শেষ পাতায় সূচনা [২৩]
সাদিয়াসুলতানামনি
মিসেস শেখ তার ঔষধের থেকে একটা ঘুমের ঔষধ আঞ্জুমানকে দিয়ে বলে, সেটা গুড়ো করে যেনো জাওয়াদের খাবারে দিয়ে রাখে সে। জাওয়াদ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে আঞ্জুমান ভোরের এলোমেলো কাপড়ে তার পাশে গিয়ে শুয়ে পরবে, যাতে জাওয়াদ ঘুম থেকে উঠে বুঝতে পারে রাতে দূর্ঘটনা বসত জাওয়াদ ও আঞ্জুমানের মধ্যে কিছু হয়ে গিয়েছে। তখন জাওয়াদের আঞ্জুমানকে বিয়ে করা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবে না। ভাতিজিকে দেওয়া ওয়াদা পূরণ করতে মিসেস শেখ এত উন্মাদ হয়ে গিয়েছেন যে, নিজের ছেলেকে চরিত্রহীন প্রমাণ করতেও দ্বিতীয় বার ভাবছেন না। আঞ্জুমান তার ভাইয়ের মেয়ে, কিন্তু জাওয়াদ? সে-তো তার উদরের সন্তান। সেই সন্তানের সাথে এত বড় চক্রান্ত করতে তার একবারও বাঁধল না।
আঞ্জুমান তার কথা মতো কাজ করে ঠিকই কিন্তু কিছুটা পরিবর্তন এনে করে। সে মিসেস শেখকে মিথ্যে বলে, বাহিরে গিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধির ঔষধ নিয়ে আসে। তারপর সেই ঔষধ গুড়ো করে জাওয়াদের জন্য বানানো হালুয়ায় মিশিয়ে দেয়।
রাতে তারা তিনজন একসাথে খাবার খায়। জাওয়াদকে পূর্ণতা আগে থেকেই বলে রেখেছে সে তার বাবাকে দেখতে গিয়েছে। তার বাবা এখন ঠিক আছে, সেও রাতে হয়ত এসে পরবে। জাওয়াদ খাবারগুলো মুখে দিয়েই বুঝে যায় পূর্ণতা রান্না করেছে। সে তৃপ্তি নিয়ে খাবারগুলো খায়। জাওয়াদ পূর্ণতা আসার কথা জানলেও, মিসেস শেখ ও আঞ্জুমান জানে না পূর্ণতা যে আজ আসবে। তারা ভাবে, পূর্ণতা তার অসুস্থ বাবাকে রেখে আসবে না হয়ত। তাই তারা এমন একটা প্ল্যান এক্সিকিউট করে।
পূর্ণতার কথামতো জাওয়াদ শুতে যাওয়ার আগে মেইন দরজায় শুধু লক করে, ছিটকানি দেয় না। পূর্ণতার আসতে রাত হবে দেখে যাতে কাউকে ডিস্টার্ব না করা লাগে, তাই পূর্ণতা এই কাজটা করতে বলেছে জাওয়াদকে। পূর্ণতা এক্সট্রা চাবি দিয়ে লক খুলে বাসায় প্রবেশ করতে পারবে তাহলে। প্রতিদিন রাতে জাওয়াদই মেইন দরজা লাগায়, এটা তার অঘোষিত দায়িত্ব। মিসেস শেখ ও আঞ্জুমান জাওয়াদকে দেখিয়ে নিজেদের রুমে চলে যায়। জাওয়াদও নিজের রুমে এসে শুয়ে পরে। একটু পরই ঔষধ তার কাজ দেখানো শুরু করে দেয়। জাওয়াদের প্রচন্ড অস্থির লাগতে শুরু করে। হাত-পা কাঁপতে থাকে। চোখ ঘোলাটে হয়ে যায়। তখনই দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করে আঞ্জুমান। সে একটা পাতলা শাড়ি পরে ভীষণ আবেদনময়ী ভাবে জাওয়াদের কাছে আসে।
জাওয়াদকে বিভিন্ন ভাবে সিডিউস করতে চায়, কিন্তু জাওয়াদের অবচেতন মন তার ডাকে সাড়া দেয় না। আঞ্জুমান যখন একটু গভীরে যেতে চায় তখনই সেখানে ভুতের ন্যায় প্রকট হয় পূর্ণতা। পূর্ণতা বাসার ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে বাসায় প্রবেশ করেছে, তাই তার আসার কোন প্রকার শব্দ আঞ্জুমান পায়নি।
পূর্ণতা এসেই কিছুটা বুঝে যায় এখানে কি হচ্ছিল। পূর্ণতা রাগে কাঁপতে কাঁপতে আঞ্জুমানকে কতগুলো থাপ্পড় দেয়। আঞ্জুমান তার ভস্ম করে দেওয়ার ক্রোধের সমানে কিছুই করতে পারে না। পূর্ণতা নিজের ক্রোধকে কিছুটা সংবরণ করে আঞ্জুমানের চুলের মুঠি ধরে রাগে হিসহিসিয়ে বলে–
—তোর কলিজা অনেক বড় রে! তুই কি করতে চাচ্ছিলি খেয়াল আছে? আমার স্বামীর দিকে হাত বাড়িয়েছিস। আজ যদি তোর কলিজা কেটে আমার পালা কুকুরকে না খাইয়েছি তাহলে আমার নাম পূর্ণতা না।
কথাগুলো বলে পূর্ণতা আঞ্জুমানকে টানতে টানতে ড্রয়িংরুমে নিয়ে আসে। ডাইনিং টেবিল থেকে যেই না ছুড়ি উঠিয়ে আঞ্জুমানকে আঘাত করতে নিবে, তখনই আঞ্জুমান হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বলে–
—বিশ্বাস করো, আমি এসব করতে চাইনি। ফুপিমনি আমায় করতে বলেছে। উনি বলেছে, এমনটা করলে জাওয়াদ ভাইয়ার আর কোন পথ খোলা থাকবে না আমাকে বিয়ে করা ছাড়া। এমনকি তুমিও হয়ত জাওয়াদ ভাইয়াকে ভুল বুঝে ছেড়ে দিবে। আমি ফুপি মনির কথাতেই আজ পর্যন্ত সব করেছি। আমাকে ছেড়ে দাও প্লিজ, মেরো না আমায়।
নিজের জীবন বাচাতে আঞ্জুমান সব দোষ মিসেস শেখের উপর দিয়ে দেয়। এদিকে মিসেস শেখ এমন করতে বলেছে শুনে পূর্ণতা হতভম্ব হয়ে যায়। সে ভাবতেই পারছে না, একজন মা কতটা নিন্ম মন-মানসিকতার অধিকারী হলে এসব করতে পারে। নিজের ভাতিজিকে ছেলের বউ করবে বলে এত নিচে নেমে গেলেন উনি যে, নিজের ছেলের চরিত্রে কালি লেপন করতে চাইছেন? পূর্ণতা আঞ্জুমানের কথা শুনে একটু অন্যমনস্ক হয়ে গিয়েছিল, এরই সুযোগ নিয়ে আঞ্জুমান পূর্ণতার হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে দৌড়ে জিনিয়ার রুমে ঢুকে যায়।
পূর্ণতা সেখানে কিছুক্ষণ থম মেরে দাড়িয়ে থেকে নিজের রুমে চলে আসে। তার নিজের মাথাই ভো ভো করে ঘুরছে। রুমে এসে তার টনক নড়ে। উত্তেজনা বৃদ্ধিকর ঔষধ পুরোপুরি ভাবে জাওয়াদের উপর কার্যকর হতে শুরু করে দিয়েছে। জাওয়াদ যন্ত্রণা ছটফট করছে দেখে পূর্ণতা তার কাছে এগিয়ে আসে। জাওয়াদকে ধরে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে শাওয়ার দেওয়াতে চায়। কিন্তু জাওয়াদের কারণে সেটা হয়ে ওঠে না।
জাওয়াদ তাকে হ্যাচকা টান দিয়ে বেডে ফেলে নিজে তারউপর চড়ে বসে। ঔষধের কারণে সেদিন তারা অনিচ্ছাকৃতভাবেই মিলিত হয়ে যায়। সম্পূর্ণটা হয় জাওয়াদের ঘোরের বসে। পূর্ণতা নিজেও এমন কিছুর জন্য প্রস্তুত ছিলো না, কিন্তু জাওয়াদের শক্তির কাছে সে পেরে ওঠে না।
সকালে সর্বপ্রথম পূর্ণতারই ঘুম ভাঙে। তার ফোনটা অনবরত বেজে চলেছে। ঘুম ঘুম চোখে ফোনটা রিসিভ করলে শুনতে পায়, তাদের অফিসে আগুন লেগেছে। সংবাদটা পাওয়া মাত্রই সে কোন মতে ফ্রেশ হয়ে ছুট লাগায় অফিসে। জাওয়াদের ঘুম ভাঙে আরো বেলা করে। ঘুম থেকে উঠে নিজের এলোমেলো অবস্থা ও রুমে তার এবং পূর্ণতার ছড়ানো ছিটানো পোষাক দেখে সে বুঝতে পারে রাতে কিছু একটা হয়েছিল তাদের যা হওয়া উচিত ছিলো না। তার আবছা আবছা মনে পড়ে একটা মেয়ে তার কাছে আবেদনময়ীভাবে এসে নিজেকে জাওয়াদের কাছে বিলিয়ে দিতে চায়, কিন্তু রুমের লাইট অফ থাকায় সে মেয়েটার মুখ দেখতে পারে না। আবার দুটো মেয়ের চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজও পেয়েছে।
রুমে যেহেতু তার আর পূর্ণতা জামাকাপড় পড়ে আছে তাহলে মেয়েটা কি পূর্ণতা ছিলো? পূর্ণতা কি তাহলে কাল খাবারের মধ্যে কিছু মিশিয়েছিল? নাহয় তার ওমন খারাপ লাগলো কেন? জাওয়াদের সবকিছু স্পষ্ট ভাবে মনে নেই। আবছা আবছা মনে আছে। সে যেহেতু পূর্বে এ জাতীয় ঔষধ কখনো সেবন করেনি তাই ঔষধটা একটু বেশিই রিয়াক্ট করেছে তার শরীরে।
জাওয়াদ মনে মনে বেশ কষ্ট পায় তার মায়ের দেওয়া ওয়াদার খেলাফ করার জন্য। শরীর ভালো না লাগার কারণে আজ অফিসে যাবে না বলে ঠিক করেছে। সে ফ্রেশ হয়ে অফিসে জাস্ট একটা মেইল করে দেয় তার না যাওয়ার কথা জানিয়ে। তারপর ফোনটা অফ করে রেখে দেয়। কাজটা করে জাওয়াদ নাস্তা বাহিরে চলে আসে নাস্তা করতে। ড্রয়িংরুমে তার মা ব্যতীত আর কাউকে পায় না। নাস্তা করতে করতে হঠাৎই সে মিসেস শেখকে জিজ্ঞেস করে–
—আম্মা, কাল রান্নাগুলো কে করেছিলো?
—পূর্ণতা করেছিলো। কেনো?
—না, এমনিতেই। আচ্ছা কাল রাতের খাবার খাওয়ার পর আপনাদের কোনপ্রকার খারাপ লেগেছিলো?
—কই না তো।
আঞ্জুমান সকালে তাড়াতাড়ি উঠেই মিসে শেখকে সবটা জানিয়ে দিয়েছে। শুধু সে যে ঔষধ পরিবর্তন করে অন্য ঔষধ দিয়েছে সেটা বলেনি। জাস্ট বলেছে, জাওয়াদ ঘুমিয়ে পড়তেই সে রাতেই চলে গিয়েছিল তার রুমে। পূর্ণতা বাসায় এসে তাকে মেরে রুম থেকে বের করে দিয়েছে। এসব শুনে মিসেস শেখ আরো ক্ষেপে গিয়েছে।
মিসেস শেখ জাওয়াদকে বলে–
—আমি ভাবছি তোমার আর পূর্ণতার দ্বিতীয় বার বিয়ে নিয়ে কথা বলবো তোমার বাবার সাথে। এ বিষয়ে তোমার কি মতামত?
কথাটা শুনে জাওয়াদ তার মুখ নিচু করে ফেলে। ছেলেকে মাথা নিচু করে নিতে দেখে মিসেস শেখের খটকা লাগে। জাওয়াদকে সে জিজ্ঞেস করে–
—কি হয়েছে তোমার? মাথা নামিয়ে নিলে কেন? কোন সমস্যা হয়েছে?
—না তেমন কিছু হয়নি। কিন্তু একটা ভুল হয়ে গিয়েছে আমার দ্বারা।
—কি ভুল?
—কাল আমার ওয়াদা ভঙ্গ হয়ে গিয়েছে, যেটা আমি আপনাকে করেছিলাম আম্মা।
জাওয়াদের আর খুলে বলতে হয় না তার কথাটা। মিসেস শেখ বুঝে যায় জাওয়াদ কি বুঝাতে চেয়েছে। সে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে যায়। কিন্তু নিজের রাগ টাকে মনের ভেতর চেপে রেখেই এমন কিছু ইমোশনাল কথা বলে যা শুনো জাওয়াদ আরো নিজেকে গুটিয়ে নেয়। মিসেস শেখ মূলত তার সাথে ব্রেন গেইম খেলে।
জাওয়াদ মন খারাপ করে বাহিরে চলে যায়। সারাদিন বাহিরে বাহিরেই এদিক-সেদিক ঘুরাঘুরি করে বিকেলের দিকে বাসায় ফিরে। কিন্তু বাসায় ঢুকে না, বরং ছাদে গিয়ে বসে বসে আকাশ দেখতে থাকে। আকাশ দেখতে দেখতে হঠাৎই কি মনে করে ফোনটা অন করে। ফোন অন করতেই একের পর এক নোটিফিকেশন, ফোনকল আসতে থাকে। জাওয়াদ দেখে পূর্ণতা তাকে কয়েকবার ফোন করেছে, মেসেজও করে জানতে চেয়েছে আজ কেনো আসলো না। কিন্তু জাওয়াদ একটা মেসেজ বা ফোনকলের জবাব দেয় না। আসলে পূর্ণতাদের অফিসে আজকে বেশ ক্ষতি হয়েছে, পূর্ণতা তাই তার মেইল চেক করার সুযোগ পায়নি। এজন্য সে ঐ মেসেজ করেছে।
জাওয়াদ ফোনটা আবারও বন্ধ করে দিবে তখনই আঞ্জুমানের ফেইক আইডি থেকে মেসেজ আসে। জাওয়াদ দোনোমোনো করতে করতে মেসেজ সিন করে। প্রথমে টুকটাক হাই-হ্যালো, কি করছেন এসব দিয়েই কথা শেষ হয়। তারপর আস্তে ধীরে আঞ্জুমান তার কাজ শুরু করে।আজই সে পূর্ণতাকে ফাঁসানো জন্য পিক গুলো দিবে। ফাহিম রূপী আঞ্জুমান মেসেজে বলে–
—জানেন ভাইয়া, আজ ঐ বেইমান সম্পর্কে আরেকটা জিনিস জানতে পেলাম।
—কি জানতে পেলেন?
—ছলনাময়ী নিজের অফিসের একজন ভদ্রলোককে নাকি জোর করে বিয়ে করেছে। বিয়ে করার পরও থেমে থাকেনি, আরেক ছেলের সাথে সম্পর্ক রেখেছে। এই মেয়েরা এত ছলনাময়ী কেন ভাইয়া? ওরা আমাদের মতো সহজ-সরল ছেলেদের কষ্ট দিয়ে কি পায় বলেন তো? জানেন, ওর বাম কাঁধে একটা বড়সড় তিল আছে। ওর সাথে আমার সব হয়ে গিয়েছিল, যা একজন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে হয়। আমরা দু’জন বিয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, কিন্তু ও আমাকে চিট করে ওর থেকে কম পয়সাওয়ালা একজনকে বিয়ে করে এখন আরেকজনের সাথে সম্পর্ক করছে। নিজের থেকে কম পয়সাওয়ালা ছেলেকে বিয়ে করেছে এজন্য, যাতে ঐ ছেলে ওর টাকা দেখে মুখ বন্ধ করে রাখে। আমাদের ছেলেদের মাঝেও কত লোভী আর ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ আছে কথাটা ভাবলেই অবাক হয়ে যাই।
জাওয়াদ ফাহিমকে সান্ত্বনা দিয়ে বলে–
—সবাই যদি ভালো হতো তাহলে পৃথিবীতে এত কষ্ট থাকত না। তা তুমি ঐ মেয়েকে এক্সপোজ করছো না কেনো? ওর জন্য কত ছেলে ধোঁকা পাচ্ছে।
—কিভাবে করবো সবটা বুঝতে পারছি না। আপনি যদি একটু সাহায্য করতেন।
—তুমি ওর বিরুদ্ধে তোমার কাছে থাকা সব প্রমাণ একসাথে করে ফেসবুক সহ বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দাও। লাগলে থানায় জিডি করতে পারো।
—ভালো বলেছেন ভাইয়া। ওয়েট আমি ওর পিক দেখাই আপনাকে।।
—আরে আমি ওর ছবি দেখে কি করবো?
ফাহিম রূপী আঞ্জুমান জাওয়াদের কথার জবাব না দিয়েই পূর্ণতার ছবিগুলো দিয়ে দেয়। ফাহিমকে চিট করা মেয়ে হিসেবে পূর্ণতাকে দেখে জাওয়াদ হতভম্ব হয়ে ফোনটা হাত থেকে পড়ে যায়। এটা কি করে হতে পারে? পূর্ণতা কি করে এত ছেলের জীবন নষ্ট করতে পারে? পূর্ণতা একমাত্র তাকেই ভালোবাসে পাগলের মতো।
জাওয়াদ উন্মাদের মতো ফোনটা হাতে তুলে মেসেজ করে–
—কি যাতা বলছো এসব? এই মেয়ে শহরের নাম্বার ওয়ান বিজনেসম্যানের মেয়ে, ওর কি কারণ থাকতে পারে এত এড ছেলেদের চিট করে টাকা হাতানোর?
—ভাইয়া টাকা দিয়ে কি আর চরিত্র কেনা যায়? আর ওর বাবা এত টপ বিজনেসম্যান হয়েছে কিভাবে? মেয়েকে অন্যের বিছানায় পাঠিয়েই তো।
জাওয়াদ মেসেজ দেখে কাঁপা কাঁপা হাতে ফোন লাগায় ফাহিমকে। ফাহিম ভয়েস চেঞ্জ এপস ব্যবহার করে ছেলের ভয়েসে কথা বলে। জাওয়াদ জিজ্ঞেস করে–
—তুমি এসব যা বলছো, তা যে সত্য তার প্রমাণ কি?
—বিশেষ কিছু প্রমাণ নেই ভাইয়া। এই আপনাকে যেই ছবিগুলো দিয়েছি তা ছাড়া আর কিছুই নেই। কিন্তু আমি কালেক্ট করছি প্রমাণ।
—এমন ছবি তো এআই দিয়েও বানানো যায় তাহলে সবাই তোমাকে কেন বিশ্বাস করবে?
—এগুলো রিয়েল পিক ভাইয়া। তাছাড়া ছবিতে দেখানো রেস্টুরেন্টে গিয়ে তাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখলেই আমার কথার সত্যতা প্রমাণ হয়ে যাবে।
জাওয়াদের মাথা ভো ভো করে ঘুরতে থাকে। সে কলটা কেটে দিয়ে ছন্নছাড়ায় ন্যায় নিচে বসে যায় ধপ করে। তার মাথায় শুধু একটা প্রশ্নই ঘুরছে, পূর্ণতা কেন তাকে এমনভাবে ঠকালো? আচ্ছা তার সবকিছুই কি অভিনয় ছিলো? এত সূক্ষ্ম অভিনয়ও হয়? পড়ন্ত বিকেলে একবুক কষ্ট নিয়ে সেখানেই বসে থাকে জাওয়াদ অবিশ্রান্ত সময়ের জন্য।
রাত সাড়ে আটটায় ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত দেহ নিয়ে পূর্ণতা বাসায় ফিরে। কলিংবেল দিতেই মিসেস শেখ গোমড়া মুখ করে দরজা খুলে দেয়। পূর্ণতা তার গোমড়া মুখ দেখেও না দেখার ভান করে নিজেদের রুমে চলে যায়। বড্ড বেশিই ক্লান্ত আজ সে। তাদের অফিসের পার্কিংলটে কয়েকজনের গাড়ি পুড়ে গিয়েছে, পেছনের সাইডে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতকিছুর পরও পূর্ণতা এসব ঘটনা তার বাবাকে জানায়নি। লোকটার এমনিতেই হার্টে ব্লক ধরা পরেছে, এখন এমন একটা দুঃসংবাদ জানালে, আল্লাহ না করুন তার বড় কিছু একটা হয়ে গেলে?
রুমে এসেই পূর্ণতার অবচেতন মন জাওয়াদকে খুঁজল, কিন্তু কোথাও জাওয়াদকে পেলো না সে। জামা-কাপড় নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো। সে শাওয়ার নিয়ে ঢোকার কিছুক্ষণ পরই জাওয়াদ বাসায় ফিরল। সেও মন খারাপ নিয়ে রুমে চলে যায়। রুমে এসে যখন দেখে পূর্ণতা এই রাত নয়টায় শাওয়ার নিচ্ছে, তখন তার মনের সন্দেহের বীজ আরেকটু প্রসারিত হয়। ভেবে নেয় আজই সে একটা মীমাংসা করবে এই বিষয় নিয়ে।
পূর্ণতা শাওয়ার নিয়ে বের হয় একঘন্টা পর। ওয়াশরুম থেকে বের হয়েও যখন পূর্ণতা দেখে রুমের লাইট নেভানো, তখন সে ধরে নেয় জাওয়াদ আসেনি। সে চুলে পেঁচানো টাওয়ালটা খুলে চেয়ারে মেলে দিয়ে ওড়না নিয়ে সে রুম থেকে বের হয়ে শ্বাশুড়ির রুমের দিকে হাঁটা দেয়, জাওয়াদ কোথায় গিয়েছে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতে। কিন্তু সে মিসেস শেখের রুমে এসে শুনতে পায় কিছু তিক্ত কথা। মিসেস শেখ আঞ্জুমানের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলছে–
—টেনশন করিস না মা, তুইই হবি আমার ছেলের বউ। ক’টা দিন অপেক্ষা কর, ঐ উচ্ছন্নে যাওয়া মেয়েটাকে কিভাবে তাড়াই দেখ শুধু তুই।
তার কথা শুনে পূর্ণতা অনেক কষ্ট পায়। এই দুইমাস কি না করেছে এই পরিবারের জন্য? কিন্তু দিনশেষে উচ্ছনে যাওয়া মেয়ে শুনতে হচ্ছে তাঁকে। পূর্ণতা তাদের কথার মাঝেই মিসেস শেখের রুমের ঢুকে বলে–
—এত কিছু করার পরও আমি কেন এত অযোগ্য আপনার পুত্রবধূ হিসেবে আম্মা? কেনো আমাকে উচ্ছন্নে যাওয়া মেয়ে শুনতে হচ্ছে আজ?
তাকে এমন হুট করে ঢুকে যেতে দেখে আঞ্জুমান ও মিসেস শেখ দুইজনই থতমত খেয়ে যায়। তারা দু’জন ভয় পেয়ে একে অপরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে থাকে। পূর্ণতা তাকে আবারও জিজ্ঞেস করে–
—কি হলো বলছেন না কেনো আম্মা?
সময়ের সাথে সাথে এতদিন জমে থাকা সকল দুঃখ, কষ্ট, অভিমান ক্রোধ হয়ে বের হয়ে আসতে চায় পূর্ণতার।
📌গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্পপ্রমী বন্ধুমহলের নিকট পৌঁছে দিন।
শব্দসংখ্যা~২০১৭
~চলবে?
[আজকের এই পর্বে বেশি বেশি রেসপন্স করলে কালও গল্প দিবো ইনশা আল্লাহ।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩+বোনাস
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩০
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৮
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৬
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২১