শেষপাতায়সূচনা [১০]
সাদিয়াসুলতানামনি
[গল্পের শেষের কথাগুলো অবশ্যই পড়বেন ]
সকাল বেলা দরজায় নক করার আওয়াজে পূর্ণতার ঘুম ভাঙে। চোখ খুলে ছেলেকে নিজের বুকেই পেয়ে একটা স্নিগ্ধ হাসি ফুটে ওঠে তার মুখে। সে তাজওয়াদকে পাশের বালিশে শুয়ে দিয়ে কপালে একটা স্নেহের পরশ দিয়ে তাকে ব্ল্যাঙ্কেট দিয়ে ঢেকে দিয়ে বেড ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়। তারপর গায়ে ওড়নাটা সুন্দর করে পেঁচিয়ে নিয়ে দরজা খুলে দেয়।
দরজার অপর পাশে হাসি হাসি মুখে তখন দাড়িয়ে ছিল আরিয়ান। তার হাতে খাবারের ট্রে। তার পাশে একজন স্টাফও রয়েছে যার হাতে কিনা বড়সড় একটা ডালা। ডালার উপর কিছু কাপড়চোপড় দেখা যাচ্ছে। পূর্ণতা দরজার সামনে থেকে সরে গিয়ে তাদের ভেতরে ঢোকার জন্য জায়গা করে দেয়।
আরিয়ান ও মেয়ে স্টাফটি রুমে প্রবেশ করে নিজেদের হাতের জিনিসগুলো টি-টেবিলের উপর রেখে দেয়। তারপর আরিয়ান স্টাফ টিকে চলে যেতে বলে। স্টাফ চলে যাওয়ার পর পূর্ণতা আরিয়ানকে জিজ্ঞেস করে–
—এসব (জামাকাপড় গুলো দেখিয়ে) কি ভাইয়া? ড্রেস কেনো আবার?
আরিয়ান তার ভ্রু নাচিয়ে বলে–
—আজ আমার গায়ে হলুদ তুই সেটা ভুলে গিয়েছিস পূর্ণ?
—না, ভুলিনি। কিন্তু আমি তো ড্রেস এনেছি। সেগুলোই পরবো। শুধু এগুলো আনলে কেনো তুমি আবার?
—শুধু শুধু নাকি পরার জন্য এনেছি তা তোর বুঝে লাভ নেই। তুই আর তাজওয়াদ আজ অনুষ্ঠানে এই ড্রেসগুলোই পরবি।
পূর্ণতা দেখতে পায় ডালার একপাশে একটা সুন্দর বাসন্তী রঙের শাড়ি আর আর্টিফিসিয়াল ফুলের গহনা। আরেক পাশে পাঞ্জাবি-পায়জামা ও জুতো। সবই তাজওয়াদের সাইজের। তাদের দুই মা-ছেলের তৈরি হওয়ার জন্য এ টু জেড সব আছে ডালা টায়।
পূর্ণতা শাড়ি পরা ছেড়ে দিয়েছে সেই পাঁচ বছর আগেই। জাওয়াদের সাথে সাথে সে এমন অনেক কিছু ত্যাগ করেছে তার জীবনে যা একসময় পূর্ণতার অস্তিত্বের সাথে ওতপ্রতভাবে জড়িয়ে ছিল। পূর্ণতা শাড়িটির দিকে থেকে চোখ সরিয়ে এনে মলিন গলায় বলে–
—ভাই, আমি তো শাড়ি পরি না। তাজের ড্রেসটা থাকুক, আমি আমার সাথে যেই ড্রেসটা এনেছি সেগুলো পরবো তোমার হলুদের অনুষ্ঠানে।
আরিয়ান পূর্ণতার কথায় তীব্র অসম্মতি জানিয়ে বলে–
—না, না। তুই আমার দেওয়া ড্রেসই পরবি। আমি কোন কথা শুনবো না।
—প্লিজ ভাই, একটু বুঝার চেষ্টা করো। জাওয়াদের সাথে সাথে আমি শাড়ি পরা, শখ আহ্লাদ করা এসব ত্যাগ করেছি। আর যেসব ত্যাগ করেছি সেসব আমি কম কষ্টে ত্যাগ করিনি। নারী যখন শাড়ি ত্যাগ করে, তখন বুঝতে হবে তার কষ্টের তীব্রতা ছিল অসহনীয়।
আরিয়ান পূর্ণতার কথা শুনে এক পলকের জন্য থমকে যায়। সে জানে, জাওয়াদের কাছ থেকে চলে আসার পর পূর্ণতা কতটা ডিপ্রেশনে ছিল। মেয়ের টেনশনে তার বাবা তূল্য চাচা টাও চলে গেলো পরপারে। তারপর থেকে পূর্ণতা আরো ভয়াবহ ডিপ্রেশনে চলে যায়। একদিন হুট করে কাউকে কিছু না জানিয়েই সে কানাডা চলে যায়। কেউ জানত না পূর্ণতা কোথায় গিয়েছে। পূর্ণতা কানাডা পৌঁছে আরিয়ানকে তার চলে যাওয়া সম্পর্কে জানায় এবং তার বাবার কোম্পানির সকল দায়িত্ব অস্থায়ী ভাবে আরিয়ানের উপর দিয়ে যায়।
আরিয়ান পূর্ণতাকে শাড়ি পরতে জোর করতে পারে না আর। কি দরকার দুঃখীকে তার দুঃখের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়ার। সে চলে যায় নিজের কাজে। যাওয়ার আগে বলে যায়, তাজকে রেডি করিয়ে তাকে কল দিতে। তাদের অন্যান্য কাজিনরা তাজকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে। পূর্ণতা তার কথায় সম্মতি জানায়।
পূর্ণতা তাজকে উঠিয়ে ফ্রেশ করিয়ে নাস্তা করায়, তারপর বারোটার দিকে গোসল করিয়ে রেডি করিয়ে আরিয়ানকে ডেকে তার সাথে পাঠিয়ে দেয়। শাওয়ার শেষ করে সে বেশ কিছুক্ষণ আরিয়ানের দেওয়া শাড়িটির দিকে তাকিয়ে বসে থাকে। স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে কিছু সুখময় দৃশ্য।
অতীত~
জাওয়াদ আজ নিজ থেকেই সকালে উঠে। ঘুম ঘুম চোখে আশেপাশে তাকালে দেখতে পায় সূর্য বেশ ভালোই নিজের তেজ দেখাচ্ছে। ভ্রু কুঁচকে সময় দেখার জন্য ফোনটা হাতে তুললে তার চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। সাড়ে এগারোটা বাজতে চলেছে দিনের। হুড়মুড়িয়ে বেড ছেড়ে ওয়াশরুমে চলে যায় ফ্রেশ হতে। আজ অফিসে একটা জরুরি মিটিং আছে। কাল এই মিটিংয়ের বিষয়ে কাজ করতে করতে অনেক রাতে ঘুমিয়েছে সে আর পূর্ণতা। তাই আজ সকালে উঠতে এত দেরি হয়ে গেলো।
দশ মিনিটে শাওয়ার শেষ করে ঝটপট রেডি হয়ে নেয়। আয়নার সমানে দাঁড়িয়ে রেডি হতে থাকে, তখনই তার নজরে পরে আয়নার একপাশে একটা ছোট স্টিকি নোট লাগানো। স্টিকি নোটটা জাওয়াদ আয়না থেকে খুলে নিয়ে পড়তে শুরু করে। হাতের লেখা দেখেই বুঝতে পেরে যায় এটা পূর্ণতা লেখা। স্টিকি নোটে লেখা ছিল, “তাড়াহুড়ো করবেন না ঘুম থেকে উঠে। নাস্তা করে প্যারাসিটামল ঔষধ খেয়ে তারপর অফিসে আসবেন। কথা না শুনলে কিন্তু একদম চুমু দিয়ে দিবো সবার সামনে। তখন আপনিই লজ্জা পাবেন, আমার কিন্তু কোন লজ্জা নেই আপনি জানেন।”
জাওয়াদ এমন অহেতুক হুমকি মূলক নোট পড়ে জাওয়াদ নিজের অজান্তেই হেঁসে দেয়। জাওয়াদ একটু লাজুক দেখে পূর্ণতা কথায় কথায় এমন চুমু খাওয়ার হুমকি দিয়ে নিজের কাজ করিয়ে নেয়।
জাওয়াদ পূর্ণতার কথা মতো নাস্তা করে একটা প্যাটাসিটামল খেয়ে নেয়। কাল বেশি রাত করে ঘুমানোর জন্য মাথা ব্যথায় জ্বর চলে এসেছিল তার। পূর্ণতা না ঘুমিয়ে অনেকক্ষণ তার পাশে বসে তার মাথা মালিশ করে, চুল টেনে দিয়েছে। তারপরই ব্যথা কমায় সে ঘুমিয়ে ছিলো।
জাওয়াদ নাস্তা করে অফিসে পৌঁছাতে পৌঁছাতে ঘড়ির কাটা বারোটা ছাড়িয়েছে। জাওয়াদ তার নিজের কেবিনে যাচ্ছিল তখনই পথে পিয়নের সাথে দেখা হয়। পিয়ন তাকে জানায় পূর্ণতা তাকে আসার সাথে সাথে তার কেবিনে যেতে বলেছে। জাওয়াদ মিটিং সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, পিয়ন জানায়, মিটিং লাঞ্চের পর হবে। কোন একটা কারণে পূর্ণতা নিজেই সময় পিছিয়েছে।
পিয়নের কথা শুনে জাওয়াদ মনে মনে একটু অবাকই হয়। কেননা পূর্ণতা আগে কখনো এমনটা করেনি, আজই প্রথম সে কোন মিটিংয়ের সময় পিছিয়েছে।
জাওয়াদ ম্যানেজার হওয়ায় তার জন্য আলাদা কেবিনের ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে সে তার অফিস ব্যাগ রেখে পূর্ণতার কেবিনে চলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে পূর্ণতা আজকের মিটিং সম্পর্কেই আলাপ-আলোচনা করছে। জাওয়াদও তাদের সাথে জয়েন হয়। আজকের মিটিং হোস্ট করবে পূর্ণতা নিজেই। বেশ বড় একটা কোম্পানির সাথে আজকের মিটিং টা হবে, ডিলটা ফাইনাল হলে তাদের কোম্পানি সম্মান ও অর্থ দুই দিক দিয়েই আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে।
লাঞ্চের পর মিটিং টা শুরু হয়। আফজাল সাহেবের শরীরটা বেশি একটা ভালো না থাকায় পূর্ণতা তাকে আসতে নিষেধ করেছেন। ইদানীং তার শরীরটা একটু বেশিই খারাপ যাচ্ছে। নিঃসঙ্গতা একটু একটু করে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরছে লোকটাকে। পূর্ণতার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সে যেনো আরো নিঃসঙ্গ, একা হয়ে গিয়েছে।
পূর্ণতা বেশ ভালোভাবেই মিটিংটা হোস্ট করছে। ক্লাইন্টদের তাদের প্রজেক্টের সবদিক সূক্ষ্ম ভাবে বুঝাচ্ছে। হঠাৎই জাওয়াদের নজর যায় পূর্ণতার দিকে। পূর্ণতা তখন প্রজেক্টের মাধ্যমে তাদের প্রজেক্টের একটা দিক ব্যাখ্যা করছিল। হাত উঁচু করার কারণে তার শাড়ি নিজের জায়গাচ্যুত হয়ে পূর্ণতার ফর্সা লতানো কোমড়ের বেশ কিছুক্ষণ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আর সেদিকেই তাকিয়ে আছে ক্লাইন্টদের মধ্যকার এক লোক। সে রীতিমতো চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে পূর্ণতাকে।
ব্যস! জাওয়াদের পায়ের রক্ত মাথায় উঠতে আর কি লাগে। সে নারীদের যথেষ্ট সম্মানীয় দৃষ্টিতে দেখে। নিজের মা-বোন ব্যতীত অন্যকোন নারীকেও যদি কেউ খারাপ দৃষ্টিতে দেখে তাহলে তার মাথা ঠিক থাকে না। সেখানে পূর্ণতা তো তার তিন কবুল বলা বউ। হ্যা, সে হয়ত এখনও পূর্ণতাকে তেমন একটা মেনে নেয় নি। কিন্তু আজ যে কি হলো জাওয়াদের! পূর্ণতার প্রতি ঐ লোকটার বাজে দৃষ্টিতে তাকানো দেখে জাওয়াদ রাগে থরথর করে কাঁপতে থাকে।
কি করবে, কি করবে ভাবতে ভাবতেই সে দেখে সকলের মতোই তার সামনেও এক গ্লাস পানি রয়েছে। সে ইচ্ছে করে গ্লাসটা নিচে ফেলে দেয়। নিস্তব্ধতায় ঘেরা মিটিং রুমে গ্লাস ভাঙার শব্দ সহজেই সকলের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়। সকলে জাওয়াদের দিকে বিস্ময় নিয়ে তাকালেও, জাওয়াদ ভাবলেশহীন ভাবে বলে–
—সরি, ভুলে পরে গিয়েছে। আমি পরিষ্কার করে দিচ্ছি।
কথাটা শেষ করেই জাওয়াদ নিচে বসে কাচ উঠাতে শুরু করে, তখনই সে তার একটা আঙুল ইচ্ছে করে কাচ দিয়ে কেটে ফেলে “আহ” করে ওঠে। জাওয়াদের আর্তনাদ শুনে পূর্ণতা এক সেকেন্ড ব্যয় ব্যতীত চঞ্চল পায়ে হেঁটে তার সামনে এসে বসে পরে। তারপর অস্থির গলায় বলতে থাকে–
—হায় আল্লাহ! হাত কেটে ফেললেন কিভাবে? কে বলেছিল আপনাকে এগুলো উঠাতে? হলো তো একটা কান্ড ঘটিয়ে!
জাওয়াদ তার হাতটা টান দিয়ে পূর্ণতার থেকে ছাড়িয়ে নেয়। পূর্ণতা অবাক হয়ে তার দিকে তাকালে, জাওয়াদ গুরুগম্ভীর গলায় বলে–
—আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হবেন না ম্যাম। আপনি মিটিংটা আবারও শুরু করেন। সামান্য চোটে কিছু হবে না আমার।
জাওয়াদ পূর্ণতাকে কিছু বলতে না দিয়ে নিচ থেকে উঠে বসে। তারপর বিনীতভাবে সকলের উদ্দেশ্যে বলে–
—আমি সকলের কাছে বিনীতভাবে ক্ষমা চাইতে এই ঘটনাটির জন্য। আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করবো, এই এক্সিডেন্টের প্রভাব যেনো আমাদের মিটিং বা প্রজেক্টে না পরে। আর এক্সকিউজ মি।
জাওয়াদের হাত দিয়ে রক্ত পরছে দেখে সকলেই তার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করে। আজকে জাওয়াদের কাজ বা ব্যবহার নিতান্তই বেশ আনঅফিশিয়াল হয়ে গেলেও তার এতে কিছু যায় আসে না। সে সকলের থেকে বিদায় নিয়ে মিটিং রুম ত্যাগ করে। সকলে আবারও মিটিং শুরু করার কথা বললেও পূর্ণতা একটা ব্রেকের কথা বলে জাওয়াদের পেছন পেছন ফার্স্টএড বক্স নিয়ে ছুট লাগায়। যাওয়ার আগে পিয়ন ও তার পি.এ. সিনথিয়াকে আগত গেস্টদের চা-নাস্তার ব্যবস্থা করতে বলে যায়।
—এই দেখি আপনার হাত দেখান।
পেছন থেকে পূর্ণতার চিন্তিত গলা শুনে জাওয়াদের ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি দেখা দেয়। তার কেন জানি মনে হচ্ছিল, পূর্ণতা আসবেই তার পেছন পেছন। আর তার ধারণাটিকে সত্য করে, পূর্ণতা সত্যিই আসল। পূর্ণতা নিজ থেকেই জাওয়াদের সামনে এসে দাঁড়ায়। তারপর তার হাত নিজের কাছে টেনে নিয়ে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে থাকে কতটুকু কেটেছে।
জাওয়াদ সন্তর্পনে পূর্ণতার চিন্তিত মুখখানার দিকে তাকিয়ে থাকে। তাদের বিয়ের মাত্র পচিশ তম দিন চলছে আজ, কিন্তু এই কয়দিনেই জাওয়াদ পূর্ণতার তার প্রতি পাগলামি দেখে অবাক হয়ে গিয়েছে। মেয়েটা সে বলতে কেমন জান দেয়। সে যদি একটা “আহ” ও করে তাহলেও পূর্ণতা কেমন অস্থির হয়ে যায়। জাওয়াদকে বাচ্চাদের মতো ট্রিট করে। কিন্তু এত এত ভালোবাসা, যত্ন, পাগলামির বদলে সে শুধু পূর্ণতাকে অবহেলা, অবজ্ঞাই উপহার দিচ্ছে।
পূর্ণতা একটা কটনে কিছুটা ডেটল নিয়ে জাওয়াদের ক্ষতস্থানে লাগাতে৷ নিবে, তখনই জাওয়াদ তার হাত ছাড়িয়ে নেয় পূর্ণতার থেকে। এমনটা করায় এবার পূর্ণতারও মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। সে কিছুটা অসন্তোষ নিয়েই বলে–
—এমন অদ্ভুত আচরণ করছেন কেন তখন থেকে? সমস্যা কোথায়? ক্ষতস্থানে ঔষধ লাগাতে দিচ্ছেন না কেনো?
জাওয়াদের কাছে যেনো পূর্ণতার কথার জবাব তৈরিই ছিল। সে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে–
—আমার ক্ষতস্থান চিন্তা না করে, নিজের সম্মান কুনজর থেকে রক্ষা করার চিন্তা করো। নাকি আনন্দ পাও অন্যকে আমার জিনিস দেখিয়ে?
জাওয়াদের কথা গুনো পূর্ণতার মাথার উপর দিয়ে চলে যায়। তার সম্মান কিভাবে নষ্ট হলো? সে তো যথেষ্ট শালীনভাবেই শাড়ি এবং অন্যান্য পোষাক পরিধান করে। আর তার জিনিস বলতে কি বুঝালো জাওয়াদ?
পূর্ণতা বোকাবোকা গলায় সুধায়–
—আপনার জিনিস আমি কিভাবে অন্যকে দেখিয়ে মজা নিলাম?
জাওয়াদ এবার চরম ক্ষেপে ওঠে। সে তার কাটা হাতটা পূর্ণতার আচঁলের ভাজে নিয়ে রাখে তার উন্মুক্ত কোমড়ে। তারপর একপ্রকার খাবলে ধরে সেই জায়গাটা। জাওয়াদের এমন আকস্মিক আক্রমণে পূর্ণতা হকচকিয়ে যায়, সেই সাথে ভয়াবহ রকমের চমকে যায়।
জাওয়াদ পূর্ণতার কোমড় খামচে ধরে তাকে নিজের কাছে নিয়ে এসে হিসহিসিয়ে বলে–
—এটা আমার। যাকে স্পর্শ করেছি সে পুরোটা আমার। জোর করে হোক, আর অনিচ্ছায় হোক তিনবার কবুল করে তোমাকে নিজের জন্য বৈধ করেছি। আমার জিনিস নিয়ে হাঙ্কি-পাঙ্কি পছন্দ না। এতই যদি অন্যদের দেখাতে ইচ্ছে করে, তাহলে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে যাকে ইচ্ছা দেখাও। কিন্তু যতদিন আমার নামের সাথে তোমার নাম জুড়ে আছে, ততদিন আমি এসব হাঙ্কি-পাঙ্কি সহ্য করবো না। বুঝতে পেরেছো?
পূর্ণতা যেনো আলাদা এক ঘোরে চলে গিয়েছে। তাদের বিয়ের এই কয়েকদিনে জাওয়াদ তেমন একটা ভালো করে কথাই বলেনি তার সাথে। সেই জাওয়াদের কণ্ঠে আজ পূর্ণতার জন্য কি তীব্র অধিকারবোধ। পূর্ণতা তার এটাই কি জাওয়াদের মূল্য বক্তব্য? হ্যাঁ তো, জাওয়াদ স্পষ্ট এই স্বীকারোক্তি দিলো। পূর্ণতার মাথা কয়েক মুহূর্তের জন্য ব্ল্যাঙ্ক হয়ে যায়।
📌গল্পটি ভালো লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করে আপনার গল্পপ্রেমী বন্ধু মহলের কাছে পৌঁছে দিন।
শব্দসংখ্যা~১৭০৭
~চলবে?
[একদিন পরপর ১৫০০+ শব্দের গল্প দেই তাও আপনাদের দাবী এত ছোট করে দেই কেন? ভাই রে, ভেবে লিখতে কি সময় লাগে না? আমি যে প্রতিদিন বলি, রেসপন্স করিয়েন, রেসপন্স করিয়েন। কয়জন করেন?
নেক্সট, পরবর্তী পর্ব দেন, পরবর্তী পর্ব কবে দিবেন, তাড়াতাড়ি দেন এসব ছাড়া আর তো কখনো দুই লাইনের একটা মন্তব্য করেছেন? হাতে গোণা কয়েকজন ছাড়া কাউকেই গঠনমূলক মন্তব্য করতে দেখি না। আবার কয়েকজনের দাবী বেশি আশা করছি, লোভ করছি।😆
সত্যি বলতে কিচ্ছু বলার নেই আপনাদের। বললেই তো আবার সমালোচনা শুরু করে দিবেন। একটা কথা মনে রাখবেন, আমিও আপনাদের মতোই সাধারণ মানুষ। আমার পারসোনাল লাইফে আরো বহু কাজ আছে লেখালেখি ছাড়া। লেখালেখি শখে করি। কথাগুলো খারাপ লাগলে দুঃখিত, কিন্তু ভেবে দেখবেন কথাগুলো ভুল বলেছি কিনা।
ভুলক্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। গঠনমূলক মন্তব্য করবেন। হ্যাপি রিডিং মাই লাভিং রিডার্স ]
Share On:
TAGS: শেষ পাতায় সূচনা, সাদিয়া সুলতানা মনি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৯
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৪
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ৩২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১২
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ১৫
-
শেষ পাতায় সূচনা পর্ব ২৬