Golpo কষ্টের গল্প রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র

রোদ্দুরের ছেঁড়া মানচিত্র পর্ব ৪


রোদ্দুরেরছেঁড়ামানচিত্র

পর্ব_৪

কলমে #নিলুফানাজমিননীলা

★★★
বিকালের স্নিগ্ধ হাওয়ায় হেলেদুলে উঠছে রাস্তার পাশের গাছগুলো। সন্ধ্যায় নামা আলো-ছায়ার আবরণে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় একটি রিকশায় বসে আছে তৃণা।
​কত বছর পর একা একা কোথাও বের হলো, তার হিসেব নেই। মা কখনো বাড়ি থেকে বের হতে দিত না, কোথাও ঘুরতে যেতে দিত না। রিনি যখন ঘুরতে যেত, তখন তৃণারও ভীষণ ইচ্ছে হতো ঘুরতে যাওয়ার। একদিন তৃণা মুখ ফুটে সাহস নিয়ে বলেই ফেলেছিল যে সেও ঘুরতে যেতে চায়।
​তৃণার এমন কথার পরবর্তীতে তৃণার সৎ মা চুলের মুঠি ধরে কী মারটাই না মেরেছিলেন! পিঠের সেই কালো হয়ে যাওয়া আঘাতের দাগগুলো যেন আজও সেই দিনের নির্মমতা মনে করিয়ে দেয়। তৃণার এখন এসব ভেবেই চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।

​তৃণা এখন তৌহিদের সাথে দেখা করতে যাচ্ছে। না গিয়ে উপায় নেই। ছেলেটা ভীষণ জেদি, যদি সত্যিই নিজের কোনো ক্ষতি করে বসে! এই মুহূর্তে তৃণা তার নতুন জীবনকে আরও বেশি ঝামেলায় জড়াতে চায় না।
​শ্বশুরবাড়ি থেকে বেরোনো ভীষণ মুশকিল ছিল, তবুও সে সাহস করে মায়মুনা বেগমকে বলেছিল,
“মা, আমি একটু বাহিরে যেতে চাই, কিছু শপিং করার আছে।”

​তৃণার মুখে ‘মা’ ডাকটা শুনে মায়মুনা বেগম রাগে ফুঁসে উঠেছিলেন,
“খবরদার আমাকে ‘মা’ বলে ডাকবে না! আর যেখানে খুশি সেখানে যাও!”

​মায়মুনা বেগমের এই অনুমতি ছিল ঘৃণা মেশানো, কিন্তু তৃণার কাছে এই স্বতন্ত্রতাটুকুই এখন যেন এক বড় পাওয়া।
​তৃণা ইতস্তত করে বলেছিল,
“আমি একা যাব?” যদিও তৃণার একাই আসার ইচ্ছে, কিন্তু এই কথাটা না বললে হয়তো মায়মুনা বেগম সন্দেহ করতে পারেন।

​মায়মুনা বেগম রাগে বলেছিলেন,
“একা যাবে না তো কে যাবে? তোমার সাথে কি এখন বডিগার্ড পাঠাতে হবে?”

​তৃণা ভীষণ খুশি হলো, খুব সহজেই বাড়ি থেকে একা বের হতে পেরেছে।
​এইসব কল্পনা করতে করতে রিকশা এসে থামল একটা ক্যাফের সামনে। তৃণা রিকশাওয়ালাকে ভাড়া দিয়ে ভেতরে ঢুকে যায়। বেশ কয়েকটি টেবিল সেখানে। তৃণার চোখ গেল সাইটের কোণার দিকে টেবিলটার দিকে। সেখানে মাথা নিচু করে বসে আছে তৌহিদ।
​তৃণা এগিয়ে গেল। তৌহীদ মাথা তুলে তৃণাকে দেখেই হেসে দিল।
​তৃণা চোখ সরিয়ে নিল। ছেলেটার হাসি মারাত্মক।
​তৌহিদ বলল, “কেমন আছো, তৃণা?”

​তৃণা হাসার চেষ্টা করে বলল, “হুম, ভালো। তুমি?”

​“তোমার কি মনে হয়, আমার ভালোবাসাকে অন্য ঘরে রেখে আমি ভালো আছি?” তৌহিদ কথাটা বাঁকা হেসে বলল।

​তৃণা কিছু বলল না। তৌহিদ কোল্ড কফি অর্ডার করল।
​তৃণা বলল, “কেন আসতে বললে এখানে?”

​তৌহিদ কফিতে চুমুক দিয়ে তৃণার মুখশ্রীর দিকে নজর দিয়ে বলল, “তুমি বিয়েটা করেছো নিজের ইচ্ছের বাইরে গিয়ে, তাই না?”

“হ্যাঁ, ইচ্ছের বাইরে করেছি, কিন্তু এখন বিয়ে হয়ে গেছে আমার। তাই কিছু করার নেই।”

​তৌহিদ তৃণার কথায় অসম্মতি জানিয়ে বলল,
“কে বলেছে কিছু করার নেই? অনেক কিছু আছে। আমি জানি, তুমি আমাকে ভালোবাসো।”

​তৃণা তৌহিদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কখনো কি আমি বলেছি, আমি তোমাকে ভালোবাসি কিনা?”

​“বলোনি, কিন্তু আমি জানি তুমি আমাকে ভালোবেসেছো।”
​তৃণা কিছু বলতে পারল না, কারণ সত্যিই তো তাই সে তৌহিদকে ভালোবাসে।

​তৌহিদ আবারও বলল, “তৃণা, চলো আমরা আজই বিয়ে করে ফেলি।”

​তৃণা চমকে তৌহিদের দিকে তাকালো। বিস্ময়ভরা কণ্ঠে বলল, “কী বললে তুমি?”

​“বিয়ে করব আজই। আমি জানি, তুমি তোমার স্বামীকে মন থেকে মেনে নিতে পারোনি।” তৌহিদ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলল।
​হঠাৎ তৃণা উঠে দাঁড়ালো। তৃণাকে দাঁড়াতে দেখে তৌহিদ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কী হলো?”

​তৃণা বড় করে নিশ্বাস নিয়ে বলল,
“এটাকে পরকীয়া বলে। পরকীয়া কী, নিশ্চয় তুমি বোঝো। আরিয়ান যেভাবেই হোক, সে আমার স্বামী। যার বাম পাঁজরের হাড় দিয়ে তৈরি আমি।আজ ভালো লাগছে না, কাল-পরশু ঠিকই ভালো লাগবে। আর ভালো না লাগলে মানিয়ে নেব। মানিয়ে নিতে না পারলে হারিয়ে যাব। তবুও পরকীয়ার মতো নিকৃষ্ট কাজ আমার দ্বারা হবে না। ক্ষমা করবে আমাকে। আর এভাবে নিজের মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আমাকে ডাকবে না। আর ডাকলেও আমি আসব না আর কখনো।”

​তৃণা আর এক সেকেন্ডও দাঁড়ালো না, তাৎক্ষণিক জায়গা ত্যাগ করল।
​তৌহিদ ছলছল নয়নে তাকিয়ে রইল তৃণার যাওয়ার দিকে। তৃণার থেকে সে এটা আশা করেনি। তৌহিদ ভাবল, ‘দুই দিনের স্বামীর জন্য এত বছর ধরে যাকে ভালোবেসে আসছে, তাকেই ভুলে গেলো!’

​তৃণা কফি শপ থেকে বের হতেই দেখল, একটি আননোন নাম্বার থেকে কল এসেছে। তৃণা কৌতূহল নিয়ে কল ধরতেই ওপাশ থেকে একটা মেয়েলি কণ্ঠে বলল,
“আমি নুসরাত, তুমি কোথায়? আমি মার্কেটে এসে তোমাকে খুঁজলাম, পেলাম না।”
​তৃণা শুধু বলল, “তুমি দাঁড়াও, আমি আসছি।”

​তৃণা একটা রিকশা নিয়ে সেখানে চলে গেল। শপিং মলের সামনেই দেখল, নুসরাত বসে আছে। মেয়েটা সবসময়ের মতো শান্ত চোখে মাটির দিকে তাকিয়ে আছে। তৃণা যতবার নুসরাতকে দেখেছে, ততবার নুসরাতকে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেছে, তেমন কারও সাথে কথাও বলে না মেয়েটা।
​তৃণাকে দেখে নুসরাত উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“চলো ভেতরে, শপিং করেই বাড়ি চলে যাব।”

​দুজন একসাথেই ভেতরে ঢুকল। তৃণা জিজ্ঞেস করল, “তুমি এখানে কীভাবে এলে?”

​“আমারও কিছু পোশাক কেনা দরকার ছিল, তাই আসলাম। আর ভাবলাম, তুমিও একা,” নুসরাত বলল ধীর কণ্ঠে।

​তৃণা বুঝে উঠতে পারছে না, এই মেয়েটা এত গম্ভীর কেন? তার মনেও কি তৃণার মতো কষ্ট আছে? কিন্তু নুসরাতের তো পারিবারিকভাবে কোনো কষ্ট পাওয়ার কথা না, তাহলে?
★★★
আরিয়ান নিজের অফিসের কেবিনে বসে ল্যাপটপে কাজ করছে। কোম্পানিটা তাদের পরিবারের, বাবা-কাকাদের জোরাজুরিতে কোম্পানির ভার এসেছে তার কাঁধে।
​হঠাৎ তার কেবিনে কেউ ঢুকেছে টের পেয়ে সে সামনে তাকাতেই দেখল, ওয়েস্টার্ন ড্রেস পরা মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে। এই মেয়েটার নাম মীরা। কোম্পানির শেয়ার পার্সনের মেয়ে।

​মীরা এসে আরিয়ানের গা ঘেঁষে দাঁড়ালো। আরিয়ান বিরক্তি তে নাক-মুখ কুঁচকে বলল,
“কী সমস্যা কী? গা ঘেঁষাঘেঁষি ছাড়া চলতে পারো না?”
মীরাকে যতই ধমক দিক না কেন আরিয়ান কিন্তু এই মেয়েটা এমনি।বড়লোকের বিগড়ে যাওয়া মেয়ে এই মীরা।

​“এরকম হ্যান্ডসাম বয় দেখলে কার মাথা ঠিক থাকে, বলো?” মীরা বাঁকা ভঙ্গিতে বলল।

​আরিয়ান চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো। ল্যাপটপটা ব্যাগে ভরতে ভরতে বলল, ‘‘আৃার এসব একদম পছন্দ না।অসহ্য লাগে।”
​আরিয়ান কেবিন থেকে বের হতে চাইলে মীরা জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে? কোথায় যাচ্ছো?”

​“বাড়িতে যাচ্ছি।”
​“আমিও যাব।”

​আরিয়ান মীরার সাথে কথা বাড়াতে চাইল না। সে সোজা গাড়িতে উঠে বসল। মীরা ভেবেছিল আরিয়ান বোধহয় তাকে নিয়ে বাড়িতে যাবে, কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে আরিয়ান গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চলে গেল।
​মীরা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল। তারপর বাঁকা হেসে বলল, “পুরুষ মানুষ। আজ হোক বা কাল, বশিতে তো বাঁধা পড়তেই হবে।”
★★★

​আরিয়ান রুমে গিয়েই পরনের কোটটা সোফায় ছুঁড়ে মারল। আজকাল হঠাৎ হঠাৎ ভীষণ রেগে যায় আরিয়ান। কী কারণে রাগে, সেটাও তার জানা নেই। আজকাল রাগে বললে ভুল হবে, কয়েক বছর ধরে কিছু হতে না হতেই রেগে যায়।
​আরিয়ান মাথা নিচু করে বিছানার উপর উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল। হঠাৎ নাকে কী যেন লাগল মনে হলো। আরিয়ান বিরক্তিতে নাক-মুখ কুঁচকে আবারও উঠে বসল। নাকে হাত দিয়ে দেখল, একটা লম্বা চুল। বুঝতে বাকি রইল না, এটা তৃণার চুল।

​আরিয়ানের রাগ আরও তুঙ্গে উঠে গেল। আজ সকালে অফিসে যাওয়ার সময়ও ড্রেসিং টেবিলের উপর উড়ো চুল দেখেছিল।
​আরিয়ান বিড়বিড় করে বলল, ‘এই মেয়ে মানুষগুলোকে এই কারণেই ভালো লাগে না। ওরা যেখানেই যাবে, সেখানে এক বস্তা চুল পাওয়া যাবে। কী অদ্ভুত! এদের এত চুল ঘরের চারদিকে এভাবে ছড়িয়ে থাকে কেন?’

​তখনি তৃণা রুমে প্রবেশ করল। তৃণাকে দেখে আরিয়ান রাগী স্বরে তাকিয়ে রইল। এভাবে আরিয়ানকে তাকিয়ে থাকতে দেখে তৃণা বলল, “কী হয়েছে? এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন?”

​“এ রুমে এত চুল কেন?” আরিয়ান রাগী কণ্ঠে বলল।

​“মানে?” তৃণা বুঝতে পারল না আরিয়ানের কথা।

​আরিয়ান আবারও রাগী কণ্ঠে বলল,
“বিছানায় শুতে গিয়ে তোমার চুল পাই, ওয়াশরুমে গিয়ে চুল পাই, ড্রেসিং টেবিলে চুল পাই। এত চুল পড়ে কেন?”

​তৃণা বিরক্ত হয়ে বলল,
“কী অদ্ভুত মানুষ আপনি! চুল পড়ে কেন, সেটা আমি কী করে বলব।”

​তৃণা কথাটা বলতে বলতে গিয়ে বিছানায় উঠে বসল। আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করল,
“আমার বিছানায় যাচ্ছ কেন?”

“ঘুম ধরেছে, ঘুমাব,” বলেই তৃণা বিছানায় শুয়ে পড়ল।

​আরিয়ান তৃণার দিকে তেড়ে গিয়ে বলল,
“ওঠো বিছানা থেকে। ঘুমাবে? ঘুমাও, অন্য জায়গায় ঘুমাও।”

​তৃণা ধীর কণ্ঠে বলল, “ফ্লোরে ঘুমাতে কষ্ট লাগে।”

​“ফ্লোরে ঘুমাতে কে বলল? যাও গিয়ে সোফাতে ঘুমাও। তুমি এই বিছানায় ঘুমালে আমি কোথায় ঘুমাব?”

​“কেন, আমার সাথে ঘুমাবেন,” তৃণা স্বাভাবিক কণ্ঠেই বলল।
​আরিয়ান চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলল,
“আমার এত খারাপ দিন আসেনি যে কোনো মেয়ের সাথে বেড শেয়ার করতে হবে!”

​“কোনো মেয়ে না, আমি আপনার স্ত্রী,” তৃণা শান্তভাবে শুধরে দিল।

​তৃণার কথাতে আরিয়ান রেগে গেল। তৃণাকে ধমকে উঠল। রাগী কণ্ঠে হুঙ্কার ছেড়ে বলল,
“কথায় কথায় ‘স্ত্রী’ ‘স্ত্রী’ করবে না! আমার রাগ হয়!”

​আরিয়ান জানে না কেন, এতটা রেগে যায় এই ‘স্ত্রী’ শব্দটি শোনার পর। আরিয়ান নিজের কপালে হাত বুলিয়ে পেছন ফিরে ওয়াশরুম যেতে চাইলে তৃণা প্রশ্ন করল,
​“যদি স্ত্রী হিসেবে না মানেন, তাহলে বিয়ে করলেন কেন?”

​তৃণার কথায় আরিয়ান আবারও পেছন ফিরল। সে লক্ষ্য করল, তৃণার চোখে জল টলমল করছে।
​আরিয়ান বলল,
“আমি বিয়ে করতে চাইনি তোমার সাথে। বিয়েটা অ্যাকসিডেন্টালি হয়ে গেছে।”

“আমার সাথে না হয় বিয়ে এক্সিডেন্টলিই হলো কিন্তু আমার বোনের সাথে তো পরিবারিক কথা বার্তা শেষে বিয়ে ঠিক হয়েছিল।যদি আমার বোন পালিয়ে না যেত তাহলে তো আমার বোনকে বিয়ে করতেন।তখন কি আমার বোনের সাথেও এরকম আচরণ করতেন?”

“তেমার বোনকেও বিয়ে করতাম না সেদিন।”

তৃণা আরিয়ানের কথায় বিস্ময় কন্ঠে বলল,
“মানে?বিয়ে করতেন না তাহলে বর সেজে গেলেন কেন?”

​আরিয়ান বলতে লাগল,
“আমি কিছু লোক ভাড়া করেছিলাম যারা তোমার বোনকে কিডন্যাপ করত, আর যার ফলে বিয়েটা আটকে যেত। এই বিয়েতে আমি রাজি ছিলাম না, কিন্তু আব্বুর চাপে রাজি হয়েছিলাম।”

​তৃণা অবাক হয়ে প্রশ্ন করল,
“তার মানে আপনি আমার বোনকে অপহরণ করে কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন?”

​“না। আমার লোকেরা তোমার বোনকে অপহরণ করার আগেই সে পালিয়ে যায় অন্য কোনো ছেলের সাথে। এতে করে আমার জন্য অনেক ভালোই হয়েছিল। কিন্তু দেখো, আমার কী কপাল! তার পর তোমার মতো মেয়ের সাথে আমার বিয়েটা দিয়ে দিল। মানুষ ঠিকই বলে, কপালের নাম গোপাল।” আরিয়ান কথাগুলো বলে বড় করে নিশ্বাস ছাড়ল।

​তৃণা প্রশ্ন করল,
“আপনি বিয়েটা করতে চাইছিলেন না কেন?”

আরিয়ান কিছুক্ষণ থেমে বলল, “ভালোবাসি একজনকে। ভীষণ করে ভালোবাসি। সে আমার প্রথম ভালোবাসা। তাকে ছাড়া অন্য কাউকে আমার জীবনে জায়গা দেওয়া অসম্ভব। চিন্তা নেই, বাড়ির পরিবেশ ঠান্ডা হলে তোমাকেও ডিভোর্স দিয়ে দেব।”

​বলেই আরিয়ান ওয়াশরুমে ঢুকে গেল।
​তৃণা স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার বার বার কানে বাজছে আরিয়ানের কথাটা সে ভালোবাসে অন্য কাউকে। কথাটা শুনে তৃণার ভীষণ কষ্ট হতে লাগল। মনে হতে লাগল, বুকের ভেতর কী যেন পুড়ছে। কিন্তু কেন এমনটা হচ্ছে, সেটাও তার জানা নেই।

তৃণা বিছানায় বসে শুধু ফিসফিস করে নিজেকেই প্রশ্ন করল,
“অথচ… অথচ এই মানুষটার জন্যেই তো আমি আমার নিজের ভালোবাসা কুরবান দিলাম। তৌহিদের প্রতি আমার সেই গভীর অনুভূতিকে পায়ের তলায় মাড়িয়ে, শুধু একটা সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার জন্য এখানে থেকে গেলাম!”
​তার চোখ ছাপিয়ে দু’ফোঁটা গরম জল গড়িয়ে পড়ল।
​“আর এই দিকে, যার জন্য আমার সমস্ত ভালোবাসা ত্যাগ করলাম… যার স্ত্রী হিসেবে থাকার জন্য এত অপমান সইলাম, সে অন্যতে আসক্ত! আমার এই ত্যাগ, এই সয়ে যাওয়া কি তবে পুরোটাই অর্থহীন ছিল?”

​বুকের ভেতর যেন আগুন জ্বলছে, আর সেই আগুনের ধোঁয়ায় তার সমস্ত আশা মিশে যাচ্ছে। তৃণা জানে না, এই নিঃসীম যন্ত্রণা আর কতদিন বয়ে বেড়াতে হবে। শুধু এইটুকু বোঝে, ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তার জন্য আর ভালো কিছু সঞ্চয় করে রাখেনি।

চলবে…

(এতএত মানুষে গল্পটা পড়ে।ভিউজের তুলনায় রিয়েক্ট কমেন্ট এতো কম আসে কেন?)

Share On:



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 


0 Responses

Leave a Reply