সীমান্তরেখা পর্ব_১৮
লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক
পর্ব_১৮
[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।]
পরিস্থিতি আপাতত শিথিল হয়েছে। মেজবাহও শান্ত হয়েছে। মেজবাহ’র কড়া নির্দেশ, আজ ঘটে যাওয়া এসকল ঘটনা যেন আর কেউ না জানে, অন্দরমহল অবধি না পৌঁছায়। মেজবাহ’র আদেশ অনু্যায়ী সবাই চুপ আছে। একদম স্বাভাবিক রয়েছে। যেন কিয়ৎক্ষণ পূর্বে কিছুই ঘটেনি। রাতের খাওয়ার সময়ে নীতিকে আশেপাশে দেখা গেল না। সেই যে ঘর থেকে বেরিয়ে উধাও হয়েছে, তারপর থেকে ওকে আর কোথাও দেখা যায়নি। খাওয়ার সময়ে কথাটা ভেবে মনে মনে খনিক হেঁসে নিলো আকসা। মেজবাহ রাতের খাবার বোধহয় ওর ভাইদের সাথে খেয়েই বেরিয়ে গেছে। খালুর সাথে ঘেঁরে গিয়েছে ওরা। ঘেঁরপাড়ে কয়েক একরের বিশাল ধানক্ষেত। সেই ধানক্ষেতের পাশ ঘেঁষে সারি সারি সব খেজুর গাছ। আজ রাতে গাছে কলসি বেঁধে দিয়ে আসবে। আগামীকাল সকালে রস ওঠানো হবে। আজ অতিথি কক্ষে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর থেকে আর মেজবাহ’র সাথে কথা হয়নি আকসার। বলা চলে, কথা বলার সুযোগ পায়নি ও। তার আগেই খালামণি খেতে ডাকলেন সবাইকে। মেজবাহ’রও তাড়া ছিল। একারণে দ্রুত বেরিয়ে গেছে। আকসা খেয়াল করেছে, যাওয়ার আগে অবশ্য মেজবাহ ওকে ঘাড় ঘুরিয়ে একপলক দেখে গেছে। আকসা মেজবাহ’র ওই তাকানোর দৃশ্যটা কোনোভাবেই ভুলতে পারছে না। মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলা যাচ্ছে না। বরং, যত বেশি ঝেড়ে ফেলতে চাইছে, ততোই আরো মনে পড়ে যাচ্ছে। খেতে বসেও মেজবাহ’র কথা মনে পরার দরুন বিষম খেয়েছিল। তখন ওর শাশুড়িমা পানির গ্লাস এগিয়ে দিয়ে চিন্তিত হয়ে বলেছিলেন, “কী হয়েছে বৌমা? তুমি ইদানীং অনেক বেশি বিষম খাচ্ছো। কোনো অসুখ হলো নাকি? ডাক্তারের কাছে নেওয়া লাগবে মনে হচ্ছে।”
আকসা শাশুড়ি মায়ের কথা শুনে মুখে কিছু না বললেও অগোচরে হেসেছে ঠিকই। মনে মনে বলেছে, “অসুখ তো হয়েছেই বটে। তবে যে-সে অসুখ নয় আম্মা, আপনার ছেলের প্রতি বিমোহিত হওয়ার অসুখ। এই অসুখ তো কোনো ডাক্তার-বদ্যি, কবিরাজ, কেউ সারাতে পারবে না। একমাত্র আপনার ছেলেই সারাতে পারবে।”
.
.
রাতের খাবার খাওয়ার পরে সবাই পাশা খেলতে বসেছে। আকসা এই খেলা পারে না বলে পালঙ্কের এককোণে চুপচাপ বসে আছে। মারিয়া আপু, তাহসিন, মিহি আর রিমু খেলছে। বেশ হৈ-হুল্লোড় চলছে। আকসা ফোন দেখার ফাঁকে মাঝেমধ্যে ওদেরকে টুকটাক সায় দিচ্ছে। হঠাৎ আকসার ফোনে কল আসলো। ও ফোনের দিকে তাকিয়ে নাম্বারটা দেখে আশেপাশে তাকালো। ভাগ্যিস ফোন সাইলেন্ট মুডে ছিল! সবাই খেলার মাঝে মগ্ন৷ আকসা এই ফাঁকে একপাশ থেকে ধীরে ধীরে সরে পরলো। ব্যালকনির দিকটায় অন্ধকার ছিল। ফোন শক্তভাবে মুঠো করে নিয়ে সেদিকে চলে গেল ও।
.
.
“কতবার বলেছি, আমাকে অসময়ে কল দিবেন না। আমার আশেপাশে মানুষ থাকে অনেক। সবসময় কল রিসিভ করার সুযোগ হয় না। বলেছিই তো, সময় করে করে আমি আপডেট দিয়ে দিবো। এখন এভাবে বারবার কল দিলে আমাকে আমার শ্বশুরবাড়ির মানুষ সন্দেহ করতে পারে। এটা তো স্বাভাবিক বিষয়। যেহেতু আমি একজন বিবাহিত নারী। এভাবে লুকিয়ে কথা বললে যেকেউ সন্দেহ করবে। তখন আরেক ঝামেলা। আপাতত আমি ঝামেলা এড়িয়ে চলতে চাইছি।”
ফোনের ওপাশের ব্যক্তি আকসার কথার বিপরীতে দীর্ঘ সময় নিয়ে কিছু একটা বললেন। আকসা চুপচাপ সব কথা শুনলো। এরপর জবাব দিলো, “জি, আমি জানি, আপনার আমাকে দরকার। একথা এর আগেও বেশ কয়েকবার শুনেছি। আমি আপনাকে নিরাশ করবো না, যেহেতু এতো আশা নিয়ে এসেছেন আমার কাছে। আর আশা করি, আপনি যা চান সেটা হবেও। শুধু আমাকে একটু সময় দিন। আমি সবার সাথে খালাশাশুড়ির বাসায় বেড়াতে এসেছি, এখান থেকে ফিরে সঙ্গে সঙ্গেই আপনার কাজটা আগে করে দেবো। আমাকে প্লিজ আর হঠাৎ হঠাৎ কল দিবেন না। সময়-সুযোগ পেলে আমি-ই আপনাকে কল করে আপডেট জানাবো। আচ্ছা, এখন রাখছি।”
আকসা তড়িঘড়ি করে কল কেটে দিয়ে হাঁপ ছেড়ে বাঁচলো যেন। ব্যালকনির এককোণে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। ব্যালকনিতে অন্ধকার বলে ঘরের ভেতর থেকে এদিকটায় তাকালে ভালোভাবে কিছু বোঝা যায় না। আকসা উঁকি মেরে দেখলো, সবাই তখনও পাশা খেলা নিয়ে ব্যস্ত। আকসা এই সুযোগে দ্রুত ঘরে ঢুকে বিছানায় উঠে গেল। ওরা কেউ খেয়াল করলো না ওর এই যাওয়া-আসার ঘটনাটা।
.
.
রাত ক’টা বাজে সেদিকে কারো খেয়াল নেই। আজ বোধহয় সারারাত গল্প-গুজব চলবে। আকসার চোখে হালকা ঘুম। ও এককোণে বালিশে হেলান দিয়ে বসে আছে। মারিয়া, রিমু, তাহসিন আর মিহি এখন খেলা ছেড়ে গল্পের আসর বসিয়েছে। ওরা নানান কথা বলে হাসাহাসি করছে। মারিয়া আকসাকে টোকা দিয়ে বললো, “কী গো? তোমার কী হলো?”
“আর বোলো না। ঘুম আসছে আপু। তবু কষ্ট করে জেগে আছি।”
“ঘুম আসলে ঘুমিয়ে যাও। কষ্ট করে রাত জেগো না।”
“থাক আপু। একটা রাত-ই তো। জাগলাম নাহয়। তোমাদের সাথে গল্প করি আজ। যাই আমি একটু চোখে-মুখে পানি দিয়ে আসি।”
আকসা মৃদু হেঁসে কথাটা বলে পালঙ্ক থেকে নেমে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেল৷ সেখান থেকে চোখে-মুখে পানি ছিটিয়ে বেরিয়ে এসে তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছছিল আকসা। হঠাৎ দরজার সামনে থেকে ‘আকসা’ ডাকটা শুনে চকিতে ফিরে তাকালো ও।
এই ঘরের দরজার সামনে আরফান দাঁড়িয়ে। তা-ও স্বাভাবিকভাবে নয়। দরজার কাঠের থামে দুই হাত ঠেকিয়ে কেমনভাবে যেন দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই চোখ-মুখ কুঁচকে গেল আকসার। চরম অস্বস্তি ঠেকলো ওর। আরফান-ই ওর নাম ধরে ডেকেছে। অথচ বাকিরা সবাই ‘ভাবী’ সম্বোধন করে! আকসা বিব্রতবোধ করলো। তবে মুখে কিছু বললো না। ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইলো আরফানের দিকে। আরফানের ঠোঁটের কোণে কেমন অদ্ভুত এক সুক্ষ্ম হাসি। শুরু থেকেই ব্যাপারটা খেয়াল করেছে আকসা। হাসিটা মোটেও ভালো ঠেকেনি ওর।
আকসা ডাক শুনে ফিরে তাকিয়েও মুখে কিছু বলেনি। বাকিরা সবাই বিছানায় বসে কৌতূহলী চোখে দেখছে আরফানকে। আরফান আকসার থেকে সাড়া না পেয়ে পুনরায় বললো, “আকসা, তোমাকে তোমার শাশুড়ি ডাকছে এখুনি।”
আরফান কথাটা বলেই বারান্দার অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।
বলার ধরনটা আকসার মোটেও ভালো লাগলো না। তবু শাশুড়ি ডাকছে শুনে ও চটজলদি মুখ মুছে ঘরের বাইরে বেরিয়ে গেল।
আকসা শেষবার বড়ঘরে দেখেছিল, বড়রা সবাই সেখানে আসর জমিয়েছেন। এতোক্ষণে ঘুমিয়ে গেছেন কিনা কে জানে। হঠাৎ এতো রাতে আকসাকে ডাকবে কেন, সেটাই ও ভেবে পেল না। এসব ভাবতে ভাবতেই লম্বা বারান্দা ধরে হাঁটছিল ও। এই বাড়ির সবঘরে এবং সব জায়গায় আলো থাকলেও বারান্দায় কোনো আলো নেই। এর হেতু জানা নেই আকসার। এতোবড় বাড়ির সুবিশাল বারান্দা। অন্ধকারে হাঁটতেও তো ভয় লাগে। বারান্দার দুই মাথায় অন্তত দু’টো লাইটের ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। এখনো বড়ঘরে যেতে বৃত্তাকৃতির বিশাল বারান্দার দু’টো মোড় ঘোরা প্রয়োজন। আকসা আরেকটু সামনে এগোলো। যেখানে একটা ঘর অপাংক্তেয় অবস্থায় রয়েছে। বলা চলে, এই ঘরটা বাড়ির স্টোররুম। এখানে সব অপ্রয়োজনীয় জিনিসের বসবাস। এদিকটা একেবারে ঘুটঘুটে অন্ধকার। এই অন্ধকারের মাঝে আকসা দ্রুত পা চালালো। বুক ধুকপুক করতো লাগলো ওর। হঠাৎ..! আচনক স্টোররুমের কাছে আসতেই ভেতর থেকে একটা কালো হাত আকসার হাত টেনে ধরলো! ঘটনার আকস্মিকতায় ও সেই মুহূর্তে কিছু বুঝে বা করে উঠতে পারলো না। বুকে যেন কেউ খামচি দিয়ে ধরেছে, তেমন অনুভূতি হলো ওর। পা অবশ হয়ে গেল পুরোপুরি। নাড়াতে পারলো না। অদম্য চেষ্টায়ও ধরে রাখা সেই হাতটা ছাড়িয়ে দৌড় দিতে পারলো না আকসা। এরইমধ্যে আরো ভয়াবহ ঘটনাটা ঘটলো। সেই শক্তপোক্ত হাতটা আকসাকে স্টোররুমের ভেতরে টেনে নিয়ে গেল। পিলে চমকে উঠলো আকসার। ঘুটঘুটে অন্ধকারে সামনে তাকিয়ে কিছুই উপলব্ধি করতে পারলো না ও। তবে হাতের স্পর্শে এতোটুকু বুঝতে পারলো— হাতটা কোনো পুরুষের। ব্যাপারটা বুঝতে পারা মাত্র আকসার মনে চরম ভয় এসে জড়ে হলো। মস্তিষ্ক ক্রমাগত অশনি সংকেত দিতে ব্যস্ত হলো। আকসার মস্তিষ্ক বলছে, “এই মুহূর্তে এখান থেকে ছুটে পালা আকসা, এখুনি দৌড় দে।”
কিন্তু শরীর সায় দিলো না ওর। ভয়, জড়তায় শরীর যেন ছেড়ে দিয়েছে। আকসা বহুকষ্টে শুকিয়ে যাওয়া গলা সামান্য ভিজিয়ে ঢোক গিলে কোনোরকমে প্রশ্ন করলো, “কে—?”
“আমি।”
আওয়াজটা শোনামাত্র আকসার শরীর হতে ঘাম ছুটতে শুরু করলো। আরফান! এই ছেলে এখানে! আকসাকে এখানে টেনে এনেছে! কেন? কী কারণে? প্রশ্নগুলো মনে আসার সাথে সাথে আকসার শিরদাঁড়া বেয়ে ঘাম ছুটতে শুরু করলো। ও এবার সর্বশক্তি দ্বারা পা জোড়া নাড়ানোর চেষ্টা করলো। হ্যাঁ, পা নাড়াতে পেরেছে! আকসার শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হলো। ও এক পা পিছিয়ে পেছনে ঘুরে দৌড় দিতে যাবে, ঠিক তখনই পেছন থেকে ওর হাত টেনে ধরা হলো। আকসার গায়ে যেন প্রেতাত্মা ভর করেছে। অনেক বেশি শক্তি সঞ্চার হয়েছে। যতোটা জোরে ওর হাত ধরা হয়েছে, ও তার থেকে বেশি জোরে ছোটার চেষ্টা করলো। তবে পৈশাচিক পুরুষালি শক্তির সাথে পেরে উঠলো না। আকসা এতোক্ষণে বুঝে গেছে, ওর সাথে খুব খারাপ কিছু ঘটছে। যেটা ঘটার কথা নয়। এজন্য ও প্রাণপণ চেষ্টায় ছুটতে চাইছে।
এবার, আচনক…আচনক পেছন থেকে সেই নোংরা হাতটা আকসার জামার ফিতা ধরে টান দিলো! একটানে ফিতা খুলে ফেলতেই আকসা এবার না পেরে পা দিয়ে একটা লাথি দিলো। তবে কোনো কাজ হলো না। হাতজোড়া যেন নোংরা খেলায় মেতেছে। এজন্য কোনোদিকে খেয়াল নেই। ফিসফিস করে বলছে, “জানো, তুমি খুব সুন্দর। নিজেকে আয়নায় দেখেছো কখনো? তোমার শরীর? কখনো সময় হলে ওড়না খুলে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে। দেখবে, তোমাকে কতোটা মোহনীয় লাগে। তোমার শরীরের সৌন্দর্য.. এই সৌন্দর্য যেকাউকে পাগল করে ছাড়বে। এতো নরম…”
কথাগুলো আকসার কানে কাঁটার মতো বিঁধলো৷ প্রচন্ড বিষাক্ত ঠেকলো। পরমুহূর্তেই সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাটা ঘটলো। জামার ওপর থেকে বুকের কাছে সেই নোংরা হাতের ছোঁয়া অনুভব করতেই আকসা এবার না পেরে কেঁদে ফেললো। এবার উপায়ন্তর না পেয়ে ও চুলের খোঁপায় বেঁধে রাখা স্টিলের কাটা একটানে খুলে কোনোদিকে না তাকিয়ে, কোনোকিছু না ভেবে সোজা সেই হাতের ওপরে বসিয়ে দিলো। মুহূর্তেই পেছন থেকে আরফান ব্যাথায় কুকিয়ে তৎক্ষনাৎ হাত সরিয়ে নিতেই আকসা এই সুযোগে দুই কপাটের দরজা টেনে একছুটে বেরিয়ে দৌড় দিলো। পেছন থেকে আরফান নামক ছেলেটা কুটিল হেঁসে বিরবির করলো, “মান-সম্মানের ভয় থাকলে এসব কাউকে বলবে না নিশ্চয়ই। সো চিল!”
.
.
আকসা ছুটতে ছুটতে সিঁড়ির কাছে এসে দাঁড়িয়েছে। এটা ছাঁদে যাওয়ার সিঁড়ি। এখানেও ঘুটঘুটে অন্ধকার। আকসার শরীরে আর সামান্য একরত্তি জোর নেই। সিঁড়ির সর্বনিম্ন ধাপে ধপ করে বসে পরলো। ফুপাতে লাগলো ও।
আকসা জোরে জোরে শ্বাস টানছে। কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া নোংরা ঘটনাটা মনে পরতেই হাত-পা কাঁপছে ওর। পুরো শরীর ধরে যেন ঝাঁকুনি দিয়ে ফেলে দিতে চাইছে। আকসার প্রচন্ড প্যানিক হচ্ছে। বুক ধড়ফড় করছে। একবার ভাবলো, বড়ঘরের দিকে যাবে। তবে উঠতে গিয়েও দ্বিধান্বিত হয়ে বসে পরলো ও। তারওপর মাথা ঘুরছে। ওই অবধি যাওয়াও বোধহয় ওর জন্য সম্ভবপর হবে না। আকসা অন্ধকারের মাঝে রেলিঙে মাথা ঠেকিয়ে বসে রইলো।
“আকসা!”
হঠাৎ পেছন থেকে চির-পরিচিত কন্ঠস্বরটা শোনামাত্র আকসা চট করে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো। এই ঘোর আঁধারেও চিনতে অসুবিধা হলো না ওর। মেজবাহ দাঁড়িয়ে আছে পেছনে৷ হাতে ফোন। ফোনের ডিসপ্লে জ্বলজ্বল করছে। সেই আলোতে মেজবাহ তাকিয়ে দেখলো, আকসার চোখে জল। মেজবাহ’র ভ্রুজোড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংকুচিত হলো।
আকসা উঠে দাঁড়ালো কোনোমতে। মেজবাহ’র সামনে দাঁড়াতেই মেজবাহ পুনরায় প্রশ্ন করলো, “এতোরাতে তুমি এখানে কেন?”
প্রশ্নটা করামাত্র আকসা ঝাঁপিয়ে পরলো মেজবাহ’র বুকে। শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলো ও৷ মেজবাহ আচনক ঘটনাটা বুঝতে পারলো না। আকসা কখনো, কোনোদিনও এভাবে কাঁদেনি। মেজবাহ ওর কান্না কখনো দেখেনি। আচমকা এমন ঘটনায় দ্বিধায় পরলো ও। আকসার পিঠে হাত রাখতেই এবার বুঝতে পারলো, আকসার সম্পূর্ণ শরীর কাঁপছে। মেজবাহ এবার ফোন পকেটে রেখে আকসাকে দু’হাতে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করলো, “কী হয়েছে? কাঁদছো কেন? অসুস্থ তুমি?”
“ন.. না। আমি মরে যাব মেজবাহ!”
মেজবাহ চমকে উঠলো! আকসার পিঠ আঁকড়ে ধরে পুনরায় প্রশ্ন করলো, “কী হয়েছে? বলো আমাকে৷ সিরিয়াস কিছু?”
আকসা কোনো জবাব দিলো না। আরো জোরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগলো। মেজবাহ ওর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললো, “কান্না থামাও। বলো আমাকে, কী হয়েছে?”
মেজবাহ আকসার পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে গিয়ে হঠাৎ অনুভব করলো, আকসার জামার ফিতা খোলা। দু’পাশে দু’টো ফিতা পড়ে আছে। জামার গলা খুলে সম্পূর্ণ পিঠ বেরিয়ে গেছে! আচমকা মেজবাহ আকসাকে টেনে বুক থেকে সরিয়ে মুখোমুখি দাঁড় করালো। মুখ কঠিন হয়ে গেছে মেজবাহ’র। ও শক্ত মুখে কঠিন সুরে প্রশ্ন করলো, “কী হয়েছে তোমার? চুপ করে থাকবে না! বলো!”
আকসা কিছু বললো না। মুখ চেপে কাঁদছে ও। মেজবাহ ওর হাত টেনে ধরে বললো, “আসো এদিকে।”
আকসার হাত টেনে ধরে ছাঁদের সিঁড়ির দিকে পা বাড়ালো মেজবাহ। তবে আকসা এক পা-ও ওপরে তুলতে পারলো না। মেজবাহ দাঁড়িয়ে গেল। পেছনে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখলো, আকসা রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। শরীর নেতিয়ে পরেছে ওর। মেজবাহ এবার কোনো কথা না বলে ওকে কোলে তুলে নিলো৷ আকসা মেজবাহ’র গলা দুই হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে সেখানে মুখ গুঁজে রেখে কাঁদতে লাগলো। ওর চোখের জল গড়িয়ে মেজবাহ’র ঘাড়ের ওপরে পরলো অনবরত। প্রতিটা ফোঁটা অশ্রুকণা মেজবাহ’র রক্তের শিরায় শিরায় যেন আগুন ধরিয়ে দিলো।
.
.
ছাঁদে মূলত মেজবাহ’র কাজিনরা আড্ডা দিচ্ছিল। ওদের হাতে সিগারেট। স্মোকিং করছিল ওরা। মেজবাহ স্মোক করে না বলেই ছাঁদ থেকে নেমে এসেছিল। আকসাকে নিয়ে ওপরে উঠতেই ওরা সিগারেট সরিয়ে নিলো৷ ভাই-ভাবীকে দেখে চোখ নামিয়ে নিলো ওরা।
মেজবাহ ছাঁদে উঠেই ওর ভাইদের গম্ভীর স্বরে বললো, “তোরা একটু নিচে যা তো। প্রাইভেসি দরকার।”
বড়ভাইয়ের কথা শোনামাত্র সবাই তৎক্ষনাৎ নিচে চলে গেল। মেজবাহ আকসাকে নামিয়ে ছাঁদের দরজা আঁটকে দিয়ে আসলো। আকসার সামনে দাঁড়িয়ে ওর হাত টেনে এগিয়ে নিলো। আকসা তখনও কাঁদছে। মেজবাহ ওর কান্না দেখে চরম মেজাজের সাথে বললো, “আরেকবার জিজ্ঞাসা করছি, কী হয়েছে? এবার না বললে ছাঁদ থেকে নিচে ছুঁড়ে ফেলবো!”
আকসা ফোঁপাতে ফোপাঁতে বললো, “আমার কথা আপনি বিশ্বাস করবেন মেজবাহ?”
“বলো।”
আকসা মাথা নিচু করে রইলো। কিভাবে বলবে এসব! বলতেও ঘৃণা লাগছে ওর। মাথাটা কেমন ফাঁকা ফাঁকা ঠেকছে। ও ঠোঁট চেপে কাঁদতে লাগলো। মেজবাহ ওর কোমর টেনে কাছে নিয়ে আসলো এবার। নিজের সাথে মিশিয়ে নিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে নতমুখের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বললো, “আকসা, বলো প্লিজ৷”
আকসা শক্ত করে মেজবাহ’র বাহু গলিয়ে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে বললো, “ওই..ওইযে আরফান আছে না? মারিয়া আপুর চাচাতো ভাই? ও—ও আমাকে..”
“ও তোমাকে কী? হু? কী আকসা?”
মেজবাহ’র শান্ত কন্ঠস্বর এই প্রথমবার ক্রমাগত অস্থির, অশান্ত হয়ে উঠলো৷ বিচলিত হলো ও। আকসার মুখ উঠিয়ে দুই হাতে চেপে ধরে শক্ত গলায় বললো, “আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলো।”
আকসা মেজবাহ’র চোখে চোখ রেখে এবার কান্নারত স্বরে গরগর করে বলে ফেললো— “ওই লোকটা আমাকে নোংরাভাবে ছুঁয়েছে। অন্ধকারে। ওই স্টোর রুমে। আমাকে রুম থেকে ডাক দিয়েছিল। বলেছিল, আমাকে নাকি আম্মা ডাকছেন। তারপর আমি বের হলাম। স্টোররুমের কাছে পৌঁছাতেই আমাকে টান দিয়ে ভেতরে নিয়ে গেল৷ তারপর…”
“তারপর কী?”
আকসা থেমে গেল৷ মেজবাহ’র চোখ-মুখ ধীরে ধীরে কঠিন হয়ে এসেছে। আকসা অনুভব করলো, ওর মুখে চেপে ধরা মেজবাহ’র হাতদু’টো খুব রূঢ় হয়ে উঠেছে। আকসা ঢোক গিলে জবাব দিলো, “আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘কে?’ জবাব দিলো, ‘আমি।’ কন্ঠস্বর শুনেই বুঝে গিয়েছিলাম ওই লোকটা। এরপর হঠাৎ… হঠাৎ আমার জামার ফিতা ধরে টান দিলো। আমি সরে আসার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু পারিনি। আমার হাত শক্ত করে টেনে ধরে রেখেছিল। আর—”
“আর কী?”
আকসা চুপ করে মিনমিন করে কাঁদতে লাগলো। মেজবাহ’র ধৈর্য নেই আপাতত। ধৈর্যের বাঁধ সীমা ছাড়িয়েছে।
“আর কী আকসা?!”
হুঙ্কার ছাড়লো মেজবাহ। আকসা সামান্য কেঁপে উঠে মেজবাহ’র শার্টের সামনের অংশ শক্তভাবে খামচে ধরে চোখ বুঁজে ঠোঁট চেপে কাঁদতে কাঁদতে জবাব দিলো, “আর.. আর আমার বুকে হাত দিয়েছিল। এছাড়াও অনেক নোংরা কথা বলেছে। আমি না পেরে চুলের কাটা দিয়ে হাতে আঘাত করে কোনোরকমে দৌড়ে চলে এসেছি সেখান থেকে।”
“কী বলেছে তোমাকে?”
মেজবাহ’র গম্ভীর রূঢ় কন্ঠস্বর। আকসার আপাতত হুঁশ-জ্ঞান নেই। ও বিরবির করে বললো, “বলেছে, তুমি নিজেকে আয়নায় দেখো, ও..ওড়না খুলে। তোমার শরীরের সৌন্দর্য যেকাউকে পাগল করে ছাড়বে৷ এতো নরম —”
“চোপ! আর না। আর শুনতে চাই না।”
আকসাকে থামিয়ে দিয়ে ওকে টেনে বুকের সাথে মিশিয়ে নিলো। যথেষ্ট শান্ত গলায় বললো, “কান্না থামাও। চোখে যেন একফোঁটাও জল না দেখি।”
আকসা কান্না থামিয়ে হেঁচকি তুলতে লাগলো৷ মেজবাহ ওকে জড়িয়ে ধরে রেখেই পিঠের ওপর থেকে চুল সরিয়ে জামার ফিতা বেঁধে দিলো৷ এরপর আচনক ছেড়ে দিলো আকসাকে।
“ধীরেসুস্থে নিচে নেমো এসো৷ ভয় পেও না। আমি আছি৷”
মেজবাহ’র মুখের রঙ হঠাৎ বদলে গেল যেন। ও আকসাকে শান্ত সুরে কথাটা বলে বেপরোয়াভাবে পা বাড়াতেই আকসা ওর হাত টেনে ধরে অস্থির কন্ঠে বললো, “কোথায় যাচ্ছেন মেজবাহ?”
“নিচে।”
“প্লিজ কাউকে কিছু বলবেন না। মান-সম্মানের একটা ব্যাপার আছে আর—”
“হাত ছাড়ো।”
শীতল গম্ভীর কন্ঠটা শুনে ভয়ে আকসার শিরদাঁড়া বেয়ে একটা ঠান্ডা স্রোত বয়ে গেল। ও হাত ছেড়ে দিলো৷ মেজবাহ চোখের পলকে নিচে নেমে গেল। আকসা সেখানে দাঁড়িয়ে মিনিট পাঁচেক চেষ্টায় নিজেকে স্বাভাবিক করলো। চোখ মুছে নিলো। এলোমেলো চুল বেঁধে ফেললো। ঝুলতে থাকা ওড়নাটা আগের মতো করে ভালোভাবে গায়ে পেঁচিয়ে নিলো।
হঠাৎ নিচ থেকে চেঁচামেচির আওয়াজ ভেসে আসতেই চমকে উঠলো আকসা। দ্রুত পা চালিয়ে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই দেখলো, দোতলায় কেউ নেই। সবাই নিচতলায়। নিচতলার বারান্দায় বেশ শোরগোল। অনেক আওয়াজ আর চিৎকার-চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে। আকসা দ্রুত পা চালাতেই দেখলো, মিহি, মারিয়ারা দৌড়ে আসছে দক্ষিণের ঘর থেকে। আকসা ওদের দেখে অস্থিরভাবে প্রশ্ন করলো, “কী হয়েছে মিহি? মারিয়া আপু, কী হলো হঠাৎ? এতো চেঁচামেচি কেন?”
ওরা নিচে নামতে নামতে ব্যস্তভাবে বললো, “ঠিক জানি না৷ তবে তাহসিন এসে বললো, ভাইয়া নাকি আরফান ভাইয়াকে মারছে৷ মারতে মারতে নাক-মুখ থেকে রক্ত বের করে ফেলেছে। আমরা ঘুমাচ্ছিলাম। হঠাৎ এসব কি হলো!
ওরা কথা বলেই দৌড়ে নিচে নেমে গেল। আকসাও দ্রুত সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে রেলিঙের কাছে দাঁড়াতেই দেখতে পেল, বাড়ির সব মানুষ বারান্দায় দাঁড়িয়ে। মুরব্বি, ছোট সবাই আছে। বারান্দার একপাশের পিলারের ওখানে মেজবাহ আরফানকে কলার ধরে মিশিয়ে ধরে রেখেছে। পেছন থেকে আফিফ, আফ্রিদ আর ছোট খালু মেজবাহকে থামানোর চেষ্টা করছে। মেজবাহ’র আব্বু এহসানুল হক একপাশে দাঁড়িয়ে চেঁচামেচি করছেন। তার কথাগুলো আকসার কানে আসলো। ওর শ্বশুর চেঁচিয়ে বলছেন, “কী করছো মেজবাহ? রাত-বিরেতে এসব কী শুরু করলে? ওকে মারছো কেন? কিছু বলছোও না! দয়া করে থামো এবার!”
সবাই মেজবাহকে থামতে বলছে। তবে মেজবাহ থামলো না। বরং আগের চাইতে দ্বিগুণ শক্তিতে আরফানের নাকে-মুখে ঘুষি মারতে মারতে হিসহিসিয়ে দাঁতে দাঁত পিষে চেঁচিয়ে বললো, “জানোয়ারের বাচ্চা! তুই আমার ওয়াইফের গায়ে হাত দিস! ওকে নোংরা কথা বলিস! সাহস কীভাবে হয় তোর? যেই মুখ দিয়ে ওকে নোংরা কথা বলেছিস, ওই মুখ আমি টেনে ছিঁড়ে নেবো!”
কথাটা বলেই মেজবাহ আরফানের মুখ বরাবর ঘুষি মারে একটা। সঙ্গে সঙ্গে আরফানের মুখ গলে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করলো। পেছন থেকে তিনজন সর্বশক্তি দিয়ে মেজবাহকে আটকানোর চেষ্টা করলো। তবে স্পেশাল আর্মড ফোর্স এবং প্যারা কমান্ডো বিগ্রেডের ট্রেইন-প্রাপ্ত অফিসারকে থামানো খুব একটা সহজ হলো না তাদের জন্য। মেজবাহ যেন রাগে দ্বিগ্বিদিক শূন্য হয়ে গেছে। ও পুনরায় বললো,,
“শুয়োরের বাচ্চা, যেই হাত দিয়ে ওকে টাচ করেছিস, সেই হাত আমি ভেঙে ফেলবো আমি!”
কথাটা বলেই মেজবাহ আরফানের হাত মুচড়ে ধরলো৷ সঙ্গে সঙ্গে একটা আর্তনাদ শোনা গেল। বোধহয় হাত ভেঙেই ফেলেছে। আকসা একেবারে রেলিঙের সাথে মিশে চুপসে গেছে। সেখানে দাঁড়িয়েই ও শুনতে পেল, সামনে ওর শাশুড়ি আহাজারি করতে করতে পাশে ছোটবোনকে বলছেন, “আমার ছেলেটার কি হয়ে গেল! যেই ছেলে আমার গালি দেওয়া পছন্দ করে না, জীবনে কোনোদিন কাউকে একটা গালিও দেয়নি, মারপিট করেনি; সেই ছেলে সব করছে আজ!”
ইশা বেগম কাঁদছেন আর ছেলেকে থামতে বলছেন। মেজবাহ তবু থামছে না। একটা তুলকালাম অবস্থা বিরাজ করছে।
এহসানুল হক চেঁচামেচি করে ছেলেকে বলছেন, “মেরে ফেলবে নাকি ছেলেটাকে! এবার তো ছাড়ো!”
এই মুহূর্তে মেজবাহকে থামানো প্রয়োজন। আকসা এবার সিঁড়ি থেকে নেমে দ্রুত ছুটে গেল৷ পিলারের কাছে দৌড়ে গিয়ে মেজবাহ’র হাতের বাহু টেনে ধরে এবার কাকুতিমিনতি করে বললো, “প্লিজ মেজবাহ। ছেড়ে দিন এবার। ছাড়ুন না প্লিজ।”
আকসা বলামাত্র মেজবাহ ছেড়ে দিলো আরফানকে। আরফান তখন অর্ধমৃত প্রায়। আকসা একবার তাকিয়ে দেখলো ঘৃণাভরে। সামান্য করুণা পর্যন্ত হলো না ওর। পারলে থুতু ছিটিয়ে দিতো। মেজবাহ’র শার্ট ঘামে ভিজে পিঠের সাথে মিশে গেছে। ও আকসার হাত টেনে ধরে এহসানুল হকের সামনে এগিয়ে গিয়ে কঠিনভাবে বললো, “আমি আর একমুহূর্তে এখানে থাকছি না আব্বু। আমার ওয়াইফকে নিয়ে রাইট নাউ এখান থেকে চলে যাচ্ছি। তোমাদের খুব থাকার শখ হলে তোমরা থাকতে পারো। আমি দু-একদিনেে মধ্যে ক্যান্টনমেন্টে চলে যাবো। তোমার বাসায় থাকতে মোটেও ইচ্ছুক নই। আমাকে যেন কল করা না হয়। তোমার নাম্বার আমার ব্লকলিস্টে থাকবে। আসছি। আল্লাহ হাফেজ। আকসা, এসো।”
মেজবাহ আকসার হাত টেনে ধরে ওই অবস্থাতেই ওকে টেনে নিয়ে বেরিয়ে গাড়িতে উঠলো। আকসা কিছু একটা বলতে চাইলো। কিন্তু মেজবাহ’র ওই রূপ দেখে আর কিছু বলার সাহস হলো না ওর।
চলবে
Share On:
TAGS: ঝিলিক মল্লিক, সীমান্তরেখা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ২২
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১২
-
সীমান্তরেখা পর্ব ১
-
সীমান্তরেখা পর্ব ১২
-
সীমান্তরেখা পর্ব ১৪
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৪
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ২
-
সীমান্তরেখা পর্ব ৬
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ১৬
-
উড়াল মেঘের ভেলায় পর্ব ৯