রোদ্দুরেরছেঁড়ামানচিত্র
পর্ব_৫০(বর্ধিতাংশ)
নিলুফানাজমিননীলা
★★★
ড্রয়িংরুমের নিস্তব্ধতায় অনেকক্ষণ একা বসে রইল তৃণা। কিছুক্ষণ আগেও নুসরাত আর নৌশি সাথে ছিল, কিন্তু রাত বাড়ার সাথে সাথে তারা আপন আপন ঘরে চলে গেছে। তূর্ণা আজ রিনির কাছেই ঘুমিয়েছে, ছোট মেয়েটার জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত সবাইকে হার মানতে হয়েছে।
একটা লম্বা হাই তুলল। চোখের পাতা দুটো যেন ঘুমের ঘোরে ভেঙে আসছে। দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল রাত এগারোটা বেজে বত্রিশ মিনিট। মনের ভেতর একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল সে, এতক্ষণে নিশ্চয়ই আরিয়ান ঘুমিয়ে গেছে। আজ রান্নাঘরে লোকটা যে পরিমাণ হুমকি-ধমকি দিয়ে গিয়েছিল, তাতে একা রুমে ঢুকতে ওর বেশ ভয়ই লাগছিল।
মিহু আজকাল বাড়ির সবার প্রিয় হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে নৌশির সাথে ওর ভাবটা জমেছে বেশ। তৃণা পা টিপে টিপে অন্ধকার করিডোর পেরিয়ে নিজের রুমের সামনে দাঁড়াল। রুমের ভেতর ঘুটঘুটে অন্ধকার। লাইট বন্ধ দেখে নিশ্চিত হলো যে আরিয়ান গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন।
রুমে ঢুকে সে হাতড়ে হাতড়ে সুইচ বোর্ডের দিকে এগোল। অন্ধকার এতটাই গাঢ় যে নিজের হাতটাও দেখা যাচ্ছে না। ঠিক যখনই সে বাতিটা জ্বালানোর জন্য সুইচে হাত দিল, অমনি কোথা থেকে যেন এক জোড়া নূপুরের রিনঝিন শব্দ বেজে উঠল!
তৃণা চমকে হাত সরিয়ে নিল। সারা শরীরে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল ওর। এই মাঝরাতে নূপুরের শব্দ আসবে কোত্থেকে? চারদিকে এক গা ছমছমে নীরবতা। আবারও সাহস সঞ্চয় করে সুইচে চাপ দিল, কিন্তু একি! আলো জ্বলল না। লাইটটা কি তবে নষ্ট হয়ে গেল?
গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসছে। বুকের ধুকপুকানি স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে সে। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে হাতড়ে হাতড়ে বিছানার দিকে এগোল। খুব ক্ষীণ স্বরে ডাকল,
“রাগী সাহেব? ও রাগী সাহেব, শুনছেন?”
কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়াশব্দ নেই। বিছানার ওপর অন্ধের মতো হাত বোলাতেই কলিজা যেন শুকিয়ে গেল। বিছানা একদম খালি! আরিয়ান সেখানে নেই। দ্বিতীয়বার শুকনো ঢোক গিলল সে।
আতঙ্কিত হয়ে দরজার দিকে দৌড়ে যেতে চাইল, কিন্তু তার আগেই এক ঝটকায় দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল। নিরেট অন্ধকারে হৃৎপিণ্ডের ধুকপুকানি নিজের কানেই শুনতে পাচ্ছে সে। কাঁপাকাঁপা গলায় শুধু বলতে পারল,
“এমন করবেন না প্লিজ রাগি সাহেব, আমার খুব ভয় লাগছে।”
হঠাৎ করেই আঁধার চিরে ঘরের কোণে রাখা ঝাড়লণ্ঠনের মোমবাতিগুলো একে একে জ্বলে উঠল। আগুনের শিখার সেই কম্পমান হলদেটে আলোয় ফুটে উঠল তৃণার অতি পরিচিত সেই পুরুষাল অবয়ব। আরিয়ান দাঁড়িয়ে আছে, তার চোখের মণিতে মোমবাতির শিখার প্রতিফলন এক মায়াবী আবেশ তৈরি করেছে। তৃণা মন্ত্রমুগ্ধের মতো দাঁড়িয়ে রইল, পালানোর পথ তার জানা নেই, আর পালানোর ইচ্ছেটাও যেন এই মুহূর্তে কর্পূরের মতো উবে গেছে।
আরিয়ান একটি মোমবাতি হাতে নিয়ে ধীরপায়ে এগিয়ে এল তৃণার দিকে। চারপাশের ঘন অন্ধকারের মাঝে মোমবাতির সেই ক্ষীণ আলোটুকু যেন তাদের দুজনকে পৃথিবীর সব কোলাহল থেকে বিচ্ছিন্ন করে এক মায়াজালের ভেতরে বন্দি করে ফেলেছে। দুজনের দৃষ্টি এখন একই বিন্দুতে এসে স্থির হয়েছে। তৃণার কাজলকালো চোখ দুটিতে জমে থাকা ভীতিটুকু নিমিষেই এক অদ্ভুত আকুলতায় রূপ নিল। আরিয়ানের ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল সেই কাঙ্ক্ষিত মুচকি হাসি।
আরিয়ান তার হাতের মোমবাতিটি পাশের টেবিলে নামিয়ে রাখল। তারপর সময়কে স্তব্ধ করে দিয়ে সহসা তৃণার কোমরে দুহাত গলিয়ে তাকে আগলে নিল। এক নিমিষেই সে তৃণাকে শূন্যে ভাসিয়ে তুলল। আচমকা এই মাধুর্যে তৃণা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল, টাল সামলাতে সে অবলীলায় খামচে ধরল আরিয়ানের গায়ের শার্ট।
ঘরের পিনপতন নীরবতায় তখন শুধু দুটি হৃদস্পন্দনের ঐক্যতান শোনা যাচ্ছে। মোমবাতির মৃদু আলোয় তৃণার লজ্জাবনত মুখটা আরিয়ানের খুব কাছে।
তৃণা কিছু বলার অবকাশটুকু পর্যন্ত পেল না। তার আগেই আরিয়ান পরম মমতায় তাকে তুলে নিয়ে পাশে থাকা কনসোল টেবিলের ওপর বসিয়ে দিল। তৃণার বিস্ময়ভরা চোখে একরাশ প্রশ্ন, ওষ্ঠাধর কেঁপে উঠল কিছু জিজ্ঞেস করার জন্য,
“কী করছেন আপনি?”
কিন্তু আরিয়ান কোনো কথা বলতে দিল না। নিজের তর্জনী তৃণার ঠোঁটে ঠেকিয়ে নিঃশব্দে চুপ থাকার ইশারা করল। সেই স্পর্শে তৃণার সারা শরীরে যেন এক লহমায় বিদ্যুৎ খেলে গেল। আরিয়ান তার বুকপকেট থেকে বের করে আনল ঝকঝকে একজোড়া নূপুর। একটি নূপুর তৃণার কাছে থাকা সেই হারানো স্মৃতি, আর অন্যটি আরিয়ানের সেই পাহাড়ি পথ থেকে কুড়িয়ে পাওয়া অমূল্য রতন।
নূপুর জোড়া দেখে তৃণা নিস্পন্দ হয়ে তাকিয়ে রইল। বিস্ময়ে তার বাকরোধ হয়ে গেছে। আরিয়ান সহসা তৃণার সামনে হাঁটু গেঁড়ে মেঝেতে বসে পড়ল। তৃণার নরম একটি পা নিজের হাঁটুর ওপর তুলে নিয়ে সে অতি সযত্নে প্রথম নূপুরটি পরিয়ে দিল। একই মায়ায় সে দ্বিতীয় পায়েও অন্য নূপুরটি পরিয়ে দিল।
আরিয়ানের আঙুলের শীতল আর স্নিগ্ধ স্পর্শে তৃণা বারবার শিউরে উঠছিল। আরিয়ান তৃণার সেই শ্যামবর্ণের চরণ দুটি নিজের দুই হাতের তালুতে তুলে নিয়ে সেখানে আলতো করে ভালোবাসার চুম্বন এঁকে দিল, তৃণার দুচোখ পরম আবেশে আর অসীম লজ্জায় আপনাআপনিই বুজে এল।
বুকের ভেতর শুরু হয়েছে এক অনিন্দ্য ধুকপুকানি, যা আগে কখনও সে অনুভব করেনি।
আরিয়ান তৃণার স্নিগ্ধ চরণে তার ভালোবাসার চিহ্নটুকু এঁকে দিয়ে মস্তক উত্তোলন করল। তৃণা তখনো আঁখিদ্বয় বন্ধ করে এক ঘোরের অতল গহ্বরে তলিয়ে আছে। নিস্তব্ধ কক্ষে শুধু মোমবাতির শিখার কম্পন আর দুটি হৃদয়ের দ্রুত স্পন্দন। কয়েক মুহূর্ত এভাবেই কেটে যাওয়ার পর তৃণা যখন ধীরলয়ে পলক উন্মোচন করল, দেখল আরিয়ানের সেই গভীর ও মায়াবী দৃষ্টি ঠিক তার চোখের ওপর স্থির হয়ে আছে।
আরিয়ান তার কণ্ঠস্বরে পৃথিবীর সমস্ত মাধুর্য আর পৌরুষালি আভিজাত্য মিশিয়ে নিভৃতে ডাকল,
“ওগো শ্যামলিনী…!”
“হুঁ…।”
সেই অতলান্ত মিষ্টি ডাকে তৃণা নিজের অজান্তেই অস্ফুট স্বরে সাড়া দিল। আরিয়ানের ঠোঁটের কোণে তখন তৃপ্তির এক ফালি হাসি। সে তৃণার খুব কাছাকাছি মুখ নিয়ে এসে ফিসফিসিয়ে বলল,
“তোমাকে নতুন করে ভালোবাসতে চাই শ্যমলিনী।”
তৃণা কোনো উত্তর খুঁজে পেল না। এক অনিবর্চনীয় লজ্জায় তার ইচ্ছে করছিল ধরিত্রীর গভীর তলে নিজেকে লুকিয়ে ফেলতে। আরিয়ান নাছোড়বান্দার মতো আবারও আবদার করল,
“একবার বলো… শুধু একটিবার বলো যে তুমি আমায় ভালোবাসো।”
তৃণা আড়ষ্ট হয়ে অস্পষ্ট স্বরে বলল,
“যেতে দিন আমায়।”
আরিয়ান তৃণার সেই কাজলকালো চোখ দুটির দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে থেকে গম্ভীর স্বরে প্রশ্ন করল,
“সত্যিই কি তবে আমায় ভালোবাসো না?”
তৃণা নিরুত্তর। তার মৌনতা যেন হাজারো না বলা কথার পাহাড় তৈরি করছিল। আরিয়ান এবার কিছুটা বিষণ্ণতার ছলে বলল,
“তুমি যদি আজ স্পষ্ট করে বলো যে তুমি আমাকে ভালোবাসো না, তবে আমি কথা দিচ্ছি তোমাকে এই মুহূর্তেই ছেড়ে দেব। আর কোনোদিন আমার এই অনধিকার চর্চা দিয়ে তোমাকে জ্বালাতন করব না।”
তৃণা সংকটে পড়ে গেল। তার অন্তরের প্রতিটি স্পন্দন যেখানে আরিয়ানের নাম জপছে, সেখানে মিথ্যা বলে এই পরম মুহূর্তকে সে বিসর্জন দেয় কী করে! বেশ কিছুক্ষণ গুমোট নীরবতার পর তৃণা নুয়ে পড়া লজ্জাবতী লতার মতো মাথা নিচু করল। তারপর পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দরতম স্বীকারোক্তিটি দিল অতি ধীর কণ্ঠে,
“বাসি… ভালোবাসি আপনাকে।”
আরিয়ানের অধরে এক অমায়িক ও প্রাণবন্ত হাসি ফুটে উঠল। এমন স্বর্গীয় সুখের হাসি সে এর আগে কখনো হেসেছে বলে মনে হয় না। মুহূর্তের ব্যবধানে সে তৃণাকে নিজের বলিষ্ঠ বাহুডোরে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে নিল। তৃণার কানের কাছে মুখ নিয়ে সে উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলে উঠল,
“তুমি জানো শ্যামলিনী, এই একটি মাত্র শব্দ শোনার জন্য আমি কতটা দিন আর কত নির্ঘুম রাত প্রহর গুনেছি? তুমি কল্পনাও করতে পারবে না আমার ভেতরের সেই ছটফটানি। আজ আমি সফল! উপরওয়ালার কসম খেয়ে বলছি, আর কোনোদিন স্বেচ্ছায় তোমাকে চুল পরিমাণ কষ্ট দেব না। যতদিন এই দেহে প্রাণ আছে, ততদিন তোমাকে এভাবেই বুকের পাঁজরে আগলে রাখব আমার শ্যামলিনী।”
তৃণা তখন আরিয়ানের প্রশস্ত বুকের মাঝখানে মুখ লুকিয়ে স্তব্ধ হয়ে আছে। তার কানের কাছে আরিয়ানের হৃদপিণ্ডের প্রতিটি ধুকপুকানি এক একটি প্রেমের কবিতা হয়ে বাজছে।
আরিয়ান তৃণার সেই মায়াবী শ্যামলা বরণের মুখচ্ছবিটি নিজের দুই হাতের তালুতে পরম আদরে আগলে নিল। তার আঙুলের স্পর্শে তৃণা এক অপার্থিব শিহরণ অনুভব করল। আরিয়ান তার চোখের মণির দিকে স্থির দৃষ্টিতে চেয়ে থেকে ফিসফিসিয়ে বলল,
“যদি অনুমতি দেন শ্যামলিনী, তবে আজ এই নিঝুম রজনীতে গভীর থেকে গভীরে আপনাকে ভালোবেসে বিলীন হতে চাই।”
তৃণা কোনো উত্তর দিতে পারল না, শুধু আবেশে আর লজ্জায় চোখের পাতা জোড়া শক্ত করে বন্ধ করে নিল। এত কাছে, এতটা হৃদয়স্পর্শী অনুভূতি তার জীবনে এই প্রথম। তার সারা শরীরে এক মৃদু কম্পন বয়ে যাচ্ছে, যা সে চাইলেও লুকাতে পারছে না। আরিয়ান পরম মমতায় পুনরায় তৃণাকে পাঁজাকোলে তুলে নিল। তৃণা লজ্জার আতিশয্যে আরিয়ানের শার্টের কলারটা খামচে ধরে তার প্রশস্ত বুকে মুখ লুকালো।
আরিয়ান অতি সন্তর্পণে তৃণাকে সেই ধবধবে সাদা নরম বিছানায় শুইয়ে দিল। কিন্তু তৃণা তখনো আরিয়ানের শার্টের বুকটা জাপটে ধরে আছে। আরিয়ান তৃণার সেই রক্তিম লজ্জামাখা মুখশ্রীর দিকে তাকিয়ে মোহনীয় এক হাসি দিল। মৃদু স্বরে বলল,
“ মেয়েদের এই লজ্জাবতী রূপের চেয়ে সুন্দর এই পৃথিবীতে আর কিছুই হয় না। ওরা যদি জানত এই লজ্জামাখা মুখটা ওদের কতটা স্বর্গীয় করে তোলে, তবে ওরা হয়তো সবসময় এমন করেই থাকত।”
তৃণার মনে হলো তার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। আরিয়ানের মুখটা তখন তার ঠিক নাসিকাগ্রের কাছে। তৃণা মুখটা অন্যদিকে ঘুরিয়ে ধরা গলায় বলল,
“একটু সরুন, আমার দম আটকে আসছে!”
আরিয়ান তার কথা শুনল না, বরং আরও ঝুঁকে এসে তৃণার গ্রীবায় ঠোঁট ছোঁয়াল এক গাঢ় ও গভীর চুম্বন। মুহূর্তের মাঝে তৃণার সারা শরীরে এক তীব্র শিহরণ খেলে গেল। সে দুর্বল হাতে আরিয়ানের বুকে একটা ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করল, কিন্তু সেই বলিষ্ঠ পুরুষটিকে এক চুলও নড়ানো সম্ভব হলো না। আরিয়ান এবার তৃণার থুতনিতে তর্জনী ঠেকিয়ে মুখটা নিজের দিকে ফেরালো। তৃণা তাকাতে পারছে না, তার মনে হচ্ছে আরিয়ানের চোখের ওই অতল সাগরে তাকালেই আজ তার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।
রাত ক্রমশ গভীর হচ্ছে। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা রাতের বাতাস মোমবাতিগুলোকে নিভিয়ে দেওয়ার উপক্রম করছে। রুমের সেই নিভু নিভু আলোর মায়াবী পরিবেশে দুই হৃদয়ের স্পন্দন এক সুরে মিলে মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে। পুরো রুমে শুধু শুনা যাচ্ছে দুটি মানুষের গভীর নিঃশ্বাসের শব্দ।
চলবে…
Share On:
TAGS: নিলুফা নাজমিন নীলা, রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৬
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৩৭
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৫
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৩
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৬
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৪৯
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৪
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৩৩
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৩১
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ১৭