মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_১৭
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামতেই আবরারের চোখে পড়ল সোফায় বসে থাকা এক মেয়ে হালকা আলোয় তার মুখটা ক্লান্ত, কাঁধ পর্যন্ত চুল এলোমেলো, আর কপালের পাশে পুরু ব্যান্ডেজ প্যাঁচানো।
শিশা।
আবরারের মুখ মুহূর্তে গম্ভীর হয়ে উঠল ধীরে গিয়ে ওর পাশে বসল, একবার মাথা থেকে পা পর্যন্ত দেখে নিলো, তারপর নিচু গলায় বলল,
কি হয়েছে তোমার? মাথা হাত দুটোই ব্যান্ডেজ করা এইভাবে চোট পেলে কিভাবে?
শিশা ঠোঁট কামড়ে হাসল, কিন্তু সেই হাসিতে ক্লান্তি আর কষ্টের মিশ্রণ।
সব ঠিক ছিলো আবরার বলল ধীরে কাল রাত পর্যন্ত আমরা সবাই হিরামন্ডিতে ছিলাম নাচ গান আর কাস্টমারদের নিয়ে নিজের মতো সময় কাটাচ্ছিলাম। কিছুই অস্বাভাবিক ছিল না।
তারপর এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে নিচু স্বরে যোগ করল,
হঠাৎ করেই ওরা এলো ওই মন্ত্রীর ভাগনা রিফাতের লোকজন। কোনো কারণ ছাড়াই আমাদের জায়গায় ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে দেয় টেবিল, গ্লাস, ইনস্ট্রুমেন্ট সব ছুঁড়ে ফেলে দেয়।
শিশার দৃঢ় কন্ঠে বলে,আমি অনেক মারামারি করেছি তুমি যানো তো আবরার এই বিষয়ে আমি অনেক এক্সপার্ট..! কিন্তু আমরা কম ছিলাম আর ওরা বেশি ছিলো তাই আমার এই হাল করতে পেরেছে…! তারপর একটু থেমে বললো, হিরামন্ডির অবস্থা খারাপ আবরার পুরো শহর ভাঙচুর করে দিয়েছে। দোকান, ঘর, রাস্তা সব তছনছ।
হলরুম টা নিঃশব্দ হয়ে গেল।
আবরার একদম স্থির বসে ছিলো। তারপর ধীরে মুখ তুলে তাকাল চোখ দুটো লাল, কিন্তু সেই লালের ভেতর শান্তির কোনো ছায়া নেই, আছে শুধু দহন।তার ঠোঁট শক্ত, চোয়াল কষে আছে।
আমার লোকের কি অভাব ছিল? আবরার দাঁতে দাঁত চেপে বলল, আমার শহরে ঢুকে, আমার জায়গায়, আমার নামের ওপর এমন দাগ দিয়ে গেলো আর আমি চুপ করে থাকব?
ফেটিক্স, যে পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলো, তাড়াতাড়ি মাথা নিচু করল।
স্যার আসলে ওইদিন সে তোতলাতে তোতলাতে বলল, কিছু লোক ছুটিতে ছিলো, আর যারা ডিউটিতে ছিল তারা মদ খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েছিলো…! তাই…
কথা শেষ করার আগেই
ঠকঠকঠকঠক!
সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ে নামল এক সার্ভিস স্টাফ। মুখে আতঙ্কের ছায়া, নিঃশ্বাস কাঁপছে।
স্যার!সে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, উপরে—উপরে সমস্যা হয়েছে!
আবরারের দৃষ্টি মুহূর্তে ছুরির মতো ধারালো হলো।
ফেটিক্স আর শিশা হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
উপরে? আবরারের কণ্ঠ নিচু,কিন্তু শীতল যেন আগ্নেয়গিরির নিচে চাপা আগুন।
উপরে কি হয়েছে…?
সার্ভিস বললো, স্যার ম্যাডামের অনেক জ্বর এসেছে। অজ্ঞান হয়ে গেছে, জ্ঞান ফিরছে না।
আবরার এক মুহূর্তও দেরি করল না।
এক নিমিষে সোফা থেকে উঠে দাঁড়াল চোখে ভয়, মুখে তীব্র উদ্বেগ। কি…! তারপর উত্তরের অপেক্ষা না করেই সে সিঁড়ি বেয়ে উপরে ছুটে গেল।
পায়ের শব্দ ধুপধাপ করে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল সিঁড়ির দেয়ালে যেন প্রতিটা পদক্ষেপে তার বুকের ভেতরকার আগুনটা আরও জ্বলে উঠছে।
শিশা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইল।
কে এই ম্যাডাম?তার কণ্ঠে অবিশ্বাস আর কৌতূহল একসাথে মিশে আছে।
ফেটিক্স কিছুক্ষণ চুপ করে রইল, তারপর নিচু গলায় বলল,স্যার বিয়ে করেছে।শিশা একদম স্থির হয়ে গেল। মুখের রঙ সাদা, ঠোঁট শুকিয়ে গেল মুহূর্তে।কি বললে?ফেটিক্স আর কিছু না বলে দরজার দিকে পা বাড়াল।আমি বাহিরটা দেখি, তুমি বসো বলেই চলে গেল।
হলরুম এখন শুধু নীরবতা।
শিশা ধীরে ধীরে সোফায় বসে পড়ল, চোখ ফাঁকা হয়ে আছে, ঠোঁটে এক অদ্ভুত হাসি ফুটল
না এটা হতে পারে না, সে বিড়বিড় করে বলল।
আবরার ও এমন না ও শুধু আমার শুধু আমার..!
শিশার আঙুলের ডগা কাঁপছে, চোখে জল টলমল করছে….!
হলরুমের বাতাস ভারী হয়ে গেল।
শিশার বুকের ভেতর জমে থাকা আগুনটা যেন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে হিংসা, অভিযোগ ভালোবাসা সব মিলিয়ে এক ভয়ঙ্কর অস্থিরতা।
তার চোখের দৃষ্টি তীব্র হয়ে উঠল,
না, আবরার তুমি যদি আমার না হও, তাহলে কারোও হতে পারবে না…!
~~
আবরার দরজাটা ধাক্কা মেরে ভেতরে ঢুকলো।
রুমের বাতাসে অদ্ভুত আতঙ্কের মিশ্রণ বেডের উপর কুহেলি নিথর হয়ে পড়ে আছে, মুখ ফ্যাকাসে
ঠোঁট শুকনো, আর শরীর কাঁপছে অসম্ভব ভাবে।
আবরার কুহেলির মাথার কাছে গিয়ে হাঁটু গেড়ে বসল তারপর কাঁপা কন্ঠে বললো, পাখি….!
কিন্তু মেয়ে টা কোনো সাড়া দেয় না..!
আবরার হাত রাখল কুহেলির কপালে সাথে সাথে তার ভ্রু কুঁচকে গেল।সে অবাক হয়ে ফিসফিস করল, এই অল্প সময়ের মধ্যেই এতো জ্বর?
তার বুকের ভেতর হঠাৎ অজানা ভয় চেপে ধরল।
একটা মুহূর্তও দেরি না করে ফোনটা হাতে তুলে নিলো। ডায়াল করল ডা. আসিফা।
লাইন ওপাশে আসিফার শান্ত কণ্ঠ,
হ্যালো, আবরার স্যার..?
আসিফা এখনই আমার বাড়িতে আসো পুরো টিমসহ। কুহেলির অবস্থা খারাপ, তীব্র জ্বর অচেতন হয়ে আছে। আবরারের কণ্ঠে চাপা উদ্বেগ, কিন্তু তাতে স্পষ্ট আদেশের দৃঢ়তা।
ডা.আসিফা একটু থমকালো তারপর নিচু স্বরে বলল,ঠিক আছে আমি আসছি। কিছু ছোঁও না, ওকে স্থির রাখো।
ঠিক আছে বলেই আবরার ফোন কেটে দিয়ে টেবিলের উপরে ফোন রাখলো?..!
তারপর আবরার ধীরে ধীরে খাটের ধারে কুহেলির মাথার কাছে বসে পড়ল।কুহেলি নিথর হয়ে পড়ে আছে, ঠোঁট নীলচে, নিঃশ্বাস অনিয়মিত। আবরারের চোখে এক মুহূর্তের জন্য ভয় নেমে এলো যেন কিছু ভেঙে যাচ্ছে, যা সে নিজের ভেতরে আজীবন শক্ত করে ধরে রেখেছিল।
আবরার হাত বাড়িয়ে কুহেলিকে আস্তে করে নিজের কোলে তুলে নিল কম্বলটাও জড়িয়ে দিল, যেন ছোট্ট কোনো শিশু ঠান্ডায় না কাঁপে।তারপর বুকের মধ্যে শক্ত করে টেনে নিল যেন ওই বুকের ভিতরেই কুহেলির জীবনটা লুকিয়ে রাখবে ও।
তারপর আবরার ভারি কণ্ঠে বলতে শুরু করলো,
আমি জানি, পাখি…! আমি অনেক নিষ্ঠুর। আমার মধ্যে ভালোবাসা নেই, মায়া নেই, দয়া নেই।
তারপর কিছু ক্ষণ থেমে আবরার কুহেলির নিঃসাড় মুখের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলল।তারপর আবরার বলতে লাগলো,
কিন্তু জানিস, তুই যখন এভাবে পড়ে থাকিস আমার বুকটা ব্যথা করে এই ব্যথা আমি আগে চিনতাম না।পাখি, আমি তো এমন নই। আমি তো কারো জন্য এমন হই না।তোর জন্য কেমন জানি অন্যরকম লাগে। তুই আমার ভিতরকার কঠোর মানুষটারও রক্ত গরম করে দিস।
আবরারের ঠোঁট কেঁপে উঠল, গলায় ভারী স্বর উঠলো,মনে হচ্ছে তোর উপরে আমি অনেক বড়ো অপরাধ করে ফেলেছি আর আজ সেই অপরাধের ভার আমার বুক ভেঙে দিচ্ছে।কি আশ্চর্য না, আমারও নাকি গিল্টি ফিল হয়!
সে হালকা হেসে কুহেলির গাল ছুঁয়ে বলল,
চোখ খুল, পাখি আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আর কখনো তোকে আঘাত করবো না।কখনো না।
কুহেলির চোখের কোণে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল নাকি ঘাম নাকি অজানা প্রতিক্রিয়া আবরার বোঝে না।কিন্তু তার বুকের ভেতরটা হঠাৎ নরম হয়ে গেল।
আবরার মাথা নিচু করে কুহেলির কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে ফিসফিস করে বলল
চোখ খোল, পাখি আমি আছি তো।
রুম নিস্তব্ধ। শুধু কুহেলির হালকা শ্বাসের শব্দ,
আর আবরারের বুকের ভেতর থেকে ভেসে আসা নিঃশব্দ অনুশোচনার কাঁপন।
ঠিক তখনই দরজায় ঠুকঠুক শব্দ হলো।
আবরার মাথা তুলে তাকাল।
কি হয়েছে?
বাইর থেকে সার্ভিসের কণ্ঠ ভেসে এলো,
স্যার, ডা.আসিফা আর তার টিম এসেছে।
আবরারের কণ্ঠ এখনো শান্ত, কিন্তু তার চোখে ক্লান্ত উত্তেজনা,পাঠিয়ে দাও।
ওকে, স্যার।
কয়েক মিনিট পর দরজার বাইরে হালকা শব্দ জুতো বদলের, ট্রলির, আর তাড়াহুড়োর ফিসফিসানি।
ডা.আসিফা দরজায় এসে দাঁড়ালেন।
সাদা কোটে মোড়া, গম্ভীর মুখে পেশাদার দৃঢ়তা,
কিন্তু চোখে সামান্য উদ্বেগের ছায়া।
স্যার, আসব?
আবরার চোখ তুলে একবার তাকাল কণ্ঠ ঠান্ডা, অথচ ভেতরে অদ্ভুত দমচাপা ঝড়।
আসো।
দরজা খুলে গেল।আসিফা আর তার টিম ঢুকে এল রুমে মৃদু আলো, ভারী বাতাস, আর নিস্তব্ধতার মধ্যে শুয়ে আছে কুহেলি আবরারের কোলে জড়ানো, কম্বলের ভিতরে গুটিয়ে থাকা এক নিথর শরীর।
ডা.আসিফার চোখ এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে গেল সেই দৃশ্যে।তার মনে কেমন অস্বস্তি একজন প্রভাবশালী, শক্ত মানুষ এখন তার হাতের মধ্যে ধরে রেখেছে নিস্তেজ এক মেয়েকে,যেন সে তাকে হারাতে চায় না, না বললে শ্বাস নিতে পারবে না।
তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন পেশাদার গলায় বললেন বেডে রাখুন, প্লিজ।
আবরার কিছু বলল না, শুধু কুহেলিকে খুব সাবধানে খাটে শুইয়ে দিলো।তার চোখে এখন কোনো রাগ নেই, নেই অহংকার শুধু গভীর, ভীত এক দৃষ্টি,যেন সে প্রথমবার বুঝছে হারানোর ভয়টা কেমন।
ডা. আসিফা পাশে বসে পরীক্ষা শুরু করলেন।
তার টিম একে একে ইনজেকশন, স্যালাইন, থার্মোমিটার সাজিয়ে রাখছে।
রুমে এখন শুধু মেশিনের শব্দ,
আর আবরারের নিঃশব্দ নিঃশ্বাসের ভার।
কুহেলির হাতে স্যালাইনের সুচ ঢোকানো হয়েছে।
ধীরে ধীরে ফোঁটাগুলো নেমে যাচ্ছে, মৃদু আলোয় কাচের বোতল ঝিলিক দিচ্ছে।ডা.আসিফা মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছিলেন পালস, শ্বাসের গতি, চোখের পাতা।
কয়েক মুহূর্ত পর তিনি উঠে দাঁড়ালেন, গভীর নিঃশ্বাস নিয়ে আবরারের দিকে তাকালেন।
তার দৃষ্টিতে পেশাদার দৃঢ়তা, কিন্তু কোথাও যেন একটুখানি মানবিক অনুযোগও মিশে আছে।
তিনি ধীরে বললেন, স্যার ম্যামের শরীর অনেক বেশি দুর্বল।
আবরার স্থির মুখে তাকিয়ে আছে,কিন্তু তার চোখের তলাটা ফোলা অচেতন কুহেলির মাথার পাশে সে এখনো বসে।
আসিফা একটুখানি থেমে আবার বললেন,
এখন ইন্টিমেট হওয়াটা একদমই ঠিক হবে না। দয়া করে ওকে নিয়ে সাবধানে চলবেন, না হলে বড় ধরনের সমস্যা হতে পারে।
আবরারের কপালের শিরা টানটান হয়ে উঠল। সে ঠোঁট চেপে রইল, কোনো জবাব দিল না।
শুধু চোখে ধীরে ধীরে একটা ছায়া নেমে এলো অপরাধবোধ আর অদ্ভুত এক নীরব অনুশোচনা।
ডা. আসিফা টেবিলের উপর প্রেসক্রিপশন রেখে দিলেন এই ওষুধগুলো নিয়মিত খাওয়াবেন। ম্যাম কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান ফিরে পাবেন।তবে দয়া করে ওনাকে আর কোনো রকম চাপ দেবেন না।
তার কণ্ঠে কঠোরতা নেই, বরং মায়ার সুর।
আবরার শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি দিলো।
ঠিক আছে, তার কণ্ঠ নিচু, ভেতরে ভারী এক ক্লান্তি।
ডা. আসিফা শেষবারের মতো কুহেলির দিকে তাকালেন মেয়েটির মুখ ফ্যাকাশে, চোখের পাতা কাঁপছে সামান্য।তারপর টিমকে ইশারা করলেন।
চলুন। তারপর তারা বেরিয়ে গেলো রুম থেকে..!
দরজা আস্তে করে বন্ধ হলো।
রুম আবার নেমে এলো নিস্তব্ধতা।
আবরার এক মুহূর্ত চুপ করে বসে রইল, কুহেলির নিঃশ্বাসের ওঠানামা দেখছে তার বুকের ভেতর ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে এক অচেনা অনুভূতি,
যা হয়তো ভালোবাসা নয়, কিন্তু ভালোবাসার থেকেও গভীর কিছু।
~~
আধা ঘণ্টা কেটে গেছে।
রুমের শুধু স্যালাইনের টুপটাপ শব্দ একঘেয়ে, কিন্তু যেন প্রতিটা ফোঁটা আবরারের ধৈর্য ভিজিয়ে দিচ্ছে ধীরে ধীরে।হঠাৎ কুহেলির চোখের পাতা নড়ল।একটু মিটমিট করে তাকালো চারপাশে, আলোটা যেন চোখে বিঁধল।
আবরার তখনো ওর পাশে বসে আছে একদম আগের মতো।চোখে ক্লান্তি, তবু দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত কোমলতা।সে কুহেলির চোখ খুলতে দেখে ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটিয়ে বলল,
রোজ… এখন কেমন লাগছে তোমার?
কুহেলি চুপচাপ তাকিয়ে রইল, কিছু বলল না।
তার হাতের শিরায় স্যালাইন চলছে সাদা পাতলা টিউবটা কাচের বোতলের নিচে ঝুলছে,একফোঁটা করে জীবন টপটপ করে নামছে যেন।
কুহেলি ধীরে শরীরটা সোজা করতে চাইল, উঠতে গেল আবরার সঙ্গে সঙ্গে হাত বাড়িয়ে দিল,
উঠো না, তোমার শরীর এখনো দুর্বল।
কুহেলি আবার কিছু বলল না, শুধু মুখ ফিরিয়ে নিল অন্যদিকে।চোখে এক অচেনা দূরত্ব যেন আবরার তার কাছে কেউ নয়, শুধু এক অচেনা ছায়া।
আবরারের ভ্রু কুঁচকে গেল তারপর প্রশ্ন করলো,
আমার সাথে কথা বলছো না কেন পাখি..?!
কুহেলি এখনো চুপ।
আবরারের এবার চোয়াল শক্ত হলে গেলো, শক্ত কন্ঠে বললো,আমি কিন্তু ইগনোর একদম পছন্দ করি না পাখি…! কথা বলো, আমার সাথে।
কিন্তু কুহেলির মুখে কোনো প্রতিক্রিয়া নেই শুধু চোখের পাতা ভারী হয়ে আছে, ঠোঁট শক্ত করে চেপে রাখা।
রুমের ভেতর হঠাৎ হিম নেমে এসেছে।কুহেলির নীরবতা যেন আবরারের ভিতরে জমে থাকা আগুনে ঘি ঢেলে দিচ্ছে।
আবরার প্রথমে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল চোখে জ্বালা, বুকের ভেতর কেমন যেন গর্জন জমে উঠছে।তারপর হঠাৎই পাশে রাখা টি-টেবিলের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল এক মুহূর্তে কাঁচের জগটা তুলে নিয়ে ছুড়ে মারল ফ্লোরে।
ছ্যাঁক্ক!
শব্দটা বাজলো গুলির মতো।
কাঁচের টুকরোগুলো ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে, আলোর প্রতিফলনে চিকচিক করছে যেন শত শত তীক্ষ্ণ চোখ তাকিয়ে আছে দুজনের দিকে।
কুহেলি ভয় পেয়ে ফুঁপিয়ে উঠল, বুক চেপে ধরে কাঁদতে শুরু করল নিঃশব্দে।
আবরারের বুক ওঠানামা করছে দ্রুত। দাঁত চেপে গর্জে উঠল,
আমার সাথে ঢং করিস? কথা বলছি, উত্তর কেন দিস না?
তার গলার স্বর ভারী, যেন প্রতিটা শব্দ কুহেলির বুকে গিয়ে আঘাত করছে।
আবরার ভারি কন্ঠে বললো,জানিস না আমি কেমন? এক কথা দুই বার বলতে আমি পছন্দ করি না!
আবরারের লাল টকটকে চোখের মনি তে আরো রক্ত চেপে আছে, নিঃশ্বাসে আগুন।
ভাবছিলাম ভালোভাবে কথা বলবো..!
একটা তীব্র বিরতি।
তারপর ঠান্ডা কণ্ঠে, দাঁতে দাঁত চেপে বললো,
কিন্তু তুই তার যোগ্য না। তোর সাথে এভাবেই কথা বলা উচিত।
রুম নিস্তব্ধতা।
শুধু কুহেলির কাঁদতে থাকা শব্দ আর আবরারের ভারী নিঃশ্বাস।সে একবার চোখ বন্ধ করল, যেন নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করছে।কিন্তু শরীরের প্রতিটা স্নায়ু তখনো টান টান হাত মুঠো করে রেখেছে, রাগে গরম নিঃশ্বাস বেরোচ্ছে ঘন ঘন।
রুমজুড়ে নীরবতা।
ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলো এখনো মেঝেতে ছড়িয়ে আছে যেন সেই টুকরোগুলোর প্রতিটা দিক কুহেলির ভেতরের যন্ত্রণা প্রতিফলিত করছে।
আবরারের মুখে এখনো রাগের আঁচ, কিন্তু কুহেলির চোখে জমে থাকা অশ্রু হঠাৎ যেন বিদ্রোহে রূপ নিল।
কুহেলি কাঁদতে কাঁদতে বললো,আমাদের সাথে আপনি কখন ভালোভাবে কথা বলছেন, বলুন তো?আবরার কিছু বলার আগেই কুহেলির কণ্ঠ আরও ভারী হয়ে উঠল।প্রথম দিন থেকেই আপনি আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে আমার সাথে ইন্টিমেট হয়েছেন!তার গলা কেঁপে উঠল, চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।আমি রাজি ছিলাম কিনা আপনি কখনো জানতে চেয়েছেন…!
আবরার হঠাৎ থমকে গেল। কুহেলির কণ্ঠে কোনো কান্না নয়, সেখানে এক অদ্ভুত শক্তি জমে উঠছে।
কুহেলি এক চিলতে তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে তাকালো আবরারের দিকে তারপর বললো,
অবশ্য আমি কাকে কি বলছি? আপনি নিজেই তো বলেছেন আপনি আমার শরীরের জন্য আমাকে যত্ন করেন ভালোবাসার জন্য নয় শুধু শরীরের জন্য।
আবরার চোখ নামিয়ে নিল।কুহেলি এবার গলার স্বর নিচু করলো, কিন্তু প্রতিটা শব্দ যেন ছুরির মতো কেটে যাচ্ছিল বাতাসে।
কুহেলি একটু থেমে আবার বলতে লাগলো, আমি এতিম..! তাই না আর এতিমদের সাথে সবাই যা ইচ্ছে তাই করা যায়।
কুহেলির চোখের জল এবার আর থামানো গেল না।আজ যদি আমার মা-বাবা বেঁচে থাকতো তাহলে কেউ, কেউই এমন অন্যায় আমার সাথে করতে পারতো না!
শেষ কথাটা বলেই সে মুখে হাত চাপা দিয়ে কেঁদে উঠলো।কুহেলির কণ্ঠস্বর কাঁপছে, কিন্তু তার প্রতিটা অশ্রু যেন আবরারের বুকের মধ্যে ঢুকে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে।
আবরার বসে রইলো, নিঃশব্দে।
তার দম আটকানো নিঃশ্বাসের মাঝে শুধু একটা শব্দই বাজছে মনে অন্যায়..!
চলবে....!
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৯
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২১
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৬