শেষ পাতায় সূচনা [৩৪]
সাদিয়াসুলতানামনি
পূর্ণতাকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার ৪ দিন পর জিনিয়া আর মি.শেখ গ্রাম থেকে বাড়ি আসেন। এসেই তারা পূর্ণতার কথা জিজ্ঞেস করলে জাওয়াদই তাদের সবটা জানান। মি.শেখ ও জিনিয়া কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না পূর্ণতা মিসেস শেখের গায়ে হাত দেওয়ার মতো এত বড় একটা গর্হিত অপ”রাধ করেছে। কিন্তু জাওয়াদ তো মিথ্যে বলবে না, তাও নিজের বউয়ের নামে। মি.শেখ পূর্ণতাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আর কিছুই বলতে পারে না। জিনিয়া যদিও লুকিয়ে কয়েক বার পূর্ণতার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছিলো, কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছিল।
এভাবে কেটে যায় একটা মাস। জাওয়াদ অনেকটা ভবঘুরের মতো হয়ে যায় এই একমাসে। চাকরী-বাকরীও করার বা খোঁজার মতো উদ্দীপনা তার মধ্যে দেখা যায় না তখন। সকালে বের হয় বাসা থেকে, আসে রাত দশটার পর। সারাদিন এখানে-ওখানে ঘুরতে থাকে। রাগটা তখন অনেকটা পড়ে যাওয়ায় এখন একটু বেশিই অনুশোচনা হচ্ছিল নিজের কাজের জন্য। বাসায় তখন আঞ্জুমানের একচ্ছত্র আধিপত্য। ভাবটা এমন সেই জাওয়াদের বিয়ে করা বউ। মিসেস শেখ তো বেজায় খুশি নিজের কথা রাখতে পেরে। কিন্তু তাদের মিথ্যে উন্মোচন হয় খুব শীঘ্রই।
সেদিনটা ছিলো জিনিয়ার ফাইনাল পরীক্ষার রেজাল্ট দেওয়ার দিন। অন্যান্য শিক্ষার্থীদের ন্যায় তার মধ্যে সকাল থেকেই একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করছিলো । স্কুল থেকে রেজাল্ট দিবে এগারোটা কি বারোটার দিকে। সব ক্লাসের স্টুডেন্টদের সেদিনই রেজাল্ট দেওয়ায়, জিনিয়ার রেজাল্ট কার্ড নিয়ে বাড়ি ফিরতে বেশ দেরি হয়ে যায়। সাড়ে বারোটার দিকে জিনিয়া বাবার সাথে রেজাল্ট কার্ড নিয়ে বাসায় ফিরে। পথে মিসেস শেখ ফোন করে স্বামীকে মুরগী আনতে বলেন, জিনিয়ার ভালো রেজাল্ট করায় রাতে বিরিয়ানি রান্না করবেন সে। এমনটা সে প্রতিবারই করেন। এজন্য মি.শেখ জিনিয়াকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে বাজারের দিকে হাঁটা দেয়। জিনিয়া তার থেকে চেয়ে ফোনটা রেখে দেয় এই বলে, সে তার ভাইকে নিজের রেজাল্ট জানাবে। আসলে সে ফোনটা রাখে এই জন্য যাতে সে লুকিয়ে পূর্ণতাকেও নিজের রেজাল্টটা জানাতে পারে।
বাসায় এসে দেখে অন্যান্য দিনের ন্যায় আজও রান্নাবান্না করছে আঞ্জুৃমান আর মিসেস শেখ নিজের রুমে বসে আছেন। আঞ্জুমানকে দেখেই জিনিয়ার মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। অনেক খবরদারি করে তারউপর এই মেয়েটা। আবার মাঝে মধ্যে মিথ্যে বলে তার মা-ভাইয়ের কাছে বকাও খাওয়ায়। সে রেজাল্ট কার্ডটা নিজের মায়ের সামনে দিয়ে হনহনিয়ে নিজের রুমের উদ্দেশ্যে হাঁটা দিলে আঞ্জুমান পেছন ডেকে ওঠে তার, তারপর ধমক দিয়ে বলে–
—এটা কেমন ব্যবহার জিনিয়া? কোনো ভালোমন্দ কথা না বলেই এভাবে রেজাল্ট কার্ড ছুঁড়ে ফেলে চলে যাচ্ছো যে? মায়ের সাথে কেউ এমন ব্যবহার করে?
জিনিয়ার কোন রুচি হয় না আঞ্জুমানের সাথে কথা বলার। তাই সে অন্যদিকে মুখ করে রাখে। মিসেস শেখ ভাতিজির কথায় তাল মিলিয়ে বলে–
—আরে বেয়া””দবটার সাথে থাকতে থাকতে বেয়াদবে পরিণত হয়েছে। নাহয় তুইই বল, ওকে কখনো আগে দেখেছিলি এমন ব্যবহার করতে? চালচুলোহীন, পারিবারিক শিক্ষাহীন একটা আপদ এসে ঢুকেছিল আমার সংসারে। ভাগ্যিস সময় মতো আপদটাকে বিদায় করেছি।
“বিদায় করেছি” কথাটা জিনিয়ার কর্ণে বেশ ভালোই বাজে। সে ফট করে বলে ওঠে–
—বিদায় করেছো মানে আম্মু? ভাবীপুকে বিদায় করেছো মানে কি? তারমানে তোমরা কি কিছু করে ভাবীপুকে বাসা থেকে বের করেছো?
জিনিয়ার প্রশ্ন শুনে মিসেস শেখ ও আঞ্জুমান ধরা পরা চোরের মতো করতে থাকে। আঞ্জুমান তখন বুদ্ধি খাটিয়ে বলে–
—হ্যাঁ করেছে বিদায়। নাহলে ফুপিমণির গায়ে হাত তোলা মেয়েকে কি বাসায় রেখে সালাম করতো নাকি!?
জিনিয়ার তখনই কেন জানি মনে একটা সন্দেহের বীজ বপন হয়। কিন্তু তাও সে বেশি কথা বাড়ায় না। নিজের রুমে চলে আসে। রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে কয়েকবার ফোন লাগায় পূর্ণতাকে, কিন্তু পূর্ণতার ফোন সুইচ অফ বলছে। জিনিয়ার মনটা খারাপ হয়ে যায়। সে তার বাবার ফোনটা বাবার রুমে রেখে আসার জন্য রুম থেকে বের হয়। কিন্তু মিসেস শেখের রুমের সামনে এসেই তার কদম থেমে যায় ফুফু-ভাতিজির ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের কথা শুনে। সে চটপট করে বাবার ফোনের ক্যামেরা চালু করে ভিড়িয়ে রাখা দরজার ফাঁক দিয়ে রেকর্ড করতে থাকে। সে শুনতে পায় আঞ্জুমান হাসতে হাসতে চাপা গলায় বলছে–
—ফুপি তুমি যা এক্টিং করো গো, আমি সেদিন তোমার এক্টিং দেখে অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। আমার জন্য তোলা চড়টা নিজের গালে নিলে, আমাকে ধাক্কা দিয়ে। আবার কি কান্নাটাই না করলে। জানো তোমার চোখ টিপে টিপে আনা কান্নাটা দেখে আমার পেট ফেটে হাসি আসছিল।
—নিজের সংসার ঠিক করতে মায়েদের কত কিছু যে করতে হয় সেটা তোরা কল্পনাও করতে পারবি না রে মা। নিজে মা হ, তারপর বুঝবি সংসার ও সন্তান একজন নারীর জীবনে কত মূল্যবান।
স্বস্তির হাসি দিয়ে মিসেস শেখ বলেন। তখন আঞ্জুমান বলে–
—কিন্তু ফুপি আমায় দিয়ে একটা ভুল হয়ে গিয়েছে যে।
মিসেস শেখ উদ্বিগ্ন হয়ে বলেন–
—কি ভুল করলি আবার মা?
—আসলে জাওয়াদ ভাইয়ার জন্মদিনের দিন তুমি ভাইয়ার হালুয়ায় তোমার ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে দিতে বলেছিলে না, যাতে সে ঘুমিয়ে পরার পর আমি তার পাশে গিয়ে এলোমেলো হয়ে শুয়ে থাকি আর সকালে বলি গত রাতে ভাইয়া নিজের অজান্তে আমাকে কাছে টেনে নিয়েছিল। কিন্তু আমি একটু পাকামো করে সেদিন তোমার ঘুমের ঔষধের জায়গায় উত্তেজনা বৃদ্ধিকর ঔষধ মিশিয়ে দিয়েছিলাম। বিশ্বাস করো (মিসেস শেখের হাত ধরে বলে) আমি জাওয়াদ ভাইয়াকে পাওয়ার জন্যই এসব করেছিলাম। আমার অন্যকোন উদ্দেশ্য ছিলো না। কিন্তু ভাইয়া সেদিন আমাকে নিজের কাছে টেনে নেওয়ার আগেই কোথা থেকে উড়ে ঐ ডাইনীটা চলে আসে। আর আমাকে অনেক মারে। তোমায় মিথ্যে বলেছিলাম পরের দিন।
মিসেস শেখ সবটা শুনে চিন্তায় পড়ে যান। সেও সেদিন জানতে পেরেছিলো জাওয়াদ ও পূর্ণতা কাছাকাছি এসেছিল। এখন যদি প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়? সে চিন্তিত গলায় বলেন–
—এটা কি করলি রে মা! জাওয়াদের থেকে আমি ইনিয়েবিনিয়ে জানতে পেরেছিলাম ওরা কাছাকাছি এসেছিল। এখন যদি ও প্রেগন্যান্ট হয়ে যায়? আর জাওয়াদের কাছে এসে বাচ্চার পিতার পরিচয় দাবী করে আবারও সংসারে ঢুকে? তখন তো তীরে এসে তড়ি ডুবে যাবে।
আঞ্জুমান মিসেস শেখের কথা শুনে ঘাবড়ে যায় তারপর মাথা ঠান্ডা করে কিছুক্ষণ ভাবে। কিছুক্ষণ পর সে একটা শয়তানি হাসি দিয়ে বলে–
—চিন্তা করো না ফুপি। ঐ আপদটা যদি প্রেগন্যান্টও হয়ে যায় তাহলে সেটারও একটা উপায় আছে। ফাহিম নামের যেই ফেইক আইডি দিয়ে জাওয়াদ ভাইয়ার সাথে ঐ ডাইনী পূর্ণতার বয়ফ্রেন্ড সেজে কথা বলেছিলাম না, ঐ আইডি দিয়েই কয়েকটা ফেইক ডিএনএ রিপোর্ট দেখিয়ে বলবো পূর্ণতার পেটের বাচ্চা আরিয়ান নামক ছেলের। যে আসলে পূর্ণতার চাচাতো ভাই। ভাইয়া তো এখন ওকে এমনিতেও বিশ্বাস করে না, এসব দেখে আরো বিশ্বাস করবে না।
মিসেস শেখের চিন্তা গিয়েও যায় না। সে মলিন গলায় বলে–
—কিন্তু যত যাই করি আমরা, আমরা তো জানব পূর্ণতার পেটের বাচ্চা আমার জাওয়াদের। আমার ছেলের প্রথম সন্তান হবে আর আমিই কিনা ছুয়ে দেখতে পারব না।
আঞ্জুমান বুঝে যায় মিসেস শেখ ইমোশনাল হয়ে পরছে। তাই সে আরো ইমোশনাল কথা বলতে শুরু করে মিসেস শেখের মাইন্ড ডাইভার্ট করতে। সে বলে–
—কে বলেছে পারবে না? আমার আর জাওয়াদ ভাইয়ার বিয়ের পর আমার গর্ভে যে সন্তান আসবে সেই হবে এই পরিবারের প্রথম সন্তান। ঐ মেয়ের খোঁজ নিয়ে দেখো গিয়ে এতদিনে আরেক ছেলেকে ধরেছে হয়ত। এসব বড়লোকের মেয়েদের চরিত্র কেমন সেটা কি তোমাকে আবারও বলতে হবে? তোমরা আমাকে নিজের হাতে পেলেপুষে বড় করেছো, আর ঐ মেয়ে বাবা-মা হীন৷ একা একা বড় হয়েছে। জীবন এই পর্যন্ত আসতে আসতে নিজের চরিত্র কতটুকু হেফাজত করেছে সেটা কি এতদিনেও বুঝতে পারো নি? যদি তাও তোমার মনে খচখচানি থাকে, তাহলে চলো আজই ঐ মেয়েকে ফিরিয়ে নিয়ে আসি। আমি নিজের জন্য তোমাকে এক সেকেন্ডও অশান্তিতে রাখতে পারবো না। নাই পেলাম এই সংসার আর জাওয়াদ ভাইয়াকে। তোমরা সুখে থাকলে আমিও সুখে থাকব।
চোখে পানি নিয়ে এসে মুখটা দুঃখী দুঃখী করে কথাটা বলে আঞ্জুমান। এতেই তার কাজটা হয়ে যায়। মিসেস শেখ ভাতিজিকে বুকে টেনে নিয়ে গিয়ে বলে–
—ধূর! আমি কি তা বলেছি নাকি? আমি যদি ঐ মেয়েকেই এই সংসারের বউ হিসেবে চাইতাম তাহলে এত কেচ্ছা-কাহিনি ঘটাতাম নাকি? আমি শারমিন শেখ যতদিন বেঁচে আছি, ততদিন পর্যন্ত কিছুতেই আমার ছেলের বউ হিসেবে ঐ মেয়েকে আমার বাসায় ঢুকতে দিবো না। সামনের শুক্রবারই তোর আর জাওয়াদের কাবিন করিয়ে রাখব। হাতে আছে আর তিনটা দিন। আজই আমি তোর আঙ্কেলের কাছে কথাটা তুলব।
বিয়ের কথা শুনে আঞ্জুমান লজ্জায় লাল-নীল হতে থাকে। মিসেস শেখ তারপর অন্যান্য বিষয়ে কথা বলতে থাকে। এদিকে জিনিয়া যেমন নিঃশব্দে এসেছিল তেমনই নিঃশব্দে প্রস্থান করে সেখান থেকে। নিজের জন্মদায়িনী মায়ের এমন ভয়াবহ ঘৃণ্য কর্মকাণ্ডের কথা শুনে কোমল মনের জিনিয়া কাঁপতে থাকে থরথর করে। সে কাঁপা কাঁপা হাতে ভিডিওটা হোয়াটসঅ্যাপে জাওয়াদের নাম্বারে সেন্ড করে দিয়ে ডিলিট ফর মি করে দেয় আর ফোন থেকেও ডিলিট করে দেয়। তারপর অনবরত জাওয়াদকে কল দিতে থাকে। ইতিমধ্যে জোহরের আজান পড়ে যাওয়ায় জাওয়াদ কোন এক মসজিদে গিয়েছে নামাজ পড়তে এবং বর্তমানে তার ফোনটা সাইলেন্ট থাকায় সে শুনতে পায় না। জাওয়াদ ফোনটা রিসিভ করা অব্দি সে অনবরত কল দিতেই থাকে।
মি.শেখ আসলে পরে আঞ্জুমান জিনিয়ার রুমে চলে এসে তাকে ফোন হাতে নিয়ে বসে থাকে জিজ্ঞেস করে–
—কিরে কানী, ফোনে এত কি করিস? এমনিতেই তো চোখটা অকালে খেয়েছিস, এবার কি পুরোটা খেতে চাস নাকি?
জিনিয়ালে একপ্রকার অপমান করে কথাগুলো বলে নিজের জামাকাপড় নিয়ে হাসতে হাসতে ওয়াশরুমে ঢুকে যায় আঞ্জুমান। আগে সে জিনিয়াকে অন্য সবার মতোই আদর করলেও পূর্ণতা বউ হয়ে আসার পর যখন দেখে জিনিয়াও তাকে মেনে নিয়েছে, তখন থেকে সে দুচোক্ষে দেখতে পারে না জিনিয়াকে। আঞ্জুমান ওয়াশরুমের দরজা বন্ধ করতেই জিনিয়া তীব্র ঘৃণা নিয়ে বলে–
—পিপীলিকার পাখা গজায় ম”রিবার তরে। তোর দিন শেষ রে ডাইনী। আমার ভাবীপু আসছে তোকে ঝাঁটা দিয়ে ঝেঁটিয়ে আবারও বিদায় করতে।
ওয়াশরুমের দরজা থেকে চোখ সরিয়ে জিনিয়া দেখে জাওয়াদ কল ব্যাক করেছে। সে চটজলদি ফোনটা রিসিভ করে অস্থির গলায় বলতে থাকে–
—ভাইয়া, ভাইয়া তাড়াতাড়ি হোয়াটসঅ্যাপ চেক করো ভাইয়া। ইটস আর্জেন্ট ভাইয়া। প্লিজ… প্লিজ…
কথাটা শেষ করেই জিনিয়া কলটা কেটে দেয়। এদিকে বোনের এহেন কান্ডে জাওয়াদের আক্কেলগুড়ুম অবস্থা। তাও সে এতকিছু না ভেবে হোয়াইটসঅ্যাপ চেক করে। সাড়ে পাঁচ মিনিটের একটা ভিডিও দেখে তার কপালে একটা ভাজ পড়ে। সে যখন ভিডিওটা দেখা শুরু করে একটু একটু করে তার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যেতে থাকে। তার অর্ধেক দুনিয়ায় আগে থেকেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, বাকি অর্ধেকও তছনছ হয়ে যায় ভিডিওটা দেখে। জাওয়াদের মাথা কিছু সময়ের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দেয় এত বড় একটা প্রতারণা পেয়ে।
নিজের প্রথম ভালোবাসাকে নিজেরই মায়ের জন্য হারিয়েছে কথাটা মনে হতেই, পূর্ণতাকে বের করে দেওয়ার পর থেকে হৃদয়ের কোণে এতদিন অল্পঅল্প করে হতে থাকা র””ক্তক্ষরণটা এবার বড় আকার ধারণ করে। মনে হতে থকাে, সেখান থেকে গলগলিয়ে র”ক্ত ঝরছে। জাওয়াদ ডান হাত দিয়ে বুকের বাম পাশটা শক্ত করে চেপে ধরে অতিরিক্ত ব্যথায়। বড় বড় শ্বাস নিয়ে নিজেকে কিছুটা শান্ত করে। নিজেকে বুঝ দেয়, যে কাপুরষতা তার মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে তার মাশুল দিতে হলেও তাকে শান্ত হতে হবে। সে বাইকে উঠে বসে, রওনা হয় বাসার উদ্দেশ্যে। আজ প্রথমবারের মতো জবাবদিহি চাইতে যাচ্ছে সে তার মায়ের কাছে। ঠিক কোন অপরাধে তার মা তাকে এত বড় শাস্তি খানা দিলো সে জানতে চায়।
এই ত্রিশ বছরের জীবনে সে তার মায়ের একটা কথাও অমান্য করেনি, তাহলে এবার সে প্রথমবার একটা অনুরোধ করলো তার মায়ের কাছে সেটা সে রাখতে পারলো না? মায়েরা পারে না এমন কি কোন কাজ আছে?
সর্বোচ্চ গতিতে বাইক চালিয়ে জাওয়াদ বাসায় আসে। বাসায় আসতেই আঞ্জুমান দরজা খুলে দেয়। জাওয়াদকে দেখে তার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। এদিকে আঞ্জুমানকে দেখে জাওয়াদের মেজাজ আরো খারাপ হয়ে যায়। মন চাচ্ছে জানে মে”রে ফেলতে এই মেয়েকে। আঞ্জুমান হাসি হাসি মুখ করে তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, দরজার সামনে থেকে সরছেও না। তাই জাওয়াদ এবার একটা রুহ কাঁপানো ধমক দিয়ে বলে–
—সামনে থেকে সর। তোর মুখ দেখতে চায়নি কেউ।
জাওয়াদের ধমক শুনে আঞ্জুমান ভয় পেয়ে যায়। সে চটজলদি দরজা ছেড়ে দাঁড়ায় জাওয়াদকে জায়গা করে দেয় ভেতরে প্রবেশের জন্য। জাওয়াদ বাসায় ঢুকে জোরে জোরে তার মা’কে ডাকতে থাকে। তার ডাক শুনে মিসেস শেখ ও মি.শেখ আর জিনিয়া সকলেই রুম থেকে বের হয়ে আসে। জাওয়াদকে এত রেগে থাকতে দেখে আঞ্জুমান মিষ্টি করে জিজ্ঞেস করে–
—জাওয়াদ ভাইয়া কি হয়েছে তোমার? এত রেগে আছো কেনো?
জাওয়াদ তার দিকে ফিরে কড়া গলায় বলে–
—তোকে সব কিছুর জবাবদিহি করতে হবে? মেহমান মেহমানের মতো থাক, নাহলে লাথি দিয়ে বাসা থেকে বের করে দিবে।
জাওয়াদের কথা শুনে সকলের চোখ কপালে উঠে যায়। আঞ্জুমানের মুখটা অপমানের দাপটে থমথমে হয়ে যায়।মিসেস শেখ হায় হায় করতে করতে বলেন–
—আব্বা এসব কোন ধরণের ব্যবহার? কারো সাথে এমন ব্যবহার করার শিক্ষা আমি তোমাদের দিয়েছি? আর মেহমান কাকে বলছো? আজ বাদে কাল তোমার আর আমার রুহীর মায়ের বিয়ে। ও কোথাও যাবে না, আজ থেকে এখানেই থাকবে।
—হ্যাঁ থাকবেই তো। আমার জীবনে যতটুকু সুখশান্তি আছে তাও গিলে ফেলার জন্য থাকবে। আর কাকে বিয়ে করবো? কেনো বিয়ে করবো? আমি বিবাহিত আপনি কি ভুলে গিয়েছো? একটা কথা বলেন তো আম্মা, পূর্ণতা নাহয় পরের মেয়ে ছিলো কিন্তু আমি তো আপনার আপন ছেলে নাকি ছিলাম। নাকি আমায় কুড়িয়ে পেয়েছিলেন?
এবার মি.শেখ ছেলেকে ধমকে উঠেন–
—কি হচ্ছে কি জাওয়াদ! এসেছো পর থেকে এসব কি ব্যবহার করেছো? মাথা ঠিক আছে তোমার?
জাওয়াদ এবার উচ্চস্বরে চিৎকার করে বলে–
—না নেই ঠিক। ঠিক নেই আমার মাথা। এত বড় প্রতারণা পাওয়ার পর কার মাথা ঠিক থাকবে? কিভাবে থাকবে ঠিক? আমার স্ত্রীকে আমি জঘন্যরকম অপমান করে রাতের আঁধারে বাসা থেকে বের করে দিয়েছি এই অনুশোচনায় মরে যাচ্ছি বিগত কয়েকদিন ধরে, আজ জানতে পারলাম এসবের পেছনে আমার জন্মদায়িনী মার হাত রয়েছে। কেনো আম্মা কেনো? আমার কি দোষ ছিলো? আমাকে কেন এমন বিচ্ছেদের অনলে পু”ড়তে ঠেলে দিলেন?
জাওয়াদের কথা শুনে মিসেস শেখ ও আঞ্জুমান ঘাবড়ে যায়। তারা ভীতু নয়নে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে। তারা বুঝতে পেরে যায় তাদের সত্যটা কোনভাবে জাওয়াদ জেনে গিয়েছে। মি.শেখ কিছু বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করেন–
—রাতের আঁধারে বের করে দিয়েছে তুমি পূর্ণতাকে? কোন আক্কেলে তুমি এমন একটা কাজ করেছিলে, হ্যাঁ? ও না হয় একটা খারাপ কাজ করেছিলো, তাই বলে তোমাকেও আরেকটা খারাপ কাজ করতে হবে? তোমার থেকে এমনটা আশা করিনি জাওয়াদ।
আর কি বিচ্ছেদের অনল এসব বলছো? খোলাসা করে বলো।
জাওয়াদ তার প্যান্টের পকেট থেকে নিজের ফোনটা বেট করে জিনিয়ার পাঠানো ভিডিওটা চালু করে মি.শেখের হাতে দিয়ে বলে–
—আমি কিছু বলবো না, এটা দেখুন বাবা।
মি.শেখ ভিডিওটা দেখতে থাকেন। ভিডিওটার সাউন্ড ফুলে দেওয়ার কারনে মিসেস শেখ ও আঞ্জুমানও কথাগুলো শুনতে পায়। মি.শেখ ভিডিওটা দেখে তো সাত আসমান থেকে পরেন। তার স্ত্রী এমন জঘন্য একটা কাজ করেছে সেটা জানতে পেরে সে নিজের পায়ের টাল হারিয়ে পরে যেতে নিলে জিনিয়া বাবাকে ধরে ফেলে।
—বাবা, কি হলো তোমার? বসো এখানে বসো।
জিনিয়া বাবাকে ধরে সোফায় বসায়। তারপর এক গ্লাস পানি নিয়ে এসে তাকে খাওয়ায়। পানিটা খেয়ে মি.শেখ থম মেরে বসে থাকেন। নিজের প্রিয়তমা স্ত্রী একটা এতিম মেয়ের সাথে এমন জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে কথা মনে হতেই তার লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যেতে মন চাচ্ছে।
জাওয়াদ মিসেস শেখের সামনে গিয়ে হাটু গেঁড়ে বসে পড়ে। তারপর চোখে অশ্রু নিয়ে বলে–
—আম্মা একটা কথা বলেন সত্যি করে, আমার এই এত বছরের জীবনে আমি কখমো আপনার কথা অমান্য করেছিলাম? বা এমন কোন আদেশ রয়েছে যা আমি পালন করিনি?
মিসেস শেখ ক্ষীণ গলায় বলেন–
—না।
—তাহলে আম্মা আমি প্রথমবারের মতো আপনার কাছে একটা জিনিস চাইলাম, সেটাও আপনি রাখতে পারলেন না? আমি আমার মনের কথা আপনাকেই প্রথম জানিয়েছিলাম, ঐ পাগল মেয়েটাকেও বলিনি আজ পর্যন্ত। ভেবেছিলাম আমাদের দ্বিতীয় বার বিয়ের রাতে বলবো, কিন্তু আম্মা সব কিছু শুরু আগেই শেষ করে দিলেন। কেন করলেন আম্মা এসব? নিজের ছেলের প্রথম ভালোবাসাকে কেন এভাবে দূরে সরিয়ে দিলেন? আমি এখন কোন মুখে পূর্ণতার সামনে দাঁড়াবো? আর দাঁড়ালেও ও কি আর কখনো আমার কাছে ফিরবে? কেন ফিরবে? আমার মতো মেরুদণ্ডহীন, কাপুরষের কাছে ফেরা কি ওর উচিত হবে? জিনিয়ার সাথে এমনটা হলে ওকে কি আমরা ফিরতে দিতাম ওর কাপুরষ স্বামীর কাছে?
মিসেস শেখ একটা টু শব্দ করেন না। মুখটা নিচের দিকে করে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরই মাঝে আঞ্জুমান সাফাই দিতে বলে–
—ওসব মিথ্যে ভিডিও জাওয়াদ ভাইয়া। আজকালকার যুগে এসব ফেইক ভিডিও বানানো মিনিটের ব্যাপার।
—ঠিক তাই। এসব ফেইক ভিডিও, ছবি বানানো মিনিটের ব্যাপার। আর আমি বদল (নিজের গালে থা”প্পড় দিয়ে বলে) কিভাবে এক অপরিচিত মানুষের কয়েকটা কথায় আর দেখানো ছবিতে বিশ্বাস করে নিজের স্ত্রীকে বাসা থেকে বের করে দিলাম। আমি একটা অপদার্থ, কাপুরষ, মেরুদণ্ডহীন পুরুষ।
নিজের গালে নিজেই চ”ড় মারতে মারতে মারতে কথাগুলো বলে জাওয়াদ। তার চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। তার মতো একজন প্রাপ্ত বয়স্ক যুবক আজ কোন লাজলজ্জার পরোয়া না করে গলা ছেড়ে কাঁদছে। জাওয়াদ ফ্লোরে হাত-পা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে কাঁদতে কাঁদতে বলে–
—আম্মা আমি আপনার সুসন্তান হতে গিয়ে, আমার স্ত্রীর কাছে মেরুদণ্ডহীন কাপুরষ হয়ে গেলাম। আমি ভুলে গিয়েছিলাম ভালোবাসার পূর্ব শর্ত বিশ্বাস, সম্মান, ধৈর্য ধারণ। বিশ্বাসহীন সম্পর্ক তাশের ঘরের ন্যায় যখন-তখন ভেঙে পড়ে। যেমনটা হয়েছে আমার সাথে।
আচ্ছা আম্মা বললেন না তো আমার ভুলটা কি? আপনাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করাই কি আমার ভুল? সন্তান হয়ে মা’কে বিশ্বাস করার পরিণত এমন হয়?
মিসেস শেখ কোন জবাব দিতে পারেন না। কোন মুখেই বা দিবেন? দেওয়ার মতো কোন মুখ রেখেছেন কি?
মি.শেখ বসা থেকে উঠে ছেলের কাছে আসেন। তারপর তার কাঁধে হাত রেখে ধরা গলায় বলেন–
—উঠো জাওয়াদ। বউমাকে ফিরিয়ে আনতে চলো। যা ভুল হয়েছে আমাদের দ্বারা তা হয়ত ক্ষমার যোগ্য নয়। কিন্তু তাও একটা চেষ্টা করে দেখতে দোষ কোথায়। উঠো বাবা, এখনই ভেঙে পরার সময় না। ঘরের লক্ষীকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে হবে অলক্ষীকে বিদায় করার জন্য।
শেষের কথাটা তিনি আঞ্জুমানের দিকে তাকিয়ে বলেন। জাওয়াদ পরিহিত শার্টের হাতা দিয়ে চোখ মুছে নেয়। তারপর বাসা থেকে বেরিয়ে আসতে নিলে জিনিয়াও বলে সেও যাবে। শুরুতে তাকে নিতে না চাইলেও পরে তার জেদের সামনে হার মেনে তাকেও জাওয়াদ নিজেদের সাথে নিয়ে যায়।কিন্তু তারা হয়ত কল্পনাও করেনি আহমেদ বাড়িতে তাদের জন্য আরো কি কি দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে।
জাওয়াদরা আহমেদ বাড়িতে এসে দেখতে পায় কেউ নেই। তারপর তারা দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারে, পূর্ণতা শ্বশুর বাড়ি থেকে আসার পনেরো দিন পর তার বাবা আফজাল সাহেব হঠাৎই মারা যান। বাড়ির কাজের মহিলা মালতী কাকীর মাধ্যমে জানতে পেরেছেন, পূর্ণতার স্বামী তাকে ডিভোর্স দেওয়ায় পূর্ণতা অসুস্থ হয়ে পড়েন। মা হা””রা মেয়ের কষ্ট দেখে পূর্বে থেকেই অসুস্থ আফজাল সাহেব সইতে না পেরে মা-রা যান। এর কয়েকদিন পরই হঠাৎই পূর্ণতা গায়েব হয়ে যায় কাউকে না জানিয়ে। যাওয়ার আগে আহমেদ কোম্পানি অস্থায়ী ভাবে তার চাচাতো ভাইকে দিয়ে যান। পুলিশ ও আরিয়ান অনেক সোর্স লাগিয়ে পূর্ণতাকে খুঁজে কিন্তু আর দশ-বারোদিন পরও তার কোন খবর পাওয়া যায়নি।
সকলে ধারণা করছে, এত এত শোক সইতে না পেরে মেয়েটা উন্মাদ হয়ে ঘর ছেড়েছে। আফজাল সাহেবের বড় ভাই আহনাফ সাহেব ছোট ভাইয়ের এমন হঠাৎ প্রস্থান, বাবা-মাহীন ভাতিজিকে হারিয়ে নিজেও অসুস্থ হয়ে হসপিটালে ভর্তি রয়েছেন। আরিয়ান অফিস সামলিয়ে, বাবার দিকে খেয়াল রেখে, তারপর পূর্ণতার খোঁজ করা এসব করতে করতে বেহাল দশা। অজান্ত বেগমও স্বামীর কাছেই রয়েছেন।
এসব শুনে জাওয়াদদের মাথায় আরো একবার আকাশ ভেঙে পড়ে। তাদের পিঠ পিছে এত বড় ঘটনা ঘটে গিয়েছে তারা কল্পনাও করতে পারেনি। জাওয়াদের কেন জানি বিশ্বাস হয় না দারোয়ানের কথা। তাই সে নিজেই চলে যায় পূর্ণতাদের পারিবারিক কবরস্থানে। সেখানে গিয়ে দারোয়ানের কথার সত্যতা পায়। পূর্ণতার মায়ের কবরের পাশে একটা নতুন কবর দেখতে পায়। নেইম প্লেটে আফজাল সাহেবের নাম দেখে জাওয়াদ মৃত দৃষ্টি নিয়ে সেখানে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে। পূর্ণতার বাবার কবরের পায়ের কাছের মাটি খামচে ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকে আর নিজের কৃতকর্মের জন্য বারংবার মাফ চাইতে থাকে। কিন্তু মাটির নিচের মানুষের কি আর ক্ষমা করার কোন ক্ষমতা থাকে?
জিনিয়া মি.শেখের সাথে বাসায় এসে পড়ে। মি.শেখ বাসায় এসে নিজের রুমে গিয়ে নিঃশব্দে কাঁদতে থাকেন। অপরাধবোধ, লজ্জায় ভদ্রলোক পারেন না মাটিতে মিশে যেতে। মিসেস শেখের সাথে কথা বলা টোটালি বন্ধ করে দেন। আর মিসেস শেখকে বলে দেন ভাতিজিসহ সে যেন বাপের বাড়ি চলে যায় চিরকালের জন্য। মিসেস শেখ হাতে পায়ে ধরে নিজের গ্রামের বাড়ি যাওয়া আটকাতে পারলেও ভাতিজির যাওয়া আটকাতে পারেন না। মি.শেখ নিজেই আঞ্জুমানকে বাসা থেকে বের করে দেন।
কিন্তু যাওয়ার আগেও আঞ্জুমান আরেকটা অঘটন ঘটাতে ভুলে না। সে জিনিয়ার ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে তাকে বেশ কয়েকটা থা””প্পড় মা-রে সে কেন তাদের পর্দা ফাঁস করে দিলো এজন্য। শেষে জোরে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দিলে ফ্লোরের সাথে জিনিয়ার কপাল সজোড়ে আঘা-ত লেগে কেটে যায়। পাশের রুম থেকে মি. এন্ড মিসেস শেখ মেয়ের চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শুনে দৌড়ে এসে দরজা ভেঙে দেখেন আঞ্জুমান জিনিয়াকে মেরে প্রায় অজ্ঞান করে ফেলেছেন। জিনিয়ার মাথায় সেবার চারটা সেলাই লেগেছিল।
প্রিয় ভাতিজির এহেন জঘন্য রূপ থেকে মিসেস শেখ স্তব্ধ হয়ে যায়। সেদিনই গ্রামের বাড়ি থেকে জাওয়াদের মামারা এসে আঞ্জুমানকে নিয়ে যায়। যাওয়ার সময় মি.শেখ বলে দেন, আঞ্জুমানের সাথে আজ থেকে তার পরিবারের কোন সম্পর্ক নেই। যদি তার ফুফুমণি তার সাথে সম্পর্ক রাখতে চায়, তাহলে তার সাথেও সম্পর্ক ত্যাগ করবে মি.শেখ ও উনার ছেলেমেয়েরা।
এতসব ঘটনার মাঝে কারো খেয়াল থাকে না মিসিং থাকা জাওয়াদের কথা। পরের দিন সকালেই জাওয়াদের ফোন থেকে একটা অপরিচিত লোক ফোন করে জানায় জাওয়াদ বাইক এক্সিডেন্ট করে হসপিটালে ভর্তি। সকলে দিকবিদিকশুন্য হয়ে ছুটে যায় হসপিটালে। নিজের প্রাণপ্রিয় সন্তানদের এমন করুণ অবস্থা, নিজের সাজানো-গোছানো সাংসারকে তছনছ হয়ে যেতে দেখে মিসেস শেখ প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করেন, তার সংসার আসলেই লক্ষী ছাড়া হয়েছে।
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধুদের নিকট পৌঁছে দিন ]
শব্দসংখ্যা ~৩১৮০
~চলবে?
[একটা পর্বেই পুরো অতীতটা জানাবো বলে দেরি করে গল্প দিলাম। আমার মনে হয় আজকের পর্বটা সবচাইতে বড় ছিলো এতগুলো পর্বের মাঝে।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৬
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৭
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৩
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৪