শেষ পাতায় সূচনা [৩৮.১]
সাদিয়াসুলতানামনি
কাল রাত থেকে পূর্ণতা কিছুটা চিন্তায় আছে। চিন্তার কারণ তার একমাত্র সন্তান তাজওয়াদকে নিয়ে। আজ সে যেই মিটিংয়ে যাবে সেখানে তাজওয়াদকে নিয়ে যাবে না, বিষয়টা আনপ্রফেশনালিজম হয়ে যায় তার কাছে। টনির কাছে অফিসে রেখে যাবে। কিন্তু সমস্যা এটা না, সমস্যা হলো তার ফিরতে কতক্ষণ লাগে এটা সে জানে না। এদিকে আজ প্রথমবারের মতো তাজওয়াদকে কারো কাছে রেখে সে কাজে যাবে। তাজওয়াদকে যদিও সে কাল রাত থেকে অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজি করেছে টনির কাছে থাকার জন্য, কিন্তু কতক্ষণ যে থাকতে পারবে তাকে ছাড়া এটাই চিন্তার বিষয়।
সাড়ে নয়টার দিকে অফিসের জন্য রেডি হয়ে রুম থেকে বের হয় পূর্ণতারা। ড্রয়িংরুমে তখন বাকি সকলে বসে আছে। আরিয়ান আজকের দিনটা রেস্ট করে কাল থেকে পাকাপোক্ত ভাবে বাবার অফিসে যোগ দিবে। পূর্ণতাকে আজ লেট করে অফিসে যেতে দেখে আহনাফ সাহেব কোমল গলায় জিজ্ঞেস করেন–
—কি ব্যাপার আম্মাজান, আজ এত দেরি করে যাচ্ছো যে অফিসে? শরীর খারাপ নাকি তোমার?
—না বড় বাবা। আসলে আজ একটা মিটিং আছে। সোজা এখান থেকে মিটিংয়ে যাবো।
—ওহ্হ।
পাশ থেকে আরিয়ান বলে ওঠে–
—বোনু তুই তো মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকবি। তাজ বাবু কার কাছে থাকবে তাহলে?
—ওকে টনির কাছেই রেখে যাবো ভাইয়া।
—টনির কাছে রাখতে হবে কেন? বাসায় এত মানুষ আছে আমাদের কাছেই রেখে যা।
পূর্ণতা একটা মলিন হাসি দিয়ে বলে–
—না ভাইয়া। আমার ছেলেকে কারোর বোঝা বানাতে চাই না, আর নাই বা অ্যাটাচমেন্ট বাড়াতে চাই। বলা তো যায় না, সময় ওকে আবার কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে যায়। আসছি, দোয়া করো মিটিংটা যাতে সাকসেসফুল হয়। আল্লাহ হাফেজ।
কাউকে আরকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে পূর্ণতা বিদায় নিয়ে চলে যায়। আহনাফ সাহেব আর আরিয়ান বিষাদময় দৃষ্টি নিয়ে পূর্ণতার প্রস্থান পথের দিকে চেয়ে থাকে। যতই পূর্ণতা তাদের সাথে থাকুক না কেন, একটা গ্যাপ মেনে চলে। আগের মতো বেশি একটা মাখামাখি করে না বা হৈ-হুল্লোড়ে মাতে না মেয়েটা। জীবন তাকে একটু তাড়াতাড়িই বাস্তবতার সম্মুখীন করেছে যেন। এমন কঠিন বাস্তবতা যা পূর্ণতার মনে গভীর দাগ রেখে গিয়েছে।
পূর্ণতা তাজওয়াদকে টনির সাথে গাড়িতে উঠিয়ে নিজের গাড়ির দিকে হাঁটা দেয়। ছেলেটার জন্য মনটা কেমন কেমন করলেও, বিজনেসের জন্য মনটাকে শক্ত করে। বিজনেসটাও তার কাছে আরেকটা সন্তানের মতোই। পূর্ণতা নিজের গাড়িতে উঠে বসতেই ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট দিতে নিবে তখনই শুনতে পায় তাজওয়াদের ডাক। সে রিয়ার ভিউ মিরর দিয়ে পেছনে তাকালে দেখতে পায়, তাজওয়াদ গাড়ি থেকে বের হয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে তার গাড়ির দিকে আসছে। ছেলেকে এমনভাবে ছুটে আসতে দেখে পূর্ণতাও গাড়ি থেকে বের হয়ে আসে।
তাজওয়াদ পূর্ণতার গাড়ির সামনে এসে দাঁড়াতেই পূর্ণতা তার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে কোমল গলায় বলে–
—কি হয়েছে সোনা? তুমি গাড়ি থেকে বের হয়ে এভাবে দৌড়ে আসলে কেনো? এনি থিং রং ডিয়ার?
তাজওয়াদ কিছুটা হাঁপাতে হাঁপাতে বলে–
—মাম্মা, টনি আঙ্কেল তো তোমাল বডিগার্ড, সেও যদি আমাল সাথে চলে যায়। তাহলে তুমাকে প্লটেক্ট কলবে কে? এল চেয়ে ভালো, টনি আঙ্কেল চলে যাক অফিসে, আমি তোমাল সাথে যাই তোমাকে প্লটেক্ট কলতে। আমি না তোমাল বডিগার্ড। আমাল তো একটা লেসপনসিবিলিটি আছে না?
কথা শেষ করে একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে তাজওয়াদ। ছেলে ভোলানো কথায় সে তার তার মাকে ভোলাতে চায়। পূর্ণতা বুঝতে পারে কাল রাত থেকে আজ এই পর্যন্ত তার সকল বুঝানো রাস্তার ধারে গড়াগড়ি খাচ্ছে। সে চাইছে না ক্লায়েন্টদের সাথে হওয়া মিটিংয়ে তাজওয়াদকে নিতে, কিন্তু মা পাগল ছেলে তাজওয়াদের কি মা ছাড়া চলে বুঝি? তাই তো কিভাবে ইনিয়ে-বিনিয়ে নিজের আর্জি পেশ করলো। পূর্ণতা একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ছেলেকে কোলে তুলে নিয়ে গাড়িতে বসে। টনিও তাদের সাথে উঠে বসে। পূর্ণতা টনিকে বলে দেয়, তার মিটিং প্লেসের আশেপাশে কোন ক্যাফে বা পার্কে যেন তাজওয়াদকে নিয়ে থাকে টনি। আর তাজওয়াদ জেদ করলে বা কান্নাকাটি করলে তাকে ফোন দিতে।
সময় মতো তারা ” ঐতিহ্য ফ্যাশন হাউজ” এর অফিসে এসে পৌছে যায়। পূর্ণতা গাড়ি থেকে নেমে দেখে অফিসের সামনেই তার ম্যানেজার রওনক ও তার নতুন পি.এ. আয়েশা দাঁড়িয়ে আছে। পূর্ণতা আরেকবার মন ভরে ছেলেকে আদর করে অফিসে ঢুকতে নিবে, তখনই একজন সুটবুট পরিহিত পুরুষ তার সামনে এসে দাঁড়ায়। সম্ভবত সে ঐতিহ্য ফ্যাশন হাউজের ম্যানেজার। ম্যানেজার এসেই তাকে সালাম দিয়ে নিজের পরিচয় দিয়ে বলে–
—আসসালামু আলাইকুম ম্যাম। আমি ঐতিহ্য ফ্যাশন হাউজের ম্যানেজার কামরুল ইসলাম। নাইস টু মিট ইউ ম্যাম।
—ওয়া আলাইকুমুস সালাম। নাইস টু মিট ইউ টু মি.ইসলাম।
—চলুন ম্যাম সকলে মিটিং রুমে এসে উপস্থিত হয়েছে।
—হুম চলুন।
পূর্ণতাকে বাচ্চা ছাড়াআসতে দেখে মি.ইসলাম বলেন–
—ম্যাম আপনারা এই কয়েকজনই?
—হ্যাঁ, কেনো কোনো সমস্যা?
—না ম্যাম। আসলে শুনেছিলাম আপনার নাকি বেবি আছে। এবং তাকে নিয়েই সব জায়গায় যান। তাই আরকি জিজ্ঞেস করছিলাম।
কামরুল ইসলামের কথা শুনে পূর্ণতার কপালে ভাজ পড়ে। তার বাচ্চা হওয়ার কথাটা এখনও পাবলিকলি বলা হয়নি। আর এটা করা তার পছন্দেরও নয়। এতে করে তার শত্রুরা তার সন্তান সম্পর্কে জানতে পেরে যাবে এবং তাজওয়াদকে টার্গেট করবে নিজেদের কার্যসিদ্ধি করতে। কিন্তু উনি কিভাবে জানল সেটাই পূর্ণতা বুঝে উঠতে পারছে না। তাও সে এই বিষয়ের উপর ভাবনা চিন্তা করে সময় নষ্ট করে না। অফিসের চার দেওয়াল থেকে কথাটা বের হতে আর কতক্ষণই বা লাগবে?
পূর্ণতা সোজাসাপটা ভাবে বলে–
—এসেছে। গাড়িতে আছে। কেনো বলুন তো?
মি.ইসলাম বিনীত ভাবে বলে–
—আসলে ম্যাম আমাদের অফিসের ফিমেল এমপ্লয়িদের বাচ্চাদের জন্য অফিসে কিডস জোনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে তাদের পরিচর্যা করার জন্য আলাদা স্টাফও আছে। আপনি চাইলে আপনার বাচ্চাকে সেখানে রাখতে পারেন।
বিষয়টা পূর্ণতার কাছে বেশ ভালো লাগে। সে যদিও একবার ভাবে নাকচ করে দিবে প্রস্তাবটা, কিন্তু মায়ের মন মানতে চায় না। সে ছেলেকে কিডস জোনে রেখে নিশ্চিন্ত মনে নিজের কাজে চলে যায়। মিটিং শুরু হতেই জাওয়াদ তার কেবিন থেকে বের হয়ে কিডস জোনের দিকে হাঁটা দেয়। পূর্ণতা আগামী দুয়েক ঘন্টা মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকবে, এই ফাকে ছেলেটার সাথে একটু ভাব করে নিলে মন্দ হয় না। যদিও মিটিং ভালো হোক বা মন্দ, ডিলটা পূর্ণতাকেই দেওয়া হবে। কিন্তু পূর্ণতা যাতে ডিল সাইন করার আগে জানতে না পারে এটা জাওয়াদের কোম্পানি তাই সে লুকিয়ে-চুরিয়ে আছে। ডিল সাইন হলে কাজের ছুতোয় একটু একটু করে পূর্ণতার কাছে যেতে পারবে জাওয়াদ।
হ্যাঁ, এই ঐতিহ্য ফ্যাশন হাইজ জাওয়াদ ও মাহবুবের কোম্পানি। আর পূর্ণতা কোম্পনির সাথে এমন একটা ডিল করার আইডিয়াও তার। জাওয়াদ কিডস জোনের দিকে যেতে যেতে জিনিয়াকে কল করে। জিনিয়া ফোনটা রিসিভ করতেই জাওয়াদ বলে–
—আজ তোর ভার্সিটিতে ক্লাস আছে?
—না ভাইয়া। কেনো বলো তো?
—তাজওয়াদের সাথে দেখা করতে চাস?
—হ্যাঁ, তা তো চাই। কিন্তু তুমি এসব জিজ্ঞেস করছো কেনো?
—কারণ তাজওয়াদ এই মুহূর্তে আমার অফিসে আছে। আর তুই যদি দেখা করতে চাস তাহলে বাড়ির বাহিরে ড্রাইভার আছে। গাড়ি করে চলে আস।
—কি! সত্যি!? তাজ তোমার কাছে কেনো? ভাবীপু কোথায়?
—সব ফোনে বলতে পারবো না। তাড়াতাড়ি আয়। আসার পর বলছি।
—দশ মিনিটের মধ্যে আসছি।
জিনিয়া খুশিতে বাক-বাকুম হয়ে তৈরি হতে চলে যায়। সে পূর্ণতার সাথে দেখা করে আসার পরের দিনই বাসায় চলে এসেছে।
মাহবুব মিটিং রুমের মাঝখানে দাঁড়িয়ে উপস্থিত সকলের দিকে তাকালেন। মুখে পরিমিত হাসি, ভঙ্গিতে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলা শুরু করল–
—গুডমর্নিং এভ্রিওয়ান। আমি মাহবুবুল হক, ডেপুটি সিইও, ঐতিহ্য ফ্যাশন হাউজ।
সংক্ষিপ্ত পরিচয়ের পর সে বসে পড়লে, আভরণ ক্রিয়েশনসের ডিরেক্টর আভিরা দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় দেন। পর্যায়ক্রমে পূর্ণতা ও তার টিমের সদস্যরাও নিজেদের পরিচয় দেন। পরিচয়পর্ব শেষ হলে মাহবুব আবার কথা শুরু করেন—
—আপনারা ইতিমধ্যে অবগত হয়েছেন যে, ঐতিহ্য ফ্যাশন হাউজ এবং আভরণ ক্রিয়েশনস যৌথভাবে কয়েকটি শো-রুম চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এই পরিকল্পনার পেছনের দর্শনটা আজ সংক্ষেপে তুলে ধরতে চাই।
তিনি একটু থামলেন, যেন কথাগুলো ঠিক জায়গায় গিয়ে পৌঁছায়। নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়ে সে আবারও বলা আরম্ভ করলেন–
—ঐতিহ্য ফ্যাশন হাউজ কাজ করে বাংলার ঐতিহ্যকে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করার লক্ষ্য নিয়ে। আমাদের বিশ্বাস, কালের পরিক্রমায় পোশাক বদলালেও শেকড় যেন হারিয়ে না যায়। আমরা চাই, বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক, নকশা আর বুনন যেন সময়ের চাপে বিলীন না হয়ে বরং নতুন রূপে বহির্বিশ্বে পরিচিত হয়।
একই সঙ্গে আমরা এটাও মাথায় রাখি, ঐতিহ্য যেন কখনোই ব্যবহারকারীর অস্বস্তির কারণ না হয়। তাই আমাদের প্রতিটি ডিজাইনে ঐতিহ্য ও স্বস্তি, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা থাকে।
বক্তব্যটুকু শেষ করে তিনি দৃষ্টিপাত করলেন আভরণ ক্রিয়েশনসের প্রতিনিধিদের দিকে—
—অন্যদিকে, আভরণ ক্রিয়েশনস কাজ করে বর্তমান সময়ের ট্রেন্ড ও গ্রাহকের চাহিদাকে কেন্দ্র করে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পোশাককে আরও ব্যবহারযোগ্য, আরও আধুনিক করে তোলাই তাদের মূল শক্তি।
মাহবুব একটু থেমে হালকা হাসি ফুটিয়ে তুলে তার ঠোঁটের কোণায়, তারপর বলে–
—একই ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেও আমাদের কাজের ধরনে একটা স্বাভাবিক বৈপরীত্য রয়েছে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এই বৈপরীত্যই নতুন কিছু সৃষ্টির সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে। এই ভাবনা থেকেই আমরা যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের এই প্রজেক্টের নাম হবে “ঐতিহ্যবাহী আভরণ”।
নামের উচ্চারণে আলাদা জোর দিলো সে। চোখেমুখে এক আলাদা উজ্জ্বলতা লক্ষ্য করা যায় তখন।
—এই শো-রুমগুলোতে একদিকে গ্রাহকরা পাবেন বাংলার ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও নকশার সংগ্রহ। অন্যদিকে থাকবে আধুনিক সময়ের সাথে মানানসই পোশাক ও সাজসজ্জার সামগ্রী। আমাদের লক্ষ্য একটাই, ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মাঝে একটি স্বাভাবিক সেতুবন্ধন তৈরি করা।
দীর্ঘ এক বক্তব্য শেষে মাহবুব থামল। ঘরজুড়ে তখন একধরনের নীরব মনোযোগ। সে থামতেই একে একে সকলের করতালিতে রুমটা মুখরিত হয়ে উঠল। মাহবুব বসে পড়তেই আভিরা নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়াল। ভঙ্গিতে আত্মবিশ্বাস, কণ্ঠে পরিমিত দৃঢ়তা নিয়ে বলা শুরু করে–
—এই যৌথ প্রজেক্টের পরবর্তী ধাপে আমরা যে বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি, সেগুলো হলো শো-রুমের লোকেশন নির্বাচন, স্পেস প্ল্যানিং, ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং নির্মাণ কার্যক্রম।
এই পুরো প্রক্রিয়াটা অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সুসমন্বিত হওয়া প্রয়োজন। সে কারণেই আমরা চাই, লোকেশন ফাইনালাইজ করা থেকে শুরু করে ডিজাইন ও নির্মাণ এই সম্পূর্ণ দায়িত্ব আপনারা দেখভাল করবেন। আমাদের প্রত্যাশা, প্রতিটি শো-রুম যেন শুধু বিক্রয়কেন্দ্র না হয়ে, আমাদের ব্র্যান্ড দর্শনের প্রতিফলন হয়ে ওঠে।
কথা শেষ করে আভিরা শান্ত ভঙ্গিতে বসে পড়ল। এরপর পূর্ণতা তার বক্তব্য পেশ করে। দীর্ঘ সাড়ে তিন ঘন্টা মিটিংয়ের পর ডিলটা সাইন হয়।
এদিকে ঘটে গিয়েছে আরেক ঘটনা। জাওয়াদ কিডস জোনে আসতেই টনি তাকে দেখে চিনতে পেরে যায় আর তাকে তাজওয়াদের কাছে যেতে দেয় না। জাওয়াদ জোড়াজুড়ি করার পরও টনি যেতে দিতে রাজি হয় না। জাওয়াদ রেগে গিয়ে টনির সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়তে নিলে তখনই সেখানে উপস্থিত হয় জিনিয়া। সে গলা উঁচিয়ে টনির উদ্দেশ্যে বলে–
—অ্যাঁই মি.সান্ডাপান্ডা, আপনি সামনে থেকে সরবেন? নাকি সেদিনের মতো আমি আমার অস্ত্র ব্যবহার করবো। এবার কিন্তু রক্ত বের করে ছাড়ব কা*মড় দিয়ে।
টনি জিনিয়ার গলার আওয়াজ পেয়ে পেছনে তাকালে জিনিয়াকে দেখে চমকে যায়। বিরবিরিয়ে বলে–
—খোদা, আজ আবার এই রা*ক্ষসী লিলিপুট কোথা থেকে আসলো?
জিনিয়া রেগেমেগে টনির সামনে এসে দাঁড়িয়ে বলে–
—সামনে থেকে সরুন। আমি আর ভাইয়া তাজওয়াদের কাছে যাবো। বেশি তিড়িংতিড়িং করলে একদম খবর করে ছাড়বো। সরুন বলছি।
শেষের কথাটা জিনিয়া ধমকের সুরেই বলে। টনি তার ধমক খেয়ে চোখ পাকিয়ে তাকায়। তার হাঁটুর সমান একটা মেয়ে তাকে ধমকিয়ে কথা বলছে, সাহসের তারিফ করতে হয়। টনি গমগমে গলায় বলে–
—আপনি তাজের কাছে যেতে চাইলে যেতে পারেন, কিন্তু উনাকে আমি কিছুতেই এলাউ করতে পারব না তাজের কাছে।
জিনিয়া দুই কোমড়ে হাত দিয়ে নিজের পায়ের আঙ্গুলের উপর ভর দিয়ে টনির সমান সমান হতে চায়। কিন্তু বেচারী ব্যর্থ হয়। তাই সে মাথা আরেকটু উঁচু করে বলে–
—আমিও যাবো আর আমার ভাইও যাবে তাজওয়াদের কাছে। দেখি কি করতে পারেন।
টনি এবার রেগে যায়। সে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে–
—মাথার উপরে তুলে আছাড় মে*রে ভর্তা না করলে বোধহয় আপনার একটা শিক্ষা হবে না মিস লিলিপুট। কি করবো নাকি ভর্তা?
—আসেন না আসেন। এমন এক পাঞ্চ দিবো না, কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরবেন।
—হাইটেই না, বুদ্ধিতেও খাটো দেখি আপনি মিস লিলিপুট। নাইস জোকস বললেন তো, নেক্সট প্লিজ।
—তবে রে!!!!!
জিনিয়া তেড়ে আসতে নেয় টনির দিকে, অন্যদিকে টনি নির্ভীক ভাবে নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকে। কিন্তু মাঝখান দিয়ে কোথা থেকে একটা ফুটবল জিনিয়ার সামনে চলে আসে। আর জিনিয়া সেটা না দেখেই পাড়া দিয়ে দেয়, ফলস্বরূপ মুখ থুবড়ে টনির বুকের উপর গিয়ে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় টনি ব্যালেন্স ধরে রাখতে না পেরে নিজেও ঠাস করে পড়ে যায়।
কিডস জোনে থাকা সব বাচ্চারা হাহা করে হেঁসে দেয়। শুধু হাসে না জাওয়াদ ও তাজওয়াদ। তারা দু’জন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে জিনিয়া আর টনির দিকে। জাওয়াদ অবাক হয়ে গিয়েছে, কারণ তার শান্তশিষ্ট, চুপচাপ বোনটাও এত ঝগড়া করতে জানে এটা জানতে পেরে। আর তাজওয়াদ অবাক হয়ে গিয়েছে তার পিপিকে এমন করে পড়ে যেতে দেখে।
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে, আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]
শব্দসংখ্যা~১৮৪৩
~চলবে?
[আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন প্রিয় পাঠকসমাজ? অনেকেই অবগত আছেন, আজ পবিত্র সবে বরাত। আজ দিবাগত রাতে মুসলিম ধর্মাবলম্বী আমার অনেক পাঠক-পাঠিকাই নফল ইবাদতে মশগুল থাকবেন আমি জানি। আপনাদের কাছে আমার বিনীত অনুরোধ রইলো, আজ আপনাদের মুনাজাতে আমাকে একটু ঠায় দিয়েন। বর্তমানে খুবই কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আমি। শারীরিক ও মানসিক উভয় ভাবেই আমি ভঙ্গুর প্রায়। আপনারা আমার জন্য একটু দোয়া করিয়েন, যাতে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাকে ধৈর্য দান করে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য। আর সুস্থ রাখে যাতে আপনাদের ভালো কিছু লেখা উপহার দিতে পারি।]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৮