Golpo romantic golpo সীমান্তরেখা

সীমান্তরেখা পর্ব ১৭


সীমান্তরেখা

লেখনীতে— #ঝিলিক_মল্লিক

পর্ব_১৭

[কপি করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।]

আকসা এতোক্ষণ ধৈর্য সহকারে বসে থাকলেও এবার ওর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। চোখগুলো যেন দপ করে জ্বলে উঠলো ওর। ও আশেপাশে দেখলো৷ রিমু ততক্ষণে উঠে নিচে চলে গেছে। মিহির ফোনে কল এসেছিল সম্ভবত, একারণেই। ছাঁদে আপাতত আর কেউ নেই। আকসা এতো সময় যাবত মুঠো করে রাখা হাত আলগা করলো। সামান্য সামনে এগোলো ও। নীতির থেকে হাত-খানেকের দূরত্ব বজায় রেখে বসলো। আকসা সামান্য হেঁসে নীতিকে জিজ্ঞাসা করলো, “জোঁক চেনো তো নীতি?”

“হ্যাঁ। কেন?”

নীতি ভ্রু কুঁচকে প্রশ্নটা করতেই আকসা সেই হাসির ধারা বজায় রেখে বললো, “জোঁক এমন এক প্রাণী, যেটা একবার শরীরে লেগে গেলে সহজে ছাড়ানো যায় না। অমেরুদণ্ডী তো। মেরুদন্ড থাকলে নাহয় সোজা সেখানে আঘাত করে ভেঙে ফেলা যায়। আর শিরদাঁড়া উঁচু করে উঠে দাঁড়াতে পারতো না৷ কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, জোঁকের তো মেরুদণ্ড নেই। একারণেই জোঁককে লবণ দ্বারা মেরে ফেলা হয়। লবণ ছিটিয়ে দিলে জোঁকের জারিজুরি সব শেষ!”

“তো? এসব কথা আমাকে শোনাচ্ছো কেন?”

আকসার কথার বিপরীতে নীতি ভ্রু কুঁচকে বিরক্তিস্বরে কথাটা বলতেই আকসা উপহাস্য করে হেঁসে বললো, “কারণ তুমি ওই জোঁকের মতোই। যার কোনো মেরুদণ্ড, আনুবাদিক ভাষায় বলা যায়— লজ্জা-শরমের বালাই নেই। জোঁককে যেমন লবণ ছিটিয়ে ঘায়েল করা হয়; তেমনই তোমাদের মতো নির্লজ্জ, বেয়াদব মেয়েদেরও ঠিক এইভাবে—”

আকসা এই অবধি কথা থামিয়ে আচনক নীতির চুলের মুঠো টেনে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বললো, “এইভাবে সিধে করতে হয়। যদিও তোমরা সিধে হওনা। মেরুদন্ডী প্রাণীরা সিধে হয়। কিন্তু তোমার তো মেরুদন্ড-ই নেই।”

“কি করছো! লাগছে, ছাড়ো!”

নীতি ব্যাথায় কুঁকড়ে উঠে কথাটা বললো। তবে আকসা ওকে ছাড়লো না। ওর কথা শুনে বিপরীতে আরো শক্ত করে চুলের মুঠো চেপে ধরলো। নীতিকে সামনে হিঁচড়ে টেনে এনে দাঁত চেপে কঠিন সুরে বললো, “কী বলছিলে মাত্র? মেজবাহ’র বুকে তোমার থাকার কথা ছিল? মানে সিরিয়াসলি? হাসালে। তোমার মতো মেয়ে মেজবাহ’র বুকে কেন, তার পায়ের কাছেও কোনোদিন যেতে পারবে না। তোমরা কেমন জানো? তোমরা হচ্ছো রাস্তার মেয়েদের মতো। তোমাদের চোখ সবসময় থাকে অন্যের স্বামীর দিকে। এমনকি, তোমাদের এই স্বভাব বিয়ে করলেও যায় না। সারাজীবন এর-ওর পেছনে ঘুরে, বিভিন্ন ছেলের সাথে ঘেঁষাঘেষি করে শেষ পর্যন্ত এক নিষ্পাপ, নিরীহ দেখে তার গলায় ঝুলে পড়ে সতীসাধ্বী সাজো। তবুও দেখো, বিয়ে করেও তোমাদের স্বভাব পরিবর্তন হয় না। সেই তোমরা ঘুরেফিরে বাইরে মুখ দেবেই। স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও অন্যের স্বামীর দিকে তোমাদের চোখ যাবেই। এগুলো কোনো গর্বের কাজ না বুঝলে? এসব আচরণকে থার্ড ক্লাস বা খাঁটি বাংলায় ‘বস্তিমার্কা আচরণ’ বলে। তোমার নাম নীতি কে রাখলো বলো তো? নাম নীতি, অথচ নীতি-নৈতিকতার ছিটেফোঁটাও তোমার মাঝে নেই। সম্পূর্ণ দুর্নীতি দিয়ে ভরপুর। এজন্যই বলা হয়, মানুষের নামের মধ্যে তার কর্ম নিহিত নয়; কর্ম নিহিত থাকে গুণে। এরপর থেকে মেজবাহকে নিজের বলে দাবি করলে তোমার জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো আমি। আর যেই চোখ দিয়ে তাকে দেখবে, সেই চোখ খুঁচে তুলে নেবো বলে রাখলাম। চরিত্রহীনা কোথাকার!”

শেষোক্ত কথাটা কিঞ্চিৎ জোরের সাথে বলে নীতির চুলের মুঠো ছেড়ে দিলো আকসা। মাদুরের ওপর থেকে ফোনটা নিয়ে উঠে গেল ও। নীতি তখনও সেখানেই বসে আছে স্তব্ধ বনে। আকসা জুতা পায়ে গলিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়ে আবার কি মনে করে যেন থেমে গেল। এরপর পেছনে ঘুরে এসে দাঁড়িয়ে আঙুল তুলে নীতিকে শাসিয়ে বললো, “আর হ্যাঁ, তুমি মেজবাহ’র ওপরে যেই এলিগেশন গুলো এনেছো, সেগুলো সত্যি হলে যাও মেজবাহ তোমার। আর যদি মিথ্যা হয়, তাহলে তোমাকে আমি এফোঁড়ওফোঁড় করে ফেলবো। কোনোভাবেই বাঁচতে পারবে না। আমার জুতা তোমার মুখে উঠবেই। তুমি এখন চাইলে সবার কাছে গিয়ে ন্যাকামো করে কেঁদেকেটে বলতেই পারো যে, বেয়াদবি করার কারণে তুমি তোমার ভাবীর হাতে অপদস্ত হয়েছো। এতে বরং ভালোই হবে। তোমার মুখোশ টেনে ছিঁড়তে আমাকে আর কষ্ট করতে হবে না।”

আকসা কড়াভাবে কথাগুলো বলে উল্টোদিকে ঘুরে গটগট পায়ে হেঁটে চলে গেল। নীতি মাদুরের ওপরেই অন্ধকারের মধ্যে বসে রইলো। নড়াচড়া করলো না আর।
.
.
আকসা সিঁড়ি বেয়ে একেক ধাপ নিচে নামছে আর কিছুক্ষণ আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা এবং নীতির বলা কথাগুলো ভাবছে। নীতিকে ওর বেয়াদবির জবাব দিয়ে আসলেও আকসা নিজেকে আশ্বস্ত করতে পারছে না। ওর বিশ্বাস-ই হচ্ছে না, মেজবাহ এমন কাজ করতে পারে। আবার পুরুষ মানুষকে পুরোপুরি বিশ্বাসও করা যায় না। পৃথিবীর কোনো পুরুষকেই সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাস করতে পারে না আকসা। অন্ধবিশ্বাস করা মানেই সর্বনাশ।
মেজবাহ কী তাহলে সত্যিই . . .? না না, এমনটা হতে পারে না! আবার ওই ছবিটা? ওটা তো মিথ্যা নয়। আকসা পড়াশোনা জানা, শিক্ষিত একজন মেয়ে। বিএ পড়ছে বর্তমানে। তারওপর প্রযুক্তি সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা আছে ওর। এই যুগের মেয়ে ও। কোনটা সত্যি আর কোনটা মিথ্যা — এই পার্থক্য সহজেই ধরতে পারে ও। সেই হিসেবে ছবিটা দেখে কোনোভাবেই এডিটিং করা মনে হয়নি। তাহলে? তাহলে কী? সবকিছু সত্যি? আকসা দোটনার মধ্যে পড়ে গেছে। প্রচন্ড অস্থির লাগছে ওর। তাকিয়ে দেখলো, সিঁড়ির রেলিঙের ওপরে রাখা ডান হাতটা অনবরত কাঁপছে। অস্থির হয়ে পরলে আকসার এমন হাত কাঁপে। ও জিভ দ্বারা ঠোঁট ভিজিয়ে নিলো। গলা শুকিয়ে গেছে। পানি খাওয়া প্রয়োজন। সিঁড়ি বেয়ে নামলেই বারান্দা পেরিয়ে বড়ঘর। আকসা দূর থেকেই তাকিয়ে দেখলো, সেখানে সোফায়, ফ্লোরে মাদুর বিছিয়ে মুরব্বিরা সবাই গল্প-গুজব করছেন। আকসা সেদিকে যাবে না৷ ও আন্দাজ করতে পারছে, এই মুহূর্তে ওর মুখের প্রতিক্রিয়া স্বাভাবিক নয়। ওকে দেখে কেউ যদি কিছু জিজ্ঞাসা করে বসে? আকসা আপাতত ঝামেলা এড়াতে চাইছে। আগামীকাল বাদ পরশু এখান থেকে ফিরবে সবাই। তার আগেই এই বিষয়টার নিষ্পত্তি করতে হবে। মেজবাহ’র সাথে কথা বলা প্রয়োজন। আকসা মেজবাহকে খোঁজার জন্যই বড়ঘরের সামনে থেকে হেঁটে গেল। যাওয়ার পথে ভেতরে তাকিয়ে দেখলো ভালোভাবে। মেজবাহ সেখানে নেই। তারমানে অন্য কোথাও আছে।
দক্ষিণ পাশের একটা ঘর আকসার ননদদের থাকার জন্য ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল সেই দুপুরেই। আকসা সোজা সেই ঘরে গেল। মিহি আর রিমু মারিয়ার সাথে সেই ঘরেই উপস্থিত আছে। মিহি সম্ভবত লাগেজ থেকে ওর কিছু দরকারি জিনিস বের করছিল। আকসাকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মারিয়া আপু বললো, “ওহ আকসা এসেছো। আমরা ছাঁদেই যাচ্ছিলাম। স্যরি দেরি করে ফেলেছি। তোমাকে অনেকক্ষণ বসে থাকতে হয়েছে, তাইনা? আসলে মিহির একটা পার্সোনাল প্রবলেম হয়েছে তো। সেজন্যই পিঠাপুলি রেখে আমরা এই ঘরে আসলাম ওকে হেল্প করতে। জিনিসটা নাকি খুঁজেই পাচ্ছে না। এই দেখো, এখন বেরিয়েছে। যাক, আকসা লাকি চার্ম হয়ে এসেছে। ও আসার পরেই পাওয়া গেল।”

মিহি ততক্ষণে স্যানিটারি ন্যাপকিন বের করে সোজা ওয়াশরুমে চলে গেছে। আকসা এসব বিষয়ে মনোযোগ দিলো না আপাতত। শুধু হা, হু বলে মাথা নাড়লো। মুখ যথাযথ চেষ্টায় স্বাভাবিক রেখেছে। যেন কিছুই হয়নি। আকসা রিমুকে জিজ্ঞাসা করলো, “তোমার ভাইয়াকে দেখেছো রিমু?”

“না তো ভাবী। আমরা রান্নাঘর, বড়ঘর আর ওপাশের বারান্দা থেকে ঘুরে আসলাম কিছুক্ষণ আগে। কিন্তু ভাইয়াকে আশেপাশে কোথাও দেখিনি। হয়তো ভাইয়া আফিফ ভাইয়াদের সাথে বেরিয়েছে। তারাও তো নেই বাড়িতে।”

তারমানে মেজবাহকে এখন পাওয়া যাবে না। এদিকে ব্যাপারটার কোনো সুরাহা না করা অবধি আকসা শান্তি পাচ্ছে না। মনের মধ্যে খচখচ করেই চলেছে। খুব অশান্ত লাগছে। হৃদয়ে বিধ্বস্ত ঝড় বইছে যেন। হাত-পা ক্রমশই ঠান্ডা হয়ে আসছে ওর৷ একরাশ মাথাব্যাথা নিয়ে আকসা সেই ঘর থেকে বেরিয়ে উদ্দেশ্যহীনভাবে লম্বা বারান্দা ধরে হেঁটে যেতে লাগলো। হঠাৎ সিঁড়ির গোড়ায় আসতেই দেখলো, মেজবাহ সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসছে দোতলায়। পেছনে আফিফ, আফ্রিদ আর মারিয়ার চাচাতো ভাই আরফান। আরফানকে এই দ্বিতীয়বার দেখলো আকসা। পরিচয় হয়েছে সন্ধ্যায়৷ সারাদিন বাসার বাইরে ছিল আরফান। সন্ধ্যায় ফেরার পর পরিচিত হয়েছে সবার সাথে। এই ছেলে নীতির ভাই। আকসার কাছে মনে হলো, ভাই-বোন দু’টো একই৷ এই ছেলেকে প্রথম দেখাতেই কেমন জানি লেগেছে ওর। আফিফ, আফ্রিদ ভাইয়ারা আসার পর থেকে বেশ সম্মান দিয়ে কথা বলেছে। ভাবী-দেবরের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। বেশ ভদ্র ওরা৷ এদিকে এই ছেলে দেখার পর থেকেই বারবার কেমন আড়চোখে তাকাচ্ছে। সবার সামনে নয়৷ অগোচরে তাকাচ্ছে। ওই চাহনি মোটেও শনি-সংকেত ঠেকছে না আকসার। ও একবারের বেশি তাকায়নি। তবে কোনো পুরুষ একদৃষ্টিতে পরখ করলে সেটা বেশ ভালোভাবে উপলব্ধি করার ক্ষমতা নারীর জন্মগতভাবেই থাকে। স্বভাবতই, আকসাও টের পাচ্ছে। সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া না দেখালেও ভ্রু কুঁচকে বিরক্তিভাব নিয়ে আছে ও।

সবাই সিঁড়ি পেরিয়ে বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে। আকসাকে সেখানে অটলভাবে একা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সবাই কৌতূহলী হয়ে দেখলো ওকে। মেজবাহ’র পেছন থেকে আফিফ জিজ্ঞাসা করে উঠলো, “আপনি এখানে একা দাঁড়িয়ে আছেন কেন ভাবী? সবাই কোথায়?”

“ভেতরে।”

আকসা প্রথম প্রশ্নটার জবাব না দিলেও দ্বিতীয় প্রশ্নের জবাবটা দিলো, তবে অন্যমনষ্কভাবে। মেজবাহ সবার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আকসাকে একদৃষ্টিতে দেখছে ও। আকসার দৃষ্টিও মেজবাহ’র ওপরেই। ও বোধহয়, চোখের স্ক্যানার দ্বারাই মেজবাহকে বোঝার চেষ্টা করছে। মেজবাহ সরু চোখে দেখছিল আকসাকে। হঠাৎ ওকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করলো, “কী হয়েছে?”

আকসা এবার যথাসম্ভব স্বাভাবিক স্বরে বললো, “আপনার সাথে কথা আছে।”

“কী কথা?”

“এখানে বলা যাবে না।”

আকসা কিছুটা দ্বিধান্বিত হয়ে কথাটা বলতেই মেজবাহ আশেপাশে তাকিয়ে ভাইদের দেখে বললো, “তোরা ভেতরে যা। পরে আসছি আমি।”

মেজবাহ’র বলার সাথে সাথেই সবাই হুড়মুড়িয়ে ভেতরে চলে গেল। মেজবাহ এবার হাতখানেক দূরত্ব বজায় রেখে আকসার সামনে এগিয়ে আসলো। হাতদু’টো পেছনে মুড়িয়ে মুখ উঁচু করে বললো, “বলো এবার।”

“আসুন আমার সাথে।”

আকসা আর কোনো কথা না বলেই পেছনে গিয়ে হাঁটা শুরু করলো। মেজবাহ ভ্রু কুঁচকে ফেললো। তবে আকসার পিছু পিছু হাঁটতে লাগলো। শুধু একটা প্রশ্ন করলো, “ইজ দিস ঠু পার্সোনাল?”

“জি।”

আকসার সাথে মেজবাহ ওদের জন্য বরাদ্দকৃত অতিথি ঘরটার দিকে পা চালালো।
.
.
আকসা দরজা আঁটকে দরজার পেছনে হাত ঠেকিয়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওর সামনে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে মেজবাহ। ভ্রু দ্বিমাত্রিকতায় কুঁচকে আছে ওর। চোখে-মুখে কৌতূহল। মেজবাহ কখনো এতোটা প্রতিক্রিয়া দেখায়নি কোনো ব্যাপারে৷ তবে আজ দেখাচ্ছে। আকসার অবস্থা স্বাভাবিক নয়। কেমন যেন অস্বাভাবিক আচরণ করছে মেয়েটা। চোখ-মুখ উদভ্রান্ত ওর৷ মেজবাহ এই নিয়ে প্রায় মিনিট দুয়েক দাঁড়িয়ে আছে। আকসা কিছু বলছে না৷ শুধু একদৃষ্টিতে দেখছে ওকে। মেজবাহ এবার কিছুটা বিরক্তিস্বরে জিজ্ঞাসা করলো, “কী হয়েছে? কিছু বলছো না কেন? টাইম ওয়েস্ট হচ্ছে আমার।”

প্রশ্নটা করা মাত্রই আকসা চোখের পলকে এগিয়ে এসে মেজবাহ’র শার্টের কলার চেপে ধরলো। মেজবাহ আচনক অপ্রত্যাশিত হামলায় টাল সামলাতে না পেরে কিছুটা ঝুঁকে পরলো৷ পেছনে একটা কাঠের চেয়ার রাখা ছিল। সেই চেয়ারে হাত রেখে সামলে নিলো ও। সঙ্গে সঙ্গে হাত মুঠো করে নিয়ন্ত্রণ করলো। আকসার দিকে কঠিন দৃষ্টি ফেললো। আকসা সেই চাহনি তোয়াক্কা করলো না। ও দাঁতে দাঁত পিষে বললো, “বউয়ের ক্ষেত্রে টাইম ওয়েস্ট, আর অন্য মেয়েদের ক্ষেত্রে অপবিত্রতা? ভালোই তো পারেন অভিনয় করতে। আর্মি অফিসার হয়েছেন কী কারণে? তার চেয়ে ভালো, অভিনেতা হয়ে যেতেন। তবে হিরোর রোলে আপনি টিকবেন না৷ ভিলেন হিসেবে বেস্ট হবেন। যা চরিত্র!”

শেষোক্ত কথাটা বলামাত্র-ই আকসার কোমরে টান পরলো। আকসার কোমর টেনে মেজবাহ ওকে শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরেছে। আকসা নিজেকে ছাড়ানোর প্রাণপণ চেষ্টা করলো। মেজবাহ’র বুকে অজস্র ঘুষি আর ধাক্কা মেরে জোরে জোরে চেঁচিয়ে বললো, “ছাড়ুন আমাকে। অসহ্য লাগছে আপনাকে।”

আকসার কোনো কথা মেজবাহ কানেই নিলো না। ও মুখ উঁচিয়ে প্রশ্ন করলো, “হোয়াট ডু ইউ মিন? তুমি চরিত্র নিয়ে কথা বলছো কাকে? হু? আমার ক্যারেক্টার সম্পর্কে জানো তুমি? কোনো আইডিয়া আছে তোমার? কোন আন্দাজে তুমি আমার ক্যারেক্টার নিয়ে কথা বলার সাহস পাও? টেল মি! এখন মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছো কেন?”

আকসা অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেই জবাব দিলো, “আপনি সত্যিই খুব ভালো মেজবাহ? যেমনটা দেখান, তেমনই কী? আদৌও ভদ্র? নাকি লোক দেখান?”

“সেই কৈফিয়ত আমি তোমাকে দেবো না৷ তুমি জাস্ট আমার ক্যারেক্টারের ওপরে যেই অ্যালিগেশন এনেছো, সেটা প্রুফ করবে। নাহলে তোমাকে আমি ছাড়বো না৷ আজ পর্যন্ত কেউ কোনোদিনও আমার ক্যারেক্টার নিয়ে কথা বলার সাহস বা স্কোপ, কোনোটাই পায়নি। সেখানে তুমি কী হিসেবে বললে হ্যাঁ? হাউ ডেয়ার ইউ?!”

মেজবাহ কিঞ্চিৎ চিৎকার করে ধমকে প্রশ্নটা করলো। আকসা কেঁপে উঠলো। এর আগে কোনোদিন মেজবাহকে এতোটা রেগে যেতে দেখেনি। অবশ্য ‘এর আগে’ বললেও ভুল হবে৷ আজ পর্যন্ত কোনোদিন ও মেজবাহ’র রাগ-ই দেখেনি। এটাই প্রথমবার। এই রাগ বোধহয় না দেখলেই ভালো হতো। আকসার আফসোস হচ্ছে এখন। ও অস্থির চোখে মেজবাহকে দেখলো৷ মেজবাহ’র হ্যাজেল চোখের মণির বাইরের সাদা অংশ কিঞ্চিৎ লালবর্ণ ধারণ করেছে।
ওর কোমর আরো শক্ত করে পেঁচিয়ে ধরেছে মেজবাহ। আকসা ব্যাথা পাচ্ছে বেশ। তবে হার মানছে না৷ ব্যাথা পাওয়ার কথা ও কোনোভাবেই মেজবাহকে বলবে না, দুর্বল হবে না৷ মেজবাহ আকসার কাছ থেকে কোনো প্রতিত্তোর না পেয়ে পুনরায় বললো, “তুমি যদি মেয়ে না হতে তাহলে আজ কনফার্ম আমার হাতে কমপক্ষে দশটা থাপ্পড় খেতে। শুধুমাত্র আমার ক্যারেক্টার নিয়ে কথা বলার কারণে। মেয়ে হওয়ার জন্য বেঁচে গেলে। কিন্তু কোনো ক্ল্যারিফিকেশন না দিয়ে তুমি ছাড়া পাবে না।”

আকসা এবার নিরবতা ভেঙে ক্রন্দনরত সুরে বলে উঠলো, “আপনি এতোই ভালো, এতোটাই ভালো যে, নিজের খালাতো বোনের চাচাতো বোনের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক করেন, যে কিনা আপনার বোনের মতোই!”

কথাটা শোনামাত্র আকসাকে এক ধাক্কায় বিছানার ওপরে টেনে ফেললো মেজবাহ। রাগে হিতাহিতজ্ঞানশূন্য ও। মাথায় রক্ত উঠে গেছে যেন। আকসাকে বিছানার সাথে দুই হাতে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত পিষে বললো, “খুন করে ফেলবো তোমাকে। জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো তোমার। তুমি আমার সম্পর্কে এসব নোংরা কথা বলার সাহস পাও কীভাবে? এসব ডিজগাস্টিং কথা বলছো কেন? হোয়াই? আন্সার মি!”

মেজবাহ’র ধমকে আকসা কেঁপে উঠলো। তবু দমে গেল না। ও সমান জোরের সাথে বললো, “যা শুনেছি, তাই বলেছি। ভুল তো কিছু বলিনি।”

“কী শুনেছো?”

“আপনার আর নীতির অনৈতিক সম্প..”

আকসা সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে পারলো না৷ তার আগেই মেজবাহ ওর বলিষ্ঠ হাত দ্বারা আকসার মুখ চেপে ধরে কঠিন গলায় বললো, “চুপ! একদম চুপ! এই মুখ থেকে যেন আমার ক্যারেক্টার সম্পর্কে আর একটাও বাজে কথা না বের হয়। জানে মেরে ফেলবো!”

মেজবাহ এখনো শান্ত হয়নি। আকসাকে ছাড়েওনি। আকসা এবার সত্যিই কেঁদে ফেললো। ওর কান্না দেখে মেজবাহ ধীরে ধীরে কিছুটা শান্ত হলো। আকসা কাঁদতে কাঁদতে বললো, “নীতি বলেছে আমাকে। আপনার নাকি ওর সাথে সম্পর্ক ছিল। আপনি ওকে অপবিত্র করেছেন। আপনাদের একটা ফটোও দেখিয়েছে আমাকে। যেখানে নীতি আপনার হাত ধরে ছিল। আপনারা হাসছিলেন আর..”

“ব্যস। আর কিছু শুনতে চাই না।”

আকসাকে থামিয়ে দিলো মেজবাহ। উঠে বসলো ও। আকসা শোয়া থেকেই দেখলো, মেজবাহ’র কপালের শিরা ফুলে গেছে। বোধহয় অনেক বেশি রেগে আছে। আকসার যা বলার দরকার ছিল, বলা শেষ। এবার যা হওয়ার হোক। মেজবাহ পকেট থেকে ফোন বের করে কাকে যেন কল করলো। কল রিসিভ হওয়ার পর মেজবাহ কথা বলতেই আকসা বুঝতে পারলো, ফোনকলটা মিহিকে করা হয়েছে। মেজবাহ ফোনের ওপাশে মিহির উদ্দেশ্যে বললো, “মিহি ইমিডিয়েট আমাদের রুমে আয় তো। হ্যাঁ, যেই রুমটা আমাদেে জন্য দেওয়া হয়েছে। কুইক আয়।”

মেজবাহ কল কেটে আকসার দিকে তাকালো। আকসা বড় বড় চোখ করে মেজবাহ’র দিকেই তাকিয়ে ছিল। ওদের মাঝে হাত দেড়েকের দূরত্ব। মেজবাহ আকসার হাত ধরে একটানে টেনে এনে দূরত্ব মেটালো।
দু’জন এখন মুখোমুখি বসে আছে। আকসার উদগ্রীব চাহনি মেজবাহ’র রাগী চেহারার ওপরে। মেজবাহ তবু শান্ত গলায় আকসার হাত ধরে বললো, “আমার ওপর তোমার একটুও বিশ্বাস আছে?”

“হঠাৎ একথা—”

আকসাকে থামিয়ে দিয়ে মেজবাহ শক্ত গলায় পুনরায় প্রশ্ন করলো, “আছে? হ্যাঁ কি না? আমতাআমতা না করে জাস্ট এককথায় আন্সার করবে।”

“জি আছে।”

আকসা মিথ্যা বলতে পারলো না। এতোক্ষণ চেঁচামেচি করে প্রতিক্রিয়া দেখালেও বাস্তবিক অর্থে সে মেজবাহকে বিশ্বাস করে। তবে ওইযে বলে না? পৃথিবীর কোনো পুরুষকেই শতভাগ বিশ্বাস করা যায় না— আকসার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমন থিওরি কাজ করে৷ ও মেজবাহকে বিশ্বাস করে। বিশ্বাস করে যে, মেজবাহ’র মতো ছেলে এমন কাজ করতে পারে না। তবু পুরুষ মানুষ বলে মনে ওর দ্বিধা রয়েছে৷ যেটাকে ইংরেজিতে বলা হয় — “ইনসিকিউরিটি।”
এই ইনসিকিউরিটি থেকেই আকসার মনের এমন অবস্থা।

মেজবাহ ওর কাছ থেকে উত্তর পেয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করলো, “কতোটুকু বিশ্বাস করো?”

“যতোটুকু বিশ্বাস করলে একজন পুরুষ মানুষের সাথে বদ্ধ একঘরে থাকার পরেও দমবন্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় না, ঠিক ততোটুকু।”

“ওকে।”

মেজবাহ উঠে দাঁড়ালো। ততক্ষণে মিহিও চলে এসেছে। ও ঘরের দরজার সামনে এসে টোকা দিতেই মেজবাহ ভেতরে আসতে ইশারা করলো। মিহি এসে একপাশে দাঁড়ালো। ভাই-ভাবীকে একসাথে এভাবে মুখোমুখি বসতে দেখেনি কখনো। তারওপর ওর ভাইয়ের চোখ-মুখের ওই গাম্ভীর্যতা আর বিরল রাগটা দেখে মিহি হতচকিত এবং বেশ কৌতূহলী হলো। হয়েছেটা কি! ওর ভাই তো সহজে রাগে না! মনে অজস্র প্রশ্ন এসে জড়ো হলো ওর।
ও কিছু জিজ্ঞাসা করার আগেই মেজবাহ ওকে জিজ্ঞাসা করলো, “মিহি, নীতিকে আমি কেমন নজরে দেখি?”

“মানে? এটা কেমন প্রশ্ন ভাইয়া?”

“যা জিজ্ঞাসা করেছি, জাস্ট সেটার উত্তর দে।”

“বোনের নজরে।”

“নীতি আমাকে কেমন চোখে দেখতো?”

মিহি এই প্রশ্নটা শুনে মাথা নিচু করে ফেললো। কোনো জবাব দিলো না৷ আকসা সরু চোখে তাকিয়ে আছে। মেজবাহ কি বোঝাতে চাইছে, সেটা এখনো পর্যন্ত বুঝতে পারছে না ও।

মিহিকে চুপ থাকতে দেখে মেজবাহ আবারও বললো, “চুপ করে থাকার মতো কিছু হয়নি। যা সত্যি, সেটাই বলবি। আমি ওকে বোনের মতো ভেবেছি সবসময়। ও কি আমাকে ভাইয়ের নজরে দেখতো?”

“তোমাকে তো ও পছন্দ করতো ভাইয়া। ভাইয়ের নজরে তো কখনোই দেখতো না ও। তোমাকে বিয়েও করতে চেয়েছিল একসময়। সেজন্য কত কি পাগলামি করা। এমনকি বছর দুয়েক আগে যেই একটা অঘটনও ঘটিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল। ভাগ্যিস.. ”

“কী অঘটন?”

এবেলায় আকসা বেশি কৌতূহলী হয়ে প্রশ্নটা করলো৷ মিহি এবার বলতে লাগলো, “নীতি যে ভাইয়াকে পছন্দ করতো, এটা আমরা কেউই জানতাম না৷ একসময় ও মারিয়া আপুর সাথে আমাদের বাসায় অনেক বেশি যাওয়া-আসা করতো। নানান বাহানায় ভাইয়ার কাছ ঘেঁষার চেষ্টা করতো। যদিও এগুলো আমরা পরে বুঝতে পারি। নীতিকে ভাইয়া ছোটবোনের মতোই জানতো৷ ভাইয়ার কাছে আমরাও যেমন, নীতিও তেমনই। কিন্তু এই সুযোগের ফাঁয়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল নীতি। ভাইয়ার সাথে আমাদের ভাইবোনদের সবার কিছু গ্রুপ ফটো ছিল। ভাইবোনদের ফটো, বুঝতেই পারছো। সবাই হাসি-মজা করছে— এমন। তো নীতিও এই সুযোগে ভাইয়ার সাথে নিজের কিছু ফটো তুলে রেখেছিল। ভাইয়া তো ওকে বোন ভাবে৷ তাই স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিল। কিন্তু নীতি এরপর যা করলো! ভাইয়ার সাথে তোলা কিছু ফটো আর গ্রুপ ফটো ক্রপ করে দুজনের কিছু একত্রিত ফটো বানিয়ে সবাইকে দেখিয়ে বলে বেড়াতে লাগলো যে, ভাইয়ার সাথে ওর প্রেমের সম্পর্ক, খুব গভীর সম্পর্ক। ভাইয়া নাকি কথা দিয়েছে যে, ওকে বিয়ে করবে। এসব কথা ছড়ানোর পরে ভাইয়া ইমিডিয়েট ছুটি নিয়ে সোজা ক্যান্টনমেন্ট থেকে এসে সবাইকে বুঝিয়ে বলেছিল যে, নীতির সাথে ভাইয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি ভাইয়া ভালোভাবে সেটা প্রুফও করেছিল৷ আর নীতিও নিজের দোষ স্বীকার করে নিয়েছিল। ছোট ভেবে সবাই ওকে ছেড়ে দিয়েছিল। ছোট মানুষ ভুল করেছে, বড় হতে হতে ঠিক হয়ে যাবে। একারণে। এই দুই বছরে তো সবাই প্রায় সবকিছু ভুলেই গেছে। এখন সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে গেছে। কিন্তু হঠাৎ এই পুরোনো কথা উঠলো কেন ভাইয়া?”

মেজবাহ মিহির প্রশ্নের জবাবে কিছু না বলে শুধু বললো, “নীতি কোথায়? ওকে ডেকে আন এখনই।”

মিহি দৌড়ে নীতিকে ডাকতে চলে গেল৷ আকসা তখনো বিছানায় বসে আছে। মনে প্রশান্তির ঢেউ বইছে যেন। অস্থির হৃদয় এতোক্ষণে শান্ত হয়েছে৷ বুক ধুকপুক করছে না এখন। আকসা আড়চোখে মেজবাহকে দেখলো। ওর ঠোঁটের কোণে একেবারে সূক্ষ্ম হাসির রেখা।

আকসা মেজবাহকে কিছু বলতে চাইছিল। তার আগেই মিহিকে দেখা গেল। নীতির হাত টেনে ধরে ঘরের ভেতর নিয়ে এসেছে ও। নীতিকে টেনে সামনে এনে দাঁড় করিয়ে ও হেঁসে হেঁসে বললো, “আসতে চাচ্ছিল না ভাইয়া। টেনে নিয়ে আসলাম।”

আকসা নীতির মুখের দিকে তাকালো। কিছুক্ষণ আগেও হম্বিতম্বি করা ভাবটা এখন নেই। মুখ চুপসে গেছে একদম। মেজবাহকে দেখে গুটিসুটি মেরে দাঁড়িয়ে আছে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে, ওকে জোর-জবরদস্তি করে এখানে আনা হয়েছে। ওর চোখে-মুখে ভয়ের ছাপ। আকসা মনে মনে সামান্য হাসলো। মেজবাহ বুকে হাত গুঁজে রূঢ় গলায় নীতিকে প্রশ্ন করলো, “তোর সাথে আমি কী করেছি নীতি?”

নীতি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকলো। মেজবাহ ধমক দিয়ে বললো, “কী হলো? এখন মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না কেন? বল! কী করেছি?”

“ভাইয়া আসলে আমি. . .”

“যা যা তোর ভাবীকে বলেছিস, সেই কথাগুলো এখন যদি এখানে প্রমাণ সহকারে প্রেজেন্ট করতে না পারিস; তাহলে তোকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে গিয়ে আর্মি স্টাইলে পেটাবো।”

“ভাইয়া—”

মেজবাহ’র হুমকি শুনে ‘ভাইয়া’ বলেই কেঁদে ফেললো নীতি। আচনক মেজবাহ’র পায়ের কাছে বসে পরলো ও। ওর পা জড়িয়ে ধরে বললো, “আমি আর কখনো এমন করবো না ভাইয়া। এবারের মতো মাফ করে দাও।”

“ছাড়! আমার ক্যারেক্টারের ওপর কেউ কোনো অ্যালিগেশন আনার চেষ্টাও করলে তাকে ছেড়ে দিই না আমি। দূরে সর!”

নীতিকে পা দিয়ে ঠেলে সরিয়ে দিলো মেজবাহ। মিহি দাঁড়িয়ে দেখছে সবকিছু। এই মেয়ে আবার ঝামেলা পাকিয়েছে! মেজবাহ এবার ডাকলো, “আকসা।”

আকসা উঠে আসলো। মেজবাহ নীতিকে উদ্দেশ্য করে বললো, “নেহাতই মেয়েদের গায়ে হাত তুলি না। নাহলে তোর কানের নিচে ঠাটিয়ে চড় বসিয়ে দিতাম ক’টা। আকসা, ওর গালে দু’টো থাপ্পড় বসাও। একটা তোমার তরফ থেকে। আরেকটা আমার নাম করে।”

আকসার আদেশ পেতে দেরি, কিন্তু কাজটা করতে দেরি হলো না। এগিয়ে গিয়ে মেজবাহ’র পায়ের কাছে বসে থাকা নীতিকে টেনে তুললো। তারপর খুব জোরে ওর গালে দু’টো চড় বসিয়ে দিলো। মেজবাহ আকসাকে একপলক দেখে মৃদু হেঁসে বিরবির করে বললো, “দ্যাটস মাই গার্ল!”

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply