মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
পর্ব_১২
কলমেতাসনিমতালুকদার_বুশরা
হ্যাশট্যাগ ছাড়া কপি করা নিষিদ্ধ🚫
আবরার নাক-মুখ কুঁচকে বলল,
হোয়াট আ মাঙ্গের নাতি..? এ আবার কী বললে তুমি? এর মানে কি…?!
কুহেলি বিরবির করে বলে সারাজীবন দেশের বাহিরে থাকলে কিভাবে জানবে…! তারপর দাঁত বের করে হাসি দিয়ে বললো,
বুঝবেন না আপনি সারাজীবন তো অন্যের দেশে, অন্যের ভাষায় পড়ে থাকেন। নিজের দেশের শব্দগুলোও এখন কানে বাজে মনে হয়, তাই না?
আবরার আবার ভ্রু কুঁচকে বললো,
মাঙ্গের নাতি মানে কী? আগে সেটা বলো তুমি..!
কুহেলি হালকা হেসে বলে,
আমাদের দেশে মাঙ্গের নাতি মানে হয় খুব ভালো মানুষ। এমন মানুষ, যে অন্যের কষ্টে নিজের ঘুম হারায়। আপনি তো তেমন, তাই বললাম।
আবরার কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু কুহেলির গলাটা কেঁপে উঠল। চোখের ভেতর যেন অদ্ভুত একটা ভয়, সঙ্গে অজানা আকুতি মিশিয়ে বলে,
আপনি তো ভালো মানুষ দয়া করে তুলুন আমাকে এখান থেকে। খুব কষ্ট হচ্ছে আমার। আমি না আপনার একমাত্র ছোট্ট বউ তাহলে এতোটা নিষ্ঠুর কিভাবে হতে পারেন আপনি…!
আবরার বাকা হেসে বললো, মানতেই হবে আমার বউ নাটকের জন্য সেরা…! তুমি জানো মানুষ খুন করা আমার কাজ আর আমার নাকি মানুষের কষ্টে ঘুম হালাম হবে..? যাইহোক তোমাকে তুলবো না তাই এতো কথা না বলে ইনজয় করো..!
কুহেলির চোখে পানি টলমল করতে থাকে এবার এখানে কিভাবে সারা রাত থাকবে..? কষ্ট হবে ওর অনেক তার মধ্যে ঠান্ডায় প্রবলেম আছে ওর। তবুও আর কিছু বললো না চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো বরফের মধ্যে, বরফের মধ্যে থাকার কারণে হাতে পুড়ার জায়গায় এখন জ্বলছে কম…!
প্রায় এক ঘন্টার মতো থাকার পর হঠাৎ করেই কুহেলি অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো বরফের উপরে। আবরার এবার নিজের হাতের সিগারেট টা ফেলে দিয়ে তারপর সুইমিং পুলে নেমে কুহেলি কে কোলে তুলে নিলো তারপর উপরে উঠে ওর পায়ের শিকল খোলে কোলে নিয়ে বাড়ির দিকে হাটা ধরলো…!
আবরার নিথর, অচেতন, নিস্তেজ কুহেলি কে কোলে নিয়ে বাড়িতে ঢুকলো তারপর ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগল।তারপর বেড রুমে যেয়ে সোজা নিয়ে গেল ওয়াশরুমে কুহেলির শরীর ছোট্ট দেড় খানা তখনো অসম্ভব পরিমানে কাঁপছে।
আবরার গভীর শ্বাস নিল। মুহূর্তটায় তার চোখে এক অদ্ভুত উদ্বেগ সে সাবধানে ওর ভেজা কাপড়গুলো খুলে শুকনো পোশাক পরিয়ে দিল মাথায় শুকনো তোয়ালে দিয়ে জল মুছে দিল।
তার আঙুলের ছোঁয়া ছিল কেবল যত্নের, এক বিন্দু ব্যক্তিগত ইচ্ছাও নয় কেবল দায়িত্ব আর মমতার মিশ্রণ।
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসে সে কুহেলিকে ধীরে বিছানায় শুইয়ে দিল।কুহেলির নিঃশ্বাস এখনো ধীর শরীর প্রচন্ড ঠান্ডা।
আবরার উঠে গেল ওয়ার্ডোবের দিকে গেলো তারপর নিজের কাপড় নিয়ে ওয়াশরুমে যেয়ে চেঞ্জ করলো..! তারপর মুখে ঠান্ডা জল ছিটিয়ে নিল। আয়নায় নিজের চোখের দিকে তাকাতেই থেমে গেল কিছুক্ষণ সেই চোখে ক্লান্তি, অনুশোচনা আর একটুখানি ভয়।তারপর ফ্রেশ হয়ে বের হলো আবরার কুহেলি এখনো অজ্ঞান তারপর আবরার ধীরে কাছে যেয়ে কুহেলির বিছানার ধারে বসল। কুহেলির মুখের দিকে তাকিয়ে তার বুকটা হঠাৎ ভারী হয়ে উঠল।ওর মুখে এখনো অজ্ঞানতার ছাপ, কিন্তু নিঃশ্বাসের তালে একটা জীবন্ত স্পন্দন আছে।একটা দীর্ঘ নিশ্বাস নিয়ে আবরার ধীরে কুহেলির পাশে শুয়ে পড়ল এমনভাবে যেন কোনো অনিষ্ট না হয়, শুধু ওর পাশে থেকে শান্তি দেওয়া যায়।
কুহেলির কে এক টানে নিজের বুকে টেনে নিল সে।
তার শরীরের উষ্ণতা যেন একটু একটু করে কুহেলির ঠান্ডা শরীরের গিয়ে মিশে যাচ্ছে।
আবরারের মনে হলো এই মুহূর্তে পৃথিবীতে একটাই প্রার্থনা বাকি ও যেন ঠিক হয়ে যায়।
আবরার ধীরে কুহেলির চুলে হাত বুলিয়ে দিল, স্পর্শে এক অদ্ভুত কোমলতা।তার কণ্ঠটা তখন ভেঙে আসছে, কিন্তু ফিসফিস স্বরে বলল,আমি জানি, আমি ভালো মানুষ নই হৃদয়হীন, জেদি, রূঢ়, ছন্নছাড়া। কিন্তু একটাই সত্য আমি বিশ্বাসঘাতক নই।
একটা ছোট বিরতি। রুমের ভেতর নিঃশ্বাসের শব্দও যেন থেমে যায়।
আবরার আবার বলল,তুমি জানো না মাই ফা*কিং রোজ তোমার আশেপাশের মানুষগুলো কেমন করে তোমাকে ধোঁকা দিয়েছে। আমি এখনো ভাবি যনখ তুমি সত্যিটা জানবে তখন তুমি কীভাবে সেই আঘাতটা সামলাবে..!
হঠাৎ আবরারের কণ্ঠ কাঁপতে লাগলো..! ওর
একফোঁটা অশ্রু চুপিসারে কুহেলির সাদা আর সোনালী চুলের গায়ে পড়ে গেল…! আবরার অবাক হলো এটা কিভাবে সম্ভব ওর চোখ থেকে পানি পড়ছে…?! এটা আদোও সম্ভব…!
কিছু ক্ষণ আবরার কুহেলির নিঃশ্বাসের ওঠানামা শুনছিলো কেনো জানি ওর নিঃশ্বাস শুনতে ভালো লাগছে ওর কেনো লাগছে আবরার নিজেও জানে না…!
হঠাৎ একটা চিন্তা বিদ্যুতের মতো ঝলসে উঠল মনে ওর হাত! কুহেলির ডান হাতটা ও পুড়ে দিয়েছিলো..!আবরারের বুক ধক করে উঠল।সে তাড়াতাড়ি কুহেলির হাতটা আলতো করে নিজের হাতে তুলে নিল। আলোয় দেখতে পেল পাতলা চামড়ার নিচে ছোট্ট ছোট্ট কয়েক টা ফোস্কা উঠেছে আবরারের বুকে কেমন এক অস্থিরতা কাজ করলো..!
আবরার ধীরে উঠে দাঁড়াল, ড্রয়ারের দিকে এগিয়ে গেল।ড্রয়ার খুলে অ্যান্টিসেপটিক মলমটা বের করল, তারপর ফিরে এসে বিছানার পাশে বসে গেল।আবরার সাবধানে কুহেলির হাতটা নিজের কোলে রেখে মলম লাগাতে লাগল প্রতিটি ছোঁয়ায় যত্ন, প্রতিটি আঙুলে অনুশোচনা।
মলম লাগিয়ে সে কিছুক্ষণ ওর হাতটা ধরে রাখল, যেন তার উষ্ণতা ওর ব্যথা কিছুটা হলেও কমিয়ে দেয়। তারপর নিঃশব্দে মাথা নিচু করে কুহেলির কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল এক নিঃশব্দ ক্ষমা, এক নিঃশব্দ প্রার্থনা।
শেষমেশ ক্লান্ত দৃষ্টিতে কুহেলির দিকে তাকিয়ে সে আবার শুয়ে পড়ল পাশে ওর শরীরটাকে নিজের বুকে টেনে নিল যেন তাকে আগলে রাখলে সব ব্যথা দূর হয়ে যাবে।
বাইরে আবার হালকা বাতাস বইছে, জানালার পর্দা দুলছে ধীরে।এই নিস্তব্ধ ঘরের ভেতর, দু’জন মানুষ এক অচেতন, এক অপরাধবোধে নিঃশেষ
একই স্বপ্নের দেশে পাড়ি দিল নিঃশব্দে।
~~
সকালের রোদটা জানালার পাতলা পর্দা ভেদ করে রুমে ঢুকেছে নরম মিষ্টি আলো এসে পড়েছে কুহেলির মুখে আলোতে চোখ একটু কুঁচকে গেলো তার ঘুমের ঘোরে চোখ পিটপিট করে খুলতেই টের পেলো কেউ একজন তাকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে।
একটু নড়াচড়া করতেই বুঝলো ওটা আবরার। তার বুকের ভেতর কুহেলির মুখ গুঁজে আছে আর আবরারের হাত দুটি তাকে এমনভাবে জড়িয়ে রেখেছে যেন ছেড়ে দিলে পৃথিবীটাই ফসকে যাবে। কুহেলি একটু বিরক্ত মুখে ফিসফিস করে বললো,
আবরার ছাড়েন আমাকে এভাবে কেউ কাউকে জরিয়ে ধরে..? আর কালকে তো বরফ ভর্তি সুইমিং পুলে ফেলে রেখেছিলেন তাও আবার পায়ে শিকল বেঁধে এখন কেনো তুলে আনছেন..? ঐখানে মরে পড়ে থাকতাম..! তুলতে কে বলেছে আপনাকে..?
কিন্তু উত্তর এলো না। আবরার তখনও আধো ঘুমে। কুহেলি আবার নড়লো, এবার একটু জোরে। তাতে আবরারের ঘুম ভাঙলো বটে কিন্তু তার হাতের বাঁধন ঢিলে হওয়ার বদলে আরও শক্ত হলো চোখ না খুলেই গম্ভীর স্বরে বললো,
কি হয়েছে, রোজ সকালে চিংড়ি মাছের মতো ছটফট করছো কেনো…?
কুহেলি এবার খানিক টা চিৎকার করে বললো, আমাকে ছেড়ে দিন আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে..!
আবরার এবার চোখ খোল লাল টকটকে মনি দিয়ে কুহেলির দিকে তীক্ষ্ণ ভাবে তাকালো..! এতে কুহেলি খানিক টা ভড়কে গেলো। তবুও আমতা আমতা করে বললো,
আপনি খুব শক্ত করে ধরেন এভাবে আমার দম বন্ধ হয়ে যায়, মনে হয় আমার শরীরের সব হাড্ডি ভেঙে যাচ্ছে..!
আবরার কুহেলির কে আরো শক্ত করে ধরে বলে আমি এভাবেই ধরি মাই ফা*কিং স্কোয়াব যতো তাড়াতাড়ি তুমি মেনে নিবে তত তাড়াতাড়ি তোমার জন্য ভালো..!
কুহেলি এভার কিছু বলতে যাবে তার আগেই আবরার কুহেলির ঠোঁট জোরা নিজের ঠোঁটে নিয়ে নিলো কুহেলি প্রথম বিস্মিত হলো এভাবে হঠাৎ আক্রমণ করায় পরক্ষনেই ছটফট করতে থাকে আবরার বিরক্ত হয়ে কুহেলির হাত দুটো ওর এক হাতে নিয়ে কুহেলির মাথার উপরের চেপে ধরে তারপর নিজের মতো করে কিস করতে থাকে..! এমনভাবে কিস করছে যেনো হাড়ি থেকে খেজুরের রশ চোষে নিচ্ছে…!
প্রায় পনেরো মিনিট পর ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে কুহেলির কপালে কপাল ঠেকিয়ে জোরে জোরে হাপাতে থাকে আর কুহেলি এতো জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে যেনো নতুন জীবন পেলো। বেশ কিছু ক্ষণ পর কুহেলি নিজেকে সামলে কাঁপা কন্ঠে বলে,
আপনি একটা জানোয়ার এভাবে কেউ কিস করে দেখুন আমার ঠোঁট কেঁটে গেছে অসভ্য নির্লজ্জ বেহায়া লোক ছাড়ুন আমাকে আমি আমাকে স্পর্শ করার অধিকার আপনাকে দেয় নি..!
আবরার বলে ঐ অধিকার তোমাকে দিতে হবে না আমার বউ তুমি আমি যা ইচ্ছে করবো তাতে তুমি কিচ্ছু করতে পারবে না ডালিং শুধু উপভোগ করা ছাড়া..!
কুহেলি বলে কিসের বিয়ে আর কখন আমাদের বিয়ে হলো আপনি শুধু কথায় কথায় বিয়ের কথা বলেন..?
আবরার বাকা হেসে বললো, ঐ দিন ক্লাবের মালিক তোমাকে ক্লাবে চাকরি দিবে বলে একটা কাগজে সাইন করিয়েছিলো মনে আছে..? কুহেলি বললো, তো…? আবরার বাকা হেসে বললো, ঐটা বিয়ের রেজিস্ট্রেশন পেপার ছিলো..!
আসলে তোমাকে দেখার পর তোমাকে কেনো জানি এতো ভালো লেগেছিলো জানিনা তারপর উকিল দিয়ে প্রথমে বিয়ের রেজিস্ট্রেশন পেপার বানায় তারপর তোমাকে দিয়ে সাইন করাই আর আমার রুমে ওরা কৌশল করে পাঠায় অবশ তুমি নিজেই যেতে ইচ্ছুক ছিলে..!
আর একটা কথা ঐ ক্লাব টা আমারি জাস্ট সব সাজানো ছিলো ভাবছিলাম তোমাকে আমি আমার কাছে আনবো তা দেখি তুমিও একটা উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছো আমার কাছে যাই হোক মাফিয়া কিং এর বউ তুমি একটু আকটু চালাক না হলে চলে না…!
কুহেলি এতোক্ষণ কথা গুলো শুনছিলো এবার নিচু কন্ঠে বলে আপনি যাই করুন আমি আপনাকে শেষ করে দিবো কারণ আপনি আমার ফ্যামিলি কে খুন করেছেন কেনো করেছেন বলুন।
আবরার বাকা হাসলো তারপর এক হাত দিয়ে কুহেলির ঠোঁটে স্লাইড করতে করতে বললো,এখন উঠে ব্রেকফাস্ট করো তারপর তোমার সব প্রশ্নের উত্তর দিবো..! আর হ্যাঁ একটা কথা আমি ঐ দিন ঐ আমি গির্জায় বোমা ফেলিনি..! বলেই আবরার উঠে ওয়াশরুমের দিকে চলে যায়।
আবরার যাওয়ার পানে কুহেলি কিছু ক্ষণ তাকিয়ে থেকে তারপর বিরবির করে বলে যদি ওনি বোমা না ফেলে তাহলে কে ফেলেছে আর কেনো ফেলেছে..? আর যদি ওনি না ফেলে থাকে তাহলে লোকেরা ওনাকে কেনো ওনার নাম নিবে..?
এসব বলতে বলতে কুহেলি উঠে বসে হঠাৎ নিজের ড্রেসের দিকে চোখ যেতেই চিৎকার করে উঠে। চিৎকার টা এতো জোরে করে যে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠে…….!
চলবে....!
গল্প রিচেক করি নি বানান ভুল থাকতে পারে মানিয়ে নিয়েন।
Share On:
TAGS: তাসনিম তালুকদার বুশরা, মাই টক্সিক হাসব্যান্ড
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১০
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ২
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৮
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৩
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৫
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৪
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ৭
-
মাই টক্সিক হাসব্যান্ড পর্ব ১৬