Golpo ডিফেন্স রিলেটেড মেজর ওয়াসিফ

মেজর ওয়াসিফ পর্ব ১২[ ২য় অংশ]


মেজর_ওয়াসিফ

লেখনীতেঐশীরহমান

পর্ব_১২[ ২য় অংশ ]

[ 🚫 কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ 🚫]

একে তো মশার কামড় তারউপর ঘন্টা একটা পার হয়ে গেছে সামির খাম্বার মতো দাড়িয়ে আছে। ঐ দিকে আরিয়ান ব্যাটা করছে টা কি বুঝে উঠতে পারছেনা। ও কি আজ সারারাত এভাবে দাড়িয়ে থাকবে নাকি?
আবারও কল দেয়।

” এই তুই চাবি পেলি”?

আরিয়ান মৃদু তেতে উঠে বলে।

” চাবি কি হাতের মোয়া নাকি? দাঁড়া, দেখছি”

” আর কত দেখবি ভাই? এদিকে মশা আমাকে নিয়ে গেলো”

আরিয়ানের বিবেকে বাঁধছে স্যারকে ডেকে চাবি চাইতে। ও নিশ্চিত, চাবি চাইতে গেলে কতগুলো প্রশ্নের মুখে ওকে পড়তে হবে। ও ওয়াসিফের ঘরের দরজার সামনে থেকে দুবার ফিরে এলো। এবং তৃতীয়বার যখন ফিরতে চাইলো টের পেলো খট করে দরজা খোলার শব্দ। আরিয়ান পা থামিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়। সম্মুখ বরাবর ওয়াসিফকে দেখে সামান্য হাসার চেষ্টা করতেই ওয়াসিফ বলে।

” কি ব্যাপার ঘুমাওনি আরিয়ান”?

” জি স্যার ঘুমিয়ে ছিলাম, কিন্তু হয়েছে কি? একটা সমস্যা হয়েছে “

ওয়াসিফ দরজা ছেড়ে ওর দিকে দুই কদম এগিয়ে এসে দাঁড়ায়।

” কি সমস্যা “?

” স্যার, আমি আর সামির ওয়াশরুমে গিয়েছিলাম, আমি ঢুকতে পারলেও সামির বাইরে রয়ে গেছে। দরজায় তালা এজন্য ওকে ভেতরে আনতে পারছিনা”

চওড়া কপালে ভাজ ফেলে ওয়াসিফ বলে।

” আমাকে জানাও নি ক্যানো”?

” বুঝতে পারিনি স্যার, ভেবেছি আপনি ঘুমিয়েছেন”

ওয়াসিফ লম্বা কদমে ওর পাশ কাটিয়ে সদর দরজার দিকে যেতে যেতে বলে।

” কবে মানুষ হবে তোমরা? কোনো কিছুতেই সিরিয়াস না তোমরা দু’জন, সবকিছু মশকরা করে উড়িয়ে দেও। নিজেদের প্রফেশনের সাথে তোমাদের এসব একদম ই বেমানান “

ওয়াসিফ গেলেও আরিয়ান আর নিচে নামেনি। ও ওয়াসিফের কথা শেষ হতেই আড়ালে মুখে ভেঙেছি কেটে বিড়বিড় করে বলে।

” আপনি তো খুব সিরিয়াস লেভেলের মানুষ স্যার, তাহলে আপনার ঐ চুনোপুঁটি বৌ আপনাকে মানে না কেনো? আপনি তার কাছে ওমন নাদান বাচ্চা কেনো? বোঝান আমাকে”?

ওয়াসিফ গিয়ে দরজা খুলে দিতেই সামির বোকা বোকা হেঁসে ভেতরে ঢোকে। ওয়াসিফ একপলক দেখে দুটোকে। সামির ভেতরে ঢুকতেই আরিয়ান গিয়ে ঢুকেছে ঘরে। ওয়াসিফ আর ওদের কিছু বলেনা। চুপচাপ দরজা খুলে বাইরে থেকে চেপে দিয়ে কোথায় যেনো গেলো।

বাইরে অনেকক্ষণ দাড়িয়ে থেকে পা দু’টো ঝিম ধরে গেছে সামিরের। ও গিয়ে বিছানায় হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে পড়ে। আরিয়ান জিজ্ঞেস করে।

” স্যার গেলো কই এতো রাতে”?

সামির ওভাবে দুহাত, পা ছড়িয়ে চোখ বন্ধ রেখে বললো।

” সুখ টান দিতে”

আরিয়ান বুঝলো না।

” কি”?

” সিগারেট খেতে, বলদ কিছু বোঝেও না”

ওকে বলদ বলাতে ভীষণ মান সম্মানে লাগলো ওর, এমনিতেই স্যার কিছুক্ষণ আগে কত কি বললো। মেজাজ চটলো ওর, সেভাবেই বললো।

” হ, আমি বলদ আর তুই মেলা বুদ্ধিমান, এজন্যই তো হাগতে গিয়ে বাইরে পড়ে থাকিস বুদ্ধির ঠ্যালায়। তারপর আমার গিয়ে কুড়ায় আনতে হয়”

সামির শোয়া থেকে উঠে বসে।

” ঐ কাজে আমি গেছি? নাকি তুই গেছিলি”?

আরিয়ান গা কাপিয়ে হেসে বলে।

” সে কথা আমি আর মুখে না বলি, মেজর শাহেদ ওয়াসিফ বুঝতে পেরেছে”

সামির বিছানা থেকে একটা বালিশ ছুঁড়ে মারে আরিয়ানের দিকে, বলে।

” সব হয়েছে তোর জন্য, মাঝরাতে উনারে ওয়াশরুমে ধরে “

আরিয়ান পুনরায় বালিশটা সামিরের দিকে মেরে দিয়ে বলে।

” এই তুই আমাকে ঢিল ছুঁড়লি কেনো তখন”?

সামির এবার দুহাতে জোরছে বালিশটা ওরদিকে ছুড়ে দিয়ে বলে।

” ঢিল ছুঁড়েছি বেশ করেছি, ছুঁড়বোই তো”

” কেনো ছুঁড়বি? আমি কি তোর শা/লীর সঙ্গে পরকিয়ায় জড়িয়েছে”? বলেই পুনরায় বালিশ আবার ছোড়ে আরিয়ানের গায়ে। আরিয়ান হাত দিয়ে বালিশ ক্যাচ ধরে বলে।

” তার থেকেও বেশি পাপ করেছিস, আমার সাধের ঘুম ভাঙিয়ে বাইরে ফেলে রেখে এসেছিস, মশা আমার রক্ত চুষে নিয়েছে, আমার রক্ত ফিরায় দিবি তুই “

আরিয়ান ওর দিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলে।

” এই ক্যাচকলা দিবো”


সকাল সকাল এবাড়ির তিন গিন্নী ছুটেছেন রান্না ঘরে, দোতালার কক্ষ গুলো এখনও সব বন্ধ। কেউ উঠছে তো কেউ এখনো উঠে পারেনি। বাড়িতে যেহেতু তিন তিনজন মেহমান, গা ছেড়ে বসে থাকলে তো আর চলে না। পারুল চা, নাস্তার জন্য চুলো ধরিয়েছে। অন্যদিকে সামিরা সকালের টাটকা নদীর মাছগুলো কাটতে বসেছে। যে গুলো সবে মাত্র জেলে পাড়া থেকে দিয়ে গেলো। শাহেনূর বেগম দ্রুত হাতে কলম চালিয়ে বাজারের লিস্ট তৈরি করছে। ওয়াসিফ গতকাল সন্ধ্যায় জানিয়েছিলো অতিথিরা আজ সকালে নাস্তা করেই নাকি রওনা হবে তবে শাহেনূর জোরাজোরি করাতে সময় পাল্টে বিকেলে নিয়েছে।

এরমধ্যে পারুলে চা, রুটি, হতেই মেয়ে লোপাকে ডেকে বলে।

” এগুলো নিয়ে মেহমান দের ঘরে দিয়ে আয়”?

লোপা, বাংলা ২য় পত্র রচনা পড়ছিলো ভীষণ মনোযোগ দিয়ে। তারমধ্যে মায়ের ওভাবে ডেকে ওঠাতে ভীষণ বিরক্ত হয়। বই থেকে মাথা তুলতেই দেখে ধারা হেলেদুলে দোতলার সিড়ি থেকে নামছে। লোপা মায়ের দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলে।

” ছোট আপা আর বড়ো আপাকে বলতে পারোনা মেহমানদের চা নাস্তা দিয়ে আসতে, সবসময় আমাকেই কেনো বলো? আমি কি এবাড়ির কাজের লোক”?

পারুল ওমনি চোখ পাকিয়ে তাকায় মেয়ের দিকে। ঝাড়ি মেরে বলে।

” তুই ছোট তাই ছোটাছুটির কাজ তুই ই বেশি করবি, ওরা তো বড়ো হয়েছে, একজনের বিয়ে হয়েছে, অন্য জনেরও হবে। ওদের কিভাবে ওতো পরপুরুষের সামনে পাঠাই, তুই যাবি”

” আমি পারবো না আম্মা, ঐ লোকগুলো আমারও পরপুরুষ “

পারুল কয়েক সেকেন্ড নিরব চেয়ে থাকে মেয়ের মুখের দিকে। তারপর চেচিয়ে বলে।

” দূর হ আমার চোখের সামনে দিয়ে, পেটে একটা বাঁচাল রেখে জন্ম দিয়েছি”

” যাচ্ছি, আমার চায়ের কাপটা দেও”

পারুল চুলার পাশ থেকে কাঠ তুলে বলে।

” আয়, নিয়ে যা”

” আরে আম্মা, মেহমানদের চা নাস্তা দেও, আমি ঐটাই চেয়েছি”

সঙ্গে সঙ্গে পারুল হাতে কাঠ ফেলে দিয়ে, সুন্দর করে গুছিয়ে মেয়ের হাতে তুলে দিয়ে বলে।

” সাবধানে যাবি, আর তোর ছোট আপাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দে, ওয়াসিফের চা টা নিয়ে যাবে ও”

লোপা ট্রে হাতে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে দেখে ধারা কল পাড়ে দাঁড়িয়ে হাত মুখ ধুচ্ছিলো। লোপা ওখান থেকে যেতে যেতে বলে।

” ও ছোট আপা আম্মা ডাকে তোমারে, বাপের জন্মে তোমার মতো বৌ আমি এহনো আরেকখান দেখি নাই, যার সোয়ামি অসুস্থ সে বৌ কেমনে বেলা করে ঘুম দিয়ে ওঠে। তোমার তো উচিত দিন রাত এক কইরা তার সেবাযত্ন করা। “

ধারা ওর দিকে চোখ পাকিয়ে তাকায়, তাতে লোপার কিছু যায় আসেনা। ও সোজা চা নাস্তা নিয়ে বড়ো ঘরে ঢোকে।


ধারা উৎফুল্ল মনে যখন রান্না ঘরে ঢোকে ছোট আম্মা ওকে ওয়াসিফের চা নাস্তার থালাটা ধরিয়ে দেয় সঙ্গে সঙ্গে। ধারা কোনোরকম গাইগুই না করে ভদ্রমতো রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। দোতালায় উঠতে উঠতে বেশ কয়েকটা বিস্কিট ধারা খেয়ে ফেলে, কারণ ও জানে ওয়াসিফ এতোগুলো বিস্কিট, কেক জীবনেও খাবেনা।
ধারা নাস্তার থালা হাতে গিয়ে দাঁড়ায় দরজার কাছে। দরজা ভেতর থেকে চেপে রাখা দেখে দু’টো কাশি দিলো কিন্তু ভেতর থেকে সেই ভদ্রলোক কিছু বলছেও না ওকে। অপরাগ হয়ে ধারা হালাকা ঠ্যেলে উঁকি দিয়ে দেখে বিছানা ফাঁকা, ঘর ফাঁকা। ও এবার দরজা পুরোপুরি ঠ্যেলে ভেতরে ঢোকে। আপাতত ঘর শূন্য।

ধারা এবার করলো কি? আয়েশ করে বসলো বিছানায়। নিজেই নিজেকে বিড়বিড় করে বললো।

‘ ঘরে নেই তো কি হয়েছে, ওতো খোজাখুজি করে পা ব্যথা বানিয়ে কোনো লাভ হবে আমার? তার চেয়ে বরং বিস্কিট তো খেয়েই ফেলেছি, এখন কেক চুবিয়ে চা টুকু শেষ করে খালি কাপ পিরিচ ছোট আম্মার হাতে ধরিয়ে দেবো’

ধারা সবে একটুকরো কেক চায়ে ভিজিয়ে মুখে দিয়েছে ওমনি ওয়াশরুমের ছিটকিনি খোলার শব্দ কানে যেতেই আচমকা লাফিয়ে উঠে ঘুরে পেছনে তাকায়। কেক পুরোটা মুখে দিয়ে বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে দেখে ওয়াসিফ কে। ভদ্রলোক সবে গোসল সেরে বেরিয়েছে। গত দুই দিনের বুকের সঙ্গে বেধে রাখা হাতটা খুলেছে। একহাতে তাওয়াল দিয়ে মাথা মুছতে গিয়ে ওয়াসিফের চোখ পড়ে খাটের দিকে। ধারাকে ওভাবে কেক সমেত ফুলো মুখটার দিকে তাকিয়ে বলে।

” আগে মুখেরটা শেষ কর,তারপর আমাকে দ্যাখ”

ধারা দ্রুত চোখ সরিয়ে খাবার টুকু চিবাতে চিবাতে বিছানা ছেড়ে উঠে বসে। চায়ের থালা হাতে তুলে যেতে যেতে বলে।

” চা ঠান্ডা হয়ে গেছে, নতুন করে আনছি”

ধারা পাশ কেটে যেতেই ওয়াসিফ খপ করে হাতটা ধরে সামনে এনে দাঁড় করিয়ে রেখে বলে।

” কি সমস্যা তোর? আমি অসুস্থ মানুষ, দিন দুই হয়ে গেলো বাড়িতে এসেছি, একবার উঁকি দিয়েও দেখার প্রয়োজন মনে করছিস না, কারণ কি? “

ধারা হাতটা ছাড়িয়ে নিতে চায়,কিন্তু পারেনা। বলে।

” কোনো কারণ নেই, আপনি এখন যথেষ্ট সুস্থ, নাটক করবেন না”

ওয়াসিফ ওর কথা শুনে সামান্য হেঁসে ওর হাতটা ছেড়ে দেয়। মাত্র গোসল সেরে পরনে একটা ট্রাউজার আর তোয়ালে দিয়ে বলিষ্ঠ বুক পিঠ অর্ধেকটা ঢাকা। আলগোছ ডান হাতে কাঁধ পেচিয়ে রাখা তোয়ালেটা সরিয়ে বাম দিকে ঘুরে দাড়াতেই ধারা ঐ দগদগে ক্ষত দেখে চমকে ওঠে। অস্ফুটস্বরে বলে।

” ইশ! কি অবস্থা “

ওয়াসিফ পুনরায় আবার ও তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ফেলে জায়গাটা। বলে।

” বের হ আমি ড্রেসিং করবো”

” আরেকটু দেখি”?

” কি”?

” ঐখানে “

” দেখতে হবে না”

” কেনো, দেখলে কি হবে”?

” তুই দেখলে কি ক্ষত সেরে যাবে”?

” নাহ, আরেকটু দেখি”?

ওয়াসিফ ওকে আর দেখায় না। হেটে গিয়ে বিছানায় বসে। প্রয়োজনীয় মেডিসিন গুলো খুঁজে খুঁজে বের করে নিতে নিতে বলে।

” আজকের দিনের মধ্যে এ ঘরে শিফট হবি, এই কথা আরেকবার যেনো আমার বলা না লাগে”

ধারা স্থির হয়ে দাড়িয়ে থেকে উঁকি ঝুঁকি মেরে দেখতে চায়, কিন্তু পারেনা। ওয়াসিফ ঘাড় ঘুরিয়ে তাকায় ওর দিকে।

” কথা কানে গেছে “?

ধারা কথা বলেনা, ওয়াসিফ বলে।

” সবকিছু গুছিয়ে এই ঘরে শিফট হবি আজকের দুপুরের মধ্যে। যা এখন”

চলবে

[ যে বা যারা গল্প পড়ছেন অবশ্য ই রেসপন্স করে যাবেন। এবং পেজ ফলো করবেন]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply