ভালোবাসার_সমরাঙ্গন || ৬ ||
সারিকা_হোসাইন
গ্রাম পেরিয়ে শর্টকাট রাস্তা ধরে উপজেলা সদরে এসে থামল রণ’র কালো জিপ।মৌনতা চারপাশে অবলোকন করে ভয়ে ভয়ে বললো
“এটা ভাবীদের বাড়ির রাস্তা নয় রণ ভাই।তুমি ভুল পথে এলে।আমি বার বার বললাম কিন্তু তুমি কানে তুললে না।
রণ চোখের কালো গ্লাস খোলে ঠান্ডা নির্লিপ্ত নজর পাতল মৌনতার পানে।এরপর লাফিয়ে জিপ থেকে নেমে গেলো।মৌনতা বোকার মতো তাকিয়ে কিছু বোঝার চেষ্টা করলো।কিন্তু বুঝলো না।ভেতরে ভেতরে রণ’র উপর মৌনতার রাগ চড়া হলো।শায়লা নিশ্চিত চিন্তা করবে।মাহির বড্ড নির্দয়।পথে মৌনতাই কোনো ভুল করেছে ভেবে তাকে গালমন্দ করবে।আচ্ছা মাহির সহ বাড়ির সকলেই যখন শুধাবে তাদের এতো দেরি হলো কেনো?তখন কি মৌনতা নিজেকে নির্দোষ প্রমান করতে পারবে?জোর গলায় সে বলতে পারবে গাঁ জোরি করে রণ’ই তাকে নিয়ে গেছে ভুল পথে?
মৌনতার ভাবনার মাঝেই দ্রুত জিপে চেপে বসলো রণ।এরপর গাড়ির ইঞ্জিন স্টার্ট করে ছুটতে লাগল।মৌনতা এক পলক রণ কে দেখে শুধালো
“এখানে কোনো দরকার ছিলো তোমার?
“হিসু করতে এসেছিলাম
বলেই গাড়ি চালানোতে মন দিলো রণ।মৌনতা হাতের আঙ্গুল মুচড়ে বলে উঠলো
“এতো দূর আসার কি দরকার ছিলো?রাস্তার ধারেই তো কাজ সারা যেতো।
বলেই মাথা নিচু করে রইলো।মৌনতার পানে তাকিয়ে শক্ত মুখে রণ বললো
“যাতে তুই নজর দিতে পারিস নাকি?আমার ভবিষ্যৎ দন্ড দেখার এতোই বুঝি ইচ্ছে তোর?তুই তো আচ্ছা বজ্জাত মেয়েরে মৌন!অথচ দেখে মনে হয় ভাজা মাছটি উল্টে খেতে জানিস না।
রণ’র কথায় মৌনতার কান কাটা গেলো লজ্জায়।সে আড়ষ্ট হয়ে গুটিয়ে মিনমিন করে বলে উঠলো
“ছি ছি আমি ওসব ভেবে বলিনি।
“তো কিসব ভেবে বলেছিস?
মৌনতা উত্তর দেবার আগেই আদনান মির্জার ফোন এলো রণ’র ফোনে।আকস্মিক বিরক্তিতে রণ কপাল কুঁচকে ফোন রিসিভ করতেই আদনান মির্জা ব্যাস্ত গলায় বলে উঠলো
“সেকি রণ!কোথায় তোমরা?তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছি অথচ তোমাদের আসার খবর নেই।ত্রিশ মিনিটের রাস্তা আসতে বুঝি দেড় ঘন্টা লাগে?রাস্তায় কোনো অঘটন ঘটেনি তো?
রণ ভাবলেশহীন হয়ে জবাব দিলো
“মৌন ভুল পথে আমায় চন্দ্রপুর সদরে নিয়ে এসেছে বাবা।মেয়েটা সাংঘাতিক ভুলো মনা।ওকে সঙ্গে করে আনাই ভুল হয়েছে।ইচ্ছে তো করছে ঠাটিয়ে দু চড় মেরে গাল ফাটিয়ে দিতে।
মুহূর্তেই আদনান মির্জা চেঁচিয়ে বলে উঠলেন
“না না এমন কিচ্ছু করো না। ওকে মেরো না।ধীরে সুস্থে মানুষকে জিজ্ঞেস করে করে এসো।সমস্যা নেই।আমরা অপেক্ষা করছি।
বলেই ফোন কাটলেন ভদ্রলোক।এদিকে রণ’র দেয়া মিথ্যা অপবাদে মৌনতার চোয়াল ঝুলে মুখ হা হয়ে গেলো।সে ঘোর প্রতিবাদ করতে চাইল এহেন মিথ্যাচারের।কিন্তু সাহসে কুলালো না।মৌনতার হা হওয়া ঠোঁট নিজের উষ্ণ হাতে বন্ধ করে রণ বলে উঠলো
“হাওয়া খেয়ে পেট ভরালে ও বাড়িতে গিয়ে মুরগির ঠ্যাঙ খেতে পারবি না মৌন।মুখ বন্ধ করে চুপ মেরে শক্ত হয়ে বসে থাক।
মৌনতা তেজী গলায় বললো
“মিথ্যে কেনো বললে তুমি?আমি তোমাকে এখানে এনেছি?
“তো কি বলবো স্বেচ্ছায় এখানে এসেছি তোকে রাইড চড়াতে?
“তুমি ইচ্ছে করে জেনে বুঝে এখানে এসেছো নাহ?
রণ ঠোঁটে বাঁকা হাসি টেনে বলে উঠলো
“তোর কি মনে হয় মৌন?যেখানে মানুষের চেহারা না দেখে তার পায়ের শব্দ শুনে আমি নাম বলতে পারি সেখানে পাশের গ্রাম চিনবো না?আমি কি মঙ্গলগ্রহে বড় হয়েছি?তোর মাথায় তো আসলেই কাঁচা পায়খানায় ঠাসা রে।
মৌনতা চোখ কপালে তুলে নাক উঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলে উঠল
“তাইলে নাটক করলে কেনো?
“কারন আছে সময় এলে বলবো।এবার কালেমা পড়।দেড় ঘন্টার রাস্তা চল্লিশ মিনিটে যাবো।গাড়ির স্পিড সর্বোচ্চ থাকবে।টিকতে না পারলে আমাকে জড়িয়ে ধরতে পারিস।আমি কিচ্ছু মনে করবো না।
বলেই হুরহুর করে স্পিড বাড়ালো রণ।চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা দেখলো মৌনতা।সে বুঝলো ইহ জীবনের সমস্ত খেলা সাঙ্গ হতে চলেছে আজ।তাই বাঁচার তাগিদে রণ’র পেট জড়িয়ে কোমরে মাথা গুঁজে বলে উঠলো
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।আজকের মতো বাঁচিয়ে নাও মাবুদ।কাল থেকে নামাজ পড়ে মাফ চাইবো।
পয়ত্রিশ মিনিট এর মাথায় সৌম্য’র শ্বশুরবাড়ি এলাকার নির্জন রাস্তায় এসে গাড়ি থামালো রণ।মৌন এখনো রণকে ঝাপ্টে ধরে চোখ বুজে বসে আছে।গাড়ির উত্তাল বাতাসে তার চুল আলুথালু পাখির বাসা।কাঁধের ওড়না সরে গিয়ে কালো কুচকুচে তিলটা দেখা যাচ্ছে।সেই সাথে নিষিদ্ধ অন্তর্বাসের ফিতা।রণ’র সর্বাঙ্গ কেমন ঝাকুনি দিয়ে উঠলো মৌনতার এলোমেলো সৌন্দর্যে।এদিকে গাড়ি থেমেছে খুশিতে মাথা তুললো মৌন।সে চারপাশে বিস্ফারিত নজর বুলালো।সে মরেনি।বেঁচে আছে।দ্বিতীয়বার জীবন তাকে সুযোগ দিয়েছে।বাসায় ফিরেই কানা ফকিরটাকে পঞ্চাশ টাকা সদকা দিবে সে।
রণ’র পেট ছেড়ে নিজের জামা ওড়না ঠিক করতে করতে মৌনতা দুর্বল গলায় বলে উঠলো
“যাবার সময় তোমার গাড়িতে ভুলেও উঠবো না আমি।সাংঘাতিক বদমাশ লোক তুমি।আর একটু হলেই প্রিয় জীবনটা সমাপ্ত হতে যাচ্ছিলো।
বলেই গাড়ি থেকে নামার জন্য দরজা ধাক্কাধাক্কি করলো মৌন।রণ অদ্ভুত চাহনি নিক্ষেপ করে মৌনতা কে বলে উঠলো
“আমি থাকতে তুই মরবি না মৌন।আমি মরতে দেবো না তোকে।তোর সাথে আমার অনেক হিসেব নিকেশ বাকী।তাই যাবার পথেও আমার সঙ্গেই যেতে হবে তোকে।ইটস অ্যান ওর্ডার ফ্রম মেজর রণ।
রণ’র ফালতু কথায় কান না দিয়ে লুকিং গ্লাসে নিজেকে একবার দেখলো মৌনতা।নিজেকে আস্ত এক রাস্তার পাগলী লাগছে।মেহমান বাড়িতে এহেন বিদঘুটে অবতারে কি করে প্রবেশ করবে সে? ভেবেই শক্ত আসনে বসে রইলো।মৌনতার চিন্তিত বদনের পানে তাকিয়ে শব্দহীন হাসলো রণ।এরপর পকেট থেকে বেলি ফুলের মালাটা সযত্নে বের করে টেনে ধরলো মৌনতার চুল।বললো
“আয় চুল গুলো বেনি করে দিই।
মৌনতা কপাল কুঁচকে রণ কে দেখলো।গত বারের তুলনায় এবার মানুষটাকে চিনতে বড্ড অসুবিধে হচ্ছে তার।চোখে মুখে কেমন কবি কবি প্রেমিক ভাব।এমনটি আগে কখনো দেখা যায়নি।মৌনতা শত ভাগ নিশ্চিত রণ প্রেমে পড়েছে।
“কিন্তু কার?ওই লেডি ক্যাপ্টেন তনুজার?যে মেয়েটা রণ বাড়ি ফিরলেই খালি ফোন করে জানতে চায় রণ’র ছুটি কবে শেষ হবে?
ঠোঁট উল্টে নিজেকে নিজেই মনে মনে বললো মৌন
“রণ ভাই প্রেম করুক,বিয়ে করুক যা খুশি তাই করুক।আমার কি যায় আসে তাতে?
মৌনতার ভাবনার মাঝেই মৌনতার চুল টেনে সুন্দর একটা গোছালো বিনুনি পাকালো রণ।এরপর সুন্দর করে চুলে গুঁজে দিলো বেলী ফুলের গাজরা।এরপর প্রশস্ত হেসে বলে উঠলো
“এবার তোকে দেখে আর কেউ পাগলী ভেবে ঢিল ছুড়বে না।মালাটার দাম বিশ টাকা।বাড়ি ফিরে বিশ টাকা ফেরত দিবি আমায়।
মৌনতা চোখ ছোট করে শুধালো
“মালা চেয়েছি নাকি?এক টাকাও দেবো না।
“না দিলে এর দামে অন্য কিছু আদায় করবো আমি।
বলেই গাড়ি চালু করে একদম অনুদের বাড়ির গেইটের সামনে এসে দাড়ালো।এরপর মৌনতা কে ফেলেই ঠোঁটে বাঁকা হাসির প্রলেপ ধরে রেখে নেমে গেলো ।মনে মনে রণ কে হাজারটা গালি ছুড়ে দৌড়ে এলো মৌন।
অনুদের বাড়ির সকলের সাথে কুশলাদি বিনিময় করে ড্রয়িং রুমে ঢুকলো রণ।পেছনে মাথা নিচু করে এলো মৌনতা।মৌনতা কে দেখে চোখ পাকালো মাহির।শায়লাও দাঁত কামড়ালেন।কিন্তু কারোর সামনে কিছু বলতে পারলেন না।
ধীরে ধীরে আলাপ চারিতা শেষে খাওয়া দাওয়া শুরু হলো।মৌনতা খেয়াল করলো অনুর ছোট বোন তনু রণ কে সমান তালে দেখে দেখে মিটিমিটি হেসে যাচ্ছে।সেই সাথে পাত ভরে তুলে দিচ্ছে মুরগির লেগ পিস আর গরুর ভালো ভালো মাংস গুলো।
রণ একটা লেগ পিস মৌনতার পাতে তুলে সকলের বড় গলায় বলে উঠলো
“এটা তুই খা মৌন।দুদিন ধরে না খেয়ে আছিস এখানে খাবি বলে।আমি আবার ওতো খেতে পারি না।পোলাও রেখে শুধু মাংস গুলো খা।নে নে চালু কর।বাটি নিয়ে গেলে আর খেতে পারবি না।
বলেই প্লেট থেকে আরো কয়েক টুকরো গরুর মাংস যত্নে তুলে দিলো মৌনতার পানে।
রাগে জেদে মৌনতার মাথা ফেটে যাবার উপক্রম হলো।সে চিৎকার করে সমস্ত কিছুর প্রতিবাদ করতে চাইলো।কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে নিশ্চুপ রইলো।এরপর পানি দিয়ে সমস্ত রাগ গিলে নিলো।মৌন পানি খেয়ে গ্লাস টেবিলে রাখতেই রণ সেটা নিয়ে ঢকঢক করে পানি খেলো।সকলের অলক্ষে এই দৃশ্যে দাঁত চেপে মৌনতা বলে উঠলো
“এটা আমার গ্লাস রণ ভাই।আমার এঁটো পানি তুমি কেনো খাচ্ছ?
“খেলে কি হয়েছে?তোর ছোয়াছে মরণঘাতী রোগ বালাই হয়েছে?পানিই তো খেয়েছি।তোকে তো আর খাইনি।
মৌনতা আর কিচ্ছু না বলে চুপচাপ খেয়ে উঠে গেলো।
রণ তা দেখে ঠোঁট টিপে হেসে খাওয়ায় মন দিলো।
মৌনতা নিজের হাত ধুয়ে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এলো।অনুদের বাড়িটা বেশ খোলামেলা।এবাড়িতে ফুলের গাছ বেশি।ফুল বাগানের এক পাশে অনেক গুলো পাখির খাঁচা।তাতে হরেক রঙের পাখি বন্দি।অদ্ভুত সব সুন্দর সুন্দর বাহারি পাখি গুলোতে মৌনতার নজর নিবদ্ধ হলো।সে ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে পাখি গুলোর কাছে এগিয়ে মুগ্ধ নয়নে দেখতে লাগলো।এমন সময় ভেসে এলো পুরুষালি গলার স্বর
“আপনার সৌন্দর্য আজ পাখিদের সৌন্দর্য বিলীন করে দিয়েছে মিস নাম না জানা অপ্সরা।পাখি গুলো লজ্জা পাচ্ছে ওই সৌন্দর্যে।প্লিজ নিজেকে আড়ালে রাখুন।নয়তো নজর লেগে যাবে।
এমন কন্ঠে স্তম্ভিত হয়ে পেছনে তাকালো মৌন।প্যান্টের পকেটে দুহাত গুঁজে ফরমাল পোশাকে দাঁড়িয়ে রয়েছে সুদর্শন এক যুবক।মানুষটিকে এবাড়িতে আগে কখনো দেখেনি মৌন।হয়তো অনুদের আত্মীয়।
মৌনতাকে নিশ্চুপ দেখে ছেলেটি এগিয়ে এসে হাত বাড়ালো মৌনতার পানে
“হ্যালো আমি নোমান।নোমান শাহরিয়ার।অনু আমার কাজিন।
মৌনতা সৌজন্য রক্ষার্থে প্রশস্ত হেসে হাত বাড়িয়ে নিজের পরিচয় জানালো।
এমন সময় হাতে এক গ্লাস ঠান্ডা পানীয় নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো রণ।এসেই দেখতে পেলো অচেনা এক ছেলের করপুটে মৌনতার হাত বন্দি আর হাসি মুখে মৌনতা কথা বলছে ছেলেটির সাথে।এহেন দৃশ্যে রণ’র মস্তিষ্কের রক্ত ছলকে উঠলো।যেনো টগবগ শব্দে ফুটছে সেগুলো।সমস্ত রক্ত কণিকায় জ্বালা ধরলো।হাতের কাঁচের গ্লাস সজোড়ে মুঠো পাকিয়ে চেপে ধরলো রণ।শক্ত হাতের পিষ্টন সইতে পারলো না ঠুনকো গ্লাস।রণ’র কড়া পড়া হাতে গুঁড়িয়ে গেলো।কাঁচ ভাঙার শব্দে সচকিত হলো মৌন।রক্ত চক্ষু নিয়ে যমের ন্যয় দাঁড়িয়ে আছে রণ।মৌনতা ছেলেটির হাত তাৎক্ষণিক ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়ালো।রণ গম্ভীর গলায় বললো
“ভেতরে যা মৌন।ছোট মা তোকে খুঁজছে।
মৌন মাথা নিচু করে প্রস্থান নিলো।যাবার আগে ভয়ে ভয়ে একবার কঠিন চোয়াল টায় নজর বুলালো।রূহ পর্যন্ত কেঁপে উঠছে ওই কঠিন দম্ভ ভরা চেহারা দেখে।মৌনতা চোখের আড়াল হতেই বিড়বিড় করে রণ আওড়ালো
“তোর হাত আমি কে টে ফেলবো মৌনতা সাবেরি।
চলবে….
(বেশি বেশি কমেন্টস না করলে রাগ করবো😞)
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৮