#মেঘের_ওপারে_আলো
#পর্ব_২৫
#Tahmina_Akhter
—- আপনি কিভাবে জানলেন?আমি তো আপনাকে পিরিয়…
কথাগুলো সম্পূর্ন করার মাঝেই আলো থমকে যায়। ডাক্তার, হসপিটাল, ঔষধ, টেস্ট এসব মাথায় আসতেই। সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেল।
আলো মাথা তুলে আয়না ফুটে ওঠা মেঘালয়ের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে রইল। মেঘালয়ের কথার মানে সে এখন বুঝতে পারছে। আলোর চোখের জল শুকিয়ে এলো এরইমাঝে। দুই হাত দিয়ে চোখের জল মুছে ফেলল। তারপর, মেঘালয়ের দিকে ফিরল। এদিকে, মেঘালয় আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে বলল,
— তুমি নিজেই তো পিচ্চি! তোমার এইটুকুন শরীরে আমার বেলীফুলের জায়গা হবে?
আলো মেঘালয়ের কথার প্রেক্ষিতে নিজ গর্ভের দিকে তাকালো। কই কিছুই তো মনে হচ্ছে না তার? মেঘালয় আলোর দ্বিধান্বিত মুখটা দেখে আলোকে বুকে জড়িয়ে ধরল। ব্যস, এটুকুর দরকার ছিল বুঝি আলোর। দুইহাতে মেঘালয়কে জড়িয়ে ধরল সে। আলোর হৃদয়ের অস্থির স্পন্দন অনুভব করতে পারছে মেঘালয়। আলোকে একহাতে বুকে জড়িয়ে অন্যহাত মাথায় রেখে আদুরে সুরে বলল,
— তোমার দায়িত্ব আমি সবসময় পালন করি আলো। বিয়ের আগেও তোমাকে বলেছি তোমার যেদিন মনে হবে তুমি আমার দায়িত্ব নিতে পারবে। সেদিন থেকে আমার দায়িত্ব নিও। কিন্তু, এটা তুমি কি করলে? বাচ্চা আমরা পরেও নিতে পারতাম। তোমার পরীক্ষা সামনে!
মেঘালয় কথাগুলো সম্পূর্ণ করতে পারল না আলো মেঘালয়ের বুকের মধ্যে মুখ গুঁজে কাঁদতে কাঁদতে বলল,
— আমার নানী, খালা এবং মামীরা বলছিল, আপনি নাকি আমাকে ছেড়ে চলে যাবেন। আম্মু যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন নাকি আপনি আমার সঙ্গে সংসার করবেন। এরপর,আম্মুর কিছু হলে ..
এরপরের কথাগুলো আলো বলতে পারে না। হিচকি উঠে গেছে তার। মেঘালয় আলোকে বুক থেকে সরিয়ে দাঁড় করালো। তারপর, আলোর হাত ধরে খাটের দিকে নিয়ে যায়। বিছানায় বসিয়ে রেখে একগ্লাস পানি এনে আলোর দিকে বাড়িয়ে দেয়। আলো সামান্য পানি খেয়ে গ্লাস রেখে দিলো বিছানার পাশের বেডসাইড টেবিলের ওপর। মেঘালয় আলোর হাত ধরে পাশে বসে রইল এতক্ষণ। আলোকে স্বাভাবিক হতে সময় দিচ্ছে।
কিছু সময় অতিক্রম হবার পর আলো মেঘালয়ের হাতটা শক্ত করে চেপে ধরে বলল,
— আমাদের মাঝে একটা বাচ্চা এলেই নাকি আপনি আমাকে ছেড়ে কখনোই যাবেন না। তাই আমি পিল..
আলো বাকি কথা বলতেও পারছে না। গলার কাছে দলা পাকিয়ে গেছে। মেঘালয় আলোর একগালে হাত রেখে নরম সুরে বলল,
— অথচ,তুমি নিজেই তো বাচ্চা। তোমার সামনে একটা ব্রাইট ফিউচার আছে। সেটা তুমি নিজ হাতে…
মেঘালয় বাকি কথা উচ্চারণ করতে পারল না। এখন আর বলেই বা কি লাভ হবে? এসব কথা বলা মানেই এখন নিজের অংশকে অস্বীকার করা৷ আলো মেঘালয়ের হাতটা ছেড়ে দিয়েছে ততক্ষণে। অভিমানী চোখে বারান্দার ওপর দৃষ্টি রেখে মেঘালয়কে উদ্দেশ্য করে বলল,
— বাচ্চা আসাতে আপনি খুশি হোননি, তাই না?
আলোর মুখটা নিজের দিকে ফিরিয়ে মেঘালয় আলোর শ্যামা মুখটার দিকে তাকিয়ে বলল,
— তুমি আমার জীবনে এলে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে। আমার বেলীফুলও এলো অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে। লোকে নাকি চেয়েও পায় না। অথচ আমি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে পেয়ে যাচ্ছি।
মেঘালয়ের কথাগুলো শুনে আলোর দু-চোখ বেয়ে নোনাজল গড়িয়ে পরল৷ মানুষটাকে সে ভালোবেসে ফেলেছে। তাকে হারানোর কথা ভাবলে বুক ভেঙে আসে। কিন্তু, আজ মনে হচ্ছে বাচ্চা এত তাড়াতাড়ি নেয়া উচিত হয়নি। মানুষটাকে একবার জানানোর প্রয়োজন করেনি। নিজের ইচ্ছায় কনসিভ করে ফেলেছে সে।
একদিকে বাবা হারানোর শোক অন্যদিকে অসময়ে কনসিভের ব্যাপারটা যেন তাকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। মেঘালয়কে ভালোবেসে সে এতটাই অন্ধ হয়ে গিয়েছিল যে, নিজের পড়াশোনার ব্যাপারটা অব্দি ভুলে গিয়েছে।
— যা হবার হয়ে গেছে। দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। ডাক্তার যেভাবে চলতে বলছে সেভাবে চলো। দুনিয়ার অনেক নারীরা বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে পড়াশোনা করছে। তুমিও পারবে। কারণ, তুমি মিসেস মেঘালয়। ইউ ক্যান ডু ইট। বিকজ ইউ আর স্ট্রং ওইমেন।
মেঘালয় কথাগুলো বলে আলোর কপালে চুমু দিয়ে উঠে দাঁড়াল। হসপিটালে যেতে হবে। কিন্তু, আজ যেতে ইচ্ছে করছে না। আলোর মানসিক অবস্থাও তেমন ভালো নয়। ওর সঙ্গে থাকতে পারলে বরং ভালো হতো।
আলো চুপ করে বসে আছে। মেঘালয়ের তৈরি হবার দৃশ্য দেখছে। মেঘালয় তৈরি হয়ে এসে, আলোকে দুশ্চিন্তা না করার কথা বলে চলে গেল হসপিটালে৷
মাহরীন নিজের ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। মাশফি বাড়িতে ফিরে আসেনি। এতবড় বাড়িতে আলো যেন নিজের একাকীত্বকে আজ ভয় পাচ্ছে। বাবার সঙ্গে কাটানো স্মৃতি মনে করে আলোর চোখ ফের অশ্রুশিক্ত হলো। হুট করে সিতারা বেগমের বলা কথাগুলো মনে পরল আলোর। ওয়াশরুমে গিয়ে ওযু করে এসে রবের সামনে দাঁড়ালো। কারণ, মৃত বাবা-মায়ের জন্য কেবল দোয়া কাজে আসে। চোখের জল ফেলে মনের শোক মেটানো যায়। কিন্তু পরকালে যাত্রীদের জন্য দরকার প্রার্থনা।
—————
পরদিন সকালে মাহরীন ঘুম থেকে ফজরের নামাজ আদায় করে। বাইরে বেশ কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করে বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই চোখে পরল আলোর মলিন মুখটা। আলো রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে মাহরীনকে উদ্দেশ্য করে বলল,
— আম্মু, তোমাকে চা করে দেই?
— দিলে মন্দ হয় না।
আলো দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাহরীনের জন্য চা বসালো চুলায়। মাহরীনের একা একা ডাইনিং টেবিলে বসে থাকতে ভালো লাগছে না। তাই উঠে গিয়ে রান্নাঘরে চলে গেল। আলোর পাশে দাঁড়িয়ে রইল চুপচাপ। এদিকে আলোর বমি বমি ভাব হচ্ছে। কিন্তু, মাহরীনের সামনে..
ভাবনার মাঝে বমির তীব্রবেগ সামলাতে পারল না সে। আলো এক দৌঁড়ে চলে গেল বেসিনের দিকে। হড়হড় করে বমি করে দিলো। আকস্মিক ঘটনায় মাহরীন দিশেহারা বোধ করল। আলোর পেছনে দাঁড়িয়ে আলোর কপালের দুইপাশে চেপে ধরল। একটা সময় পর আলো স্বাভাবিক হলো। মাহরীন নিজ হাতে আলোর মুখ ধুয়ে দিলো। তারপর, নিজের ওড়না দিয়ে আলোর মুখটা মুছে দিলো।
আলোকে ড্রইংরুমের সোফায় বসিয়ে রেখে নিজেই চা বানিয়ে ফেললেন। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে আলোর মুখোমুখি হয়ে বসলেন। আলোর ক্লান্ত মুখটা দেখে মাহরীনের ভালো লাগছে না।
—আজ মেঘালয় আসুক হসপিটাল থেকে। তোকে নিয়ে আমি হসপিটালে যাব। কি ডাক্তার দেখিয়েছে আল্লাহ জানে! ঔষুধে কাজ হচ্ছে না।
মাহরীনের কথা শুনে আলো মাথা নীচু করে বসে রইল। শ্বাশুড়িকে কিভাবে বলবে এই কথা যে, সে চিরচায়িত মাতৃত্বের রোগে আক্রান্ত?
সকাল দশটা নাগাদ মেঘালয় ফিরে এলো হসপিটাল থেকে। এসেই কোনোমতে গোসল সেড়ে খাবার খেলো একাই। মাহরীন এবং আলো নাকি বাড়িতে নেই। পাশের বিল্ডিংয়ে গিয়েছে। কার জানি বাচ্চা হয়েছে? সেই বাচ্চা দেখতে শ্বাশুড়ি বউ মিলে চলে গেছে। মাশফি কথাগুলো মেঘালয়কে জানিয়ে সোফায় বসল। মেঘালয় মাশফির দিকে তাকিয়ে বলল,
— তানিয়া ভাবি, একা পরে আছে, ভাই। তোমার এবার ফিরে যাওয়া উচিত। মায়ের কাছে আমি আছি তো।
— মা’কে রেখে যেতে ইচ্ছে করছে না, মেঘালয়৷ তানিয়া ইনডিপেনডেন্ট মেয়ে। সে একা সব সামলাতে পারবে। তাছাড়া, ওর ভাই ভাবি আছে। চিন্তা করার কিছুই নেই। সুস্থ মানুষের চিন্তা না করে অসুস্থ মানুষের চিন্তা করা উচিত আমাদের।
— ডা. আরিফ মায়ের রিপোর্ট পাঠিয়েছে ইন্ডিয়ার টাটা হসপিটালে। কয়েকদিনের মধ্যে হয়ত ডাক পরতে পারে। এখন আমি চিন্তা করছি, তুমি নাকি আমি যাব মায়ের সঙ্গে?
— অভিয়াসলি আমি যাব। তুই আলোকে রেখে কোথায় যাবি? সি ইজ প্রেগন্যান্ট। তাছাড়া, ওর বাবা গত হয়েছে। ওর মানসিক দিকটা নিয়ে ভাবতে বসলে আমার মাথা হ্যাং হয়ে যাচ্ছে। তুই আলোর সঙ্গে থাকবি। আমি মায়ের সঙ্গে ইন্ডিয়ায় যাব।
মাশফি কথাগুলো ভাবতে ভাবতে সদর দরজার দিকে তাকাতেই দেখতে পায়, তার মা মাহরীন এবং আলোকে। মাশফি দুটো শুকনো ঢোক গিলল। তারপর, মেঘালয়কে উদ্দেশ্য করে বলল,
— মা এবং আলো ফিরে এসেছে।
মেঘালয় ঘাড় ফিরিয়ে তাকালো। এদিকে মাশফির বলা কথাগুলো শুনে, মাহরীন একবার অবাক হয়ে তাকাচ্ছে আলোর দিকে, তো আরেকবার তাকাচ্ছে মেঘালয়ের দিকে। শেষমেশ, না পারতেই আলোকে জিজ্ঞেস করে বসলেন,
— মাশফি যা বলল, তা কি সত্য?
মাহরীনের গম্ভীর সুরে বলা কথাটি শুনে আলো ভয়ে চোখ বন্ধ করে বলল,
— জি, আম্মু।
মেঘালয় এদিকে দুই হাত কপালে হাত রেখে মাথা নীচু করে ফেলল। মাশফি ওদের স্বামী-স্ত্রীর কান্ড দেখে মুখের ওপর হাতে রেখে লুকিয়ে হাসছে। মাহরীন রেগেমেগে তার ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ফেলল।
আলোকে রিল্যাক্স থাকতে বলেই,মেঘালয় গিয়ে তার মায়ের ঘরের দরজায় নক করল। ভেতর থেকে জবাব এলো,
—কি চাই?
— আমার মা’কে চাই।
মাহরীন অভিমানী হয়ে বলল,
— মা পর হয়ে গেছে। আপন নেই আর। নয়ত এত বড় সুসংবাদ কেন আমি আগে পেলাম না?
মেঘালয় তার মায়ের জবাব শুনে মুচকি হেসে ফেলল। দরজায় ফের নক করে বলল,
— এবারের মত ক্ষমা করে দেয়া যায় না, মা? সন্তান হিসেবে আমাদের ধর্ম হলো ভুল করা। আর মা হিসেবে তোমাদের ধর্ম হলো, সন্তানের ভুলকে মাফ করে দেয়া।
মাহরীনের হৃদয় গলে যায় ছেলের কথা শুনে। দরজা খুলে মেঘালয়ের কান টেনে ধরে বললেন,
— আমার অল্প বয়সী ছোট ছেলের বউটার যদি কিছু হয়, তাহলে তোর একদিন কি আমার যতদিন লাগে? ফাজিল কোথাকার!
মাহরীন যখন মেঘালয়কে বকে যাচ্ছিল তখন আলো অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মেঘালয়ের দিকে। মানুষটা তার জন্য কটুকথা শুনছে। অথচ, সে জেনেশুনে বিন্দুমাত্র ভুল করেনি।
তারপরের, দৃশ্য ভিন্ন। মাহরীন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের কল করে আলোর প্রেগন্যান্সির ব্যাপারে জানিয়ে দিলো। তানিয়া, ইতি এবং কাব্য আলোর প্রেগন্যান্সির ব্যাপারটা শুনে অবাক হলো বেশী। তারা ভাবছে মেঘালয়ের মত ম্যাচুয়ার মানুষ, এই ভুল করল কি করে?
সবাইকে জানানো হলেও জানালো না কেবল সিতারা বেগমকে। মাহরীন নিজে গিয়ে জানিয়ে আসবে আগামীকাল। তাই ঘটা করে ফোনকলে বলা হলো না।
—–
মেঘালয় দুপুরের দিকে ঘুমিয়ে রইল। আলো নামাজ আদায় করে কোরআন তেলাওয়াত করলো কিছুক্ষণ। তারপর, মেঘালয়ের পাশে গুটিসুটি মেরে শুয়ে পরল।
বিকেলে ঘুম থেকে জাগার পর মেঘালয়কে পাশে না পেয়ে আলোর মন খারাপ হলো। বিছানা থেকে নেমে দরজা খুলে বের হয়ে মাহরীনের ঘরে চলে গেল। মাহরীনের ঘরে ঢুকে দেখল, মাহরীন ফোনকলে আছে।
— কি হয়েছে, রে?
— আম্মু, তোমার ছেলে কোথায়?
— হসপিটালে চলে গেছে। তুই নাকি ঘুমিয়ে ছিল, তাই বলে যায়নি তোকে । হাতমুখ ধুয়ে আয়। আমি আপেল কেটে রেখেছি। শরীরটা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাচ্ছে তোর। জোর করেও হলেও খেতে হবে এখন।
মাহরীনের কথা শুনে আলো বাধ্য বালিকার ন্যায়,নিজের ঘরে গিয়ে ওয়াশরুম থেকে হাতমুখ ধুয়ে ড্রেসিং টেবিলের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে টাওয়াল দিয়ে মুখ মুছছিল। এমন সময় নজরে এলো, তার নাক ফুলটা মিসিং। আলোর বুকটা ধক করে উঠল। হাতের টাওয়াল বিছানায় ছুঁড়ে ফেলল মেঝেতে। পাগলের ন্যায় সারা ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজল। কিন্তু পেলো না। একসময় হাল ছেড়ে দিয়ে বিছানায় বসে পরল।
মনে পরল তারা নানীর বলা কথা। অজানা আশংকায় বুকটা কেঁপে উঠল তার। মোবাইল হাতে নিয়ে কল করল মেঘালয়ের নাম্বারে৷ মেঘালয় তখন ভীষণ ব্যস্ত। কিন্তু, আলোর কল দেখে একপাশে গিয়ে কল রিসিভ করে দুষ্টুমির সুরে বলল,
— আমার ডানহাত ব্যাথা করছে, মিসেস মেঘালয়।
— কেন কি হয়েছে, আপনার?
আলো আতংকিত হয়ে প্রশ্ন করল। মেঘালয়ের কিছু হলো না তো এই ভেবে। মেঘালয় মুচকি হেসে বলল,
—-আমার মিথ্যাবতী, আজ সে আমার বুকে ঘাপটি মেরে শুয়েছিল। তার তপ্ত শ্বাস আমার বুক জুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছিল উষ্ণতা।যেখানে ছড়িয়ে যাওয়ার কথা ছিল প্রেমের উত্তাপ, সেখানে ছড়িয়ে গেল মিথ্যাবতীর নিঃশ্বাসের তপ্ততা।
আমার কপাল ভালো নয়, তাই আমার বুক উত্তাপ পেলো ঠিকই,
কিন্তু ভালোবাসার নয়, পেলো আমার মিথ্যাবতীর তপ্ত নিঃশ্বাস।
মেঘালয়ের কথাগুলো শুনে আলো মোবাইলের এপাশে মুচকি হেসে ফেলল। আলোর মন ভালো হয়ে গেল মেঘালয়ের কথাগুলো শুনে। বিছানার ওপর থেকে একটা বালিশ কোলের ওপর রেখে মেঘালয়কে বলল,
—আমার নাকফুল হারিয়ে গেছে, ডাক্তার সাহেব!
— আগামীকাল এনে দেব। আজ হসপিটালে প্রচুর চাপ।
— স্ত্রীর নাকে নাকফুল না থাকলে, নাকি স্বামীর অমঙ্গল হয়! আমার নানী বলে।
— এসব কুসংস্কার কথা!
— কুসংস্কার হতে পারে। নাকফুল পরেছি তো আপনার জন্য। যাতে এই আমিটাকে আপনার মনে হয়। কিন্তু, নাকফুল ছাড়া নিজেকে আয়নায় দেখে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে আপনার সম্পর্কের বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এমন অনুভূতি হবার কারণ, কি?
আলোর কথা শুনে যারপনাই অবাক হলো মেঘালয়। মোবাইল কান থেকে নামিয়ে পলকহীন চোখে তাকিয়ে রইল স্ক্রীণের দিকে।
তারপর, আবারও মোবাইল কানে ঠেকিয়ে বলল,
—একটা নাকফুল যদি তোমাকে আমার আমার মনে হয়! তাহলে,তোমাকে একডজন নাকফুল কিনে দেয়া উচিত ।
আলো লজ্জ্বা পেয়ে হেসে ফেলল।
ইশশ্, এই হাসিটা যদি মেঘালয় দেখতে পেত? তার মনের সকল ভ্রম কেটে যেত। মিথ্যাবতীর হৃদয় যে মেঘালয়ের নামে স্পন্দিত হয়, একবার যদি সে টের পেত! তাহলে, পরিমাপ করে ভালোবাসত না সে। হৃদয় উজার করে দেয়া পাগলামি ভরা ভালোবাসার ভাগিদার হতো তার মিথ্যাবতী। কিন্তু, মিথ্যাবতী নিজের অনুভূতি যতটা লুকিয়ে রাখছে ঠিক ততটাই নিজের অনুভূতিকে দাবিয়ে রাখছে সে। অপেক্ষা শুধু সেদিনের, যেদিন তার মিথ্যাবতী সত্যিকার অর্থে এসে তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, তার হৃদয়ে জমে থাকা ভালোবাসার বোঝা মাথায় তুলে নেবে। ততদিন না হয় লুকোচুরিময় ভালোবাসা চলল।
চলবে…
Share On:
TAGS: তাহমিনা আক্তার, মেঘের ওপারে আলো
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২০
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১২
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৩১
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২১
-
মেঘের ওপারে আলো গল্পের সবগুলো পর্বের লিংক
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৫
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১৭
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৩
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১১