রোদ্দুরেরছেঁড়ামানচিত্র
পর্ব_৫
কলমে #নিলুফানাজমিননীলা
★★★
হাওলাদার বাড়ির ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে আছেন ওমর হাওলাদার। তার মুখে চিন্তা-কষ্টের চাপ স্পষ্ট। তিনি কপালে হাত দিয়ে কী যেন ভাবছেন। এখন সকাল আটটা পার হয়ে গেছে। প্রতিদিন এই সময় তৃণা এসে খাবার খাইয়ে দিত, রুমে চা নিয়ে গিয়ে ডেকে তুলতো। কিন্তু আজ ওমর হাওলাদার একা একাই ঘুম থেকে উঠেছেন।
তার এখনো চা খাওয়া হয়নি। চা না খেলে আবার মাথাব্যথাও হয়।
তখনি রৌশনারা বেগম (তৃণার সৎ মা) এসে স্বামীর পাশে বসলেন। ওমর হাওলাদার তাকালেন, শুধু বললেন, “হাসপাতালে যেতে হবে। ব্রেকফাস্ট হয়েছে?”
রৌশনারা তিক্ত স্বরে জবাব দিলেন,
“তোমার কি আমাকে কাজের মহিলা মনে হয় যে আমি ব্রেকফাস্ট করব?”
ওমর হাওলাদার রৌশনারার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন, “তার মানে? আমি কি এখন না খেয়েই হাসপাতালে যাব?”
রৌশনারা একঘেয়ে ভঙ্গিতে বললেন,
“আমি কী বলব? আমি কিচেনে গিয়ে রান্না করতে পারব না। হাতের নখগুলো আমার নষ্ট হয়ে যাবে। গতকাল কাজের মহিলার খোঁজ নিয়েছিলাম, একজন পেয়েছিও। আজ দুপুরে আসবে। বাহিরে ব্রেকফাস্ট করে নিও।”
ওমর হাওলাদার অসহায়ভাবে বললেন,
“তুমি জানো রৌশনারা, আমার শরীরের পক্ষে বাইরের খাবার খাওয়া কতটা ঝুঁকির। তুমি অন্ততপক্ষে আজকের ব্রেকফাস্টটা বানাতে পারতে!”
রৌশনারা একই ভঙ্গিতে জবাব দিলেন,
“না, পারতাম না বানাতে। এখন বলো, আমার সোনামণির কোনো খোঁজ পেয়েছো কিনা?”
“তোমার আদরের সোনামণি ওই বখাটের সাথেই পালিয়ে গেছে। তাকে খুঁজে পেলেই কী, না পেলেই কী!”
রৌশনারা তেজী গলায় বললেন,
“আমার সোনামণি একটা ভুল করতেই পারে! তাই বলে কি তুমি মেয়েটাকে ফিরিয়ে আনবে না? আর তোমাকে কত করে বলেছিলাম, তৃণাকে বিয়েটা দিও না! যদি বিয়েটা না দিতে, তাহলে আজ তোমাকে না খেয়ে থাকতে হতো না। আমার তো কোনো সমস্যা নেই, বাহির থেকে খাবার অর্ডার করে দিয়েছি।”
ওমর হাওলাদার চক্ষু লাল করে স্ত্রীর দিকে তাকালেন। তখনি কলিংবেলের শব্দ হলো। রৌশনারা বেগম উঠে গিয়ে দরজা খুলতেই দেখল, রিনি।
রৌশনারা বেগম অবাক কণ্ঠে বললেন,
“সোনামণি আমার! মাই প্রিন্সেস!”
রিনি নিজের মাকে জড়িয়ে ধরল। জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল।
রৌশনারা বেগম বললেন,
“কোথায় গিয়েছিলে তুমি? আমাকে বলে যেতে পারতে।”
রিনি মাথা তুলে বলল,
“মাম্মি, যে ছেলেটার সাথে পালিয়েছিলাম, সে একদম ইডিয়ট! ও যে বলেছিল, ওদের অনেক সম্পত্তি, কিন্তু গিয়ে দেখি ওর বাপ সাধারণ একটা বেসরকারি কর্মী। তাই চলে আসলাম। ভালো করিনি, বলো মা?”
“হ্যাঁ, একদম ভালো করেছো। তোমার ওইখানে থাকা একদমই ঠিক হতো না। চলো প্রিন্সেস, ঘরে চলো।”
তখনি ওমর হাওলাদার তিক্ত কণ্ঠে রেগে বললেন, “খবরদার, রিনি, তুমি আমার বাড়িতে ঢুকবে না! তোমরা মা-মেয়ে এটা রঙ্গলীলা পেয়েছ? যখন মন চায়, একটা ছেলের হাত ধরে বাড়ি থেকে পালাবে, আবার ফিরে আসবে?”
রিনি ওমর হাওলাদারের দিকে তেড়ে গিয়ে বলল,
“এভাবে কেন কথা বলছো ড্যাডি? আমি কী এমন অন্যায় করলাম?”
ওমর হাওলাদার রাগে কষিয়ে চড় মেরে দিলেন রিনির গালে। রিনি রাগী রাগী মুখ করে তাকিয়ে আছে।
রৌশনারা রেগে বললেন,
“এটা তুমি কী করলে! আমার মেয়ের গালে হাত তুললে? এত বড় সাহস!”
সাথে সাথে আরেকটা চড় গিয়ে পড়ল রৌশনারা বেগমের ডান গালে। ওমর হাওলাদার চিৎকার করে বললেন, “তোমাদের অনেক কথা, অত্যাচার আমার মা মরা মেয়েটা সহ্য করেছে! আর না! আরেকটি বার যদি আমার মুখে মুখে তর্ক করো, তাহলে সোজা এই বাড়ি থেকে তোমাদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেব। মাইন্ড ইট!”
বলেই তিনি নিজের রুমে চলে গেলেন। হাসপাতালে যাওয়ার উদ্দেশ্য। ওমর হাওলাদার একজন ডাক্তার।
রিনি বলল, “দেখলে মাম্মি? ড্যাডি এটা কী করলো?”
রৌশনারা বেগম চোখ বড় বড় করে রাগী কন্ঠে বললেন, “দেখলাম। চিন্তা করিস না। এই বিশাল সম্পত্তিটা আগে আমার নামে লিখে নিই, তারপর না হয় ওই বুড়োর একটা ব্যবস্থা করা যাবে।”
বলেই দুই মা মেয়ে অট্রহাসিতে মেতে উঠল।
★★★
তৃণা আজও ফ্লোরেই ঘুমিয়েছিল। প্রথমে সোফাতে ঘুমানোর চেষ্টা করলেও সেখানে কোনোভাবেই ঘুম আসছিল না, তাই ফ্লোরের কার্পেটের উপর শুয়েই ঘুমিয়ে যায় রাতে।
সকালে যখন উঠল, তখন দেখতে পেল তার শরীরে কম্বল। অথচ রাতে স্পষ্ট মনে আছে, সে শুধু একটা বালিশের উপর মাথা দিয়েই ঘুমিয়েছিল।
‘তার মানে কি আরিয়ান আমার গায়ে কম্বল দিয়ে দিয়েছিল?’
প্রশ্নটা মাথায় আসতেই তৃণার চোখে-মুখে খুশির আভা ফুটে উঠল।
আজ তৃণা রান্নাঘরে ঢুকেছে। মরিয়ম বেগম আজও নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু তৃণা কিছুটা অবাধ্য হয়েই ঢুকেছে। এখন রান্নাঘরে রাহি বেগম,ফারাহানা বেগম আর এই বাড়ির বড় পুত্রবধূ রোহান মির্জার স্ত্রী মিতু। ওইদিন রাতে যে আরিয়ানের ঘরে তৃণাকে দিয়ে এসেছিল, সে মিতু।
কিচেনে এসে মিতুর সাথে তৃণার কথা হয়েছে। মিতু মেয়েটা খুবই মিশুক। অল্প বয়সে মেয়েটার বিয়ে হয়ে আসে এই মির্জা বাড়িতে। রোহানের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তার। রোহান বিয়ের পরই নিজের পড়াশোনা শেষ করার জন্য ইংল্যান্ডে চলে যায়।
তৃণা যখন জিজ্ঞেস করল, “ভাইয়ের সাথে তো মনে হয় তোমার প্রতিদিন কথা হয়, তাই না?”
মেয়েটা তৃণার কথায় কেমন যেন চুপ করে যায়। তৃণা বুঝতে পারল, হয়তো মিতু এই সম্পর্কে কিছু বলতে চাইছে না। তৃণাও আর কিছু জিজ্ঞেস করল না।
সকালে সবাই ব্রেকফাস্ট করে নিয়েছে, কিন্তু তৃণা করেনি। সবাই বলেছে খাওয়ার জন্য, কিন্তু তার খেতে একদমই ইচ্ছে হচ্ছে না।
তখনি দেখল, আরিয়ান অফিসে যাওয়ার জন্য বের হয়েছে। তৃণা দৌড়ে ড্রয়িংরুমে গিয়ে আরিয়ানকে ডাকল, “শুনছেন?”
আরিয়ান বিরক্তির ছাপ মুখে ফুটিয়ে বলল,
“কী হয়েছে, বলো! টাইম নেই হাতে,”
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল কথাটা।
আরিয়ানের মুখের হাবভাব দেখে তৃণারও বিরক্ত লাগল। সে বলল,
“আপনি কি সত্যি ভালো কথাতেও রেগে যান, নাকি রাগের অভিনয় করেন? কোনটা? আমাদের বাড়িতে একটা বিড়াল আছে, বুঝলেন? সবসময় কেমন মুখটা ফুলিয়ে রাখে, আপনাকেও তেমনি লাগে।”
আরিয়ানের রাগ আরও বাড়ল। বলল,
“কী বললে তুমি! আমি বিড়ালের মতো দেখতে?”
তৃণা জিহ্বায় কামড় দিয়ে বলল,
“না, না! আমি তেমন করে বলতে চাইনি। আসলে ওই বিড়ালটা ভীষণ কিউট, তাই বললাম এই আরকি।”
আরিয়ান কিছু বলল না। শুধু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল। তৃণা শুকনো ঢোঁক গিলে মনে মনে বিড়বিড় করল, ‘চোখ তো না, যেন এখনি গিলে খাবে আমাকে!’
তৃণা গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
“শুনুন না, বলছিলাম কি, আমাকে আপনার সাথে নিয়ে গিয়ে একটু নামিয়ে দিয়ে আসতে পারবেন?”
আরিয়ান তৃণার কথায় মানে বুঝতে পারল না। কোথায় নামিয়ে দিতে বলল, সেটাই বলেনি মেয়েটি ঘাবড়ে গিয়ে।
আরিয়ান গম্ভীর কন্ঠে বলল,
“কোথায় নামিয়ে দিয়ে আসব? জাহান্নামে?”
পাশেই বসা ছিল নৌশি, আদনান, নুসরাত, মিতু ওরা তৃণা আর আরিয়ানের কথা কান পেতে শুনছিল আর হাসছিল। এবার আরিয়ানের কথায় সবক’টি এক সাথে ফিকফিক করে হেসে দিল। আরিয়ান সেই দিকে রাগী দৃষ্টি দিতেই তারা ঠোঁটে আঙুল চেপে থেমে গেল।
তৃণা থতমত খেয়ে বলল,
“আসলে একটু আব্বুর হাসপাতালে যাব। আব্বুর জন্য কিছু খাবার বানিয়েছিলাম।”
আরিয়ান আর অমত পোষণ করল না। শুধু বলল,
“আমি ওয়েট করছি, তাড়াতাড়ি খাবার নিয়ে এসো।”
তৃণা ভীষণ খুশি হয়ে দৌড়ে টিফিন বক্সটা নিয়ে চলে এলো। আরিয়ান ড্রাইভিং সিটে বসে পড়ল। তৃণা পেছনে সিটে বসতে চাইলে আরিয়ান ঘুরে তাকিয়ে চোখে চোখ রেখে বলল,
“আমাকে কি তোমার ড্রাইভার মনে হয়? সামনে এসে বসো।”
তৃণা কিছু না বলেই সামনের সিটে গিয়ে বসে পড়ল।
গাড়ি চলতে লাগল হাইওয়ে ধরে। তৃণা বাইরে তাকিয়ে সবকিছু দেখছে।আর আরিয়ান মুখ গম্ভীর করেই ড্রাইভিং করে যাচ্ছে। হঠাৎ গাড়িতে আরিয়ান একটা ইংলিশ গান বাজালো। তৃণা ভ্রু কুঁচকে আছে। মনে মনে বিড়বিড় করল, ‘ছিহ্! এসব গানও মানুষও শোনে!’
তৃণা তিক্ত স্বরে মনের কথাটা মুখে বলল,
“এসব কী গান! বাঙালি হয়ে কীভাবে এসব গান শুনেন? বাংলা কত সুন্দর ভালো ভালো গান আছে, সেগুলোও তো শুনতে পারেন, নাকি?”
আরিয়ান তৃণার দিকে না তাকিয়েই মৃদু স্বরে বলল,
“আচ্ছা ঠিক আছে, তুমিই একটা গান ছাড়ো। দেখি কত সুন্দর বাংলা গান।”
তৃণা অনুমতি পেয়ে অনেকক্ষণ খুঁজে গান ছাড়ল। গান বাজতে শুরু করল,
“আমি নষ্ট মনে, নষ্ট চোখে দেখি তোমাকে…
মন আমার কী চায়, বোঝায় কেমনে।”
গান শুনে আরিয়ান পেট ধরে হাসতে শুরু করল! তৃণা বুঝতে পারল, এতক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরও ভুলে অন্য গান ছেড়েছে!
আরিয়ান হাসতে হাসতেই বলল,
“এই বুঝি তোমার বাংলা গানের ছিঁড়ি?সবসময় কি এসব গানই শুনে?”
তৃণা মাথা নিচু করে বসে রইল, তার লজ্জা করছে। ‘কী একটা গান ছাড়লাম এত খোঁজাখুঁজির পর?’ তৃণা মনে মনে নিজেকে ধমকালো।
গাড়ি গিয়ে থামল হাসপাতালের বাইরে। তৃণা গাড়ি থেকে নেমে হাসিমুখে জিজ্ঞেস করল,
“আপনি ভেতরে যাবেন?”
“না, আমার অফিসে লেইট হচ্ছে,” বলেই আরিয়ান বেরিয়ে গেল গাড়ি নিয়ে।
তৃণা সোজা হাসপাতালে ঢুকে গেল। এটা একটা প্রাইভেট হাসপাতাল। এই হাসপাতালটা ওমর হাওলাদার নিজেই বানিয়েছেন। স্বল্প খরচে যতটা সম্ভব, তিনি সেবা দিয়ে থাকেন।
তৃণা ঢুকে গেল তার বাবার কেবিনে। কেবিনে ঢুকেই দেখল, ওমর হাওলাদার চেয়ারে চোখ বন্ধ করে হেলান দিয়ে বসে আছেন। তৃণার তার বাবার দিকে চোখ যেতেই বুঝে ফেলল, তার বাবা সকাল থেকে কিছু খাননি। মুখটা কেমন মলিন হয়ে আছে।
তৃণা ডাকল, “আব্বু…”
তৃণার কণ্ঠ পেয়ে ওমর হাওলাদার চট করে চোখ খুললেন। সামনে তৃণাকে দেখে ওনার মুখে হাসি ফুটে উঠল।
“তৃণা মা, তুই এখানে? কীভাবে?”
“আরিয়ান দিয়ে গেল।”
ওমর হাওলাদার পেছনে দেখে বললেন, “জামাইকে ভেতরে আনলি না?”
“আসলে আব্বু, ওনার অফিসে দেরি হচ্ছিল, তাই চলে গেছে। আমাকে পৌঁছে দিয়ে।”
“ও আচ্ছা, ঠিক আছে।”
তৃণা বলল, “আব্বু, তোমার জন্য খাবার নিয়ে এসেছি।”
ওমর হাওলাদার খাবার দেখে আরও খুশি হলেন। সত্যিই খাবার না খেয়ে কাজ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবুও তিনি বললেন,
“খাবার আনার কী প্রয়োজন ছিল?”
তৃণা বলল,
“নিশ্চয় সকাল সকাল মা তোমার জন্য হাত নষ্ট করে রান্না করবেন না!এবার বসো, বেশি কথা না বলে আমি খাইয়ে দিচ্ছি।”
ওমর হাওলাদার কিছু বলতে পারলেন না। চুপ করে বসে পড়লেন। তৃণা খাবার বের করে তার আব্বুর মুখের সামনে ধরে বলল, “নাও, ‘হা’ করো।”
ওমর হাওলাদার খাবারেরটুকু মুখে পুরে নিলেন।
ওমর হাওলাদারের অজান্তেই চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। তৃণা তার বাবার চোখ মুছে দিয়ে শাসনের ভঙ্গিতে বলল,
“না, একদম না আব্বু! এখন কোনো ইমোশনাল চলবে না। চুপ করে পুরো খাবারটা খাবে।”
মেয়ের এমন মিষ্টি শাসনে ওমর হাওলাদার হেসে দিলেন। পুরো খাবারটা তৃণা ভীষণ যত্ন সহকারে খাইয়ে দিল।
তখনি একজন নার্স এসে বলল, একজন রোগীর সিরিয়াস কন্ডিশন। এখনি ওমর হাওলাদারকে যেতে হবে।
ওমর হাওলাদার তাড়াহুড়ো করে উঠে গেলেন,
“তৃণা, তুই কি বসবি? আমার আসতে অনেকটা দেরি হবে।”
“না বাবা, আমাকে যেতে হবে। তুমি যাও রোগীর কাছে। আমি চলে যাব এখনি।”
ওমর হাওলাদার তৃণার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে গেলেন।
★★★
আরিয়ান অফিসের ক্যাফেতে বসে কফি পান করছিল, এমন সময় মিতুর কল আসলো। আরিয়ান কল রিসিভ করে বলল, “হ্যাঁ ভাবি, বলুন।”
ওপাশ থেকে মিতু ভীষণ চিন্তা ভরা কণ্ঠে বলল, “তৃণা কি তোমার অফিসে?”
আরিয়ান অবাক হয়ে বলল,
“না তো! ওকে অফিসে কেন আনব? তৃণাকে আমি হাসপাতালে নামিয়েই চলে এসেছি।”
“কিন্তু তৃণা এখনো বাড়ি ফেরেনি।”
আরিয়ান স্বাভাবিক ভঙ্গিতেই বলল,
“তৃণার বাবার কাছে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করো।হয়তো এখনো হাসপাতালেই আছে।”
“করেছিলাম কল। উনি বলল, তৃণা নাকি দশটার দিকেই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে এসেছে। তুমি একটু খোঁজ নিয়ে দেখো। এখন দুপুর হয়ে গেছে, অথচ মেয়েটা এখনো বাড়ি ফিরল না,” মিতু উদ্বেগ ভরা কণ্ঠে বলল।
আরিয়ান বলল, “তৃণা কি ছোট বাচ্চা নাকি যে হারিয়ে যাবে? আচ্ছা, কল রাখো, আমি দেখছি,” বলেই কল কেটে দিল।
এখন আরিয়ানেরও ভীষণ টেনশন হচ্ছে। কোথায় গেল তৃণা? কোনো ক্ষতি হলো না তো?
চলবে…
(আহারে গল্প লিখলে যে কি কষ্ট লাগে তা যে লিখে সেই শুধু বুঝবে।কিন্তু যখন পাঠিকাদের সুন্দর সুন্দর কমেন্ট গুলো দেখতে পাই তখন ভেতরে আলাদা এক প্রশান্তি কাজ করে।)
Share On:
TAGS: নিলুফা নাজমিন নীলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৪
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২১
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৮
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ১
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৬
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৩
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ১১
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ১৪
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২৫
-
রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ২