শেষপাতায়সূচনা [০৭]
সাদিয়াসুলতানামনি
শেখ বাসার ড্রয়িংরুমে পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে। একজন বাদে সকলের মুখচোখ অন্ধকার হয়ে রয়েছে। হবে নাই বা কেনো, বাড়ির মেয়েদের কিডন্যাপ করে বাড়ির ছেলেকে বিয়ে করলে সেই বাড়ির লোকদের মুখ নিশ্চয়ই ছলছল করবে না খুশিতে।
মিসেস শেখ দূর্বল শরীরে সোফা থেকে উঠে দাঁড়ান
তারপর কাঠকাঠ গলায় বলেন–
—আমি এই বিয়ে মানি না। আমার জাওয়াদের বউ হবে সেই মেয়ে, যাকে আমি ঠিক করে রেখেছি। আঞ্জুমানই হবে জাওয়াদের স্ত্রী।
পূর্ণতা যেনো এমন একটা কথা শোনারই অপেক্ষায় ছিলো। সে একটা সিঙ্গেল সোফায় পায়ের উপর পা রেখে বসেছিল। মিসেস শেখ কথাটা শেষ করতেই পূর্ণতা গা উঁচিয়ে ডেকে ওঠে–
—সিনথিয়া ডার্লিং, শাশুমাকে পেপার্সটা দাও তো।
সিনথিয়া পূর্ণতার এসিস্ট্যান্ট। বয়সে তার থেকে এক বছরের ছোট। সিনথিয়া একটা পেপার এনে মিসেস শেখের হাতে দেন। মিসেস শেখ আগের আমলের ইন্টার পাশ মহিলা। সে সহজেই পেপারটা পড়তে সক্ষম হয়। পেপারটা পড়ে সে ধপ করে সোফায় পুনরায় বসে পরে।
সকলে হকচকিয়ে যায় তার এমন কাজে। মি.শেখ তার নিকটেই থাকায় সে মিসেস শেখের হাত থেকে পেপারটা নিয়ে পড়তে থাকে। পড়ার একপর্যায়ে সেও স্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে থাকে। আঞ্জুমান মিসেস শেখের পাশেই বসা ছিল, সে বসা থেকে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বলে–
—কি আছে এই পেপারটাতে যেটা দেখে ফুপি আর আঙ্কেল তোমরা এত স্তব্ধ হয়ে গেলে? দেখি আমায় দাও তো।
আঞ্জুমান নিজেই হাত বাড়িয়ে পেপারটা নিয়ে পড়তে শুরু করে। মিনিট খানেক বাদে সে পেপারটা থেকে অবাক দৃষ্টি নিয়ে চোখ উঠিয়ে পূর্ণতার দিকে তাকায়। দেখতে পায় পূর্ণতা তার দিকে শিকারী দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে। পূর্ণতার চোখ এক ধরণের ক্রোধে জ্বল জ্বল করছে, কিন্তু ঠোঁটের কোণে খেলা করছে বিজয়ী হাসি। সেই হাসি যেনো আঞ্জুমানকে বলে দিচ্ছে–
—দেখো জাওয়াদকে আমার করে নিলাম। জিতে গেলাম বাজিতে, গো হারা হারলে তুমি। আমার কাছে এবং নিয়ত উভয়ের কাছেই।
জাওয়াদের চাচা নাজমুল সাহেব বলেন–
—কি হলো আনজু মা? কি লেখা আছে ঐ পেপারটায় যেটা দেখে তোমরা তিনজনে এত চমকে গেলে?
আঞ্জুমান এতটাই শকড হয়ে গিয়েছে যে সে সাথে সাথে নাজমুল সাহেবের প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে না। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পর বলে–
—এখানে লেখা আছে, জাওয়াদ ভাইয়া কোনদিন পূর্ণতাকে…..
—ভাবী বলো। সম্পর্কে ও বয়সে দুই দিক দিয়েই আমি বড় তোমার।
আঞ্জুমানকে থামিয়ে দিয়ে থমথমে গলায় বলে কথাটি পূর্ণতা। পূর্ণতার কথায় আঞ্জুমানের মুখটা আগের থেকেও বেশি গম্ভীর হয়ে যায়। কিন্তু সে পূর্ণতার কথা মতোই আবারও বলতে থাকে–
—জাওয়াদ ভাইয়া পূর্ণতা ভাবীকে কখনো নিজ থেকে ডিভোর্স দিতে পারবে না। সে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়েও করতে পারবে না। যদি এই দু’টোর কোন একটি করে তাহলে তাকে ১০কোটি টাকা জরিমানা দিতে হবে। পূর্ণতা ভাবী চাইলে তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল একশনেও নিতে পারবে। এসব মেনেই জাওয়াদ ভাইয়া এই পেপার্সে সাইন করেছে।
শেষ বো””মটা যেন এখনই ব্লা””স্ট হলো। সকলে ফাটা চোখ নিয়ে পূর্ণতার দিকে তাকিয়ে আছে। এমনকি তার পাশে বসে থাকা জাওয়াদও তার দিকেই তাকিয়ে আছে হতভম্ব হয়ে। জাওয়াদ ভাবছে, সে তো এমন কোন কনট্র্যাক্ট পেপার সাইন করেনি, তাহলে এটা কিভাবে সম্ভব?
জাওয়াদ নিজের হতভম্ব ভাব কাটিয়ে বলে–
—কিন্তু আমি তো এমন কোন পেপার্স পেলাম না কাবিননামা সাইনের সময়। তাহলে?
পূর্ণতা জাওয়াদের দিকে তাকিয়ে চোখ মিটমিট করে ঠোঁট টিপে হেঁসে বলে–
—কি বলেন জামাইজান, আপনি তো সব পেপার্স পড়ে পড়েই সাইন করলেন।
পূর্ণতা মুখে এটা বললে কি হবে আসল সত্য ভিন্ন। পূর্ণতা এই কনট্র্যাক্ট পেপার্স এমনভাবে কাবিননামার সাথে রেখেছিল যে, জাওয়াদ ধরতেও পারত না এটা আসলে চুক্তিপত্র। একপ্রকার ছল করে সে জাওয়াদকে দিয়ে এই পেপার্স সাইন করায়।
আঞ্জুমান এতক্ষণ ধৈর্য নিয়ে সব দেখলেও, এখন যেনো তার সকল ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। ক্লাস নাইনে থাকতে তার বাবা মারা যায়। পেশায় একজন পুলিশ অফিসার ছিল তার বাবা। ডিউটিতেই তিনি তার জীবন দেন। আঞ্জুমানের বাবা-মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায় ছোট বেলাতেই। তার মা এখন নিজের সংসার নিয়ে ব্যস্ত। ডিভোর্সের পর আঞ্জুমানের মা কখনোই আঞ্জুমানকে মনে করে নি বা তার সাথে যোগযোগ রাখেনি। মা নেই বলে আঞ্জুমান সকলের কাছে বেশ আদর-যত্নে বড় হয়েছে।
ক্লাস নাইনে যখন তার বাবা মারা যায় তার কিছুদিন পরই জাওয়াদের মা তার ছেলের সাথে আঞ্জুমানের বিয়ের কথা ঠিক করে রাখেন। বাগদান হয়েছে তাদের বছর খানেক আগেই। বিয়ের কথা উঠার পর থেকেই সে একটু একটু করে জাওয়াদকে নিয়ে ভাবতে শুরু করে। বর্তমানে সে তার লাইফে জাওয়াদ ব্যতীত অন্য কোন পুরুষকে কল্পনাও করতে পারে না। কিন্তু ভাগ্যে লীলা খেলায় সেই জাওয়াদই আজ তার জন্য নিষিদ্ধ। জাওয়াদ আজ অন্যের হয়ে গিয়েছে—কথাটা মনে পরতেই কান্নারা ঠেলে বের হয়ে আসতে চায়।
আঞ্জুমান কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে জিনিয়ার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। সকলে তার পেছন পেছন গিয়ে দরজা ধাক্কাতে থাকে, কিন্তু আঞ্জুমান দরজা খুলে না। জাওয়াদও আঞ্জুমানের পেছন পেছন যেতে চাইলে পূর্ণতা তার হাত শক্ত করে ধরে ফেলে। জাওয়াদ প্রচন্ড রাগ নিয়ে পূর্ণতার দিকে তাকালে, পূর্ণতাও তার লাল হয়ে আসা চোখ নিয়ে হিসহিসিয়ে বলে–
—বউকে রেখে প্রাক্তন বাগদত্তার পেছনে এত ছুটাছুটি কি, হ্যা? আমাকে রাগাবেন না জাওয়াদ। আমি কতটা নিষ্ঠুর আশা করি জেনে গিয়েছেন। আমার মনমতো না হলে, আমি যে তা ছিনিয়ে নিতে পারি, সেটা আশা করি আর বলা লাগবে না। চুপচাপ আমাকে আপনার রুমে নিয়ে যান, নাহলে কিন্তু…..
কথাটা বলেই থেমে যায় পূর্ণতা। জাওয়াদ দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে–
—নাহলে কি?
পূর্ণতা একটা বেহায়া হাসি দিয়ে বলে–
—চুমু খাবো কিন্তু এই ড্রয়িংরুমেই।
পূর্ণতার কথা শুনে জাওয়াদের চোখজোড়া যেনো কোটর থেকে বের হয়ে আসতে চায়। নিজে থেকে বছর আটেকের ছোট একটা মেয়ে গত সাত-আট ঘন্টা ধরে কন্টিনিউসলি তাকে নাকানিচুবানি খাইয়ে আসছে।
পূর্ণতা জাওয়াদের এমন রিয়াকশন দেখে মিটমিট করে হাসতে থাকে। তারপর একটু পর পূর্ণতা নিজেই উঠে দাঁড়ায়। ড্রয়িংরুমে এতক্ষণ গুটিকয়েক যারা ছিল, তারা আঁড়চোখে পূর্ণতাদের দিকে তাকিয়ে তাদের কথা শোনার চেষ্টা করছিল, কিন্তু বহু চেষ্টা করেও তারা পূর্ণতা বা জাওয়াদের কোন কথাই শুনতে পারে না।
পূর্ণতা নিজে উঠে দাঁড়িয়ে জাওয়াদের হাত ধরে তাকে বসা থেকে দাঁড় করায়। একহাতে জাওয়াদের হাত অন্যহাতে নিজের লাগেজ ধরে নিজেই আইডিয়া করে জাওয়াদের রুমে প্রবেশ করে। জাওয়াদের রুমটা বেশি বড়ও না আবার ছোটও না তেমন। ঘরের একপাশে মাঝারি সাইজের একটা খাট, একটা আলনা, পড়ার টেবিল ও একটা ওয়ারড্রব। পড়ার টেবিলের পাশেই একটা বড়সড় আয়না। ছেলে মানুষ তাই প্রসাধনীর জন্য আহামরি কোন সরঞ্জাম নেই। ছিমছামের মধ্যে বেশ পছন্দ হয় রুমটা পূর্ণতার। যতই হোক, ভালোবাসার পুরুষটির ব্যক্তিগত রুমে আজ থেকে থাকবে সে।
জাওয়াদের খাটট তাদের দু’জনের জন্য একটু ছোটই হবে, কিন্তু পূর্ণতা মানিয়ে নিতে পারবে। সে রুমের সবকিছু ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছে, জাওয়াদ বিরক্তি নিয়ে ওয়াশরুমের চলে যায়। সবকিছু দেখা শেষ হলে পূর্ণতা আবিষ্কার করে জাওয়াদের রুমে ছোটখাটো একটা বেলকনিও আছে। বেলকনির দরজা লাগিয়ে পর্দা টেনে দেওয়া বলে এতক্ষণ বেলকনিটা তার চোখে পরেনি।
পূর্ণতা চঞ্চল পায়ে বেলকনিতে চলে যায়। চার তলায় থেকে বেশি কিছু দেখা না গেলেও প্রতিদিন সূর্য উদয়টা বেশ ভালোই দেখা যাবে।
কেটে যায় দুটো দিন। এই দুইদিনে বেশ কয়েকটা টুকটাক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। আঞ্জুমান গ্রামের বাড়ি চলে গিয়েছে জাওয়াদের চাচার সাথে। সে গ্রামের বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করছে। বর্তমানে সে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে।
পূর্ণতার বাবা আজ এসেছে জাওয়াদদের বাসায়। ভদ্রলোক এতদিন দেশে ছিলেন না। বিজনেসের কাজে দেশের বাহিরে গিয়েছিলেন, এরই সুযোগ নিয়ে পূর্ণতা এত বড় একটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছে। ভদ্রলোক লজ্জায় জাওয়াদের বাবা-মায়ের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারছেন না।
জাওয়াদের বাবা নিয়াজ শেখ পূর্ণতার বাবার ইতস্ততা বুঝতে পারে। তাই সে তার ইতস্ততবোধ কমাতে হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলে ওঠেন–
—আহমেদ সাহেব, কিছুই যে নিচ্ছেন না। এই গরিবের ঘরের খাবার কি এতটাই খারাপ হয়েছে যে, মুখেও তোলা যাচ্ছে না?
আফজাল সাহেব নিয়াজ শেখের হাত ধরে বলেন–
—ছিঃ ছিঃ ভাই সাহেব, কি বলছেন! আমি আসলে আমার মেয়ের কৃতকর্মের জন্য ভীষণ লজ্জিত। আপনারা ওকে ক্ষমা করে দিয়েন ভাইসাব। মেয়ে আমার একটু পাগলাটে স্বভাবের কিন্তু বিশ্বাস করুন, একবার যে ভালোবেসে মাথায় হাত বুলিয়ে দিবে তার জন্য জানটাও দিতে দ্বিতীয়বার ভাববে না।
—আবার নিতেও ভাববে না।কি ঠিক বললাম তো?
পায় দিয়ে জাওয়াদের মা কথাটি বলে ওঠেন। ভদ্রমহিলার এই দুইদিনে একবারও না ছেলের সাথে আর নাই বা পূর্ণতার সাথে কথা বলেছেন। জাওয়াদ দুইদিনে কতবার কথা বলার চেষ্টা করেছে কিন্তু ভাতিজির কষ্টে তিনি যেনো অন্ধ হয়ে গিয়েছে। নিজের ছেলের থেকেও মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে।
আফজাল সাহেব কিছু বলার আগেই পূর্ণতা বলে ওঠে–
—এই না হলেন আমার শাশু মা। দুইদিনেই নাড়ি নক্ষত্র সব চিনে নিয়েছেন। আ.….
আফজাল সাহেব মেয়ের দিকে কড়া চোখে তাকাতেই পূর্ণতা চুপ হয়ে যায়। ভদ্র লোক আরো কিছুক্ষণ পূর্ণতার হয়ে তাদের কাছে ক্ষমা চান এবং যাওয়ার আগে অনুরোধ করেন, তারা যেনো পূর্ণতা আর জাওয়াদের সম্পর্কটা মেনে নেয়। কিন্তু জাওয়াদের মা মুখের উপর জানিয়ে দেয়, সে পূর্ণতাকে কখনোই নিজের পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নিবেন না। কথাটা বলেই সে নিজের রুমে চলে যায়।
কি আর করার! পরিস্থিতি এখন গরম আর দোষটাও পূর্ণতারই বেশি, তাই আফজাল সাহেব চেয়েও বেশি কিছু বলতে পারেন না। আফজাল সাহেব আরো কিছুক্ষণ থেকে চলে যান। তিনি বের হওয়ার কিছুক্ষণ পরই জাওয়াদও বাসা থেকে বের হয়ে যায়। বাসার এমন গুমট পরিবেশে তার দম বন্ধ হয়ে আসছে। পূর্ণতা তাকে কয়েকবার পিছু ডাকে কিন্তু জাওয়াদ তার ডাক উপেক্ষা করেই চলে যায়।
মি.শেখও নিজের রুমে চলে যায়। বাসায় এখন ফ্রি আছে জাওয়াদের বোন জিনিয়া। পূর্ণতা শ্বশুর-শ্বাশুড়ির রুমের দরজা বন্ধ দেখে জিনিয়ার রুমে চলে যায় আড্ডা দিতে। নিজের রুমে প্রিয় ভাবীকে দেখে জিনিয়া খুশি হয়ে যায়।
—ভাবী, আপনি এসেছেন?
—হ্যা রে আমার কইতুরী।
হেঁসে জবাব দেয় পূর্ণতা। পূর্ণতা জিনিয়াকে আদর করে বলে–
—থ্যাঙ্ক ইউ ননদিনী। তুমি যদি সাহায্য না করতে তাহলে এ জীবনে তোমার ভাইয়ের বউ হওয়ার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যেতো আমার।
—মেনশন নট ভাবীসাহেবা। ভবিষ্যতে একটা হ্যান্ডসাম ছেলে দেখে বিয়ে দিয়ে এই ঋণ শোধ করে দিয়েন তাহলেই হবে।
কথাটা দুষ্টুমি করেই বলে জিনিয়া। পূর্ণতা তার এহেন কথা শুনে চোখ বড়বড় করে তাকায়। এইটুকু মেয়ে কি বিচ্ছু! পূর্ণতা আলতো করে তার কান টেনে দিয়ে বলে–
—ভীষণ দুষ্টুমি হচ্ছে না ভাবীর সাথে। বলবো বাসায় বিয়ের কথা?
—না না ভাবী, তাহলে আমিও কিন্তু তোমার সিক্রেট বলে দিবো।
—ওরে পাকা মেয়ে। আমায় হুমকি দেওয়া হচ্ছে, না না, এত চালাক ননদিনী ঘরে রাখলে সংসার হবে কিভাবে। আজই তোমার ভাইয়ের সাথে কথা বলবো আমি তোমার বিয়ে নিয়ে।
—ভাবীইইইইই…..
কিউট একটা পাপ্পি ফেইস বানিয়ে জিনিয়া পূর্ণতাকে ডেকে ওঠে। পূর্ণতার তার এমন মুখাবয়ব দেখে কি যে মায়া হয়। সে বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় তার খেলা সাথীও কেউ ছিল না। তার একটা বড় ভাই আছে, আপন না অবশ্য। তার চাচার ছেলে, কিন্তু সেও বাহিরে বাহিরে থাকে বেশিরভাগ সময়। এমনিতে পূর্ণতা বলতে জান দেয় তার ভাই। তার চাচার ছেলে আরিয়ানও বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান হওয়ায় সে পূর্ণতাকে নিজের বোনের মতই আদর করে।
পূর্ণতা জিনিয়াকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে জড়িয়ে ধরে। জিনিয়াও তাকে বোনের মতোই সম্মান করে। এখন আপনাদের মাথায় নিশ্চয়ই প্রশ্ন এসেছে, যাকে জিনিয়া কিডন্যাপ করে রাখলে একদিন একরাত, আবার তার ভাইয়ের হবু বউকে ভাগিয়ে নিজে বউ হলো, তার সাথে এত মাখোমাখো সম্পর্ক কেন জিনিয়ার? এই প্রশ্নের উত্তরও আমার কাছে আছে।
পূর্ণতা জাওয়াদের পরিবারের সাথে পূর্ব থেকে হালকা পাতলা পরিচিত ছিল। জাওয়াদ গত দেড়বছর ধরে তাদের কোম্পানিতে ম্যানেজার হিসেবে রয়েছে। কোম্পানির এক প্রজেক্টের সাকসেস পার্টিতে জাওয়াদের পরিবারও আমন্ত্রিত ছিল। তখনই পূর্ণতা তাদের সাথে পরিচিত হয়। প্রথম দেখাতেই পূর্ণতার বন্ধুত্ব সুলভ আচরণ কিশোরী জিনিয়ার মনে দাগ কেটে দেয়।
আঞ্জুমান খারাপ এমন না। কিন্তু তাকে জিনিয়া এক অগত্যা কারণে পছন্দ করে না। তার মা তাকে সবসময় আঞ্জুমানের সাথে তুলনা দিয়ে কথা বলে। এছাড়া আঞ্জুমান একটু বেশিই ফুফু ভক্ত। ঢাকায় তাদের বাড়ি আসলে জিনিয়ার অবস্থা নাজেহাল করে দেয় এটা কর, সেটা কর আদেশ দিতে দিতে। মায়ের বকুনির ভয়ে জিনিয়াকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও করতে হয়।
পূর্ণতাকে জাওয়াদ সেদিন ডেকে নিয়ে গিয়ে অনেক অপমান করে। তার ভালোবাসাকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে। প্রশ্নবিদ্ধ করে তার নিস্পাপ অনুভূতিকে।পূর্ণতা জাওয়াদের রিজেকশন পেয়ে যতটা না কষ্ট পেয়েছে, তার এমন অপমানে সে বহুগুণ ক্ষেপে গিয়েছে।
জাওয়াদ তাকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বলেছে, “জাওয়াদের প্রতি তার ভালোবাসা একটা আর্কষণীয় বস্তুর মতো। যেটা সে জাওয়াদের কাছে চাওয়ার পর না পেয়ে, তার বাবার মাধ্যমে পেতে চাচ্ছে। আসলে পূর্ণতা ভালোবাসা কি সেটাই জানে না প্রকৃত অর্থে। “
জাওয়াদের এমন বক্তব্যই পূর্ণতাকে বাধ্য করে এমন একটা ঘটনা ঘটাতে। পূর্ণতা জিনিয়ার স্কুলে গিয়ে তার কাছে সাহায্য চায়। জিনিয়া প্রথমে সবটা শুনে কিছুটা ঘাবড়ে গেলেও পূর্ণতার বুঝানোর পর সে রাজি হয় কিডন্যাপিংয়ের বিষয়ে পূর্ণতাকে সাহায্য করতে। তাদের প্ল্যান অনুযায়ী, জিনিয়া কিডন্যাপিংয়ের দিন তার মায়ের কাছে আবদার করে আঞ্জুমান যাতে তাকে বিকেলে কোচিং থেকে আনতে যায়। তার মাও সহজেই রাজি হয়ে যায়। আঞ্জুমান জিনিয়াকে কোচিং থেকে আনতে গেলেই পূর্ণতার লোকেরা তাদের কিডন্যাপ করে।
পূর্ণতা জিনিয়াকে ছেড়ে দিয়ে খানিকটা ভীতু গলায় বলে–
—ননদিনী তোমার ভাই আর মা তো সেই ক্ষেপে আছে আমার উপর। কিছু টিপস দাও তাদের মন গলানোর জন্য।
জিনিয়া তাকে অভয় দিয়ে বলে–
—ব্যাপার না ভাবীসাহেবা। ভাইয়াকে গলানো কয়েকদিনের ব্যাপার। ভাইয়া সহজে কারো সাথে বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারে না। আপনি ভাইয়ার কাছে হত্তে দিয়ে পড়ে থাকেন, দেখবেন ভাইয়া কয়েকদিনের মাঝেই আইসক্রিমের মতো গলে গিয়েছে। তবে, ভাইয়া কিন্তু প্রচন্ড মা ভক্ত। আম্মু তাকে ডানে যেতে বললে সে ডানে যাবে, বায়ে যেতে বললে বায়ে যাবে। যদিও সেখানে কোন বিপদ থাকুক না কেনো কিন্তু সে মায়ের কথার উপরই অটল থাকবে। আপনাকে কৌশলে ভাইয়াকে নিজের প্রতি দূর্বল করতে হবে। কিন্তু আম্মু!
জিনিয়া একটা ঢোক গিলে তার মায়ের কথা স্বরণ করে। ভদ্রমহিলা প্রচন্ড কঠোর হৃদয়ের অধিকারী কথাটা মনে পরতেই জিনিয়ার গলা শুকিয়ে কাঠকাঠ হয়ে যায়।
—আম্মু প্রচন্ড কঠোর ভাবীপু। একবার আমি স্কুল থেকে ফিরার সময় বাসার কাছে যেই মাঠটা আছে না, সেখানে ক্রিকেট খেলা দেখছিলাম দাড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাই বাসায় আসতে দেরি হয়ে যায়। হুঁশ ফিরতেই আমি দৌড়ে বাসায় আসি। আম্মু আমার বাসায় আসার কারণ জানার পর সেদিন আমায় সারাদিন না খাইয়ে রেখে শাস্তি দিয়েছিল। তার মতে, আমি নাকি বখে যাচ্ছি।
সারাদিন না খেয়ে থাকার পর আমি কিছুটা অসুস্থও হয়ে গিয়েছিলাম, তাও আম্মু আমাকে খাবার দেয়নি। পরে ভাইয়া রাতে আম্মু ঘুমিয়ে যাওয়ার পর আমায় লুকিয়ে খাবার দিয়েছিল।
শ্বাশুড়ি মায়ের নিষ্ঠুরতার কথা শুনে এবার পূর্ণতার নিজেরই ভয় লাগতে শুরু করে দেয়।
📌গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্পপ্রেমী বন্ধুমহলের নিকট পৌঁছে দিন।
শব্দসংখ্যা~২১০০
~চলবে?
[আজ কত বড় করে দিয়েছি দেখেছেন। যদি বেশি বেশি রেসপন্স করেন তাহলে ভবিষ্যতেও এমন বড় বড় পর্ব পাবেন। আজ যে বলবে এত ছোট কেন, তারে আমি হেটু🔪😒😾
অনুরোধ রইলো, সকলে অন্ত ২/৩ টা কমেন্ট করিয়েন। পেইজের রিচ চান্দে, আমি ভাসি গাঙ্গে😑💔
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৬
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৬