Golpo কষ্টের গল্প শেষ পাতায় সূচনা

শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩৫


শেষ পাতায় সূচনা [৩৫]

সাদিয়াসুলতানামনি

জিনিয়া তার কপালের উপর আসা খুচরো চুলগুলো সরিয়ে কাটা দাগটা দেখিয়ে বলে–

—এই দাগটা আমি এখনও বহন করে যাচ্ছি। আয়নায় যখনই এই দাগটা আমি দেখি, দাগটা আমায় মনে করিয়ে দেয় আমার মায়ের ঘৃণ্য কাজগুলোর কথা। মনে করিয়ে দেয়, সে কতটা নিকৃষ্ট কর্মকান্ড ঘটিয়ে একটা মেয়ের সংসার করার স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছিলো। এই দাগটা আমায় বারংবার লজ্জিত করে তোলে নিজের মায়ের কাজের জন্য। এই দাগটা আমায় মনে করিয়ে দেয়, আমাদের সুন্দর সংসারটা শেষে করার কাণ্ডারী ছিলো আমার মা, যার জন্য তার প্রতি আমার ঘৃণাকে আরো বাড়িয়ে দেয়।

জিনিয়া নিচের দিকে তাকিয়ে নিঃশব্দে চোখের পানি ফেলতে থাকে। পূর্ণতার চোখেও পানি কিন্তু সে সেগুলো শক্ত করে ধরে রেখেছে, নিজেকে নিজেই ধমকাচ্ছে অশ্রু গুলো যাতে কোনমতে গড়িয়ে না পরে। তাজওয়াদ পাশেই বসে বসে ফোনে একটু কার্টুন দেখছো আবার টুকুর টুকুর নয়নে পূর্ণতা আর জিনিয়াকে লক্ষ করছে। কার্টুন দেখতে দেখতে সে যখন আবারও জিনিয়ার দিকে তাকায় আর তাকে কাঁদতে দেখে তখন তার মনটা কেমন খারাপ হয়ে যায়। ছেলেটা ভীষণ নাজুক মনের। কাউকে কাঁদতে দেখলে তার একটুও ভালো লাগে না। আর তার মা কাঁদলে তো কথাই নেই। সেও দিকবিদিকশুন্য হয়ে কাঁদতে থাকে ।

তাজওয়াদ আস্তে করে ফোনটা সোফার উপর রেখে সোফার উপরই হামাগুড়ি দিয়ে মায়ের কাছে যায়। তারপর দাঁড়িয়ে পূর্ণতার কানে কানে ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করে–

—মাম্মা, মাম্মা উই আন্তিতা কাঁদছে কিনু? তুমি কি উনাকে বকা দিয়েচো?

পূর্ণতা ছেলের মতোই করে কানে কানে বলে–

—তুমি তো তখন আন্টি টাকে তোমায় আদর করতে দিলে না, লাফ দিয়ে মায়ের কোলে চলে আসলে। তাই সে স্যাড হয়ে কাঁদছে।

পূর্ণতার কথা শুনে তাজওয়াদের মনটা আরো খারাপ হয়ে যায়। সে আগের মতোই করে বলে–

—তাহলে আমি একুন কি কব্বো? তুমি তো জানো, আমার শলম লাগে যখন মেয়েলা আমাকে আদল কলে।

এমন গভীর একটা সিচুয়েশনেও পূর্ণতার হাসি পেয়ে যায় ছেলের কথা শুনে। ছেলেটা সে ব্যতীত কোন মেয়েকে তাকে আদর করতে একদমই পছন্দ করে না। সে সারাদিন আদর দিলে তার রাজকুমার খুশিতে বাক-বাকুম হয়ে থাকবে। কিন্তু যেই তাকে অন্যকেউ একটু আদর করবে, তখনই হলো। মুখটা একদম পটকা মাছের ন্যায় ফুলিয়ে রাখবে।

পূর্ণতা ছেলেকে টেনে নিজের কোলে বসায় তারপর কানে কানেই বলে–

—সব মেয়ে আর এই মেয়েটা এক না। এটা তোমার একটা পিপি হয়।

—পিপি কি মাম্মা?

—ফু….আন্টি। পিপি মানে আন্টি। আর আন্টিরা আদর করলে শরম পেতে নেই সোনা। তাহলে আন্টিরা এমন স্যাড হয়ে যায়। অনেকে তো কান্নাও করে। যেমনটা এই আন্টিটা করছে। তুমি কি চাও তোমার জন্য কেউ মন খারাপ করে কান্না করুক?

তাজওয়াদ মুখটা দুঃখী দুঃখী করে মাথাটা ডানে বায়ে নাড়ায়। মানে সে চায় না এমনটা হোক। পূর্ণতা ছেলের রিয়াকশন দেখে বলে–

—তাহলে পিপির কাছে যাও। আর তার চোখের পানি মুছিয়ে দিয়ে তাকে তাজওয়াদ’স স্পেশাল আদর দিবে। ঠিক আছে?

তাজওয়াদ একটু দ্বিধা নিয়ে মায়ের কথায় সম্মতি দেয়। তারপর পূর্ণতার কোল থেকে নেমে টিপে টিপে হেঁটে জিনিয়ার সামনে এসে দাড়ায়। একটা শুকনো ঢোক গিলে নিজের তুলতুলে হাত দু’টো উঠিয়ে জিনিয়ার অশ্রুসিক্ত গালজোড়া মুছে দেয়। তারপর নিজে আরেকটু উচু হয়ে মাথাটা উঁচিয়ে জিনিয়ার দুই চোখে আর দুই গালে অনেকগুলো আদর দেয়। জিনিয়া অবাকের উপর অবাক হয়ে যায় তাজওয়াদের কান্ডে কিন্তু কিছু বলে না। চুপচাপ তাজওয়াদের দেওয়া আদর গুলো গ্রহণ করে।

আদর দেওয়া শেষে তাজওয়াদ আদোও আদোও গলায় বলে–

—কান্না কলো না পিপি। তুমি একুন তেকে তাজকে আদল কলো, সে পালিয়ে যাবে না আল।

তাজওয়াদের কথা শুনে জিনিয়া ভীষণ খুশি হয়। সে হাত বাড়িয়ে ভাতিজাকে কোলে তুলে আদরে আদরে ভরিয়ে দিতে থাকে। নিজের ব্যাগ থেকে কতগুলো চকলেট বের করে দেয় তাজকে। তাজ ও জিনিয়াকে খুশি হতে দেখে পূর্ণতাও খুশি হয়ে যায়।

সেদিন শেষ বিকেল পর্যন্ত জিনিয়া পূর্ণতার অফিসেই থাকে। তাজওয়াদের সাথে অনেক সময় কাটায়, দুষ্টুমি করে। দুপুরের খাবার খেয়ে একটু রেস্ট নিয়ে আবারও ফুফু ভাতিজা দুষ্টুমিতে মেতে ওঠে। এই কয়েক ঘন্টার মাঝেই তাজওয়াদ ও জিনিয়ার অনেক ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছে। আসরের আজানের পরপর দিয়ে পূর্ণতাকে জিনিয়া বলে–

—ভাবীপু আমাকে এখন হোস্টেলের জন্য রওনা দিতে হবে। পাঁচটা বাজার পর হোস্টেলের গেট বন্ধ করে দিবে। তখন আবার আরেক ঝামেলা হবে।

পূর্ণতা বলে–

—আচ্ছা, টনি তোমাকে দিয়ে আসবে গাড়ি করে।

—না, না ভাবীপু। আমি একা…..

—নো মোর ওয়ার্ডস। বেশি কথা বললে কান মুলে দিবো।

পূর্ণতা যদিও কঠোর গলাতেই বলেছে কথাটা, কিন্তু সেই কঠোরতার পেছনে কতটা ভালোবাসা, স্নেহ, চিন্তা ছিলো সেটা জিনিয়া ঠিকই ধরতে পারে। সে নিজের জায়গা ছেড়ে উঠে পূর্ণতার কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে। পূর্ণতা প্রথমে হকচকিয়ে গেলেও পরবর্তীতে নিজেকে সামলে নিয়ে আস্তে ধীরে নিজেও জিনিয়াকে জড়িয়ে ধরে। পূর্ণতা জড়িয়ে ধরতেই জিনিয়া ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। নাক টানতে টানতে বলে–

—ভাবীপু, আই মিস ইউ সো মাচ। তুমি প্লিজ ফিরে চলো না তোমার সংসারে। তোমার সংসারটা তুমি ব্যতীত কেমন ছন্নছাড়া হয়ে আছে। আমার ভাইটাও ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে তোমাকে ছাড়া। সে তোমাকে হারিয়ে একটু বেশিই এলোমেলো হয়ে গিয়েছে।

পূর্ণতা জিনিয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলে–

—নতুন কাউকে নিয়ে আসো তোমার ভাইয়ের বউ হিসেবে, সে সুন্দর করে নিজের আঁচলে বেধে রাখবে তোমাদের সংসারটা। তোমার এলেমেলো ভাইকেও বেশ সামলে রাখবে। আর যেটা আমার সংসার বললে, সেটা আদতে কখনোই আমার সংসার ছিলো না। তোমার মায়ের সংসার ওটা, মিসেস শেখের সংসার। একটা কথা কি জানো ময়নাপাখি, কিছু কিছু মানুষের সব থাকে। টাকা-পয়সা, ধন-দৌলত, নাম-জশ, প্রভাব-প্রতিপত্তি কিন্তু তার একটা সুন্দর সাজানো-গোছানো সংসার থাকে না। সে যতই চেষ্টা করুক না কেন সেটা তৈরি করার, কখনোই হয়না। আর এই একটা দিক দিয়েই সে সবার থেকে পিছিয়ে থাকে।

আমরা যতই টাকা-পয়সা, নাম-জশের পেছনে দৌড়াই না কেন, দিনশেষে আমরা স্বস্তি হিসেবে নিজের আপনজনকে নিয়ে তৈরি সংসারটাকেই বেছে নেই। পরিবার আমাদের যেই শান্তি, স্বস্তি, নিরাপত্তা, ভালোবাসা দিতে পারে সেটা পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না। কোন কিছুর বিনিময়েও না। কিন্তু আমি তো সেই সব ভাগ্যবানদের একজন নেই যার একটা সংসার থাকবে।

কিন্তু আমারও একটা পরিবার রয়েছে। আমার ছেলেকে নিয়েই আমার পরিবার। আমাদের মা-ছেলের এই ছোট সংসার নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ অনেক খুশি রয়েছি। তাজওয়াদ বড় হলে ওকে বিয়ে করিয়ে একটা লাল টুকটুকে বউ নিয়ে আসবো তখন আমাদের পরিবারটা একটু বড় হবে।

পূর্ণতার এহেন কথা তাজওয়াদের কানেও যায়। সে-তো রেগে বো-ম। ফোসফোস করতে করতে বলে–

—মাম্মাআআআ, আমি বিয়ে কলবো না। লাগবে না আমার কুনো লাল তুকতুকে বউ।

—এহহ বললেই হলো, তুমি জানো না আমার শ্বাশুড়ি হওয়ার কত শখ। আমি তো ভেবেই রেখেছি তোমার ১৮ বছর হলেই বিয়ে দিয়ে বউ নিয়ে আসবে। অ্যাঁই জিনু, তুমি মেয়ে খোঁজা শুরু করো তো আমার তাজওয়াদের জন্য। ভদ্র, চটপটে, দুষ্টুমি করে এমন মেয়ে দেখবে তাজওয়াদের জন্য। ছেলেটা আমার এত শান্ত, বউটাও শান্ত হলে বাড়িটা কেমন ভূতের আখড়া হয়ে যাবে।

পূর্ণতার কথা শুনো তাজওয়াদ আরো রেগে যায়। সে এতটাই রেগে গিয়েছে যে, চোখে পানি এসে পরেছে। সে জিনিয়ার কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বলে–

—পিপি, তুমি আমাল জন্য কুনো মেয়ে দেকবে না। দেকলে তাজ তোমাল সাথে কতা বলবে না, আদলও কততে দিবে না, তোমাল সাথে খেলবেও না। আর বউকেও কামলে ভাগিয়ে দিবে।

তাজওয়াদের কথা শুনে জিনিয়া আর পূর্ণতা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার দশা হয়ে যায়। পূর্ণতা ছেলেকে আরেকটু রাগিয়ে দিতে চায়, কিন্তু যখন ছেলের চোখে পানি দেখে তখন আর বেশি ঘাটে না। সে তাজওয়াদকে নিজের কোলে তুলতে চায়, কিন্তু তাজওয়াদ অভিমান করে তার কাছে আসে না। পরে পূর্ণতা জোর করেই তাকে নিজের কোলে তুলে নেয়। তাজওয়াদকে শান্ত করতে বলে–

—শুনো জিনু, এখনই মেয়ে দেখার প্রয়োজন নেই। আরেকটু বড় হয়ে নিক। অন্তত স্কুলে ভর্তি হওয়ার আগ পর্যন্ত কোন মেয়ে দেখাদেখি চলবে না। বুঝেছো?

জিনিয়া হাসতে হাসতে শেষে সোফায় বসে গড়াগড়ি খেতে থাকে। তাজওয়াদ তো রেগে পূর্ণতার কোল থেকে নামার জন্য হুড়োহুড়ি করতে থাকে। এরই মাঝে টনি কেবিনে আসে। টনি আসার পর পূর্ণতা টনিকে বলে–

—জিনুকে ওর হোস্টেলের সামনে নামিয়ে দিয়ে আসে টনি।

টনি সবসময় পূর্ণতার সব কথা শুনলেও আজ এটা করতে নাকচ করে দেয়। সে বলে–

—ম্যাম, এই ঝগড়ুটে, ডেঞ্জারাস, বিচ্ছু মেয়েকে আমি দিয়ে আসতে পারব না। আমি ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি, সে দিয়ে আসবে।

টনির কথা শুনে জিনিয়া তেলেবেগুনে জ্ব–লে উঠে। কোমড়ে হাত দিয়ে হইহই করতে করতে টনির সমানে গিয়ে আঙুল উঁচিয়ে বলে–

—অ্যাঁই, সান্ডা-পান্ডা কি বললেন আপনি? আমি ঝগড়ুটে? আবার বিচ্ছুও বললেন। সাহস কতো আপনার? চিনেন আমাকে? আমার ভাইকে চেনেন? আমার ভাবীকে চেনেন না? একদম আপনার চাকরী খেয়ে দিবো ।

টনি তাকে স্পষ্ট অবজ্ঞা করে বলে–

—নিজেই নিজেকে চেনে না, আবার আমাকে চেনাতে আসছে। লিলিপুট কোথাকার।

শেষের কথাটা বেশ আস্তেই বলে টনি যার কারণে জিনিয়া শুনতে পেলেও পূর্ণতা আর তাজওয়াদ শুনতে পায় না। নিজের হাইট নিয়ে কটাক্ষ করায় এবার জিনিয়া পারে না টনির চুল ছিঁড়ে ফেলতে। আসলে হয়েছে কি, টনি ছয় ফুট দুই। তার হাইট ছোট খাটো একটা তালগাছের সাথে তুলনা করাই যেতে পারে। অন্যদিকে জিনিয়া পাঁচ ফুট তিন ইঞ্চির। টনির কাধ বরাবর। জিনিয়ার টনির মুখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে হলে মাথা বেশ খানিকটা উঁচু করতে হয়।

জিনিয়া রেগেমেগে কিছু বলতে নিবে তখনই পূর্ণতা বলে ওঠে–

—আরে আরে তোমরা ঝগড়া করছো কেনো এভাবে বাচ্চাদের মতো? আর টনি, তুমিই বা কেন ওকে নিয়ে যেতে চাইছো না?

—কারণ আমি এসব তারছিঁড়া পাবলিকদের সাথে চলাচল করতে ভয় পাই ম্যাম। সিলেটে আমার সাথে যাতা করে তারপর আপনাদের কেবিনে ঢুকে গিয়েছিলো। আমি তো শুরুতে পাগলটাগল ভেবে ভয়ই পেয়েছিলাম। পরে দেখি না সুস্থ মানুষ। আজ আবার কি করলো আপনি তো দেখেননি। এই দেখুন (নিজের ডান হাতের হাতা গুটিয়ে লাল হয়ে যাওয়া জায়গাটা দেখায়, যেখানে সকালে জিনিয়া কামড় দিয়েছিলো) কত জোরে কামড় দিয়েছে দেখেন। আরেকটু হলে, দাঁতের সাথে মা–ংশ নিয়ে ফেলেতো।

পূর্ণতা দেখতে পায়, টনির ডান হাতে বেশ খানিকটা জায়গায় গোল করে লাল হয়ে আছে। আর দাঁতের ছাপও স্পষ্ট। তার কেন জানি হাসি পায় জিনিয়ার এহেন কাজে। কিন্তু হাসে না। কথায় হাসা সে বন্ধ করে দিয়েছে সেই পাঁচ বছর আগেই। শুধু ছেলে কাছে থাকলে তার জন্য হাসে, নাহয় মুখটা সর্বদা গোমড়াই করে রাখে।

পূর্ণতা একটা গলা খাঁকারি দিয়ে বলে–

—ও বাচ্চা মানুষ টনি, ভুলে করে ফেলেছে। মাফ করে দাও। আর তুমিই গিয়ে দিয়ে আসো জিনুকে। ড্রাইভারকে আমি সকালেই ছুটি দিয়ে দিয়েছি, তার বউ অসুস্থ বলে। জিনু কোন পাগলামি করবে না, আমি কথা দিলাম তোমায়।

টনি আর কিছু বলতে পারে না পূর্ণতার উপর দিয়ে। চুপচাপ আগে আগে চলে যায় পার্কিংলট থেকে গাড়ি বের করতে। পূর্ণতা জিনিয়াকে বিদায় দেওয়ার সময় আরো একবার জড়িয়ে ধরে, তারপর বলে–

—তোমার উপর আমার কোন মান-অভিমান নেই বোন। ইভেন তোমাদের কারোর উপরই আমার কোন অনুভূতি আসে না। বাকি সকলের মতোই আমি মন থেকেই তোমাকে নিজের বোন ভেবেছিলাম। তুমি মাঝে মধ্যে এসে তাজওয়াদের সাথে দেখা করে যেও, আমি কিছু বলবো না। কিন্তু আর কাউকে সাথে এনো না, বা কারোর জন্য সুপারিশ নিয়ে এসো না। আমরা মা-ছেলে ভালো আছি নিজেদের ছোট সংসার নিয়ে। আমার আর কোন সংসার লাগবে না আর নাই বা জীবনসঙ্গী। পারলে তোমার ভাইকে একটা মেয়ে দেখে বিয়ে দিয়ে দিও। যদিও এটা তোমাদের পারিবারিক বিষয়, আমার বলা অনুচিত। তাও অনধিকারচর্চা করলাম একটু। সংসারে নতুন কেউ আসলে মন এমনিতেই পুরোনো জনের উপর থেকে ঘুরে যাবে। তার প্রতি আমার কোন দাবীদাওয়া নেই।

আরেকটা কথা, বাবা-মায়ের সাথে আর রাগ করে থেকো না। তাও আমার মতো এক ভেসে আসা খড়কুটোর জন্য। বাবা-মা কি সেটা যার নেই সে বুঝে। আজ আমি মা হয়ে বুঝতে পারছি, সন্তান একজন মায়ের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তোমার বাবা-মায়ের বয়স হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে হলেও তাদের কাছে ফিরে যেও। ভাবী না বড় বোন হিসেবে পরামর্শ দিলাম।

জিনিয়া সিক্ত চোখ নিয়ে ধরা গলায় বলে–

“তুমি কোনো ভেসে আসা খড়কুটো নও,
তুমি শিউলির মতোই নীরব, ভঙ্গুর,
অথচ সবচেয়ে অমূল্য।

তুমি ঝরে যাও মানুষের কথার আঘাতে,
কিন্তু রয়ে যাও তাদেরই মনের কোণে।
তুমি নেই যেখানে,
অপূর্ণতারা অভিযান চালায় সেখানে।

তোমার অনুপস্থিতি কাঁদায়,পোড়ায়,
আত্মগ্লানিতে ভোগায়।
তোমার উপস্থিতি সকলের মুখে আনন্দের হাসি ফোটায়।”


—আমরা সবসময় এমন মানুষকে ভালোবাসি কেন, যে আমাদের সাধ্যের বাহিরে থাকে? কেন তার জন্যই বিরহের প্রহর গুনি যে আমাদের না? বেহায়া মন কেন তার সানিধ্য পাওয়ার জন্যই তড়পাতে থাকে?

নিস্তব্ধ একাকী রাতে জানালার পাশে রাখা টেবিলে বসে চাঁদের নরম আলোতে খসখস শব্দ তুলে কথাগুলো ডায়েরিতে লিখতে থাকে মেয়েটি। জানালা দিয়ে আসা অল্পস্বল্প বাতাস তার খোলা এলোমেলো চুলগুলোকে আরো এলোমেলো করে দিচ্ছে। মাঝ রাতের দিকে জানালার পাশ থেকে উঠে এসে বিছানায় সাড়ে তিন বছরের ভাতিজিকে বুকে জড়িয়ে শুয়ে চোখ বন্ধ করে নেয়। কিছু সময় পর তার সেই বন্ধ চোখের কোণ বেয়ে টুপটুপ করে কয়েক ফোটা করে অশ্রু গড়িয়ে বালিশ ভিজিয়ে দিতে থাকে।

[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন। ]

শব্দসংখ্যা~১৮৬৬
~চলবে?

[গত পর্বের রিচ দেখে হতাশ, বড়ই হতাশ। ৩১০০ শব্দের পর্বে আপনাদের রেসপন্স দেখে বেক্কল হয়ে গিয়েছি।😅💔 আপনাদের সবচাইতে বড় অভিযোগ এত লেট করে দেই কেন? ভাই রে, আমি ইতিমধ্যে কয়েকবার বলে ফেলছি আমার ভার্সিটির ক্লাস শুরু হয়ে গিয়েছে। সকাল সাতটায় বের হই, আসি দুটোয়। আবার পাঁচটা থেকে টিউশনি। এত কিছু করার পর এনার্জি থাকে শরীরে? মাইগ্রেনের ব্যথায় এত বেচে আছি তাতেই আলহামদুলিল্লাহ। যারা ভাবেন ই-বুক বিক্রি করে বড়লোক্স হয়ে গিয়েছি, আসেন একদিন মিট করি আমরা। এক কাপ চা খেতে খেতে আমার সারামাসের শিডিউল দেই, কোন দিন কি করি। 😄

কাল গল্প দিতাম, কিন্তু এত মাথা ব্যথা শুরু হয়ে গিয়েছিল, রীতিমতো চোখে অন্ধকার দেখছিলাম ব্যথায়। এজন্য লেখাও শেষ করতে পারিনি আর গল্প দিতেও পারিনি। আমার প্রতি আপনাদের হাজার হাজার অভিযোগ থাকুক না কেন, আপনাদের প্রতি আমার একটা অভিযোগও নেই।

ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply