মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_১৮
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
কুহেলির প্রতিটা শব্দ যেন বিষমিশ্রিত তীর হয়ে এসে বিঁধে যাচ্ছিল আবরারের অন্তরে।সে স্থবির চোখে তাকিয়ে রইলো মেয়েটার দিকে এই একটুখানি মুখ এই অশ্রুসিক্ত দৃষ্টি যেন সমস্ত অভিযোগের ভারে ঝুঁকে পড়েছে পৃথিবীর সব ন্যায়-অন্যায়।
কুহেলি বলেছিল,আমি এতিম!
শব্দটা আবরারের মস্তিষ্কে এমনভাবে প্রতিধ্বনিত হলো, যেন কারও চাবুক এসে পড়ছে বুকের ভেতর।তার ভেতরে আগুন ছড়িয়ে গেল রাগে, অপমানে, অপরাধবোধে।
এতিম?আবরারের মনের গহীনে কেমন এক কঠিন ধ্বনি গর্জে উঠলো।ওর মা–বাবা নেই, সত্যি। কিন্তু তাই বলে সে অনাথ?আবরার আছে তো!যে পুরুষ ওর জীবনের সবকিছু নিজের মতো করে নিয়েছে, সেই মানুষটির পাশে থেকেও কি কুহেলি নিজেকে এতিম ভাববে?
এই চিন্তা যেন তাকে আরও ক্ষতবিক্ষত করে তুললো।আবরার ধীরে ধীরে এগিয়ে এলো কুহেলির দিকে, প্রতিটা পদক্ষেপে যেন রাগ, অনুশোচনা আর অজানা টান মিশে আছে।
কুহেলি বিছানার কিনারে নিথর হয়ে বসে আছে। হাতে স্যালাইন চলছে চোখদুটি ভিজে, ঠোঁট কাঁপছে।আবরার নিঃশব্দে বসে পড়লো একদম কুহেলির গা ঘেষে।
একটি নিঃশ্বাসে যেন সব রাগ থেমে গেল।
আবরারের দৃষ্টি নরম হলো সেই নরমতা, যা তার মধ্যে খুব কমই দেখা যায়।তারপর ধীরে খুব ধীরে কুহেলি কে নিজের বুকের মধ্যে টেনে নিলো।
মুহূর্তেই কুহেলির কাঁপা শরীর তার দিকে ঝুঁকে পড়লো যেন সেই উষ্ণতায় কিছুটা নিরাপত্তা খুঁজে পেল।
রুমের আলোটা ম্লান হয়ে এসেছে। জানালার ফাঁক দিয়ে আসা হালকা বাতাসে পর্দা দুলছে ধীরে, যেন সময় নিজেই থেমে গেছে তাদের দুজনের মাঝে।
আবরার নীরব কিন্তু তার সেই নীরবতা ভয়ঙ্কর, যেন কোনো গোপন ঝড়ের আগে সমুদ্রের স্তব্ধতা।
আবরার খুব নিচু কিন্তু ভারী স্বরে বলল তুমি এতিম না পাখি।তুমি শুধু কুহেলি না তুমি মিসেস আবরার। আমার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছো, আমার শ্বাসের মতোই সত্য।
কুহেলির নিঃশ্বাস থেমে গেল কিছুক্ষণ।
আবরারের চোখ তখন গভীর অন্ধকারে জ্বলছে রাগে নয়, অনুতাপে।
আমি জানি সে বলল, কণ্ঠে কাঁপন,আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি অকারণে, বিনা অপরাধে।
কিন্তু জানিস পাখি আমি যা করেছি সবই আমার অতীতের ছায়া বহন করে। সেই থেকেই আমি ভাবতাম সবাই বিশ্বাসঘাতক। সবাই মিথ্যে।
তার কণ্ঠে যেন একসাথে বিষ আর বেদনা।
আমি সেই ঘৃণার আগুনে নিজেকে এমন পুড়িয়ে ফেলেছি, যে ভালোবাসা নামের জিনিসটা ভুলে গেছিলাম।তাই তো তোর সঙ্গে যা করেছি, ভাবতাম এটাও হয়তো আগের মতো এক খেলা।
কিন্তু এখন আবরার থেমে গেল। তার নিঃশ্বাস ভারী হয়ে উঠলো, চোখে ক্লান্তি আর অনুতাপের ছায়া।
এখন বুঝি, সব মেয়ে এক নয়।সব মানুষ এক নয়।
তুমি আলাদা পাখি।তুমি আমার রক্তের ভেতর ঢুকে গেছো।
কুহেলি কিছু বললো না কিন্তু ওর বুক থেকে নিরন্তর কান্নার শব্দ ভেসে আসছিল আর সেই কান্না যেন আবরারের বুকের ভেতর এক নিঃশব্দ দহন জ্বালিয়ে দিচ্ছিল।হঠাৎ কুহেলি এক হাতে দিয়ে আবরারের গলার কাছে থাকা শার্ট শক্ত করে খামচে ধরল তার আঙুলে চাপ, চোখে আগুন, তবুও সেই আগুনে ছিল না ঘৃণা ছিল অসহায় যন্ত্রণার তীব্রতা।
আবরার থম মেরে বসে রইলো।তার মুখের কাছে কুহেলির অশ্রুভেজা নিশ্বাস এসে লাগছিল,সে শুধু তাকিয়ে রইল মেয়েটির চোখে যে চোখে একসময় ভয় ছিল, এখন সেখানে জেগে আছে তীব্র ক্ষত, যেন প্রতিশোধ নয়, কিন্তু বেঁচে থাকার চিৎকার।
এক মুহূর্তের জন্য আবরারের দৃষ্টি সরে গেল স্যালাইনের দিকে।বতল এখনো অর্ধেক ভর্তি, নল থেকে ধীরে ধীরে তরল বয়ে যাচ্ছে কুহেলির শিরায়।সে নিঃশব্দে হাত বাড়িয়ে স্যালাইনের ক্লিপ খুলে দিল,তারপর খুব ধীরে, কিন্তু দৃঢ় হাতে কুহেলিকে নিজের বুক থেকে সরিয়ে নিল।
চলো, আবরার নিম্ন স্বরে বলল, গলায় এখনো সমুদ্রের মতো গভীরতা,তোমার ফ্রেশ হওয়া দরকার।
কুহেলি কিছুই বলল না। শুধু নিঃশব্দে তাকালো তার চোখে অবসাদ, তার মুখে অনিশ্চয়তার ছায়া।
আবরার একহাতে ওর কোমর ধরে দাঁড় করিয়ে দিল বিছানা থেকে,অন্য হাতে স্যালাইনের বোতল ধরে রইল যেন পুরো পৃথিবী এই এক নারীর দুর্বল দেহে ভারসাম্য খুঁজে পাচ্ছে।
ধীরে ধীরে দু’জনে এগিয়ে গেল ওয়াশরুমের দিকে।দরজার সামনে এসে আবরার থামল।
তার দৃষ্টি কঠিন, কিন্তু ভেতরে যেন কিছু ভেঙে যাচ্ছে।
তুমি ফ্রেশ হয়ে আসো আমি এখানেই আছি,
সে বলল গম্ভীর কণ্ঠে, যেন কোনো প্রতিশ্রুতি নয় একটা পাহারার শপথ।
কুহেলি নীরবে মাথা নাড়ল।তারপরে ধীরে দরজাটা টেনে দিল,ওই একচাপ দেওয়ার শব্দে যেন আবরারের বুকের ভেতর থেকে এক দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে গেল।
ওয়াশরুমের দরজার ওপাশে জলের শব্দ শুরু হলো।আর দরজার এপাশে আবরার দাঁড়িয়ে রইল হাতে স্যালাইনের বোতল,চোখ স্থির, মুখ গম্ভীর।
তবুও তার দৃষ্টি যেন খুঁজে ফিরছে কোনো উত্তর যে উত্তর হয়তো কুহেলির ভেতরে, কিংবা নিজের অপরাধে লুকিয়ে আছে।
কুহেলি ওয়াশরুম থেকে বের হয় ব্যাস কিছু ক্ষণ পর পায়ের শব্দটুকুও যেন ভারী লাগে। চোখে ক্লান্তি, ঠোঁটে নিস্তব্ধতার ছায়া। কিছুক্ষণের মধ্যে আবরার তার দিকে এগিয়ে আসে নিঃশব্দ, দৃঢ়, যেন সে জানে এখন কুহেলির কিছু বলার মতো শক্তি নেই।
এক মুহূর্ত দেরি না করে, আবরার কুহেলিকে কোলে তুলে নেয়। কুহেলির দেহটা যেন পালকের মতো হালকা, অথচ তার ভেতরে জমে থাকা যন্ত্রণাগুলো পৃথিবীর সব ওজন মিশিয়ে তৈরি।
আবরার তাকে ড্রেসিং টেবিলের সামনে আস্তে করে বসিয়ে দেয়। স্যালাইনের বোতলটা পাশে রেখে দেয় একপাশে, সাবধানে যেন কিছুর শব্দ না হয়। তারপর মোবাইলটা হাতে তুলে নিয়ে দ্রুত একটা মেসেজ টাইপ করে পাঠিয়ে দেয়।
ফিরে এসে তার চোখ আটকে যায় কুহেলির দিকে। কুহেলির সাদা চুলগুলো এলোমেলো হয়ে আছে কেউ যেন অজান্তেই ঝড় বয়ে দিয়েছে ওর মাথার ওপর দিয়ে। আলোয় ঝিকমিক করা সেই সাদা চুলে আবরারের চোখ থেমে যায় কিছুক্ষণ।
আবরার ধীরে ধীরে চিরুনি হাতে তুলে নেয়। কুহেলি বিস্মিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে আবরারের এই অচেনা কোমলতা যেন তার ভিতরটা কাঁপিয়ে দেয়।
আবরার চুপচাপ কুহেলির চুলে চিরুনি চালাতে শুরু করে। প্রতিটি আচঁড় যেন অতীতের কোনো কাঁটা সরিয়ে দিচ্ছে, কোনো না বলা কথা ছুঁয়ে যাচ্ছে।
কুহেলির বিস্ময় হলো তবুও নিজেকে সামলে উদ্বিগ্ন কন্ঠে বললো,
আপনি এসব পারবেন না, সারাদিন তো শুধু মারামারি, কাটাকাটি করেন!
আবরার আয়নার সামনে দাঁড়িয়েই ধীরেকারে কুহেলির দিকে তাকালো ছোট ছোট চন্দ্রবিন্দুর মতো চেয়ে, যেন প্রতিটি অণুতে সে কিছু গোপন বাক্য খোঁজে। তার ঠোঁটের ওপর একটা খসখসে হাসি এসে জমে চোখের এক কোণে ভাঁজ। ও কণ্ঠে মৃদু হুঁশিয়ারির শীতলতা বললো,
তোমার কোনো ধারণাই নেই পাখি তোমার স্বামী কি কি পারে..!
কুহেলি একটা অনিশ্চিত হাসি কণ্ঠে ধরে বলল,
তা শুনি আপনি ঠিক কি-কি পারে আমার স্বামী..!?
আবরার একফোঁটায় সাবধান হয়ে দাঁতের হালে নিচের ঠোঁটটাকে কেঁটে নিল সেই অগোচরে করা অভিব্যক্তি যেন কোনো ফেরিওয়ালা খেলায় বদল এনে দিল। ধীরে, গলায় অল্পটা নীচু আওয়াজ করে বললো,
তোমার স্বামী রাত্রির আধারে কালো রোমান্স করে তার বউ কে ভিন্ন এক জগতে হারিয়ে দিতে পারি। আর কি জানতে চাও?
এই কথায় কুহেলির লাজ কানে লাল মেঘ ছড়াল। গাল দুটো দুটো টমেটোর মতো ফুলে উঠলো তবু গোঁজে-মিছি রাগ দেখানোর অভিনয় করতে করতে সে বলল,
আপনি একেবারেই অসভ্য, লুচ্চা..! জীবনেও ভালো হবেন না আপনি।
আবরার হেসে কিছুটা ভ্রু উচিয়ে দিলো। আয়নার কাচে দুইজনের প্রতিবিম্ব মিলেমিশে ঝলমলে।
ঠিক তখনই দরজায় ঠুক ঠুক করে হালকা নক পড়ে। নরম নীরবতার মাঝখানে শব্দটা যেন হঠাৎ বৃষ্টির প্রথম ফোঁটার মতো বাজলো।
আবরার একবার আয়নায় তাকালো, তারপর ধীরে পা টিপে দরজার দিকে এগিয়ে গেল। দরজাটা খুলতেই দেখলো বাইরে সার্ভিস বয়ের হাতে খাবারের ট্রে। ছেলেটা নিচু গলায় বললো,
স্যার, আপনাদের খাবার।
আবরার কিছু না বলে ট্রেটা হাত থেকে নিয়ে নিলো চোখের দৃষ্টিটা কেমন যেন কঠিন, কিন্তু গলায় ছিল এক ধরনের অদৃশ্য কোমলতা। দরজাটা আবার চুপচাপ টেনে বন্ধ করে দিলো যেন বাইরের দুনিয়াকে সাময়িক বিদায় জানালো।
রুমের আলো হালকা, সাদা পর্দার ফাঁক দিয়ে বাতাস ঢুকে পর্দাটাকে দুলিয়ে দিচ্ছে। আবরার ট্রেটা নিয়ে বেডের পাশে ছোটো টেবিলের ওপর রাখলো। তারপর কুহেলির দিকে ফিরে তাকালো তার সাদা চুলগুলো আবার এলোমেলো হয়ে গেছে। আবরার নিঃশব্দে পাশে গিয়ে ওর মাথায় হাত রাখলো, আঙুলে চুলগুলো জড়াল, এক রকম তাড়াহুড়ো আর যত্ন মিলেমিশে ধীরে ধীরে ওর চুল বেঁধে দিলো। যদিও ভালো করে পারে না।
তারপর কোনো কথা না বলে কুহেলিকে আলতো করে কোলে তুলে নিল। কুহেলি হালকা প্রতিবাদ করলেও তার চোখে ছিল ক্লান্তি, আর কোথাও যেন একটু বিশ্বাসের ছায়া। আবরার তাকে বেডে বসিয়ে দিলো, তারপর স্যালাইনের টিউবটা পরীক্ষা করলো মনোযোগ দিয়ে সঠিকভাবে সেট করে দিল যেন কুহেলির কোনো অস্বস্তি না হয়।
সব ঠিকঠাক করে আবরার খাবারের ট্রেটা তুলে নিয়ে কুহেলির সামনে রাখলো। প্লেটের ভেতর গরম ভাত থেকে হালকা বাষ্প উঠছে, পাশে নরম সবজির সুগন্ধ ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে।
আবরার একটা লোকমা তুলে কুহেলির দিকে বাড়িয়ে দিল কুহেলি যেনো আজকের আবরার কে চিনতেই পারছে না এ যেনো অন্য আবরার। তবুও কুহেলি মিনমিন করে বললো,
আমি খেতে পারবো আপনাকে খাইয়ে দিতে হবে না।
আবরারের চোয়াল শক্ত হলো মুখের রং পরিবর্তন হয়ে গেলো সাথে সাথে দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
হা করো পাখি বেশি কথা আমি পছন্দ করি না।
ব্যাস কুহেলি আর কিছু বলতে পারলো না চুপচাপ খেয়ে নিলো। খাওয়া শেষে আবরার এক গ্লাস দুধ কুহেলির দিকে এগিয়ে দিলো সাথে সাথে কুহেলি নাক মুখ কুঁচকে তাকালো আবরারের দিকে দেখে আবরার ওর লাল টকটকে মনিওয়ালা চোখ দিয়ে তীক্ষ্ণ ভাবে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ব্যাস কুহেলির সব হাওয়া বেরিয়ে গেলো চুপচাপ দুধ টুকু খেয়ে নিলো।
খাওয়া শেষ করতেই আবরার কুহেলির থেকে গ্লাস টা নিয়ে টি–টেবিলে রেখে দিলো তারপর কুহেলির উপরের ঠোঁটে দুধ লেগে থাকা অংশে হাত দিয়ে মুছে দিলো আবরারের স্পর্শে কুহেলির ছোট্ট দেহ খানা তির তির করে কাঁপতে থাকে। আবরার বাকা হেসে একদম কুহেলির মুখের কাছে ওর মুখ এনে হাস্কি কন্ঠে বলে,
এভাবে কেনো কাঁপা কাঁপি করো বলো তো..! তোমাকে দেখলে আমি এমনিতেই কন্ট্রোল হারিয়ে ফেলি তার মধ্যে আবার তুমি এভাবে কাঁপা কাঁপি করছো বলতো আমি কিভাবে নিজেকে কন্ট্রোল করবো..! এখন তুমি অসুস্থ তাই একটু ভেবে কাঁপা কাঁপি করো ডার্লিং।
আবরারের এরকম নির্লজ্জ কথাই কুহেলির কান দিয়ে গরম ধোয়া বের হতে থাকে গাল দুটো টকটকে লাল হয়ে যায় জিহ্বা দিয়ে বার বার ঠোঁট ভেজাতে থাকে কি করবে তা ঠিক বুঝতেই পারছে না।
আবরার কুহেলির এরকম অবস্থা দেখে ডেভিল মার্কা হাসি দিয়ে ওকে জ্বালানোর জন্য বলে,
আচ্ছা জান তুমি তো দুধ খেলে এখন আমারো খেতে মন চাচ্ছে আমি কি করবো এখন..!
আবরারের দৃষ্টি অনুসরণ করে কুহেলি তাকায় সাথে সাথে লজ্জাই মাটি ফাঁক করে ঢুকে যেতে মন চাই ওর। তবুও অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে বলে,
আমার থেকে দূরে থাকুন অসভ্য লোক আপনি আমাকে স্পর্শ করবেন না আপনার স্পর্শ আমার ভালো লাগে না। আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে যেয়ে বার বার স্পর্শ করেন এটা একদম আমার পছন্দ না।
কুহেলির এরকম কথাই আবরারের ভিষন রাগ হয় তবুও নিজেকে সংযত করতে জোরে জোরে শ্বাস নেয় তারপর কুহেলির দিকে তাকিয়ে বলে,
আচ্ছা আমি তোমাকে আজকের পর আর তোমার অনুমতি ছাড়া স্পর্শ করবো না তবে একটা কথা মনে রেখো আমি ছাড়া অন্য কেউ তোমাকে স্পর্শ করলে আমি জাস্ট তাকে মেরে ফেলবো তারপর তোমাকে মেরে কবর দিবো তারপর নিজেও মেরে ফেলবো আর আমার কবর হবে তোমার কবরের পাশে…!
কথা গুলো দাঁত চিবিয়ে চিবিয়ে বললো। আবরার কে এতো টা বেশি রেগে যেতে কুহেলি কখনোই ওকে দেখে নি।
কুহেলি আবরারের চোখে চোখ রাখলো এই প্রথম, আবরারের চোখে যেনো হাজার গল্প লেখা আছে তবে কুহেলি তা বুঝতে পারছে না বা এতো টাও কাছে যায় নি আবরারের যে চোখের ভাষা বুঝবে..! কতোক্ষন যে এভাবে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ছিলো তারা নিজেরাও জানে না। নীরবতা ভেঙে হঠাৎ কুহেলি নীচু কন্ঠে বললো,
আপনি তো আমাকে ভালোই বাসেন না মিস্টার মাফিয়া তাহলে কেনো আমাকে অন্য কেউ স্পর্শ করলে আপনি তাকে মারবেন তারপর আমাকে আর কেনোই বা নিজেকে মরবেন বলুন..? মানুষ ভালোবাসলেও তো এতো টা ভাবে না তাহলে আপনি কেনো এসব ভাবছেন…!?
আবরার বরফের থেকেও শীতল কন্ঠে বললো,
কারণ তুমি আমার ওয়াইফ তাই। আমি তোমাকে সত্যি ভালোবাসি না আর না কখনো তোমাকে ভালোবাসবো..! কারণ এসব ভালোবাসা টালোবাসা এরিক আবরারের ডিকশেনারী তে নেই..!
বলেই আবরার বেড থেকে উঠে দাঁড়ালো তারপর বললো, আমি কাজে যাচ্ছি আসতে রাত হবে বা আজকে নাও আসতে পারি তোমার মেডিসিন আনতে বলেছি নিয়ে আসবে ঠিক ভাবে খেয়ে নিয়ো বলেই আবরার ঘুরে হাটা ধরে।
কুহেলি পিছনে থেকে বলে উঠে কোথায় যাচ্ছেন আর আসবেন না বা কেনো আজকে..? আমি অসুস্থ আপনি আজকে অনন্ত আমার পাশে থাকতে পারতেন…!
আবরারের পা থেমে গেলো পিছনে তাকিয়ে দেখে কুহেলি ওর ডাগর ডাগর আঁখিদ্বয় দিয়ে ওর দিকে উদ্বিগ্ন হয়ে তাকিয়ে আছে উত্তরের আশায়।
আবরার এক চিল হেসে বললো, যার স্পর্শ তোমার কাছে ভালো লাগে না সে পাশে থাকলেই কি আর না থাকলেই বা কি তোমার…!
কথা খানা শেষ করেই আবরার বেরিয়ে যায়।
কুহেলিও ভাবতে থাকে সত্যি তো আবরারের স্পর্শ ওর ভালো লাগে না তাহলে আবরার থাকলেও কি আর না থাকলেই ওর কি….!? কোনো উত্তর নেই কুহেলির কাছে।
চলবে....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড গল্পের লিংক
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৬
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৭