মেজর_শিকদার-৯.২
ঈশিতা_ইশা
(কপি পোস্ট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যদিও চোর শুনবে না!)
…
নীরবতা ধীরে ধীরে ঘন হয়ে ওঠে। পুরো কক্ষটাকে ঘিরে ফেলেছে।
তৃণা প্রথমে চোখ সরাতে চায়। পারে না। রওনকের দৃষ্টি স্থির তবে অদ্ভুতভাবে সংযত। লোকটা নিজেকে শক্ত করে ধরে রেখেছে।
রওনক তোয়ালেটা হাতে নিয়েই দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। তারপর খুব ধীরে বলে,
“ঠান্ডা লাগছে তোমার। মাথা মুছে নাও।”
তৃণা মৃদু মাথা নাড়ে।
“তেমন লাগছে না।”
চোখ সরিয়ে ফেলে সে। রওনকের দৃষ্টি তার দিকে বদ্ধ। সে খেয়াল করে তৃণার কাঁধ মৃদু কেঁপে ওঠে। ভেজা চুল গলা ছুঁয়ে পিঠে লেপ্টে আছে।
রওনক আর কিছু বলে না। তবে দৃষ্টি সরিয়ে ফেলে।
তোয়ালেটা তুলে খুব ধীরে তার হাতে দেয়।
“মাথা মুছে ফ্রেশ হয়ে নাও।”
তৃণা তোয়ালেটা নিয়ে বাথরুমে ঢুকে যায়। কিছু একটা ভেবে রওনকও রুম লক করে বেরিয়ে যায়।
বাথরুম থেকে থেকে বেরিয়ে তৃণা তাকে রুমে না দেখতে পেয়ে চিন্তিত হয়। চেয়ারের উপর রাখা হ্যান্ড ব্যাগ থেকে নিজের ফোনটা বের করে।
ফোনে মাহির তিনটা মিসড কল। সাইলেন্ট থাকায় রিসিভ করতে পারেনি।
ভেজা তোয়ালেটা চেয়ারে মেলে দিয়ে ফ্যান ছেড়ে বিছানায় বসে। সাথে পোশাক না থাকায় অর্ধ ভেজা অবস্থায় থাকতে হবে তাকে।
মাহিকে কল লাগিয়ে ফোন কানের কাছে ধরে রাখে। দু’বার রিং বাজতেই রিসিভ হয়।
তৃণা কিছু বলার পূর্বেই মাহি প্রশ্ন করে,
“তোরা বাসায় ফিরবি না?”
‘তোরা’ শব্দটা কর্নচর হতেই তৃণার কপালে ভাজ পড়ে।
স্বাভাবিক গলায় তৃণা উত্তর দেয়,
“আজকে মনে হয় ফেরা হবে না।”
মাহি কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকে। তারপর স্বরটা একটু বদলে যায়। ভর করে চিন্তা।
“মানে? কোথায় আছিস তুই?”
তৃণা জানালার দিকে তাকায়। কাচ বেয়ে নামা জলের রেখা ঝাপসা করে দিয়েছে বাইরের সবকিছু।
“সাভারে..একটা রিসোর্টে। বৃষ্টি খুব।”
ওপাশে হালকা নিশ্বাসের শব্দ শোনা যায়।
“তুই একা না..তাই না?”
তৃণার আঙুল চাদরের কিনারা মুঠো করে ধরে। মাহির প্রশ্নগুলো ঘুরে ফিরে এক দিকেই। তবে কি রওনকের ফেরার বিষয়টা সে জানে?
“না।”
শ্বাস ফেলে মাহি বলে,
“তাহলে রিল্যাক্সে আয়। মমকে আমি বুঝিয়ে বলবো বিষয়টা।”
তৃণা আরেক দফায় চমকায়। মেয়েটা জিজ্ঞেসও করলো না সে কার সাথে আছে। মনের সন্দেহ দূর করতে তৃণা প্রশ্ন করে বসে,
“আমি কার সাথে আছি জিজ্ঞেস করলি না?”
সাথে সাথে জবাব এলো,
“জিজ্ঞেস করার কি আছে? আছিস তো ভাইয়ার সাথেই।”
এবার তৃণা নড়েচড়ে বসে।
“উনি আসবেন তুই জানতিস? হঠাৎ এভাবে এলো কেনো? আর এ বিষয়ে আমায় বললি না কেনো? এসব ঝামেলাতে আমার মাথা ধরে গেলোরে মাহি।”
পরপর এতো গুলো প্রশ্নে মাহি বেশ ঘাবড়ে যায়। সে ফটাফট উত্তর দেয়,
“এসবের উত্তর আমি কীভাবে দিবো বল? আমাকে সকাল বেলা ভাইয়া কল দিয়ে বললো সে ঢাকায়। তারপর জিজ্ঞেস করলো তোর বিষয়ে; কোথায় আছিস সেটা। তারপর তো ভাইয়ার সাথে আমার কথা হয়নি। তোর ফিরতে লেট তাই বাদ বাকিটা আমি আন্দাজ করে নিলাম।”
মাহির বলা কথা গুলো পুরোপুরি স্পষ্ট না হলেও একেবারে ফেলনা নয়। তৃণা চিন্তা করে এ বিষয়ে রওনককেই প্রশ্ন করবে।
“ঠিক আছে সব বুঝলাম। এখন বল রিশান কোথায়? স্কুল থেকে ঠিকঠাক ফিরেছে?”
মাহি ধীরে উত্তর দেয়,
“রিশান এই তো আছে। আচ্ছা এখন রাখলাম। একটা জরুরী কল এসেছে। তোকে পরে কল দিবো।”
তৃণা কিছু বলার পূর্বেই কল কেটে যায়।
কান থেকে ফোন নামিয়ে পাশে রেখে দেয়। মাহির আচরণ কেমন অদ্ভুত লাগছে তার কাছে। দুই ভাই-বোন তার কাছ থেকে কিছু একটা লুকিয়ে রাখছে সেটা বেশ সে বুঝতে পারছে। ফোন তুলে চিন্তা করে রওনককে কল দেওয়ার। পরক্ষণেই সেই চিন্তা বাদ দেয়।
অর্ধভেজা কাপড়ে শরীর ঠান্ডা হয়ে আছে। সে হাঁটু জড়িয়ে বসে থাকে কিছুক্ষণ। ফ্যানের বাতাসে কাপড় একটু শুকিয়েছে তবে ঠান্ডা লাগছে তার। কি করবে বুঝতে পারছে না। এই অবস্থায় বিছানায় বসলে সব ভিজে যাবে।
প্রায় আধা ঘন্টা পর দরজার বাহিরে কারো শব্দ পাওয়া যায়। একটু পর দরজা খুলে যায়। তৃণা ঐভাবে চেয়ারে হাত পা গুটিয়ে একত্র করে বসে থাকা অবস্থায় তাকায়।
দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে রওনক। হাতে একটা কাগজের ব্যাগ। তৃণা তাকিয়ে থাকে। রওনক দরজা বন্ধ করে ব্যাগটা টেবিলে রাখে। তৃণাকে এভাবে বসে থাকতে দেখে মাথার উপর চলমান ফ্যানের দিকে তাকায়।
“রিসিপশন থেকে দুইটা নতুন টি-শার্ট আর প্যান্ট নিয়ে আসলাম। ভেজা কাপড় বদলে নাও।”
তৃণা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
কিছুক্ষণ চুপ করে তাকিয়েই থাকে। কথাটা ঠিকমতো শুনেছে কিনা যাচাই করছে।
“এসবের প্রয়োজন ছিলো না। কাপড় শুকিয়ে গেছে প্রায়।”
ঠান্ডায় জবুথবু তৃণার দিকে তাকিয়ে বলে,
“প্রয়োজন ছিলো না বলছো অথচ ঠান্ডায় এভাবে ভেজা কাকের মতো হাত পা তুলে বসে আছো! প্রয়োজন না হলেও নিতে হবে। কারণ এসব ফ্রি তে আনিনি।”
“কার কাছ থেকে আনলেন? এই বৃষ্টিতে বাহিরে যেতে পেরেছেন?”
রওনক তার দিকে সরাসরি তাকায় না। ব্যাগ থেকে কাপড়গুলো বের করে গুছিয়ে বিছানায় রাখে।
“এখানে দোকান ছিল না। রিসোর্টের স্টাফদের কাছ থেকে আনতে হলো।”
তৃণা ধীরে উঠে দাঁড়ায়। কয়েক পা এগিয়ে এসে কাপড়গুলো হাতে নেয়। কিছু না বলে সোজা চলে যায় বদলাতে।
কিছুক্ষণ পর বাথরুমের দরজা খুলে যায়।
তৃণা বের হয়। গায়ের টি-শার্টটা বেশ ঢিলে। কোমর অবধি। থ্রি কোয়াটার প্যান্টটা তার পায়ের গোড়ালির কয়েক ইঞ্চি উপরে অবধি এসে ঠেকেছে। বুঝাই যাচ্ছে সে অনেকটা নামিয়ে পরেছে।
রওনক জানালার পাশে দাঁড়িয়ে কলে কথা বলছিলো। দরজা খোলার শব্দে তাকায়। তৃণা বেশ কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে এমন অপ্রস্তুত দেখে সে চোখ সরিয়ে ফেলে।
তৃণা পারলে এই পরিস্থিতি থেকে অদৃশ্য হয়ে যেতো। তার ভীষণ লজ্জা লাগছে এভাবে রওনকের সামনে থাকতে।
কলে কথা শেষ করে রওনক দ্রুত অপর টি-শার্ট, প্যান্ট নিয়ে বাথরুমে ঢুকে যায়। রওনকের সরতেই তৃণা লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে কমফোর্টার দিয়ে নিজেকে ঢেকে ফেলে। চিন্তা করে বিছানা থেকে আর নামবেই না।
এমন সময় কেউ দরজায় নক করে। কি করবে বুঝতে পারছে না সে। এদিকে এমন অবস্থায় দরজা খোলাও সম্ভব না। চুপচাপ বসে রওনকের আপেক্ষা করে।
একটু পর বাথরুম হতে রওনক বের হয়।
তৃণা বলে,
“কেউ দরজায় নক করছে।”
“দেখছি।”
বলে তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে এগিয়ে যায় লোকটা। তৃণা ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। রওনকের পরনের টি-শার্টটা তার গায়ে লেপ্টে আছে। যেই হাতে তোয়ালে ধরা সেই হাতের মাসলস গুলো ফুলে হাতার বাহিরে স্পষ্ট হয়ে রেখা দেখা যাচ্ছে।
নিচে তাকাতেই দেখে থ্রি কোয়াটার প্যান্টটা লোকটার হাঁটু অবধি। পায়ের দিকের ত্বক পুরোটাই উন্মুক্ত। ফর্সা পায়ে থাকা লোমগুলো এখনো ভেজা। ভেজা লোমগুলো কেমন একে অপরের সাথে লেপ্টে রয়েছে।
স্টাফের কাছ থেকে চায়ের কেটলি, কাপ নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় রওনক। যেহেতু তৃণা অপ্রস্তুত অবস্থায় আছে তাই সে স্টাফকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয় না। টেবিলে সেগুলো রাখতেই তৃণাকে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে ভ্রু উঁচিয়ে তাকায়। মেয়েটা খেয়াল করে না তার এ দৃষ্টি।
গলা খাকানি দিতেই তৃণা দ্রুত চোখ সরায়। একটা চায়ের কাপ তুলে তাতে চা ঢেলে তৃণার দিকে এগিয়ে দেয়। তৃণা ডান হাত বাড়ায়। আঙুলের ডগা ছুঁয়ে যায় রওনকের আঙুলে। দুজনেই থেমে যায় এক মুহূর্ত। তৃণা কাপটা নিতেই রওনক হাত সরিয়ে ফেলে। বাইরে বৃষ্টি এখনো থামেনি। তবে বেশ গতি কমেছে।
দুজনে নিরিবিলি চা পান করে। কেউ কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করে না কিংবা বলেও না।
রাতের বেলায় ডিনার সেরে তৃণা বালিশে হেলান দিয়ে বিছানায় বসে আছে। কপালের দিকটায় থাকা চুলগুলো শুকিয়ে গেছে তবে বাকি চুলগুলো এখন অর্ধ ভেজা।
রওনক চেয়ারে বসে ফোনে কথা বলছে। তার কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে কাল গুরুত্বপূর্ণ অফিসের কাজ আছে। বেশ গম্ভীর গলায় সে জবাব দিচ্ছে।
কথা শেষ করে তৃণার দিকে তাকায়। ল্যাম্পের আলোতে মেয়েটার চেহারা কেমন মলিন লাগছে।
“ঘুমাওনি কেনো? রাত হয়েছে তো অনেক। কাল তো তোমার ক্লাস আছে?”
তৃণা ছোট্ট করে উত্তর দেয়,
“হ্যা, আছে।”
রওনক উঠে বিছানার দিকে এগিয়ে বলে,
“তাহলে ঘুমাও। সকাল সকাল তোমাকে মেডিকেল নামিয়ে দিয়ে আমি হেড অফিসে যাবো।”
“আপনি কী অফিশিয়াল কোনো কাজে এসেছেন?”
এক মূহুর্ত পর জবাব দেয়,
“ব্যক্তিগত আর অফিশিয়াল দুটো কাজই সারতে এসেছি।”
এমন উত্তর মোটেও আশা করেনি তৃণা।
“কী কাজ, আমায় বলা যায়?”
“সময় হলে জানতে পারবা। আমিও চাই তোমায় সবটা জানাতে।”
উত্তর শুনে মোটেও সন্তুষ্ট হয় না তৃণা। বরং বিরক্ত হয়। রওনক ততক্ষণে বিছানায় এসে শুয়ে পড়েছে।
“আপনি আমার প্রশ্ন ইগনোর করছেন।”
তৃণার প্রশ্নে লোকটা বিচলিত হয় না। বরং সরু চোখে তাকায়। তার এমন চাহনিতে বরং তৃণা দৃষ্টি সরাতে বাধ্য হয়।
ঠান্ডা গলায় রওনক বলে,
“তোমার কী প্রশ্ন? শুনি।”
তৃণা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। মনে হয় কথাগুলো গুছিয়ে নিতে সময় লাগছে।
তারপর ধীরে বলে,
“আপনি হঠাৎ এভাবে এলেন কেনো? আমাকে না জানিয়ে। সবাই জানে, শুধু আমি না—এটা কি স্বাভাবিক?”
রওনক স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
“সবাই জানে, এটা কে বললো?”
“মাহি।”
নামটা উচ্চারণ হতেই লোকটার ভ্রু সামান্য কুঁচকায়। কিন্তু স্বর একই রকম শান্ত।
“এ ব্যপারে শুধু ও জানে। সকালে কল দিয়েছিলাম।”
“আমাকে কেনো বলেননি? আপনি চাননি আমি জানি?”
প্রশ্নটা এবার সরাসরি করে বসে মেয়েটা।
রওনক উত্তর দিতে একটু সময় নেয়।
“তেমন কিছু না। পরিস্থিতি একটু জটিল। তোমাকে সবটা বুঝিয়ে বলতে সময় লাগবে।”
“কেমন পরিস্থিতি? আমাকে সবটা বললেই তো বুঝবো।”
রওনক উঠে বসে। দুজনের মাঝে শারীরিক দূরত্ব কমে আসে।
“সবটা প্রচন্ড জটিল তৃণলতা। কোথা থেকে শুরু করবো আমার মস্তিষ্ক বুঝতে পারছে না।”
তৃণা থমকে যায়।
এই মানুষটা সবসময় কথার ভেতরে আরেকটা স্তর লুকিয়ে রাখে।
তৃণা লোকটার চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে,
“তার মানে আপনি নিজের কোনো ব্যক্তিগত কাজে বর্ডার থেকে ছুটে এসেছেন?”
রওনক এবার দৃষ্টি সরায় না।
নিচু স্বরে বলে,
“সবকিছু জানলে তুমি আজ এখানে থাকতে চাইতে না।”
বুকের ভেতর কেমন শক্ত হয়ে আসে তৃণার। কি এমন কথা যা লোকটা তার কাছ থেকে লুকাচ্ছে? কোন ভয়ঙ্কর সত্যিটা সে চেপে রেখেছে?
“তাহলে বলুন।”
“আজ না।”
তৃণা বিরক্ত হয়ে বালিশে ঠেস দিয়ে বসে পড়ে।
“আপনি সবসময় আমাদের মাঝে কথার দূরত্ব রাখেন। কিছু যদি না জানাতে চান তাহলে আমার সাথে দেখা কেনো করলেন? আর কেনোই বা এখানে এলাম?”
রওনক ধীরে উত্তর দেয়,
“জাস্ট ট্রাস্ট মি ফর সাম টাইম।”
কথাটা শুনে তৃণা চোখ তুলে তাকায়। লোকটা কেমন করে তাকিয়ে আছে। বুকের ভেতরটা অসহনীয় ভাবে টিপটিপ করে চলেছে তৃণার।
বাইরে বৃষ্টি একটু থেমেছে। ছাদের ওপর টুপটাপ শব্দ।
রওনক এবার স্বর নরম করে বলে,
“অনেক রাত হয়েছে। ঘুমাও। এখন এসব কথা বলার সময় না।”
তৃণা আর কিছু বলে না। শুধু তাকিয়ে থাকে।
লোকটার চোখ মুখ দেখে কিছুই আন্দাজ করা যায় না।
কিছুক্ষণ পর রওনক বিছানার এক পাশে শুয়ে পড়ে। দূরত্ব রেখে।
“ঘুমাও।”
তৃণা শোয় না। বসেই থাকে।
“আপনি ঘুমাবেন?”
“হ্যা।”
তৃণাও ধীরে শুয়ে পড়ে।
কমফোর্টার টেনে নেয় গলা পর্যন্ত। চোখ বন্ধ করে আবার খুলে ফেলে।
“আপনি কি কাল চলে যাবেন?”
“কাজ শেষ হলে।”
দুজনেই থেমে যায়। আর কোনো কথা বলে না।
কিছুক্ষণ পর রওনক উঠে ল্যাম্পটা বন্ধ করে দেয়।
তৃণা চোখ বুজে ফেলে। কিন্তু ঘুম আসে না। ঘড়ির কাটা টিকটিক করে এগিয়ে চলে। সেই সাথে রুমের ভেতর নীরবতা জমে ওঠে।
রাত অনেক গভীর।
বাইরের বৃষ্টি থেমে গেছে অনেক আগেই। জানালার কাঁচে শুধু জমে থাকা পানির রেখা। দূরে কোথাও কুকুর ডাকছে। ঘরের ভেতর অন্ধকারে শুধু ঘড়ির টিকটিক শব্দ।
হঠাৎ রওনকের ঘুম ভেঙে যায়।
প্রথমে বুঝতে পারে না বুকের কাছটা কেন ভারী লাগছে। তারপর টের পায় বুকের ওপর নরম, উষ্ণ একটা ভার।
ভ্রু কুঁচকে ধীরে চোখ মেলে সে।
আবছা অন্ধকারে কয়েক সেকেন্ড লাগে দৃশ্যটা পরিষ্কার হতে।
চোখ নামাতেই দেখে তৃণাকে।
সে প্রায় পুরোটা শরীর দিয়ে তাকে জড়িয়ে আছে। মাথা রওনকের বুকের কাছে গুঁজে রাখা। হাতটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে তার টি-শার্ট।
রওনক স্থির হয়ে যায়। মেয়েটার শ্বাস খুব গরম লাগছে। অস্বাভাবিক গরম।
সে খুব ধীরে হাত তোলে। তৃণার কপালে ছোঁয়।
মেয়েটার শরীর জ্বরে পুড়ছে।
নিচু স্বরে ডাক দেয়,
“তৃণলতা..”
কোনো সাড়া নেই।
রওনক নড়তে যায়। কিন্তু তৃণার হাত আরও শক্ত হয়ে আঁকড়ে ধরে। অচেতন অবস্থাতেও তাকে ছাড়তে রাজি না।
রওনক থেমে যায়। এক মুহূর্ত দ্বিধা কাজ করে।
তারপর ধীরে এক হাত তৃণার পিঠে রাখে।
জ্বরে তৃণার শরীরটা কাঁপছে।
রওনক কমফোর্টারটা একটু টেনে দুজনের ওপর ভালো করে ঢেকে দেয়। নিজের বুকের কাছে আরেকটু সরিয়ে আনে তাকে।
“যেভাবে ভিজে ছিলে। এতো বললাম শুনলে না। এখন জ্বর বাঁধিয়ে ফেলেছো।”
কথাটা তৃণা শুনেছে কিনা বুঝা গেলো না তবে তৃণার মুখটা সামান্য নড়ে। অচেতন গলায় অস্পষ্ট শব্দ বের হয়। সেগুলো অবশ্য রওনকের কর্ন অবধি এসে পৌছায় না।
তৃণা কাছে সরে আসে আরও। রওনকের বুকের ভেতর চাপা কাঁপন ওঠে।
ধীরে হাত রাখে তার মাথায়। ভেজা চুলের ভেতর আঙুল ছুঁইয়ে থাকে। অনেকক্ষণ সে এভাবেই থাকে।
অনেকটা সময় নির্ঘুম কাটায় সে। সময় এগিয়ে প্রায় ভোর হয়ে আসে। চোখটা তখন লেগে যায় রওনকের।
বাইরে রাত ধীরে ধীরে কেটে ভোর হ। সূর্য উঁকি দিচ্ছে।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুজনে এতোটা কাছাকাছি কখন চলে এলো টের পায়নি কেউ। হয়তো এ এক নতুন শুরু।
….
(চলবে..)
(কোথাও বানান ভুল হলে অবশ্যই জানাবেন। এটা পর্ব ৯ এর ২য় অংশ ছিলো।)
বইটই তে রওনক-তৃণা সহ বাকিদের গল্প ই-বুক আকারে চলে এসেছে। পড়েছেন তো?
আজই শেষ দিন ডিসকাউন্টে “মেজর শিকদার” ই-বুক সংগ্রহ করার। পিন কমেন্টে ই-বুক লিংক দিয়ে দিবো।
Share On:
TAGS: ঈশিতা ইশা, মেজর শিকদার
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মেজর শিকদার পর্ব ১
-
মেজর শিকদার পর্ব ৫
-
মেজর শিকদার পর্ব ৭
-
মেজর শিকদার পর্ব ২
-
মেজর শিকদার পর্ব ৬
-
মেজর শিকদার পর্ব ৪
-
মেজর শিকদার পর্ব ৩
-
মেজর শিকদার পর্ব ৯
-
মেজর শিকদার গল্পের লিংক
-
মেজর শিকদার পর্ব ৮