শেষপাতায়সূচনা [০৯]
সাদিয়াসুলতানামনি
ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে জাওয়াদ বাসায় ফিরে রাত আটটা নাগাদ। জিনিয়া তাকে দরজা খুলে দিয়ে পুনরায় পড়তে বসে। ড্রয়িংরুমের বসেই সে সাধারণত পড়ালেখা করে। এই কাজটা করতে মিসেস শেখই অবশ্য বলেছেন। তার ধারণা, জিনিয়া নিজের রুমে বসে পড়াশোনা করে না ঠিক মতো। যদিও তার এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল, কারণ মেয়েটা ক্লাসের টপার। ভালো ছাত্রী হওয়ার দরুণ স্কুল থেকে প্রায়ই স্যার, ম্যামরা ফোন দিয়ে তার নামে প্রশংসা করে।
জাওয়াদ নিজের রুমে গিয়ে অফিস ব্যাগটা টেবিলের উপর রেখে শার্টের বাটান খুলতে থাকে। ঠিক তখনই ঝড়ের মতো উড়ে পূর্ণতা এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত নিয়ে রুমে প্রবেশ করে। চঞ্চল পায়ে জাওয়াদের কাছে এসে শরবতের গ্লাসটা জাওয়াদের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ব্যস্ত গলায় বলে–
—তিন ঢোকে শেষ করুন। আমি আপনার জামাকাপড় ওয়াশরুমে রেখে এসেছি।
আর জানেন আজ শাশু মা যখন রান্না করছিল আমি তার পাশে দাড়িয়েছিলাম, উনি রাগারাগি করেন নি। বোধহয় রাগ কমছে। আমি তার রাগ চটজলদি ভ্যানিস করার একটা ট্রিকস আবিষ্কার করেছি, জিজ্ঞেস করুন কি?
জাওয়াদের শার্টের বাটান খুলতে খুলতে পূর্ণতা একা একাই কথাগুলো বলতে থাকে জাওয়াদকে কিছু বলতে বা দিয়ে। জাওয়াদ জানে এই মেয়ে পেটের সব কথা উগলে না দেওয়া পর্যন্ত স্থির হবে না। তাই সে বেডে বসে শরবত খেতে খেতে জিজ্ঞেস করে–
—কি ট্রিকস সেটা?
পূর্ণতা উচ্ছ্বসিত গলায় বলে–
—চলুন আমরা টপাটপ বেবি নিয়ে ফেলি কয়েকটা। তারপর মায়ের কোলে ধরিয়ে দিবো। নাতি-নাতনীদের সামলাতে গিয়ে উনি রাগই ভুলে যাবেন। কি ট্রিকসটা জোস হবে না?
জাওয়াদ মাত্র এক চুমুক শরবত গলধকরণ করেছিল, আরেক চুমুক নিচ্ছিল তখনই পূর্ণতা এই কথাটা বলে। তাদের বিয়ের পাঁচ নম্বর দিন চলছে আজ। ধরতে গেলে তারা এখনও নব বর-বধূ। সেই নব বধূর মুখে টপাটপ কয়েকটা বাচ্চা নেওয়ার কথা শুনে জাওয়াদের তালুতে উঠে যায় শরবত। বেচারা খুক খুক করে কাশতে থাকে। পূর্ণতা তাকে কাশতে দেখে তার কাছে এসে তার পিঠে ও মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলতে থাকে–
—সাট সাট! সবেতে আপনারা তাড়াহুড়ো। আমি কি বলেছি এখনই বাচ্চা নেওয়ার প্রসেস শুরু করতে। আস্তে ধীরে খাবেন না। তালুতে উঠিয়ে ফেললেন।
পূর্ণতার বেসাইজ কথা শুনে জাওয়াদের কাশি আরো বেড়ে যায়। এই ঠোঁটকাটা, ধানিলংকাই ছিলো তার মতো একটা শান্তসৃষ্ট, লাজুক ছেলের কপালে! হায় রে কপাল!
জাওয়াদের কাশি থামতেই পূর্ণতা রুম থেকে বের হয়ে যায় কিছু একটা বিরবির করতে করতে। জাওয়াদ তার প্রস্থানের দিকে চেয়ে থাকে কিছুক্ষণ বেআক্কেলের মতো। তারপর উপরের দিকে মুখ তুলে দুই হাত মোনাজাতের মতো করে বলে–
—হে রাব্বুল আলামিন, এই মেয়েকে একটু সুবুদ্ধি দান করো মাবুদ। সারাদিন আমাকে নাকানিচুবানি খাওয়াতে ব্যস্ত থাকে, তাহলে আমি বাচ্চা আনার প্রসেস শুরুই বা কোরবো কখন?
তখনই ভুতের মতো হঠাৎই কোথা থেকে পূর্ণতা প্রকট হয়ে বলে–
— আমি আপনাকে নাকানিচুবানি খাওয়ানো বাদ দিলে আপনি বাচ্চার আনার প্রসেস শুরু করবেন জামাইজান?
পূর্ণতার কণ্ঠস্বর শুনে জাওয়াদ দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে পূর্ণতা তার দুইপাটি দাঁত বের করে ভেটকি দিচ্ছে। এমন একটা ধরা খেয়ে জাওয়াদ তাড়াহুড়ো করে ওয়াশরুমে চলে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। দরজার সাথে পিঠ লাগিয়ে বুকে হাত রেখে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে–
—হায় খোদা, আমিও দেখি ওর মতো বেসাইজ কথা বলা শুরু করে দিয়েছি। এজন্যই বোধহয় বলে, সঙ্গ দোষে লোহা ভাসে।
পূর্ণতা ওয়াশরুমের দরজায় নক করতে করতে জিজ্ঞেস করে–
—ও জামাইজান, বললেন না তো আমি যদি আপনাকে নাকানিচুবানি খাওয়া কমিয়ে দেই বা ছেড়ে দেই তাহলে কি আপনি, আমাদের বাচ্চা আনার প্রসেস শুরু করবেন? কবের থেকে করবেন? আমি আজ এখন থেকেই ভালো হয়ে যাচ্ছি প্রমিজ। কাল থেকে শুরু করবেন প্রসেস তাহলে?
জাওয়াদ তার এহেন কথা শুনে আঁতকে আঁতকে উঠতে থাকে। আসার সময় পূর্ণতাকে দরজার সামনে দেখে এসেছিল, দরজা খোলা ছিল তখন। বাসায় ফিরে বাবা আর বোনকে ড্রয়িংরুমে দেখেছিল সে। পূর্ণতা যদি দরজা খুলে রেখেই এসব বেফাঁস কথা বলতে থাকে তাহলে হয়েছে কাজ। ডিনারের সময় বাবা আর বোনের সামনে যাওয়া হবে না লজ্জায়।
জাওয়াদ কিছুটা রাগ নিয়ে দরজা খুলতেই পূর্ণতা ব্যালেন্স হারিয়ে জাওয়াদের উপর এসে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় জাওয়াদ কয়েক কদম পিছিয়ে গিয়ে ওয়াশরুমের ওয়ালের সাথে লেগে যায়। অজান্তেই তার একহাত চলে যায় পূর্ণতার কোমড়ে। পূর্ণতাও কিছুটা ভয় পেয়ে গিয়েছিল পরে যাওয়ায়। সে চোখ বন্ধ করে দুইহাত দিয়ে খামচে ধরে জাওয়াদের উন্মুক্ত কাঁধদ্বয়।
সময় কিছুটা অতিবাহিত হয়। জাওয়াদ একটু স্বাভাবিক হতেই সে নিজের থেকে পূর্ণতাকে সরিয়ে দেয় জোর করে। তারপর একটা জোরে ধমক দিয়ে বলে–
—এই অসভ্য মেয়ে, কতক্ষণ ধরে কি বলে চলছো মাথায় আছে? আর এমন গলা ফাটিয়ে যে বলছো বাহিরের রুমে বাবা আর আমার ছোট বোন আছে তারা যদি এসব শুনে ফেলে ভাবতে পারছো কেমন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরবো আমি? তুমি না হয় নির্লজ্জ, হায়াহীন মেয়ে মানুষ, বড়ও হয়েছো ওমন পরিবেশে। কিন্তু আমি তো তোমার মতো ওমন পরিবেশে বড় হইনি।
আরেকবার এমন কথা শুনবো চড়িয়ে গাল লাল করে বাসা থেকে বের করে দিবো। অসভ্য মেয়ে কোথাকার! যাও বের হও ওয়াশরুম থেকে।
জাওয়াদের এত এত তিরস্কারে পূর্ণতা ভীষণ কষ্ট পায়। তার বাবা বা বাড়ির কেউ কখনোই তাকে এমন তিরষ্কার বা বকা দেয় নি, এমনকি উঁচু গলায় অব্দি কথা বলেনি। পূর্ণতা মোটেই চটপটে স্বভাবের মেয়ে না। তার সকল বাচ্চামি, চঞ্চলতা, আহ্লাদ, আবদার সব তার ব্যক্তিগত ও আপন মানুষ গুলোর কাছে।
জাওয়াদ তো তার ব্যক্তিগত পুরুষ, তাই তো সে এসব করে জাওয়াদের সাথে। কিন্তু আজ জাওয়াদ এমন তিরস্কার করায় তার চোখে পানি চলে আসে। টানা টানা অশ্রুসিক্ত হরিণী চোখে অভিমানী দৃষ্টি নিয়ে পূর্ণতা তার শ্যামসুন্দর পুরুষের দিকে বেশ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে। তারপর হুট করে দৌড়ে বের হয়ে যায় ওয়াশরুম থেকে।
জাওয়াদের পূর্ণতার অভিমানের টইটম্বুর চোখের চাহনি দেখে কোথাও একটা সূক্ষ্ম ব্যথা অনুভব করে, কিন্তু সে সেই ব্যথাকে পাত্তা না দিয়ে ওয়াশরুমের দরজা লাগিয়ে দেয়।
বর্তমান~
—তুই শালা একটা নিরামিষ গন্ডার! এত কিউট, সুইট আর বিউটিফুল একটা মেয়ে বউ হলে আমি তো সারাদিন…..
মাহবুব তার কথা শেষ না করেই জাওয়াদের দিকে তাকালে দেখতে পায় জাওয়াদ তার দিকে কেমন একটা খেয়ে ফেলা দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে। মাহবুব তার ভুলটা বুঝতে পেরে দাঁত দিয়ে জিভ কাটে। তারপর আমতাআমতা করে কিছু বলতে নিবি তখন একটা ওয়েটার এসে বিনীতভাবে বলে–
—স্যার আমাদের ক্লোজিং টাইম হয়ে গিয়েছে। অনুগ্রহ করে যদি আপনারা এখন আসতেন তাহলে ভালো হতো।
ওয়েটার টির কথা শুনে জাওয়াদ ও মাহবুব দুজনই চমকে গিয়ে নিজেদের ঘড়ির দিকে তাকালে, দেখতে পায় রাত আটটা বেজে গিয়েছে অলরেডি। তারা এসেছিল বিকাল পাঁচটায়। তাদের এখানে আসার তিন ঘন্টা হয়ে গিয়েছে তারা টেরও পায় নি। তারা দু’জন অলরেডি তিন মগ করে ছয় মগ কফি অলরেডি শেষ করেও ফেলেছে।
জাওয়াদ বিল পে করার পর তারা দু’জন সেই ক্যাফে থেকে বের হয়ে আসে। জাওয়াদ বিলের সাথে এক্সট্রা কিছু টিপসও দিয়ে আসে। তারা তাদের রিসোর্টে ফিরে যাচ্ছে। ফেরার পথে জাওয়াদ গাড়ি চালাচ্ছে আর মাহবুব পাশে বসে দাঁত দিয়ে নখ কাটছে। জাওয়াদ আঁড়চোখে একবার তাকে দেখে বলে–
—তিন বাচ্চার বাপ হয়ে এখনও নিজের অ্যানজাইটি কমাতে দাঁত দিয়ে নখ কাটিস। এই তোর বউ তোকে ধরে ঘাড়ায়(মারে) না?
জাওয়াদের কথা শুনে মাহবুব ফট করে তার মুখ থেকে হাত সরিয়ে ফেলে। তার বউও এর জন্য তাকে প্রচন্ড বকাঝকা করে, কারণ তার দেখাদেখি তার ছেলেমেয়ে গুলোও এমন দাঁত দিয়ে নখ কাটা শিখে গিয়েছিল প্রায়ই। মাহবুব নিজের আগ্রহ দমাতে না পেরে বলেই ফেলে–
—তারপর কি হলো দোস্ত? তোদের প্রেমটা কিভাবে হয়েছিল? তুই তো বললি, তুই ভাবীকে অনেক বেশি ঘৃণা করতি তাহলে ঐ বাচ্চাটা এলো কিভাবে? নাকি ঐ সন্তান তোর না?
এই প্রশ্নটা করে বোধহয় মাহবুব তার জীবনের সবচাইতে বড় ভুলটা করে ফেললো। প্রশ্নটা শোনার সাথে সাথে জাওয়াদ জোরে একটা ব্রেক কষে। রাগ নিয়ন্ত্রিত রাগটা ঠেলে বের হয়ে আসে এই পর্যায়ে। সে গাড়ির স্টেয়ারিং সে হাত সরিয়ে এনে লাগায় এক ঘুষি মাহবুবের গালে।
জাওয়াদের শক্তপোক্ত হাতের ঘুষি খেয়ে মাহবুবের গালের ঐপাশটা যেনো অবস হয়ে যায়। মাহবুব তার ভুল বুঝতে পেরে নিজেকে নিজেই চড় লাগায় মনে মনে। কিন্তু ততক্ষণে যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে।
জাওয়াদ গাড়ি থেকে নেমে মাহবুবের পাশে এসে দাড়ায়। তারপর তার পাশের দরজা খুলে মাহবুবকে টেনে বের করে গাড়ি থেকে। মাহবুব এই পুরোটা সময় তাকে বেশ কয়েকবার সরি বলে ফেলেছে অলরেডি। কিন্তু জাওয়াদের রাগ এবার শান্ত হওয়ার নয়।
জাওয়াদ তাকে গাড়ি থেকে বের করে নিজে গাড়িতে চড়ে বসে। তারপর গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগে মাহবুবের দিকে রক্তচক্ষু দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে–
—যে আমার স্ত্রীকে সম্মান করতে পারে না, তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। তোর সাথে আমার সব সম্পর্ক আজ এখানেই শেষ। বন্ধুত্ব ও বিজনেস সব ধরণের সম্পর্ক। আল্লাহ হাফেজ।
কথাটা শেষ করেই জাওয়াদ গাড়ি নিয়ে চলে যায়। মাহবুব কয়েকবার তাকে পিছু ডাকে, কিন্তু জাওয়াদ তার ডাক উপেক্ষা করেই চলে যায়। মাহবুব তার ফোনটাও গাড়িতে ফেলে এসেছে। এই রাতের বেলায় অজানা, অচেনা পাহাড়ি এলাকা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে মাহবুবের বেশ ভয়ই লাগে। নিজের বেশি ছুটতে থাকা মুখ টার জন্য আজ তার এই পরিণতি।
এদিকে জাওয়াদ হাই স্পিডে গাড়ি চালিয়ে নিজেদের রিসোর্টে ফিরে। তার চোখমুখ দেখে যে কেউ বলে দিতে পারবে সে প্রচন্ড রেগে আছে। তার পি.এ. হুমায়ুন রিসোর্টের রিসেপশন এরিয়াতেই ছিল। নিজের বসকে এভাবে রেগে রিসোর্টে ঢুকতে দেখে হুমায়ুন বেশ ভয় পেয়ে যায়।
জাওয়াদের রাগ মানে বড় ব্যাপার স্যাপার। কারণ জাওয়াদ সহজে রাগে না। এই রাগের কারণেই নাকি সে তার জীবনের মূল্যবান সম্পদ খুইয়েছে। জাওয়াদ সবসময় তাকে পরামর্শ দেয় না রাগ করতে, কিংবা রাগ উঠলে কন্ট্রোল করতে নিজেকে। রাগের মাথায় বেশি কথা না বলতে বা করতে। কারণ রাগের মাথায় যাই করা হোক না কেন তার ফলাফল যে খুব একটা ভালো হবে তা কিন্তু নয়।
হুমায়ূন জাওয়াদের পেছন পেছন স্যার স্যার করতে-করতে দৌড় লাগায়। জাওয়াদ একটু থেমে দাঁড়ায়। তারপর হুমায়ূনের দিকে ফিরে গম্ভীর গলায় বলে–
—দশ মিনিটের দূরের রাস্তায় মাহবুব আছে। ওকে নিয়ে আয়। আর ওর সাথে বিজনেসের সকল সম্পর্ক শেষ করার ব্যবস্থা কর। নে চাবি!
পকেট থেকে গাড়ির চাবি বের করে তার হুমায়ূনের দিকে ঢিল মারে। হুমায়ূন কোন মতে চাবিটা ক্যাচ করতে সক্ষম হয়। জাওয়াদ যাওয়ার আগে এ-ও বলে যায়–
—আজ রাতে যদি আমার দরজায় কোন নক পরে, তাহলে কাল থেকে তুই নতুন চাকরি খোঁজা শুরু করবি বলে দিলাম আমি।
কথাটা শেষ করেই জাওয়াদ চলে যায় নিজের রুমে। এদিকে পেছনে রেখে যায় হতভম্ব হওয়া হুমায়ুনকে।
📌গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্পপ্রেমী বন্ধুমহলের নিকট পৌঁছে দিন
শব্দসংখ্যা~১৫১৫
~চলবে?
[ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করার অনুরোধ করা হলো। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩+বোনাস
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৬
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৪