শেষ পাতায় সূচনা [২৭]
সাদিয়াসুলতানামনি
নিস্তব্ধতার চাদরে মোড়া রাতের আকাশে এক ধ্যানে তাকিয়ে আছে পূর্ণতা। ছোটবেলার মতো আজও সে আকাশে বড় দুটো তারা খুঁজছে। ছোটবেলায় যখন সে তার মা’কে দেখার বায়না ধরতো তখন তার বাবার আকাশের সবচাইতে বড় তারাটিকে দেখিয়ে বলতো ঐটা তার মা। তার মা একটা পরী, আর পরীরা মারা যাওয়ার পর তারা হয়ে যায়। পূর্ণতা মায়ের মৃত্যু নিজের চোখে দেখলেও মাঝে মধ্যে সে এমন অবদার করে বসত। বয়সটাই বা তার কত ছিলো? ঐ বয়সে অন্য বাচ্চারা মায়ের হাতে খেয়ে তাদের কোলে ঘামটি মেরে ঘুমাতো, আর সে ঐ বয়সে নিজের মানসিক সমস্যা গুলোর সাথে মোকাবিলা করেছে।
অনেক খুজেও যখন সে বড় তারা দুটিকে খুঁজে পায় না, তখন তার কান্না পেতে থাকে। আজ সত্যি সত্যিই নিজেকে বড় বেশি একা লাগছে তার। এমন একজনের অভাব অনুভব করছে, যার বুকে মাথা রেখে সে একটু মন খুলে কাঁদতে পারবে। হায় রে! কি ভাগ্য নিয়ে আসল সে। মন খুলে কাঁদার জন্যও একটা বিশ্বস্ত কাঁধ বা প্রশস্ত বক্ষ নেই যেখানে সে নিজের সব মন খারাবি গুলো বিলীন করতে কাঁদতে পারবে।
হুট করে পূর্ণতা নিজেকে নিজেই সান্ত্বনা দেয়। বলে–
—তুই শুরু থেকেই একা পূর্ণতা। এখন কেন কারো আশা করছিস? তোর কাউকে লাগবে না। তুই নিজেই নিজের জন্য যথেষ্ট। আর কে বললো তোর কেউ নেই? তোর ছেলেই তো তোর সব। একদম আউল-ফাউল কথা চিন্তা করে ভেঙে পরবি না। তুই ভেঙে পরলে ঐ শেখরা সহজেই তোর থেকে তোর বাচ্চাকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যাবে। তোকে আরো স্ট্রংগ হতে হবে। একদম ইস্পাত ন্যায় কঠোর।
পূর্ণতা একা একাই কথাগুলো বলে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে থাকে। উপরে আল্লাহ আর জমিনে তার ছেলে ছাড়া তার আর আছেই বা কে যে তাকে এই সামান্য সান্ত্বনা টুকু দিবে। রাত জেগে এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎই তার নজর পরে রিসোর্টের বাগানে। একজোড়া নবদম্পতি হাতে হাত রেখে রাত্রিবিলাস করছে।
দম্পতিটি আর কেউ না বরং তার ভাই আরিয়ান ও তার স্ত্রী আঞ্জুমান। আঞ্জুমানকে দেখেই তার অতীতের তিক্ত অনুভূতি গুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। সে যতই অতীত থেকে দূরে সরে যেতে চাইছে, ততই তার অতীত আরো বেশি করে তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে।
সে খেয়াল করে আরিয়ানের বাগানের ফুলের গাছের নিচে পরে থাকা একটা সতেজ ফুল কুড়িয়ে এনে আঞ্জুমানের সামনে হাঁটু গেড়ে বসে ফুলটি এগিয়ে দেয়। আঞ্জুমান লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিমায় ফুলটা তার থেকে নেয়। আরিয়ান মাথা চুলকে নিচ থেকে উঠে দাড়ায়। তারপর আবারও স্ত্রীর সাথে হাঁটতে থাকে। বাগানে চারপাশে লাগানো লাইটের আলোতে পূর্ণতা দেখতে পায় আরিয়ানের সুন্দর মুখশ্রী প্রাপ্তির খুশিতে চকচক করছে।
আঞ্জুমান নিজের মতোই এদিক-সেদিক তাকিয়ে হাঁটছে, অন্যদিকে আরিয়ান শুধু একধ্যানে আঞ্জুমানকেই দেখছে। আঞ্জুমানের প্রতি তার তাকানোর ভঙ্গিমাই বলে দিচ্ছে সে আঞ্জুমানকে কতটা ভালোবাসে। পূর্ণতা ভেবে পায় না তার ভাইয়ের সাথে এই মেয়ের কি করে বিয়ে হলো? তার ভাই কি জানে না, এই মেয়ের জন্যই আজ সে স্বামীর ঘর থেকে বিতাড়িত হয়েছে? আর এই মেয়ের জন্যই তার সন্তান বাবা ছাড়া বড় হচ্ছে। আর সবচাইতে বড় কথা, আঞ্জুমান তার ভাইকেই কেন বিয়ে করলো? সে তো জাওয়াদকে পছন্দ করত। না না, পছন্দ বললে ভুল হবে ভালোবাসত। তাহলে সেই ভালোবাসাকে ভুলে গিয়ে কি করে পূর্ণতারই ভাইকে বিয়ে করে নিলো? নাকি এটাও তার প্রতিশোধ নেওয়ার আরো একটা পন্থা?
পূর্ণতা আর ভাবতে পারে না। সব জট পেচিয়ে যেতে থাকে। সে রুমে এসে টনিকে মেসেজ করে বলে কাল সকাল হতেই আঞ্জুমানের বাবার বাড়ির দিকে খবর লাগিয়ে তার বিয়ে সম্পর্কে জানতে। কি করে এই বিয়েটা হলো? আঞ্জুমান কি তার ভাইকে ফাঁসিয়ে বিয়েটা করেছে নাকি পারিবারিক ভাবেই হয়েছে এসব জানতে নির্দেশ দেয়। তারপর একটা হালকা পাওয়ারের ঘুমের ঔষধ খেয়ে ছেলেকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়ে। সময়ের ব্যবধানে ঔষধ তার কাজ দেখানো শুরু করে দেয়। ঘুমের ঔষধ তাকে প্রায়শই খেতে হয়। না খেলে ঘুম ধরা দেয় না। আর না ঘুমালে তার মাথা ভয়াবহ রকমের ব্যথা করে।
সময় আরও কিছুক্ষণ অতিবাহিত হয়। বেলকনির খোলা দরজা দিয়ে হিমেল হাওয়ার পাশাপাশি একজন ব্যক্তিও প্রবেশ করে। দোতলা বিশিষ্ট এই রিসোর্টের কোন কক্ষের বেলকনিতে গ্রীল নেই। বেলকনিতে ছোট ছোট কতগুলো ফুল গাছ ঝুলানো হয়েছে,আবার নিচে কতগুলো ফুল গাছের টব রাখা হয়েছে। এছাড়া রিসোর্টটির সৌন্দর্য বাড়াতেই এমনটা করা হয়েছে। রিসোর্ট পাহারা দেওয়ার জন্য দু’জন গার্ড রাখা হয়েছে তাই চোর ডাকাতের ভয় নেই।
ব্যক্তিটি নীরবে, নিঃশব্দে রুমে প্রবেশ করে। রুমে প্রবেশের পূর্বে নিচে মই ধরে নিচে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক ব্যক্তিকে চলে যেতে নির্দেশ দেয়। তারপর রুমে এসে বেলকনির দরজা লাগিয়ে দিয়ে বিড়াল পায়ে হেঁটে বেডের কাছে এসে বসে পড়ে। মন প্রাণকে তৃপ্ত করতে অগণিত সময় ধরে তাকিয়ে থাকে নিজের সুখের উৎসগুলোর দিকে। ব্যক্তিটি কখনো হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দিচ্ছে তার অংশের মানুষটিকে, কখন আবার ছুঁয়ে দিচ্ছে প্রিয় অর্ধাঙ্গিনীকে।
হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন। ব্যক্তিটি হলো জাওয়াদ। তার চোখে অশ্রু রইলেও ঠোঁটের কোণে রয়েছে এক টুকরো হাসি। নিজের এমন নিব্বাপনায় সে বিন্দুমাত্র লজ্জিত নয়। কেনো লজ্জা পাবে? সে কি কোন পরস্ত্রীর কক্ষে প্রবেশ করেছে? উঁহু, সে তার একমাত্র জোর করে হওয়া অর্ধাঙ্গিনীর কক্ষে প্রবেশ করেছে। সে ভুল করেছে বলেই তো তার স্ত্রীর এত রাগ, এত অভিমান। তার একটা ভুলের কারণে আজ তার স্ত্রী বাবা হারা হয়েছে। এর শাস্তি হিসেবে বোধহয় তার সন্তানটিও বাবার সানিধ্য পাচ্ছে না। এর জন্য যদি সে সারা জীবন মাফও চায় তাহলেও বোধহয় কম পরবে। কিন্তু তাই বলে চিরস্থায়ী বিচ্ছেদের পথ বেছে নিবে তা তো জাওয়াদ মানবে না।
পূর্ণতা আজ জাওয়াদকে সকলের সামনে থাপ্পড় মারার পর একটুও রাগ করেনি, বা অভিমান করে তার থেকে দূরত্বের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দেয়নি। বিকালে পূর্ণতা থাপ্পড় মেরে আসার পর জাওয়াদ তাও তার পেছন পেছন আসতে চাইলে জাওয়াদের কয়েকজন আত্মীয়স্বজন ছিঃ ছিঃ করতে থাকে পূর্ণতার এহেন কাজে। আর জাওয়াদকে বউয়ের ভাউরা বলে অভিহিত করতে থাকে। আসলে তাদের কাউকেই জাওয়াদ হসপিটালে আনতে চায়নি। সে একাই সারাদিন হসপিটালের বাহিরে অপেক্ষা করছিল পূর্ণতার পেছন পেছন যাওয়ার।
কিন্তু জিনিয়া পূর্ণতার ওখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে গেলে সকলে তাকে জেরা করতে থাকে। জিনিয়া কিছু না বলেই নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। সামনে তখন তার পেছনে হুমায়ুন থাকায় তাকে সবাই খপ করে ধরে। হুমায়ুন না পারতে বলে দেয় পূর্ণতার কথা। পূর্ণতাকে খুজে পাওয়া গিয়েছে আর তার সাথে জাওয়াদের সন্তানও রয়েছে এটা জানার পর জাওয়াদের বাবা-মা একপ্রকার পাগল হয়ে যায় পুত্রবধূ ও নাতিকে দেখার জন্য। মি. এন্ড মিসেস শেখকে হুমায়ুন হসপিটালে নিয়ে আসলেও বাকি আত্নীয়-স্বজন তাদের পিছু নিয়ে হসপিটালে পৌছায়।
জাওয়াদের প্রায় সকল আত্নীয় স্বজনই গ্রামে থাকে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের চিন্তাভাবনা সেকালের। তাই তো তারা তখন শুধু তাজওয়াদকে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে আর সেই কথা শুনে পূর্ণতা ক্ষেপে গিয়ে ভাবে জাওয়াদও তার পরিবারের সাথে মিলে তাজওয়াদকে তার থেকে ছিনিয়ে নিতে চায়। এইজন্যই সে থাপ্পড়টা মারে জাওয়াদকে। জাওয়াদ হসপিটালেই সকলকে বলে দেয়, তার বউ-বাচ্চাকে নিয়ে কাউকে ভাবতে হবে না। শুধু বাচ্চাকে দিয়ে কি করবে? বাচ্চা কি তার লাইফে প্রথমে এসেছিলো নাকি বাচ্চার মা? সে বাচ্চা ও বাচ্চার মা উভয়কেই চায়। যারা এমন নিন্মমানের কথা বলেছে তাদের ছায়া পর্যন্ত দেখতে চায় না জাওয়াদ। এমনিতেই সে গ্রামে আসতে চায়নি। তার দাদী ভীষণ অসুস্থ এবং বৃদ্ধা একপ্রকার কেঁদে কেটে জাওয়াদ ও জিনিয়াকে গ্রামে যেতে রাজি করেছেন।
জাওয়াদ পূর্ণতাদের উপর থেকে চোখ সরিয়ে বেডসাইড টেবিলের দিকে তাকালে সেখানে ঘুমের ঔষধের প্যাকেট পায়। সে আরিয়ানের মারফত টনির থেকে জানতে পেরেছে পূর্ণতা ঘুমের ঔষধ খায়। এজন্যই আজ সে এত বড় একটা পদক্ষেপ নিতে পেরেছে। জাওয়াদ আস্তে করে বসা থেকে উঠে পূর্ণতার পেছনে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পরে। পূর্ণতার বুকে তাজওয়াদ থাকায় সে তাজওয়াদকেও জড়িয়ে ধরে পূর্ণতা সহ। ধীরে ধীরে সে পূর্ণতার কাঁধে মুখ গুজে দেয়। কিছুক্ষণ সেভাবেই থাকার পর হঠাৎ সে ফুপাতে থাকে।
আজ কতগুলো দিন পর সে আবারও জড়িয়ে ধরল তার প্রিয়তমাকে। দিনের হিসাব করলে সেটা হবে এক হাজার আটশ ছাব্বিশ। না, এরও আগের থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমানো বাদ দিয়েছিল সে। তার মায়ের করা ষড়যন্ত্রের বীজ তখন একটু একটু করে ডালপালা মেলতে শুরু করেছিল। পূর্ণতা যদিও জাওয়াদকে সবটাই বলত, কিন্তু মা ভক্ত জাওয়াদ মা’য়ের বিরুদ্ধে ঐসব কথা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারত না।
কিভাবে পারবে? মা যে তার সামনে জিনিয়া, আঞ্জুমানের মতোই পূর্ণতার সাথে ব্যবহার করত। কিন্তু পিঠ পিছে এমন ষড়যন্ত্র করত সে কস্মিনকালেও চিন্তা করতে পারেনি। কত দিন গিয়েছে মেয়েটা তার পাশেই শুয়ে শুয়ে গুমরে গুমরে কাঁদত আর সে দেখেও দেখত না। জাওয়াদ টের পেত না এমন না, কিন্তু সে এক গোলকধাঁধায় আঁটকে গিয়েছিল। মাকে অবিশ্বাস করতে বিবেকে বাঁধত আবার পূর্ণতাকে কাঁদতে দেখেও তার কষ্ট হতো।
জাওয়াদ পূর্ণতার কাঁধে মুখ গুঁজে কাঁদতে কাঁদতে বলে–
—আম্মা, কেনো এমনটা করলো পূর্ণ? কেন আমার সুখকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিলো? সে তো জানত আমার জীবনে তার পরেই তুমি প্রথম নারী, তাও কেন এমনটা করলো? আমার বিশ্বাসের এত বড় সুযোগ নিলো। আমি আমার তাজওয়াদের আগমনের খবর পেলাম না, সে যখন একটু একটু করে তোমার উদরে বড় হচ্ছিল তখন আমি তার অস্তিত্বকে অনুভব করতে পারলাম না। সে যখন পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হলো তখন তাকে নিজের বুকে টেনে নিতে পারলাম না। সে আমাকে চিনলো না পূর্ণ, তার বাবাকে চিনলো না আজও। আমি তার কাছে এক ভয়ের কারণ, একজন মন্সটার আমি আমার সন্তানের কাছে। কেন এমনটা হলো? কেন আম্মা আমাকে এত বড় শাস্তি দিলো? আমি তো তার সন্তান তাহলে আমাকে কেন এমন বিচ্ছেদের অনলে পোড়ার কারণ দিলো আমার আম্মা? কেন আমি এত অন্ধবিশ্বাস করে নিজের ভালোবাসাকে দূরে সরিয়ে দিলাম? যেই আম্মা আমার হাসির কারণ ছিলো, আমার মন ভালো থাকার কারণ ছিলো। তার জন্য আমি আজ পাঁচ বছর ধরে রোজ রাতে অশ্রু ঝরাই।
শুনো পূর্ণ, তুমি আমায় একদম মাফ করো না । একটুও না। অনেক শাস্তি দিও। শাস্তি গুলো যতই কঠিন হোক না কেনো আমি মাথা পেতে মেনে নিবো, কিন্তু বিচ্ছেদের মতো শাস্তি দিও না আর।
জাওয়াদ পূর্ণতাকে জড়িয়ে ধরেই আরো কত কথা বলে বিড়বিড়িয়ে। পাঁচ বছর ধরে বুকে যেমন কষ্টের পাহাড় তৈরি হয়েছে, তেমনই হয়েছে কথার সমুদ্র। সে সব কথা শেষ করার জন্য আজকের পুরো রাতটাও কম পরে যাবে। নিজের মতো একা একা কথা বলতে বলতে ক্লান্ত, বিধ্বস্ত, ভঙ্গুর জাওয়াদ কখন যে ঘুমিয়ে পরে তা সে নিজেও জানে না।
দূরের কোথাও থেকে যখন ফজরের আজানের পবিত্র ধ্বনি ভেসে আসছে তখনই তার পকেটে থাকা ফোনটা ভাইব্রেট করতে থাকে। একনাগাড়ে অনেকক্ষণ ফোনটা বাজার পর জাওয়াদের ঘুমটা পাতলা হয়ে আসে। সে ঘুম ঘুম চোখেই পকেট হাতড়ে ফোনটা বের করে রিসিভ করে কানে ধরলে শুনতে পায় তার অনুগত কর্মচারী হুমায়ূন বলছে–
—স্যার, ফজরের আজান পরে গিয়েছে। একটু পরই লোকেরা সবাই উঠতে শুরু করবে নামাজের জন্য। এখন না বের হলে পরবর্তীতে কেউ দেখে ফেলতে পারে আপনাকে।
জাওয়াদ ঘুমু ঘুমু গলায় বলে–
—মই নিয়ে আসো, আমি বেলকনিতে আসছি।
—আচ্ছা স্যার।
হুমায়ূন কলটা কেটে দিলে জাওয়াদ পুনরায় ফোনটা পকেটে ঢুকিয়ে শোয়া থেকে উঠে বসে। তার বিন্দুমাত্রও ইচ্ছে করছে না বউ-বাচ্চাকে ছেড়ে চোরের মতো আবারও পালাতে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের কারণে তাকে এটাই করতে হবে। সে চলে যাওয়ার আগে পূর্ণতা ও তাজওয়াদের মুখশ্রীতে অনেকগুলো আদর দেয়। শেষ চুম্বনটা পূর্ণতার কপালে এঁকে দিয়ে তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে–
—আমি তোমার কাছে ওয়াদা করছি, তোমার অভিমান ভাঙিয়ে খুব শীঘ্রই তোমাকে তোমার সংসারে ফিরিয়ে নিয়ে যাবো। এমন একটা সকাল ভোর আবারও আসবে যেদিন আমি লুকিয়ে না, পূর্বের মতো পূর্ণ অধিকার নিয়ে তোমাদের পাশেই থাকব। আসছি আমার সুখে’রা। এই অর্কমণ্য জাওয়াদ শেখ তোমাদের ভীষণ ভালোবাসে।
কথাগুলো বলে জাওয়াদ আর বিলম্ব করে না।চটজলদি হেঁটে বেলকনিতে চলে আসে। হুমায়ূনও ততক্ষণে মই ধরে নিচে এসে দাড়িয়েছে। জাওয়াদ মই দিয়ে যখন নিচে নামছিলো তখনই শুনতে পায়, কেউ একজন চেঁচিয়ে বলছে–
—অ্যাঁই কে ওখানে?মই বেয়ে কে উপরে উঠছে? দাঁড়াও দাঁড়াও।
জাওয়াদ ও হুমায়ূন উভয়েরই পিলে চমকে ওঠে। জাওয়াদ ভয় পেয়ে তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে বেশ কয়েকটা সিড়ি থেকে ধপাস করে পড়ে যায়। হুমায়ূন তাকে উঠিয়ে দাঁড় করাতেই জাওয়াদ বলে ওঠে–
—ভাগ পাগলা ভাগ। নাহলে আজ দু’জনেরই কপালে গণধোলাই আছে আজ রাতদুপুরে একটা মেয়ের রুম থেকে বের হওয়ার জন্য।
কথাটা বলেই জাওয়াদ উঠেপড়ে দে দৌড়। হুমায়ূনও মই সেখানেই ফেলে তার স্যারের পেছন ছুট লাগায়। বেচারা এমন চুরিচামারি আগে কখনোই করেনি। স্যারের পাল্লায় পরে আজ প্রথমবার করলো।
এদিকে মি.আহনাফ আহমেদ তাদের রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়েই চিল্লাতে থাকে–
—অ্যাঁই কে কোথায় আছো? চোর ঢুকেছে রিসোর্টে, আমার পূর্ণতা মায়ের রুমে চোর ঢুকছে।
ফজরের সময় হওয়ায় রিসোর্টের অনেক স্টাফই উঠে পরেছিলো, তারা আহনাফ সাহেবের চিৎকার শুনে ছুটে বের হয়ে আসে। গার্ডেনে কাউকে না পেলেও পূর্ণতার রুমের নিচে একটা মই পায়। একমাত্র পূর্ণতা ও তাজওয়াদ বাদে রিসোর্টের সবাই উঠে গিয়েছে। একটা হুলস্থুল কান্ড বেধে গিয়েছে। রিসোর্টের যেই দু’জন গার্ড ছিলো তারাও এমনটা হওয়ায় ফেঁসে গিয়েছে একপ্রকার। তারা যদি নিজেদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করত তাহলে চোর কেন চোরের ছায়াও প্রবেশ করতে পারত না রিসোর্টে।
[গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্প প্রেমী বন্ধমহলের নিকট পৌঁছে দিন ]
শব্দসংখ্যা~১৯০০
~চলবে?
[কাল থেকে আমার কলেজ খুলে দিবে। তাই এখন থেকে গল্প আসতে লেট হতে পারে। আমি থাকি এক মুল্লুকে, আমার কলেজ আরেক মুল্লুকে🥲 আর যদি নিয়মিত গল্প চান তাহলে পর্ব ছোট ছোট আসবে। কোনটা করবো? বড় পর্ব দিবো লেট করে? নাকি এমন একদিন পরপর ছোট ছোট পর্ব দিবো? সিদ্ধান্ত জানাবেন প্রিয়রা।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩+বোনাস
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৬