মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_৩
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
কপি করা বিশেষ ভাবে নিষিদ্ধ ❌
ঠিক তখনই করিডোরের ভেতর দিয়ে আস্তে আস্তে একটা শব্দ ভেসে এলো চাকার ঘর্ষণের শব্দ।
চিঁই…চিঁই…
ড্রাইনিং রুমের ভেতরের বাতাসটা মুহূর্তেই ভারী হয়ে গেলো।আবরার মাথা ঘুরিয়ে তাকালো সিঁড়িয দিকে।সেখানে দেখা গেলো, হুইলচেয়ারে বসা এক মধ্যবয়সী পুরুষ ধীরে ধীরে তাদের দিকে। চুলে পাক ধরেছে, চোখের নিচে ক্লান্তি, তবুও দৃষ্টি টা তীক্ষ্ণ তিনি আব্বাস রহমান কুহেলির বাবা।
তিনি চেয়ার খানা থামায় একবারে আবরারের সামনে, তারপর ফেটিক্সের দিকে তাকালো পুনরায় আবরারের দিকে তাকিয়ে গভীর কণ্ঠে বললো আপনারা কে…? এখানে কী চান?আবরার তার গম্ভীর মুখে একটুও ভাব প্রকাশ না করে ধীরে বললো,আপনার মেয়ে কুহেলি ওকে আমি তাকে চাই।
এক মুহূর্তের জন্য যেন সময় থেমে গেলো।রিনা রহমান এতে খুশি হলো যাক আপদ খানা বিদায় হবে ঘাড় থেকে পরক্ষনেই ভাবলো লোক টা কে..? আর কুহেলির সাথে কি সম্পর্ক…! তারপর আবার ভাবলো যাই হোক তাতে আমার কি..? ঘাড় থেকে নামবে এটাই অনেক…! আব্বাস রহমানের হাত তখনো চেয়ারের চাকার ওপর কেঁপে উঠলো।কি বললেন আপনি?আব্বাস রহমান কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলেন,কুহেলির সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা আসলে কী?
আবরার এবার মাথা একটু কাত করলো,
চোখে সেই ঠান্ডা আগুনের ঝলক,তারপর ধীরে বললো,আপনি ওকে ডেকে জিজ্ঞাসা করুন আমাদের সম্পর্ক কি…! আবরারের কণ্ঠে কোনো উচ্চতা নেই,তবুও সেটা এমন এক আদেশ যা অমান্য করার সাহস কারো নেই।
রিনা রহমানের তখনি হাটা ধরলো কুহেলির রুমের দিকে মনে মনে মহা খুশি কিন্তু মুখে প্রকাশ করে নি।সে পা দ্রুত পায়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেলো।
ঠিক সেই মুহূর্তে উপরে থেকে হালকা পায়ের শব্দ শোনা গেলো।ঠক ঠক ঠক রিনার মুখের দিকে না তাকিয়ে সবাই তাকালো সিঁড়ির দিকে।
সাদা রঙের একটি ওড়না, মুখে কালো মাস্ক,
আর চোখ দুটি অবসন্ন, নিস্তেজ কিন্তু গভীর।
সিঁড়ি বেয়ে নেমে আসছে কুহেলি তার হাঁটায় কষ্ট, তবুও মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই।ফেটিক্স নিঃশ্বাস আটকে তাকিয়ে রইলো,আর আবরার আবরার একটুও নড়লো না।তার ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে উঠলো সেই চেনা, ভয়ংকর স্নান হাসি।
কুহেলি অনেক আগেই জানতো আবরার এসেছে।
উপরে জানালার ফাঁক দিয়ে দেখেছিলো,ধূসর রঙের শার্ট, কালো কোট,সেই হাঁটাটার ভেতর রাজকীয় কর্তৃত্ব একটা দৃষ্টি যেন শ্বাস বন্ধ করে দেয়। কুহেলির বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠেছিলো।ও জানতো যদি ও আবরারের সামনে না যায় তাহলে আবরার নিশ্চয়ই ওর পরিবারের ক্ষতি করবে।এই ভয়েই, শরীরের ব্যথা আর ক্লান্তি উপেক্ষা করে নিচে নেমে এলো।সিঁড়ির ধাপগুলো যেন আগুনের মতো জ্বলছিলো।প্রতিটি পদক্ষেপের সঙ্গে তার হৃদস্পন্দন দ্রুত হচ্ছিলো।
নিচে পৌঁছে যখন বাবার চোখের দিকে তাকালো তার বুকের ভেতরটা ভেঙে পড়লো।আব্বাস রহমানের চোখে অবিশ্বাস, রাগ আর দুশ্চিন্তার মিশ্র ঝড়। কুহেলি তার কণ্ঠ ভারী হয়ে এলো।
লোকটা কী বলছে? তোমাকে নাকি চাই ও…?
এসব কী আজগুবি কথা বলছে এই লোকটার সঙ্গে তোমার সম্পর্কটা আসলে কী?
কুহেলি মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো।
তার ঠোঁট কাঁপছে, বুকের ভেতরটা ভারী হয়ে আসছে চোখের কোণে জমে থাকা জল হঠাৎ গড়িয়ে পড়লো গালে।কী বলবে সে তার বাবাকে…?যে লোকটার সঙ্গে রাতটা কাটিয়েছে,
যে রাত তার জীবনের শেষ আশ্রয়, শেষ সম্মান সব ছিনিয়ে নিয়েছে তার কথা কীভাবে বলবে বাবাকে?কীভাবে বলবে যে, সে ইচ্ছায় নয়, বাধ্য হয়েই গিয়েছিলো সেখানে…?
নীরবতা যেন পুরো বাড়িটাকে ঢেকে ফেলেছে।
শুধু আব্বাস রহমানের ভারী নিঃশ্বাস আর কুহেলির চোখের পানি পড়ার শব্দ।রিনা রহমানের মুখে খুশির ঝলক,ফেটিক্সও স্থির দাঁড়িয়ে আছে, যেন কোনো অনিবার্য বিস্ফোরণের অপেক্ষায়।
অবশেষে আব্বাস রহমানের কণ্ঠ ফেটে গেলো,কী হলো, বলছো না কেনো…? তার কণ্ঠে ক্রোধ নয় ছিল এক অসহায় পিতার আর্তনাদ।কি সম্পর্ক তোমার এই লোকটার সঙ্গে…!?কুহেলি কেঁপে উঠলো।তার ঠোঁট নড়লো, কিন্তু কোনো শব্দ বের হলো না।চোখ ভরে উঠলো অশ্রুতে এ যেন এক মেয়ের নীরব স্বীকারোক্তি,যে এক রাতেই নিজের জীবনের সব আলো হারিয়ে ফেলেছে।
আবরারের ঠোঁটের কোণে ধীরে ধীরে ফুটে উঠলো সেই চেনা, ভয়ংকর স্নান হাসি তার চোখে লালচে আলো ঝলমল করছে যেন খেলাটা এখনই শুরু হলো। আবরার সোফায় বসা অবস্থাতেই গম্ভীর অথচ ব্যঙ্গমিশ্রিত কণ্ঠে বললো আরে শ্বশুরমশাই…! এভাবে কেনো শুধু শুধু আমার বউটাকে ধমকাচ্ছেন?মুহূর্তের মধ্যে যেন বজ্রপাত হলো ড্রাইনিং রুমের ভেতর।সবাই থমকে গেলো।রিনা রহমানের চোখ বিস্ফারিত,আব্বাস রহমানের মুখে হতবাক নীরবতা,আর কুহেলি…!কুহেলির দেহ কাঁপতে লাগলো, ঠোঁট শুকিয়ে গেলো।মাথার ভেতর শব্দটা যেন বারবার প্রতিধ্বনিত হচ্ছে আমার বউটা…! কুহেলি মনে মনে বললো,
বউ…?শ্বশুর…?কে বউ…?কোন সম্পর্কের কথা বলছে এই মানুষটা…?
আব্বাস রহমান এক ঝটকায় হুইলচেয়ারের হাতলে হাত রাখলেন,চোখের দৃষ্টি ছুঁড়ে দিলেন আবরারের দিকে।আপনি কী বললেন?এইসব আজগুবি কথা বলছেন কেনো?কুহেলি আপনার বউ মানে কী!?আবরার একটুও বিচলিত হলো না।
বরং আরও শান্তভাবে বললো,প্রমাণ ছাড়া তো আপনারা কিছু বিশ্বাস করবেন না, তাই না?
তারপর সে হালকা করে মাথা ঘুরিয়ে ফেটিক্সের দিকে তাকালো।একটা নীরব ইশারা।ফেটিক্স বুঝে নিলো কথার প্রয়োজন নেই।ফেটিক্স দ্রুত পা ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।বাড়ি আবার নিস্তব্ধতা নেমে এলো।আবরার নখের মাথায় নিজের আঙুল ঠুকছে ধৈর্যের এক ভয়ংকর খেলা চলছে তার চোখে।দুই মিনিটের মাথায় দরজায় আবার পায়ের শব্দ।ফেটিক্স ফিরে এলো, হাতে একটি ফাইল।চামড়ার কালো কভার, যার ভেতর থেকে সাদা কাগজের কোণ দেখা যাচ্ছে।
সে নিরবে কাগজটা আবরারের হাতে দিলো।
আবরার কাগজটা খুলে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে দিলো।তার কণ্ঠ ঠান্ডা, কিন্তু প্রতিটি শব্দ যেন ছুরি।
এই নিন, শ্বশুরমশাই।আপনার মেয়ে কুহেলি তাজ রহমান। কালকে রাত থেকে আইনগতভাবে মিসেস কুহেলি আবরার খান।কাগজটা আব্বাস রহমানের হাতে পড়তেই তার চোখ বড়ো হয়ে গেলো।
হাত কাঁপছে,ঠোঁট কেঁপে উঠলো।
এটা… এটা তো… বিয়ের… রেজিস্ট্রেশন পেপার!
রিনা রহমান দৌড়ে এগিয়ে এসে তাকালো তাতে সত্যিই কুহেলির নাম, তার বাবার নাম,আর আবরারের স্বাক্ষরও দেওয়া আছে।কুহেলি এক পা পিছিয়ে গেলো।তার বুকের ভেতর কেমন করে উঠছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।তার চোখ দুটো ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে অশ্রুতে।
বিয়ের রেজিস্ট্রেশন…?
কখন…? কিভাবে…?
ওর মনে পড়ছে না কিছুই।শুধু কালরাতের ভয়, অন্ধকার,আর তার হাতের শক্ত মুঠোর মধ্যে নিজের অসহায়তা।কুহেলির ঠোঁট কাঁপতে কাঁপতে শব্দ বের হলো,এটা… এটা কিভাবে সম্ভব… আবরার এবার ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ালো,সামান্য ঝুঁকে কুহেলির চোখে চোখ রাখলো।তার ঠোঁটে হাসি, কিন্তু চোখে নিঃশব্দ আদেশ।সব কিছুই সম্ভব, আমার ছোট পাখি।তার কণ্ঠ যেন কুহেলির হাড় পর্যন্ত গলে দিলো কারণ তুমি এখন আমার..!
কথা খানা শেষ করার সাথে সাথেই আবরার কুহেলি কে কোলে তুলে নিলো। কুহেলি ছটফট করতে থাকে নামার জন্য কিন্তু আবরার কুহেলিকে কোলে নিয়ে দরজার দিকে হাটতে শুরু করে ঠিক তখনি আব্বাস রহমান পিছনে থেকে বলে উঠে আরে আমার মেয়ে কে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন..? দিয়ে যান ওকে কোথাও যাবেন না…! আবরার পিছনে ফিরে তাকায় তারপর বলে আপনার মেয়ে আর আপানার নেই এখন থেকে ও আমার কাছে বন্দি কথা খানা বলেই বাড়ি বাইরে চলে যায় আব্বাস রহমানের চোখ ভিজে যায় নিজের মেয়ে কে কেউ এভাবে নিয়ে গেলো কিন্তু ওনি বাবা হিসেবে কিচ্ছু করতে পারলো না। আর রিনা রহমানের মুখে হাসি আপদ বিদেয় হয়েছে…!
~~
কুহেলি কোলে বন্দী হয়ে এখনো ছটফট করছে।
তার চোখে আতঙ্ক, ঠোঁটে কাঁপুনি, আর কণ্ঠে চিৎকার আমাকে ছেড়ে দিন! আমি যেতে চাই!
আমি আপনার সঙ্গে থাকবো না!আপনি একজন মাফিয়া আপনার কাজ হলো খুন করা!আমি আপনার পাপের জীবনের সাথে নিজের জীবন জড়াতে চাই না!কিন্তু আবরারের চোখে কোনো নরম অনুভূতি নেই।কোনো শব্দ ছাড়াই, আবরার কুহেলিকে গাড়ির পিছ সিটে ছুরে মারলো তারপর নিজেও গাড়ি তে উঠে বসে কুহেলি কে নিজের বাহুর নিচে শক্ত করে চেপে ধরলো..!কুহেলির ছোট্ট শরীর এখন তার শক্ত হাতের মধ্যে বন্দি।যেমন কোনো ছোট্ট পাখি বিপদে পড়ে পাহাড়ের ঢালে ছটফট করছে উঠতে চায়, কিন্তু কোনো সুযোগ নেই।
চুপ করো, ছোটো পাখি।তার গম্ভীর কণ্ঠে ঝড়ের মতো শক্তি,যা কুহেলির হৃৎপিণ্ডে ভয় ছড়াচ্ছে।
গাড়ির পেছনের সিটে বসে আবরার ঠান্ডা চোখে কুহেলির দিকে তাকায় কুহেলি ছটফট করছে, হাত-পা কেঁপে উঠছে,কিন্তু আবরারের শক্ত হাত যেন প্রতিটি প্রতিরোধ বন্ধ করে দিচ্ছে।
তারপর ড্রাইভার কে উদ্দেশ্য করে গম্ভীর কন্ঠে বলে জঙ্গলের বাড়ি তে চলো…!
সাথে সাথেই ড্রাইভারের কাঁপা হাতে ধরে স্টিয়ারিং চাকা গাড়ি স্টার্ট দিলো।ড্রাইভার জানে এই মুহূর্তে আবরারের চোখের এক ঝলকেই তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।গাড়ি ধীরে ধীরে শহরের আলো পেরিয়ে অজানা রাস্তা বেয়ে এগোতে লাগলো।
কুহেলি বুকের ভেতর কেঁপে কেঁপে চিৎকার করছে,
আপনি আমাকে ছাড়বেন না? আপনি আমাকে মারবেন না তো? কিন্তু আবরার কোনো উত্তর দিলো না।শুধু ঠান্ডা চোখে কুহেলির দিকে তাকিয়ে আছে,যেন বলছে এখানে তুমি আমারই।
প্রতি ছটফটের সঙ্গে কুহেলির শরীর আরও ছোট্ট, আরও অসহায় মনে হচ্ছে।আর আবরারের শক্ত হাত?যেন একটি পাহাড়ের ছায়া, যা তাকে কোনোভাবেই ছাড়বে না।
প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে গাড়ি চলছিলো কুহেলি এখনো শান্ত হচ্ছে না ছটফট করতেছেই ওর বুক এখনও অস্থির চোখে আতঙ্কের আবরার এখনো একেবারেই স্থির। তাকে দেখেই কুহেলি মনে করছিলো এখনও কিছু আশা নেই।কিন্তু তার ধৈর্য শেষ হতে চলেছে।
হঠাৎ আবরারের চোখে এক অদ্ভুত ঝলক একটা বিরক্তি, যা আগে কখনো কুহেলি দেখেনি।সে কুহেলির গালের দিকে হাত তোললো একটি সজোরে থাপ্পড়।
ঠাসসসসসসস!
শব্দটা এতটাই কর্কশ, এতটাই শক্ত,
কুহেলি চমকে উঠলো।মাথা ঘুরতে লাগলো, চোখ অচেনা অন্ধকারে ধরা দিলো।জীবনে এত শক্ত থাপ্পড় কখনো খায়নি সে।শরীরটা ডোলতে ডোলতে পড়লো আবরারের শক্ত বুকের ওপর।
কুহেলির চোখে নীরবতা,আর হৃদয় যেন হারিয়ে গেছে এই আকস্মিক আঘাতে।আবরারের কণ্ঠ গম্ভীর শক্ত অদ্ভুতভাবে শান্ত।গাড়ি থামাও।মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলো।রাস্তায় নিস্তব্ধতা নেমে এলো।কুহেলি এখনও হকচকিয়ে বসে, বুক ধড়ফড় করছে চোখের জল কিন্তু শব্দ নেই।আবরার ধীরে ধীরে ড্রাইভারের দিকে তাকালো।
তুমি পিছনের গাড়িতে যাও আমি আসছি।
ড্রাইভার হতবাক, হাত কাঁপছে,কিন্তু কিছু বলতে সাহস পেলো না।নীরবভাবে গাড়ি থেকে নেমে পিছনের গাড়ির দিকে গেলো।প্রশ্ন করার সাহস তার নেই কারণ আবরারের চোখ,যেন এক ঝলকেই প্রাণ নষ্ট করতে পারে।গাড়ি থেমে রাস্তায় শুধুই নীরবতা।
ড্রাইভার গাড়ি থেকে নেমে যেতেই আবরার কুহেলির মাক্স খানা খুলে ফেললো বেরিয়ে আসলো ওর দেওয়াই অনেক গুলো চিহ্ন মুখ ঠোঁট জোর তা দেখে আবরার ঠোঁট বাকিয়ে হেসে বললো, আমার দেওয়া দাগ গুলো ঝলঝল করছে এখনো। হাত দিয়ে স্পর্শ করলো ক্ষত জায়গা গুলো কুহেলি কেঁপে উঠলো আবরারের এরকম স্পর্শে….! বেশি কিছু ক্ষন এরকম ভাবে স্পর্শ করলো আবরার কুহেলির মুখ ঠোঁট জোরে কিন্তু হঠাৎ করেই আবরার রেগে যেয়ে কুহেলির গলা চেপে ধরলো। কুহেলি কিছু বুঝতে পারলো না চোখে মুখে অবাকের রেশ কিন্তু হঠাৎ করেই চোখ মুখ লাল হয়ে গেলো এতো জোরে আবরার ওর ধরেছে গলা ধরেছে..!
আবরার হিসহিসিয়ে বললো, তুই এ জন্য মুখ ডেকে রেখেছিলি যাতে কেউ এসব দেখতে না পারে তাই না..? আমার দেওয়া চিহ্ন তোমার মানুষ কে দেখাতে লজ্জা লাগে…!? কুহেলি কিছু বলতে পারলো না শুধু চোখ উল্টে দিলো আবরার ওর এতো জোরে ধরেছে…!
আবরার তা দেখতে পেরেই ছেড়ে দিলো কুহেলি কে ছাড়া পেতেই কুহেলি জোরে জোরে হাপাতে লাগলো যেনো নতুন জীবন পেয়েছে…! আর আবরারের রাগ এখনো কমেনি..! আবরার গাহির সামনে থেকে হ্যান্ডকাফ খানা এনে কুহেলির হাতে লাগিয়ে দিলো।কুহেলি এবার ফুঁপিয়ে উঠলো কিন্তু পাষণ্ড আবরারের তাতে কিচ্ছু যাই আসে না। সে কোনো পূর্বাশ ছাড়াই কুহেলির অধর খানা নিজের অধরে বন্দি করে ফেললো…! কুহেলি উম উম কররো নিজে কে ছাড়ানোর কিন্তু কোনো কাজ হলো না আবরার সে কালকে রাতের মতো হিংস্র হয়ে উঠলো….!
আবরার এবার এক হাত দিয়ে কুহেলির হিজাব খানা খুলে ফেললো। কুহেলির গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে কিন্তু আবরারের তাতে কিচ্ছু যাই আসে না। কিস করতে করতে কুহেলি কে সিটে শুয়ে নিজেও শুয়ে পড়লো তারপর কুহেলির জামার নিচে হাত দিতে নিবে তার আগেই গুলির শব্দ শুনতে পেলো। আবরার সাথে সাথে কুহেলির ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে উঠে বসলো। আর কুহেলি ভয়ে কাঁপতে লাগলো।
আবরার কুহেলির দিকে তাকিয়ে বললো, এখানেই শুয়ে থাকো উঠবে না যাই হয়ে যাক এখানেই শুয়ে থাকবে বলেই আবরার গাড়ির ভিতরে দিয়েই সামনের সিটে গেলো ততক্ষনে আরো কয়েক টা গুলি চললো। কিন্তু আবরারের মুখের কোনো পরিবর্তন নেই যেনো কিছুই হচ্ছে না। হঠাৎ গাড়ি স্টার্ট দিলো আর জঙ্গলের পথ দিয়ে চললো ফুল স্পিডে। আর কুহেলি ভয়ে ছোট্ট দেহ খানা প্রচন্ড পরিমানে কাঁপতে থাকে…..!
চলবে.....!
[নোট:অনেকেই বলেন গল্প বড় করে দিতে কিন্তু আমার দ্বারা এর থেকে বড় করে গল্প দেওয়া সম্ভব না। সারাদিন গল্প নিয়ে বসে থাকতে পারি না আমার পড়াশুনা আছে। সারাদিনে একবারো বসতে পারি না গল্প নিয়ে। সেই সন্ধ্যার পর টাইম পাই বাট সারাদিনের ক্লান্তির কারণে ইচ্ছে থাকলেও বড় করে লেখতে পারি না। হাতে আর ব্রেনে দেয় না…! তাই আশা করি আর বড় বড় করবেন না। আর যদি বড় করে চান তাহলে তিন দিন পর পর দিবো তাহলে অনেক বড় হবে। আপনারা কি চান অবশ্যই জানাবেন!]
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৮
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৭