যেখানেপ্রেমনিষিদ্ধ
ইশরাতজাহানজেরিন
পর্ব_৯
সরকারি কলেজের পেছনে একটা পুকুর আছে। বখাটে ছেলে-মেয়েগুলো কলেজের ক্লাস বাদ দিয়ে সেখানে টাঙ্কি মারে। এ আবার যেন-তেন টাঙ্কি না, মারাত্মক লেভেলের এক টাঙ্কি। চুমুর ফ্লেভার থেকে প্রেমে যত প্রকার মেডিসিন আছে সবই জোড়া ঘুঘুর দল এখানে দিয়ে থাকে। আর যারা সাঁঝের মতো সিঙ্গেল ওদের আর কী? ওরা ওইযে দূরবীন হাতে নিয়ে অন্যের মেডিসিন দেখে নিজের অসুস্থতা দূর করে। সাঁঝের আজকে মন ভালো নেই। জীবনে মন কবে ভালো ছিল এটাও সে জানে না। মন ভালো থাকবে কী করে? জীবনে একটা প্রেম করতে পেরেছি কী? একটা চুমু খেতে পেরেছে কী? তাহলে মন কেমন করে ভালো থাকবে? সাঁঝ দূরবীণ দিয়ে চারপাশে কিছুক্ষণ চোখ বুলিয়ে মন খারাপ করে দূরবীণটা ডালিয়ার হাতে দিয়ে বলল, “তুই দেখ। আমার মুড নেই।”
ডালিয়া চোখ মেরে বলল, “আরে মুড তো দেখার পর হবে।”
“দূর আজকে নোংরা কথা বলাও মুড নেই। যাহ তো।”
ডালিয়া বুঝতে পারল না তার মাথায় বিরল রোগ হওয়া অসুস্থ বান্ধবীর গায়ে আজকে আবার কোন জ্বীন আছর করল। ও মায়া মায়া গো, আশিক জিন নাকি? সে সাঁঝের দিকে তাকিয়ে বলল, “তোকে শেষে আবার আশিক জিন ধরল না তো?”
“ওইসব লাঙ্গ, আর ভাতার জিনের এত দুঃসাহস কই আমার ভেতরে ঢুকার? তবে যেদিন দেখব এইভাবে আর চলছে না, পৃথিবীর কোনো পুরুষ মানুষের সাথে আমার ইয়ে হচ্ছে না তখন সত্যি আমি লাঙ্গ জিনের কাছেই যাব।”
“তোর মাথা গেছে। নে পানি খা। বেশি বেশি পানি খেলে স্কিন গ্লো করবে।”
“আর বেশি বেশি হিসুও ধরবে। এত হিসু করার সময় নেই। যেই সময় হিসু করব, ওইসময় ছেলে পটানোর কাছে ব্যয় করলে কাজে লাগবে। আমি চাই না আমার বাচ্চা-কাচ্চা বেশিদিন উপরে বসে থাকুক। বিয়ে সাধি করে ওদের নিচে টেনে হিঁচড়ে নামাতে হবে।”
সাঁঝ নিচের জামা আর সেলোয়ার ঠিক করে আরাম করে পা দুটো ছড়িয়ে বসে বলবে, “এই যে এক বালের কামিজ এই কলেজের। এসব কি ভালো লাগে? ওরা দিবে ওয়েস্টার্ন ড্রেস। এই বালের কামিজের কালার আর রংয়ের কারণেই তো অর্ধেক ছেলে পটে না৷”
“অর্ধেক? তুই তো একটাই পটাতে পারলি না।”
“কেন রাজা, স্বাধীন ওরা সবাই তো আমাকে পছন্দ করে। আর বাকি গুলো যে? ওইসব কি তুই পটিয়ে দিয়েছিলি?”
ডালিয়া কথা বলল না। মুখ ভেংচি কেটল। হঠাৎ সাঁঝের চোখ তার চুলের দিকে গেল। সে ডালিয়াকে জিজ্ঞেস করল, “তুই মাথার মধ্যে এমন টাওয়ার কেন বানিয়েছিস? এইযুগে এসব কে করে?”
“ফ্যাশনের তুই কি বুঝবি? সারা জীবন তো তুই চুল ছেড়ে এসেছিস। বাঁধতেও পারিস না। আর সবসময় তো ছেলেদের মতো অদ্ভুত সব পোশাক পরিস।”
“ওইসবই ফ্যাশন। এসব তো ক্ষেত!”
“যা ভালো হয়েছে। যেই মেয়ে ভালো ওর সাথে গিয়ে বন্ধত্ব কর।”
সাঁঝ পড়ল ফ্যাসাদে। এই জাউরা ডালিয়ার মুড ঠিক করতে করতেই তার জীবনের অর্ধেক সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ আরেকদল মেয়েরা এসে সেখানে উপস্থিত হলো। এদের দেখতে পারে না সাঁঝ। তবে নিজ স্বার্থে খাতির করতে হয় মাঝে মাঝে। মেয়েগুলো এসেই সাঁঝেদের পাশে বসল। তাদের মধ্যকার ঝোনাকি সাঁঝের গায়ে মৃদু ধাক্কা মেরে বলল, “একটা ক্যাসেট জোগাড় করেছি।”
“আবার কিসের?”
“ইশ ঢং! তুমি মনে হয় নতুন? কিছু বুঝো না? এবারেরটা সেই রকম।”
“কই পেলি?”
“জহিরুল ভাইয়ের দোকান থেকে, আর কোথ থেকে।”
“সে এসবও বেঁচে? “
“যারা ক্যাসেট বিক্রি করে, তাদের দোকানে সব ক্যাসেটই থাকে।”
হঠাৎ ডালিয়া জিজ্ঞেস করল, “তুই যে ক্যাসেট নিলি, তোকে কিছু বলেনি?”
“আরে জহিরুল আমায় পছন্দ করে জানিস না? আমি সেদিন গেলাম সেখানে। বললাম কিছু ক্যাসেট কিনতে এসেছি। সে বলল, ” আমার দোকানে তুমি ক্যাসেট কিনে নিয়ে যাবে? আমার দোকান মানে তো তোমারও দোকান। তারপর আর কী? ওই বোকা চন্দ্রবিন্দুর দোকান থেকে বেশ কয়েকটা ক্যাসেট হাতিয়েছি। তার মধ্যে এটা একটা। এখন বল, এটা কার বাসায় দেখব? ভাই আমার বাসা ছোট। এক ঘরে পাদ দিলেও সাউন্ড আরেকঘরে শোনা যায়। তাই ভাই, আমি কিন্তু এসব আমার বাসায় দেখতে পারব না।”
হঠাৎ সবাই বলে উঠল, “আরে সাঁঝের বাসা তো আছে। কত বড় বাড়ি। ওর বাসায় গেলেই তো হয়।”
“আমার বাসাই কেন?”
“এমন করিস কেন? সেই মজা হবে দেখিস। এই মুভিতে অনেক কিছু আছে, শিখার পর।”
“শিখার কি দরকার? সাঁঝ সব পারে।”
“এসব অন্য কিছু।”
“আচ্ছা বাল, আসিস। আজকেই আসিস। সন্ধ্যায় আসবি?”
সবাই রাজি হয়ে গেল। ঝোনাকি হঠাৎ বলল, “তোকে যে বলেছিলাম দামি সিগারেট জোগাড় করতে? মনে আছে? আজকে জোগাড় করে রাখিস। আমরা সিগারেট টেস্ট করে দেখব।”
ডালিয়া হঠাৎ বলল, “কিন্তু আমরা তো মেয়ে মানুষ। ওইসব তো ছেলেরা খায়।”
ঝোনাকি বলল, “বলদ তুই একটা। এখন ছেলে-মেয়েদের সমান অধিকার। ছেলেরা যা করবে, মেয়েরাও তাই করবে। ছেলেরা যা পারে, মেয়েরাও তা পারে।”
সাঁঝ কপাল ভাজ করে বলল, “আব্বে শালা, বাল পারে। এই যে আমি জিন্সের প্যান্ট পড়ি, কই চেইন খুলে তো তরল পদার্থ বির্সজন দিতে পারি না। তাহলে ছেলে-মেয়ে সমান অধিকার কেমনে হলো?”
“ওই হলো একটা।”
ডালিয়া হঠাৎ সাঁঝকে বলল, “কিরে সাঁঝ রেজাল্ট দিয়েছে তো আজকে। তোর বাসা থেকে কে আসবে? তুই তো রিটেকও চারটায় ফেইল মেরেছিস। এখন কি হবে?”
” আব্রাজ ভাইকে আসতে বলেছি৷ নেতা মানুষ তো তাকে কিছু বলার সাহস পাবে না৷ এছাড়াও ভাই তো ক্রীয়া মন্ত্রী, ওইসব শিক্ষা-ফিক্কা হেব্বি অপছন্দ মাইরি। আসুক ভাই আজকে, অধ্যক্ষ স্যারের আন্ডায় দান্ডা মেরে ঠান্ডা করে দিবে। ওই বাঙ্গির শরবতের মতো উত্তেজনা তো বলিউডের ইমরান হাশমিরও নেই।” হঠাৎ সাঁঝের কান সচেতন হতেই সে সবাইকে চুপ করতে বলল। উঠে দাঁড়াতে গেলেই ডালিয়া জিজ্ঞেস করল, “কিরে কি হয়েছে? দাঁড়িয়েছিস কেন?”
“ডাইরিয়ার বাচ্চা চুপ কর তুই।”
সাঁঝ উঠে ঝোপের কাছে গিয়েই দেখল ঝোপের আড়ালে এক ছেলে দাঁড়িয়ে। শরীরে স্বাস্থ্য পুরোই মাশাল্লাহ টাইপের। এই ছেলে নিশ্চয়ই ১-২ তে পড়ে। কিন্তু ঝোপের ধারে এর কাজ কি? এখানে তো কলেজের ছেলে-মেয়েরা ব্যাতিত কেউ আসে না। সাঁঝ একটু উঁকি মারতেই দেখল কলেজ ফাঁকি দিয়ে এক জোড়া পায়রা ঠোঁটের মেডিসিন আদান-প্রদান করছে। বাচ্চাটার দৃষ্টি সেইদিকেই। সাঁঝ পেছন থেকে বাচ্চাটার কান ধরে টেনে ধরে তাকে জায়গায় এসে কান মোচড়ে দিয়ে বলে, “কিরে তোর খাৎনা হয়েছে? এই বয়সে এত উত্তেজনা কিসের? ঝোপের আড়ালে মহা সিনিয়রদের চুমু খাওয়া দেখা? এই বয়স হয়েও ঠিক করে চুমু খাওয়া দেখতে পারলাম না, আর তুই সেটাও করে নিলি? এত পাপ? ওয়েট আজকে তোকে খেয়েছি।”
ছেলেটি কান্না শুরু করে দিলো। আর এমন কাজ করবে না বলল। কিন্তু সাঁঝ এত সহজে ছাড়ার মেয়ে নাকি? সে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করল, “কিরে বাবুলগাম নাম কি তোর?”
“ইশান।”
“ইশান না গবীরের লো বাজেটের ইমরান হাশমির টিউবলাইট ভার্সন তুমি।”
সাঁঝ কানটা ধরে বলল, “এইই! কি দেখছিলি রে?”
ছেলেটা তো ভয় পেয়ে কেঁদে ফেলার উপক্রম, “কিছু না আপু! “ওইদিকে এত মনোযোগ কেন? পরীক্ষা হলে এমন কনসেন্ট্রেশন থাকলে তুই বোর্ড টপ করতি! জানিস আমি কে? গত বছর শেখ হাসিনা আমাকে নিজ হাতে মেধার জন্য গিফট দিয়েছি। এবারও দিবে। ডাক এসেছে। আর তোরা? ছিঃ নষ্ট সমাজ।”
ছেলেটা মাথা নিচু, “আমি তো শুধু দেখতেছিলাম…”
“কি দেখতেছিলি? ন্যাশনাল জিওগ্রাফি?”
ছেলেটা এবার একটু লজ্জা পেয়ে হাসল।
সাঁঝ বলল, “হাসবি না। সামনের তো বেড়া নাই। এত হাসিস কেন? শোন ইশান, এই বয়সে গুপ্তচরবৃত্তি খুবই খারাপ জিনিস। তওবা কর। কাল থেকে ভালো হয়ে যাবি কথা দে।”
“জ্বি আপু…”
“আরেকবার যদি দেখি, সরাসরি তোর বাসায় গিয়ে লাইভ রিপোর্ট দিয়ে আসবো!”
ছেলেটা চোখ বড় করে, “না আপু! আর করুম না!”
সাঁঝ একটু ভেবে বলল, “ঠিক আছে, শাস্তি হিসেবে এখনই ১০টা পুশ-আপ দে!”
“এইখানে??”
“হ্যাঁ, এখানেই! তোর যেই চর্বি আগে সেটা কমাই। তারপরেরটা পরেই দেখছি।”
ছেলেটা কষ্ট করে পুশ-আপ দিতে লাগল। সাঁঝ দাঁড়িয়ে গুনছে, “এক… দুই… এইটা অর্ধেক! ঠিক করে দে!”
পাশের ঝোপ থেকে হালকা হাসির শব্দ আসতেই সাঁঝ চিৎকার করল, “এই যে আপনারা! পাবলিক প্লেসে ‘প্রাইভেট সিনেমা’ বন্ধ করেন!” ওপাশে নড়াচড়া থেমে গেল। সাঁঝ আবার ইশানের দিকে তাকালো। “দেখলি? আমি না থাকলে দেশের কি অবস্থা হতো! আব্রাজ ভাই এসব দেখলে আমায় মাথায় তুলে লেংটা সুলেমান গানে ডান্স দিত।”
ছেলেটা এবার সাঁঝের দিকে তাকিয়ে বলল, “হয়ে গেছে। আপু এবার যাই?”
“যেতে বলেছি?” সাঁঝ ইশানের দিকে তাকিয়ে একটু চিন্তায় পড়ে গেল। তারপর হঠাৎ তার চোখ চকচক করে উঠল, “আচ্ছা… তোকে এমনেই ছেড়ে দিলে তো চলবে না!”
ইশান ভয় পেয়ে গেল “আপু প্লিজ! আর করুম না বললাম তো!”
ঠিক তখনই পেছন থেকে সাঁঝের দুই বান্ধবী এসে হাজির, “এই কি করছিস তুই আবার?”
সাঁঝ নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল, “দেশের ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে আনতেছি!”
ডালিয়া চোখ উল্টে বলল,“ওই বাচ্চাটাকে?”
সাঁঝ ইশানের দিকে আঙুল দেখিয়ে বলল, “এই যে! ঝোপের আড়ালে লাইভ রোমান্স শো দেখছিল এই পেট মোটা বাঁদরে !”
ডালিয়া হেসে ফেলল। ইশান তো লজ্জায় মাটির দিকে তাকিয়ে। সাঁঝ আবার বলল, “এই অপরাধের শাস্তি তো দিতেই হবে!”
“কি শাস্তি দিবি?”
সাঁঝ একটু ভেবে বলল, “ওকে দিয়ে এখনই একটা ‘ভালো ছেলের শপথ’ নেব! তবে শপথ এত সহজ হলে চলবে নাকি? আগে তুই প্যান্ট খুল। দেখি তোর খৎনা হয়েছি কিনা।”
“আপুউউউউ……
” আরে বাল খোলনা। যত দেরি করবি তোরই শাস্তি বাড়বে।”
“আপু প্লিজ।”
“তোর প্লিজের গুষ্টি কিলাই। খুল। আমরা আমরাই তো।”
পাশ থেকে ডালিয়া বলল, “আমরা আমরাই তো মানে? তোরও ও কি আছে নাকি?
সাঁঝ রাগী দৃষ্টিতে ডালিয়ার দিকে তাকাতেই ডালিয়া চুপ হয়ে গেল। শেষে ছেলেটার দিকেও একই দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই ছেলেটা নিজের প্যান্ট খুলে ফেলল। সেই প্যান্ট সাঁঝ কেড়ে নিয়ে বলল,” এখন নেংটু হয়েই শপথ ধর। হাত তুলছিস না কেন? শপথ কেমন করে সেটা কি পাছায় চিমটি কেটে শিখিয়ে দিতে হবে?” ইশান ভয়ে তাই করল।
সাঁঝ হাত তুলে বলল, “বল—আমি, ইশান, আজ থেকে ঝোপের আড়ালে দাঁড়িয়ে সিনিয়রদের বিরক্ত করব না!”
বান্ধবীরা হেসে গড়াগড়ি। ইশান বাধ্য হয়ে বলল, “আমি, ইশান… আজ থেকে ঝোপের আড়ালে দাঁড়িয়ে… এইসব আর করুম না…”
সাঁঝ থামিয়ে, “জোরে বল! নইলে দেশ শুনতে পাবে না?”
ইশান এবার চিৎকার করে বলল। ডালিয়া বলল, “এইটাই যথেষ্ট। ছাড় ওকে।”
ঝোনাকি বলল, “বাচ্চা ছেলে, এত টর্চার করিস না।”
সাঁঝ একটু ভাব নিয়ে বলল, “তাহলে ওর বদলে তোরা আয়।”
সবাই তাতে চুপ হয়ে গেল। সাঁঝ ছেলেটিকে বলল, “শুন এই নেংটু অবস্থায় গিয়ে ঝোপের আড়াল থেকে সিনিয়রদের ভালো একটা চুমুর ভিডিও যদি আজকে এনে দিতে পারিস তাহলে তোর শাস্তি মওকুফ। প্যান্টও পাবি আর ইজ্জতও। নইলে তোর টিয়া পাখির বাচ্চাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দিবো। জানিস আমার কত ফলোয়ার? কত ভাইরাল আমি?”
ছেলেটা করার মতো উপায় না পেয়ে সাঁঝের দেওয়া ফোনটা হাতে তুলে নেয়। ঝোপের কাছে ভিডিও করতে চলে যায়। সাঁঝের এবার শান্তি লাগছে। আজকে রাতে একা একা বসে বসে এই চুমুর ভিডিও দেখবে। সেই মজা। সে শান্তি মতো জায়গা মতো বসতেই ঝোনাকি তার পাশে এসে বসে। ব্যাগ থেকে একটা ম্যাগাজিন বের করে। ইংরেজি ম্যাগাজিন। তাতে কি সব অশ্লীল ছবি। সাঁঝকে এগিয়ে দিতেই সে বলল, “ভালো জিনিস এনেছিস। আরো আছে? দিস তো, ব্যাগে করে নিয়ে যাব। রাতে দরজা লাগিয়ে দেখব।” হঠাৎ পেছন থেকে একটা গলা ভেসে এলো, “হ্যালো শুনছেন, আমিও একটু ম্যাগাজিনটা দেখতে পারি?”
সাঁঝ বিরক্তবোধ করল। না ফিরেই জবাব দিলো, “এই ভাই যাও তো। দেখোনা গার্সল টাইম চলে। আর এই ম্যাগাজিনে সব বেডাপুরুষের ছবি। তুমি কি হিজরা নাকি এটা কেন দেখবা? বাজার থেকে মেয়েদেরটা কিনে এনে দেখো।”
“দেন না, আমি আপনাকে অন্যের চুমুর ভিডিও এনে দিবো রাতে দেখার জন্য।”
ডালিয়া সাঁঝের পেছনে তাকালো। সে তাকানো মাত্র সাঁঝকে ঠেলা মারতেই সাঁঝ বলে উঠল, “তোমার বাল আবার কোন বাল হইছে?”
“পিছনে দেখ।”
“কেন ভিতরে কি আমার ভাতার দাঁড়িয়ে আছে? দেখি তোর কোন দুলাভাই দাঁড়িয়ে? ওয়েট শালাকে চুমু দিয়ে রাতে বেলকনি টপকে রুমে আসতে বলব।”
ডালিয়া কাঁপতে থাকল। জবাব দিলো না। সাঁঝ পেছনে ফিরতেই চেঁচিয়ে উঠল। এক ঝটকায় পিছিয়ে বলল, “আরযান ভাইয়া!”
আরযান হাত বুলালো নিজের ঘাড়ে। তারপর বলল, “উঁহু মাত্র না বললি তোর ভাতার? রুমে কয়টা বাজে আসতে হবে রে সাঁঝ? জানিস তো আমার তাড়া।” আরযান ইশানের দিকে তাকিয়ে ডাক দিলো, “এই পিচ্ছি কাম হেয়ার।”
ইশান দৌড়ে আসতেই আরযান তার হাত থেকে ফোনটা নিয়ে নিজের পকেটে রাখল। তারপর সাঁঝকে বলল, “প্যান্টটা দে।”
“আপনি পড়বেন নাকি? আপনার তো ইয়ে বড়।”
“কী!”
“পা! পা বড়ো। আপনিও তো বড়। ঢুকবে কিভাবে আর পড়বেন কিভাবে?”
“তুই প্যান্ট দিবি?”
সাঁঝ ভয়ে জলদি আরযানের হাতে প্যান্ট এগিয়ে দিতেই আরযান বাচ্চাটিকে তার ফেরত দিয়ে চলে যেতে বলল। সে চলে যেতেই আরযান সাঁঝের দিকে তাকালো। সাঁঝ ভালো সাজার নাটক করে বলল, “ভাই আপনি কষ্ট করে আসলেন যে? আব্রাজ ভাই কই?”
আরযান শান্ত স্বরে জবাব দিলো, “জানি না তো, যাই হোক আই প্রাউড অফ ইউ। পরীক্ষায় তুই ইচ্ছে করে ফেইল করেছিস যাতে রিটেকে একা একা পরীক্ষা দিয়ে তুই প্রমাণ করতে পারিস, তুই একাই একশো? সাঁঝের কোনো হেল্প লাগে না তাই না? সব বিষয়ে নিশ্চিত পাশ করেছিস? জানি আমি, করবি না কেন? আর এখানে কেন এসেছিস? ওহ রিলাক্সের জন্য? হুম ভালো। হাওয়া খেলে মন ভালো থাকে। শরীরের জন্য একটা খুব দরকার। তো ওই ছেলের প্যান্ট খুললি যে?”
সাঁঝ আন্দাজ করে ফেলে আরযান ভাই তার চার বিষয়ে ফেইল সম্পর্কে কিছু জানে না। মনে মনে সে ভালোই খুশি হয়। তালে তাল মিলাতে সে বান্ধবীদের সরিয়ে আরযানকে বসার জায়গা করে দিয়ে বলে, “আরে ভাইয়া, ওইটা তো ছোট মানুষ। একটু দুষ্টামি করেছে, বলে মজা করে প্যান্ট খুলেছি। এসব আহামরি কিছুই না। প্যান্ট খুলতে আমার ভালোই লেগেছে।”
“কী? কি বললি?”
“আরে রাগ করেন কেন? দুষ্টুমি করেছি।”
“ওকে এখন তাহলে তুই খোল।”
“খুলব মানে?”
“যা ওই ছেলের খুলেছিস।”
“কিন্তু কে……..ন?”
“ওমা তুই মাত্রই দুষ্টুমি করলি না? এখন আমাকেও একটু মজা পেতে দে। এসব তো আহামরি কিছুই না? তাই না?”
“ভা……ভাইয়া….”
চলবে?
( বানান রিচেক দিতে পারি নাই। পরে দিয়ে দিবো। এতদিন এই গল্পটা কিন্তু রেসপন্সের কারণে দেইনি। আজকে এতদিন পর দিলাম। সেইম জিনিস যদি আবার হয়, এবার গল্পটা বন্ধ করে দিবো।)
Share On:
TAGS: ইশরাত জাহান জেরিন, যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৭
-
প্রেম আসবে এভাবে পর্ব ১০
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪১
-
প্রেম আসবে এভাবে গল্পের লিংক
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪০ ( প্রথম অর্ধেক+শেষ অর্ধেক)
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৬+৭
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২৭
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৮
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৩৩+৩৪
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৩০(বিবাহ স্পেশাল পর্ব)