মেঘের ওপারে আলো
পর্ব_৫
Tahmina_Akhter
[🚫আমার অনুমতি ছাড়া আমার গল্প কপি এবং কার্টেসি ছাড়া পোস্ট করা নিষিদ্ধ ]
— মেঘ, দেখ! দেখ! আমি কাকে খুঁজে পেয়েছি? অবশেষে শ্যামাকন্যাকে খুঁজে পেয়েছি আমি।
মাহরীন আলোর হাত টেনে নিয়ে যায় মেঘালয়ের সামনে। মেঘালয় প্রথমে স্তব্ধ হয়ে যায়। তারপর আলোর দিকে ভ্রু কুঁচকে তাকায়। এবার আলোর মেঘালয়ের দৃষ্টি উপেক্ষা করতে মন চাইছে। কিন্তু, সেইরকম কোনো ব্যবস্থাই তো নেই। ইশশ কি লজ্জা! কি লজ্জা!
— তোমাকে ছোট চাচ্চু ডাকছে মা। আপাতত তুমি না হয় সেদিকেই যাও।
মেঘালয় শান্তস্বরে বলল তার মাকে। মাহরীন যেন দোটানায় পরল। শ্যামাকন্যাকে রেখে যেতে মন চাইছে না। মেয়েটা যদি আবারও চলে যায়? পরক্ষণেই মাথায় একটা বুদ্ধি আসে। মাহরীন এবার আলোর দিকে ফিরে বলল,
— ও হচ্ছে আমার ছেলে মেঘালয় ইমতিয়াজ আহমেদ। সেদিন তোমার সঙ্গে ওরই ফোনকলে কথা হয়েছিল। তুমি একটু মেঘালয়ের সঙ্গে থাকো। আমি একটু আসছি। তুমি কিন্তু কোথাও যাবে না, মেয়ে?
আলো এবার যেন আরেকটু মিইয়ে যায়। মেঘালয় কিছু বলতে চাইলে মাহরীন ইশারায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে বলে চলে গেল। মেঘালয় ফোস করে একটা শ্বাস ছেড়ে আলোকে উদ্দেশ্য করে বলল,
— তো মিস.মিথ্যাবতী, সেদিন আমার সঙ্গে মিথ্যা বললেন কেন? সত্যি বললে কি হতো?
মেঘালয়ের মুখ থেকে “মিথ্যাবতী” নামখানি শুনে ভীষণ বিরক্ত হয়ে আলো অন্যদিকে তাকাল। লোকটার সঙ্গে কথা বলবে কি? ভয়ে হৃদপিণ্ড যেভাবে কাঁপছে! মনে হচ্ছে বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে আসবে। কথা বললে কন্ঠ দিয়ে স্বর না বেরিয়ে হৃদয়ের ক্ষিপ্র গতিতে চলা শব্দ বের হয়ে আসবে। এমনিতেই তাকে মিথ্যাবাদী ভাবছে। তারচেয়ে বরং চুপচাপ থাকাই শ্রেয়। সুযোগ পেলে কোনো একফাঁকে সে বেরিয়ে পরবে।
কিন্তু, সেই সুযোগ আর পেলো না আলো। কিছুক্ষণের মধ্যে মাহরীন ফিরে আসে। এবং মেঘালয়কে কিছু একটা বলতেই সে বর-কনে যেখানে আছে সেখানে চলে যায়।
আলোর হাত ধরে মাহরীন কোলাহল থেকে সামান্য দূরে চলে গেল৷ আলো যেন কাঠ পুতুলের মত উনার পেছনে পেছনে এগিয়ে যাচ্ছে। অথচ, সে বারণ করতে পারত। কিন্তু, বারণ করার সাধ্যি কার আছে? আলোর সাহস সব ফুরিয়ে গেছে আজ।
— তোমার নাম কি?
আলোর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আদুরে সুরে প্রশ্ন করল মাহরীন। আলো দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে গেছে।
— আমার নাম তামান্না ইসলাম আলো।
— তোমার বাবা-মায়ের নাম?
— বাবার নাম আফসার উদ্দিন। জন্মদাত্রী মায়ের নাম হাবিবা। যদিও তিনি বেঁচে নেই।
— তোমার বাবা কি বিপত্নীক রয়ে গেছেন? নাকি?
মাহরীনের প্রশ্ন শুনে খানিকটা অস্বস্তি ফিল করে আলো। কারণ, এত এত ব্যক্তিগত তথ্য তার বলতে ইচ্ছে করছে না। প্রশ্ন যেহেতু করে ফেলেছে সেহেতু এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
—আমার মায়ের অবর্তমানে আরও একজন মা আছেন আমার। যিনি তিনদিন বয়সী থেকে আমাকে আজ পর্যন্ত লালনপালন করে আসছেন। উনার নাম সিতারা বেগম। আমার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী।
মাহরীনের কেন যেন এবার কষ্ট পাচ্ছে আলোর জন্য! আহারে! মা নেই যার, পোড়াকপাল তার। মাহরীন আলোর হাতটা ধরে বলল,
— আজ আমার মেজ ছেলের বিয়ে। আমার ছেলেদের বাবা গত হয়েছে আজ পাঁচ বছর হলো। বুঝতেই পারছ তার অবর্তমানে আজ আমার কতখানি দায়িত্ব বেড়ে গেছে? তাই তোমার সঙ্গে আমার অনেক গল্প করার ইচ্ছে থাকলেও, আমি অপারগ। বিয়ের ব্যাপারটা মিটে গেলে আমি তোমার সঙ্গে আবারও দেখা করব। আলো, তোমার বাসার ঠিকানা দেবে আমায়?
আলো বিস্মিত হয়ে গেল। কাব্য স্যারের মা উনি! আহ্! এবার তো নিজেকে কেমন ছোট মনে হচ্ছে নিজের কাছে। সবাই কি ভাববে তার ব্যাপারে জানার পর। বিশেষ করে কাব্য স্যার। তাছাড়া, মেঘালয় নামের মানুষটা কি আর লুকিয়ে রাখবে সেদিনের ব্যাপারটা?
— কি ভাবছো, আলো? আমাকে তোমাদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ দেবে না?
মাহরীনের কথায় আলো ভাবনার জগত থেকে বের হয়ে এলো। তারপর, ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি ফুটিয়ে বলল,
— আন্টি, আপনি অবশ্যই যাবেন আমাদের বাড়িতে৷ কাব্য স্যারের কাছ থেকে ঠিকানা জেনে নিবেন। উনি চেনেন আমাদের বাসা।
মাহরীন যেন আরও একদফা অবাক হলেন। মেয়েটা এত হাতের কাছে ছিল! অথচ কত খুঁজেছেন? আজ যদি কাব্য তার স্টুডেন্টদের ইনভাইট না করত। তবে আলোকে পাওয়া হত না। সৃষ্টিকর্তার এত নিখুঁত পরিকল্পনা মাঝে মাঝে তাকে অবাক করে।
সেদিনের মত আলোকে বিদায় জানালেন মাহরীন। তবে আবারও যে আলোর সঙ্গে দেখা করবেন তিনি বলে রাখলেন। আলো কোনোমতে খাওয়া-দাওয়া শেষ করল। তারপর, পুতুলের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। পুতুল এলো প্রায় দশমিনিট পর। তারপর পুতুলকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পরল আলো। জিইসি কনভেনশন সেন্টার থেকে সোজা একটা রিকশা ডেকে উঠে বসল ওরা দুজন। রিকশা যখন চলতে শুরু করল, তখন আলো হাফ ছেড়ে বাঁচল যেন।
কারণটা হচ্ছে, “মেঘালয়”। মানুষটার দৃষ্টি আলোকে বারবার নাড়িয়ে দিচ্ছে। মানুষটা তাকে মিথ্যাবাদী ভাবছে! অথচ, আলো যা ভেবে মিথ্যা বলেছিল তার আর হলো কই? সেই তো তাদের চোখে ধরা পরল সে। তাই তার সামনে দ্বিতীয়বার পরার আগেই সে চলে এসেছে। বেঁচে থাকলে মানুষটার সামনে জীবনে ভুল করেও যাবে না। আলো যখন আকাশকুসুম ভাবছিল ঠিক তখনি পুতুল বলল,
— আগামীকাল আসবি না?.
— আগামীকাল কোথায় যাব?
— কেন? স্যারের রিসিপশনে আসবি? ভুলে গেলি নাকি?
” হায় আল্লাহ! পালিয়ে থাকার প্ল্যান করছি। আর বারবার প্ল্যান পন্ড হচ্ছে”
আলো হাত দিয়ে কপাল চেপে ধরল। বাকিটা পথ সে চুপ করে রইল। পুতুল অপরপক্ষের নীরবতা দেখে চুপ করে রইল সারাটা পথ।
মেঘালয় কাব্যের কানের কাছে মুখ বাড়িয়ে বলল,
— আর কত ছবি তুলবা, ভাই? বিশ্বাস করো আমার বিরক্ত লাগছে। কিন্তু, তোমার এ্যানার্জি দেখে মনে হচ্ছে তুমি আরও শতাধিক ছবি তুলতে পারবে। এত এ্যানার্জির জোগানদার কি আমাদের ভাবি?
শেষ কথাটা ইতিকে উদ্দেশ্য করে মেঘালয়। ইতি লজ্জা পেয়ে মাথা নীচু করে ফেলল। কাব্য মেঘালয়ের পেটে কনুই দিয়ে গুঁতো দিয়ে বলল,
— বড় ভাইয়ের সঙ্গে মজা নিস? আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে দেখ, কত আনন্দ হারে হারে টের পাবি! মেকি হাসি দিতে দিতে গাল ব্যথা হয়ে গেল আমার৷
— আধাঘন্টার বড় ভাই আমার তুমি। হাসি দিচ্ছো কেন? মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে থাকো। সবাই এবার তোমার কালো মুখের রহস্য উদঘাটন করতে নেমে পরবে। ছবি তুলতে আসবে না আর। এই ফাঁকে আমরা ভাবিকে নিয়ে চলে যাব। বেশ ক্লান্ত লাগছে এবার।
মেঘালয় কাব্যের কাঁধে মাথা রেখে কথাটি বলল। কাব্য হেসে ফেলল। এমন সময় মাহরীন এগিয়ে এলে তাদের কাছে। মেঘালয় তার মায়ের আশেপাশে সেই “মিথ্যাবতীকে” খুঁজছে যেন! কিন্তু, মাকে জিজ্ঞেস করতে তার যত আপত্তি। একটা অচেনা, অজানা মেয়ের থাকা না থাকা সম্পর্কে প্রশ্ন করা যায় না। ব্যাপারটা ভারি দৃষ্টিকটূ দেখায়।
— চল, চল, বউমাকে নিয়ে চল।
— তুমি এতক্ষণ কোথায় ছিলে, মা? কাব্য প্রশ্ন করল।
— তোর স্টুডেন্টের সঙ্গে আলাপ করছিলাম।
মাহরীন মুচকি হেসে জবাব দেয়। মেঘালয় ভ্রু কুঁচকে ফেলল। কাব্য সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল,
—কোন স্টুডেন্টের সঙ্গে?
— তামান্না ইসলাম আলোর সঙ্গে।
কাব্য অবাক হয়ে গেছে আলোর নাম শুনে। এদিকে মেঘালয় “আলো” নামটা মনে মনে আওরায়। মেয়েটা নামের মত নয় । সাংঘাতিক মিথ্যাবাদী একটা মেয়ে! তাকে সেদিন রোদের মধ্যে কতক্ষণ দাঁড় করিয়ে রেখেছিল। আচ্ছা, মেয়েটা কি অহংকারী?
মাহরীনকে প্রশ্ন করে এবার মেঘালয় ফোঁড়ন কাটল।
— তোমার শ্যামাবতী কি তবে ভাইয়ার স্টুডেন্ট?
মাহরীন হেসে মাথা নাড়ায়। কাব্য এবং মেঘালয় অবাক হলো। কি অবাক কান্ড! যাকে খুঁজতে খুঁজতে হয়রান সে তো কাছেই ছিল।
অবশেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হলো। বরযাত্রীর বিশাল গাড়ি বহর কাব্য এবং ইতিকে নিয়ে রওনা হলো।
পরদিন সকালে আলো যখন ঘুম থেকে জেগে উঠল। তখনি বাইরে থেকে ভেসে এলো চেনা এবং অচেনা কণ্ঠস্বর। আলো কিছুটা ভয় পেয়ে কোনোমতে গায়ে ওড়না জড়িয়ে, এলোমেলো হাতে চুলগুলো খোঁপা করে ঘর থেকে বের হয়ে এলো। এবং যাদের দেখল তাতেই সে স্তব্ধ হয়ে গেছে।
কারণ, কাব্য এবং মাহরীন এসেছে। আলোকে দেখে মাহরীন বলল,
— সাতসকালে তোমাকে জ্বালাতে চলে এলাম, আলো।
আলো যেন ভাষা হারিয়ে ফেলল। আচ্ছা সে কি স্বপ্ন দেখছে? কিন্তু, স্বপ্ন কি রঙিন হয়? ধীরে ধীরে আলো টের পেলো চোখের সামনে যা দেখছে সবই সত্য। আলো হুট করে লজ্জা পাচ্ছে। তাদের এই ছোট কুটিরে কাব্য স্যার এবং উনার মায়ের আগমন যেন আলোর জীবনের সবচেয়ে লজ্জাজনক অধ্যায় হিসাবে গেঁথে রইল তার স্মৃতিতে।
— তৈরি হয়ে নাও আলো। আমরা তোমাকে নিয়ে যেতে এসেছি। আমার রিসিপশন পার্টিতে তুমি হচ্ছো আমার মায়ের স্পেশাল গেস্ট।
কাব্যের কথা শুনে আলো তার বাবার দিকে তাকালো। আফসার সাহেব সেখান থেকে উঠে চলে এলেন। আলোকে নিয়ে তার বাবা আলোর ঘরে ফিরলেন। তারপর, আলোর দিকে হাসিমুখে তাকিয়ে বললেন,
— যা আলো। তোর স্যার এবং উনার মা তোর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতেই, তোকে তাদের অনুষ্ঠানে নিয়ে যেতে এসেছে । আমাকে সেদিনের ব্যাপারটা বললি না যে?
— কিন্তু, বাবা আমি পারব না যেতে। আমার কারো কৃতজ্ঞতা স্বীকারোক্তি জানার প্রয়োজন নেই।
আলোর কথা শুনে আফসার সাহেব আলোর মাথায় হাত রেখে বললেন,
— তারা আমাদের বাড়িতে আগত মেহমান। তোর প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। এখন কৃতজ্ঞতা থেকেই হোক কিংবা স্নেহ থেকেই তাদের বাড়ির ছেলের অনুষ্ঠানে তোর উপস্থিতি কামনা করছে তারা। ব্যস, তুই তাদের সঙ্গে চলে যা আজ। এরপর সব কাটাকাটি হয়ে যাবে।
— কাটাকাটির হিসেব আমি বুঝি না বাবা। আমি সাহায্য করেছি। দ্যাটস ইট। আমার কৃতজ্ঞতা স্বীকারোক্তির প্রয়োজন নেই। তুমি তাদের বারণ করে দাও। আমি যেতে পারব না।
কথাটি বলেই আলো খাটের ওপর গিয়ে শুয়ে পরল। আফসার সাহেব দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে গেলেন আলোর ঘর থেকে। যে যেতে চায় না তাকে কি জোর করে পাঠানো যায়?
আলো কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে ছিল। এমনসময় সে টের পেলো কেউ তার খাটে এসে বসেছে। আলো ধীরে ধীরে কাঁথা সরিয়ে দেখতে চাইল কে এসেছে?
— আমার মেয়ে নেই, আলো। তাই তোমাকে কেন জানি আমার মেয়ের মত করে আদর করতে ইচ্ছে করে! আজ একটা দিনের জন্য তুমি না-হয় আমার মেয়ে হলে। ব্যস এই একটা দিনের জন্য হলেই চলবে। তোমাকে দেয়ার মত আমার কাছে কিছুই নেই। কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি না আমি। কারণ মায়েরা সন্তানের সামনে কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ করে না। আমি একজন মা হিসেবে আজ তোমার কাছে এসেছি। ব্যস, এই একটা দিনের জন্য তুমি আমার পাশে থাকবে। তুমি আমার এই আবদার পূরন করবে তো আলো?
চলবে….
আসসালামু আলাইকুম। গল্পটাকে নিয়ে আমি চরম হতাশ। এত এত কপি হচ্ছে। এআই দিয়ে পোস্ট হচ্ছে। তবুও যারা এতকিছুর পরও আমার পেজে Tahmina Akther – তাহমিনা আক্তার যুক্ত হয়েছেন এবং আমার গল্প পড়ছেন তাদের প্রতি রইল অনাবিল ভালোবাসা। এবং আমার পেইজে গল্প পড়ার অনুরোধ রইল।
নয়ত কিছু অসাধু মানুষের লেখা ভুলভাল গল্প পড়তে হবে আপনাদের। অনেকের কমেন্টের রিপ্লাই দিতে পারছি না ভেবে কষ্ট পাচ্ছি। কোথাও যদি কপি হতে দেখেছেন, আমাকে কনফার্ম করবেন। ধন্যবাদ। ]
Share On:
TAGS: তাহমিনা আক্তার, মেঘের ওপারে আলো
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২৪
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১৪
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১৩
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১২
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২৬
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব (১৫,১৬)
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১৮
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২৭
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৩১
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২২