Golpo ডিফেন্স রিলেটেড মেজর ওয়াসিফ

মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৫


মেজর_ওয়াসিফ

লেখনীতেঐশীরহমান

পর্ব_০৫

[ 🚫 কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫]

ভোরের প্রথম আলো যখন পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে রক্তিম আভা ছড়াচ্ছে, তখন সিএমএইচ-এর (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) করিডোরে এক অস্থির স্তব্ধতা। অপারেশন থিয়েটারের বাইরের লাল বাতিটা এক টানা জ্বলে আছে। ইউনিফর্মে রক্তের দাগ আর ধুলোবালি মেখেই করিডোরে পাথরের মূর্তির মতো বসে আছে আরিয়ান আর সামির। তাদের চোখে ঘুম নেই, আছে এক অপরাধবোধ মিশ্রিত উদ্বেগ। তাদের মেজর, তাদের বড় ভাই শাহেদ ওয়াসিফ ভেতরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।

মেজর ওয়াসিফের বাম কাঁধের হাড়টা বুলেটের আঘাতে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার রক্তচাপ এখন বিপজ্জনক মাত্রায় নিচে। কিন্তু ট্রমার মধ্যেও অবচেতন মনে মানুষটা শুধু একটা কথাই আওড়াচ্ছিল— “ড্রাইভটা সেফ তো?”
ওভাবে ভাবলেশহীন বসে থেকে সামির বলে।
‘ ভাই জীবনে মানুষ বহুত দেখেছি, শাহেদ ওয়াসিফের মতো আরেকটা দেখিনি, বাঘের মতো কোনো কিছুতেই ভয় নেই। গুলি খেলো অথচ তখনও আমাকে চেচিয়ে চেচিয়ে বলে তার কিছু হয়নি’
ওর কথার জবাবে আরিয়ান বলে।
‘ উনাদের মতো অকুতোভয় মানুষ গুলো ডিফেন্স সেক্টরে আছে বলেই তো এই সেক্টরগুলোর এতো সুনাম। টিকে আছে আজও বাংলাদেশের বুকে দৃঢ়তার সঙ্গে ‘
সামির নড়েচড়ে বসে বলে।

‘ শুনেছিলাম, স্যার নাকি সদ্য বিয়ে করেছে’

আরিয়ান জানতো না বিষয়টা, বললো।

‘ বলিস কি? স্যার বিয়ে করেছেন? আমি তো জানি না’

‘ আপাতত এই এক্সিডেন্টের খবর কেউ উনার বাড়িতে পৌঁছাস না’

‘ আমরা না পৌছালে কি হবে মিডিয়া কি চুপ করে থাকবে’?

‘ মিডিয়ার বিষয়টা মেজর হাসান সামলে নেবে’


আজ খুব ভোরেই ঘুম ভাঙলো ধারার। তখন সকাল ৫:৪৫। ও যখন ঘুম থেকে উঠে রুমের বাইরে পা রাখলো দেখলো বাড়িতে এখনো কেউ ওঠেনি। ফজরের নামাজ শেষ করেই আবার শুয়েছে বোধহয় সবাই। ও তাড়াতাড়ি করে হাতমুখ ধুয়ে উঁকি দিলো বড়ো আম্মার ঘরে। ভদ্রমহিলা তখন নামাজ শেষ করে কোরআন পড়ছেন। ধারা জিজ্ঞেস করলো।

” আমি চা খাচ্ছি, তুমি খাবে বড়ো আম্মা। বানাবো তোমার জন্য “?

শাহেনূর মাথা ঘুরিয়ে তাকায় ধারার দিকে, বলে।

” তোকে বানাতে হবেনা, আমি উঠে বানিয়ে দেবো, বাড়িতে গ্যাস শেষ গতকাল রাতেই, বাইরের কাঠের চুলা ধরাতে হবে”

” ও গ্যাস শেষ “

” হু”

ধারার চা বানানোর ব্যাপারটা ছিলো নিতান্তই অজুহাত। ও আসলে কথায় কথায় জানতে এসেছে ওয়াসিফ বিষয়।ও একটু এগিয়ে গিয়ে বসলো বড়ো আম্মার পাশে। মিনিট পাঁচেক চুপচাপ বসে থাকার পর শাহেনূর পড়া শেষ করেই ওঠে। ধারাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে বলে।

” তোর কোচিং আছে “?

” নাহ”

” তাহলে আজ এতো সকালে উঠলি যে”?

” ঘুম ভেঙে গেছে, আর আসেনি”

শাহেনূর সবকিছু গুছিয়ে ঘর থেকে বের হলে ধারাও তার পিছু পিছু ঘর থেকে বের হয়। শাহেনূর প্রথমে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় হাস, মুরগির ঘর গুলো খুলে দিতে। ধারাও যায় সঙ্গে সঙ্গে। ধারাকে ওভাবে পিছু পিছু থাকতে দেখে বলে।

” তোর তো চায়ের নেশা নেই, যখন পাস, তখন খাস, আজ এতো জরুরি কেনো? গলা ভেঙেছিস? ঠান্ডা লেগেছে “?

” নাহ, এমনি”

” বড়োঘর থেকে রান্না ঘরের চাবিটা নিয়ে আয়, আমি আনতে ভুলে গেছি”

ধারা ছুটে গিয়ে চাবি আনে। বড়ো মায়ের সঙ্গে সঙ্গে থেকে চা বানিয়ে নেয়। শাহেনূর চা খেতে খেতে ধারাকে বলে।

” ওয়াসিফের তোকে কল করেছিলো?ওর শরীরটা নাকি ভালো না, গতকাল থেকে নাকি জ্বর উঠেছে”

ধারা চুপচাপ চা খেতে খেতে শোনে বড়ো আম্মার কথা। নাহ তার সঙ্গে ওয়াসিফ যাওয়ার পর কখনো কথা হয়নি। না ধারা তাকে কল দিয়েছে, না ওয়াসিফ কল করেছে। ধারা বলে।

“আমাকে কোনো কল দেয়নি তোমার ছেলে”

” আমাকেও দেয়নি”

” তবে তুমি খবর পেলে কোথায় “?

” ওর এক সহকর্মী কল দিয়ে জানালো গতকাল রাতে”

” ওও”


হাসপাতালের ভেতরে সার্জনরা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বুলেটের স্প্লিন্টারগুলো হাড়ের অনেকটা গভীরে ঢুকে গিয়েছিল। প্রায় চার ঘণ্টার ম্যারাথন অপারেশন শেষে ডাক্তার বেরিয়ে এলেন। আরিয়ান আর সামির এক লাফে উঠে দাঁড়াল।

” ডাক্তার! স্যার কেমন আছেন?কোনো জটিলতা নেই তো?” আরিয়ানের ব্যাকুল প্রশ্ন।

ডাক্তার মাস্ক খুলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “অপারেশন ভালো হয়েছে। বুলেট বের করা হয়েছে। তবে হিউমারাস বোন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টা উনাকে অবজারভেশনে রাখা হবে। সেন্স না ফেরা পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ধৈর্য্য রাখুন, আল্লাহকে ডাকুন”

সামির দেয়ালে কপাল ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। ও জানে, এই লোকটা শুধু তাদের অফিসার নয়, এই লোকটা তাদের ঢাল। ডিপার্টমেন্টের মস্ত বড়ো এক ঢাল এই শাহেদ ওয়াসিফ।

তিন দিন কেটে গেছে। ধারা বিষয়টা সহজভাবে হজম করতে পারছেনা।ওর কেন জানি বারবার মনে পড়ছে লোকটার শাসন করা মুখটা। সেই শান্ত চোখের চাহনি, যা ওকে সবসময় শাসন করতো। ধমকাতো। সামান্য অসুস্থতা, একটু জ্বর হয়েছে বলে মানুষটা বিগত চারদিন বাড়ির লোকেদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করবেনা একথা ধারার মোটেও বিশ্বাস হচ্ছে না। ও গম্ভীর হয়ে যখন ঘরময় পায়চারি জুড়েছে লুইপা দেখে চিন্তিত বোনকে। বলে।

” কোনো সমস্যা তোর? কিছু হয়েছে”?

ধারা মিনিট খানেক বোনের দিকে তাকিয়ে থেকে বলে।

” আপা! তোদের ভাইজান বাড়িতে কাউকে কল দেয়নি গত দুই দিন। এমনকি বড়ো আম্মাকেও না। তার ফোন বন্ধ। বিষয়টাকে তুই কিভাবে দেখছিস?”

লুইপা দরজার কাছ থেকে হেঁটে এসে বসে খাটে, বলে।

” এটা নরমাল ঘটনা, এমনও মাস, দিন আছে ভাইজান সপ্তাহের পর সপ্তাহ বাড়িতে কোনো যোগাযোগ রাখেনি। যতোবারই বড়ো আম্মা এর পেছনের কারণ জিজ্ঞেস করেছে ভাইজানকে বলতে শুনেছি কাজের চাপ বেশি। তবে এবার তো শুনলাম সে একটু অসুস্থ, জ্বর,ঠান্ডা লেগেছে “

” জীবনে কখনো শুনেছিস আপা, ঠান্ডা জ্বর হলে মানুষ বাড়িতে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়”

” কি জানি, বুঝিনা তো ওসব, ভাইজান যা বলে তাই বিশ্বাস করি”

” তোদের ভাইজান একটা চরম মিথ্যাবাদী লোক”

লুইপা ভ্রু কুচকে ফেলে, জিজ্ঞেস করে।

” তুই হঠাৎ ঐ মানুষটার পেছনে পড়েছিস কেনো? তোর কোনো কাজ নেই “?

” আছে”

” তাহলে যা, সেই কাজ কর”

এবার ধারা ওর মস্তিষ্কে চলা কথাটা বলে ফেলে।

” এই আপা, তোর কাছে উনার কোনো বন্ধু বা কর্মীদের ফোন নাম্বার আছে “?

” নাহ, কেনো”?

” কেনো আবার? তুই বিষয়টা বুঝতে পারছিস না? একটা মানুষ হুট করেই চারদিন লাপাত্তা। বিষয়টা আমার ঠিক হজম হচ্ছেনা আপা”

লুইপা এবার ভাবতে বসলো, কিছু সময় পর ও বলে।

” বড়ো আম্মার ফোনে আরিয়ান নামে সেভ করা একটা নাম্বার আছে। ঐ নাম্বার থেকে কল দিয়েই তো বড়ো আম্মা কে তিনি জানিয়েছেন ভাইজান সামান্য অসুস্থ। বড়ো আম্মার ফোন নিয়ে আয়, ঐ নাম্বার তুলে তোর সিম দিয়ে কল দিতে পারিস”

ধারা আর এক মিনিট ও দাঁড়ায় না, ও ছুটে গিয়ে সাথে সাথে ও ঘর থেকে বড়ো আম্মার ফোন নিয়ে এলো। দেখেশুনে নাম্বারটা তুললো ওর ফোনে। দু’বার কল যেতেই ফোনকলটি রিসিভ হলো।

ওপাশ থেকে এক গম্ভীর কণ্ঠস্বর ভেসে এলো, “হ্যালো?”

ধারা কাঁপা গলায় বলল, ” হ্যালো! আসসালামু আলাইকুম “

” জি ওয়ালাইকুম আসসালাম, কে বলছেন”?

ইতিমধ্যে ফোন নিয়ে ধারা ঠ্যালাঠ্যালি লাগিয়েছে লুইপার সঙ্গে। ধারা বারবার ফোনটা লুইপার কানে ঠেকিয়ে ফিসফিস করে বলছে।

” এই আপা তুই কথা বল”
লুইপা বারবারই ফোন সরিয়ে ধারার মতো ফিসফিস করে বলছে।

‘ তুই বল, আমি পারবোনা’

ওপাশ থেকে আবার ও আরিয়ান বলে।

” হ্যালো কে বলছেন”?

লুইপা ধারার সঙ্গে ঠ্যালাঠ্যালি চলমান রেখে যখন পেরে উঠলোনা, বললো।

‘ মেজর ওয়াসিফের ওয়াইফ মুমতাহিনা বলছে’

আরিয়ান কিছুটা হকচকিয়ে গেল। ও ওয়াসিফের বিয়ের খবর জানত, কিন্তু এই প্রথম ধারার সাথে কথা বলছে। ও নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “জি ভাবি, সরি! ম্যাম”

এবার লুইপা ওর হাতে ফোন গুজে দিয়ে সরে দাড়ায়। ধারাকে মৃদু ধমকে বলে। ” এই ছ্যামরি কথা বল”

ধারা ফোন কানে চেপে কোনোমতে বলল, “উনি আছেন? কথা বলতে পারবেন? আসলে বড়ো আম্মা মানে উনার আম্মা ভীষণ চিন্তিত, একটু যদি কথা বলতেন..”

“নো ম্যাম, স্যার এখন কথা বলতে পারবেন না। তবে আমি তাকে জানাবো বিষয়টি, খুব জলদি স্যার আপনাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। রাখছি, আল্লাহ হাফেজ।আসসালামু আলাইকুম “

কথা এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই আরিয়ান জলদি ফোনকল কাটে। স্যার যেহেতু একবার নিষেধ করেছেন তার এমনতর এক্সিডেন্টের কথা বাড়িতে জানানো যাবেনা। তার মা হার্টের পেশেন্ট, তারমানে কিছুতেই এই রিস্ক নেওয়া যাবেনা। যতক্ষণ পর্যন্ত এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব এড়িয়ে যেতে হবে। বাকিটা শাহেদ ওয়াসিফ সুস্থ হলে বুঝবে।

ওদিকে ফোন কাটার পর ধারার মনের অস্থিরতা কয়েক গুণ বেড়ে গেল। সে লুইপার দিকে তাকিয়ে বলল, “শুনলি তো? লোকটা কথা বলতে দিল না। বিজি থাকার অজুহাত দিল। আরিয়ান লোকটার গলার স্বর কেমন যেন কাঁপছিল, খেয়াল করেছিস?”

লুইপা ধারার হাত ধরে শান্ত করার চেষ্টা করল। “তুই বেশি ভাবছিস ধারা। ডিফেন্সের কাজ তো এমনই। হয়তো কোনো জরুরি কাজ আছে তাই ফোন ধরতে পারছে না।”

“না আপা, আমার মন বলছে কিছু একটা লুকাচ্ছে ওরা। ওই লোকটা (আরিয়ান) একবারও জিজ্ঞেস করল না যে বড়ো আম্মা কেন কথা বলতে চাচ্ছে, বরং তাড়াহুড়ো করে ফোন রাখল। আমি এটা এভাবে অবাক হচ্ছি, তুই হচ্ছিস না”?

” নাহ, আমি তোর মতো ওতো জটিল করে বিষয়টা দেখছি না। চুপচাপ গিয়ে পড়তে বোস, নাটক কম কর”
বলতে বলতে লুইপা ঘর থেকে বের হয়। এদিকে ধারা রাগে কোমরে হাত চেপে রেখে চেচিয়ে লুইপা কে বলে।

” আমি নাটক করি? নাটক তুই করিস, তোর ভাইজান করে? তোরা সবগুলো নাটকবাজ”

লুইপা দরজার আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে বলে যায়।

” আর তুই হলি ভাইজানের পরিচালিত নাটকের প্রধান চরিত্র মুমতাহিনা ধারা “


সেই ভয়াবহ দূর্ঘটনার আজ তৃতীয় দিন! যখন মেজর শাহেদ ওয়াসিফ প্রথমবারের মতো চোখ মেলে তাকাল, ওর ঝাপসা দৃষ্টির সামনে ভেসে উঠল ধবধবে সাদা সিলিং। নাকে ওষুধের কটু গন্ধ। বাম কাঁধটা এক অসহ্য যন্ত্রণায় অবশ হয়ে আছে। ও চাইল একবার নড়তে, কিন্তু পারল না।

পাশে বসে থাকা সামির আনন্দে চিৎকার করে উঠল, “স্যার! আপনি চোখ খুলেছেন! ডক্টর, স্যার সেন্স ফিরে পেয়েছেন!”

ডাক্তার এলেন, চেকআপ করলেন। ওয়াসিফের জ্ঞান ফিরলেও সে খুব দুর্বল। ওর জিব শুকিয়ে কাঠ। অনেক কষ্টে ও অস্ফুট স্বরে বলল, “ড্রাইভ… ডাটা ড্রাইভটা?”

ডাক্তার হাসলেন। পাশ থেকে ওর হাতটা আলতো ধরে আরিয়ান বলে “মেজর, আপনি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছেন, আর এখনো ড্রাইভ নিয়ে পড়ে আছেন? ড্রাইভ হেডকোয়ার্টারে পৌঁছে গেছে। মিশন ১০০% সাকসেসফুল।”

ওয়াসিফ একটু আশ্বস্ত হলো। তারপর বিড়বিড় করে বলল, “বাড়িতে… কিছু ?”

সামির বলল, “না স্যার, বাড়িতে সবাই জানে আপনি সামান্য অসুস্থ, । এতটুকুতেই তারা খুব চিন্তা করছে। আপনি কি কথা বলবেন?”

ওয়াসিফ সামান্য মাথা নাড়ল। ফোনটা লাউডস্পিকারে দিয়ে ওর মায়ের নাম্বারে কল দেওয়া হলো। কিন্তু ওপাশে ফোনটা রিসিভ করল ধারা। তখন শাহেনূর রান্না ঘরে।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply