মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_২৪
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
(পর্ব টি রুমান্টিক নিজ দায়িত্বে পড়ুন)
শায়লার কথাটা শেষ হতেই আবরার ধীরে ধীরে মাথা তার দিকে ঘোরাল। চোখে কোনো রাগ নেই, কিন্তু ভ্রু দুটো সামান্য কুঁচকে গেছে যেন সে শায়লার কথার মানে বুঝতে চায়।
তারপর স্বাভাবিক কন্ঠে বললো,
কেনো? মাফিয়া বলে কি সুন্দর করে কথা বলতে পারি না, শালিকা?
কথাটা যতটা কৌতুক,ততটাই ভরাট।শব্দে কোনো খামতি নেই, অথচ ভিতরে অদ্ভুত এক ক্ষমতার সুর।
শায়লা থমকে গেল।হাতের চামচটা মাঝ আকাশে আটকে আছে। চোখ বড় বড়। ও তোতলাতে লাগল।
আ… আসলে.. আমি ঐভাবে বলিনি…!মানে… আমি ভাবতাম মাফিয়ারা তো.. খালি.. মারামারি করে… তাই…!
আবরার এক মুহূর্ত স্থির হয়ে তাকিয়ে রইল শায়লার দিকে।তারপর বাকা হেসে বললো,
কেনো? মাফিয়াদের যে বাবু হয় তা কি এমনি এমনি হয় নাকি? বউ কে আদর না করলে তো আমার জানা মতে বাবু হয় না..!
আবরারের কথা শুনে কুহেলি বিষম খেলো আবরার সাথে সাথে কুহেলির দিকে পানির গ্লাস এগিয়ে দিলো। কুহেলি পানির গ্লাস টা হাতে নিয়ে ঢকঢক করে পানি খেয়ে নিয়ে চোখ গরম করে আবরারের দিকে তাকায় আবরার মিটিমিটি হেসে খাবার মুখে দিতে দিতে বলে,
ঐভাবে তাকিয়ে না জান এখন আমি রুমান্টিক মুডে নেই। খাবার খেয়ে কাজ করতে হবে..!
কুহেলি মাথা নিচু করে ফেলে আর আবরার কে পৃথিবীর সর্বোচ্চ লুচ্চা উপাধি দেয় মনে মনে।
ঠিক সেই সময়েই সিঁড়ির দিক থেকে ফেটিক্স নেমে এলো। তার হাঁটার ভঙ্গিটা সবসময়ই খুব শান্ত, কিন্তু আজ যেন একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী। নিচে এসে সে সরাসরি শায়লার পাশের চেয়ারে বসলো। বসার মুহূর্তেই একটা মেইড এগিয়ে এসে প্লেটে খাবার সার্ভ করতে লাগল।
শায়লা খাবার খেতে খেতে হঠাৎ একবার ফেটিক্সের দিকে তাকাল।ওদিকে ফেটিক্সও ঠিক সেই সময় মাথা তুলেছিল।দুই জনের চোখাচোখি হলো—এক নিঃশব্দ, নরম, এক সেকেন্ডের বেশি না, তবু যেন অনেক কিছু বলা হয়ে গেল।
শায়লার শ্বাস আটকে গেল।গাল দুটো গোলাপ ফুলের মতো লাল হয়ে উঠলো।পরক্ষণেই সে চোখ নিচু করে দ্রুত খাবার নাড়াচাড়া করতে লাগল, যেন কিছুই হয়নি।
ফেটিক্স সেই লজ্জা-লাল মুখ দেখে হালকা শয়তানি হাসি হাসলো চোখে যেন একটু দুষ্টুমি, একটু খুনসুটি, আর অল্প বিস্ময়।
আবরার এদিকে মাথা নত করে খাচ্ছিল। হঠাৎ ফেটিক্স বললো,
স্যার…!
আবরার মুখ তুলল,
হু
ফেটিক্স কাঁধ ঝাঁকিয়ে এক রকম মিষ্টি দুষ্টুমি ভরা সুরে বললো,আমার না একটা গান গাইতে মন চাচ্ছে। গাই?
টেবিলের সবাই থমকে গেল।এই সময়? এই মুহূর্তে?ফেটিক্সের এমন অদ্ভুত ঘোষণা শোনার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিল না আবরার।
কুহেলি তো বিস্ময়ে চোখ গোল করে তাকিয়ে আছে—মনে মনে বলছে ভাইয়া আবার গান গায়?
আবরার চোখ সামান্য ছোট করে তাকালো। বিরক্ত না, অবাকও ন —বরং সেই পুরনো মাফিয়া-শান্ত ভাব,গাইতে চাইছো? আচ্ছা গাও।
অনুমতি পাওয়ার সাথে সাথে ফেটিক্স গলা খাঁকারি দিল।শায়লার দিকে এক পলক তাকালো লুকানো দুষ্টু হাসি এবার আর লুকানো থাকলো না।
তারপর ফেটিক্স চোখ নামিয়ে ধীরে ধীরে গাইতে শুরু করলো,
অনন্যা পাদ দেয়।
পাদি, দে দে না!
পাদি, কুট কুট কুট!
পাদি, দে।
ফেটিক্সের গান শুনে শায়লার ভিষন হাসি পাচ্ছে তবুও ও অনেক কষ্টে মুখ বন্ধ রেখেছে।
কিন্তু কুহেলি বেচারি কুহেলি নিজেকে সামলাতেই পারলো না।
গান শুরু হতেই প্রথমে কুহেলির গলা থেকে চাপা হাসি বেরোল তারপর সেটা রীতিমতো বিস্ফোরণ!
ইশ্হহহ… না, না.. আর পারতেছি না!হাসতে হাসতে কুহেলি সামনে ঝুঁকে পড়লো।একসময় তো চেয়ারের ওপর ভারসাম্য হারিয়ে থপাস করে নিচে পড়েই গেল।
শায়লা চমকে উঠল,
কুহেলি..!
কিন্তু ফ্লোরে পড়েও কুহেলি হেসেই যাচ্ছে পুরো পাগলা অবস্থা।
আবরার সেদিকে তাকিয়ে মুখ শক্ত করে ফেলল। ভেতরে ভিতরে হাসি চাপলেও মুখে সেই দমকা গম্ভীর ভাব,
এখন এরকম গান গাওয়ার টাইম নাকি, ফেটিক্স?
ফেটিক্স থমকে গেল।শরীর সোজা করে, মাথা নিচু করে শিশুর মতো গলায় বলল,
স্যার গানটা আমার খুব প্রিয়। কিন্তু ঠিক মতো বলতে পারি না তাই আর কি..!
আবরার ভ্রু তুলে ফিসফিস করে বললো,
ইডিয়ট।
তারপর কুহেলির দিকে তাকিয়ে আবার গলা উঁচু করল,আর তুমি চুপ করবে?
ধমক এতটাই তীক্ষ্ণ ছিল যে মুহূর্তে পুরো টেবিল শান্ত।হাসির বন্যায় ডুবে থাকা কুহেলি চুপচাপ হয়ে গেল ঠোঁট কামড়ে গাম্ভীর্য ধরে রাখতে চেষ্টা করছে।শায়লাও তাড়াতাড়ি মুখ নিচু করে শান্তভাবে বসে গেল।
আবরার কুহেলি কে তুলতে গেলে তার আগেই কুহেলি আবরার কে উপেক্ষা করে নিজেই চেয়ারে বসলো তারপর মন খারাপ করে নিঃশব্দে খাবারের প্লেটে হাত দিল।চামচের শব্দটাও যেন রাগে ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।
আবরার এক চোখে কুহেলির দিকে তাকালো অনেক কিছু বলতে চাইছে, কিন্তু চুপ করে খেতে লাগলো।
সবার মাঝে একটা অদ্ভুত নীরবতা যেন হাসির ঝড়ের পর হঠাৎ নেমে আসা শান্ত ঝড়।
~~
রাত এগারোটা।
শহরের আকাশ কালো,বাতাসে ধুলোর গন্ধ।
আবরার নিজের গাড়ি থেকে নেমেই কপালের ভাঁজ আরও গভীর করলো। সারাদিন অফিস তারপর রাজনীতির ভারি লোকজন নিয়ে টানা মিটিং। মন্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে ভাগ্না রিফান যেন হায়েনার মতো তেড়ে বেড়াচ্ছে ক্ষমতার লোভে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
আবরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—ওকে রাজনীতির জালেই আটকে শেষ করবে।কিন্তু এই সব পরিকল্পনার ভিড়ে একটাই মনোযোগে লেগে আছে কুহেলি তাকে দুপুরের পর আর একটা মেসেজও দেয়নি।
শরীর ক্লান্ত, মগজ গরম, তবুও পা দুটো সোজা রুমের দিকে এগিয়ে গেলো।ওর ক্ষুধা নেই, কথা নেই শুধু কুহেলিকে দেখলেই এক দুপুরের রাগ গলে যায়, এটাই ওর আসল শান্তি।
দরজা খুলতেই অন্ধকার ওকে গ্রাস করলো।
রুমের সব লাইট অফ।নরম গন্ধটাও নেই—যে গন্ধে কুহেলির উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।
পাখি..!
গভীর, ভারী কন্ঠে ডাক দিলো আবরার।
কোনো সাড়া নেই।আবরারের মুগুরের মতো শক্ত চোয়াল আরও শক্ত হলো।ওয়াল সুইচ টিপে রুমে লাইট জ্বালাতেই রাগটা বুকের ভেতর কড়া নাড়ল।
রুম খালি।ড্রেসিং টেবিলের সামনে নেই,
বিছানায় নেই,ছায়ার কোনে নেই।মেয়েটা সাধারণত রুমেই থাকে আজ সে নেই।কোথায় গেলো..?আবরারের বুকের ভিতর একটা আগুন জ্বলে উঠল।ও দ্রুত পা ফেলে বেলকনির দিকে গেলো।দরজা ঠেলে খুললো।রাতের বাতাস ছুটে এলো,কিন্তু সেখানে–ও নেই।
রাগ এখন হাড়ে হাড়ে টনটন করছে।ওর নাসারন্ধ্র ফুলে উঠলো, চোখ লাল হয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে।
কোথায় গেলো এই মেয়ে?
আবরার দাঁত চেপে ফিসফিস করে বললো।
মনের ভেতর থেকে একটা অন্ধকার গর্জন উঠতে লাগলো।দিনভর তাকে বিরক্ত করার সাহস কেউ দেখায় না,আর কুহেলি…!মেয়ে টা ওকে পাগল করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
তারপরই আরও একটা চিন্তা মাথায় ঢুকে গেল কেউ কিছু করলো নাকি?কেউ ছুঁলো নাকি?
কেউ কুহেলির দিকে চোখ তুলে তাকালো নাকি?
পরক্ষনেই মনে হলো শত শত বডিগার্ডের মধ্যে থেকে ওকে কিভাবে নিয়ে যাবে..?!
আবরারের রাগ আর দম ধরে না।রুম থেকে বেরিয়ে এসে পুরো বাড়ি তন্নতন্ন করে খুঁজে ফেলল লিভিং রুম, স্টাডি, গ্যালারি, নিচতলার লবি কোথাও নেই কুহেলি।
রাত অনেক হয়ে গেছে।সব মেইড ঘুমিয়ে আছে, বাড়িটা অস্বাভাবিক নীরব।এই নীরবতা আবরারের রাগকে আরও ক্ষুধার্ত করে তুলছে।
যদি কিছু হয়ে থাকে?যদি কেউ পাখি কে…!এই চিন্তা বুকের ভিতর আগুন জ্বালিয়ে দিলো।
হঠাৎ তার মনে পড়লো ছাদ।
আবরার সিঁড়ির দিকে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে গেলো।পা দুটো ধাপে ধাপে নয়,ঝাঁপিয়ে উঠছে প্রায়।ছাদের দরজায় পা রাখতেই ওর চোখে পড়ল উল্টো দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে সেই মেয়েটা ওর প্রাণভোমরা।
কুহেলি।
সাদা চুল রাতের বাতাসে দুলছে।হালকা চাঁদের আলো পড়ে চুলগুলোকে রূপালি করে তুলেছে।
কুহেলির গায়ের হালকা সোয়েটার বাতাসে পাতার মতো কাঁপছে।আর আবরারের মাথার রাগ আবার পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ল।ও আবরারকে রাগে ফুঁসতে রেখে এখানে দাঁড়িয়ে আছে?নিশ্চিন্তে?
একা?এই সময়ে?
ধপধপ পা ফেলে আবরার কুহেলির পিছনে গিয়ে দাঁড়ালো।এক ঝটকায় ওর দুই বাহু ধরে নিজের দিকে ফেরালো
ধমক দিতে গিয়ে
হঠাৎ
আবরার থেমে গেল।
কুহেলির মুখ দেখেই তার বুকের ভিতরটা হঠাৎ নরম হয়ে গেল।
মেয়েটার চোখ দুটো ফুলে উঠেছে—ঠিক যেন অনেকক্ষণ ধরে লুকিয়ে লুকিয়ে কেঁদেছে।
নাকের ডগা লাল,চোখের পাপড়িতে জমে আছে ভেজা অশ্রুর দাগ।ঠোঁট দুটি তিরতির করে কাঁপছে যেনো আরেকটু হলেই আবার কান্না ভেঙে পড়বে।
আবরার বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠলো।
মনের ভেতর দপদপ করতে থাকা রাগ মুহূর্তে মিলিয়ে গেল,তাঁর জায়গায় এলো আতঙ্ক
কে কাঁদিয়েছে ওর পাখিটাকে? কে সাহস করেছে?
হঠাৎ আবরারের থেকে কুহেলি নিজেকে ছাড়িয়ে ছিটকে পিছিয়ে গেল—ঠিক যেন আবরারের স্পর্শটাই তাকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
আপনি আমাকে ছুঁবেন না!
কুহেলির কণ্ঠ ভেঙে ভেঙে বেরোল।
আপনি খুব খারাপ খুব খারাপ!
আবরার স্থির হয়ে গেল।তার শরীরের প্রতিটা পেশি যেনো এক সেকেন্ডে জমে গেল বরফের মতো।
ওর চোখে অবাক শূন্যতা।
আমি?আবরারের গলা কেঁপে উঠলো।আমি কি করলাম, পাখি?আমার সাথে এভাবে কথা বলছো কেনো?
কুহেলির বুকটা উঠছে–নামছে প্রবল শ্বাসে।চোখের কোণা আবারও ভিজে উঠলো, গড়িয়ে পড়লো নতুন পানি। কাঁদতে কাঁদতেই ভাঙা গলায় বললো,
আপনি দুপুরে সবার সামনে আমাকে যেভাবে ধমক দিলেন তারপর আবার সরিও বললেন না। কথা বলবো কেনো আপনার সাথে? আসলে আমার তো কেউ নেই তাই আপনি এভাবে আমাকে ধমকাতে পারেন।
কথা শেষ হতেই আবরার স্থির হয়ে গেলো। ছেলেটা জানেই না কী প্রতিক্রিয়া দেখাবে—নাকি আদৌ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর মতো শব্দ আছে তার কাছে। তার বউটা শুধু একটা ধমকের জন্য এতখানি কেঁদেছে? তার বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠলো।
হঠাৎই আবরার এগিয়ে গিয়ে এক টানে কুহেলিকে নিজের সাথে মিশিয়ে নিলো এদের মাঝে আর কোনো দূরত্ব নেই। আবরার কুহেলির কোমর শক্ত করে ধরলো।
কুহেলি মুচরামুচরি করতে করতে হাউমাউ করে কাঁদতেই থাকলো। আর সাথে ছোট ছোট কিল-ঘুষি পড়তে লাগলো আবরারের বুকে। প্রতিটা আঘাত যেনো আবরারের বুকের ওপর নয় তার অপরাধবোধের ওপর পড়ছে।
আমাকে ছেড়ে দিন!কুহেলি কাঁদতে কাঁদতে কাঁপা গলায় বললো,আমি চলে যাবো আপনি খুব খারাপ খুব পঁচা! আমাকে সব সময় ধমক দেন তাও মানুষের সামনে।
আবরার ঠোঁট কামড়ে হাসলো তারপর অপর আস্তে করে কুহেলির জামার ভিতরে দিয়ে ওর শরীরের স্পর্শ কাতর জায়গায় হাত দিয়ে বিচরণ করতে থাকে ব্যাস কুহেলি চুপ হয়ে যায়। হরিণীর মতো ডাগর ডাগর চোখ দিয়ে আবরারের বিস্মিত হয়ে তাকায়। আবরার তা দেখে নিজের কাজ অব্যাহত রেখে কুহেলির কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,
প্লিজ মাই ফাকিং হোয়াইট রোজ তুমি কান্না করো কজ তোমাকে কান্না করলে ভিষন হট লাগে আই লাইক ইট।
আবরারের এই আচরণে কুহেলি সম্পূর্ণ বিস্মিত। এমন মুহূর্তে এই সবের জন্য সে কখনোই প্রস্তুত ছিল না। তার বুক অচেনা উত্তেজনায় ধুকপুক করছে, আর মুখে কথা আটকে গিয়েছে। ছোট ছোট শ্বাসের মধ্য দিয়ে সে কেবল বলল, আপনি এখনো সরি বলেননি ছাড়ুন আমাকে।
আবরারের চোখে অদ্ভুত এক কোমলতা ফুটে উঠল। সে কেবল এক ধীর হাসি নিয়ে কুহেলির নাকে নাক ঘষতে ঘষতে বললো,
সরি বলবো না জান আদর দিয়ে সব পোষিয়ে দিবো।
কুহেলি চোখ বড় করে তাকাল, কণ্ঠে কেঁপে কেঁপে উঠে, আপনি আপনি একটা অসভ্য লোক!ভুল করেছেন আবারও সরি বলেন না ছাড়ুন আমাকে।
কথাগুলো শেষ করার আগেই, আবরার কুহেলির উষ্ঠদ্বয় নিজের ঠোঁটের সাথে মেলালো। কুহেলির চোখ বিস্ময়ে ছলছল করছিল, মুখে লাজ এবং অবিশ্বাসের মিশ্রণ। সে নিজের শরীরের প্রতিটা সেল জাগ্রত অনুভব করল। আবরারের স্পর্শে সে মুহূর্তেই সব অভিমান, সব দ্বিধা ভুলে গেলো।
কুহেলির হৃদয় যেন থেমে যাওয়ার কাছাকাছি, আর তার মন এক অচেনা, জ্বলন্ত উত্তেজনায় ভরে উঠল। আবরারের কোমলতা এবং শক্তি, উভয়ই তাকে আবদ্ধ করে রাখল, যেন এই মুহূর্তটি পৃথিবীর সবকিছুর বাইরে একটি আলাদা জগত।
আবরারের দম বন্ধ করা আকাঙ্ক্ষা কুহেলির প্রতি মত্ত করে তুলেছে। সে পুরোপুরি হারিয়ে গেছে কুহেলির নরম ঠোঁটের স্পর্শে, ছোট্ট শরীরের প্রতিটা স্পর্শে। কুহেলির শরীর যেন এক অদ্ভুত সুরে কাঁপছে, বারবার তার ক্ষুদ্রতর বদন আবরারের হাতের কাছে অচেতনভাবে দুলছে।
কুহেলি নিজেকে স্থির রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। সে আবরারের ঘাড়কে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে, যেন নিজের অস্তিত্বের একমাত্র সহায়তা সেই দৃঢ় স্পর্শ। কিন্তু এই ঘাড়ে ধরা স্পর্শই আবরারকে আরও মত্ত করে তোলে। তার চোখে অদ্ভুত জ্বলন্ত আবেগ, আর দেহ যেন এক অদম্য তৃষ্ণায় ভরে উঠেছে।
কুহেলির নিশ্বাস পুরু হয়ে আসে, কণ্ঠে কেঁপে ওঠা শব্দ—একটু আগের মতো আর শান্ত নয়। আবরার এতটাই হারিয়ে গেছে যে সময়ের অনুভূতিটা যেন থমকে গেছে। প্রায় পনেরো মিনিট ধরে কুহেলির ছোট্ট শরীর তার স্পর্শে কাঁপছে, আর কুহেলিও নিজের ভেতরের উত্তেজনা ও দ্বন্দ্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
শেষ অবধি, আবরার যখন বুঝতে পারে যে কুহেলির নিঃশ্বাস নেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে, তখনই আবরার কুহেলিকে ছেড়ে দেয়। মুহূর্তে কুহেলির শরীর হাপানিতে ভরে যায়, চোখে জল এবং ফুসফুসে বাতাস ঢোকার চেষ্টা। প্রায় দুই মিনিট সময় লাগে নিজেকে ঠিক করতে, শ্বাস নিতে শিখতে, এবং একটু শান্তি ফিরে পেতে।
এই ক্ষুদ্র বিরতির মধ্যে কুহেলি বুঝতে পারে—আবরারের প্রতি তার অনুভূতি কতটা গভীর, এবং এই এক ঝড়ের মতো উত্তেজনা কতটা ভয়ংকরভাবে আকর্ষণীয়।
আবরারের হাত এবার ধীরে ধীরে কুহেলির কাঁধের দিকে এগোলো। সে আলতো করে কুহেলির জামার কাপড় নামাতে লাগল, যেন প্রতিটি স্পর্শ কুহেলির শরীরের প্রতিটি সেলকে জাগিয়ে তুলছে। কুহেলির বুক কেঁপে ওঠে, শরীর অচেনা উত্তেজনায় ভরে যায়।
কুহেলি ফিসফিস করে কণ্ঠে বলল, ছেড়ে দিন আমার ভালো লাগছে না।
কিন্তু আবরারের চোখে অদ্ভুত এক হাসি ছড়িয়ে পড়ল। সে বুঝতে পারল, কুহেলি নিজের অভিমানকে আবরণ করে এই কথা বলছে। তার কানে কুহেলির শব্দগুলো পৌঁছাল না তার উত্তর বরং চুম্বনে ভরিয়ে দিল।
আবরারের ঠোঁট ধীরে ধীরে কুহেলির কাঁধের গায়ে আঁকলো ছোট ছোট চুম্বন। কখনো আলতো, কখনো হালকা কামড়, কখনো শক্তভাবে চুষে নিচ্ছে, যেন কোনো মৌচাক থেকে মধু খাচ্ছে। কুহেলি নিজের শরীরের প্রতিটি স্পর্শে এক অচেনা তৃষ্ণা অনুভব করল, হৃদয় যেন থেমে যাওয়ার আগে একবার উড়ে গেছে।
নিশ্ছিদ্র নিঃশব্দ রাতে শুধুমাত্র আবরারের নিঃশ্বাস আর চুম্বনের মৃদু শব্দ শোনা যাচ্ছে। বাতাসে যেন শুধুই তাদের নিঃসঙ্গতা ভাসছে একটি রাত, যেখানে শুধু আবেগ, আকাঙ্ক্ষা, এবং নিঃশব্দ প্রেমের আভা বিদ্যমান।
আবরার এবার কুহেলির জামার চেইন খুলে এক টানে জামা খানা খুলে সাদের ফ্লোরে ছুরে মারে। কুহেলি লজ্জায় লাল হয়ে যায়, পুরো শরীরই অচেনা উত্তেজনায় কেঁপে ওঠে। আবরার ধীরে ধীরে কুহেলি কে সাদের ফ্লোরে শুয়ে নিজেও ওর পাশে শুয়ে পড়ে, চোখে মৃদু হাসি আর ঠোঁটে কোমলতা।
তার ঠোঁট ধীরে ধীরে কুহেলির গলা দিয়ে নিচের দিকে আসে, কুহেলির কাঁধ ও বুকে স্পর্শ করে। কুহেলি অচেতনভাবে আবরারের বড় বড় চুলগুলো শক্ত করে আঁকড়ে ধরে। আবরারের শক্ত স্পর্শ কুহেলির শরীর জুড়ে এক অদ্ভুত স্ফুরণ সৃষ্টি করে।
কুহেলি এবার আর সহ্য করতে না পেরে আবরার কে হাত দিয়ে বাঁধা দিতে চাই। এতে আবরার বিরক্ত হয়ে কুহেলির দুই হাত ওর এক হাতের নিচে নিয়ে আঙ্গুলের ভাঁজে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দেয়।
সময় গড়াতে থাকে, আবরারের প্রতিটি স্পর্শ কুহেলিকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে তার দিকে টানে। কুহেলির হৃৎপিণ্ড দ্রুত ধকধক করতে থাকে, শরীর এক অচেনা উত্তেজনা সাথে আবরারের উন্মাদ বাড়ে এতে আবরারের হাতের নিচে কুহেল বন্দী হাত দুটো আরো বেশি বল প্রয়োগ হয়।
চলবে....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড গল্পের লিংক
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১১