ভালোবাসার_সমরাঙ্গন ||৩৯||
সারিকা_হোসাইন
সমস্ত দুঃখ কষ্ট আর বেদনাক্লিষ্ট ক্লান্তি ভুলে পুরো মির্জা বাড়ি সেজে উঠলো আলো রোশনাইয়ে।মেহমানে পুরো মির্জা বাড়ি গিজগিজ করছে।গ্রামের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ খুশি।হাতে হাত লাগিয়ে সকলেই কাজ করে চলেছে সারাটা দিন ধরে।কেউ মশলা বাটছে, কেউ মুরগি কা ট*ছে,কেউবা আবার গরু কা টা নিয়ে ব্যস্ত।কেউ কেউ লুঙ্গি কাছা মেরে বানাচ্ছে বিয়ের প্যান্ডেল।আজকে আক্কাস খুব ব্যাস্ত।দম ফেলার ফুসরত নেই তার।শায়লা আর রেহনুমা কোমরে অচল গুঁজে রান্না ঘরে মেহমানের রান্না নিয়ে ব্যস্ত।চামেলি আর তহুরা মেহমানদের নাস্তা দিতে দিতে হাঁপিয়ে উঠেছে।দেওয়ান মির্জা ,আদনান মির্জা আর সাদনান মির্জা মিলে খুঁটিয়ে দেখছে সব কাজ ঠিক মতো হচ্ছে কি না।সৌম্য মুইন মাহির বিয়ের বাজার সদাই করতে করতে দুপুরের খাবার সময় টুকুও পায়নি।কিন্তু এত কিছুর পরেও সকলের মুখ থেকে হাসি উবে যাচ্ছে না ।বরং প্রশস্ত হাসিতে ঠোঁট প্রসারিত সকলের।কিন্তু খুশি নেই রুলি আর কোয়েলের মুখে।মা মেয়ে মিলে কেমন চোরা বিড়ালের মতো চোখ মুখ কুঁচকে ঘরের এক কোণে ঘাপটি মেরে রয়েছে আর কখন কোন ফাক দিয়ে মৌনতাকে খোঁচা মেরে কথা বলা যায় তার সুযোগ খুঁজে বেড়াচ্ছে।কিন্তু কোয়েল আজ মৌনতার পাশ ঘেঁষার সুযোগ পেলো না।মৌনতা কে ঘিরে ধরে রেখেছে মৌনতার মামাতো বোন সিমি,সায়নী আর মৌনতার বান্ধবী।কোয়েলকে দেখলেই কেমন ফুঁসে উঠেছে তারা।কোয়েল একটা বললে তারা হাজারটা ফরফর করে শুনিয়ে দিচ্ছে কোয়েলকে।গ্রামের মেয়ে গুলো আরো শয়তান ।তারা চোখ মুখ বাকিয়ে কোয়েলকে ইশারা ইঙ্গিতে যা নয় তাই বলে যাচ্ছে।এমনকি কোয়েলের পোশাক নিয়েও টানা হ্যাচড়া করতে ভুলছে না।অপমানে কোয়েল টিকতে না পেরে ঘরে এসে খিল টানলো।
সায়নী মৌনতার হাতে মেহেদী আল্পনা শেষ করে বলে উঠলো
“আরে দেখো,মেহেন্দি দিতে না দিতেই কেমন রঙ ছড়াচ্ছে,মৌনতাপু রণ ভাই তো তোমাকে ভালোবাসা দিয়ে লালে লাল করে ফেলবে দেখছি”..
বলেই মৌনতার বাহুতে ধাক্কা দিয়ে খিলখিল করে হেসে উঠলো।সিমি ও বলে উঠলো
“বদরাগী মানুষটাকে আচঁলে বাঁধতে পারবে তো আপু?নাকি ধরাশায়ী হবে তার চোখের ইশারায়?
মৌনতার বান্ধবী তুলি বলে উঠল
“মৌনতা সাবেরি রণ ভাইকে একদম হাতের মুঠোয় ভরে রাখবি বুঝলি?ছেলে মানুষরে বেশি সুযোগ দিলে কিন্তু মাথায় উঠে বসে থাকে”
কথায় কথায় নানা কথা হলো ।বিবাহিত ভাবি সমাজ কানে কানে বাসর রাতের সিনারী শোনালো অল্প।তাতে মৌনতা লজ্জায় আড়ষ্ট হলো সেই সঙ্গে ঘেমে উঠলো চিবুক আর নাকের ডগা।নিজেদের প্রথম রাতের স্মৃতি মনে পড়তেই শরীরে উষ্ণ শিহরণ বয়ে গেলো।
মৌনতা ইতস্তত করে সকলের উদ্দেশ্যে বলে উঠলো
“অনেক রাত হয়েছে।সবাই ঘুমুতে যা।আমার খুব ঘুম পেয়েছে।
মৌনতার কথায় সায়নী ঘড়িতে নজর বুলালো।ঘড়ির কাটা একের ঘর ছুঁইছুঁই।সিমি হাই তুলতে তুলতে উঠে দাঁড়ালো।অতঃপর বলে উঠলো
“এখন না ঘুমালে সকালে উঠতে পারব না।আমি গেলাম।
সিমির পেছনে পেছনে সকলেই উঠে বেরিয়ে গেলো ধীরে ধীরে।অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই মৌনতার ঘর ফাঁকা হলো।মৌনতা তপ্ত শ্বাস ফেলে বিছানা থেকে নামলো।অতঃপর দরজা আটকে বেলকনিতে এসে দাড়ালো।
রণ’র ঘরটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।অন্ধকারে নিমজ্জিত।মানুষটা বাড়িতে নেই।ফিরবে বোধ হয় খুব ভোরে।এমনটাই ফোনে জানিয়েছিলো।কাল থেকে ঘরটা মৌনতার হবে।রণ’র ঘরের প্রতিটা কোণে থাকবে মৌনতার বিচরণ ,মৌনতার স্পর্শ।ঘরের বদ্ধ কোণে জমে থাকবে দুজনের সুখ মিশ্রিত অনুভূতি।তারপর একদিন ঘর ভর্তি ছানা পোনা।
নিজের কল্পনায় লজ্জা পেয়ে মুখ ঢেকে হেসে ফেললো মৌনতা।লজ্জায় কেমন শরীর কাঁপছে।সব কিছু কেমন নতুন নতুন অনুভূতি দিচ্ছে।মৌনতা বেলকনিতে আরো কতক্ষন সময় কাটিয়ে নিজ ঘরে এসে বিছানায় শরীর ছোয়ালো।ক্লান্তিতে দু চোখের পাতা বন্ধ করতেই নোমানের রক্তাক্ত নিথর দেহটা ভেসে উঠলো।ভয়ে চমকে উঠলো মৌনতা।ধরফরিয়ে বিছানায় বসলো।চোখের ঘুম উবে গেলো সহসাই।রণ কত নিষ্ঠুর ভাবে মানুষটাকে মেরে দিলো।রণ’র নিষ্ঠুর চেহারাটা আকস্মিক মানসপটে ভেসে উঠলো মৌনতার।
“এভাবে আর কত ক্রিমিনালের প্রাণ নিয়েছ তুমি রণ ভাই?তোমার কি একটুও খারাপ লাগে না মানুষগুলোর জন্য?
বোকা মৌনতার চতুর মাথা বলে উঠলো
“দায়িত্বের ঊর্ধ্বে এসব প্রেম প্রীতি মায়া সব ফিকে।
ধীরে ধীরে রাতের আঁধার গাঢ় হলো।খাটের হেড বোর্ডে হেলান দিয়ে মৌনতা ঘুমের ঘোরে তলিয়ে গেলো।ঘুম ভাঙল একদম ভোরে।শায়লার ডাকে।
“এই মৌনতা আর কত ঘুমাবি?অনেক বেলা হয়ে গেছে।দরজা খোল, একটু পর পার্লার থেকে মেয়ে আসবে।দেরি হয়ে যাচ্ছে যে।
মৌনতা বিছানা ছেড়ে ঢুলুঢুলু চোখে বাইরে বেরিয়ে এলো।দরজায় দাঁত চেপে দাঁড়িয়ে আছে শায়লা।
“এখনই গোসল সেরে নিচে আসছি মা।
বলেই মৌনতা মাথা ঝাকিয়ে নিজ ঘরে ফিরতে নিলো এমন সময় গমগমে হাস্য রসের গলা পাওয়া গেলো।মৌনতা শায়লা কে মাড়িয়ে করিডোরের রেলিংয়ে হাত রেখে দাঁড়ালো।বসার ঘরে সৌম্য, মঈন, মাহির আর দেওয়ান মির্জার সাথে ঠাট্টায় মশগুল রণ।গায়ে সাদা লম্বা হাতের ঢিলে গেঞ্জি।আর্মি কাটিং চুল গুলো এলোমেলো,হাতে একটা কফি মগ ।তাতে অল্প চুমুক দিয়ে দিয়ে মুইনের সাথে মজা করছে রণ।
মুইনের জানার খুব আগ্রহ কি করলে সে রণ’র মতো বুদ্ধিমান আর প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।সে মনের দ্বিধা চেপে রাখতে না পেরে বলে উঠলো
“রণ ভাই কবে তোমার মত উন্নতি করতে পারবো জীবনে?
রণ ঠোঁট উল্টে কিছুক্ষণ চুপ রইলো।অতঃপর জবাব দিলো
“যেদিন মুতার আগে হাগতে পারবি সেদিন!
“তুমি মুতার আগে হাগো?
বেশ তাজ্জব হয়ে কথাটা শুধালো মুইন।এমন হলে সে আজ থেকেই এটা ট্রাই করবে
মুইনের প্রশ্নে পুরো বসার ঘরে হাসির রোল পড়লো সেই সঙ্গে মৌনতা খিলখিল করে হেসে উঠলো।মৌনতার হাসির শব্দ কর্ণকুহরে পৌঁছাতেই রণ পেছনে করিডোর এর দিকে তাকালো।হলুদ শাড়ি পরিহিত এলোমেলো চুলের মৌনতা কে চোখে লাগলো রণ’র।মেয়েটির হাসিতে মুক্তা ঝরছে।গত রাতে মেবি সেজেছিলো।সেই সাজের হালকা রেশ মুখমুন্ডল জুড়ে স্পষ্ট।রণ’র চোখে ঘোর লাগলো।মুইনের আবোলতাবোল কথা তার কানে একটাও যাচ্ছে না।মস্তিষ্ক জুড়ে মৌনতার মিষ্টি হাসির বিচরণ।রণ’র ইচ্ছে হলো ছুটে গিয়ে মৌনতার হাসি থামিয়ে অনুরোধ করতে
“এভাবে হাসিস না মৌনতা।আমার জান বেরিয়ে যাচ্ছে।আমি অক্সিজেন ফল করে মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের ন্যয় ছটফট করছি।তোর হাসির প্রতিটা মূর্ছনা আমার হৃদপিণ্ডের অলিন্দে ছুড়ি চালাচ্ছে।নীরব হার্ট এট্যাক হচ্ছে।আমার আয়ু ফুরিয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু রণ পারলো না।সে অনিমেষ তাকিয়ে রইলো।মাহির বিষয়টা খেয়াল করে রণ’র কানের কাছে গিয়ে বলল
“আমার বোন কে এভাবে গিলে খাওয়ার অপরাধে তোমার নামে মামলা ঠুকব রণ ভাই।
রণ চোখ না সরিয়েই বলে উঠলো
“ফাঁ সিতে ঝুলি য়ে দে আমায়।সাধারণ হাজতের ক্ষমতা নেই আমাকে ফেরাবার।
হঠাৎ মৌনতার চোখ পড়লো রণ’র চোখে।মৌনতার হাসি থেমে গেলো।এই দৃষ্টির মানে জানে মৌনতা।রণ আজ তাকে ছাড়বে না।মৌনতা ভয়ে ফাঁকা ঢোক গিললো।সে দৃষ্টি নামিয়ে কানের পিঠে চুল গুঁজে নিজ কক্ষে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলো।রণ চট করে উঠে দাঁড়ালো।দৌড়ে এলো নিজ কক্ষে।অতঃপর বেলকনিতে এসে ডাকলো
“হৃদয়হীনা আর কতবার নিষ্ঠুরের মতো মারবি আমায়?তোর দিলে কি কোনো দয়া মায়া নাই?
মৌনতা ভীরু পায়ে বেলকনিতে এসে দাড়ালো।কাতর চোখে এখনো তাকিয়ে রয়েছে রণ।মৌনতার মাথায় দুস্টু ফন্দি এলো।সে রণ’র মুখোমুখি দাঁড়িয়ে পেটের কাছের আঁচল সরালো।ফর্সা উন্মুক্ত উদর আর নাভিরন্দ্র দৃষ্টিগত হলো।রণ অপার্থিব এহেন দৃশ্যে নাক ফুলিয়ে বেলকনীর রেলিং চেপে ধরলো।তার গম রঙা গাল লাল হয়ে উঠলো সঙ্গে ফুলে উঠলো গলার আর ঘাড়ের শিরা।শক্ত করে রেলিং খামচে ধরার কারনে হাতের পেশী গুলো ফুলে ফেঁপে উঠলো।রণ হিসহিস করে বলে উঠলো
“মরতে চাস? নাকি আমাকে চূড়ান্ত নির্লজ্জ বানিয়ে কলঙ্কিত করতে চাস সকলের সামনে?কোনটা?
মৌনতা আর দাঁড়ালো না।পিঠের বিনুনি সরিয়ে সফেদ খোলা পিঠ রণকে দেখিয়ে কোমড় নাড়িয়ে হেলেদুলে কক্ষে ঢুকে দরজা লাগাতে উদ্যত হলো।দরজা আটকানোর আগে আরেকবার হাওয়ায় চুমু ছুঁড়লো।রণ ক্রুর চোখে এহেন লোভনীয় দৃশ্য দেখে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।মনে হলো কেউ তাকে হট কেকের লোভ দেখিয়ে নিম পাতার রস খাইয়ে দিলো।দরজা আটকানোর আগে ভেসে এলো রণ’র নেশালো গলা
“বাসর এখানে হচ্ছে না।দাদা ভাইয়ের খামার বাড়িতে সব গুছানো হয়েছে।কাক পক্ষীর আনাগোনা পর্যন্ত নেই ওখানে।মনে রাখিস,যতটা পীড়া দিলি তার দ্বিগুন হাসিল করবো।তোর কাকুতি মিনতি মিশ্রিত চিৎকার খোলা হাওয়ায় ভেসে বেড়াবে।কেউ রক্ষা করতে পারবে না তোকে।আমিও নিস্তার দেব না।
বলেই বাঁকা হেসে সরে গেলো রণ।মৌনতা এবার ভয়ে চুপসে গেলো।সে জর বস্তুর ন্যয় মেঝেতে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।এমন সময় শায়লা এসে আবার ধমকে উঠলো
“এখনো গোসল করিসনি?মেয়ে গুলো তো এসে গেছে !আর কত জ্বালাবি আমাকে বলতো?মেয়ে মানুষের এমন ঢিলে হলে চলে?
মৌনতা মায়ের অগ্নিমূর্তি ধারণ করা চেহারা একপলক দেখে দৌড়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।
(
খাবারের বাহারি আয়োজনে মম করে চারপাশ ।মেহমান আর দাওয়াতি মানুষজন দলে দলে এসে প্যান্ডেল ভরিয়ে ফেলেছে।বাবুর্চি আর ভাড়া করে আনা ছেলে গুলো খাবার দিতে ব্যাস্ত।এদিকে চলছে মৌনতার সাজ।মৌনতার দাদির রেখে যাওয়া টকটকে লাল বেনারসি পড়ানো হলো মৌনতা কে ।দেওয়ান মির্জা খুব করে চেয়েছেন তার সহধর্মিণীর ছোঁয়ায় মৌনতার নতুন জীবন শুরু হোক।রণ ও বলেছে দাদির শাড়িতেই মৌনতা কে বেশ লাগবে।হলো ও তাই।শাড়িটা পুরাতন ডিজাইনের হলেও মৌনতার শরীরে অনিন্দ্য সৌন্দর্য ছড়ালো।মনে হলো মাত্র ডিজাইন হওয়া নতুন কোন অসাধারন সুন্দর শাড়ি।
রেহনুমা নিজের গহনা গুলো দিয়ে গেলেন মৌনতার হাতে
“সব গুলো পরবি।আমার ছেলের বউ কে আজ রাজ রানীর মতো দেখতে হওয়া চাই।
রেহনুমা মৌনতার কপালে চুমু একে নিজের বালা গুলো মৌনতার হাতে পরিয়ে মেয়ে গুলোকে তাগাদা দিলেন
“এই তোমরা তাড়াতাড়ি করো।আসরের নামাজের পর পরই বিয়ে পড়াতে চেয়েছেন আব্বা।
মৌনতার মনে খুশির প্রজাপতি উড়ছে।এবার আর লুকোচুরি নয় প্রকাশ্যে রণ তার।চাইলেই মানুষটাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খাওয়া যাবে,বায়না করা যাবে নানান আবদার।
তনুর মনটা ভালো নেই।নোমানের স্মৃতি আর রণকে না পাবার বেদনা তাকে শেষ করে দিচ্ছে পুরোপুরি।মৌনতার ভাগ্যের উপর চরম ঈর্ষা জন্মালো তার।সৌম্যের শশুর না পারতে বিয়েতে এসেছেন।আর কেউ আসেনি।দুদিন হয়নি আর্মির গুলিতে বাড়ির ছেলে মারা গেছে ,চাইলেই কি তারা এহেন আনন্দের শামিল হতে পারবে?হাজার হোক রক্ত তো!
আসরের আজানের আগে আগে মেহমানদের খাওয়া দাওয়া শেষ হলো।নামাজের পর ধর্মীয় সকল কিছু মেনে বিয়ে হলো রণ আর মৌনতার।বিয়েতে কেউ কাঁদলেন না।শায়লা স্বস্তি পেলেন।সাদনান মির্জা বুক ফুলিয়ে নিজের বন্ধু বান্ধবের সাথে রণ’র দেখা করালেন মেয়ের জামাই পরিচয়ে।
বিয়ের শেষে দেওয়ান মির্জা রণ’র হাত চেপে বলে উঠলেন
“আমার নাতনি আমার কলিজা আমার সর্বস্ব আমি তোমার হাতে তুলে দিলাম রণ।আমার নাতনির বিন্দু মাত্র মন খারাপের কারণ তুমি হবে তা আমি কিছুতেই মানব না।মৌনতার চোখের এক বিন্দু জলের হিসেব তোমাকে দিতে হবে।মনে রাখবে তোমার দাদির পর মৌনতাই আমার এক মাত্র ভালোবাসার মানুষ।এই বাড়িতে সবার চাইতে প্রাণ দিয়ে আমি মৌনতা কে ভালবাসি, স্নেহ করি ।মৌনতা কে কষ্ট দেয়া মানে আমাকে কষ্ট দেয়া, আমাকে অপমান করা।
রণ প্রতিজ্ঞা করলো
“আমি কখনোই মৌনতার সামান্যতম মন খারাপের কারন হবো না ।যদি কখনো নিজের অজান্তে এমন কিছু করে থাকি তবে নিজেকেই কষ্ট দিয়ে তার উসুল করবো আমি দাদা ভাই।
দেওয়ান মির্জা স্বস্তি পেলেন।তিনি নিজের কথা শেষ করে বলে উঠলেন
“সন্ধ্যা নেমেছে।কুসুম পুর যেতে ঘন্টা তিনেক লাগবে।তবে এখনই বেরিয়ে যাও তোমরা।সঙ্গে আক্কাস যাবে।
“কাউকে লাগবে না দাঁড় ভাই।আমি সব ব্যবস্থা করে এসেছি।আমি আর মৌনতা একাই যাবো।
“রান্না করে খাওয়াবে কে তোমাদের?
“মৌনতা যা রাধবে আমি তাই খাবো।
“সে তো ভাত ই রাধতে পারে না।
“আমি পারি।নিজের সহধর্মিনীর জন্য এটুটুকু করা আমার দায়িত্ব আর কর্তব্য।
নাতির প্রতি দ্বিতীয় দফায় মুগ্ধ হলেন দেওয়ান মির্জা।অতঃপর সৌম্য কে আদেশ দিলেন
“গাড়ি বের করো সৌম্য ।ওদের দেরি হয়ে যাচ্ছে।
চলবে
(অন্তিম পর্ব রাতে না হয় কাল আসবে।)
Share On:
TAGS: ভালোবাসার সমরাঙ্গন, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১১
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৩
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩০
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ২৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন গল্পের লিংক