Golpo ডিফেন্স রিলেটেড মেজর ওয়াসিফ

মেজর ওয়াসিফ পর্ব ২১


মেজর_ওয়াসিফ

লেখনীতেঐশীরহমান

পর্ব_২১

[ 🚫 কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫]

বাইরের সেই ঝড়ো হাওয়া থেমে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। আজ এরাতে আর কারেন্ট আসবেনা এতটুকু নিশ্চিত ধারা। ঐ খাটে আয়েশ করে শুয়ে থাকা মানুষটার সঙ্গে এতক্ষণ মুখ চালিয়ে ও চুপচাপ বসেছে দরজা পিঠ ঠেকিয়ে। বেশ কিছুটা সময় নিরবতায় কাটলো ওদের। কেউ আর কোনো কথা বলছেনা, না ওয়াসিফ না ধারা। ওয়াসিফের তরফ থেকে যখন আর কোনো কথা এলোনা ধারা বুঝলো মানুষটা ঘুমিয়েছে। ওর ও ভীষণ ঘুম ঘুম পাচ্ছে, কিন্তু নিজের ভেতরকার সংশয় কাটিয়ে বলতে পারছেনা, ‘ হয় বিছানায় জায়গা করে দিন নয়তো এঘর থেকে যেতে দিন। দরজা আঁটকে মেঝেতে ফেলে রাখার মানে কি’?

ওর ওসব চিন্তা ভাবনার মধ্যে জেগে থাকা ওয়াসিফ বলে ওঠে।

‘ তুই কি মেঝেতে ঘুমাবি? বালিশ দেবো’?

ধারা সে কথার কোনো জবাব দেয় না। চুপ করে বসে থাকে। ওয়াসিফ ফের বলে।

‘ বৃষ্টি বাদলের দিন, মেঝেতে কত পোকা মাকড় উঠবে, আয় এখানে ঘুমাবি, জায়গা করে দিচ্ছি ‘

বিছানার এক সাইডে সরে গিয়ে বলতে থাকে।

‘ এতো বড়ো বিছানা আমার লাগে না, তুই ইজিলি ঘুমাতে পারবি। আয় উঠে আয়’

ধারার রাগ বাড়ে, একটু আগে গেট আউট বলে তাড়িয়ে দিচ্ছিলো এখন আবার দরদ দেখিয়ে বিছানায় শুতে ডাকছে, পোকা মাকড়ের ভয় দেখাচ্ছে। সবকিছু ই ধারার কাছে অসহ্য ঠেকলো, চিবিয়ে চিবিয়ে বললো।

‘ আপনার মর্জি মতো আপনাকে বিয়ে করতে হবে, আবার আপনার মর্জি মতো আপনার পাশে শুতেও হবে। সবকিছু কি মগের মুল্লুক পেয়েছেন নাকি’?

ওর ওসব কথায় ভ্রু কুঁচকে ফেলে ওয়াসিফ। বলে।

‘ তোর যা খুশি কর, যেখানে মন চায় ঘুমা। খবরদার দরজা খুলে বাইরে যাবিনা, তাহলে তোর খবর আছে। ‘

ধারা ও কথার বিপরীতে মুখে ভেঙেছি কেটে চুপচাপ বসে থাকলেও ওর মনে মনে একটু একটু ভয় লাগে। এমনিতেই বৃষ্টি, তারউপর ফ্লোরে যদি বিচ্ছু পোকা মাকড় থাকে, তবে ভয়াবহ কান্ড হবে।
ধারা কতক্ষণ সময় নিয়ে চেষ্টা করলো দরজার ছিটকিনি খোলার। তারপর বুঝতে পারলো এই দরজার উপর, নিচ দুটো ছিটকিনিই খুব শক্ত করে আঁটকে দেওয়া। নিচেরটা কষ্ট করে খোলা গেলেও উপরেরটা ধারার হাতের নাগালে পাওয়া মুশকিল। খুলতে গেলে চেয়ার বা চৌকি টেনে এনে তার উপর দাঁড়িয়ে খুলতে হবে। অন্ধকারে সেসব সম্ভব না।

আকস্মিক পায়ে কিছু অনুভব হতেই ধারা একটানে পা গুছিয়ে এনে মৃদুস্বরে শব্দ করে। সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ায়। অন্ধকারে ও কিছু দেখতে পায়না। ওটা আসলেই কিছু ছিলো নাকি মনের ভ্রম বুঝতে পারে না। তবে ওর ভয় গাঢ় হয়, ফ্লোরে হাত পা মেলে আর বসে থাকতে পারে না। এক পা দু পা করে ও হাতড়ে হাটে এঘরের ইজি চেয়ারটার খোঁজে। যেহেতু ওয়াসিফ বিছানায় তাহলে চেয়ারটা তো এখন ফাঁকা, ওর উদ্দেশ্য ঐ চেয়ারটাতে গিয়ে বসা।

অবশেষে চেয়ারটা পেতেই ধারা খুশি খুশি মনে পা গুছিয়ে জুবুথুবু হয়ে বসে। এই চেয়ারটা বেশ বড়োসড়ো, ওর মতো ধারা অনায়াসে এখানে ঝিমুতে পারবে আজ রাত।


গতকালের ঝড় বৃষ্টি থেমে পূর্ব আকাশে সূর্য উঠেছে। নিজস্ব দূতি ছড়িয়ে জানান দিচ্ছে নতুন আরেক ভোর শুরু হয়েছে। সূর্যরশ্মি যখন বন্ধ জানালার ফাঁকফোকর থেকে চোখের উপর আছড়ে পড়লো যখন গাঢ় ঘুমের ছটা কেটে গিয়ে অনিচ্ছায় চোখ পিটপিট করে তাকায় ধারা। দু’হাতে চোখ কচলে ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে উঠে বসতেই ওর কানে এবার স্পষ্ট আসে নিচ তালা থেকে পুরুষের সোরগোলের আওয়াজ। বাড়ির লোকেদের গলা চিনতে ভুল হলোনা ওর মোটেও। ও চোখ মুখ থেকে হাত সরিয়ে ঘুরে বসতেই সামান্য চমকে ওঠে নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করে। ওর স্পষ্ট মনে আছে ও ইজি চেয়ারটাতে ছিলো তবে বিছানায় এলো কি করে? ওর তো ঘুমের মধ্যে হাটাহাটি করার অভ্যাস নেই। মিনিট খানেক সময় নিয়ে ভেবে চিন্তে বুঝলো এটা কার কাজ।
এঘরে আপাতত সেই লোক নেই, তবে কি বেলা বেশি হলো? যা হলো আপাতত তা মাথা থেকে ফেলে গায়ে ওড়নাটা ঠিক ভাবে নিয়ে ও ছুটে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। সকাল সকাল সবাই এভাবে কি নিয়ে কথা বলছে? কিছু কি হলো বাড়িতে? আপারই বা এখন কি অবস্থা?

এসব ভাবতে ভাবতেই ধারা সদ্য ঘুম থেকে ওঠা চেহারাটা নিয়ে দাড়ায় নিচ তালায়, যেখানে ওর বাবা, চাচা, বড়ো আম্মা, মা, ওয়াসিফ সবাই আছে। ধারা চোখ ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এক পলক করে দেখে সবাই কে। ওয়াসিফ চায়ের কাপটা শক্ত করে ডান হাতে চেপে ধরে বসে আছে। চাচার চেহারাটা চোখে পড়তেই বুঝলো তিনি ভীষণ রেগে আছেন, কারণ আর কি ই বা হতে পারে, আপা ছাড়া।

লুইপার বাবা এবার কটাক্ষ করে ওয়াসিফ কে কথাটা বলেই বসেন।

‘ তোমার তো সরকারি চাকরি, তোমার বয়স যতই হোক, তোমার ভালো ক্যারিয়ার দেখে তবেইনা মইনুল ধারাকে তোমার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছে। শোনো ওয়াসিফ! মেয়ের বাবাকে তার মেয়ের ভালো মন্দ বুঝ দিতে এসোনা। তখন বুঝবে যখন তুমি মেয়ের বাবা হবে। একজন বাবা কখনোই তার মেয়ের খারাপ চাইবেনা। ঐ ছেলের কি আছে? কিসের ভরসায় আমার মেয়েকে ঐ ঘরে পাঠাবো? কিসের চাকরি বলে ওটাকে? আজ আছে কাল নেই? ‘

ওখানে উপস্থিত সবাই চুপচাপ দাড়িয়ে আছে, ধারার মাথায় ঢুকছেনা হঠাৎ চাচা ভাইপোর কথা-কাটাকাটি কেনো হচ্ছে?
ওয়াসিফ কথাটা মনোযোগ দিয়ে শুনলো, চায়ের কাপটা হাত থেকে নামিয়ে টেবিলে রাখতে রাখতে বললো।

‘ আচ্ছা আপনার কথা মানলাম, মেজো চাচা মুমতাহিনা কে আমার সঙ্গে আমার কথাতে রাজি হয়ে বিয়ে দিয়েছে আমার ক্যারিয়ার পজিশন ভালো বলে, সরকারি চাকরি আমার, মাস শেষে গোনা টাকা এসব দেখে, আমার আর তার মেয়ের বয়সের তফাত দেখেনি। এই পরযন্ত আপনার কথা ঠিক আছে মানলাম। তবে শিক্ষিত মেজো চাচা তিনি তো এটাও জানেন, আমার ক্যারিয়ার কতো রিস্ক, আমার জানটা যখন তখন চলে যেতে পারে৷ তখন তার অল্প বয়সী মেয়েটার কি হবে? সেটা কি তিনি ভাবেন নি?’

এতটুকু বলেই থামে ওয়াসিফ, আবারও বলে।

‘ এইতো বিয়ের সপ্তাহ খানেক পার না হতেই গুলি খেলাম, মরেও তো যেতে পারতাম তখন, বেঁচে যে ফিরবো এই কথা কে জানতো’?

ওয়াসিফ যে গুলি খেয়েছে এই কথা ওর মুখ থেকে শুনতে সবার চোখ ওর দিকে এই মুহূর্তে। শাহেনূর চুপচাপ শুধু ছেলেকে দেখে। ওয়াসিফ বলে।

‘ আজ এবং আগামীকাল আমাদের জীবনে কি ঘটবে কি হবে না হবে? এটা আমি আপনি এমনকি দুনিয়ার কোনো মানুষই নিশ্চিয়তা দিয়ে কখনোই বলতে পারিনা। আপনি টাকা, পয়সা, সরকারি চাকরি দেখে মেয়ের সুখ কিনতে চাইলেন কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ আপনার কপালে সেটা রাখলোনা তখন কি করবেন?’

লুইপার বাবা ভদ্রলোক চুপচাপ বসে রইলো, ওয়াসিফের কথার জবাব দিচ্ছেন না তিনি। তবে চোখ মুখের ভাবটা এমন যে তিনি এসব কথাকে গুরুত্বই দিচ্ছেন না। ওয়াসিফ ও আর কথা খরচ করতে চাইলোনা। যারা অবুঝ তাদের বলে বলে বোঝানো সম্ভব কিন্তু বুঝদার লোকেদের কখনোই নতুন করে বুঝ দেওয়া সম্ভব না। ওয়াসিফ এবার ঘুরে তাকায় মেজো চাচার দিকে। জানতে চায়।

‘ মুমতাহিনা কে আমার কথাতে আমার সঙ্গে বিয়ে দিতে কেনো রাজি হয়েছিলেন মেজো চাচা? সেদিন জানতে চাইনি তবে আজ চাচ্ছি। আপনি বা চাচি আম্মা চাইলেই সেদিন আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারতেন দেননি কেনো? যার জীবনের ঝুঁকির শেষ নেই সেরকম একটা লোকের হাতে মেয়ে তুলে দিয়েছিলেন কেনো আপনি আর চাচি আম্মা ‘?

ধারার বাবা মইনুল সাহেব নিরবে এক পলক ধারার মায়ের দিকে তাকিয়ে শান্ত কন্ঠে জবাব দেয়

‘ তুমি আমার বড়ো ভাইয়ের সন্তান ওয়াসিফ, ভাইজান ছিলেন আমাদের মাথার উপর বট গাছের মতো। ভাইজান বেঁচে নেই, তোমাকে চোখের সামনে বড়ো হতে দেখেছি, জীবনে কখনো কিছু আমার কাছে আবদার করোনি কিছু নিয়ে। নিজের পরিশ্রম দিয়ে নিজেকে গড়েছো।সেই তুমি যখন আমাদের কাছে আমাদের মেয়েটাকে চেয়ে বসলে তখন আর ফিরিয়ে দিতে পারিনি। একবাক্যে মেয়েটাকে তোমার হাতে দিয়েছি। আগে পরে কি হবে ওতোসব ভাবিনি, আজও ভাবিনা’

ওয়াসিফ মনোযোগ দিয়ে শুনলো কথা গুলো, কথাগুলো ওর মনকে শান্ত করলো। আস্তে করে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। দৃঢ় এবং শান্ত কন্ঠে নিজের মা কে উদ্দেশ্য করে বলে।

‘ আমি চট্টগ্রাম রওনা হবো আম্মা, আমার ঘরে এসো তো, কথা আছে ‘

ওয়াসিফ হেঁটে সোজা দোতলায় ওঠে, ধারা কে সামনে পেয়ে এক পলক তাকিয়ে দেখে চলে যায়।

চলবে

পর্ব ছোট বলে আজ কেউ কমেন্ট করবেন না। পর্ব ছোট হয়েছে আমি নিজেও জানি। আজ এতটুকু ই পড়ুন, সারাদিন দৌড়াদৌড়ির উপর। বসার সময়টুকু পাচ্ছি না। অনুগ্রহ করে যারা গল্প পড়ছেন একটু রেসপন্স করে যাইয়েন।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply