যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ
ইশরাতজাহানজেরিন
পর্ব_৩
Airbus A330-300 বিমানটি কিছুক্ষণ আগেই বাংলাদেশের মাটিতে নরম স্পর্শে ল্যান্ড করেছে।
এই বিশাল আকাশযানের দায়িত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন মীর আব্রাহাম তাজ। নামটা যেমন, দেখতেও তেমন। তার মতো এত সুদর্শন, এত বড়লোক পরিবারের সদস্য তো চাইলেই বেকার বসে থেকে জীবন পার করে দিতে পারে। সেখানে উনি এত বড় একটা পদ অর্জন করেছে নিজের যোগ্যতায়৷ তবে এয়ারপোর্টে তাকে দেখলেই মেয়েটির ভীড় জমে। যতটা সম্ভব মেয়ে মানুষকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে সে। করবে না কেন,তার মতে মিস্টার পারফেক্টের বউ হওয়ার কিংবা সঙ্গিনী হওয়ার যোগ্যতা কী সবার আছে? তার বউ এতে হবে অবশ্যই অনেক ট্যালেন্ডেড। যাকে বলে বিউটি উইথ ব্রেন, খালি আবার যোগ্যতা হলেই তো হবে না৷ একটু সুন্দর বউ না হলে তার সাথে জমবে কী করে? লাগেজ হাতে নিয়ে টার্মিনালের ভেতর ঢুকতেই পেছন থেকে হঠাৎ কারো দৌড়ে আসার শব্দ। ক্লান্ত গলায় ডাকতে ডাকতে মেয়েটি প্রায় হাঁপিয়ে উঠেছে। বিরক্ত হয়ে সে বলে উঠল,
“শুনছেন ক্যাপ্টেন সাহেব! কানের এমন বেহাল দশা নিয়ে কীভাবে ক্যাপ্টেন হয়েছেন বলেন তো?”
তাজ থেমে গেল। কান থেকে ধীরে এয়ারপড খুলে ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই মেয়েটির বুক ধক করে উঠল। তাজ মেয়েটিকে কাছে আসতে বলল, “কাম হেয়ার।”
মেয়েটি ভয় পেয়ে গেল। ক্যাপ্টেন সাহেব আবার শুনে ফেলল না তো? সে নিচু হয়ে তাকাতেই তাজ বলল, “কী সমস্যা? তুমি নতুন এসেছো? এয়ার হোস্টেজ এভাবে দৌঁড়ায়? চাকরি দিলো কে তোমাকে? আমি ড্যাম সিউর টাকা দিয়ে ঢুকেছো। চারিদিকে এখন সিন্ডিকেট শুরু হয়ে গেল বাবা।”
মেয়েটি তখনও নিচের দিকে তাকিয়ে আছে। বিরক্ত হলো তাজ। সে হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল, “ইস্টুপিট নাকি? জবাব নেই কেন? যার মধ্যে ভদ্রতাই নেই, সে কি করে এয়ার হোস্টেজ হলো? কথা বলছো না কেন? নাকি আজ-কাল কী বাক প্রতিবন্দীদেরকেও এয়ার হোস্টেজ পদে নেওয়া হচ্ছে? “
“ক্যাপ্টেন! আসলে সরি, আমার ছুটির দরকার ছিল। বড় স্যার বলল, আপনাকে বলে দেখতে। যেহেতু আমি আপনার আন্ডারে।”
“অপারেশনস ডিপার্টমেন্ট যাও, আমার কাছে কী?”
“শুনেছি অপারেশনস ডিপার্টমেন্টের হেড আপনার বন্ধু। আপনি বললেই নাকি সে ছুটি দিয়ে দিবে?”
“কয়দিন হলো চাকরির?”
মেয়েটি আঙ্গুলে শুনতে শুরু করল৷ তা দেখেই তেজ বলল, “হাউ ননসেন্স। তোমাকে যে কে আমার আন্ডারে দিলো? গাধীকে মানুষ বানাবো নাকি প্ল্যান সামলাবো?”
“ক্যাপ্টেন, কিন্তু আমি তো মানুষ।”
“ঘরে দামি বাতি লাগিয়ে আয়নায় দেখো, তারপর বুঝতে পারবে। আর তুমি এসেছো একদিনও হয়নি, এখুনি ছুটি? তোমার ছুটি ক্যান্সেল। এখন চোখের সামনে থেকে যাও।”
মেয়েটির মন ছোট হয়ে এলো। সে চলে যাওয়ার জন্য ঘুরতেই তাজ হঠাৎ জিজ্ঞেস করল,”এইযে বিমানবালা, নাম কী বললে না তো?”
“আমি আয়রা।”
তাজ অপেক্ষা করল না। চলে গেল। মনে মনে আবার রাগ দেখিয়ে বলল,”এই আয়রা না, বয়রা এসব যে কই থেকে আসে? পুরোই রিডিকিউলাস। হায় খোদা, দরকার হলে আজীবন ব্যাচালার রেখো। তবুও এসব মেয়ে মানুষ থেকে দূরে রাখো, এসবের সাথে আমার কথা বলারও রুচি আসে না। উফস ওয়্যার ইজ মাই পারফেক্ট ম্যাচ?”
বিয়ে বাড়ির আসর। চারিদিকে মানুষ আর মানুষ। মীর আরভিদ তেজের এখানে অস্থির লাগছে। এত অসহ্যকর গরম। ফকিন্নির ঘরের ফকিন্নি গুলা। মেয়ে কে তো আর বার বার বিয়ে দিবি না, একটু খরচা করলে কি এমন হতো? খালি বন্ধুর দূর সম্পর্কের জ্যাটা বলে, তার কথায় এখানে ফটোগ্রাফি করতে এসেছে। নইলে কী এই ফকিন্নি হার কিপ্টেদের বাড়িতে মীর বাড়ির ছেলে সস্তায় ছবি তুলে দিতে আসে? তেজের কপাল বেয়ে ঘাম পড়ছে। ইশ এখানে একটা ফ্যানও নেই। একেবারে মনে হচ্ছে জাত ফকিন্নি এরা। তেজ একেবারে সিউর আছে এরা মেহমানদের গরুর মাংসও দাওয়াতে দিবে না। আর দিলেও ওটা নির্গাত নিরীহ রাস্তার কুকুরদের মাংসই হবে। এদের তো দেখে মনে হচ্ছে যা অবস্থা ৭২০ টাকা কেজির মাংস খাওয়ানো সম্ভব নয়। শালা ছোটলোক। তেজ বকতে বকতে চারপাশে তাকালো। বউ নাকি এখনো আসেনি। ভাই তুই বউ মানুষ, আগেভাগে এসে ছবি তুলে ঝামেলা মিটমাট করবি, এদিকে তুই কিনা থোতমায় একগাদা ময়দা লাগাতে ব্যস্ত পার্লারে? হঠাৎ তেজকে পেছন দিয়ে কে যেন ডাকল। তেজ পেছনে ফিরতেই একটা ছোট্ট ছেলেকে দেখল। বয়স বেশি না। সে মুখ বাঁকিয়ে তেজকে বলল, “এই আংকেল! ওইযে ওই রুমটা আছে না, চিপায়? ওইখানে বউ আছে। যান উনার পার্সোনাল ছবি তুলে দিয়ে আসেন গা।”
তেজের এবার সত্যি তেজে মাথা গরম হচ্ছে। একে তো কম টাকা দিচ্ছে তার ওপর পার্সোনাল ছবিও দরকার? আর পার্সোনাল মানে কোন পার্সোনাল? একেবারে টু মাচ পার্সোনাল নাকি? এই ক্যামেরাম্যান হয়েও পড়ল ফ্যাঁসাদে। এমন নাকি তাকে আরেক ব্যাটার আমানতের টু মাচ পার্সোনাল ছবিও তুলতে হবে। নাউজুবিল্লাহ। তেজ ক্যামেরা হাতে ছেলেটির দেখানো রুমে প্রবেশ করতেই দেখল বউ আয়নার সামনে বসে আছে। এই ঘরে ছবি তুলবে? ২০০ বছরের পুরোনো ময়লা-আর্বজনায় ঘর নোংরা। দেয়ালের অবস্থা দেখে তেজের বমি আসছে। মেয়ে মানুষ এত নোংরা কেন ভাই? ঠোঁটে হাত দিয়ে লিপস্টিক ঘষে, সেই হাত মুছেছে দেয়ালে। তার ওপর আবার দেয়ালের মধ্যে কিসের সাদিয়ার নাম্বার দেওয়া। উফ আল্লাহ এইবারের মতো বাঁচালে এই জীবনে আর নয় এখানে। তেজ আর কিছু ভাবার আগেই হঠাৎ পেছন থেকে একটা গলা ভেসে এলো। সে এতক্ষণ বউয়ের দিকে তাকায়নি। এইবার তাকালো। বাপরে বাপরে, বাইরে জামাইয়ের ছবি দেখেছিল তেজ। কোথায় আগরবাতি আর কোথায় মোমবাতি। এই হিরা কিনা ওই বুড়ো কাউয়া নিয়ে যাবে? তেজের একটু কষ্ট অবশ্যই হলো। তবে এই মেয়েকে তো ওই বুড়োর থেকে তার সঙ্গেই বেশি মানাবে। জীবনে কত মেয়েই তো ভালো লাগল, কিন্তু প্রেম করতে পারল আর কোথায়? এখন যে একটা বিয়ে করবে তাও হচ্ছে না। হবে কেমন করে? মীর ইন্ডাস্ট্রির সিইউ বিয়ে না করলে কী বাকিদের বিয়ে করার সৌভাগ্য হবে? তেজের আফসোস হচ্ছে। ঠিক বয়সে বিয়ে করলে এতদিন নাতি-নাতনীদের ঘরের নাতি-নাতনীদেকেও দেখা শেষ হয়ে যেত। মনে হয় না এই মরার কপালে খোদা বিয়ে লিখেছে। এই মীর বাড়ির ছেলেদের এত বড়লোক বানাতে গিয়ে খোদা বোধহয় বিয়ের বিষয় টাই আউট করে দিয়েছে ভাগ্য লিস্ট থেকে। ওইযে এক ভাবে দিয়ে, অন্য ভাবে মারা দেওয়ার যে ব্যাপারটা!
তেজ হাত ঘড়ির দিকে একবার তাকিয়ে বউকে বলল, “এখানেই ছবি তুলবেন?”
তৎক্ষনাৎ উত্তর এলো, “আমাকে পালাতে সাহায্য করবেন?”
“কী?”
“হ্যাঁ, প্লিজ। আমি ওই বুড়োর বউ হতে পারব না। ওই বুড়ো আমার সঙ্গে তাল মিলিয়ে রোমান্স করতে পারবে নাকি? এক পা তো কবরে চলে গেছে৷ আপনি সাহায্য করুন।”
“একে তো ফটোগ্রাফি করছি, তাও টাকা কম দিচ্ছেন। তাতে আফসোস নেই, টাকার প্রতি ইন্টারেস্টও নেই। আল্লাহ টাকা দেওয়ার বেলায় আমার সঙ্গে কিপ্টামি করেননি। যাই হোক আমি এসব করতে পারব না।”
“টাকা কম হয়েছে?” বলেই মেয়েটি তার ব্লাউজের মধ্যে হাত দিতে গেলেই তেজ কড়াক করে বলে উঠল, “এই কি সব করছেন? নাউজুবিল্লাহ।”
“কি করলাম? টাকা বের করছি।”
তেজ পেছন দিকে ঘুরল। মনে মনে বলল, “টাকা রাখার জায়গার অভাব পড়েছে?” তার ছোট বেলার কথা মনে পড়ে গেল। সে তখন কলেজের ছাত্র। কলেজে থাকাকালীন এক জুনিয়র ছেলে ভর্তি হয়। একদিন তাকে হেব্বি রেগ দেয় তেজ আর তেজের বন্ধুরা মিলে। পেন্ট খুলিয়ে নীল ডাউন। সেইবার ওই কালুয়ার সাদা আন্ডারপেন্টের নিচে ৫০০ টাকা পেয়েছিল। ভাবা যায়? মানুষ বন্ধুদের থেকে ৫০০ টাকার নোট বাঁচাতে টাকা কোথায় লুকিয়ে রাখে? ওটা পুরুষদের হিসাব কিন্তু এখন? তেজ ভাবনা থামিয়ে দিলো। ছিঃ এত কালা মাইন্ডের হলে জীবনও কালা হয়ে যাবে। আপাতত এই ঝামেলার থেকে মুক্তি চায় সে। সে মেয়েটিকে বলল, “আমার সময় নষ্ট করার মানে হয় না। আমি গেলাম।” মেয়েটি ২০০ টাকার একটা নোট তেজকে ধরিয়ে দিয়ে বলল, “৫০ টাকা রাখেন, বাকি ১৫০ ফিরত দেন। তবুও আমাকে উদ্ধার করেন।”
তেজ ২০০ টাকার নোটের দিকে একবার, অন্যবার মেয়েটির মুখের দিকে তাকালো। মাইরি এসব কোন পরিবার থেকে উঠে এসেছে? সে তৎক্ষনাৎ মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল, “তোমারা আসলেই বাংলাদেশী তো?”
“কেন ইন্ডিয়ান মনে হচ্ছে নাকি?”
তেজ গলা খাঁকারি দেয়। হঠাৎ মেয়েটি তার হাত ধরে বলে, “প্লিজ বাঁচান, আমি তো আপনার বউয়ের মতোই হবো। প্লিজ পালাতে সাহায্য করুন।”
“হোয়াট দ্য হেল ইজ দিস।”
আজ রাতে বোধ-হয় সাঁঝের ঘুম আসবে না। সে বার বার হাতের ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছে। এই প্রথম কোনো ছেলে তাকে কিছু দিলো। সাঁঝ স্বাধীনকে নিয়ে সংসার সাজাতে ব্যস্ত। আচ্ছা তাঁদের কয়টা বাচ্চা হবে? স্বাধীন কি বিয়ের পরও তাকে এত্তগুলা ভালোবাসা দিবে? নাকি তখন সব ভালোবাসা বাচ্চাকেই দান করে দিবে? ইশ হিংসে হচ্ছে সাঁঝের। এমন হিংসুটে মা, জগতে কেউ কভু এর আগে দেখেছে? তবে ছেলেটার বয়স একেবারে কম, বিয়ে করে চাকরি এত জলদি জুটাবে কেমন করে? পরে তো দেখা যাবে তার দজ্জাল ভাই গুলো বিয়ে ভেঙে দিচ্ছে। এখন তো বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে সাঁঝকে একটা। আরেকটা মজনু জোগাড় করতেই হবে। নইলে ভাইয়েরা এটাকে তাড়িয়ে দিলে আরেকটা ম্যানেজ করবে কী করে তৎক্ষনাৎ সে? ডালিয়া তো আর একা একা এত কিছু সামলাতে পারবে না। এমনিতে মেয়েটা, একটার পর একটা ছেলে ম্যানেজ করেই দিচ্ছে। বিনা বেতনে খাটুনি, আহারে ছেলে খুঁজতে খুঁজতে ডালিয়ার একেবারে ডাইরিয়া হয়ে যাওয়ার দশা! সাঁঝ হাতে দূরবীনটা তুলে নিলো। এটা গত বছর মেজো আব্বু তার জন্মদিনে গিফট করেছিল। মেজো আব্বু সাঁঝকে বলেছিল, “এইবার পরীক্ষায় পাশ করতে পারলে যাহ খুশি তাই দিবে।” সাঁঝ তখন বলেছিল একটা প্রেমিক চাই তার। পাশেই আরযান ভাই দাঁড়িয়ে ছিল। সেই কথা সাঁঝের বলতে দেরি গালে চড় পড়তে দেরি হলো না। সে কি কান্নাকাটি সাঁঝের সেদিন। তারপর মেজো আব্বু সাঁঝকে মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করল, “থাক কাঁদে না মা, তোমার পরীক্ষায় পাশ করতে হবে না। তুমি কেবল বলো তোমার কি চাই?”
সাঁঝ সেদিন ভেবেচিন্তে একটা দূরবীন চেয়েছিল। ওই বজ্জাত আরযান ভাইটা সেই দূরবীন দেখে জিজ্ঞেস করেছিল, “এই দূরবীন দিয়ে কাকে দেখবি?”
সাঁঝ প্রথমে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিল। মিথ্যা চোখের জল ফেলেছে ফ্রিতে এই দূরবীন নেওয়ার জন্য বিষয়টা কী আরযান ভাই বুঝে গেল নাকি! তাছাড়া এই দূরবীন কেন নিয়েছে এটা যদি আরযান ভাই যদি জানত, একেবারে ড্যাম সিউর ওপরওয়ালার দরবারে লাথি মেরে পাঠাত। তবে এক বছর হয়ে গেল। মূর্খ লোকটা এখনো বুঝল না, এই দূরবীন যে সাঁঝ রাতের আকাশের নক্ষত্র নয় বরং তার আশপাশের প্রতিবেশীদের ঘরের নক্ষত্রগুলোকে দেখার জন্য কিনেছে। বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় এই দূরবীন নিয়ে সাঁঝ ছাদে আসে। এসেই দেখে আশপাশের ফ্লাটে কোনো ছেলে উঠেছে কিনা। আগে সাঁঝেদের পাশের বিল্ডিংয়ে ব্যাচালার ছেলেরা থাকত। মাইরি কি জোস দেখতে ছেলেগুলো৷ জানালা খোলা থাকলে সাঁঝ তাদের ছাদের আড়াল থেকে দূরবীন দিয়ে দেখত। আহা ওই ছেলেদের পোশাক চেন্জ করার দৃশ্য কবি নিজে দেখলেও ফিদা হয়ে যেত। বেশিরভাগ সময় ডালিয়া আর সে একই সঙ্গে বসে বসে এইসব অসভ্যগিরি করত। আর দু’জনে যে কি পরিমানে ছেলেগুলোকে নিয়ে দুষ্টু গসিব করত। তবে সেই সুখও বেশি দিন কপালে স্থায়ী হলো না। একদিন বিকেলে ডালিয়া আর সাঁঝ পাশের বাড়ির ছেলে দেখতে ব্যস্ত হয়। ছেলেটা তখন গায়ের শার্ট খুলল কেবল। প্যান্ট বদলে লুঙ্গি পড়বে। ঠিক সেইসময় সাঁঝ তার দূরবীন ডালিয়ার থেকে কেড়ে নিয়ে বলল, “তুই ওপরের পার্ট দেখেছিস না? এবার আমি নিচের পার্ট দেখব।” বলতে দেরি তবে জমের দুয়ারে যেতে আর দেরি হলো না। আরযান ভাই একেবারে সটান হয়ে তার পেছনেই দাঁড়িয়ে ছিল। কালো ব্লেজারটা পড়া। চোখে সানগ্লাস। পকেটে হাত গোঁজা মিস্টারের। এমন ভাব ধরে দাঁড়িয়ে ছিল যেন ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে জানেন না তিনি। অথচ সেদিন ছাদ থেকে ছুঁড়ে ফেলেছিল সে সাঁঝের দূরবীনটা। সারারাত সুইমিং পুলে বসিয়ে রেখেছিল সাঁঝকে সে। ডালিয়ার বাসায় ফোন করে সব জানিয়ে ওকেও উদম কেলানি খাওয়ায়। তেজ ভাই এসেছিল একটু সাঁঝকে বাঁচাতে। শেষে এই রাতের বেলায় দু’টো ডুব তাকেও জলে খেতে হয়। দুই সপ্তাহের মতো সেইবার জ্বরে আক্রান্ত ছিল সে। সুস্থ হয়ে ছাদে গিয়ে দেখল ব্যাচালার বাড়িতে আর কোনো ছেলে নেই। ভাই নাকি ওদের বাড়ি ছাড়া করেছে। প্রাণ ভাই, সাঁঝর দূরবীনটা গোপনে ঠিক করে এনে দেয়। নইলে ওটার ল্যাটাও চুকে যেত। এখন আর সাঁঝ যখন-তখন দূরবীন বের করে না। লুকিয়ে রাখে। একেবারে আরযান ভাই যখন অফিসে থাকে, ঠিক ওইসময় বের করে। বুঝতে হবে এখন সাঁঝের মাথায় অনেক বুদ্ধি! সাঁঝ চারপাশে দূরবীন দিয়ে খোঁজ চালায়৷ হঠাৎ নতুন বিল্ডিংটার দিকে চোখ যায় তার। ৫ তলার শেষ রুমটায় বাতি জ্বলছে। জানালা একটা খোলা। সাঁঝ আরো ভালো করে দেখার চেষ্টা করে। ওমা এত জলদি এই বাসা ভাড়াও হয়ে গেল? ইশ! কত কত খবর এখন মিস করে ফেলছে এই সাঁঝ। সাঁঝ ছেলেটির মুখ দেখতে পারছে না। কেবল শরীরটা দেখা যাচ্ছে। গলা অবধি আরকি। ছেলেটির হঠাৎ শার্ট খুলে ফেলে। হাতে লুঙ্গি তুলে প্যান্টের চেনে হাত দিতেই হঠাৎ কে যেন টেনে নিয়ে যায় তার হাত থেকে দূরবীনটা। মুখে তৎক্ষনাৎ একটা বিরাট অঙ্কের গালি চলে এসেছিল কিন্তু মুখ থেকে তা বের হওয়ার আগেই দেখল চোখের সামনে আরযান ভাই দাঁড়িয়ে আছে। দেখে মনে হচ্ছে আগ্নেয়গিরির টগবগে লাভা। ছুঁলেই হাতে ফোস্কা পড়ে যাবে। আরযান দূরবীনটা হাতে নিয়ে একই স্থানে তাকায়। দেখতে পায় এক ছেলে লুঙ্গি বদলাচ্ছে। তার মানে সাঁঝ এই রাতের বেলায় এসব করছে? তার রাগের মাত্রা আরো বেগ পায়। সে দূরবীনটাকে আছাড় মেরে ভেঙে সাঁঝের গলা মুহূর্তে চেপে ধরে বলল, ” কলিজার সাইজ দিনকে দিন বড় হচ্ছে তোর? ওই কলিজা বের করে মাংসের দোকানে সস্তায় সেল করতে আমার কিন্তু এক সেকেন্ডও লাগবে না। তুই কি চাস মেরে ফেলি তোকে আমি? কলিজাটা বের করি? অনেক ছেলে দেখার শখ তোর? কোন পার্ট দেখবি পুরুষ মানুষের? আপার পার্ট? না না ওইসবে কি তোর পোষাবে? তোর তো দরকার নিচের পার্ট।”
সাঁঝের দম বন্ধ হয়ে আসছে। যন্ত্রণায় চোখ দিয়ে পানি বের হচ্ছে। আজকে শিউর মারা পড়বে সে এই লোকের হাতে। সাঁঝের একেবারে যখন নাজেহাল অবস্থা ঠিক তখনই তাকে ছেড়ে দেয় আরযান। রাগের মাথায় জলদি শার্টের হাতার বোতাম খুলে কনুই অবধি গুটিয়ে সাঁঝকে মুহূর্তে তাকে আলগোছে জোর করে কোলে তুলে নিলো। সাঁঝ তখনও ভয়ে একেবারে পাথর। ভয়ে সব একেবারে জমে যাচ্ছে। ঠিক তখনই আরযান বলল, “দূরবীন তো ভেঙে গেছে, পরের সিনটা মিস হয়ে গেল তাই না? ডোন্ট ওয়ারি আমি তো পুরো ফ্লিমই তোকে দেখানোর জন্য আছি।”
চলবে?
Share On:
TAGS: ইশরাত জাহান জেরিন, যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৩৭+৩৮
-
প্রেম আসবে এভাবে পর্ব ৬
-
প্রেম আসবে এভাবে গল্পের লিংক
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৪
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৬(শেষ অংশ)
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৬
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪০ ( প্রথম অর্ধেক+শেষ অর্ধেক)
-
পরগাছা পর্ব ৮
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৪
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪১