Golpo romantic golpo মেঘের ওপারে আলো গল্পের লিংক

মেঘের ওপারে আলো পর্ব ১৪


মেঘের ওপারে আলো

পর্ব_১৪

Tahmina_Akhter

“বউ তো কালো! এত সুন্দর ছেলের জন্য কালো মেয়ে?”

“নিশ্চয়ই প্রেমে-ট্রেম ছিল! নয়ত এমন কালো মেয়েকে কোন ছেলে বিয়ে করবে?”

“আরে মাহরীনের বড় ছেলের বউ তানিয়া যেমন বাপের বাড়ি থেকে শহরে ফ্ল্যাট পেয়েছে। ঠিক তেমনি মনে হয় মেঘালয়ের বউটা শহরে ফ্ল্যাট পাবে মনে হয়।”

” মেয়ের বাবা সরকারি চাকরি করে । তার কাছে এত টাকা আছে নাকি যে মেয়েকে ফ্ল্যাট কিনে দেবে!”

উপরোক্ত বাক্যগুলো মেঘালয়ের মামা-দাদাদের পক্ষ থেকে আসা কিছু মানুষের কথা।

আর আলোর পরিবারের মানুষজন তো আর এক কাঠি ওপরে। তাদের ভাষ্যমতে,

“মেঘালয়ের হয়ত এটা দ্বিতীয় বিয়ে। নয়ত দেখতে কালো, খুঁত আছে এমন মেয়েকে কেউ বিয়ে করে?”

পরিবারের কিছু মানুষের কথা শুনে আফসার সাহেব রেগে যাচ্ছেন। কিন্তু… তাদের বলেও লাভ নেই। এক কথার একশ রকমের বানাতে তাদের জুড়ি নেই।

খুবই আনন্দঘন মূহুর্তে পাড় হচ্ছে মেঘালয় এবং আলোর হলুদ সন্ধ্যা। মাঝখান দিয়ে মেঘালয়কে টিজ করছে কাব্য। কারণ, কাব্যর বিয়ের সময়ে মেঘালয় কম করেনি তার সাথে। মেঘালয় একটা টিস্যু পাঞ্জাবির পকেট থেকে বের করে আলোর সামনে দিয়ে বলল,

— কেক মুখে নিয়ে টিস্যুতে ফেলে দিবেন। বাপ রে চার পাউন্ডের কেক খেলে নির্ঘাত হসপিটালে যেতে হবে!

মেঘালয় কথাগুলো বলতে বলতে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছে ফেলল। আলো টিস্যু হাতে নিয়ে বসে রইল। কাব্য এবং ইতি এলো স্টেইজে। মেঘালয়ের পাশে কাব্য আর আলোর পাশে ইতি৷ কাব্য কেক নিয়ে মেঘালয়ের মুখের সামনে বাড়িয়ে ধরল। মেঘালয় কেকের দিকে তাকিয়ে বলল,

— আচ্ছা, ভাই আমার তো মাত্র তিনবার কেক মুখে দিয়ে বমি পাচ্ছে। তুমি অত বড় কেক তোমার গায়ে হলুদের দিন একা সাবাড় করেছিলে কিভাবে?

মেঘালয়ের ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলা কথাগুলো শুনে কাব্য, ইতি ফিক করে হেসে ফেলল। আলো নিজের স্যার সম্পর্কে এমন কথা শুনে না হেঁসে পারছে না। কাব্য বড় এক টুকরো কেক হাতে নিয়ে মেঘালয়ের মুখে ঢুকিয়ে দিয়ে বলল,

— এভাবে খাবি? ফেলে দিচ্ছিস কেন? আরে খা। কিছুই হবে না। ব্যাচেলার জীবনের শেষ রাতটাকে ইনজয় করছিস ভেবে কেক খেয়ে সেলিব্রেট কর।

কাব্য হাসতে হাসতে কথাগুলো বলল। কাব্যের কথা শুনে ইতি এবং আলো মুচকি হেসে ফেলল। মেঘালয় ফের থুওও করে টিস্যুর ওপর কেক ফেলল।


গায়ে হলুদের প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পর একে একে মেহমানরা বিদায় নিতে শুরু করল। আলোর বাবা-মা এবং আলো বাদে কেউই নেই। এদিকে মাহরীনকে নিয়ে মাশফি এবং তানিয়া চলে গেছে বেশ কিছুক্ষণ আগে।

রাত প্রায় একটা বাজছে৷ কাব্য আর ইতি মেঘালয়কে গিয়ে বলল,ড্রাইভারকে বলার জন্য, আলোর পরিবারকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আসতে। মেঘালয়,কাব্য এবং ইতি এগিয়ে যায় আলো এবং পরিবারের সামনে। মেঘালয়কে দেখে আলো মাথা নীচু করে সিতারা বেগমের পাশে দাড়িয়ে রইল৷ মেঘালয় সরু চোখে তাকালে একবার আলোর দিকে। তারপর আফসার সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল,

— আঙ্কেল, আমাদের গাড়ি করে আপনারা চলে যান। এত রাতে অন্য গাড়িতে করে যাওয়া, রিস্ক হয়ে যাবে।

— অসুবিধা নেই, বাবা৷ তোমরা চলে যাও। আমরা যেতে পারব।

কাব্য এগিয়ে এসে আফসার সাহেবকে নরম সুরে বলল,

— আপনারা আমাদের গাড়িতে করে না গেলে বরং অসুবিধা হবে আঙ্কেল। প্লিজ মানা করবেন না৷ গাড়ির ড্রাইভার যাবে না বরং, আমি আপনাদের নামিয়ে দিয়ে আসব৷

কাব্যর কথা ফেলতে পারল না আফসার সাহেব। কাব্য, ইতি, সিতারা বেগম, আলো, মেঘালয় এবং আফসার সাহেব একসঙ্গে কমিউনিটি সেন্টার থেকে বের হলো। রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রাখা গাড়ির সামনে ড্রাইভারের কাছ থেকে চাবি নিয়ে কাব্য উঠে বসল। তারপর, ইতি, সিতারা এবং আফসার সাহেব। বাদ রইল মেঘালয় এবং আলো।

আলো মেঘালয়ের দিকে আড়চোখে তাকালো। মানুষটার সঙ্গে কি এবার একা একা ফিরতে হবে? মেঘালয় হুট করে আলোর চোখে চোখ রেখে তাকালো এবং আলোকে অপ্রস্তত অবস্থায় ফেলল। আলো তড়িঘড়ি দৃষ্টি সরিয়ে ফেলল।

কাব্য সবাইকে নিয়ে রওনা হয়ে গেছে। মেঘালয় এবার আলোর দিকে ফিরে তার ডান হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

— চলুন এবার আপনি আর আমি রওনা হই।

আলো মেঘালয়ের বাড়িয়ে দেয়া হাতের দিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর, মেঘালয়ের হাতের ওপর হাত রাখল। মেঘালয় মুচকি হেসে আলোর হাত শক্ত করে ধরল। গাড়ির দিকে এগিয়ে যায়। আলোকে গাড়িতে বসিয়ে সিট বেল্ট বেঁধে দিলো।

সিট বেল্ট বাঁধার সময় আলো মেঘালয়ের দিকে চোখ রাখতে পারল না। দৃষ্টি সরিয়ে রাখল অন্যদিকে। মেঘালয়ের গা থেকে ভেসে আসা মিষ্টি সুভাসিত সুঘ্রাণে আলোর নাকে এসে ধাক্কা দিচ্ছিল। আলোর সিট বেল্ট বাঁধা হলে মেঘালয়ে গিয়ে ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট করল।

ড্রাইভিংয়ের ফাঁকে ফাঁকে মেঘালয় আলোর দিকে আঁড়চোখে তাকাচ্ছে। আলোর ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় জানান দিচ্ছে। হুট করে মেঘালয় শিস বাজাতে বাজাতে থেমে গেল। গাড়িটা রাস্তার একপাশে দাঁড় করিয়ে ফেলল। আলো অবাক হয়ে যায়। তারপর মেঘালয়কে জিজ্ঞেস করল,

–এখানে কেন গাড়ি দাঁড় করিয়েছেন?

মেঘালয় আলোর ভয় পাওয়া মুখটার দিকে তাকিয়ে বেশ মজা পেলো। ইচ্ছে করল আরও আলোর ভয় আরেকটু বাড়িয়ে দিতে। কিন্তু, আজ নয়।

— সন্ধ্যা থেকে শ’খানেক ছবি তোলা হয়েছে। কিন্তু আপনার সঙ্গে আমার একান্ত কোনো ছবি তোলা হয়নি। তাই এখন ছবি তুলব। এবার নামুন গাড়ি থেকে।

— আরে তাই বলে এত রাতে! রাস্তার পাশে?

আলোর কথা শুনে মেঘালয় জবাব দিলো না। গাড়ি থেকে নেমে পরল। আলোর সাইডের দরজা খুলে আলোকে বের হবার জন্য ইশারা করল। অগত্যা আলো বের হলো।

মেঘালয় আলোর হাত ধরল। তারপর, নিজের পাশে দাঁড় করিয়ে মোবাইলে সেলফি ক্যামেরা অন করে আলোকে বলল,

— আপনার ঠোঁটের কোনে সামান্য হাসির রেখা দেখতে চাই মিসেস মেঘালয়৷

“মিসেস মেঘালয়” শব্দটা শুনে আলো মেঘালয়ের চোখের দিকে তাকালো। ব্যস এই মূহুর্তটাকে ক্যামেরা বন্দি করে ফেলল মেঘালয়। ছবি তোলা শেষ। মেঘালয় মোবাইল ফোন পকেটে রেখে আলোকে বলল,”গাড়িতে গিয়ে বসতে”।
আলো চুপচাপ মাথা নীচু করে হেঁটে গাড়িতে গিয়ে বসল।

এরপরের সময়টুকুতে আলোর নীরবতা বেশ চোখে পরার মত। মেঘালয় ড্রাইভিং করার সময় আলোকে বেশ কয়েকবার দেখল। কিন্তু কিছুই জিজ্ঞেস করল না।

আলোদের বাড়ির সামনে এসে গাড়ি থেমে গেল। আলো গাড়ি থেকে নেম যায়। আলো মেঘালয়ের কাছ থেকে বিদায় না নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল দেখে মেঘালয় আলোকে ডাক দিলো।

— আলো?

নিজের নামটা মেঘালয়ের মুখ থেকে শুনে আলো থমকে যায়। এই প্রথমবার মানুষটা তার নাম ধরে সম্বোধন করল। “মিস মিথ্যাবতী” নামটাকে হুট করে আলো ভীষণ মিস করতে লাগল। আলো পেছনে ফিরে তাকাতে দেখতে পেলো, সাদা পাঞ্জাবি পরা মেঘালয় তার দিকে এগিয়ে আসছে। মেঘালয় আলোর সামনে এসে দাঁড়ালো। পূর্ণ চাঁদের আলোয়ে শ্যামাকন্যার মুখের দিকে তাকিয়ে মেঘালয় প্রশ্ন করল।

— মন খারাপ? আমার কোনো কাজে বা কথায় কষ্ট পেয়েছেন?

আলো মাথা নাড়িয়ে না বোঝায়।

— তাহলে?

— আপনি কি সত্যি আমার সঙ্গে সহজ হবার চেষ্টা করছেন?

আলোর প্রশ্ন শুনে মেঘালয় ভ্রু কুঁচকে তাকালো।

— এমন কেন মনে হলো আপনার?

— গত দুদিন ধরে দেখলাম, আপনি খুবই সহজভাবে আমার সঙ্গে মিশে যাচ্ছেন। কিন্তু, আপনার আর আমার সম্পর্ক এত সহজ নয়।

আলোর কথাগুলো শুনে মেঘালয় দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল,

— সহজ করতে চাইলে সবই সহজ। এখন আপনি কি চাইছেন? আপনার সঙ্গে আমার বিয়ে নামক চুক্তিনামা হোক?

— আমি সেটা কখন বললাম?

— তাহলে আপনি কি বোঝাতে চাইছেন? আপনার সঙ্গে আমার যেভাবেই হোক অথবা কোনো কারণেই হোক বিয়ে তো হচ্ছে । আট দশটা দম্পতি যেভাবে থাকে। আমাদেরও উচিত সেভাবে থাকা।

— অভিনয় করতে বলছেন?

— আপনি যদি মনে করেন আমাদের সম্পর্কে আপনার অভিনয় করা জরুরি। তাহলে আপনি অভিনয় করতে পারেন। বাট আমার পক্ষ থেকে কোনো অভিনয় নেই। আমি সম্মান করি আমাদের সম্পর্ককে। আপনাকে আমি সেদিনও বলেছি আজও বলছি। আমার জন্য আপনার দায়িত্ব পালন করার প্রয়োজন নেই। যেদিন আপনার মনে হবে আমার দায়িত্বটুকু আপনি নিতে পারবেন ঠিক সেদিন আপনি আমার দায়িত্ব নেবেন। আমি আপনাকে কোন প্রকার জোর করব না । বাট আমি এই সম্পর্ককে মেনে নিয়েছি। কারণ, আমার মা আপনাকে চেয়েছেন।

কথাগুলো বলে অপেক্ষা করল না মেঘালয়। চলে গেল। আর একা দাঁড়িয়ে রইল আলো৷ মানুষটার এভাবে রেগে যাওয়া কিংবা সম্পর্কটাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়া, আলো মানতে পারছে না। মনে হচ্ছে মেঘালয় অভিনয় করছে। তার মা’কে আস্বস্ত করতে সে আলোর সঙ্গে ভালো থাকার অভিনয় করছে। তাদের সম্পর্কেটাকে মেনে নেয়ার চেষ্টা করছে।


“পিতা : ফরহাদ রেজা আহমেদের কনিষ্ঠ পুত্র মেঘালয় ইমতিয়াজ আহমেদের সঙ্গে আফসার উদ্দিনের একমাত্র কন্যা তামান্না ইসলাম আলোর বিবাহের মোহরানা দশ লক্ষ এক টাকা ধার্য করা হয়েছে। আপনি যদি এই বিয়েতে সম্মতি প্রদান করেন তাহলে বলুন, “কবুল”।

আলোর ছোট ঘরটায় আজ মানুষ পরিপূর্ণ। কারণ, হুট করে মাহরীন আজ সকালে আফসার সাহেবের সঙ্গে কথাবার্তা বলে ঠিক করলো যে, সকালে আকদটা সেড়ে ফেললে বরং ভালো হবে।
বাদবাকি যা হবে সব কনভেনশন সেন্টারে হবে।

যেই ভাবা সেই কাজ। মেঘালয়ের পরিবার থেকে কিছু মানুষজন রওনা হয়েছে। এদিকে আলো ঘুম থেকে উঠার পর তার এক মামাতো বোন তাকে মেহেদী পরিয়ে দিয়েছে। সে মেহেদীরাঙা হাত নিয়ে তার ঘরে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে খবরটা জানার পর থেকে। পরনে এখনো হলুদের শাড়িটা।

মাশফি, কাব্য, মেঘালয়ের বড় মামা, বড় চাচা, আলোর বাবা এবং কাজি এসেছে আলোর ঘরে। আলোর (কবুল) সম্মতি নিতে। আলোর পাশে বসে আছে আলোর নানী। আলো তার নানীর হাত শক্ত করে চেপে ধরে বসে আছে। আলোর নানী নাতনির কানের কাছে মুখ বাড়িয়ে বলল,

— কবুল বলে দে। লোকে মন্দ বলব। আর কান্দিস কেন এত?

কাজি সাহেব আবারও আলোকে কবুল বলার জন্য আহ্বান করল। আলো মাথা উঁচু করে দেখল তার বাবাকে। বহুবছরের মধ্যে আজই তার বাবার চেহারায় সুখী সুখীভাব বিরাজ করছে। এতদিন যে ছিল কন্যা দায়গ্রস্থ পিতা। কন্যায় দায়গ্রস্থ পিতা ভারি শব্দটার থেকে আজ তার মুক্তি হবে।

— আলহামদুলিল্লাহ, কবুল।

অবশেষে আলোর কাছ থেকে সম্মতি পেয়ে সবাই আনন্দিত। কাব্য এবং আলোর নানী বাদে সবাই আলোর ঘর ছেড়ে বের হয়ে গেল। মসজিদে সবাই অপেক্ষা করছে। কারণ, এবার মেঘলায়ের পালা।

আলো হটাৎ করে আলোর নানীর গলা জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল। কাব্য আলোর কান্না দেখে চুপ করে বসে রইল। আলোর নানী নাতনির পিঠে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলল,

— কান্না করার কি আছে পাগল? আজ তো তোর খুশীর দিন!

— আমার মা কেন নেই, নানী? আমার মা কেন নেই?

আলোর কান্নার সুর কি যে করুন শোনালো। কাব্য স্তব্ধ হয়ে যায়। এতদিন তারা জানত সিতারা বেগম আলোর মা। কিন্তু আজ জানতে পারল…

আলোর জন্য এবার সত্যি সত্যি মন খারাপ হলো কাব্যের।

ধীরে ধীরে মসজিদ থেকে সবাই আলোদের বাড়িতে ফিরে আসে৷ কাব্য চলে যাওয়ার জন্য উঠে দাঁড়ায়। আলো মাথা নীচু করে বসে ছিল। কান্না করতে করতে তার চোখের পাতা ফুলে গেছে।

— তোমার স্বামী তোমাকে দেখতে চাইছে, আলো। তার সঙ্গে কথা বলো।

কাব্যর কথা শুনে আলোর কান্না বন্ধ হয়ে যায়। আলো মাথা উঁচু করে তার ঘরের চারপাশে তাকালো৷ কিন্তু মেঘালয় তো কোথাও নেই!

কাব্য মুচকি হেসে আলোকে বলল,

— সে এখানে?

কথাটি বলেই কাব্য আলোর দিকে তার মোবাইল বাড়িয়ে ধরল। আলো মোবাইল হাতে নিলো। মেঘালয় আলোর কান্নারত মুখ দেখে বলল,

— শাদি মোবারক, মিসেস মিথ্যাবতী। অবশেষে আপনি আমার হলেন। আজ যত কান্না করতে পারেন করুন। বাঁধা দেব না। কারণ, আজ আপনার দিন। আমার বাড়িতে, আমার জীবন, আমার ছোট ঘরটায় যেদিন আপনার আগমন হবে সেদিন আপনার কান্নারা ছুটি নেবে। আই প্রমিস।

মেঘালয়ের আদুরে সুরে বলা কথাগুলো শুনে ঝরঝরিয়ে কেঁদে ফেলল আলো। অথচ এই মানুষটাকে সে তার চোখের পানি দেখাতে চায় না। বেহায়া হৃদয় বুঝি মেঘালয়কে আজ আপন মানুষ ভেবে বসে আছে। তাই হয়ত চোখের পানির বাঁধ ভেঙেছে তার সামনে।

চলবে….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply