প্রুফ করতে পারবো।”
“করো।”
মেজবাহ নির্বিকারভাবে বলতেই আকসা হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো যেন। বিছানার ওপর থেকে ফোনটা উঠিয়ে নিয়ে এসে হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকলো। এরপর একটা কনভারসেশন বের করে মেজবাহ’র সামনে ধরে বললো, “এই দেখুন।”
মেজবাহ ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে দেখলো ফোন স্ক্রিনে। আকসা একনাগাড়ে বলতে লাগলো, “আমি যার সাথে কথা বলছিলাম, ইনি সেই। সাইফুল ইসলাম, আমাদের সাইফুল ভাইয়া। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড কলির এক্স হাসবেন্ড।”
“তো?”
মেজবাহ নির্লিপ্তভাবে প্রশ্ন করতেই আকসা বললো, “উনার সাথেই প্রায়ই কথা হতো আমার। উনি কলির হাসবেন্ড ছিলেন। ডিভোর্স হয়ে গেছে তাদের। তারা ভালোবেসে বিয়ে করেছিল নিজেরা। ডিভোর্স হওয়ার কারণ ছিল, ভাইয়ার ফ্যামিলি। ভাইয়ার মা কলির ওপরে অনেক টর্চার করতো। ভাইয়াকে জানাতো না কলি। একসময় টর্চার সহ্য করতে না পেরে ও জোর করেই ডিভোর্স দিয়ে চলে আসে। এরপর একদম চুপচাপ হয়ে যায়। মাত্র ছয় মাসের সংসার ছিল ওদের। ভাইয়া কলিকে অনেক ভালোবাসতো। ওকে হাতে-পায়ে ধরে অনুরোধ করেছিল, যেন ডিভোর্স না দেয়৷ কিন্তু কলি জেদ ধরে ডিভোর্সটা দিয়েই দেয়। এরপর ভাইয়া একপ্রকার পাগলের মতো হয়ে গিয়েছিল। বিজনেস আর বাসা আলাদা করে নিয়েছিল। একা থাকতো। ফ্যামিলির কারো সাথে কনট্যাক্ট রাখেনি। কলির সাথে অনেকবার ভাইয়া কনট্যাক্ট করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কোনোভাবেই পেরে ওঠেনি। কলির ফ্যামিলি আবার তাদের বিয়ে দিতেও চেয়েছিল। কিন্তু কলি রাজি হয়নি। ভাইয়া এরমধ্যে অনেক সাইক্রায়ার্টিষ্ট দেখিয়েছে। এখন কিছুটা সুস্থ। তা-ও কলির জন্য পাগলামি করেন। ওর কথা আজও ভুলতে পারেননি সাইফুল ভাইয়া। আমাকে ভাইয়া নিজের বোনের মতো জানতেন সবসময়। আমাকে চেনেন প্রায় চার বছর যাবত। দীর্ঘদিন পর হঠাৎ আমার নতুন নাম্বার খুঁজে বের করে আমাকে আননোন নাম্বার থেকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে খুব অনুরোধ করে বললেন, যেন কলির সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিই। তাদের মধ্যে সবকিছু ঠিক করতে হেল্প করি। আমি এটা নিয়েই ভাইয়ার সাথে কথা বলতাম। এরমধ্যে কলির সাথেও কনট্যাক্ট করানোর চেষ্টা করছি। কলির সব আপডেট দিয়েছি। আপনার বিশ্বাস না হলে আমার কাছে তাদের বিয়ের ফটো এখনো আছে। এইযে দেখুন। প্রোফাইলে ভাইয়ার যেই ফটো, সেইম একই ব্যক্তির ফটো; এটা ওদের বিয়ের সময়কার।”
আকসা মেজবাহকে একের পর এক ফটো দেখাতে লাগলো। মেজবাহ এতোক্ষণ চুপচাপ দেখছিল ফটোগুলো। এবার বলে উঠলো, “ফ্রেন্ডের হাসবেন্ডের সাথে তোমার এতো ন্যাকামো করে কথা বলতে হবে কেন? তা-ও লুকিয়ে?”
আকসা অবাক চোখে তাকিয়ে রইলো মেজবাহ’দিকে। বিরোধ করে বললো, “লুকিয়ে না বললে তো সবাই জেনে যেতো। আর ভাইয়া আমাকে প্রমিজ করিয়েছিলেন, কাউকে যেন এখনই কিছু না বলি। ন্যাকামো করে কখন কথা বললাম মেজবাহ? ভাইয়া মেন্টালি বাজে সিচুয়েশনে আছে। সেই মানুষের সাথে কি আমি রুডলি কথা বলবো? তাকে মানা করে দেবো? আর ভাইয়ার সাথে তো আমি কোনো বাড়তি বা অযথা কথা বলতাম না। জাস্ট কলির বিষয়ে কথা হতো। ভাইয়া বারবার কল দিতো, শুধুমাত্র কলির কথা শুনতে। তার মেন্টাল সিচুয়েশন এমন যে, কিছু একটা হলে সুইসাইড এটেম্পও নিয়ে বসতে পারেন৷ তাই আমি হেঁসে ভালোভাবে কথা বলার চেষ্টা করেছি। সবাই তো আর আপনার মতো রুড নয়। এখানে আমার কী দোষ মেজবাহ?”
মেজবাহ আকসাকে প্রশ্ন করলো, “তোমাকে এতো পিয়নগিরি করতে বলেছে কে?”
আকসা বিরোধের সুরে জবাব দিলো, “আপনি এভাবে বলছেন কেন? তাদের ভালোবাসা আপনি দেখেননি। আমি দেখেছি। তাদের চারটা বছরের ভালোবাসার সাক্ষী আমি। দু’জন দু’জনকে কতোটা ভালোবাসতো… অবশ্য আপনি বুঝবেন কি! আপনি তো ভালোবাসতে জানেন না মেজবাহ!”
আকসার এই কথার বিপরীতে মেজবাহ কিছু বললো না। ওর দিকে গভীর চাহনিতে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললো, “ডিভোর্স পেপার পাঠিয়ে দেবো এই মাসে। সাইন করে দিও।”
আকসা বিমূঢ় হলো। ডিভোর্স পেপার মানে!
চলবে
Share On:
TAGS: ঝিলিক মল্লিক, সীমান্তরেখা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৯
-
সীমান্তরেখা পর্ব ১
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৯
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৫
-
সীমান্তরেখা পর্ব ২
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৫
-
সীমান্তরেখা পর্ব ১৭
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৩
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১০
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৮