মেঘের ওপারে আলো
পর্ব_১৮
Tahmina_Akhter
রোজ সকালে ঘুম ভাঙার পর পুরনো ফ্যান দেখতে অভ্যস্ত আলো। আজ ব্যতিক্রম হলো। আজ ঘুম ভাঙার পর পাশ ফিরতেই মেঘালয়কে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখল। আলো চোখ বন্ধ করে ফেলল। মানুষটাকে সে কোনোভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখতে পারে না। বুক কাঁপে, অস্থিরতায় বুকের মাঝে ভারি হয় আসে। চাইলেই ঘুমন্ত মানুষটাকে দেখতে বাঁধা নেই। কিন্তু, তার কি সেই সাহস আছে?
গতকাল রাতের কথা মনে পরল আলোর। চোখ খুলে ঘুমন্ত মেঘালয়ের উন্মুক্ত বক্ষদেশের দিকে তাকিয়ে রইল কয়েক সেকেন্ড। তারপর,দীর্ঘশ্বাস ফেলে বিছানা থেকে নামল। এলোমেলো চুলগুলো খোপায় বাধল। তারপর, তার বাবার বাড়ি থেকে দেয়া লাগেজ থেকে একটি নীল রঙের থ্রী-পিছ বের করে ওয়াশরুমে ঢুকল।
ওয়াশরুমে ঢুকার পর বালতিতে ভেজানো বিয়ের শাড়ি দেখে নিজের জিহ্বায় কামড় দিয়ে, মাথা হাত দিলো আলো। গতকাল, অতিমাত্রায় আতংকিত হয়ে সে কি করে ফেলেছে? এত দামি শাড়ি! এবার কি করবে?
উপায়ন্তর না পেয়ে শাড়ি বালতি থেকে তুলে পানি নিংড়ে দেওয়ার বদলে খালি বালতিতে ভরে, ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে সোজা চলে গেল তাদের রুমের সঙ্গে লাগোয়া বারান্দায়। বারান্দার দড়িতে মেলে দিলো। পানি ঝরতে ঝরতে একসময় শুকিয়ে যাবে।
শাড়ির দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে কোনোমতে গোসল সাড়ল আলো। ওয়াশরুমে থেকে বের হয়ে মাথায় বাঁধা লাল গামছা খুলে বারান্দার দড়িতে মেলে রেখে ঘরে আসতেই দেখল, মেঘালয় ঘুম থেকে জেগে উঠেছে। আলোর উপস্থিতি টের পেয়ে মেঘালয় আলোর দিকে তাকালো। আলো বারান্দার দরজা সামনে দাঁড়িয়ে রইল। সামনে পা বাড়িয়ে আসার সাহস ফুস হয়ে গেছে তার। মেঘালয় খাট থেকে নেমে সোজা চলে গেল ওয়াশরুমে। এবার আলো হাঁপ ছেড়ে বাঁচল যেন। খাটের দিকে তাকাতেই দেখতে ফেলে ফুলের স্তুপ।
সব ফুলে এক জায়গায় করে পলিব্যাগে উঠিয়ে রাখল আলো। তারপর, বিছানার চাদর ঝেড়ে আবারও বিছিয়ে রাখল। খাটের নীচে থাকা ঝাড়ু নিয়ে রুমের মেঝে ঝাড়ু দিয়ে ময়লা তুলে সেই ফুলের পলিব্যাগে তুলে রাখল। এবার রুমটা বেশ লাগছে দেখতে।
একটা খাটে, কাঠের আলমারী, ওয়ারড্রব, একটা স্টাডি টেবিল এবং চেয়ার। পাশে বুকশেলফ।
আলো এগিয়ে যায় বুকশেলফের সামনে। কাঁচের ওপর হাত রেখে বইগুলো ছুঁয়ে দেখার বৃথা চেষ্টা করল। আলো যখন একমনে বুকশেলফের দিকে তাকিয়ে ছিল, ঠিক তখনি মেঘালয় আলোর পেছনে এসে দাঁড়ালো নিঃশব্দে।
— শুভ সকাল, মিসেস.মেঘালয়। আমার জীবনে আপনার আগমনের পর আজ প্রথম সকাল। কেমন বোধ করছেন বিবাহিত জীবনের প্রথম সকালকে?
মেঘালয়ের কন্ঠস্বর পেয়ে আলো ঘুরে দাঁড়ালো। তারপর, যা অঘটন ঘটার ঘটল। আলোর নাক ছুঁয়ে গেছে মেঘালয়ের উন্মুক্ত ভেজা বুকে। আলো যেন লজ্জায় এইটুকুন হয়ে গেছে মেঘালয়ের সামনে। মেঘালয় আলোর অবনত মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
—নীল রঙের মানে কি জানো?
আলো মাথা নাড়িয়ে বলল,
— কিছুটা জানি। নীল রঙ মানে শান্তি।
আলোর জবাব শুনে মেঘালয় মুচকি হাসে। যাক এবার এই টপিক নিয়ে আলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ করা যাবে।
— নীল হচ্ছে বেদনার রঙ।
আকাশ যত নীল হয়, তত দূরে চলে যায়।
গভীর নীল সমুদ্রের যত কাছে যাওয়া যায় , ততই নিঃসঙ্গতা বাড়ে।
নীল রঙ কেবল মনে করিয়ে দেয়, কিছু জিনিস যতই চাওয়া হোক না কেন কখনোই পাওয়া যায় না? নীল রঙকে কেবল দেখা যায়। স্পর্শ করা যায় না।
মেঘালয়ের মুখ থেকে এতকিছু শুনে, আলো চুপ করে রইল। মেঘালয় হুট করে নীল রঙ নিয়ে পরল কেন? পরক্ষণেই ভাবল আগে জবাব দেয়া যাক। তারপর না হয় জিজ্ঞেস করা যাবে।
মেঘালয় আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল। আলো মাথা তুলে তাকালো। মেঘালয়ের চোখের দিকে তাকিয়ে আবারও অস্থিরতা অনুভব করার আগে চোখ নামিয়ে ফেলল। মাথা নীচু রেখেই নরম সুরে জবাবে বলল,
–আপনার মতো করে দেখলে নীল রঙ সত্যিই বেদনার রঙ। কিন্তু আমার কাছে নীল মানে শান্তি।
আকাশের নীল আমাকে নত হতে শেখায়,
নীলচে সমুদ্র আমাকে মনে করিয়ে দেয়, সমুদ্রের মত উদার হতে। যার বিশালতা জুড়ে আছে পুরো পৃথিবীর তিনভাগে। অথচ, সেই সমুদ্রের নেই কোনো তান্ডবলীলা। সকালবেলার হালকা নীল আকাশ, আমাকে মনে করিয়ে দেয়
যতই অন্ধকার থাকুক, আলো আসবেই।
আলোর কাছ থেকে জবাব পেয়ে মেঘালয় খানিকটা ভাবুক হলো। কপালে ভাজ পরল তার৷ আলোর থেকে খানিকটা দূরত্বে বাড়িয়ে মেঘালয় বলল,
–তাহলে নীল রঙ তোমাকে শান্ত করে? নীল রঙ আমাকে শুধু স্মরণ করায় হারানোর গল্পগুলো।
আলো মেঘালয়ের মাঝে দূরত্বের পরিমাপ করতে করতে বলল,
–হয়তো! আপনি নীলকে শুধু দূরত্বের রঙ হিসেবে দেখেন। আমি দেখি ফিরে আসার রঙ। নীল রঙ আমাকে বলে,
“সমুদ্রের মত উদার হতে। জীবনে থেকে যা হারিয়েছে, তা কোনো না কোনোভাবে আবার ফিরে আসবে।”
আলোর কাছ থেকে জবাব পেয়ে মেঘালয়ের ঠোঁটের কোনে আবারও হাসি ফুটে উঠল। আলমারীর দিকে যেতে বলল,,
–তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে, নীল রঙের আসলে দুইটা সত্তা। দুইটার দুই অনুভব।
একজন দুঃখ নিয়ে আসে, আরেকজন আশা।
আলো মেঘালয়ের ওপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে জবাব দিলো,
—হয়ত!!
মেঘালয় একটা সাদা রঙের টিশার্ট গায়ে জড়িয়ে আলোর কাছে এসে দাঁড়ালো। তারপর, আলোর নীলচে রঙা জামার দিকে আঙুল তাক করে বলল,
—নীল রঙ আমার বড্ড অপছন্দ। তবুও, আজ কেন যেন মনে হলো নীল রঙ মন্দ না! কারণ, আজ নীল রঙের জামা পরনের কেউ নীল রঙ নিয়ে পজিটিভ কিছু বলল।
আলো নিজের জামার দিকে তাকালো। তারমানে নীল রঙ নিয়ে এত আলাপ, তাহলে এই কারনে…..
এমনসময় দরজায় নক পরল৷ মেঘালয় আলোর কাছ থেকে সরে যায়৷ তারপর, হেঁটে গিয়ে দরজা খুলতেই। ভেতরে ঢুকে পরল দশজনের এক বিশাল কমিটি। মেঘালয় দরজার সামনে থেকে কোনোমতে নিজেকে সরালো। সবাই গিয়ে আলোর সামনে দাঁড়ালো। আলো একসাথে এতজনকে দেখে ভড়কে যায়। মাথা নীচু করে ফেলে। তানিয়া, ইতিসহ বাকি সবাইকে টিপ্পনী কেটে আলোকে বলল,
— ফুলগুলো কই?
— পরিষ্কার করে ফেলে দিয়েছি।
আলো জবাব দিতেই সবাই একযোগে হেসে ফেলল। আলো মাথা নীচু করে রাখল। মেঘালয় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের
কান্ড কারখানা দেখছে।
— আমাদের জন্য ফেলে রাখতে। আমরা এসে না-হয় পরিষ্কার করতাম।
জিনিয়া কথাটি এমনভাবে বলল যে, মেঘালয় কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে জবাব দেয়,
— তোমাদের উচিত ছিল গতকাল রাতে আমাদের জানিয়ে দেয়া। ঠিক এভাবে দাঁড়াও আমি বলছি,
মেঘালয় এবং আলো, আমরা সব বিবাহিত কমিটির নারী সদস্যরা আগামীকাল সকালে তোমাদের ঘরে ফুল পরিষ্কার করতে আসব। দয়া করে তোমরা ফুল পরিষ্কার করা থেতে বিরত থাকবে।
মেঘালয়ের কথা শেষ হতেই জিনিয়া বাদে সবাই অট্টহাসিতে মেতে উঠল। আলো হেসে ফেলল তাদের সঙ্গে। এত মানুষের মাঝে মেঘালয় যেন আলোর হাসিটাই দেখল। তারপর, কোনোমতে চুলে আঙুল চালালো। আলোর দিকে একবার তাকিয়ে দরজা দিয়ে বের হয়ে যেতে যেতে বলল,
— আমি চললাম। এক ঝাঁক বিবাহিত নারীদের মাঝে নিজেকে কেমন বেমানান লাগছে।
বাক্যদুটো বলেই ঘর থেকে বের হয়ে গেছে মেঘালয়। মেঘালয় চলে যেতেই আরও একদফা হাসির রোল পরল।
আলোকে গতকাল রাতের কথা জিজ্ঞেস করলো ইতি এবং তানিয়া। আলো জবাব দেয় না। এমন সব প্রশ্ন করেছে যে তার কাছে জবাব দেয়ার ভাষা নেই।
জিনিয়া চলে গেছে। এদিকে তানিয়া আর ইতির ওপর দায়িত্ব পরেছে আলোকে তৈরি করে নীচে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কারণ, বাইরে অনেকেই আছে যারা নতুন বউ দেখতে এসেছে৷
হালকা গোলাপি রঙের একটা জামদানি শাড়ি হাতে নিয়ে ইতি আলোকে বলল,
— আমি তোমাকে শাড়ি পরিয়ে দেই?
আলো ভয় পায়। মনে হচ্ছে যেন ইতি তার শরীরে কমতি চট করে ধরে ফেলবে যেকোনো মূহুর্তে। তাই মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আলো বলল,
— ভাবি, আমার অস্বস্তি হয়। আপনি মাইন্ড করবেন না প্লিজ।
আলোর কথার পিঠে আর কিছু বলে না ইতি। আলো শাড়িটা হাতে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।
এদিকে তানিয়ার মোবাইলে তার বাবার বাড়ি থেকে কল আসে। রুমে মোবাইল নেটওয়ার্কের প্রচুর সমস্যা দেখা দিচ্ছে বিধায় তানিয়া মোবাইল নিয়ে চলে গেল বারান্দায়। ব্যস বারান্দায় গিয়ে দেখল, আলোর বিয়ের বেনারসি দড়িতে মেলে দেয়া। শাড়ি থেকে চুইয়ে চুইয়ে পানি পরছে। তানিয়া কি অবাক হয়ে ইতিকে ডাক দিলো। ইতি তানিয়ার ডাক শুনে বারান্দায় গিয়ে একই দৃশ্য দেখে মুখে হাত দিয়ে বলল,
— কি সর্বনাশ! এমন কান্ড কেউ করে নাকি?
আলো শাড়ি পরে ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দেখল ঘরে কেউ নেই। এমন সময় বারান্দার দরজা দিয়ে তানিয়া এবং ইতিকে ঘরের ভেতরে ঢুকতে দেখেই আলো থমকে যায়।
— তুমি কি বোকা? এত দামি শাড়ি কেউ এভাবে ধুয়ে দেয়?
তানিয়া বেশ বড় গলায় প্রশ্ন করল। আলো মাথা নীচু করে ফেলল। ইতি মাঝখানে যে কার পক্ষ নিয়ে কথা বলবে, বুঝতে পারছে না।
— তুমি বোকা হবে কেন? তুমি তো চালাক একটা মেয়ে। চালাকির জোরে বড়লোক বাড়ির বউ হয়ে গেছো? তোমার বংশের কোন মেয়েটা এরকম দামি শাড়ি পেয়েছে বিয়েতে? যাদের এরকম শাড়ি সম্পর্কে ধারণা আছে তারা কি আর এমন কান্ড জ্ঞানহীন কাজ করতে পারে?
তানিয়ার ছুঁড়ে দেয়া এক একটা তীর্যক ব্যাঙ্গ করা শব্দ শুনে আলোর শরীর কাঁপছে। মাঝের কয়েকটা দিন তার ঘোরের মাঝে কেটে গিয়েছিল। তার মনেই ছিল না, তার শেকড় কোথায়? আজ একটা ভুলের কারণে তানিয়া তাকে তার শেকড়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।
তানিয়ার চেঁচামেচি শুনে মাহরীন, কাব্য, মাশফি এবং মেঘালয়সহ সবাই চলে এলো মেঘালয়ের ঘরে।
মাহরীন ঘরে ঢুকতেই দেখতে পেলো, তানিয়া আলোকে যা ইচ্ছা তা বলছে। আলো আলমারীর সঙ্গে গা ঘেঁসে দাঁড়িয়ে মাথা নীচু করে আছে। ইতি আলোর পাশে দাঁড়িয়ে আছে নিঃশব্দে।
— কি হয়েছে, তানিয়া?
মাহরীনের কন্ঠস্বর শুনে তানিয়া দৌঁড়ে যায় বারান্দায়। সেখানে থেকে ভেজা শাড়িটা হাতে করে নিয়ে আসে। তারপর, মাহরীনকে দেখিয়ে বলল,
— দেখেন শাড়িটার কি অবস্থা করেছে?
মাহরীন কিছুক্ষণ শাড়িটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর, আলোর দিকে একপলক তাকিয়ে তানিয়ার দিকে ফিরল।
— তো কি হয়েছে? মানুষ ভুলের উর্ধ্বে নয়! কথাটি জানো না তুমি? একটা মেয়ে তার গোটা পরিবার ফেলে গতকাল আমার বাড়ির বউ হয়ে এসেছে। গতকাল তার মনের অবস্থা কেমন ছিল সেটাও তোমার জানা উচিত! এখন সে একটা ভুল করে ফেলেছে। তাহলে চেঁচামেচি করে কি লাভ হবে, বলে?
— কিন্তু, মা.. শাড়িটা?
তানিয়া সম্পূর্ণ কথা শেষ করতে পারল না। তার আগেই মাশফি তানিয়াকে বলল,
— তানিয়া, তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? একটা শাড়ির জন্য তুমি আলোর ওপর এভাবে চেঁচামেচি করলে! আই কান্ট বিলিভ দিস!
মাশফি কথাগুলো বলে মেঘালয়ের ঘর ছেড়ে বের হয়ে যায়। তানিয়া মাশফির পেছনে বের হয়ে গেল। ইতি আলোর হাত ধরে বলল,
— ভাবি একটু এমনই! তুমি কান্না করো না।
আলো হাত দিয়ে তার চোখের পানি মুছে ফেলল। মাথা উচু করে তাকাতেই দেখতে পেলো মাহরীন, কাব্য এবং কাব্যের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মেঘালয়কে। মূহুর্তের মধ্যে আলো যেন নিজেকে আরও ছোট মনে হলো। সবাই তাকে এখন কি ভাবছে? ছোটলোক! লোভী! আনস্মার্ট!
কাব্য ইতিকে ইশারা করল। ইতি আর কাব্য মেঘালয়ের ঘর থেকে বের হয়ে গেল। বাকি রইল মাহরীন আর মেঘালয়। মাহরীন দীর্ঘশ্বাস ফেলে আলোর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। আলোর মাথায় হাত রেখে বলল,
— বোকা মেয়ে! সামান্য কারনে কেউ এভাবে কাঁদে?
— আন্টি, আমি আসলে..
— আমি কিছু জানতে চেয়েছি? তোমার শাড়ি। তুমি কি করলে না করলে সেটা একান্তই তোমার ব্যাপার? এবার কান্না বন্ধ করো। বাইরে অনেকজন তোমাকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।
আলোর মাথায় হাত বুলিয়ে বের হয়ে যায় মাহরীন।
মাহরীন চলে যাওয়ার পর মেঘালয় দরজা বন্ধ করে আলোর সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। তারপর, আলোর কান্নারত মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,
— মুখ ধুয়ে এসো।
আলোর মেঘালয়ের আদেশ শুনে কান্না বন্ধ হয়ে গেছে। আলো ওয়াশরুমে গিয়ে চোখমুখে পানি দিয়ে বের হয়ে এসে দেখল, মেঘালয় বারান্দা থেকে ঘরে প্রবেশ করেছে। বেনারসী শাড়িটা মেঝেতে নেই। বারান্দার দড়িতে মেলে রেখে এসেছে বোধহয়!
মেঘালয় তার হাতের মোবাইলটা খাটের একপাশে রেখে খাটের একপাশে বসল।
— আলো??
মেঘালয় আলোকে ডাক দিলো। আলো মেঘালয়ের মুখের দিকে তাকালো। মানুষটা এখন সিরিয়াস ভঙ্গিতে তার সঙ্গে কথা বলবে। গত কয়েকদিনের পর্যবেক্ষনে যা বুঝতে পেরেছে তা হলো, মেঘালয় যখন সিরিয়াস থাকে তখনই সে বলে “আলো” সম্বোধন করে।
মেঘালয় বারান্দার দিকে তাকিয়ে আছে। আলো ধীরপায়ে এগিয়ে যায় মেঘালয়ের পাশে। আলো খাটের একপাশে গিয়ে দাঁড়ালো। মেঘালয় আলোর দিকে না তাকিয়ে বলল,
— আমার পাশে এসে বসো।
আলো মেঘালয়ের পাশে বসল চার ইঞ্চি দূরত্ব রেখে। মেঘালয় আলোর দিকে একবারও তাকালো না। মেঘালয়ের এমন আচরণে কষ্ট পাচ্ছে আলো। মানুষটার আদুরে সুরে বলা কথাগুলোতে সে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। অথচ,আজ তার থেকে পাওয়া আচরণে..।
— নিজের মূল্য যদি নিজে দিতে না পারো। তাহলে, কেউ তোমার মূল্যায়ন করবে না। তুমি ভুল করো, অপরাধ করো, পরিস্থিতির স্বীকার হও না কেন, তোমার উচিত নিজের পক্ষে নিজের লড়াই করে যাওয়া। নিজের অবস্থান সম্পর্কে অপরপক্ষকে সাফাই দেয়া।
মেঘালয় কথাগুলো বলেই আলোর দিকে তাকালো। আলো মেঘালয়ের কথাগুলো শুনে মাথা নীচু করে বলল,
— ভুল আমার ছিল। তানিয়া ভাবি আমার ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন। তাকে কি বলব আমি?
— তানিয়া ভাবি তোমার ভুল ধরিয়ে দেয়নি। তোমাকে নীচু করে কথা বলেছে। তোমাকে সবার সামনে ইনসাল্ট করতে চেয়েছে।
— জবাব দিলে আমাকেই সবাই বেয়াদব বলতো।এমনিতেই আমার মাথার ওপর জাদুটোনা এবং চালাক মেয়ের ট্যাগ লেগে গেছে। নতুন করে অন্য কোনো শব্দ গায়ে লাগাতে চাই না।
আলোর কথা শুনে মেঘালয় হাল ছেড়ে দিলো। আলোর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,
— আজ মা তোমার সাপোর্টে ছিলেন। অন্যদিন নাও থাকতে পারে। আজই প্রথম এবং আজই শেষ। এরপর, যদি কোনোদিন তুমি নিজের পক্ষ নিয়ে কথা বলতে না পারো, তাহলে আমাকে তোমার পাশে পাবে না। কারণ, দূর্বল ব্যক্তিত্বের মানুষ আমার পছন্দ নয়।
মেঘালয় কথাগুলো বলে উঠে দাঁড়ালো। তারপর, আলোর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে আলোর দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো। আলো অবাক হয়ে যায়। এই মাত্রই না মানুষটা তাকে কি বলছিল? কিন্তু, এখন!
— নীচে সবাই মিসেস. মেঘালয়কে দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।
— এভাবে যাব?
মেঘালয়ের বাড়িয়ে দেয়া হাতের ওপর হাত রেখে আলো প্রশ্ন করল। মেঘালয় আলোর হাত শক্ত করে ধরে বলল,
— তুমি যেমন তোমার উচিত সেভাবেই নিজেকে প্রেজেন্ট করা। তুমি আমার পছন্দের রঙের শাড়ি পরেছো, এলোচুলে এলো খোঁপায়, ভালোই তো লাগছে দেখতে!
চলবে…।
Share On:
TAGS: তাহমিনা আক্তার, মেঘের উপরে আলো
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১৪
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৭
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২১
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ৬
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২০
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২২
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২৪
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব (৮+৯+১০)
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১৩
-
মেঘের ওপারে আলো পর্ব ২