মেজর_ওয়াসিফ
লেখনীতেঐশীরহমান
পর্ব_১৭
[ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ]
পুরো ঘর তন্ন তন্ন করে যখন কোথাও সিম আর মেমোরি কার্ডের সন্ধান পেলোনা, ওয়াসিফ একরাশ হতাশ হয়ে বিছানায় বসলো। মুমতাহিনা যে আজ ওর কথা মেনে রইলোনা এ ঘরে আপাতত এই বিষয়টা ওয়াসিফের মাথায় নেই। ওর মস্তিষ্ক ওকে ভীষণ ভাবাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ কতকিছু সেভ ছিলো ওতে,কত কল রেকর্ড, কত কত ইনফরমেশন। সবকিছু এক নিমিষেই এভাবে হারিয়ে গেলো বিষয়টা মেনে নিতে পারছেনা ওয়াসিফ। আচমকা ফোনটা কেঁপে উঠতেই ওয়াসিফ তাকায় ফোন স্কিনে। শশীর তরফ থেকে ম্যাসেজ এসেছে।
“ স্যার পেলেন”?
ফোনটা হাতে তুলে এক শব্দের জবাব পাঠালো।
“ না”
সাথে সাথে শশীর ম্যাসেজ এলো।
“ কোথায় এমন রেখেছিলেন যে এখন পাচ্ছেন না”?
“ যেখানে রাখার ছিলো সেখানে রেখেছিলাম, নসিব খারাপ তাই এখন পাচ্ছি না”
“ স্যার বুঝতে পারছেন, ওগুলো না পেলে আমরা নেক্সট স্টেপ এগোতে পারবোনা”
“ তোমার থেকে ভালো বুঝতে পারছি, রাখো এখন। ডোন্ট ডিসটার্ব”
লাস্ট ম্যাসেজটা পাঠিয়ে ফোনটা পুনরায় বিছানায় ফেলে ওয়াসিফ সটান হয়ে শুয়ে পড়ে বিছানায়। চোখ দুটো বন্ধ রেখে চুপচাপ কতক্ষণ শুয়ে থেকে আলগোছ মাথা ঘুরিয়ে ঘরের দরজার দিকে তাকিয়ে বলে।
“ বেঁচে গেলি, ঝামেলায় পড়লাম বিধায় তোকে নিয়ে বেশি ঘাটলাম না, সময় তোর হয়ে খেলছে আমার বিরুদ্ধে গিয়ে”
ধারা পড়েছে মহা ঝামেলায়, ও বারবার ওয়াসিফের ঘরের দরজার দিকে তাকাচ্ছে তো আরেকবার দোতলার খোলা বারান্দা থেকে নিচের ঝোপের দিকে তাকাচ্ছে। যেখানে মুনিব ভাই দাড়িয়ে আছে। আপার সঙ্গে একটু দেখা করতে এসেছে। বেচারা আজ বাঘের গুহায় এসেছে। কি মসিবত! এদিকে আপাকেও ডাকা যাচ্ছে না, ফোন বন্ধ করে সেই যে ধারাকে বের করে দিয়ে দরজা আটকেছে আর খুলছেই না। এদিকে ধারার ফোনটাও ঘরেই পড়ে আছে। দরজা বন্ধ করে রেখেছে, আনতেও পারছেনা।
টানা দশ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে ধারা দোতলায় দাড়িয়ে ইশারা ইঙ্গিতে বোঝাচ্ছে যে ওয়াসিফ বাড়িতে, আপা এখন বের হতে পারবেনা। কিন্তু মাথামোটা মুনিব ভাই সেই ইশারা বুঝছে না। বারবার অনুনয় বিনয় করে বোঝায়, তোমার আপা আমার উপর ভীষণ চটেছে, তাকে একটু ডেকে দেও। বেশিনা, পাঁচ মিনিট। ধারাও তাকে বিপরীত ইশারা বোঝাচ্ছে ডাকা যাবেনা। এদিকে ধারা তার ইশারা বুঝলেও সেই হাদারাম মুনিব ভাই বুঝছেনা ধারার ইশারা।
এদিকে ধারার মনে ভয়, ও বারবার পেছনে ফিরে ওয়াসিফের ঘরের দিকে তাকাচ্ছে। কখন যেনো ঐ লোক বেরিয়ে ওকে এই দোতলা থেকে ছুড়ে মারে এসব কাহিনি দেখে।
এতোবার বোঝানোর পরও যখন মুনিব কিছুই বুঝেনা ধারা নিজের কপাল নিজে চাপড়ায়। ও ক্যামনে বোঝাবে? কিভাবে বোঝাবে? চেচিয়ে বলবে? তাহলে তো হয়েই গেলো।
ধারা এবার শেষ চেষ্টা করবে বোঝাতে, না বুঝলে ধারা চলে যাবে এখান থেকে। তারপর এই মুনিব ভাই যা পারে করুক। ধরা পড়ে ঐ শাহেদ ওয়াসিফের হাতে ক্যালানি খাক ওতো কিছু ধারা দেখবেনা। মানুষ এতো বলদ হবে কেনো, বুঝবেনা কেনো ইশারা? ধারা এবার নিজের সবটুকু দিয়ে হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে বোঝায়, ‘ এখান থেকে যান, বিপদ আছে, আপা আসবেনা’
বেচারা মুনিব বোঝেনা, নিচ থেকে ধারার মুখের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলে।
“ এভাবে হাত পা ছুড়ছো কেনো তোমাকে কি ভূতে ধরেছে ধারা”?
কথাটা শুনে মেজাজ খারাপ হয় ধারার। এবার ও হাতের ইশারা থামিয়ে, ফিসফিস করে দাঁত চেপে বলে।
“ আমাকে না, আপনাকে ধরেছে ভূতে, বাড়িতে ওঝা আছে, ধোলাই দিয়ে নামিয়ে দেবে। মুনিব ভাই ভাগুন, চলে যান”
“ তোমার আপাকে একটু ডেকে দেও প্লিজ”
পুনরায় ও কথা শুনে এবার নিজেকেই নিজের কাছে ভীষণ অসহায় লাগে ধারার। ইচ্ছে করছে নিজের মাথায় নিজে একটা বাড়ি মেরে বেহুশ হয়ে যেতে।
ধারা আর বোঝাবেনা। চলে যাবে এখান থেকে। এই লোক সারারাত এখানে থাকুক, যা পারে করুক। ধারা চলে যাবে, পা বাড়াতেই ওমন সময় মুনিব আরেকটু জোরে ওকে ডেকে বলে।
“ প্লিজ, ধারা”
সঙ্গে সঙ্গে পা থেমে দাঁড়ায়, চোখে মুখে আতংক, বুক ধুকপুক শুরু করে ঘাম দিচ্ছে গা। ওর সম্মুখ বরাবর দাড়িয়ে ওয়াসিফ। লোকটার চোখে মুখে সেই চিরচেনা গম্ভীরতার ছাপ। পরপর কয়েকবার ঢোক গেলে, আড়চোখে তাকায় নিচে। মুনিব ভাই এখনো দাঁড়িয়ে আছে। মুনিব ভাই দেখেনি ওয়াসিফকে, দেখলে ওভাবে দাড়িয়ে থাকার কথা না।
মিনিট দুই ধারা ওভাবে দাড়িয়ে থাকে, ওয়াসিফ ওর সঙ্গে কোনো কথা না বলে এগিয়ে দাড়ায় রেলিঙের দিকে। এবার স্পষ্ট মুনিব দেখেছে ওয়াসিফ কে। ওয়াসিফও দেখছে মুনিব কে।
এই সময় ওয়াসিফ কে এভাবে দেখবে এটা মোটেও মাথায় ছিলো না মুনিবের। তবে ও আর পাঁচটা ছেলের মতো গার্ল ফ্রেন্ডের বড় ভাই কে দেখে মোটেও ভো দৌড় মারেনি। চুপচাপ দাড়িয়ে রইলো তার দিকে তাকিয়ে। ওদের মধ্যকার নিরবতা ভাঙে ওয়াসিফ, নিজের কন্ঠের ধাছ বজায় রেখে মুনিবের উদ্দেশ্যে বলে।
“ এটা একটা ভদ্রলোকের বাড়ি, এভাবে রাত বেরাত দাড়িয়ে থেকে এবাড়ির মেয়েদের সঙ্গে দেখা করা যায় না এবং আমি এটাও মনে করি তুমি ও যথেষ্ট ভদ্র সভ্য ফ্যামিলিতে বড়ো হওয়া ছেলে, তোমার সঙ্গে এমন কাজ যায়না। আমার বোনকে যথা যোগ্য সম্মান দিয়ে পেতে হলে পরিবার নিয়ে এসো। আমি তোমার সম্মান রাখতে বোন তুলে দেবো, এবং বোনের পছন্দের কথা সবার আগে মাথায় রাখবো”
কথাটা শুনে মুনিব আলগোছ চোখ নামিয়ে নেয়। ওর গায়ে এখনো সেই সকালের শার্ট, যা গামে ভিজে চুপসে আছে গায়ের সঙ্গে। রাতেই এসেছে ঢাকা থেকে, শুক্র, শনি দুইদিনের ছুটিতে। এসেই এখানে এসেছে, বাড়িতে ঢোকেনি সে। মুনিব আর দাঁড়ায় না। ক্লান্ত শরীরে উল্টো ঘুরে হাঁটা ধরলো। আর বেহায়াপনা ঠিক করা যায় না এই লোকের সামনে দাড়িয়ে। ওয়াসিফের মাত্র বলা কথাগুলো পুনরায় মনে মনে ভাবতে ভাবতেই ও হাঁটছে। আর ঘুরে দেখেনি পিছনে।
মুনিব চলে যেতেই ওয়াসিফ ঘুরে তাকায় ধারার দিকে, ধারা এতোক্ষণ তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো। ওয়াসিফের চোখে চোখ পড়তেই চোখ নামিয়ে চুপচাপ দাড়িয়ে থাকে। এবার বোধ হয় ওর পালা, মুনিব ভাই কে তো ভদ্র ভাষায় ঝেড়েছে ওকে ঝাড়বে আরো কড়া ভাবে। কিন্তু ওর ধারণা ভুল প্রমাণ করে দিয়ে ওয়াসিফ ভীষণ নরম গলায় বলে ওঠে।
” দাড়িয়ে আছিস কেনো এখনো? গিয়ে ঘুমিয়ে পড়”
ধারা এবার মাথা তোলে বিস্ময় ছাপ নিয়ে, কি ব্যাপার? বকা খাওয়ার মতো কাজ করেও বকা খেলো না কেনো ও? ভারি অদ্ভুত তো! আপাতত ওর বিস্ময় ভাব লুকিয়ে মিনমিন করে বলে।
” ঘুমাতে যে যাবো সেই উপায় তো আপা রাখেনি, আমাকে বাইরে ফেলে দরজা আটকেছে ভেতর থেকে”
ওয়াসিফ মিনিট খানেক ওকে চুপচাপ দেখে। এরপর ভাবলেশহীন বলে।
” যেখানে পারিস ঘুমিয়ে যা, বাড়িতে তো আর ঘরের অভাব নেই “
কথাটা বলেই ওয়াসিফ ওর পাশ কাটিয়ে সোজা হাঁটা ধরলো নিজের ঘরের দিকে। মানে এখন ওয়াসিফের ভাবটা এমন যে তোকে সেধেছি বহুত, সাধলে মেয়ে তোর ভাব ভঙ্গিমা বেড়ে আকাশে উড়াউড়ি করিস বেশি। আর সাধবোনা। মেজর শাহেদ ওয়াসিফ তার আগের ফর্মে ফিরে গেছে, সফট ভাবটা আবার আগের মতো রুড করে ফেলেছে। আর কোনো সুযোগ তোকে দেওয়া হবে না।
ধারা চুপচাপ তাকিয়ে থেকে দেখে লোকটার চলে যাওয়া। ও এতক্ষণ কি ভাবলো? আর এখন ওর সাথে হচ্ছে টা কি? ও যে ঘর থেকে তখন চলে এলো, সেকথা টেনে লোকটা ওকে একটা প্রশ্নও করলোনা। আবার তার ঘরে যেতেও বললোনা। কি আশ্চর্য! আরে কি আশ্চর্য?
চলবে
গল্প দিবো ও বড়ো পর্ব দিবো। দু’টো কথার একটা কথা রাখতে পারলাম, বড়ো পর্ব দিতে না পারার জন্য দুঃখিত। আপনাদের বলে বোঝাতে পারবোনা, আমি ভীষণ ই এলার্জির মানুষ, চোখ চুলকানো, পানি পড়া, এভাবে বিগত দিন কাটছে। কোনোভাবেই একাধারে ফোন স্কিনে তাকিয়ে থাকতে পারছিনা। তবে আগামীকাল ছোট বড়ো যাইহোক আরেকটা পর্ব দিবো ইফতারের পর।
Share On:
TAGS: ঐশী রহমান, মেজর ওয়াসিফ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১০
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১৫
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১৬
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৫
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ২
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৪
-
মেজর ওয়াসিফ গল্পের লিংক
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১১
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ৭
-
মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১৩