শেষপাতায়সূচনা [৩৯.২]
সাদিয়াসুলতানামনি
গত কয়েকদিন ধরে একটা আননোন এত জ্বালাচ্ছে টনিকে যে, টনি এবার প্রচন্ড বিরক্ত। গুনে গুনে ১৭টা নাম্বার ব্লক করেছে। নাম্বার ব্লক করতে করতে সে ক্লান্ত, কিন্তু ফোনের অপরপাশে থাকা ব্যক্তিটি যেন ক্লান্ত হচ্ছে না। বরংচ, প্রতিদিন নতুন উদ্যমে টনিকে জ্বালিয়ে চলছে।
আজ আবারও রাত বারোটার দিকে ফোন দিয়েছে ব্যক্তিটি। কলটা রিসিভ করলেই, রাত দুটো পর্যন্ত ফাউ প্যাচাল পারবে তারপর রাখবে। সে যদি কেটেও দেয় তাহলে পরের দিন কল করে আগে আচ্ছা মতো ঝারবে তারপর আবার নিজেই মাফ চাইবে। এসব কান্ড কারখানা দেখে টনি একশ এক পার্সেন্ট সিউর ব্যক্তিটি কোন একটা মেয়ে। নাহলে এত ন্যাকামি, এত ছ্যাচড়ামি, এত বাচ্চামো কোন ছেলে মজার জন্য হলেও এতদিন ধরে করতে পারত না। টনি আগে ভয়েস শুনে বুঝতে পারি নি, কারণ ব্যক্তিটি ভয়েসটা ভয়েস এডিট অ্যাপ দিয়ে চেঞ্জ করে তারপর ফোন দেয় টনিকে।
প্রচন্ড বিতৃষ্ণা নিয়ে টনি কল রিসিভ করে। কিন্তু আজ কলটা রিসিভ করার পর সাথে কোন কথা বলে না। তার মনটা একটা কারণে ভীষণ খারাপ। তাই সে চুপচাপ শুনতে থাকে ফোনের অপরপাশে থাকা অজ্ঞাত ব্যক্তিটির বকবকানি। টনিকে চুপ থাকতে দেখে সেই ব্যক্তিটি বলে–
—কি ব্যাপার মি.টনি? আজ চুপ যে, মন খারাপ?
—তেমন কিছু না। আপনার বলা হয়েছে? তাহলে রাখতাম।
—না হয়নি। আপনি বলেন আপনার কি হয়েছে? আজ বকছেন না আমায়? কোন কারণে আপসেট আপনি?
—হুম।
আনমনে জানিয়ে দেয় নিজের মনের অবস্থা টনি ব্যক্তিটিকে। তার কথা শুনে ব্যক্তিটি বেশ কৌতূহলই হয়, কেন তার মন খারাপ সেটা জানতে চায়। টনি প্রথমে বলতে চায় না। কিন্তু ফোনের অপর পাশে থাকা ব্যক্তিটি এক নাম্বারের নাছোরবান্দা। সে টনির মুখ থেকে জেনেই ছাড়ে কেন টনির মন খারাপ।
টনি অনেক পীড়াপীড়ির পর জানায়–
—আজ আমার মায়ের মৃ”ত্যু বার্ষিকী। এই দিনের পরই আমি অনেক কিছু হারিয়ে ফেলেছি। নিজের মায়ের সাথে সাথে একসময় বাবাকেও হারিয়ে ফেলেছি। আজ আমার বাবা, ভাই-বোন থাকতেও আমার কেউ নেই। সমাজে আমি একজন এতিম হিসেবে পরিচিত।
টনি যদিও বেশ ম্যাচিউর ও কঠোর মনের মানুষ। কিন্তু আজ এই কথাগুলো বলার সময় হঠাৎই সে বেশ ইমোশনাল হয়ে পড়েছে। তার গলা কেমন ভারী হয়ে গিয়েছে। এরপর দুই পাশেই বেশ কিছুক্ষণ নিরবতা বিরাজ করে। নিরবতার পর্দা ভেদ করে ফোনের ঐ পাশের ব্যক্তিটি। সে বলে–
—মন খারাপ করবেন না প্লিজ। নিশ্চয়ই আপনি যা কিছু হারিয়েছেন তার থেকে আরো ভালো কিছু পাবেন। আমার বিশ্বাস আপনার জন্য খুব ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। খোদাতা’য়ালার উপর থেকে ভরসা হারাবেন না।
—হুম। আজ রাখি? ভালো লাগছে না আর কিছু বলতে বা শুনতে।
—খেয়েছেন? নাকি মন খারাপ করে না খেয়েই শুয়ে পড়েছেন?
—হুম খেয়েছি।
—আচ্ছা, তাহলে রাখেন। আল্লাহ হাফেজ।
—আল্লাহ হাফেজ।
টনি কল কেটে ফোনটা বালিশের পাশে রেখে চোখ বন্ধ করে। তার বুকটা একটুও হলেও হালকা লাগছে কথাগুলো শেয়ার করার পর থেকে।
পরেরদিন সকালে আরিয়ান অফিসে যাওয়ার সময় পূর্ণতা তার পেছন ডেকে ওঠে। আরিয়ান থামতেই পূর্ণতা তার কাছে গিয়ে বলে–
—ভাইয়া, কিছু কথা ছিলো তোমার সাথে। সময় হবে পাঁচ মিনিট তোমার?
—বল, তোর জন্য আমার সময়ের কখনো অভাব হবে না।
আরিয়ানের এহেন কথা শুনে পূর্ণতার তার প্রতি থাকা বিশ্বাসটা আরো দৃঢ় হয়। সে ঠিকই জানত তার ভাই ওমন মানুষই না। তাও সে যাতে আঞ্জুমানকে ইচ্ছা মতো ধোলাই দিতে পারে তাই বিষয়টা সম্পর্কে সোজাসুজি জিজ্ঞেসই করে বসে আরিয়ানকে–
—ভাইয়া, তুমি কি আঞ্জুমানের অতীত সম্পর্কে জানো?
পূর্ণতার প্রশ্নটা শুনে আরিয়ানের চোখ-মুখের ভাবভঙ্গি কেমন একটা পরিবর্তন চলে আসে হুট করেই। কেমন ইতস্ততা ও চোরা ভাব লক্ষ্য করা যায়। সে আমতাআমতা করতে থাকলে পূর্ণতা বুঝে যায় আঞ্জুমান আসলেই সত্যি বলছিল৷ তার কিছুক্ষণ আগের বিশ্বাস নিমিষেই চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। সে শুধু একটাই প্রশ্ন করে–
—সব জেনেও এমন একজন মেয়েকে তুমি কি করে বিয়ে করতে পারলে ভাইয়া?
—দেখ বোনু, অতীত সবারই কম বেশি থাকে। আর ও ওর ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত। অতীতকে ধরে রাখলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কখনোই সুন্দর হয় না। অতীতকে ভুলেই বর্তমানকে সাথে নিয়ে ভবিষ্যৎ সুন্দর করতে হয়। আমার মনে ওর জন্য কোন রাগ বা অনিশ্চয়তা নেই। আমি ওকে ভালোবাসি আর ওকে নিয়েই হ্যাপি আছি।
এরপর আর কিছুই বলার থাকে না পূর্ণতার। সে ব্যথিত নয়নে আরিয়ানের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সেখান থেকে চলে যায়।
কেটে যায় আরো কয়েকটা দিন। পূর্ণতা সেদিনের পর থেকে সকলের সাথে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। আরিয়ানের সাথেও এখন প্রয়োজন ব্যতীত কথা বলে না। তাজওয়াদকে জোর করে হলেও নিজের কাছে রাখে। পূর্ণতা ভাবছে তার জন্য একজন ন্যানি রাখবে।
আজ তাজওয়াদকে স্কুল থেকে নিতে পূর্ণতা নিজেই এসেছে। টনিকে সে সাইটে পাঠিয়েছে পরিদর্শনের জন্য। সে নিজ থেকেই বুঝতে পারছে, কাজের প্রেশারের জন্য ছেলেটাকে তেমন একটা সময় দিতে পারছে না। এজন্য মা পাগল তাজওয়াদ অন্যদের প্রতি ঝুঁকছে।
সে পথে তাজওয়াদের জন্য চিপস, চকলেট কিনে নেয়। আজ ছেলেকে নিজ থেকেই দিবে। অন্যসময় তাজওয়াদ বায়না করলে কখনো তার বায়না পূরণ করে তো, কখনো করে না। বাচ্চাদের আবদার সবসময় পূরণ করলে একসময় তারা অনেকটা লাগামছাড়া হয়ে যায়। তারা ছোট মস্তিষ্কে এটা সেট হয়ে যায়, আমি যা চাইছি তা তো আমার বাবা-মা দিচ্ছেনই। এই ভাবনা থেকে অনেক সময় তারা অনেক অন্যায়মূলক আবদারও করে বসেন। তখন যদি তাদের সেসব আবদার পূরণ না হয় তাহলেই তারা অপরাধের প্রতি ঝুঁকে যায়।
পূর্ণতা নিজেই ড্রাইভ করে তাজওয়াদের স্কুলে এসে পৌঁছায়। ভেতরে প্রবেশ করে দেখে স্কুল মোটামুটি খালিই। কি ব্যাপার! এইসময় তো স্কুল খালি হওয়ার কথা না। সে আরেকটু ভেতরের দিকে গিয়ে দেখে স্কুল আজ একটু আগেই ছুটি হয়ে গিয়েছে কোন কারণ বসত। টনি যেহেতু সবসময় তাজওয়াদকে নিতে আসে তাই স্কুল কর্তৃপক্ষ টনিকেই ফোন দিয়ে ছুটির বিষয় বলে। কিন্তু টনি বোধহয় ভুলে গিয়েছে তাকে জানাতে।
পূর্ণতা অস্থির হয়ে ছেলেকে খুঁজতে থাকে। বেশি একটা খুঁজতে হয় না তাকে। তাজওয়াদকে সে স্কুলের বিশাল প্লে-গ্রাউন্ডেই পেয়ে যায়। সেখানে সে একজন পুরুষের সাথে খেলছে। পুরুষ টিকে পেছন থেকে দেখেই সে চিনতে পেরে যায়। পুরুষটি আর কেউ না বরং জাওয়াদ।
আজ পূর্ণতার মাঝে এতটা বিচলিত ভাব দেখা যায় না। কতই বা দূরে সরাবে সে বাবা-ছেলেকে? কম তো চেষ্টা করছে না, পারছে কি? রক্তের টানে তারা ঠিকই একসময় কাছাকাছি চলে যাবে। বারংবার ব্যর্থ হতে-হতে পূর্ণতা এখন ক্লান্ত। কিন্তু জাওয়াদকে মেনে নেওয়ার মতো মনের সেই অবস্থাও তার এখন আর নেই।
পূর্ণতা একটু আড়ালে দাড়িয়ে থেকে তাদের বাপ-ছেলের খেলা ইনজয় করতে থাকে। পূর্ণতা এটা দেখে বেশ অবাক হয় তাজওয়াদ এই কয়েক মাসের মধ্যেই কত সহজেই জাওয়াদের সাথে মিশে গিয়েছে। তাজওয়াদ খেলতে খেলতে জাওয়াদকে বালি ছুঁড়ে মারে একমুঠ তাও জাওয়াদ কিছু বলে না। হাসিমুখে মেনে নেয় ছেলের দুষ্টুমি। আবার জাওয়াদের কাঁধে চড়ে পুরো প্লে-গ্রাউন্ড চক্কর দিচ্ছে দুষ্টু তাজ। খেলার মাঝে মধ্যে কখনো আবার টুকুশ করে চুমু এঁকে দিচ্ছে জাওয়াদের গালে। চুমু দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যেতে নিলে জাওয়াদ তাকে ধরে সুড়সুড়ি দিতে থাকে আর তাজওয়াদ খিলখিলিয়ে হাসতে থাকে।
এই দৃশ্য গুলো দেখে পূর্ণতার চোখ বেয়ে একা একাই অশ্রু গড়িয়ে পড়তে থাকে। এমন দৃশ্য দেখার জন্যই তো সে রবের নিকট কত প্রার্থনা করত। নিজের সন্তানের বাবার সাথে সন্তানের খুনসুটি পূর্ণ মুহূর্ত সকল মায়ের কাছেই তো দৃষ্টি শীতল করা দৃশ্য গুলোর মধ্যে একটি। কিন্তু ভাগ্য তাকে সব দিয়েও দেয়নি। আজ তাজওয়াদ জানে না তার ভালো আঙ্কেলই তার বাবা। কেনো জানে না? তার নিজের বাবার জন্যই তো।
হঠাৎই পূর্ণতা খেয়াল করে তাজওয়াদ দৌড়াতে গিয়ে ঠাস করে পড়ে গিয়েছে। জাওয়াদ একটু দূরে থাকায় তাকে পড়ে যাওয়া থেকে আটকাতে পারে না। তাজওয়াদকে পড়ে যেতে দেখে পূর্ণতা ও জাওয়াদ দুই জনই ছুট লাগায় তার কাছে যাওয়ার জন্য। পূর্ণতা পৌছানোর আগেই জাওয়াদ পৌঁছে যায় তাজের কাছে আর তাকে ধুলোবাল থেকে উঠিয়ে নিজের বুকের সাথে চেপে ধরে বলে–
—আরে কিছু হয় নি তো। এই টুকু ব্যথায় কেউ কাঁদে? তাজওয়াদ তো স্ট্রংগ বয়। আর স্ট্রংগবয়রা কি এত সহজে কেঁদে দেয়? দেখি দেখি কোথায় লেগেছে?
পূর্ণতাও এসে ছেলের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে অস্থির গলায় বলে–
—আব্বু, কোথায় ব্যথা পেয়েছো সোনা? দেখি আম্মুর কাছে আসো।
জাওয়াদ পূর্ণতাকে দেখে ঘাবড়ে যায়। তাজওয়াদও কিছুটা ঘাবড়ায়। সে ভাবে ড্রেস নোংরা করেছে বলে তার মাম্মা এখন তাকে বকবে। তাজওয়াদ এমন ড্রেস নোংরা করে প্রতিদিন বাসায় ফিরে। তাই পূর্ণতা দুইদিন আগে ওয়ার্নিং দিয়েছে, আর ড্রেস নোংরা করলে বকা দিবে। সেই বকার ভয়ে তাজওয়াদ পূর্ণতার কাছে না গিয়ে জাওয়াদকে ঝাপটে ধরে তার বুকে মুখ লুকিয়ে নেয়। আর ভীতু গলায় বলে–
—ভালো আঙ্কেল, আমায় বাঁচাও। মাম্মা আজ আমাকে ভীচন বুকবে।
তার এহেন কাজে পূর্ণতা ও জাওয়াদ দু’জনই চমকে গিয়ে একে অন্যের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। তাজওয়াদ জাওয়াদকে এতটা আপন করে নিয়েছে যে, পূর্ণতার বকা থেকে বাঁচতে সে তার বুকে আশ্রয় নিচ্ছে। জাওয়াদ খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়ে ছেলেকে দুই হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে নিজের সাথে।
পূর্ণতা ছেলের হাত টেনে ধরে বলে–
—আসো আমার কাছে আসো আব্বু। আমার থেকে এখন এই দুই দিনের উড়ে আসা আঙ্কেল আপন হয়ে গেলো?
তাজওয়াদ জাওয়াদের বুক থেকে একটু মুখ তুলে বলে–
—মাম্মা, তাজ সরি। আমি ইচ্চে কলে নোংলা কলিনি আমার ড্রেস। সব ঐ পাথল টাল দোষ, ও কেন আমাল সামনে আচলো? ও যদি আমাল সামনে না আসতু, তাহলে কি আমি পলতাম?
যেই পাথরটায় হোচট খেয়ে তাজওয়াদ সেটার উপর সব দোষ চাপিয়ে দেয়। পূর্ণতা কতক্ষণ মুখটা গোমড়া করে ছেলের দিকে তাকিয়ে থাকে। অজুহাত দিতে ছেলেটা এক নাম্বার। সে জোর করে ছেলেকে নিজের কোলে নিয়ে হাত দিয়ে ধুলোবালি ঝেড়ে দিতে থাকে। ধুল ঝাড়তে ঝাড়তে বলে–
—তোমার বাবাই আসছে বাংলাদেশে, আসুক শুধু একবার। আমি তোমার নামে নালিশ দিবো। তুমি দেশে এসে দুষ্টু হয়ে গিয়েছো।
“বাবাই” কথাটা শুনে জাওয়াদ ও তাজওয়াদ দুই জনই চমকে যায়। জাওয়াদ চমকায় অন্যকাউকে নিজের ছেলের বাবাই হিসেবে শুনে। আর তাজওয়াদ চমকায় প্রিয় মানুষটির আগমনের কথা শুনে। তাজওয়াদ পূর্ণতার গলা জড়িয়ে ধরে বলে–
—মাম্মা, তুমি চত্যি বলছো? বাবাই আসবে? কবে আসবে? তাজ রিয়েলি মিস বাবাই।
অন্য এক পুরুষের জন্য নিজের ছেলের এত বিচলতা জাওয়াদকে পীড়া দেয় ভীষণ। পূর্ণতা ততক্ষণে ছেলেকে কোলে নিয়ে উঠে দাড়িয়েছে। নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছে। জাওয়াদও তার পিছু নেয়। সে জানতে চায় তার অবর্তমানে পূর্ণতাকে কাকে তার ছেলের বাবাই হিসেবে পরিচিত করেছে।
পূর্ণতা তাজওয়াদকে পেছনে সিটে বসিয়ে দিয়ে নিজে ড্রাইভিং সিটে বসতে নেয়, তখন জাওয়াদ এসে তার হাত ধরে তাকে নিজের দিকে ফেরায়। গলায় রাগ নিয়েই জিজ্ঞেস করে–
—তাজ বাবাই বাবাই করছে কাকে? আমার অবর্তমানে তুমি কাকে আমার ছেলের বাবাই বানিয়েছো? তুমি আমার অধিকার এভাবে অন্য কাউকে দিতে পারো না পূর্ণ।
পূর্ণতা নিজের হাত ছাড়িয়ে নিতে চায়, কিন্তু জাওয়াদ শক্ত করে ধরে রেখেছে। ছাড়ে না পূর্ণতার হাত। তাই পূর্ণতা সেভাবেই বলে–
—আমার ছেলেকে কার সাথে পরিচয় করাবো, কার সাথে করাবো না সেটা আমার ব্যাপার। নিজের লম্বা নাকটা যেখানে সেখানে গলানো বন্ধ করুন আর আমার হাত ছাড়ুন।
জাওয়াদ পূর্ণতার হাত তো ছাড়েই না বরং সেটা আরো শক্ত করে চেপে ধরে পূর্ণতাকে হ্যাচকা টান দিয়ে নিজের আরো কাছে নিয়ে আসে। তারপর দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে–
—ছেলেটা আমারও পূর্ণ। আমার অধিকার তুমি যাকে-তাকে দিতে পারো না। ভুল করেছি তাই মাশুল দিচ্ছি, আরো দিবো। কিন্তু তোমাকে আর তাজওয়াদকে কাউকে দিবো না, নাইবা কারো হতে দিবো। আমাকে পাঁচ বছরের আগের ভালো জাওয়াদ ভেবো না। পরিস্থিতি কিন্তু আমায় নিষ্ঠুরতা শিখিয়েছে। আমি তোমাকে হাসিল করে নিতে চাইছি, আমায় জোর করাতে বাধ্য করবে না।
এখন বলো “বাবাই” লোকটা কে?
কথাগুলো বলতে বলতে জাওয়াদ তার হাতের বাধন ঢিলে করে নিয়েছিল, পূর্ণতা এরই সুযোগ নিয়ে নিজের হাতটা হ্যাচকা টান দিয়ে ছাড়িয়ে নেয় জাওয়াদের থেকে। তারপর জাওয়াদের দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা হাসি দিয়ে বলে–
—আপনার সতীন।
পূর্ণতার কথা শুনে জাওয়াদের চোয়াল ঝুলে যায়। সে পূর্ণতাকে কিছু বলতে নিবে তার আগেই পূর্ণতা গাড়িতে চড়ে বসে সাই-সাই শব্দ করে চলে যায় সেখান থেকে। জাওয়াদ চোখ মুখ শক্ত করে দাঁড়িয়ে থাকে।
আজ আর পূর্ণতা অফিসে যায় না। তাজওয়াদকে নিয়ে সোজা বাসায় চলে আসে। বাসায় এসে দেখে রান্নার সুঘ্রাণে ম-ম করছে। আরিয়ান তদারকি করে সবকিছু গুছাচ্ছে। স্পেশাল কেউ আসবে বোধহয় তাই। পূর্ণতা কিছু জিজ্ঞেস না করে ছেলেকে নিয়ে উপরে চলে যায়। আরিয়ান ব্যথিত নয়নে পূর্ণতার দিকে তাকিয়ে থাকে। সে বুঝতে পারছে না পূর্ণতা ইদানীং তার সাথেও এতটা দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে কেনো?
ফ্রেশ হয়ে খেয়েদেয়ে পূর্ণতা আর তাজওয়াদ একটা ভাতঘুম দেয়। সেই ঘুম থেকে উঠে একদম সন্ধ্যার আগ দিয়ে। তাজওয়াদের জন্য নাস্তা বানাতে পূর্ণতা নিচে এসে দেখে মেহমানরা চলে এসেছে। কথা বলতে বলতে সিড়ির গোড়ে পূর্ণতাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে আরিয়ান তাকে ডেকে ওঠে–
—বোনু এদিকে আয়। পরিচিত হও আমার বন্ধু আর তার মা-বোনের সাথে।
পূর্ণতা ভদ্রতার খাতিরে এগিয়ে যায় পরিচিত হতে। আরিয়ান প্রথমে একজন ছেলেকে দেখিয়ে বলে–
—ও হচ্ছে আমার জানে জিগার বন্ধু রাসেল। ইনি হচ্ছে রাসেলের মা, আর উনি হচ্ছে রাসেলের ছোট বোন আরওয়া।
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন.]
শব্দসংখ্যা~১৯০০
~চলবে?
[উহুম, উহুম।🤧 প্রেমের টানে এসেই পড়লো প্রেমিকা। দেখা যাক কি হয় আরওয়ার পরিণতি। আঞ্জুমানের সত্যি আরিয়ান জানতে আর বেশি দেরি নেই। বিগত ঘটনা গুলো না দেখালেই হচ্ছিলো না তাই গল্পটা এতটা টানা।
রিচেক দেওয়া হয়নি, বাহির থেকে এসেই পোস্ট করলাম। ভুলগুলো শুধরে দিয়েন।
সবাই একটু কষ্ট করে দু’টো করে কমেন্ট করিয়েন, পেইজের রিচ নেই🥲
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩৮.২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩৯.১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৫